লোকঠকানির লোন মাপ, রাহুলকে লজ্জায় ফেলে আত্মঘাতী কৃষক

830
লোকঠকানির লোন মাপ, রাহুলকে লজ্জায় ফেলে আত্মঘাতী কৃষক/The News বাংলা
লোকঠকানির লোন মাপ, রাহুলকে লজ্জায় ফেলে আত্মঘাতী কৃষক/The News বাংলা

The News বাংলা, ভোপাল: ক্ষমতায় এলেই ১০ দিনের মধ্যে কৃষি ঋণ মকুব করা হবে, দরাজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ঢাকঢোল পিটিয়ে সেই ‘কথাও রেখেছেন’ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। আর তারপরেই ঋণ মকুব না হওয়ায় আত্মঘাতী কৃষক। ক্ষমতায় আসার পরেই কৃষকের আত্মহত্যা লজ্জায় ফেলে দিল রাহুল গান্ধীকে। কংগ্রেসের ঋণ মকুব কতটা ফাঁপা বুলি, কতটা লোকঠকানি, আত্মহত্যা করে সেটা প্রমান করে দিলেন ৪৫ বছরের কৃষক জুয়ান সিং।

আরও পড়ুনঃ ‘কৃষি ঋণ মকুব’, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের

এই বছরের ৩১ মার্চ মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ার কৃষক, জুয়ান সিং চাষের জন্য ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। যার ফলে কমলনাথের কংগ্রেস সরকার ঘোষিত কৃষি ঋণ মুকুবের আওতায় আসেন নি তিনি। নতুন সরকারের উপর ভরসা রেখেছিলেন কৃষক জুয়ান সিং। কিন্তু কমলনাথের ঘোষণার পরই বুঝে যান তাঁর ঋণ মকুব হবে না। লোন মকুব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হন মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ার এই কৃষক। শনিবার জুয়ান সিংয়ের ঝুলন্ত দেহ তারই জমির গাছে আবিষ্কার করেন গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুনঃ উগ্র হিন্দুত্ববাদী নিশানায় নাসিরউদ্দিন, নিন্দা বাংলার বুদ্ধিজীবীদের

কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা
কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা

আরও পড়ুনঃ শিক্ষিতদের বিধায়ক করল তেলাঙ্গানা, কবে শিখবে বাংলা

মধ্যপ্রদেশে নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রকাশ্য জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে “মধ্যপ্রদেশে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার ১০ দিনের মধ্যে সব কৃষকদের ঋণ মকুব হয়ে যাবে”। কমলনাথকে মুখ্যমন্ত্রী করে ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সরকার গঠন হয়ে গেছে। ঋণ মাপ করার ঘোষণাও হয়েছে। মিডিয়া ভগবান বানিয়েছে রাহুল গান্ধীকে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষকের কৃষি ঋণ মাফ হবে না, এমনটাই অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ শহীদ জওয়ানকে সম্মান নয়, সেনাকে পাথর ছুঁড়ে দেশদ্রোহীরাই ভারতে ‘নায়ক’

কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা
কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা

মধ্যপ্রদেশে নতুন মুখ্যমন্ত্রী কমলানাথ সরকারী নির্দেশনামায় সই করার পরেই দেশের মিডিয়া এবং কংগ্রেসের আইটি সেল দাবি করে যে কথা দিয়ে কথা রেখেছে কংগ্রেস। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে রাহুল গান্ধী কথা দিয়েছিলেন যে কংগ্রেস সরকারে এলে কৃষি ঋণ মুকুব করে দেওয়া হবে। আর কংগ্রেস কথা রেখে কৃষিঋণ মুকুব করল। ফলাও করে সেই ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় ২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ, নাসিকে দাম না পেয়ে আত্মহত্যা

মিডিয়া এবং কংগ্রেস চারিদিকে প্রচার করতে শুরু করে দেয় যে কংগ্রেস সব কৃষি ঋণ মাফ করে দিয়েছে। কিন্তু কারোরই এটা নজরে পড়ে নি যে কোন কোন শর্তের ওপর কৃষিঋণ মাফ করল কংগ্রেস। রাজ্যের কৃষকরাই ধরে ফেলেছেন ছলচাতুরিটা। কমলনাথের সরকার কৃষি ঋণ মকুবের কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। একটি শর্ত হল যে সমস্ত কৃষকেরা দু লক্ষ টাকার নিচের ঋণ নিয়েছেন তাদেরই একমাত্র কৃষি ঋণ মুকুব করা হবে। আর দ্বিতীয় শর্তটি হল, লোন ৩১ শে মার্চ ২০১৮র আগে নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ শুধু দিনে নয় দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যের টয় ট্রেন এবার সন্ধ্যাবেলাতেও

কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা
কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা

অর্থাৎ যেসব কৃষকেরা এবছরের ৩১ শে মার্চ বা তারপর পর লোন নিয়েছেন তাদের লোন মাফ করা হবে না। তাতে লোনের পরিমাণ যত টাকাই হোক। কংগ্রেসের ছলচাতুরিটা ধরেছেন চাষী ও কৃষকরাই। তাঁরা জানিয়েছেন, চাষিরা সাধারণত বীজ কেনার জন্য লোন নিয়ে থাকেন। আর সেই লোন নেন জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই।

আরও পড়ুনঃ নেতাদের গুন্ডা পোষা না গুন্ডাদের নেতা হওয়া, প্রকাশ্যে বন্দুকবাজির কারন কি

তাই কমলনাথ সরকারের ঋণ মকুব শর্ত থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছেন বেশিরভাগ কৃষকই। গল্প আরও আছে। শুধু এই দুটো শর্ত নয়। শর্তে বলা হয়েছে, লোন তাদের মাফ করে দেওয়া হবে যারা ‘সিজন্যাল ফসলের’ জন্য লোন নিয়েছেন। অর্থাৎ যে সমস্ত কৃষকেরা চাষ করার জন্য ট্রাক্টর বা বোরিং মেশিন কেনার জন্য বা চাষের অন্যান্য বিষয়ে লোন নিয়েছেন তাদের কোন লোন মুকুব হবে না।

কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা
কৃষি ঋণ মকুব, মানুষ ও মিডিয়াকে চরম বোকা বানিয়ে ছলচাতুরী কংগ্রেসের/The News বাংলা

শর্ত আরও আছে। যে কৃষকেরা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ব্যাংক বা সরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদেরই একমাত্র লোন মাফ করা হবে। সব শর্ত মিলিয়ে ব্যাংক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে এই সব শর্তগুলির আওতায় পড়ছেন মাত্র ১০ শতাংশ কৃষক। অর্থাৎ মধ্যপ্রদেশে কৃষকদের মধ্যে ৯০ শতাংশ মানুষের কৃষি ঋণ মকুব করা হবে না।

আরও পড়ুনঃ কলকাতা হাইকোর্টের অন্দরেই আটকে রইল বিজেপির রথ যাত্রা

আর এতেই মধ্যপ্রদেশে কৃষকের মাথায় হাত। নির্বাচনী প্রচারের সময় রাহুল গান্ধী কিন্তু কোথাও কৃষি ঋণ মুকুব করার জন্য কোন শর্ত এর কথা বলেন নি। আর যখনই মধ্যপ্রদেশে সরকার গঠন করল কংগ্রেস, তখনই কৃষি ঋণ মকুবের বিভিন্ন শর্তাবলী আরোপ করে দিলেন কৃষকদের উপর।

আরও পড়ুনঃ ২২ বছর পর ফের ভূস্বর্গে রাষ্ট্রপতি শাসন

মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ার কৃষক জুয়ান সিং ঠিক ৩১ মার্চ ঋণ নেন। আর নেন ৩ লাখ। ফলে দিন ও টাকার অঙ্ক কোনটাতেই ঋণ মকুবের যোগ্যতা অর্জন করেন নি জুয়ান সিং। রাহুল গান্ধীকে লজ্জায় ফেলে তিনি ঝুলে পড়লেন তাঁর জমির গাছেই। নিজের জীবন দিয়ে কংগ্রেসের ‘লোকঠকানির লোন মাপ’কে গোটা ভারতের সামনে তুলে ধরলেন কৃষক জুয়ান সিং। জীবন দিয়ে প্রমাণ করলেন ভোটে জেতার জন্য নোংরা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা মিথ্যা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: কলকাতা থেকে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের টাকা যাচ্ছে জঙ্গিদের হাতে

সব ছলচাতুরী ধরে ফেলেছেন কৃষক ও চাষীরা। কিভাবে রাজনীতিবিদরা মানুষকে ভাঁওতা দিতে পারেন মধ্যপ্রদেশে কৃষি ঋণ মকুব তার জ্বলন্ত উদাহরণ, বলছেন মধ্যপ্রদেশের কৃষকরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি ঋণ নিয়ে এই ছলচাতুরীর ফল লোকসভাতেই পেতে পারে রাহুলের কংগ্রেস।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন