মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন

270
মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন/The News বাংলা
মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন/The News বাংলা

The News বাংলা, মালদাঃ পাত্র পাত্রী দুজনেই মালাবদলের জন্য তৈরি। তৈরি বরপক্ষ ও কনেপক্ষও। হঠাৎ পুলিশ নিয়ে সাক্ষাৎ ‘যমদূতে’র মত হাজির এলাকার বিডিও। না, এই বিয়ে হবে না। জানিয়ে দিলেন বিডিও। পাত্রী নাবালিকা। আর এইভাবেই সকলের ভেবে নেওয়া ‘যমদূত’ হয়ে দাঁড়ালেন ‘দেবদূত’।

আরও পড়ুনঃ নেতাদের গুন্ডা পোষা না গুন্ডাদের নেতা হওয়া, প্রকাশ্যে বন্দুকবাজির কারন কি

রাত পার হলে হয়ত আর রুখে ফেলা যেত না নাবালিকার বিয়ে। কিন্তু বিয়ের দিনই রাতেই হানা দিয়ে বিয়ে রুখে দিলেন পুরাতন মালদা ব্লকের বিডিও। পাত্রীর পরনে ছিল লাল শাড়ি। ছাদনাতলায় চলছে আশীর্বাদ পর্ব। বাইরে বাজছে বাজনা ও সানাই। নিমন্ত্রিতদের জন্য জোর কদমে চলছে রান্নাবান্না। হঠাৎই ছন্দপতন।

মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন/The News বাংলা
মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন/The News বাংলা

আচমকা বদলে গেল ছবিটা। কারন বিয়ে বাড়িতে তখন হাজির এলাকার বিডিও সহ একগাড়ি পুলিশ। আটকে গেল নাবালিকার বিয়ে। অবশ্যই পুরো ধন্যবাদ যায় বিডিও ও পুলিশ প্রশাসনের দিকে।

পুরাতন মালদার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিত্যানন্দপুর গ্রামে প্রভাত শীল এর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছিল পরিবার। সব কিছুই চলছিল ধুমধামের সঙ্গে। বলা যায় সবই ঠিক ছিল।

আরও পড়ুনঃ বিজেপির ‘রথ যাত্রা’র অনুমতি দিল না মমতা প্রশাসন

কিন্তু গলদ ছিল এক জায়গাতেই, সেটা ছিল মেয়েটি নাবালিকা। সুতরাং নাবালিকা হওয়ায় পুলিশ ও প্রশাসন বিয়ের মণ্ডপেই রুখে দিল নাবালিকার বিয়ে। মজার ঘটনা এই সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেরই বিমল দাস কলোনীতে আরও একটি নাবালিকার বিয়ে রুখে দিল পুলিশ ও প্রশাসন। তবে এখানে ধুমধাম নয়। পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গোপনে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তবে পুলিশ প্রশাসন সেই উদ্যোগও রুখে দেয়।

মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন/The News বাংলা
মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন/The News বাংলা

জানা গিয়েছে, নিত্যানন্দপুরের বাসিন্দা প্রভাত শীলের মেয়েটি সাহাপুর হাইস্কুলে দশম শ্রেনীতে পড়াশোনা করে। তিন বোনের মধ্যে সেই ছোট। দুই দিদি বিবাহিত। বাবা সেলুনে কাজ করেন। ইংরেজবাজারের এক যুবকের সাথে মেয়েটির বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বিয়ের সমস্ত জোগার শেষ। এমনকি মেয়ের আশীর্বাদ পর্বও শুরু হচ্ছিল। অন্যদিকে আমন্ত্রিতদের জন্য রান্নাবান্নারও কাজ চলছিল।

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলায় রথ যাত্রা হবেই’ মমতাকে হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস পুলিশ নিয়ে হাজির হন বিয়েবাড়িতে। এরপর মেয়ের বয়সের প্রমানপত্র দেখলে দেখতে পাওয়া যায় মেয়ের বয়স সতের বছর দুই মাস। আঠারো বছর হতে এখনও দশ মাস বাকি। সঙ্গে সঙ্গে ওই বিয়ে রুখে দেন বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস।

আরও পড়ুন: ‘অশিক্ষিত রাজনীতিবিদ’ কলঙ্ক ঘোচাতে বুড়ো বয়সে মাধ্যমিকে

পাশাপাশি বিডিও নরোত্তমবাবু মেয়ের বাবাকে আশ্বাস দেন মেয়ের বয়স আঠারো হলেই মেয়েটির বিয়ে ব্যবস্থা করে দেবেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প রূপশ্রী থেকে ২৫ হাজার টাকার ব্যবস্থাও করে দেবেন মেয়েটির বিয়ের জন্য। অন্যদিকে, নাবালিকা মেয়ের বাবা প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাঁর মাসে মাসে ভাতারও ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ জনগণকে ‘গাধা’ বানিয়ে ‘শিক্ষাগুরু নেহেরু’র যোগ্য ছাত্র সব রাজনীতিবিদ

অন্যদিকে, জানা গিয়েছে সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতেই আরও একটি বিয়ের অনুষ্ঠান গোপন চলছিল সেখানেই নাবালিকা বিয়ে রুখে দেন পুলিশ ও প্রশাসন। এদিকে বিডিও নরোত্তম বিশ্বাস জানান, পরিবারের লোকেরা মুচলেকা দিয়েছেন মেয়েদের ১৮ বছর বয়স হলেই বিয়ে দেওয়া হবে। এইভাবে একরাতেই দুই নাবালিকার বিয়ে রুখে দৃষ্টান্ত সাহাপুর প্রশাসনের।

পড়ুন হাড় হিম করা অদ্ভুত সত্য গল্প

পড়ুন প্রথম পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

পড়ুন দ্বিতীয় পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

পড়ুন তৃতীয় ও শেষ পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন