ট্যাংরার ট্রাক ভর্তি লোকের শাস্তি হয়নি, বেঁচে ফিরে নতুন জন্ম দিচ্ছেন পরিবহ মুখোপাধ্যায়

1588
ট্যাংরার ট্রাক ভর্তি লোকের শাস্তি হয়নি, বেঁচে ফিরে নতুন জন্ম দিচ্ছেন পরিবহ মুখোপাধ্যায়
ট্যাংরার ট্রাক ভর্তি লোকের শাস্তি হয়নি, বেঁচে ফিরে নতুন জন্ম দিচ্ছেন পরিবহ মুখোপাধ্যায়

ট্যাংরার ট্রাক ভর্তি লোকের আজও শাস্তি হয়নি, অন্যদিকে অল্পের জন্য বেঁচে ফিরে; প্রতিদিন নতুন নতুন নবজাতকের জন্ম দিচ্ছেন ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়। ২০১৯ সালের জুন মাসে, এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে; র’ণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ট্যাংরার বাসিন্দা বছর পঁচাত্তরের মহম্মদ শহিদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায়; তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একদিন পরেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, এরপরই চিকিত্সায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে; ডাক্তারদের উপর চড়াও হন ৫০-৬০ জনের একটি দল। ট্যাংরা থেকে ২টো ট্রাক ভর্তি লোক এসে; ক্ষমতা দেখায় বিশেষ একটি ধর্মের দুষ্কৃতীরা।

হেলমেটে মুখ ঢেকে, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে; এনআরএস হাসপাতালে ঢুকে আ’ক্রমণ করে ওই দু’ষ্কৃতী দল। সেইসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন; ডাক্তার পরিবহ। তাঁর মাথা লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে দুষ্কৃতীরা; সেই আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পরেন পরিবহ। এনআরএস-এই প্রাথমিক চিকিৎসা হয়; কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে; রাতেই মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস-এ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে”। মাথায় এমন ভাবে চোট পান যে; করোটি ভেঙে ব্রেনের দিকে ঢুকে যায়।

আরও পড়ুনঃ ঘটা করে শিল্প সম্মেলনই সার, শিল্পে দেশের মধ্যে ‘পিছিয়ে বাংলা’

ডাক্তারদের মারধরের ঘটনায় আহত দুই জুনিয়র ডাক্তারকে; গুরুতর আহত অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন; পরিবহ মুখোপাধ্যায় ও যশ টেকওয়ানি। জুনিয়র চিকিৎসকদের নিগ্রহের প্রতিবাদে; ১২ ঘণ্টা আউটডোর পরিষেবা বন্ধ রাখে রাজ্যের ডক্টর্স ফোরাম।

দুই ট্রাক ভর্তি লোকের, এনআরএস হাসপাতালে ঢুকে ডাক্তার পেটানোর ঘটনায়; প্রবল চাপের মুখে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আজও এতজন অভিযুক্তদের কোন শাস্তি হয়নি। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু যারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে; তাদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়য় না। এনআরএস থেকে আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ে; কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আরজিকর, এসএসকেএম হাসপাতালেও। সব হাসপাতালগুলিতে; একদিন আউটডোর পরিষেবা বন্ধ ছিল।

ইনি সেই ডাঃ পরিবহ মুখোপাধ্যায়; যাঁকে ট্যাংরার গুন্ডারা মেরে মাথার খুলি ফুটো করে দিয়েছিল। ডাক্তাররা অসাধ্যসাধন করে ওঁকে বাঁচিয়েছিলেন। এখন তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন নবজাতককে; পৃথিবীতে আনছেন, পৃথিবীর আলো দেখাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই জানোয়ার-গুলোর কোন সাজা হয়েছে কি?

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন