‘তৃণমূল-বাম সেটিং’, প্রাথমিক টেট দুর্নীতি, চাকরি গেল সিপিএম নেতার মেয়েরও

99
'তৃণমূল-বাম সেটিং', প্রাথমিক টেট দুর্নীতি, চাকরি গেল সিপিএম নেতার মেয়েরও
'তৃণমূল-বাম সেটিং', প্রাথমিক টেট দুর্নীতি, চাকরি গেল সিপিএম নেতার মেয়েরও

‘তৃণমূল-বাম সেটিং’, প্রাথমিক টেট দুর্নীতিতে চাকরি গেল; ‘দাপুটে’ সিপিএম নেতার মেয়েরও। দুর্নীতির বাজারে, ক্ষমতা চলে গেলেও কি; বাগিয়ে নিয়েছে সিপিএম? উঠে গেল প্রশ্ন। ২০১৪র প্রাথমিক টেট দুর্নীতি মামলায়, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে; ২৬৯ জন প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আর সেই তালিকায় অদ্ভুত-ভাবে রয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের একসময়ের দাপুটে সিপিএম নেতার মেয়ের নাম। কীভাবে চাকরি? তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রকাশ্যে তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দলন; আর তলায় তলায় নিজেরাও সেই দুর্নীতিতে যুক্ত; অভিযোগ এমনটাই।

২৬৯ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার পাশাপাশি, ২০১৪র প্রাথমিক টেট দুর্নীতি মামলায়; সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। পাশাপাশি, ২৬৯ জনকে প্রাথমিক শিক্ষকের পদ থেকে বরখাস্ত, বেতন বন্ধ ও বেতন ফেরতের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। বরখাস্তের সেই তালিকায় রয়েছে, কালনার ‘দাপুটে’ সিপিএম নেতা ও কালনা পুরসভার দুবারের প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর; বীরেন্দ্র বসু মল্লিকের মেয়ে বৈশাখী বসু মল্লিকের নামও। আর সিপিএম নেতার মেয়ের নাম নিয়েই; শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর। সূত্রের খবর, ২৬৯ জনের তালিকায় রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ১৭ জনের নাম; সেই তালিকার ২ নম্বরে নাম রয়েছে বীরেন্দ্র বসু মল্লিকের মেয়ে বৈশাখী বসু মল্লিকের নামও।

আরও পড়ুনঃ পিএসসি-তে নিয়োগ কয়েকহাজার, প্রকাশিত নামের তালিকা, ‘মামলার আ’শঙ্কা’

একসময়, বামপন্থী সংগঠন All Bengal Primary Teachers Association-র পূর্ব বর্ধমানের পদাধিকারীও ছিলেন; সিপিএম নেতা বীরেন্দ্র বসু মল্লিক। তাঁর স্ত্রীও; একসময় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির দাপুটে নেত্রী ছিলেন। এদিকে বৈশাখীর স্বামীও আবার প্রাইমারি শিক্ষক; যিনি আবার ২০১৫ সালে সিপিএমের হয়ে পুরভোটেও লড়েন। তাহলে কি তৃণমূল জমানায় দুর্নীতিতে; যোগ রয়েছে সিপিএমেরও? উঠেছে প্রশ্ন। বৈশাখী বসু মল্লিকের স্বামী শুভাশিস সরকার বলেন; “এটা কোর্টের বিষয় আমি কিছু বলতে পারব না; আমার স্ত্রী এখন বাইরে আছে”।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে, কালনার ধাপাসপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের; শিক্ষিকা পদে যোগ দিয়েছিলেন বৈশাখী বসু মল্লিকে। আদালতের নির্দেশে তাঁরও চাকরি গেছে, বিষয়টি জানাজানি হতেই যথেষ্ট শোরগোল ছড়িয়েছে কালনা শহর জুড়ে। সিপিএম নেতার মেয়ের চাকরি পাওয়া এবং বরখাস্ত হওয়ার ঘটনাকে; অ’স্ত্র করেছে তৃণমূলও। কালনার তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ বলেন; “শুধু তৃণমূলের লোকেরা চাকরি পেয়েছে বলে বিরোধীরা যে দাবি তোলে; তা যে ঠিক নয়, এই ঘটনাই তার প্রমাণ”।

“সিপিএম নেতারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাজার কাঁপাচ্ছে; অন্যদিকে দুর্নীতি করে নিজের ছেলেমেয়েদের চাকরিতে ঢুকিয়ে দিচ্ছে, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে”; দাবি কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের। এই ঘটনার দায় নিতে নারাজ; পূর্ব বর্ধমান জেলার সিপিএম নেতৃত্ব থেকে এবিপিটিএ কর্তৃপক্ষ। কালনা শহরের এরিয়া কমিটির সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন; “পার্টিতে যেই থাকুক না কেন; দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। সে যে দুর্নীতি করত না; সেটাও প্রমাণ করার দায়িত্ব তাঁর”।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন