SSKM – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 20 Aug 2022 11:45:11 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg SSKM – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 জেলে আচমকা অসুস্থ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, নিয়ে যাওয়া হল সেই এসএসকেএম হাসপাতালে https://thenewsbangla.com/partha-chatterjee-suddenly-fell-ill-in-presidency-jail-taken-to-sskm-hospital/ Sat, 20 Aug 2022 11:44:16 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=16269 জেলে আচমকা অসুস্থ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, নিয়ে যাওয়া হল এসএসকেএম হাসপাতালে। শনিবার প্রেসিডেন্সি জেলে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন, চাকরি চুরি বা এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে জেলের সেলের ভিতরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায়, তড়িঘড়ি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা।

এদিন হাসপাতালের সামনে গাড়ি থেকে নেমে অসুস্থ অবস্থাতেই, প্রাক্তন মন্ত্রী সাংবাদিক-দের জানান, “শরীরটা ভাল নেই”। কদিন নিজের সেলেই থাকছিলেন পার্থ, খুব একটা বেরচ্ছিলেন না। হঠাৎই প্রেসিডেন্সি জেলে শনিবার দুপুরে, আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সেখানেই তাঁকে চিকিৎসকরা দেখেন। কিন্তু, অসুস্থতা বেশি দেখেই, পার্থকে এসএসকেএমে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেল কর্তৃপক্ষ। বিকেল চারটে-নাগাদ পার্থকে আনা হয় এসএসকেএমে।

আরও পড়ুনঃ স্ত্রী ও মেয়ের নামে কোটি-কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ, ‘বেনামি সম্পত্তি নেই’, সাফাই অনুব্রতর

কড়া নিরাপত্তায় ৩টি গাড়ির কনভয় করে, এসএসসি মামলায় ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে এসএসকেএমে আনা হয়। প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রে খবর, প্রাক্তন তৃণমূল মহাসচিবের শরীরের ক্রিয়েটিন বেড়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেশ কম। পা ফুলেছে তাঁর, শরীরে অস্বস্তি রয়েছে।

হাসপাতালে পার্থর প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নার্ভাস ব্রেকডাউন হচ্ছিল তাঁর। তবে এখনই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনও দরকার নেই, জানান চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর ফের প্রেসিডেন্সি জেলে ফিরে, বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

]]>
‘গরু চোর’ বলে বিদ্রুপ, আদালতের ভয়ে অনুব্রতকে ভর্তি নিল না এসএসকেএম https://thenewsbangla.com/sskm-did-not-admit-tmc-leader-anubrata-mondal/ Mon, 08 Aug 2022 13:01:59 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=15936 ‘গরু চোর’ বলে বিদ্রুপ, আদালতের ভয়ে; অনুব্রতকে এবার ভর্তি নিল না এসএসকেএম। “অনুব্রত মণ্ডলকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই”; জানিয়ে দিল এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সোমবার চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে যান অনুব্রত; তাঁর চিকিৎসায় তৈরি হয় ৭ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতির কয়েকটি ক্রনিক রোগ ছাড়া; তেমন কোনও সমস্যা নেই বলেই জানান বিশেষজ্ঞরা। অনুব্রতর শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তাঁরা জানিয়ে দেন; এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতার। দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালে কাটিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।

এদিকে নিরাপত্তারক্ষী-দের বেষ্টনি নিয়ে হাসপাতাল ছাড়ার সময়, এসএসকেএম চত্বরে চিৎকার শোনা যায়; “গরু-চোর গরু-চোর”। কিছু রোগীর আত্মীয় রীতিমতো বিদ্রুপ করে; ‘গরু চোর’ বলে চিৎকার শুরু করেন হাসপাতালে। জোকা ইএসআই হাসপাতালের বাইরে, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখেও; এক মহিলা জুতো ছুঁড়ে মারেন। আলিপুর জেলে গিয়েও তাঁকে শুনতে হয়েছে; ‘চোর-চোর’ ডাক। এবার নিশানায় অনুব্রত। এসএসকেএম চত্বরে ‘গরু চোর’ ডাক ভেসে এল; দাপুটে তৃণমূল নেতাকে নিশানা করে।

আরও পড়ুনঃ পাঁচ বছরে উনিশজন তৃণমূল নেতার অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধি, ইডিকে পার্টি করল হাইকোর্ট

গরু পাচার মামলায় সোমবার; অনুব্রত মণ্ডলকে তলব করেছিল সিবিআই। শারীরিক পরীক্ষার অজুহাতে, এদিনও সিবিআইয়ের হাজিরা; এড়িয়ে গেছেন অনুব্রত। এর আগেও গরু পাচার মামলায়, সিবিআই তাঁকে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েছে; প্রতিবারেই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। আগামী সপ্তাহে ফের তাঁকে; তলব করতে পারে সিবিআই।

]]>
গরু চুরি কাণ্ডে সিবিআই ডাক, অনুব্রতর পুরনো অ’স্ত্র সেই এসএসকেএম হাসপাতাল https://thenewsbangla.com/anubrata-mandal-cbi-called-in-cow-theft-case-again-admitted-in-sskm-hospital/ Mon, 08 Aug 2022 06:39:58 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=15917 গরু চুরি কাণ্ডে ফের সিবিআই ডাক; অনুব্রত মণ্ডলের পুরনো অ’স্ত্র সেই এসএসকেএম হাসপাতাল। সোমবার গরুপাচার মামলায় সিবিআই দফতরে হাজিরা দেবার কথা অনুব্রত মণ্ডলের। রবিবার বোলপুর থেকে চিনার পার্কের ফ্লাটে এসে পৌঁছেছেন; বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত; কিন্তু কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সামনে তাঁর হাজিরা দেওয়া নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ এখনও পর্যন্ত হাজিরা দেওয়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি তিনি; জানিয়েছেন অনুব্রতর আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা। মনে করা হচ্ছে, ফের অনুব্রত মণ্ডল ভর্তি হবেন; সেই এসএসকেএম হাসপাতালেই।

এদিকে বিজেপি নেতারা মজা করে বলছেন, “গরু চুরি কাণ্ডে সিবিআই ডাক; পোঁদ দেখাতে অনুব্রত ছুটলেন এসএসকেএমে”। অনুব্রত মণ্ডলের ফিসচুলার সমস্যা রয়েছে; তাই এই নিয়ে কটাক্ষ করেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। কিছুদিন আগেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচ্চারণ-জনিত সমস্যার জন্য; এই ‘পোঁদ দেখানো’ নিয়ে তুমুল সমালোচনা করেছিল বিরোধীরা।

আরও পড়ুন; ‘খেলা হচ্ছে’, চাকরি চুরি কাণ্ডে তৃণমূল নেতার বাড়িতে চড়াও আমজনতা

হাজিরা দিতে পারছেন না বলে; কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু রবিবার চিনার পার্কে তিনি এসে পৌঁছনোর পর; হাজিরা দিতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সোমবার তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষারও কথা রয়েছে। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন; হাজিরা দিতে পারবেন কিনা; সে সব উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন অনুব্রতর আইনজীবী।

গরুপাচার মামলায় এনামুল হককে গ্রেফতারের পর; জেরায় উঠে আসে অনুব্রতর নাম। এই মামলায় অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে; ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

]]>
ট্যাংরার ট্রাক ভর্তি লোকের শাস্তি হয়নি, বেঁচে ফিরে নতুন জন্ম দিচ্ছেন পরিবহ মুখোপাধ্যায় https://thenewsbangla.com/nrs-doctor-paribaha-mukherjee-case-miscreants-were-not-punished/ Thu, 26 May 2022 07:33:37 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15231 ট্যাংরার ট্রাক ভর্তি লোকের আজও শাস্তি হয়নি, অন্যদিকে অল্পের জন্য বেঁচে ফিরে; প্রতিদিন নতুন নতুন নবজাতকের জন্ম দিচ্ছেন ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়। ২০১৯ সালের জুন মাসে, এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে; র’ণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ট্যাংরার বাসিন্দা বছর পঁচাত্তরের মহম্মদ শহিদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায়; তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একদিন পরেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, এরপরই চিকিত্সায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে; ডাক্তারদের উপর চড়াও হন ৫০-৬০ জনের একটি দল। ট্যাংরা থেকে ২টো ট্রাক ভর্তি লোক এসে; ক্ষমতা দেখায় বিশেষ একটি ধর্মের দুষ্কৃতীরা।

হেলমেটে মুখ ঢেকে, হাতে লাঠিসোটা নিয়ে; এনআরএস হাসপাতালে ঢুকে আ’ক্রমণ করে ওই দু’ষ্কৃতী দল। সেইসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন; ডাক্তার পরিবহ। তাঁর মাথা লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে দুষ্কৃতীরা; সেই আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পরেন পরিবহ। এনআরএস-এই প্রাথমিক চিকিৎসা হয়; কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করলে; রাতেই মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস-এ নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে”। মাথায় এমন ভাবে চোট পান যে; করোটি ভেঙে ব্রেনের দিকে ঢুকে যায়।

আরও পড়ুনঃ ঘটা করে শিল্প সম্মেলনই সার, শিল্পে দেশের মধ্যে ‘পিছিয়ে বাংলা’

ডাক্তারদের মারধরের ঘটনায় আহত দুই জুনিয়র ডাক্তারকে; গুরুতর আহত অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন; পরিবহ মুখোপাধ্যায় ও যশ টেকওয়ানি। জুনিয়র চিকিৎসকদের নিগ্রহের প্রতিবাদে; ১২ ঘণ্টা আউটডোর পরিষেবা বন্ধ রাখে রাজ্যের ডক্টর্স ফোরাম।

দুই ট্রাক ভর্তি লোকের, এনআরএস হাসপাতালে ঢুকে ডাক্তার পেটানোর ঘটনায়; প্রবল চাপের মুখে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কিন্তু আজও এতজন অভিযুক্তদের কোন শাস্তি হয়নি। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু যারা এই ঘটনা ঘটাচ্ছে; তাদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়য় না। এনআরএস থেকে আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়ে; কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আরজিকর, এসএসকেএম হাসপাতালেও। সব হাসপাতালগুলিতে; একদিন আউটডোর পরিষেবা বন্ধ ছিল।

ইনি সেই ডাঃ পরিবহ মুখোপাধ্যায়; যাঁকে ট্যাংরার গুন্ডারা মেরে মাথার খুলি ফুটো করে দিয়েছিল। ডাক্তাররা অসাধ্যসাধন করে ওঁকে বাঁচিয়েছিলেন। এখন তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন নবজাতককে; পৃথিবীতে আনছেন, পৃথিবীর আলো দেখাচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেই জানোয়ার-গুলোর কোন সাজা হয়েছে কি?

]]>
আপনার পাশের বাড়ির রিমার হার না মানা লড়াই, সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে https://thenewsbangla.com/girl-next-door-a-fighter-rima-nandi-dutta-fights-without-giving-up/ Mon, 09 May 2022 07:35:39 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15020 আপনার পাশের বাড়ির রিমাদির হার না মানা লড়াই; সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে। কিছু ঘটনা তেমন ভাবে প্রচার পায় না, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় না। কারণ তারা যে আপনার আমার পাশের বাড়ির মেয়ে। বাড়ির পাশের মেয়ে শ্রদ্ধা সম্ভ্রম নাম পাবার মত কিছু করলে, তাকে স্বীকৃতি দিতে কেমন একটা বাধে। তবে আজও তো; ‘গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না’ আমাদের কাছে।

দমদম জয়পুর রোডের বাসিন্দা, বছর বিয়াল্লিশের গৃহবধূ রিমা নন্দী দত্ত। আর পাঁচটা বাঙালী মধ্যবিত্ত বাড়ির গৃহবধূ যেমন হয় আরকি। স্বামী সংসার মেয়ে নিয়ে মধ্যবিত্ত জীবন যাপন। ঠিক আমার আপনার মতোই। হঠাৎই সেই রিমার জীবনে নেমে এল, মর্মান্তিক বিপর্যয়। ২০২১ এর মার্চে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন রিমা; সেরেও যান। তারপরেই ২১ এর এপ্রিলে, কোভিড ধরা পড়লে; স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন রিমা। করোনা সারিয়ে বাড়িও ফেরেন তিনি। বাড়ি ফেরার দিন দুয়েক পর থেকেই; তাঁর পা ফুলতে শুরু করে। সঙ্গে অসহ্য জ্বালা-যন্ত্রণা। স্ত্রীর দুই পায়ে রক্তের ছোপ পড়তে দেখে; চমকে যান স্বামী বিশ্বরূপ দত্ত।

কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। শেষে এক চিকিৎসকের পরামর্শে, মে মাসে পিজিতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দুদিনের মাথায় ফের করোনা ধরা পড়ায়; শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে পাঠানো হয় রিমাকে। এদিকে করোনা সারলেও, করোনা পরবর্তী সিম্পটম হিসেবে; রিমার দুটি পায়ের ধমনী ও শিরায় রক্ত জমাট বাঁধছিল। ১০ দিন পরে করোনা নেগেটিভ হয়ে ফের পিজিতে ফিরলেও; দেখা যায় তাঁর দুটি পা পুরো কালো। শল্য বিভাগে পরীক্ষায় দেখা যায়; পায়ে পচন ধরেছে। করোনার সাইটোকাইন সাইড এফেক্টের কারণে; শিরা ও ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধছে; বিরল এক রোগ।

বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক রাজেশ প্রামাণিক ও শল্যচিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার অনেক চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেননি। অবশ্য তাঁদের কিছুই করার ছিলও না। করোনা-পরবর্তী সমস্যা হিসেবে রিমার দুটি পায়ের ধমনি ও শিরায় রক্ত জমাট বেঁধেছিল। তাতেই বিপত্তি হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে রিমার দুটি পা, কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া; অন্য কোন উপায় ছিল না ডাক্তারদের কাছে।

শল্য চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারের কথায়; “প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান ছিল। অবিলম্বে পা বাদ না দিলে; প্রাণ সংশয় হতে পারে বুঝে অস্ত্রোপচার করি। এমন বড় ভাবে ধমনী ও শিরাতে রক্ত জমাট বাঁধা বিরল; পোস্ট-কোভিডে দুটি পা একসঙ্গে বাদ দেওয়ার ঘটনাও বিশ্বে বিরল”।

প্রাণে বাঁচলেও, দুটি পা বাদ যাওয়ার ধাক্কা ছিল সাংঘাতিক; শারীরিকভাবে তো বটেই; মানসিক শক্তি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল রিমার। গত বছরের জুনের প্রথমে, অস্ত্রোপচারের পরের দিন আচ্ছন্ন ভাব কাটতেই; চাদর সরিয়ে নিজের অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন রিমা। চোখের সামনে নেমে এসেছিল একরাশ অন্ধকার; চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলেন রিমা। দাদা শঙ্কর নন্দী বোনের গালে চড় মেরে বলেছিলেন; “তোকে বাঁচতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে”। কিন্তু বোন যে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াবে, তা তখন ভাবেননি দাদা।

পিজির শল্য বিভাগে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই; পিজির ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিএমআর) বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুটি পা হারানোর পরেও; রিমা কিন্ত হার মানেননি। হার মানেননি পিজির শল্য চিকিৎসকরা। রোগীকে পা ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল, চিকিৎসকদের একমাত্র লক্ষ্য। রিমা একটু সুস্থ হতেই, শুরু হয়; বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। ধীরে ধীরে নিজে থেকে উঠে বসা, হুইলচেয়ারে ওঠার মতো বিভিন্ন কাজে আবার সাবলম্বী হতেই; অস্থায়ী কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেখা হয়, তিনি কতটা নিতে পারছেন। দেশীয় কৃত্রিম পায়ের ওজন অনেকটা বেশি; তাই বিদেশি প্রযুক্তির পা, যেটির ওজন কম এবং কার্যকারিতা অনেক বেশি; সেটি লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়। সরকারি হাসপাতালে প্রায় বিনামূল্যে; এই কাজ করা হয়।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর জার্মানি থেকে কৃত্রিম পা এনে লাগানো হয়; কলকাতার গৃহবধূর দুই হাঁটুর নিচে। বহু প্রশিক্ষণের পর নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ান রিমা। যে হাসপাতালে তার দুই পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল; সেই হাসপাতালেই আবার ‘নিজের পায়ে’ দাঁড়ালেন রিমা নন্দী দত্ত।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর জার্মানি থেকে ভারত সরকারের খরচে নিয়ে আসা; কৃত্রিম পা লাগানো হয় রিমার দুই হাঁটুর নিচে। রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের উদ্যোগ ছিল দেখার মত। তবে কৃত্রিম পা লাগালেই হল না; অসহ্য কষ্ট যন্ত্রণা উপেক্ষা করে; নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা অসম্ভব কঠিন এক কাজ। তবে তাতেও দমেননি রিমা। কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে, হাঁটাচলার প্রশিক্ষণের মধ্যেই তিনি বলেন; “হোক না কৃত্রিম পা। আমি আবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি, হাঁটছি। ইচ্ছে করছে, মেয়ের কাছে ছুটে যাই”।

রিমার চোখেমুখে ছিটকে পড়া আশার আলো দেখে; পরিজন থেকে চিকিৎসক, সবাই বলছেন, “এই দিনটারই তো অপেক্ষা ছিল”। সূত্রের খবর, খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু নিজের পা ফিরে পাওয়ার কাছে; সেটা কিছুই নয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আর কয়েকদিনের প্রশিক্ষণ শেষে; কোন অবলম্বন ছাড়াই হাঁটবেন রিমা। বৃদ্ধা শাশুড়ি, সাত বছরের মেয়ে, দেওরকে নিয়ে সংসার রিমার। সেই সংসারে আবার খুশির ছোঁয়া, ফেরত এসেছে হাসি। রিমার জীবন যুদ্ধে যেন পরতে পরতে লেখা,‘হাল ছেড়ো না বন্ধু’।

মনের জোর, অব্যক্ত যন্ত্রণা সহ্য করার, মানসিক অস্থিরতা জয় করার অসীম ক্ষমতা দিয়েই; রিমা জিতেছেন। বিয়াল্লিশ বছরের গৃহবধূ হেসেছেন শেষ হাসি; নিয়তির কাছে সমর্পণ করেননি নিজেকে।

]]>