পরেশ, গুণধর, বীরেন্দ্র, দুর্নীতি করে নেতার মেয়েদের চাকরি হয়েছে, কাঁদছে ‘বাংলার মেয়েরা’

144
বাংলা নিজের মেয়েকেই চেয়েছে, রাজ্য সরকার চেয়েছে নেতাদের মেয়েকে
বাংলা নিজের মেয়েকেই চেয়েছে, রাজ্য সরকার চেয়েছে নেতাদের মেয়েকে

পরেশ, গুণধর, বীরেন্দ্র, দুর্নীতি করে নেতার মেয়েদের চাকরি হয়েছে, কাঁদছে ‘বাংলার মেয়েরা’। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে তৃণমূলের রাজনৈতিক স্লোগান ছিল; ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’। সেই স্লোগানে মুগ্ধ হয়ে, মমতাকেই তৃতীয়বারের জন্য; বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন রাজ্যের ভোটাররা। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টে একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায়, এটা একেবারে পরিস্কার; বাংলা নিজের মেয়েকে চাইলেও; সেই মেয়ের সরকার বাংলার মেয়েদের চাইছে না; শুধুই নেতাদের মেয়েদের চাইছে।

রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী, আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গুণধর খাঁড়া, কালনা পুরসভার দুবারের প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর বীরেন্দ্র বসু মল্লিক; মাত্র কয়েকটি নাম উঠে এসেছে, যাদের দুর্নীতি ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে প্রমাণিত। প্রত্যেকেই দুর্নীতি করে, নিজের মেয়েকে; ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকের চাকরিতে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে; এই তিন নেতারই মেয়েদের চাকরি গেছে। বাংলা নিজের মেয়েকেই চেয়েছে; কিন্তু রাজ্য সরকার চেয়েছে শুধুই নেতাদের মেয়েকে।

আরও পড়ুন; ‘তৃণমূল-বাম সেটিং’, প্রাথমিক টেট দুর্নীতি, চাকরি গেল সিপিএম নেতার মেয়েরও

কম নম্বর পেয়েও তালিকায় নাম না থাকলেও, ইন্টারভিউ না দিয়েও, সবাইকে সরিয়ে হাইস্কুলের শিক্ষক নিয়োগ তালিকায় একেবারে উপরে উঠে এসে; বাড়ির কাছে হাইস্কুলে চাকরি পান; রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে, দুর্নীতির প্রমাণ মেলায়; তার চাকরি যায় বেতন ফেরত দেবার নির্দেশ দেয় আদালত।

এবার ২৬৯ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার পাশাপাশি, ২০১৪র প্রাথমিক টেট দুর্নীতি মামলায়; সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিত্‍ গঙ্গোপাধ্যায়। পাশাপাশি, ২৬৯ জনকে প্রাথমিক শিক্ষকের পদ থেকে বরখাস্ত, বেতন বন্ধ ও বেতন ফেরতের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন; প্রাথমিকে বরখাস্তের তালিকায়, পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতির দুই মেয়ে

আদালতের নির্দেশে হুগলি জেলায় ৬৮ জনকে; প্রাইমারি শিক্ষকের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি; গুণধর খাঁড়ার ২ মেয়ের নাম। তৃণমূল নেতার দুই মেয়ে সীমা ও শিবানী; প্রাথমিক শিক্ষক হিসাবে চাকরিতে যোগ দেয়। মঙ্গলবার সকালে জেলায় বরখাস্তের যে তালিকা পৌঁছেছে; তাতে ৫ নম্বরে নাম রয়েছে শিবানী খাঁড়ার; আর ৮ নম্বরে নাম সীমা খাঁড়া প্রামাণিকের।

২৬৯ জনের তালিকায় রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের ১৭ জনের নাম; তার মধ্যে ২ নম্বরে নাম রয়েছে কালনার ‘দাপুটে’ সিপিএম নেতা ও কালনা পুরসভার দুবারের প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর; বীরেন্দ্র বসু মল্লিকের মেয়ে বৈশাখী বসু মল্লিকের নামও। কেঁচো খুঁড়তে একে একে বেরোচ্ছে বড় বড় কেউটে। তৃণমূলের পাশাপাশি দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছে; সিপিএম নেতার মেয়েও। প্রমাণ হয়ে গেছে, বাংলা নিজের মেয়েকে চাইলেও; সেই মেয়ের সরকার বাংলার মেয়েদের চাইছে না; শুধুই নেতাদের মেয়েদের চাইছে।

Comments

comments

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন