ভারত হাতে পাচ্ছে বিজয় মালিয়াকে, ভোটের আগে বড় জয় মোদী সরকারের

309
ব্রিটেন পাঠাচ্ছে বিজয় মালিয়াকে, ভোটের আগেই বড় জয় মোদী সরকারের
ব্রিটেন পাঠাচ্ছে বিজয় মালিয়াকে, ভোটের আগেই বড় জয় মোদী সরকারের/The News বাংলা
Simple Custom Content Adder

লোকসভা ভোটের আগেই ভালো খবর নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে। ক্রিশ্চিয়ান মিশেলের পর আরও একটা বড় সাফল্য পেতে চলেছে মোদী সরকার। বিজয় মালিয়াকে ভারতে প্রত্যর্পণে আর কোনও বাধা থাকল না। বিজয় মালিয়াকে ভারতে প্রত্যর্পণের নির্দেশ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। স্বরাষ্ট্র সচিব সাজিদ জাভিদ এ কথা জানিয়েছেন। এর আগে ১০ই ডিসেম্বার চূড়ান্ত রায় দেয় লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর রায়ে জানান, বিজয় মালিয়াকে ভারতের হাতেই তুলে দেওয়া উচিৎ।

আরও পড়ুনঃ ব্রিগেডের পর ধর্মতলা, ডিম্ভাত ছেড়ে এবার স্যান্ডুইচ ও চিকেন বিরিয়ানি

ব্রিটিশ সরকারের স্বরাষ্ট্র সচিব সাজিদ জাভিদ জানিয়েছেন, বিজয় মালিয়াকে ভারতে ফেরানো হবে। ব্রিটিশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত সরকার। তবে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবার আপিল করার সুযোগ থাকছে বিজয় মালিয়ার। ১৪ দিনের মধ্যে মালিয়াকে এই আপিল করতে হবে। মালিয়াকে প্রত্যর্পণে লন্ডনে রওনা দিচ্ছেন সিবিআইয়ের অধিকর্তারা, এমনই জানা যাচ্ছে। এর আগে দুবাই থেকে ভারতে আনা হয়েছে আরেক অভিযুক্ত ক্রিশ্চিয়ান মিশেলকে।

আরও পড়ুনঃ মায়ের প্রতিহিংসা থেকে বাঁচতেই কি বিজেপিতে যোগ দিলেন ‘মমতার মেয়ে’

তবে, কবে তাকে ভারতে ফেরানো হবে কিনা সেই নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারী ঘোষণার পর ১৪ দিন সময় পাবে বিজয় মালিয়া, ফের উচ্চ আদালতে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনার জন্য। ভারতে ১৩টি ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ৯,০০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধ না করেই ২০১৬ সালের ২ মার্চ লন্ডনে গা ঢাকা দেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা কিংফিশার এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড ব্রিউয়ারিজ গ্রুপের মালিক বিজয় মালিয়া।

আরও পড়ুনঃ সারদা কেলেঙ্কারির পাল্টা এবার সিবিআইকেই প্রতারণা মামলার নোটিশ মমতার পুলিশের

এর পর ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মালিয়াকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ ঘোষণা করে তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানায় ভারত সরকার। সেই অনুরোধের ভিত্তিতে ২০১৭র এপ্রিল মাসে লন্ডনে মালিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে, শীঘ্রই তিনি জামিনে মুক্তি পান। এর পর ২০১৭র ডিসেম্বর থেকে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মালিয়ার বিচার শুরু হয়। ভারত প্রত্যর্পণের দাবি তুললে, মালিয়া অভিযোগ করেন স্বাস্থ্যকর জেল নেই এ দেশে। বাধ্য হয়ে মালিয়ার জন্য বিশেষ জেলের ব্যবস্থার আশ্বাসও দেওয়া হয় ভারতের তরফে।

আরও পড়ুনঃ মমতার নির্দেশে সিবিআই অফিসারদের আটক করে বাংলার আইপিএসরা বিপদে

কোটিপতি বিজনেস টাইকুন বিজয় মালিয়া আগেই দেশে ফিরে এসে দেশের আইনের মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট সূত্রে জানা গিয়েছিল। এবার সমস্ত ব্যাংকের সব লোন শোধ দেবারও ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। অর্থ প্রতারণা মামলার তদন্ত চালানো ইডির আধিকারিকদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সরকারের পক্ষ থেকে নতুন আইন তৈরি করে বিজয় মালিয়ার সমস্ত সম্পত্তিকে বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্তের ফলেই এই সুর বদল।

আরও পড়ুনঃ তথ্যপ্রমাণ নষ্টের প্রমাণ পেলে পুলিশ কমিশনারকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

এই নতুন আইন অনুযায়ী, কোনও অভিযুক্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে তার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া যাবে। আগেই এই আইনের আওতায় বিজয় মালিয়কে নিয়ে এসে তাঁকে ‘পলাতক’ বলে ঘোষণা করার অনুরোধ ইডি করেছিল আদালতের কাছে। সারা দেশে যত ব্যাঙ্ক রয়েছে, সব ব্যাঙ্কেই তাঁর ঋণের পরিমানটা চোখে পড়ার মতো। সংখ্যাটা সবই কোটির ঘরে।

আরও পড়ুনঃ পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআইকে ঢুকতে বাধা কলকাতা পুলিশের

একনজরে আরও একবার বিজয় মালিয়ার ঋণের বহরঃ-
১) স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া- ১.৬০০ কোটি টাকা ধার।
২) পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক- ৮০০ কোটি টাকা ধার।
৩) আইডিবিআই- ৮০০ কোটি টাকা ধার।
৪) ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া- ৬৫০ কোটি টাকা ধার।
৫) ব্যাঙ্ক অফ বরোদা- ৫৫০ কোটি টাকা ধার।
৬) ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া- ৪৩০ কোটি টাকা ধার।
৭) সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া- ৪১০ কোটি টাকা ধার।
৮) ইউকো ব্যাঙ্ক- ৩২০ কোটি টাকা ধার।
৯) কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক- ৩১০ কোটি টাকা ধার।
১০) স্টেট ব্যাঙ্ক অফ মহীশূর- ১৫০ কোটি টাকা ধার।
১১) ইন্ডিয়ান অভারসিস ব্যাঙ্ক- ১৪০ কোটি টাকা ধার।
১২) ফেডেরাল ব্যাঙ্ক- ৯০ কোটি টাকা ধার।
১৩) পঞ্জাব সিন্ধ ব্যাঙ্ক- ৬০ কোটি টাকা ধার।
১৪) অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক- ৫০ কোটি টাকা ধার।

ভারত কূটনৈতিক স্তরে যেভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে, মালিয়ার প্রত্যর্পণে পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের রায় আসার সম্ভবনা ছিল বলেই মনে করছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সেটাই সত্যি হল। এই আভাস বুঝেই কি ১০০ শতাংশ ঋণ মিটিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়ে আগেই টুইট করেছিলেন মালিয়া?

আরও পড়ুনঃ বুদ্ধে সৌজন্য কিন্তু মোদী যোগীতে অনুমতি নেই, শত্রু পাল্টেছে মমতার

জল্পনা যাই হোক না কেন লোকসভা নির্বাচনের আগে মালিয়াকে দেশে ফেরাতে পারলে রাজনৈতিক মঞ্চে মোদী সরকার বাড়তি অক্সিজেন পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টুইট করেন দেশের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সেখানে বিজয় মালিয়ার খবরের পাশাপাশি সারদা চিটফান্ড মামলা নিয়ে মমতার ধর্নাকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েন নি তিনি।

তবে বিজয় মালিয়াকে সরকার দেশে ফেরাতে পারলে লোকসভা ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি যে দুর্দান্ত একটা ইস্যু পাবে তা বলাই যায়। লোকসভা ভোটের আগে এত বড় ইস্যুতে বিরোধীদের যে ঘায়েল করতে তৈরি গেরুয়া শিবির, সেটা পরিষ্কার।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন