কাননবালা দেবী বাঙালি অভিনেত্রী এবং ভারতীয় সিনেমার প্রথম গায়িকা

6302
কাননবালা দেবী বাঙালি অভিনেত্রী এবং ভারতীয় সিনেমার প্রথম গায়িকা/The News বাংলা
কাননবালা দেবী বাঙালি অভিনেত্রী এবং ভারতীয় সিনেমার প্রথম গায়িকা/The News বাংলা

ভারতীয় সিনেমার সবাক হতে তখনও বাকি আরও চার বছর। সেই সময় মাত্র দশ বছর বয়সের কাননবালা পা রাখলেন টলিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায়।

মাত্র আট নয় বছরে কাননদেবীর বাবা রতনচন্দ্র দাস মারা যান। রতনচন্দ্রের মৃত্যুতে দিশাহীন রজবালা ছোট্ট কানন কে নিয়ে প্রথমে আত্মীয়ের বাড়ি উঠলেও পরে উঠে আসেন হাওড়ার ঘিঞ্জি বস্তিতে। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে মা ও মেয়ে।

আরও পড়ুনঃ বলিউডে নতুন যুগের তারকারা কত পারিশ্রমিক পান

এই সময় পাতানো কাকা তুলসী বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে কলকাতার সেই সময়ের নাম করা প্রোডাকশন কোম্পানি ম্যাডান থিয়েটারে হাজির হন কাননদেবী। প্রথম নির্বাক ছবি ‘জয়দেব’ এ রাধার ভূমিকায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় শিশুশিল্পী কাননবালা।

আরও পড়ুনঃ যৌনতা কেন্দ্রিক বিনোদনের জন্য বিশ্বের সেরা ২০ টি ঠিকানা

বাবা কোন সঞ্চয় রাখতে না পারলেও মেয়েকে দিয়েছিলেন গানের প্রতি ভালোবাসা। নিউ থিয়টার্স এর দিকপাল রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজ মল্লিক এর তালিমে তা আরও নিখুঁত ও পরিশিলিত হয়ে ওঠে। তিনের দশকে এইচএমভি, মেগাফোন ও কলম্বিয়া কোম্পানি গুলো থেকে প্রকাশিত হতে থাকে অসংখ্য গান।

আরও পড়ুনঃ ‘বাঘের সঙ্গে অভিনয় করাটাই ছিল জীবনের সেরা চ্যালেঞ্জ’

সবাক চলচ্চিত্র আসার পরে জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জোর বরাত’ এ প্রথম নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করলেন কানন। সে সময় প্লেব্যাক ছিল না, তাই প্রয়োজন ছিল এমন শিল্পীদের যাঁরা অভিনয় এর পাশাপাশি গানও গাইতে পারেন। কানন গানের পরীক্ষাতে সসম্মানে উত্তীর্ণ হলেন। স্বয়ং লতা মঙ্গেশকর পরে কাননদেবীকে ‘মেলোডি কুইন’ বলে সম্বোধন করেছিলেন।

আরও পড়ুন: বিশ্বে আলোড়ন ফেলে চুমু খেতে রাজি সোফিয়া

চলচ্চিত্র জগতে অসম্ভব সাফল্য লাভ করলেও ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল কাননদেবীকে। অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘মাধবী কানন’ বইটিতে কাননদেবী সম্পর্কে অনেক কথা লিখেছেন। কাননদেবীর প্রথম স্বামী ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের নেতা হেরেম্বচন্দ্র মৈত্রের ছেলে অশোক মৈত্র। বিয়ের কিছুদিনের পর থেকেই তাঁর উপর সিনেমা ছেড়ে দেবার চাপ আসতে থাকে। তিক্ততার মধ্যে দিয়ে সম্পর্ক টেনে নিয়ে না গিয়ে কানন বেরিয়ে আসেন সেই বিয়ে থেকে।

আরও পড়ুনঃ বলিউডের যে নায়িকাদের জীবনসঙ্গী ডিভোর্সি পুরুষ

এরপর চারের দশকে তিনি বিয়ে করেন হরিদাস ভট্টাচার্যকে। কিন্তু সেই বিবাহিত জীবনও সুখের হয়নি। ১৯৮৭ সালে হরিদাসবাবু বাড়ি ছেড়ে চলে যান। যদিও কাননদেবী যতদিন বেঁচে ছিলেন হরিদাসবাবুর চিকিৎসার সব খরচ উনিই চালাতেন। অথচ কাননদেবী মারা যাবার সময় একবারের জন্যও আসেন নি ভদ্রলোক।

আরও পড়ুনঃ মারা গেলেন হাল্ক-স্পাইডারম্যানের ‘বাবা’

জহর গাঙ্গুলির বিপরীতে ‘মানময়ী গার্লস স্কুল’ কাননদেবীর প্রথম হিট ছবি। এরপর’বিদ্যাপতি’, ‘মুক্তি’ ছবি দুটি তাঁকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে যায়। এরপরে আর পিছনে তাকাতে হয়নি কাননদেবীকে একেরপর এক হিট ছবি উপহার দিয়ে গেছেন তিনি। এ কে সায়গল, প্রমথেশ বড়ুয়ার সাথে সাবলীল গতিতে কাজ করে গেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ বয়সে এক যুগের ফারাকে বিয়ের পিঁড়িতে মালাইকা অর্জুন

নিউ থিয়েটার যখন নিলামে ওঠে তখন উত্তম কুমার, অসিত চৌধুরীর সাথে কাননদেবীও নেমেছিলেন তা উদ্ধার করতে। ছয়ের দশকের শেষে হলমালিক বনাম প্রযোজকের যে লড়াই শুরু হয়েছিল তাতেও সত্যজিৎ রায়, উত্তম কুমারের সাথে আন্দোলনে নেমেছিলেন তিনি। স্টুডিও পাড়ায় ‘মহিলা শিল্পীমহল’ কাননদেবীর হাতেই তৈরি হয়েছিল।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন