মোদীকে আটকাতে আপাততঃ প্রধানমন্ত্রী হবার ইচ্ছে বিসর্জন রাহুলের

1223

নিউ দিল্লি: বিজেপিকে আটকাতে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়তেও রাজী। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে বিজেপি বিরোধী মহাজোট করতে রাহুল গান্ধীকে দলের তরফে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হচ্ছে না বলেই সোমবার জানিয়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম।

বলা যায়, পদের বিনিময়ে বিরোধী নেতাদের খোয়াতে চাইছে না কংগ্রেস। তাই মহাজোটের জন্য লোকসভা ভোটে সবচেয়ে বড় আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত কংগ্রেস! প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে কাউকেই ঘোষণা করবে না কংগ্রেস।

রাহুল গান্ধীকে তো নয়ই, বিজেপির বিরুদ্ধে জোট করতে অসুবিধা হলে দলের অন্য কোনও নেতাকেও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হবে না, সোমবার এক সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারাতে মরিয়া কংগ্রেস। আর সে জন্য দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে জোট করাটা জরুরি। মহাজোট করতে অনেক দিন আগে থেকেই উদ্যোগী সনিয়া গান্ধী। ইচ্ছে মহাজোটের নেতৃত্ব থাকুক ছেলে রাহুল গান্ধীর হাতে।

কিন্তু জোটের তরফে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে রাহুল গান্ধীকে অনেক দলই মানতে রাজি নয়। সে প্রসঙ্গে রাহুল অবশ্য আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, সর্বসম্মতভাবে রাজি না হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন না। এ বার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম দলের সেই সিদ্ধান্তই আরও স্পষ্ট করে দিলেন জোট শরিকদের কাছে।

পি চিদাম্বরম সোমবার বলেন, ‘‘আমরা কখনও বলিনি যে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রাহুল গান্ধীকেই চাইছে কংগ্রেস। যদি কখনও দলের কোনও সমর্থক বা নেতা এই প্রসঙ্গে কথা বলতে চান, দলই তাঁকে থামিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, বিজেপিকে হারানো। তার জায়গায় উন্নয়নশীল, দূর্নীতিমুক্ত, ধর্ম-নিরপেক্ষ একটা সরকার চাই। তার জন্য জোট সরকারের প্রয়োজন। কে প্রধানমন্ত্রী হবে তা ভোটের পর যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”।

রাহুল গান্ধীও আগেই ঠিক এই কথাটাই বলেছিলেন। ৫ অক্টোবর একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, এই নির্বাচনটা দু’টো ধাপে হবে। প্রথম ধাপে ভোট এবং দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর শরিক দলগুলির সঙ্গে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে এখন কংগ্রেস একথা বললেও, কয়েকমাস আগেই রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, তিনিও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে তিনিও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তখনই জোট শরিকরা জোট করার বিপক্ষে মত দিতে শুরু করেন। রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানতে রাজি নন অনেক জোট শরিকই। তাই, কংগ্রেসের এই পাল্টি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

২০১৯ এর লোকসভা ভোটে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল নরেন্দ্র মোদীর বিজেপিকে হারাতে আঁটঘাঁট বেঁধেই নেমেছে কংগ্রেস। জোটবদ্ধভাবেই নির্বাচনে বিজয়ী হতে চায় তারা। এজন্য ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপতত প্রধানমন্ত্রী পদটাও ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস।

প্রধানমন্ত্রী পদে রাহুল গান্ধীর নাম ঘোষণা করে দল যে বিরোধী শিবিরে আগেভাগে কোনো অস্বস্তি তৈরি করতে নারাজ তা আগেই স্পষ্ট করেছিল কংগ্রেস। দলের তরফে আরও এক ধাপ এগিয়ে জানানো হয়েছিল, বিজেপিকে হারাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কিংবা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর মতো কাউকে মেনে নিতেও দলের আপত্তি নেই।

কংগ্রেস শীর্ষ সূত্রের মতে, রাহুল মনে করেন প্রধানমন্ত্রিত্বের থেকেও এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হল বিজেপিকে হারানো। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছেন, ভোটের পরে বড় দল হিসেবে কংগ্রেস উঠে এলে অংকের হিসাবেই জোটের প্রধানমন্ত্রী হবেন রাহুল। এবং সেটা ঠিক হবে ভোটের ফল প্রকাশের পরে।

আর তাই ভোটে জিততে এখনই কংগ্রেসের তরফে কাউকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হবে না, বলেই জানিয়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। তবে, মোদীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করে, বিজেপি যে কংগ্রেস ও জোটের এই দুর্বলতাকেই হাতিয়ার করবে, সেটা কিন্তু পরিস্কার।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন