‘ম্যাডামে’র মুখের আদলেই দেবী দুর্গার মুখ

883
Image Source: Google Image

বিশেষ রিপোর্ট, কলকাতা: ম্যাডামের মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ। দাবি, চাহিদা এটাই। কে এই ম্যাডাম? ওটাই তো রহস্য। এই ম্যাডাম আর কেউ নয়। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করলেই বেরিয়ে আসে বাংলার সোনার যুগের সোনার অক্ষরে লেখা ‘নস্টালজিয়ার’ গল্প।

পঞ্চাশ-ষাটের দশকের বিখ্যাত দমকলের ঠাকুর। শিল্পী রমেশ পালের ঠাকুর দেখতে সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে দমকল স্টেশনে যেতেন সবাই। অনবদ্য প্রতিমা, শাড়ীর রং আগুন কমলা, কি অপূর্ব শিল্প, কি অপূর্ব চিন্তাধারা।

কলকাতা দমকল বাহিনী এই পুজো করত যা দেখতে ভীড় উপচে পড়ত, মিডিয়ার ভাষায় যাকে বলে দর্শনার্থীর ঢল। তখনকার কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজো। এই পুজো বন্ধ হয় আনুমানিক ১৯৬৩ সালে। এই পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয় কারণ, যদি দমকল বাহিনী পূজাব্যস্ততার কারনে ঠিকমত পরিষেবা কলকাতার অন্য প্যান্ডেলে দিতে না পারে।

একটা সময় কলেজ স্কোয়ার, পার্ক সার্কাস, খিদিরপুর যুবক সংঘ ছাড়া একডালিয়ার প্রতিমাও গড়তেন শিল্পী রমেশ পাল। দমকল বাহিনীর পুজো বন্ধ হয়ে যাবার পর এই পুজোর বেশ কিছু উদ্যোক্তাই পরে পাশের পার্কে মহম্মদ আলি পার্কের পুজো চালু করেন।

একটা সময়ে প্রতিমার মুখ মানে অবশ্যই ‘ম্যাডাম’ সুচিত্রা সেন। তখন মিসেস সেন ফুলফর্মে। প্রথম হায়েস্ট পেড নায়িকা, তাই দর্শক থেকে ক্লাব উদ্যোক্তারা সবাই চাইত প্রতিমা হবে ম্যাডামের মুখের আদলে। আর তারই সযত্নে রূপ দিতেন শিল্পী রমেশ পাল।

সে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দেবী দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের আদল। রক্ষনশীল বাংলা সমাজে সম্ভবতঃ সেই প্রথম, মা দুর্গার মুখ করা হত ম্যাডাম মিসেস সেনের মুখের আদলে।

প্রথম দিকে লক্ষী, সরস্বতীর মুখের আদল করা হত সুচিত্রা সেনের মুখের মত। তারপর জনতার দাবি মেনে মা দুর্গার মুখে বসানো হল ম্যাডামের মুখ। আর তাই দেখতে ভিড় করতেন হাজার হাজার মানুষ। কলকাতা, জেলার মানুষ ছাড়াও দমকল বাহিনীর ‘সুচিত্রা প্রতিমা’ দেখতে একসময় দলে দলে কলকাতায় আসতেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ।

৫০ এর দশক থেকে প্রায় ৭০ এর দশক পর্যন্ত বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘রাজ’ করেছেন মহানায়িকা। উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর জুটিকে বাংলা সিনেমার ‘Golden Era’ বা সোনার যুগ বলা হয়।

কিন্তু দুর্গা পুজোপ্রেমী মানুষ ও সাধারণ দর্শকদের চাপে, মা দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের মুখের আদল দেওয়া হচ্ছে, এটাই ছিল সেই যুগের অবিস্মরণীয় একটা অধ্যায়।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন