পশ্চিমবঙ্গ স্পেশ্যাল কেস তাই গুরুত্ব দিয়ে ভোট করাবে নির্বাচন কমিশন

445
পশ্চিমবঙ্গ স্পেশ্যাল কেস তাই গুরুত্ব দিয়ে ভোট করাবে নির্বাচন কমিশন
পশ্চিমবঙ্গ স্পেশ্যাল কেস তাই গুরুত্ব দিয়ে ভোট করাবে নির্বাচন কমিশন/The News বাংলা

“পশ্চিমবঙ্গ স্পেশ্যাল কেস, আমরা গুরুত্ব দিয়েই দেখছি”, বিরোধীদের আশ্বস্ত করে জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। লোকসভা ভোটে বাংলাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, বলেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

লোকসভা নির্বাচন ঘোষণার আগেই এইভাবে কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ নিয়ে এসে বৈঠক করাকে একটু অন্যভাবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। দফায় দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই, লোকসভা ভোটের প্রস্ত‌ুতি খতিয়ে দেখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রিপোর্ট তলব করল কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

আরও পড়ুনঃ বাগরি মার্কেট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার্জশিট দিল পুলিশ
আরও পড়ুনঃ মোবাইলেই রাজনাথ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল কথা কাটাকাটি

বুধবার রাতেই শহর কলকাতায় এসে নামেন চীফ ইলেকশন কমিশনার সুনীল অরোরার নেতৃত্বে কেন্দ্র নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যের ৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। দুপুর থেকে বিকালে সব জেলার জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন।

জানা গেছে, এ দিন নির্বাচন কমিশনকে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ জানিয়েছে বিরোধীরা। রাজ্যের লোকসভা ভোটের অবজার্ভার নিয়োগ ও ভোটের আগে এখন থেকেই তাঁদের পাঠানোর দাবি করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোটের পাশাপাশি সব বুথে ভিভিপ্যাটেরও দাবি জানিয়েছেন বিরোধীরা।

আরও পড়ুনঃ বিরোধীদের অভিযোগ ও মমতা প্রশাসনের রিপোর্ট নিতে বাংলায় নির্বাচন কমিশন
আরও পড়ুনঃ কেবল টিভি দেখা নিয়ে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মানুষকে স্বস্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট

পর্যাপ্ত সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া বাংলায় শান্তিপূর্ণ ভোট করা সম্ভব নয়, বলেই জানিয়ে দিয়েছে বাম প্রতিনিধি দল। সেই সঙ্গে তাদের দাবি রাজ্য পুলিশ নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করুক কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরাই। প্রতিটি বুথে সিসিটিভি লাগানোর দাবি করেছেন বাম সহ সব বিরোধীরাই।

বিরোধীদের তরফ থেকে বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। বিজেপির প্রতিনিধি দলের দাবি, পুলিশ পর্যবেক্ষক আগে থেকেই নিয়োগ করতে হবে ও তাঁদের রাজ্যে পাঠিয়ে দিতে হবে। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে হবে, শুধু বুথে নয় এলাকায় টহল দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ মমতার স্বরাষ্ট্র সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের এক রোহিঙ্গার
আরও পড়ুনঃ ২৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বাকে গর্ভপাতের অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট

কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের দাবি, প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কংগ্রেস নেতারা কমিশনকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা দেওয়া হোক যাতে তারা নিজেদের কাজ ঠিক ভাবে করতে পারে। রাজ্য পুলিশের নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখলে শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব নয় দাবি কংগ্রেসের।

আরও পড়ুনঃ নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও
আরও পড়ুনঃ জয় হিন্দ, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সোনার অক্ষরে লেখা ইতিহাস

জানা গেছে, বিরোধী দলগুলির ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ পেয়ে কিছু কড়া সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের সব ডিএম, এসপি-দের কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, যত শীঘ্র সম্ভব রাজ্যে সব স্পর্শকাতর বুথের তালিকা জমা দিতে হবে কমিশনের কাছে। একই সঙ্গে বহিরাগতদের আটকাতেও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর যথোপযুক্ত ব্যবহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে ক্ষুব্ধ কমিশন, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলাশাসক ও জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে লিখিত রিপোর্ট চেয়েছে। ভোটের সময় কোন বহিরাগত যাতে রাজ্যে ও বুথ এলাকায় ঢুকতে না পারে তার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঠিকমত ব্যবহার করতে হবে, জেলা পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন