বাবাকে মেরেছিল ‘অনুব্রতর দল’, কেষ্টদার জন্য চোখে জল তৃণমূলে ‘গদি’ পাওয়া হৃদয়ের

50
বাবাকে মেরেছিল 'অনুব্রতর দল', কেষ্টদার জন্য চোখে জল তৃণমূলে 'গদি' পাওয়া হৃদয়ের
বাবাকে মেরেছিল 'অনুব্রতর দল', কেষ্টদার জন্য চোখে জল তৃণমূলে 'গদি' পাওয়া হৃদয়ের

বাবাকে মেরেছিল অনুব্রতর দল, কেষ্টদার জন্য চোখে জল তৃণমূলে ‘গদি’ পাওয়া হৃদয়ের। ‘বাবার হ’ত্যাকারী’, অভিযোগ এখনও করেন, কিন্তু পদের লোভে বাবার হ’ত্যাকারির সঙ্গেই হাত মিলিয়ে এখন ‘গদিতে’ বীরভূমের পারুইয়ের হৃদয় ঘোষ। ফিরে যেতে হবে প্রায় এক দশক আগে। ১৯৯৮ সাল থেকেই ‘কেষ্টদা’র সঙ্গে, তৃণমূল করেন হৃদয়। কিন্তু গোষ্ঠীকো’ন্দলের জেরে ২০১৩ সালে, তৃণমূল কর্মী হৃদয় ঘোষ পঞ্চায়েত ভোটে নির্দল প্রার্থী হন। আর তারপরেই সেই বছরের ২০ জুলাই সন্ধ্যায়, পাড়ুই কসবা বাসস্ট্যান্ডের জনসভা থেকে অনুব্রতের সেই হুঙ্কার, “যারা নির্দল প্রার্থী হয়েছে, তাদের ঘরটা জ্বা’লিয়ে দিন। আর পুলিশ প্রশাসন যদি নির্দল প্রার্থীদের পাশে দাঁড়ায়, তা হলে পুলিশের গাড়িতে বো’মা মারুন। আমি বলছি, বো’মা মারুন”। ২১শে জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবসের রাতেই, হামলা হয় নির্দল প্রার্থী হৃদয় ঘোষের বাড়িতে।

অনুব্রত মণ্ডলের সেই বিতর্কিত মন্তব্যের পরেই, একের পর এক হামলা হয় নির্দল প্রার্থীদের বাড়ি। ২১ জুলাইয়ের রাতে হামলা হয় হৃদয়ের বাড়িতেও। গুলিবিদ্ধ হয় তার বাবা সাগর ঘোষ, ২৩ তারিখ মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদয়ের স্ত্রী শিবানী ৪৪ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, অভিযুক্ত হিসেবে প্রথম নামটিই ছিল অনুব্রত মণ্ডলের। ওই ঘটনার পরে বিজেপিতে চলে যান হৃদয়।

আরও পড়ুনঃ চাকরি ও গরু চুরির দায়ে গ্রেফতার পার্থ অনুব্রত, প্রতিবাদে রাস্তায় তৃণমূল

কিন্তু মাস কাটতে না-কাটতেই ফের কেষ্ট-ম্যাজিক! ‘দাদা’ কেষ্টর পাশে বসে, বাবার মৃত্যু কয়েকদিনের মধ্যে ভুলে, হৃদয়ের ‘ঘর ওয়াপসি’। ২০১৮-তে সেই দাদার কল্যাণেই দলের প্রার্থী হিসেবে ভোটে জিতে, বর্তমানে বোলপুর-শ্রীনিকেতন পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন ‘কামানোর সুযোগ’, তৃণমূল গু’ণ্ডাদের হাতে খু’ন হওয়া বাবার মৃতদেহ, আর চোখে ভাসে না হৃদয়ের।

তারপর থেকে দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে, ফের সুখের সম্পর্ক। এক সময়ে যে অনুব্রতর নামে থানায় খু’নের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, আবার যার দয়ায় প্রশাসনে গদি পেয়েছেন, সেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা গ্রেফতার হতে হৃদয় কি বললেন? ‘দাদা’র গ্রেফতারিতে মন ভালো নেই হৃদয়ের। বললেন “কেষ্টদার ওই হু’মকির পরেই, আমার বাড়িতে হা’মলা হয়েছিল, এটা সত্যি। তারপরেও ওই কেষ্টদাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরিবারের পাশে শেষ পর্যন্ত থেকেছেন। দলের আর কেউ ছিলেন না”।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন