ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি ‘মা দুর্গার’

385
ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি 'মা দুর্গার'/The News বাংলা
ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি 'মা দুর্গার'/The News বাংলা
Simple Custom Content Adder

The News বাংলা: শবরীমালা মন্দিরে ইতিহাস তৈরি করলেন দুই মহিলা। ভারতে নতুন ইতিহাস বিন্দু ও কনকদূর্গার। বুধবার খুব ভোরে মন্দিরে ঢুকে পরেন বছর ৪০ এর দুই মহিলা। সঙ্গে ছিল সাদা পোশাকে পুলিশ কর্মীরা। ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেবার পর এই প্রথম মন্দিরে ঢুকতে পারলেন মহিলারা।

আরও পড়ুনঃ দেশপ্রেম বাড়াতে স্কুলের রোল কলে এবার ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় ভারত’

শেষ পর্যন্ত ইতিহাস সৃষ্টি হল শবরীমালা মন্দিরে। ৪২ বছরের বিন্দু ও ৪৪ বছরের কনকদূর্গা ভারতে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করলেন। মন্দিরে পুজোও দিলেন তাঁরা। গতকালই বামেদের তরফ থেকে মানব দেওয়াল তৈরি করা হয় শবরীমালা মন্দিরে নারীদের প্রবেশের জন্য।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে প্রথম অভিনন্দন জানালেন নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এর আগে ২৩ শে ডিসেম্বর, কয়েকশ বিক্ষোভকারীর তাড়ায় কেরলের শবরীমালা মন্দিরের খুব কাছ থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল ১১জন মহিলার একটি দলকে। তাতে দমে না গিয়ে ফের ২৪শে ডিসেম্বর সোমবার মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হন দুই মহিলা।

আরও পড়ুনঃ অবিশ্বাস্য জয়, ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসনে জিতে ফের ক্ষমতায় শেখ হাসিনা

তাঁদের নিরাপত্তার জন্য বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু মন্দিরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও দুজন মহিলাকে বিক্ষোভকারীদের চাপে ফিরে আসতে হয়। দুই মহিলা শেষ অবধি নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন বুধবার ভোরে ঢুকে পড়লেন শবরীমালা মন্দিরে। গড়লেন ইতিহাস।

আরও পড়ুনঃ নতুন বছরে পেট্রোল ডিজেলের দাম রেকর্ড কমতে চলেছে

জানা গেছে দুই মহিলার একজনের নাম বিন্দু, অপরজনের নাম কনকদূর্গা। বিন্দুর বাড়ি কেরলেরই মালাপ্পুরমে। কনকদূর্গার বাড়ি কোঝিকোড়ে। তাঁরা বলেছেন, “আমরা আয়াপ্পা দেবতার কাছে প্রার্থনা করতে এসেছিলাম। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ভরসা পেয়ে মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেছি বারবার। আজ সফল হলাম”।

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে অনুপ্রবেশকারী হিংস্র পাকিস্তান ব্যাট সেনাকে খতম ভারতীয় সেনার

শবরীমালা মন্দিরটি যে পাহাড়ের ওপরে অবস্থিত তার নীচে জড়ো হন হাজার হাজার দর্শনার্থী। মন্দির থেকে চার কিলোমিটার দূরে পম্বা নামে এক জায়গা থেকে হেঁটে শবরীমালায় যেতে হয়।

আরও পড়ুনঃ চিন সীমান্তে ভগবান হয়ে পর্যটকদের উদ্ধার ভারতীয় সেনার

এর আগেও ২৩ ডিসেম্বর তামিলনাড়ুর মহিলা সংগঠন মানিথি-র সদস্যরা মন্দিরে ঢুকতে চেষ্টা করেছিলেন। তারও আগে অনেক মহিলা মন্দিরে ঢুকতে চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রত্যেককেই বিক্ষোভকারীদের তাড়ায় ফিরে আসতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়বে সল্টলেক নিউটাউনের বাড়িঘর

নিয়মমতো শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ‘ঋতুমতী’ মহিলাদের ঢুকতে দেওয়া হত না। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ‘ওই নিয়ম অসাংবিধানিক’। শবরীমালা মন্দিরে সবাই প্রবেশ করতে পারবেন বলেই রায় দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে ৫৯ দিয়ে এসএসসি-র নতুন কীর্তি

কিন্তু রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়েই। ভক্তরা যাতে কোনভাবে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য কেরল হাইকোর্ট তিন সদস্যের এক কমিটি গড়ে দেয়। তাদের কাজ মন্দিরের আশপাশে আইন-শৃঙ্খলার দিকে নজর রাখা।

আরও পড়ুনঃ নতুন বছরের প্রথম দিনেই চিতা বাঘ দেখতে গিয়ে বড় বিপদের সামনে

শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ করার বিষয়টিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিল কেরল রাজ্য সরকার। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে হাজার বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও একযোগে মহিলাদের প্রবেশের বিরোধিতা করছে কংগ্রেস আর বিজেপি। তবে দুই দলই এতে সাধারণ মানুষের ইচ্ছের কথাই বলেছেন।

আরও পড়ুন: পুরীর ‘স্যান্ড আর্ট ফেস্টিভ্যাল’ এর কিছু মনমুগ্ধকর ছবি

তবে শেষ পর্যন্ত জয়ী হল সমাজ ও বিশেষ করে কেরলের নারী সমাজ। বিন্দুকে নিয়ে মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সেই মা দূর্গারই। তবে মন্দিরে ঢুকে বেরনোর পরই নিরাপত্তার জন্য ওই দুই মহিলাকে খুব তাড়াতাড়ি কোন অজানা জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন