খারাপ ফলের পর, মমতার কাছে কি গুরুত্ব কমল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

1492
খারাপ ফলের পর, মমতার কাছে কি গুরুত্ব কমল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের/The News বাংলা
খারাপ ফলের পর, মমতার কাছে কি গুরুত্ব কমল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের/The News বাংলা

কার দায়িত্ব বাড়ল? কে পড়লেন নেত্রীর কোপে? তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শনিবার এটাই ছিল বড় প্রশ্ন। লোকসভা ভোটে লজ্জাজনক ফল। ২০১৪ সালের ৩৪টি আসন কমে মাত্র ২২। ৪২ এ ৪২ এর দাবি তুলে, মাত্র ২২টি আসন পাওয়ায়; প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার কালীঘাটে মমতার বাড়িতে পর্যালোচনা বৈঠকে বসে তৃণমূল। মমতার কোপে কারা? উঠে যায় প্রশ্ন।

লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পরই; আন্দাজ করা গিয়েছিল। হলও তাই। শনিবার কালীঘাটে লোকসভা ফলের পর্যালোচনা বৈঠকে; দলীয় সংগঠনে ব্যাপক রদবদলের ঘোষণা করলেন তৃণমূল নেত্রী। যে আসনে বা এলাকায় তৃণমূল খারাপ ফল করেছে; সাংগাঠনিক রদবদলের বেশিরভাগই সেই এলাকায়।

পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করেছেন; মুখ্যমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি নিজে সংগঠনে বেশি সময় দেবেন। সংগঠনে গুরুত্ব বাড়ল; শুভেন্দু অধিকারী, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিমের। দায়িত্ব কমল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর এর পরেই শোরগোল পড়ে যায় তৃণমূলের অন্দরেই।

ঝাড়গ্রামের জেলা সভাপতিকে সরিয়ে; তৃণমূল নেত্রী সেখানে বসালেন বীরবাহা সোরেনকে। সেই সঙ্গে জঙ্গলমহলের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারীকে। ২০১১ সালের আগে শুভেন্দুই জঙ্গলমহলের দায়িত্বে ছিলেন; কিন্তু সরকার গঠনের পর তাঁকে সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সভাপতি; বিপ্লব মিত্রকে সরিয়ে দিয়েছেন মমতা। জেলায় তৃণমূল জেলা সভাপতির দায়িত্ব; দেওয়া হল অর্পিতা ঘোষকে। উত্তর দিনাজপুরের জেলা সভাপতি করা হয়েছে কানাইলাল আগরওয়ালকে; আর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন; আগের জেলা সভাপতি অমল আচার্য।

হুগলিতে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন; আরেক হেরে যাওয়া প্রার্থী রত্না দে নাগ। বাঁকুড়াতেও সংগঠনে রদবদল করেছেন মমতা। বাঁকুড়ায় নতুন জেলা সভাপতি হলেন শুভাশিস বটব্যাল; বিষ্ণুপুরের সভাপতি হয়েছেন আর এক হেরে যাওয়া প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা।

নদিয়া জেলাকেও সাংগঠনিকভাবে দুভাগে ভেঙে; রানাঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শঙ্কর সিংহকে। কৃষ্ণনগর সামলাবেন লোকসভায় জয়ী মহুয়া মৈত্র। মালদহেও সংগঠনে রদবদল হয়েছে। দলের জেলা সভাপতি মৌসম নূর এবং চেয়ারম্যান হয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে সরানো হল; গৌতম দেব এবং সৌরভ চক্রবর্তীকে। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের; নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে জলপাইগুড়িতে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী বিজয়কৃষ্ণ বর্মণকে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের; নতুন চেয়ারম্যান অমর সিংহ রাই। উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের দায়িত্বে; বহরমপুর থেকে হেরে যাওয়া তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার।

দায়িত্ব বাড়ল শুভেন্দু অধিকারী, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরফাদ হাকিমের। মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের পাশাপাশি; এবার থেকে জঙ্গলমহলও সামলাবেন শুভেন্দু। সামগ্রিকভাবে উত্তরবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হল অরূপ বিশ্বাসকে। হাওড়া, হুগলি, বর্ধমানের দায়িত্বে ফিরহাদ হাকিম।

এইচআরবিসির চেয়ারম্যান হচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী। ভোটার লিস্ট সহ অন্যান্য কাজের দায়িত্বে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের লোকসভা দলনেতা করা হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তাঁর ডেপুটি কাকলি ঘোষ দস্তিদার। চিফ হুইপ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন একটাই, তৃণমূলে কি গুরুত্ব কমল; ভোটের আগেও দলের দুই নম্বর থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের?

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন