প্রাথমিকে বরখাস্তের তালিকায়, পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতির দুই মেয়ে

112
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে চাকরি গেল, গুণধরের মেয়ে শিবানী ও সীমার
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ে চাকরি গেল, গুণধরের মেয়ে শিবানী ও সীমার

চাকরি পেয়েও, কাজে যোগ দিয়ে, পাঁচ বছর চাকরি করেও যে চাকরি যেতে পারে; তা ভাবতেই পারছেন না আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূল নেতা গুণধর খাঁড়ার দুই মেয়ে সীমা খাঁড়া ও শিবানী খাঁড়া। প্রাথমিকে বরখাস্তের তালিকায়; পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতির ২ মেয়েই। এসএসসি নিয়োগে দুর্নীতির পর, প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগেও; দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে গড়ানোর পর; সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২৬৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন; তাদের পুরো মাইনে ফেরত দেবার নির্দেশ দেন।

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বরখাস্ত হওয়ার এই তালিকা, আদালতের নির্দেশের পর; জেলায় জেলায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। জেলায় জেলায় সেই তালিকা পৌঁছানোর পর; বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে হাহাকার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বরখাস্ত হওয়া এই তালিকায়; একাধিক নাম রয়েছে তারা শাসকদল তৃণমূলের নেতা-নেত্রী, আত্মীয়স্বজন এবং সন্তানদের। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত; প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলেননি।

আরও পড়ুনঃ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের

আদালতের নির্দেশে হুগলি জেলায় ৬৮ জনকে; চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি; গুণধর খাঁড়ার ২ মেয়ের নাম। এলাকায় তৃণমূলের দীর্ঘদিনের কর্মী বলে পরিচিত গুণধরবাবু। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হবার পর; তাঁর দাপট আরও বেড়েছে। ২০১৭ সালে তার দুই মেয়ে সীমা ও শিবানী; প্রাথমিক শিক্ষক হিসাবে চাকরিতে যোগ দেয়। মঙ্গলবার সকালে জেলায় যে তালিকা পৌঁছেছে, তাতে ৫ নম্বরে নাম রয়েছে শিবানী খাঁড়ার; আর ৮ নম্বরে নাম সীমা খাঁড়া প্রামাণিকের।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় ‘হাত জড়ো’, রাস্তায় নামা বিক্ষো’ভকারীদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে কুয়েত

২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটে দুর্নীতির মামলা করে, আবেদনকারীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন; এই নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় ২০১৭ সালে বেআইনি-ভাবে দ্বিতীয় একটি মেধাতালিকা তৈরি করা হয়। এই নিয়ে সংসদের আইনজীবীর দাবি ছিল; ২০১৪ সালের টেটে একটি প্রশ্ন ভুল ছিল; সেই প্রশ্নে অতিরিক্ত ১ নম্বর দেওয়া হয়েছে। আদালত পালটা প্রশ্ন করে; বাকি ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী কী দোষ করল? কোনও জবাব ছিল না সংসদের আইনজীবীর কাছে; এরপরই ২৬৯ জনকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন; বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন