পাকিস্তান চিনকে ভয় পাইয়ে ভারতীয় বায়ুসেনায় যুক্ত হল তেজস

437
পাকিস্তান চিনকে ভয় পাইয়ে ভারতীয় বায়ুসেনায় যুক্ত হল তেজস/The News বাংলা
পাকিস্তান চিনকে ভয় পাইয়ে ভারতীয় বায়ুসেনায় যুক্ত হল তেজস/The News বাংলা

তিন দশকের প্রতীক্ষা শেষে সম্পূর্ণ ভারতে তৈরি যুদ্ধবিমান ‘তেজস’ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হল। বায়ুসেনায় সামিল হওয়ার জন্য চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেল দেশে তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান তেজস। বৃহস্পতিবার অস্ত্রসজ্জিত অবস্থায় যুদ্ধে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় ফাইনাল অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স পেল এই হালকা যুদ্ধবিমান। এদিন বেঙ্গালুরুতে অ্যারো ইন্ডিয়া শো ২০১৯-এ বিমানটিকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ চিরশত্রুকে শিক্ষা দিতে ভারত পাক যুদ্ধ চান বাবা রামদেব

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পোখরানে বায়ুসেনার মহড়ায় আকাশ থেকে ভূমি ও আকাশ থেকে আকাশে লক্ষ্যভেদ করে দেখিয়েছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান ‘তেজস’। উড়তে উড়তে জ্বালানি ভরার চ্যালেঞ্জেও সফল হয়েছে তেজস। যুদ্ধের জন্য একেবারে প্রস্তুত ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট ‘তেজস’। বায়ুসেনার অ্যারো ইন্ডিয়া শো-এর প্রথম দিনেই অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হল তেজস মার্ক ১ বিমানটিকে।

ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধবিমান ‘তেজস’ নিঃসন্দেহে ভারতীয় বায়ুসেনার মুকুটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পালক। ফোর্থ জেনারেশন হালকা ওজনের এয়ারক্র্যাফট এটি। একাধিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম। ভারতীয় বায়ুসেনায় মিগ ২১ এবং মিগ ২৭ বিমানের অভাব পূরণ করতে চলেছে তেজস।

আরও পড়ুনঃ পুলওয়ামা হামলার জেরে পাক বন্দিকে পিটিয়ে মারল ভারতীয়রা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে, বিমানবাহিনীতে তেজসের দুটি স্কোয়াড্রন গড়ে তোলা হবে। একটি স্কোয়াড্রনই পাকিস্তানের মোকাবিলায় যথেষ্ট। তেজসের সবচেয়ে বেশি গতি ঘণ্টায় ২২০৫ কিলোমিটার। খুব ছোট রানওয়েতেও এই যুদ্ধবিমান ওঠানামা করতে পারে। মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার ব্যবস্থাও রয়েছে।

২০০১ সাল থেকে এই বিমানের পরীক্ষামূলক উড়ান চলছে। একবারের জন্যও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। তেজসে রয়েছে ‘মাল্টি মোড রাডার’ ও ‘ডার্বি ক্ষেপণাস্ত্র’, যা আকাশ থেকে আকাশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। আরও রয়েছে অত্যাধুনিক ‘লেসার ডেজিগনেটর’ এবং ‘টার্গেটিং পড’, যা আকাশ থেকে ভূমিতে আঘাত হানার উপযুক্ত।

আরও পড়ুনঃ ইমরানের সুরেই পাকিস্তানের পক্ষে মুখ খুললেন কাশ্মীরের এই নেত্রী

বায়ুসেন প্রধান বিএস ধানোয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেই ছাড়পত্রের সার্টিফিকেট। বায়ুসেনার ‘বায়ুশক্তি’ প্রদর্শনী ও ২০১৮-র ‘গগনশক্তি’ মহড়ায় নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিল তেজস। বায়ুসেনা প্রধান জানিয়েছেন, মিসাইল রেঞ্জ, মাঝ আকাশে রিফুয়েলিং করার ক্ষমতা ও আকাশ থেকে মাটিতে বোমা নিক্ষেপ করার ক্ষমতা পরীক্ষা করেই তেজসকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

এদিন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল বীরেন্দ্র সিং ধানোয়া তেজসের চূড়ান্ত ছাড়পত্র প্রকাশ্যে আনেন। এরপর একটি তেজস বিমানে সওয়ার হন তিনি। তার আগে তিনি বলেন, “ভারতীয় প্রতিরক্ষায় এই দিনটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। বিমানটির বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ওড়ার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া নিখুঁত লক্ষ্যভেদ করতে পারে এই বিমান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র”। প্রায় সাড়ে ১৩ মিটার লম্বা আর ১২ টন ওজনের এই তেজস যুদ্ধবিমানগুলোর সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০৫ কিলোমিটার।

আরও পড়ুনঃ ভারতের সব মন্দির গুঁড়িয়ে দেবার হুমকি পাকিস্তানের মন্ত্রীর

রুশ যুদ্ধবিমান মিগের বিকল্প হিসেবে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধবিমান ফরাসি ‘মিরাজ-২০০০’-এর সমকক্ষ বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি। তিন দশক ধরে তেজস তৈরি হয়েছে বেঙ্গালুরুর হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেডে(হ্যাল)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুই স্কোয়াড্রন তেজস বিমানবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা। এক একটি স্কোয়াড্রনে ২০টি করে যুদ্ধবিমান থাকে।

এত দিন ভারতীয় বিমানবাহিনীর সেরা অস্ত্র ছিল রুশ যুদ্ধবিমান মিগ। পাকিস্তানের মোকাবিলা এই মিগই বারবার ব্যবহার করে এসেছে ভারত। পরে বাহিনীতে যুক্ত হয় মিরাজ-২০০০ ও সুখোই-৩০। রাজীব গান্ধীর আমলে সিদ্ধান্ত হয়, পুরোনো প্রযুক্তির মিগ বিমান ধাপে ধাপে তুলে দিয়ে লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট (এলসিএ) বা ‘তেজস’ নিয়ে আসা হবে। কারণ, পুরোনো হওয়ার দরুন মিগ দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে পড়ছে।

আর ভারতের এই খবরে নড়েচড়ে বসেছে চিরশত্রু পাকিস্তান ও চিন। এরফলে আরও শক্তিশালি হল ভারতীয় বিমান বাহিনী। আর এই সময়ে সেটা ভারতীয় সেনার মনোবল বাড়াতে যে বড় ভূমিকা নেবে সেটা বলাই যায়।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন