রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বুক চিতিয়ে ভারতীয় পড়ুয়াদের রক্ষা করছে বাংলার পৃথ্বীরাজ

3960
Prithviraj Ghosh Uraine
রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বুক চিতিয়ে ভারতীয়দের রক্ষা করছে বাংলার পৃথ্বীরাজ

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে বুক চিতিয়ে; ভারতীয় পড়ুয়াদের রক্ষা করছে বাংলার পৃথ্বীরাজ। কে বলে বাঙালি কাপুরুষ, শিরদাঁড়া নেই। পৃথ্বীরাজ ঘোষরা যতদিন আছেন, শুধু বাংলায় বা ভারতে নয়; বিদেশের মাটিতেও পশ্চিমবঙ্গের নাম জ্বলজ্বল করবে। কে এই পৃথ্বীরাজ ঘোষ?

ইউক্রেনের কিয়েভে যেখানে এখন চারিদিকেই ধ্বংসস্তুপ, রাশিয়ার মিসাইল-বোমা কখন কার বাড়িতে, কার ঘাড়ে আছড়ে পড়বে কেউ জানে না; সেই কিয়েভে গত ২০ বছর ডাক্তারি করছেন কলকাতার বাসিন্দা পৃথ্বীরাজ ঘোষ। এখন তিনি প্রফেসরও; ডাক্তারি ছাত্রদের পড়ান। কি করেছেন ইউক্রেনের কিয়েভে থাকা; এই বাঙালি ডাক্তার-প্রফেসর?

না, খুব একটা কিছুই করেননি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীকে; রাশিয়ার মুহুর্মুহু আক্রমণের মধ্যেও নিরাপদে কিয়েভ থেকে বের করে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যেখান থেকে তাদের বিমানে করে; বাড়ি ফিরিয়েছে ভারত সরকার। তবে পৃথ্বীরাজ নিজে কিয়েভ ছাড়েননি। শেষ ভারতীয় নিরাপদে বেরিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত, তিনি কিয়েভ ছাড়বেন না; পরিষ্কার জানিয়েও দিয়েছেন।

২০১৪ সালেও রাশিয়া-ইউক্রেন ঝামেলার সময়ও; তিনি মাটি আঁকড়ে পড়েছিলেন। জানেন যুদ্ধের পরিস্থিতি কি হয়; এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫টি বাস জোগাড় করে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের ইউক্রেন সীমান্ত পাড় করিয়ে দিয়েছেন। না, বাস ভাড়ার টাকা রাজ্য বা কেন্দ্র কেউ দেয়নি; নিজের পকেট থেকেই গেছে। ৩৫০ জনকে ফিরিয়েও ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া ইউক্রেনের কিয়েভে; মাটি কামড়ে লড়ছেন বাংলার পৃথ্বীরাজ।

মানুষের সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উধাও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের খোঁজ পাওয়া গেল ইউক্রেনে

গোলা-গুলি, মিসাইল, বোমা থেকে বাঁচাতে; অনেক ছাত্র-ছাত্রীকে আশ্রয় দিয়েছেন গোপন ব্যাঙ্কারে। করেছেন খাদ্য-জলের ব্যবস্থা। জীবনের রিস্ক? টিভির পর্দায় যাঁরা কিয়েভের ছবি দেখছেন, তারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন; যেকোন সময় একটা বোমা বা মিসাইল শেষ করে দিতে পারে সবকিছু। কলকাতায় ছেলের মুখ চেয়ে বসে বাবা প্রদীপ ঘোষ ও মা ব্রততী ঘোষ; তারা চান, তাদের ছেলেও খুব তাড়াতাড়ি নিরাপদে যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে ঘরে ফিরে আসুক।

কিন্তু ডাক্তার-প্রফেসর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন; “বাঙালি ভয়ে পালায় না; আমার সব ছাত্র-ছাত্রী ও ভারতের সব পড়ুয়াকে না নিয়ে আমি কিয়েভ ছাড়ব না”। বাংলার পৃথ্বীরাজকে কুর্ণিশ জানাচ্ছে গোটা বাংলা ও দেশ। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, বাঙালি কাপুরুষ নয়; বাঙালির শিরদাঁড়া আছে।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন