সাধ্বী প্রজ্ঞাকে বিজেপি প্রার্থী করার প্রতিবাদ জানালেন ৭১ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা

392
সাধ্বী প্রজ্ঞাকে বিজেপির প্রার্থী করার প্রতিবাদ জানালেন ৭১ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা/The News বাংলা
সাধ্বী প্রজ্ঞাকে বিজেপির প্রার্থী করার প্রতিবাদ জানালেন ৭১ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা/The News বাংলা

দেশের ৭১ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে ভোপাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রার্থী করার প্রতিবাদ জানালেন। তাঁকে সরিয়ে দেবার দাবী তুললেন তাঁরা।

চিঠির মাধ্যমে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিঁধে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে এটা চরম দ্বিচারিতা যে একদিকে তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন, অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদী কাজে অভিযুক্ত একজনের প্রার্থীপদ সমর্থন করছেন। অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এগিয়ে এসে সাধ্বী প্রজ্ঞাকে বাতিল করার দাবী তুলেছেন তাঁরা।

এক খোলা চিঠিতে এই আমলারা লিখেছেন “সাধ্বী প্রজ্ঞাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার আর একটি উদাহরণ। এবং এই সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রীর মত একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে ভারতীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যের প্রতি সমর্থন বলে উল্লেখ করা এক বিপজ্জনক প্রবণতা”।

চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, “হেমন্ত কারকারের মত একজন সাহসী আইপিএস অফিসার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। সেখানে মালেগাঁও বোমা বিস্ফোরোণে যুক্ত থাকার অভিযোগে অন্যতম অভিযুক্ত ও বর্তমানে শারীরিক কারণে জামিনে মুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞা যখন বলেন যে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করার কারণে তাঁর অভিশাপে কারকারের মৃত্যু হয়েছে, এবং একথা বলার জন্য তিনি রাজনৈতিক দলের মঞ্চ ব্যবহার করেন, তখন সেকথা শুধু কট্টর হিন্দুত্ববাদকেই সমর্থন করে না, কারকারের জীবনদানকেও চরম অসম্মান করে”।

চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, “আমাদের প্রাক্তন সহকর্মী হেমন্ত কারকারে একজন অত্যন্ত দক্ষ আধিকারিক ছিলেন। তাঁর অধীনে এবং তাঁর সঙ্গে যে সব অফিসার ও অন্যান্য পুলিশ কর্মী কাজ করেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁর দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সেখানে একজন উগ্র হিন্দুত্বাবাদীর তাঁর সম্পর্কে এই ধরণের মন্তব্যে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত এবং দুঃখিত”।

সাধারণ মানুষকে সাধ্বীর বক্তব্যকে তীব্র ধিক্কার জানানোর আহ্বান জানিয়ে এবং বিজেপি নেতৃত্বকে সাধ্বীর প্রার্থীপদে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে ও প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর রাজধর্ম পালনের শপথের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন এই অবসরপ্রাপ্ত আমলারা।

তাঁরা চিঠিতে আরও জানিয়েছেন, “এই ধরণের বক্তব্য পেশের মাধ্যমে দেশে বিভাজন এবং বিদ্বেষের বীজ বপনের চেষ্টা চলছে এবং সেই ঘৃণার বীজ সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাধ্বী প্রজ্ঞা আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক নন, বরং তাঁর পরিপন্থী। আমাদের দেশের ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সহিষ্ণুতা।

কোনও রকম সন্ত্রাসবাদ আমাদের ঐতিহ্যের পরিপন্থী। আমাদের সংস্কৃতি শুধুমাত্র সংখ্যাগুরুর মতাদর্শে বিশ্বাস করে না, বরং বিভিন্ন মতামতকে সম্মান করে। ভারতের সংবিধানের মূল প্রতিপাদ্যই হল পরস্পরের প্রতি সম্মান, সৌভ্রাত্র এবং বিবিধের মাঝে সংহতি। আমাদের কাজ ভারতের সংবিধানকে রক্ষা করা, সংবিধানের মূল মন্ত্রকে রক্ষা করা”। নির্বাচন কমিশন থেকে কি সিদ্ধান্ত জানান হয় সেটাই এখন দেখার।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন