পাকিস্থানে বিমানবাহিনীর হামলা, বাংলায় কাঁদল দিদি

307
পাকিস্থানে বিমানবাহিনীর হামলা, বাংলায় কাঁদল দিদি/The News বাংলা
পাকিস্থানে বিমানবাহিনীর হামলা, বাংলায় কাঁদল দিদি/The News বাংলা

পাকিস্থানে বিমানবাহিনীর হামলা, বাংলায় কাঁদল দিদি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে ঠিক এই ভাষাতেই পাকিস্তান দরদী বলে আক্রমণ করলেন।

প্রথমে শিলিগুড়ি জনসভায় মমতা ব্যানার্জীর উদ্দেশ্য মোদী বলেন, “পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার পরে সবথেকে বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জী। শুধু তাই নয় পাকিস্তানে সেনা হামলার প্রমান দাবি করে সারা পৃথিবীর কাছে ভারতকে ছোট করেছেন মমতা ব্যানার্জী”।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় উন্নতিতে বাধা ‘স্পীডব্রেকার’ মমতা, কটাক্ষ মোদীর

শিলিগুড়ির পরে কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে এসেও সেই একই ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডে দাঁড়িয়েও প্রধানমন্ত্রী বলেন “পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার প্রমান চেয়ে দিদি প্রমান করেছেন উনি কত পাকিস্তান দরদী”। পাকিস্তানে হামলা হল কাঁদলেন মমতা, এমনটাই দুটি সভা থেকেই অভিযোগ করলেন মোদী।

আরও পড়ুনঃ ব্রিগেড ছেয়ে গেল মোদীর ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ টুপিতে

উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি দিয়ে বাংলায় ভোট প্রচার শুরু করেন নরেন্দ্র মোদী। দুপুর দেড়টা নাগাদ শিলিগুড়ি জনসভায় এসে পৌঁছন তিনি। সভার একদম প্রথম দিকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে উন্নয়নের ‘স্পীডব্রেকার’ বলে কটাক্ষ করেন মোদী। রাজ্যের সব রকম উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তৃণমূল নেত্রী, এমনটাই বলেন মোদী। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষকে নিয়ে প্রতিনিয়ত রাজনীতি করছেন তৃণমূল। বাম কংগ্রেসও অবশ্য একই পথে হাঁটছে বলেই জানান মোদী।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যে ৩০ শতাংশেরও কম স্পর্শকাতর বুথ

শিলিগুড়ি ও ব্রিগেডে জনসভায় প্রথমেই বাংলায় মন্তব্য শুরু করে, সাধারন মানুষকে ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেসা করেন মোদী। বাংলায় কথা বলার পরই তাঁর ছোটবেলায় শোনা বাংলাকে নিয়ে এক প্রবাদের কথা উল্লখ করে বলেন,’বাংলা যা করে, সারা দেশ তা পরে করে’। তারপরই সরাসরি তীর ছোঁড়েন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। বুধবার শিলিগুড়িতে ও ব্রিগেডে মোদী বলেনঃ

১। দিদির নৌকা ডুবে গেছে পশ্চিমবাংলায়। শিলিগুড়ির এই জনসভা তারই প্রমাণ।
২। যেই গতিতে আমি সারা দেশে কাজ করেছি, সেই গতিতে আমি বাংলায় কাজ করতে পারিনি কারন বাংলায় একজন ‘স্পীড ব্রেকার’ আছে। তার নাম, মমতা বন্দোপাধ্যায়।
৩। পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী গরিব মানুষদের নিয়ে রাজনীতি করে। তাই, তিনি চাননা বাংলায় উন্নয়ন আসুক।

আরও পড়ুনঃ দরিদ্রদের উন্নয়নের জন্যই আমি অবিবাহিত থেকেছি, সুপ্রিম কোর্টে দাবি মায়াবতীর

৪। মহাকাশে ভারতীয় বিজ্ঞানিদের জয়জয়কার হওয়া সত্ত্বেও তাদের দিকে প্রশ্ন তুলেছে দেশের কিছু শত্রুর।
৫। গরিবদের টাকা নিয়ে চিটফান্ডের কেলেঙ্কারি করেছেন ‘দিদি’।
৬। গরিবদের চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা থাকলেও তা আটকে দিয়েছেন দিদি।

আরও পড়ুনঃ বছরে ৩৪ লাখ সরকারি চাকরি, কৃষক বাজেটের প্রতিশ্রুতি কংগ্রেস ম্যানিফেস্টোতে

৭। মমতার রাজনীতির ভীত নড়ে গেছে। ব্রিগেডের ভীর তারই প্রমাণ।
৮। কিছু বছর আগেও ‘মোদী হাটাও’, ‘মোদী হাটাও’ রব উঠেছিল। কেন? কি করেছি আমি? কোন পাপ করেছি আমি? যদি গরীব মানুষদের শৌচালয় বানিয়ে দেওয়া পাপ হয়, তবে আমি পাপ করেছি। যদি সবার বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া পাপ হয় তাহলে পাপ করেছি আমি, এবং এই পাপ করে আমি দারুন গর্ব বোধ করি।
৯। চা বাগানের দুরবস্থার কথা আমি জানি। তাদের জন্য অনেক কিছু করেছে বিজেপি। ভবিষ্যতে এই চা ওয়ালা চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য আরও করবে।

আরও পড়ুনঃ মোদী স্পেশাল, ব্রিগেডে আসার জন্য চারটে আস্ত ট্রেন বুক করল বিজেপি

১০। দেশের সেনা বালাকটের হামলার পর, দেশের সুরক্ষা করার জন্য বিরোধী দলের তরফ থেকে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়েছিল দেশের সেনা। সেই বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের লড়াই।
১১। আমরা জঙ্গিদের ঘরে ঢুকে মেরেছি। দেশের শত্রুদের এই ভাবেই শেষ করব আমরা।
১২। পাকিস্তানের জঙ্গি হামলার পর, আমরা তাদের জবাব দিয়েছিলাম। সেই জবাবে পাকিস্তানীদের থেকেও বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন বাংলার ‘দিদি’।

আরও পড়ুনঃ ভোট প্রচারে হেলিকপ্টার পাচ্ছেন না মমতা, অভিযোগের তীর কেন্দ্রের দিকে

১৩। স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্নের ভারত আমরা এখন তৈরি করতে পারি। আমাদের দেশে কিছুর অভাব নেই, কিন্তু ৫৫সালের পরিবারতন্ত্র সব শেষ করে দিয়েছে।
১৪। বাংলাও আজ সেই পরিবারতন্ত্রের শিকার হচ্ছে। পিসি-ভাইপো মিলে রাজ্যটাকে শেষ করতে চলেছে।
১৫। বিজেপিকে এই ভাবে সমর্থন করলে, দেশে আরও উন্নতি হবে।

আরও পড়ুনঃ বারবার স্বামী বদল করেন স্মৃতি ইরানী, কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ কংগ্রেস জোটসঙ্গীর

১৬। সারা দেশে আমরা চৌকিদারের ভুমিকা পালন করলে, কোন শত্রুই আমদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
১৭। বাংলার মত এতো সুন্দর একটা রাজ্যে কোন ভাবেই পরিবারতন্ত্রের কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে না।
১৮। জনসভা শেষ করার আগে, ‘মে ভি চৌকিদার’ স্লোগান বারবার বলে সভা শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ পাহাড়ের ভোটে কি নামতে পারবেন বিমল রোশন জানাল আদালত

শিলিগুড়ি ও ব্রিগেডের জনসভায় পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দিকে সরাসরি আঙ্গুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর জবাবে কি বলবেন দিদি, তা জানার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে গোটা রাজ্য। কোচবিহারের দিনহাটায় তৃণমূল নেত্রীর আজকের জনসভায় তারই উত্তর দেবেন বলে জানিয়েছেন খোদ ‘দিদি’।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন