বাজপেয়ীর মত ভুল করেননি, পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করলেন মোদী

618
বাজপেয়ীর মত ভুল করেননি, পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করলেন মোদী/The News বাংলা
বাজপেয়ীর মত ভুল করেননি, পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করলেন মোদী/The News বাংলা

প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী পারেননি। কিন্তু পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেখালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ১৯৯৯ সালে ভারত যখন পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করতে উদ্যোগী তখন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ও ভারতের পিঠে ছুরি মেরেছিল পাকিস্তান। শান্তির মাঝেই দখলে নিয়েছিল কার্গিল। তখনও ভারতীয় বিমান বাহিনী পাকিস্তানে ঢুকে হামলার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু দেননি প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। ২০১৯ সালে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

১৯৯৯ সালের ১৯শে ফেব্রুয়ারি দিল্লি ইসলামাবাদ প্রথম বাস যাত্রার সময় এই বাসেই ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী লাহোর সম্মেলনে যোগ দিতে রওনা হন এবং ওয়াঘা সীমান্তে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তাঁকে স্বাগত জানান। বাজপেয়ীর বাস যাত্রা উভয় দেশের জনগণ সাদরে গ্রহণ করে ও সমগ্র বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়। দুই দেশের সরকার ১৯৯৯-এর লাহোরে ঘোষণা করেন, কাশ্মীর সমস্যা সহ উভয় দেশের বিবাদের শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনের পক্ষে জোর দেওয়া হবে।

কিন্তু একদিকে যখন ভারত পাক শান্তির বাস যাত্রা চলছে তখনই পাক সেনা ও জঙ্গিদের দল দখল নিচ্ছে কার্গিল সহ ভারতের একের পর এক পাহাড়। ১৯৯৯ সালের মে মাস। হঠাৎ খবর পাওয়া গেল কাশ্মীরের কার্গিল সেক্টর দখল করে নিয়েছে পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গিরা। তাদের সরিয়ে কার্গিল পুনর্দখল করা আজ ভারতবাসীর কাছে গৌরবময় ইতিহাস।

তাদের হঠাতে ভারতীয় সেনা শুরু করে ‘অপারেশন বিজয়’। দীর্ঘ তিন মাস কঠিন লড়াইয়ের পর কাশ্মীরের ওই এলাকা দখলমুক্ত করে ফের ভারতের পতাকা ওড়াতে সক্ষম হয় ভারতের বীর সেনা জওয়ানরা। কার্গিল যুদ্ধ জিততে বায়ুসেনার শক্তি দারুন ভাবে কাজে লাগিয়ে ছিল ভারত। ৩২ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে ভারতীয় সেনা সীমান্তে পাক সেনা, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি ঘাঁটি খুঁজে বের করে হামলা চালায়।

সরকারিভাবে ‘অপারেশন বিজয়’র সাফল‍্যের কথা ২৬শে জুলাই ঘোষণা করা হয়। এরপর ৬০০ শহিদের বদলা নিতে ভারতীয় বায়ুসেনা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে হামলার অনুমতি চান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার সেই হামলার অনুমতি দেননি। কিন্তু কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ৪৯ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর পর আর ভুল করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে জঙ্গি মারল ভারতের বিমান। সবুজ সংকেতের অপেক্ষাতেই ছিল ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স। ঠিক যেন সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পুনরাবৃত্তি। তবে এবার মাটিতে নয়। আকাশপথে। পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করল ভারতীয় যুদ্ধবিমান। পুলওয়ামা কাণ্ডের বদলা নিতে এক হাজার কেজি বোমা ফেলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল পাক মাটিতে তৈরি হওয়া একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছে পাকিস্তানও।

কার্গিলের সময়ই এই হামলা চালানোর প্রয়োজন ছিল বলেই বারবার জানিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। এবার সেই সুযোগ আর হাতছাড়া করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকার। পাকিস্তানে ঢুকে ৩টি জায়গায় প্রায় ১০০০ কেজি বোমা ফেলে তারা। ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয় বালাকোট, মুজাফরাবাদ ও চকোটিতে জঙ্গিশিবিরগুলি। ২০ মিনিটের মধ্যে অপারেশন শেষ করে ভারতে ফেরে বিমানগুলি। এই হামলায় জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি সহ বহু জঙ্গিশিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছে বায়ুসেনা। খতম করা হয়েছে ৩০০ জঙ্গিকে।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন