ইতিহাস বইয়ে নেই, বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করেছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়

91
ইতিহাস বইয়ে নেই, বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করেছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়
ইতিহাস বইয়ে নেই, বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করেছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়

বড় বড় নেতা, বুদ্ধিজীবী, সবাই যখন ভয়ে কাঁটা/বোনের সিঁদুর, মায়ের শাঁখা বাঁচিয়েছিল গোপাল পাঁঠা। গভীর চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা পশ্চিমবঙ্গে, আজ আরও একটা ১৬ই আগস্ট। ১৬ই আগস্ট ১৯৪৬ শুক্রবার, পাকিস্তানের দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে অবিভক্ত ভারতে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ বা ‘Direct Action Day’র ডাক দিয়েছিলেন মু’সলিম লীগের নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ। অবিভক্ত বঙ্গে তখন সুহরাওয়ার্দি-র নেতৃত্বাধীন, মুসলিম লীগের প্রাদেশিক সরকার। পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রেখে, ১৬ আগস্ট কলকাতায় মু’সলিম লীগের গু’ন্ডারা, হিন্দুদের ওপর এক ভ’য়াবহ সা’ম্প্রদা’য়িক হা’মলা করে।

কয়েক হাজার হি’ন্দুকে হ’ত্যা করা হয়, হাজার-হাজার হিন্দু নারী ধ’র্ষি’তা হন এবং হি’ন্দুদের সম্পত্তি লু’ঠ করা হয়। একদিন পর ১৭ই আগস্ট গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হি’ন্দুরা, মুস’লিমদের এই হা’মলা প্রতিহত করে। ১৮ তারিখ সংগঠিত হি’ন্দুদের নেতৃত্বে শি’খ ও বিহা’রীরা কলকাতার মুস’লিম মহ’ল্লাগুলোতে হা’মলা চালিয়ে, এর প্র’তিহিং’সা নেয়। অসংখ্য মু’সলিম মারা যান। গোপাল পাঁঠা ডাক দেন, “মার খাওয়া মানেই শান্তি নয়, অশান্তিকে ঠান্ডা করতে অশান্তির দরকার, আক্রমনের পাল্টা আক্রমন”।

জিন্নার প্রধানমন্ত্রী হবার নেশা ও কংগ্রেসের চরম উদাসীনতার, ফল ভোগ করে অবিভক্ত বাংলার হি’ন্দুরা, কিছুটা মুস’লিমরাও। নেতাদের ব্রেনওয়াশে হি’ন্দু মা’রতে রাস্তায় নামে মুসল’মানরা। মুসলিম আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েকশো বাঙালি, ঘর ছাড়া হয়েছিলেন আরও প্রায় কয়েক হাজার হিন্দু। রাজাবাজার, সুখিয়া স্ট্রিট, মানিকতলা, ধর্মতলা, সেন্ট্রাল এভিনিউ, চিৎপুর, নারকেলডাঙা, ফুলবাগান, বিবেকানন্দ রোড, ক্যানিং স্ট্রিট, খিদিরপুরের রাস্তা ভিজে ছিল লু’ঠ, খু’ন, ধর্ষ’ণের র’ক্তে। কমলালয় স্টোর্স, ভারতকলা স্ট্রিট, লক্ষ্মী স্টোর্সের লু’ঠের ঘটনা আজও সকলের স্মৃতিতে তাজা রয়েছে।

ইতিহাস বইয়ে নেই, বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করেছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়
ইতিহাস বইয়ে নেই, বাংলার হিন্দুদের রক্ষা করেছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়

দিকে দিকে যখন বাঙালি হি’ন্দুদের র’ক্ত ঝরছে, তখন একজন এগিয়ে এসেছিল, গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, যিনি জনপ্রিয় ছিলেন গোপাল পাঁঠা নামে। এই বাংলার বাঙালি হিন্দুদের স্বার্থে যিনি এগিয়ে এসেছিলেন, আশ্চর্য লাগে যে আজও ওনার কথা অনেকেই জানেন না বা জানতে দেওয়া হয়না। আমাদের ইতিহাস বইয়ে গোপাল পাঁঠার লড়াই স্থান পায়নি। তাঁর নাম ইতিহাসে রাখা হয়নি।

গোপাল পাঁঠা ওরফে গোপাল মুখার্জী একদল হিন্দু যুবককে নিয়ে যখন রুখে দাঁড়ালেন, তখন একটা কথা পরিষ্কার বলেছিলেন যে, “বাচ্চা, নারী ও নিরস্ত্রদের উপর কোন আক্রমণ নয়”। জানিনা মহাভারতের মত এখনকার যুদ্ধেরও আবার নিয়ম হয় নাকি, বিশেষ করে মুসলিম লীগের গুন্ডাদের বিরুদ্ধে। কিন্তু উনি করেছিলেন। এটাই হিন্দু ধর্মের শিক্ষা। তবু তবু আজও বিশ্ব জুড়ে, শান্তির ধর্ম কিন্তু অন্যই।

আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম যদি গোপাল মুখার্জী বা গোপাল পাঁঠার ব্যাপারে না জানে বা ওনাকে না চেনে, তাহলে সেটা খুব লজ্জাকর হবে আমাদের পক্ষে। যেভাবে উনি জি’হাদি চ’ক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যেভাবে উনি জিন্না-সোরাবর্দির যুক্তবঙ্গের স্বপ্নে জল ঢেলেছিলেন, তাতে আমাদের ওনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত আজীবন।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন