রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল সায়গল হোসেন গ্রেফতার, অনুব্রতর রক্ষী হতেই অগাধ সম্পত্তি

67
রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল সায়গল হোসেন গ্রেফতার, অনুব্রতর রক্ষী হতেই অগাধ সম্পত্তি
রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল সায়গল হোসেন গ্রেফতার, অনুব্রতর রক্ষী হতেই অগাধ সম্পত্তি

রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল সায়গল হোসেন গ্রেফতার; অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী হতেই অগাধ সম্পত্তি কি করে হল সে প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ার পরেই গ্রেফতার। গরু পাচার মামলায় টানা ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরে; অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে গ্রেফতার করল সিবিআই। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, আয় বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ; এবং বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে সায়গল হোসেনকে। শুক্রবার তাঁকে আসানসোলের সিবিআই আদালতে পেশ করা হবে।

গরু-পাচার কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই; সিবিআইয়ের নজরে ছিলেন অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেন। একাধিকবার তাঁকে জেরাও করেছিলেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার ফের সায়গল হোসেনকে; জেরার জন্য তলব করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টোর বেশ কিছুটা পর; নিজাম প্যালেসে পৌঁছান সায়গল। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ; দফায় দফায় চলে জিজ্ঞাসাবাদ।

ম্যারাথন জেরার পর সন্ধ্যায়; গ্রেফতার করা হয় সায়গলকে। সিবিআই সূত্রে খবর, সম্পত্তির হিসেবে দিতে পারেননি ধৃত কনস্টেবল। তাঁর আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের, কোনও মিল নেই; বক্তব্যে মিলেছে একাধিক অসংগতি। সেই কারণেই গ্রেফতার করা হয়েছে সায়গল হোসেন-কে। রাতেই ধৃতের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। শুক্রবার আসানসোলের বিশেষ আদালতে তুলে; ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেবে সিবিআই।

আরও পড়ুনঃ দলের নেতা খু’নের মামলা সিবিআই হাতে, ঘুম উড়ল তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরে; কেষ্টর-ছায়াসঙ্গী সায়গল হোসেনকে জেরা করা হচ্ছিল। তদন্তে নেমে সিবিআই আধিকারিকরা জানতে পারেন; এনামুল হকের থেকে কয়েক-দফায় কয়েক কোটি টাকা নিয়েছে সায়গল হোসেন। বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ডানহাত বলে পরিচিত সায়গল; বর্তমানে রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদমর্যাদার পুলিশকর্মী। সিবিআইয়ের অনুমান, একাধিক অছিলায় সে বিভিন্ন গরু পাচারকারী এবং ব্যবসায়ীর কাছ থেকে; বেশ কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছিল।

গত ৪ জুন সায়গলের বোলপুরের বাড়িতে; হানা দেন সিবিআই আধিকারিকেরা। তাকে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে নিয়ে গিয়ে; সেখানে তার বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআই। পাশাপাশি প্রায় ১৫ ঘণ্টা সায়গল ও তার স্ত্রীকে জেরা করে তদন্তকারীরা। বোলপুর ও ডোমকলে সায়গলের নামে-বেনামে একাধিক জমি; সম্পত্তির হদিশ পায় সিবিআই। সম্পত্তির উৎস জানতে ৫ জুন দুর্গাপুরে সিবিআইয়ের ক্যাম্পে; প্রায় ২২ ঘণ্টা সায়গল-সহ অনুব্রতর ৪ নিরাপত্তারক্ষীকে জেরা করা হয়। শেষপর্যন্ত গ্রেফতার সায়গল হোসেন।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন