শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা

2444
শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা/The News বাংলা
শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা/The News বাংলা

এবার শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের একহাত নিলেন তসলিমা নাসরিন। মঙ্গলবার সকালেই নিজের ফেসবুক পোস্টে তুলধনা করেছেন বাঙালি বুদ্ধিজীবিদের। অনেকে বলছেন এই লেখায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা নাসরিন। রাজনীতির রং দেখেই যে বাংলার বাংলার বুদ্ধিজীবিরা প্রতিবাদ করেন সেই অভিযোগই ফের করলেন এই বাংলাদেশের লেখিকা।

শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা/The News বাংলা
শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা/The News বাংলা

ঠিক কি লিখলেন তসলিমা নাসরিন? পড়ুনঃ

“কবি শ্রীজাতর ওপর আক্রমণ হয়েছে আসামের শিলচরে। বজরং দলের লোকেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ইটবৃষ্টিও হচ্ছিল। পুলিশ তাঁকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে চলে যায়। এরপর শ্রীজাত বাক স্বাধীনতা নিয়ে বলেছেন, এটি থাকতেই হবে রাজ্যে। হ্যাঁ নিশ্চয়ই, এটি থাকতেই হবে। আমি চাই না শ্রীজাতর বাক স্বাধীনতা কেউ হরণ করুক, অথবা আর কারো বাক স্বাধীনতা।

শ্রীজাত নিজের বাক স্বাধীনতা চান, কিন্তু অন্যের বাক স্বাধীনতা কি চান? আমার বাক স্বাধীনতা? তাঁর রাজ্যে যখন আমার বাক স্বাধীনতা ভেঙ্গে চুরমার হয়েছিল, তখন শ্রীজাত তো নয়ই, বাক স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে যারা ভীষণ লাফায়, তাদের প্রায় কাউকেই মুখ খুলতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুনঃ

‘ত্রিশূলে কনডম’, অসমের শিলচরে হিন্দুত্ত্ববাদী বিক্ষোভের মুখে কবি শ্রীজাত

বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার

কবে যেন শ্রীজাত কোথায় বলেছেনও শুনেছি, কলকাতায় আমার না যাওয়াই উচিত। আমার চলাফেরার অধিকারও নেই। টাইমস অব ইণ্ডিয়া থেকে টাইমস লিট ফেস্টে আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল গত নভেম্বরে। শেষের দিকে ওরা চুপচাপ জানিয়ে দিয়েছে কলকাতায় সম্ভব নয়। ওরা হয়তো ভেবেছিল, সিপিএম তো অনেকদিন গত হয়েছে, হয়তো নতুন সরকার পুরোনো সরকারের ভুল ত্রুটি শুধরে নিয়েছে।

অনেকে বলে বিজেপি আমার পক্ষে, যেহেতু বিজেপি মুসলিম কট্টরপন্থীদের বিপক্ষে। ওদের সরল অংকটা এরকম, যেহেতু মুসলিম কট্টরপন্থীরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়, গত পঁচিশ বছর যাবত চাইছে, আর যেহেতু বিজেপি মুসলিম কট্টরপন্থীদের বিপক্ষে, তাই বিজেপি আমার পক্ষে।

শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু। সময় থাকলে টুইটারের মন্তব্য কলাম কেউ ঘুরে আসতে পারেন, ওখানে হিন্দু কট্টরপন্থীরা আমাকে লক্ষ করে প্রতিদিনই তাদের ঘৃণা ছুঁড়ছে, আমাকে ভারত ছাড়ার জন্য বলছে, যেন বাংলাদেশ চলে যাই, যেন পাকিস্তানে বা সৌদি আরবে চলে যাই। ওরা জানে আমি নাস্তিক, আমি ইসলাম মানি না, কিন্তু আমি অন্য কোনও ধর্মই যে মানি না, এমনকী হিন্দু ধর্মও নয়, তার ওপর হিন্দুর নারী বিরোধী কুসংস্কার নিয়ে প্রায়ই সরব হই, তা ওদের মোটেও পছন্দ নয়। তাই তারা চায় না, আমি ভারতে থাকি।

আরও পড়ুনঃ

নৃশংস নার্স, সেবাই যাদের ধর্ম তারাই পিটিয়ে মারল ১৬টি বাচ্চা কুকুর

ভয়াবহ নৃশংসতার নজির, পিটিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে ১৭টি কুকুরকে

আমার ওপর আক্রমণ হলে, আমার বই নিষিদ্ধ হলে, আমাকে রাজ্য থেকে, এমনকী ভারত থেকে তাড়ালেও কেন প্রগতিশীল বলে খ্যাত শহরেও কোনও প্রতিবাদ হয় না, যে শহরটির জন্য আমি ইউরোপের বাস ত্যাগ করে চলে এসেছিলাম? এই প্রশ্নটির আমি অনেকদিন কোনও উত্তর পাইনি।

আমার এখন মনে হয়, কলকাতার হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া অশিক্ষিত শিক্ষিত, মূর্খ বুদ্ধিমান, অলেখক লেখক, মুসলমান হিন্দু, আস্তিক নাস্তিক বিশ্বাস করে, আমি অনাগরিক, সুতরাং আমার অত বাক স্বাধীনতা থাকার দরকার নেই, ভারত জায়গা দিয়েছে, তাতেই আমার খুশি হয়ে ভারতের গুণগান গাওয়া উচিত, দালাই লামা যেমন গান।

আমার (রিফিউজি) মুখে অত এই চাই সেই চাই মানায় না। অত নারী স্বাধীনতা নারী স্বাধীনতা করছো কেন, মুসলমান মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছো কর, হিন্দু মেয়েরা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে, ওদের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করো না। ও তোমার কাজ নয়, অতিথি অতিথির মতো থাকো।

আরও পড়ুনঃ

জেলাশাসকের স্ত্রী কাণ্ডে অপসারিত পুলিশ অফিসার পেলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী সাহসী পুরস্কার’

বাংলায় ক্ষোভ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়াচ্ছে মোদী সরকার

হিন্দু মেয়েদের স্বাধীনতা নিয়ে যদি সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে হিন্দুরা করবে, তুমি কে হে মুসলমান হয়ে আমাদের জন্য কথা বলতে এসেছো? নাস্তিক বানাতে চাও, মুসলমানদের বানাও। হিন্দু ধর্ম অনেক উদার, এই ধর্ম প্রো উইমেন, দেখ না কতো দেবী পুজো করি আমরা! কলকাতায় কেন থাকতেই হবে তোমাকে, কলকাতায় তুমি জন্মেছো?

যেখানে জন্মেছো সেখানে যাওয়ার চেষ্টা কর। তাড়িয়ে দিয়েছে, তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই বলে অত অভিযোগ করতে হবে কেন? দেশে তো আশ্রয় দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়? আবার বক বক কেন? অনাগরিকের বক বক নাগরিকদের সয় না, এমনকী প্রগতিশীল বলে খ্যাত নাগরিকদেরও নয়।

শত নাস্তিক হলেও আমি ওদের চোখে মুসলমান। খাতায় রিফুইজি নয়, রেসিডেন্ট স্টেটাস থাকলেও আমি ওদের চোখে রিফিউজি। সুইডেনের নাগরিক হলেও আমি ওদের চোখে বাংলাদেশি (তুচ্ছার্থে)। আমি অতিথি নই, নিজ খরচে থাকলেও, বছর বছর ট্যাক্স দিলেও ওদের চোখে আমি অতিথি। অতিথিদের ইন্টারনাল বিষয়ে নাক গলাতে হয় না, সুতরাং আমারও নাক গলানো চলবে না।

আরও পড়ুনঃ

সিবিআই থেকে দমকলে বদলি, প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন আইপিএস

পরকীয়া প্রেমের জেরে অজয় দেবগণের ফিল্ম স্টাইলে খুন

আমার রংটা সাদা হলে, ধর্মটা খ্রিস্টান হলে, ভাষাটা ইংরেজি হলে, বইগুলো ইংরেজিতে হলে, বাড়ি ইউরোপে হলে অবশ্য আমার বাক স্বাধীনতার জন্য প্রগতিশীল শহরে মিছিল হতো, বুদ্ধিজীবীরাও চেঁচাতেন।

আমার কি দেখা হয়নি সব? শ্রীজাতর ওপর কী হয়েছে? আমার ওপর তার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি অত্যাচার হয়নি? কেউ কেউ বলবে, হলে হোক, তুমি তো বিদেশি। একই ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে জন্ম হলেও আমি বিদেশি। আসলে আমার কথা বার্তা পছন্দ না হলেই আমি ‘বিদেশি’। বিদেশিদের সমস্যা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না, আমরা প্রগতিশীল, আমরা বাঙালি বুদ্ধিজীবি! বটে।”

এই ভাষাতেই নিজের ক্ষোভ উগলে দিলেন তাসলিমা নাসরিন। কলকাতার বুদ্ধিজীবী তো বটেই, কটাক্ষ করেছেন রাজ্য সরকারকেও। শ্রীজাতর জন্য যারা গলা ফাটাচ্ছেন তসলিমার জন্য তাঁরা চুপ কেন? হিন্দুত্ত্ববাদীদের বিরুদ্ধে কথা বললে ক্ষতি নেই, রাজ্যের বিরুদ্ধে বা মমতার বিরুদ্ধে কথা বললেই অনেক সুযোগ সুবিধা মিলবে না। সেই কারণেই কি? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

আরও পড়ুনঃ

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদে এক হিন্দু নারী

ভারতের কৃষকের মেয়ে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ

নতুন বছরের শুরুতেই খারাপ খবর, বড় বড় কোম্পানিতে কর্মী ছাঁটাই

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘ভাবনার বিপ্লব’ ভাবনা কস্তুরীর হাত ধরে

মমতার বাছাইয়ে কারা হবেন বাংলার ৪২টি লোকসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী

মোদীর প্রকল্পে আর টাকা দেবেন না মমতা, কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক তলানিতে

একদিনে বহিষ্কৃত দুই তৃণমূল সাংসদ, দিদিকে ছেড়ে মোদীর দলে আর কে কে

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন