বাংলার নেতাদের মতই, এবার ‘পাল্টি’ খেলেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

47
বাংলার নেতাদের মতই, এবার 'পাল্টি' খেলেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন
বাংলার নেতাদের মতই, এবার 'পাল্টি' খেলেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন

বাংলার নেতাদের মতই, এবার ‘পাল্টি’ খেলেন; নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন। ঠিক বাংলার ‘গদিপ্রিয়’ রাজনৈতিক নেতাদের মতই; এবার ‘পাল্টি’ খেলেন নোবেলজয়ীও। তৃণমূল শিবির ছেড়ে ফের; সিপিএম শিবিরে ফিরে গেলেন অমর্ত্য সেন।

যতদিন রাজ্যে বাম শাসন ছিল; ততদিন তিনি তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলেছেন বলে কেউ দেখেনি। উল্টে, বাম সরকারের ‘নীতিগত সমর্থক’ ছিলেন অমর্ত্য সেন। আবার তৃণমূল আসার পরে; তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘মা মাটি মানুষের সরকার’ এর পরামর্শদাতাও ছিলেন। লক্ষ্মীর ভান্ডার ও বিভিন্ন ভাতা নিয়ে যখন সমালোচনার পাহাড় উঠেছিল; তখনও তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ মমতার সমর্থক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রশংসা করেছেন সব সময়।

অন্যদিকে কেন্দ্রে আবার কংগ্রেস সরকারের সমর্থক ছিলেন, এখনও আছেন। বিজেপি আসার পরে সরিয়ে দেওয়া হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপর থেকেই তিনি বিজেপি বিরোধী; ইস্যু যাই হোক না কেন, নরেন্দ্র মোদীর কট্টর সমালোচক।

‘নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য থাকাকালীন বিপুল আর্থিক দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণে যুক্ত ছিলেন; নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ২০১৪ সালে মোদী ক্ষমতায় এসে; হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাঁর সমস্ত দুর্নীতি। নালন্দা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অমর্ত্য-কে। তারপর থেকেই মোদীকে অকারণ সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন অমর্ত্য’। এমনটাই বিজেপির অভিযোগ; বাংলার নোবেল জয়ী-কে নিয়ে।

সেই অমর্ত্য সেন, আবার ‘দলবদল’ করলেন। নেতাদের মতই নীতি-আদর্শ চুলোয় দিয়ে। মমতার ‘বিভূষণ’ ফিরিয়ে; সিপিএমের ‘পুরষ্কার’ নিলেন অমর্ত্য। তৃণমূলের চুরি আর দুর্নীতি দেখেই কি, এই ‘দলবদল’? তাঁকে সম্মানিত করতে চেয়েছিল; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মা মাটি মানুষের সরকার’। কিন্তু প্রস্তাব পাওয়া মাত্রই দেরি না করে; তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। সেই অর্মত্য সেনই এবার পুরষ্কার নিলেন সিপিএমের কাছ থেকে! সেদিন পর্যন্ত মমতার সঙ্গে থাকা অমর্ত্য; কেন হঠাৎ দলবদল করলেন?

কিছুদিন আগেই রাজ্য সরকারের তরফে কৃতী এবং গুণীজনদের; বঙ্গ সম্মানে সংবর্ধিত করা হয়। অর্মত্য সেনকে সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন; মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পত্রপাঠ তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন; অপমানিত হয়েও চুপ, ঘাসফুল সরকার।

আরও পড়ুনঃ চুরি দেখেই ‘দলবদল’, মমতার ‘বিভূষণ’ ফিরিয়ে সিপিএমের পুরষ্কার নিচ্ছেন অমর্ত্য সেন

এরপরেই গত ৫ আগস্ট, প্রয়াত কমরেড মুজফফর আহমেদের জন্মদিনে; মুজফফর আহমেদ ট্রাস্ট স্মৃতি পুরস্কার নিলেন অমর্ত্য। যে পুরস্কারের দায়িত্বে রয়েছে সিপিএম দল। ‘হোম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড: আ মেমোয়ার’ বা ‘জগৎকুটির’ বইটির জন্য; সম্মানিত করা হল অমর্ত্য সেনকে। “পুরস্কার নেব না”, বলেননি অমর্ত্য।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গবিভূষণ পুরস্কার নেননি অমর্ত্য। তাঁর তরফ থেকে তাঁর পরিবার জানিয়ে দেয়; তিনি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। অন্য কাউকে এই পুরষ্কার দেওয়া হোক’। কয়েকদিনের মধ্যে কি এমন ঘটল; যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন নোবেলজয়ী? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাত ছাড়লেন; অমর্ত্য সেন?

চারপাশে তৃণমূল নেতাদের এত দুর্নীতি দেখেই কি, এই সিদ্ধান্ত? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। আর এটা শুনেই সদ্য মমতার মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়া বাবুল সুপ্রিয়; কড়া সমালোচনা করেছেন এই অর্থনীতিবিদের। বাবুলের দাবি, “অমর্ত্য সেন তো একজন পর্যটক; একটি রাজনৈতিক রঙের বাইরে বেরতে পারেননি”। এক ‘পর্যটক’ যে দুদিন আগেও বিজেপিতে ছিল; সে কিনা আর এক ‘দলবদলু’-কে ‘পর্যটক’ বলছে! ভাবা যায়!

তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের কাছে; আর কিছুই পাবার নেই অমর্ত্য সেনের? তাই কি আবার সিপিএম ও পুরনো দল কংগ্রেস এর হাত ধরা? দেখি অমর্ত্য সেন কি বলেন? হাজার হোক তিনি আবার আমাদের ভারতরত্নও; জনগণের টাকায় তাঁর বিমানভাড়া একেবারে ফ্রি। একমাত্র ভারতরত্ন, যিনি টাকার অভাব না হওয়া সত্ত্বেও এই সুবিধা নেন।

লিখলেন মানব গুহ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন