থানা ঘেরাও করে পুলিশকে হুমকি তৃণমূলের, সেই পুলিশের প্রশংসায় বিজেপি

457
থানা ঘেরাও করে পুলিশকে হুমকি তৃণমূলের/The News বাংলা
থানা ঘেরাও করে পুলিশকে হুমকি তৃণমূলের/The News বাংলা

এবার দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের খনি এলাকায়; পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করলো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে; তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি এবং হেনস্তার অভিযোগে; লাউদোহা থানা ঘেরাও করল তৃণমূল কর্মীরা। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি তৃণমূলের জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তেওয়ারির।

গত ১২ই জুন; ধবনী গ্রামে বিজেপির বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলিতে বিজেপি কর্মী; কাজল হাজরা এবং মাধব বাগদি গুরুতর আহত হন। তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনীর হামলায় আহত হন আরো দুই বিজেপি কর্মী সুনীল হেমরম এবং বিমল টুডু। ১২জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে লাউদোহা থানার পুলিশ।

অন্যদিকে; দুর্গাপুরের হেতোডোবা শিল্পতালুক এলাকার; জব্বর পল্লীতে তৃণমূলের একটি সিন্ডিকেট অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিজেপি সমর্থকরা। অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর; তৃণমূল নেতারা শিল্প তালুকের কারখানায় ঠিকা শ্রমিক নিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করতেন ওই অফিস থেকেই। সেখানে শ্রমিকদের ন্যায্য বেতনের থেকে কাট মানি খেতেন তৃণমূল নেতারা।

এছাড়া সিন্ডিকেট অফিসে থাকা লোকজনের; বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এলাকাবাসী। ঘটনায় পুলিশ ওই এলাকায় গিয়ে বিজেপি সমর্থকদের পাশে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ তৃণমূলের। এই দুই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে; তৃণমূলের জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং স্থানীয় ব্লক সভাপতি সুজিৎ মুখোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে লাউদোহা থানার প্রবেশ পথের প্রধান গেট আটকে দেওয়া হয়।

জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন; ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। তার মধ্যে; পুলিশ আমাদের দেওয়া অভিযোগের উপর পদক্ষেপ না নিলে; আগামীতে আরও বড় কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে; তৃণমূলের ফরিদপুর ব্লক সভাপতি সুজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান; সম্পূর্ণ মিথ্যে অভিযোগের উপর ভিত্তি করে পুলিশ; তৃণমূল সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হেনস্তা করছে।

জব্বর পল্লী এলাকায় পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিজেপি সমর্থকরা; যা সিন্ডিকেট অফিস বলে অপপ্রচার করা হচ্ছে। পুলিশকে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে; বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘড়ুই বলেন মানুষ এখন জেগে উঠেছে। পুলিশ তাই নিজের কাজ করছে; আমরা সাধুবাদ জানাই পুলিশের এই ভূমিকাকে।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন