SSKM Hospital – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 08 Aug 2022 13:29:38 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg SSKM Hospital – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 ‘গরু চোর’ বলে বিদ্রুপ, আদালতের ভয়ে অনুব্রতকে ভর্তি নিল না এসএসকেএম https://thenewsbangla.com/sskm-did-not-admit-tmc-leader-anubrata-mondal/ Mon, 08 Aug 2022 13:01:59 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=15936 ‘গরু চোর’ বলে বিদ্রুপ, আদালতের ভয়ে; অনুব্রতকে এবার ভর্তি নিল না এসএসকেএম। “অনুব্রত মণ্ডলকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই”; জানিয়ে দিল এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সোমবার চিকিৎসার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে যান অনুব্রত; তাঁর চিকিৎসায় তৈরি হয় ৭ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড। বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতির কয়েকটি ক্রনিক রোগ ছাড়া; তেমন কোনও সমস্যা নেই বলেই জানান বিশেষজ্ঞরা। অনুব্রতর শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তাঁরা জানিয়ে দেন; এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তির দরকার নেই বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতার। দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালে কাটিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।

এদিকে নিরাপত্তারক্ষী-দের বেষ্টনি নিয়ে হাসপাতাল ছাড়ার সময়, এসএসকেএম চত্বরে চিৎকার শোনা যায়; “গরু-চোর গরু-চোর”। কিছু রোগীর আত্মীয় রীতিমতো বিদ্রুপ করে; ‘গরু চোর’ বলে চিৎকার শুরু করেন হাসপাতালে। জোকা ইএসআই হাসপাতালের বাইরে, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখেও; এক মহিলা জুতো ছুঁড়ে মারেন। আলিপুর জেলে গিয়েও তাঁকে শুনতে হয়েছে; ‘চোর-চোর’ ডাক। এবার নিশানায় অনুব্রত। এসএসকেএম চত্বরে ‘গরু চোর’ ডাক ভেসে এল; দাপুটে তৃণমূল নেতাকে নিশানা করে।

আরও পড়ুনঃ পাঁচ বছরে উনিশজন তৃণমূল নেতার অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধি, ইডিকে পার্টি করল হাইকোর্ট

গরু পাচার মামলায় সোমবার; অনুব্রত মণ্ডলকে তলব করেছিল সিবিআই। শারীরিক পরীক্ষার অজুহাতে, এদিনও সিবিআইয়ের হাজিরা; এড়িয়ে গেছেন অনুব্রত। এর আগেও গরু পাচার মামলায়, সিবিআই তাঁকে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েছে; প্রতিবারেই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে। আগামী সপ্তাহে ফের তাঁকে; তলব করতে পারে সিবিআই।

]]>
গরু চুরি কাণ্ডে সিবিআই ডাক, অনুব্রতর পুরনো অ’স্ত্র সেই এসএসকেএম হাসপাতাল https://thenewsbangla.com/anubrata-mandal-cbi-called-in-cow-theft-case-again-admitted-in-sskm-hospital/ Mon, 08 Aug 2022 06:39:58 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=15917 গরু চুরি কাণ্ডে ফের সিবিআই ডাক; অনুব্রত মণ্ডলের পুরনো অ’স্ত্র সেই এসএসকেএম হাসপাতাল। সোমবার গরুপাচার মামলায় সিবিআই দফতরে হাজিরা দেবার কথা অনুব্রত মণ্ডলের। রবিবার বোলপুর থেকে চিনার পার্কের ফ্লাটে এসে পৌঁছেছেন; বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত; কিন্তু কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সামনে তাঁর হাজিরা দেওয়া নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ এখনও পর্যন্ত হাজিরা দেওয়া নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি তিনি; জানিয়েছেন অনুব্রতর আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতা। মনে করা হচ্ছে, ফের অনুব্রত মণ্ডল ভর্তি হবেন; সেই এসএসকেএম হাসপাতালেই।

এদিকে বিজেপি নেতারা মজা করে বলছেন, “গরু চুরি কাণ্ডে সিবিআই ডাক; পোঁদ দেখাতে অনুব্রত ছুটলেন এসএসকেএমে”। অনুব্রত মণ্ডলের ফিসচুলার সমস্যা রয়েছে; তাই এই নিয়ে কটাক্ষ করেছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। কিছুদিন আগেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচ্চারণ-জনিত সমস্যার জন্য; এই ‘পোঁদ দেখানো’ নিয়ে তুমুল সমালোচনা করেছিল বিরোধীরা।

আরও পড়ুন; ‘খেলা হচ্ছে’, চাকরি চুরি কাণ্ডে তৃণমূল নেতার বাড়িতে চড়াও আমজনতা

হাজিরা দিতে পারছেন না বলে; কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন অনুব্রত। কিন্তু রবিবার চিনার পার্কে তিনি এসে পৌঁছনোর পর; হাজিরা দিতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। সোমবার তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষারও কথা রয়েছে। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন; হাজিরা দিতে পারবেন কিনা; সে সব উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন অনুব্রতর আইনজীবী।

গরুপাচার মামলায় এনামুল হককে গ্রেফতারের পর; জেরায় উঠে আসে অনুব্রতর নাম। এই মামলায় অনুব্রতর দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকে; ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে সিবিআই।

]]>
আপনার পাশের বাড়ির রিমার হার না মানা লড়াই, সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে https://thenewsbangla.com/girl-next-door-a-fighter-rima-nandi-dutta-fights-without-giving-up/ Mon, 09 May 2022 07:35:39 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15020 আপনার পাশের বাড়ির রিমাদির হার না মানা লড়াই; সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে। কিছু ঘটনা তেমন ভাবে প্রচার পায় না, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় না। কারণ তারা যে আপনার আমার পাশের বাড়ির মেয়ে। বাড়ির পাশের মেয়ে শ্রদ্ধা সম্ভ্রম নাম পাবার মত কিছু করলে, তাকে স্বীকৃতি দিতে কেমন একটা বাধে। তবে আজও তো; ‘গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না’ আমাদের কাছে।

দমদম জয়পুর রোডের বাসিন্দা, বছর বিয়াল্লিশের গৃহবধূ রিমা নন্দী দত্ত। আর পাঁচটা বাঙালী মধ্যবিত্ত বাড়ির গৃহবধূ যেমন হয় আরকি। স্বামী সংসার মেয়ে নিয়ে মধ্যবিত্ত জীবন যাপন। ঠিক আমার আপনার মতোই। হঠাৎই সেই রিমার জীবনে নেমে এল, মর্মান্তিক বিপর্যয়। ২০২১ এর মার্চে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন রিমা; সেরেও যান। তারপরেই ২১ এর এপ্রিলে, কোভিড ধরা পড়লে; স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন রিমা। করোনা সারিয়ে বাড়িও ফেরেন তিনি। বাড়ি ফেরার দিন দুয়েক পর থেকেই; তাঁর পা ফুলতে শুরু করে। সঙ্গে অসহ্য জ্বালা-যন্ত্রণা। স্ত্রীর দুই পায়ে রক্তের ছোপ পড়তে দেখে; চমকে যান স্বামী বিশ্বরূপ দত্ত।

কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। শেষে এক চিকিৎসকের পরামর্শে, মে মাসে পিজিতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দুদিনের মাথায় ফের করোনা ধরা পড়ায়; শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে পাঠানো হয় রিমাকে। এদিকে করোনা সারলেও, করোনা পরবর্তী সিম্পটম হিসেবে; রিমার দুটি পায়ের ধমনী ও শিরায় রক্ত জমাট বাঁধছিল। ১০ দিন পরে করোনা নেগেটিভ হয়ে ফের পিজিতে ফিরলেও; দেখা যায় তাঁর দুটি পা পুরো কালো। শল্য বিভাগে পরীক্ষায় দেখা যায়; পায়ে পচন ধরেছে। করোনার সাইটোকাইন সাইড এফেক্টের কারণে; শিরা ও ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধছে; বিরল এক রোগ।

বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক রাজেশ প্রামাণিক ও শল্যচিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার অনেক চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেননি। অবশ্য তাঁদের কিছুই করার ছিলও না। করোনা-পরবর্তী সমস্যা হিসেবে রিমার দুটি পায়ের ধমনি ও শিরায় রক্ত জমাট বেঁধেছিল। তাতেই বিপত্তি হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে রিমার দুটি পা, কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া; অন্য কোন উপায় ছিল না ডাক্তারদের কাছে।

শল্য চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারের কথায়; “প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান ছিল। অবিলম্বে পা বাদ না দিলে; প্রাণ সংশয় হতে পারে বুঝে অস্ত্রোপচার করি। এমন বড় ভাবে ধমনী ও শিরাতে রক্ত জমাট বাঁধা বিরল; পোস্ট-কোভিডে দুটি পা একসঙ্গে বাদ দেওয়ার ঘটনাও বিশ্বে বিরল”।

প্রাণে বাঁচলেও, দুটি পা বাদ যাওয়ার ধাক্কা ছিল সাংঘাতিক; শারীরিকভাবে তো বটেই; মানসিক শক্তি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল রিমার। গত বছরের জুনের প্রথমে, অস্ত্রোপচারের পরের দিন আচ্ছন্ন ভাব কাটতেই; চাদর সরিয়ে নিজের অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন রিমা। চোখের সামনে নেমে এসেছিল একরাশ অন্ধকার; চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলেন রিমা। দাদা শঙ্কর নন্দী বোনের গালে চড় মেরে বলেছিলেন; “তোকে বাঁচতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে”। কিন্তু বোন যে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াবে, তা তখন ভাবেননি দাদা।

পিজির শল্য বিভাগে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই; পিজির ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিএমআর) বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুটি পা হারানোর পরেও; রিমা কিন্ত হার মানেননি। হার মানেননি পিজির শল্য চিকিৎসকরা। রোগীকে পা ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল, চিকিৎসকদের একমাত্র লক্ষ্য। রিমা একটু সুস্থ হতেই, শুরু হয়; বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। ধীরে ধীরে নিজে থেকে উঠে বসা, হুইলচেয়ারে ওঠার মতো বিভিন্ন কাজে আবার সাবলম্বী হতেই; অস্থায়ী কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেখা হয়, তিনি কতটা নিতে পারছেন। দেশীয় কৃত্রিম পায়ের ওজন অনেকটা বেশি; তাই বিদেশি প্রযুক্তির পা, যেটির ওজন কম এবং কার্যকারিতা অনেক বেশি; সেটি লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়। সরকারি হাসপাতালে প্রায় বিনামূল্যে; এই কাজ করা হয়।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর জার্মানি থেকে কৃত্রিম পা এনে লাগানো হয়; কলকাতার গৃহবধূর দুই হাঁটুর নিচে। বহু প্রশিক্ষণের পর নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ান রিমা। যে হাসপাতালে তার দুই পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল; সেই হাসপাতালেই আবার ‘নিজের পায়ে’ দাঁড়ালেন রিমা নন্দী দত্ত।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর জার্মানি থেকে ভারত সরকারের খরচে নিয়ে আসা; কৃত্রিম পা লাগানো হয় রিমার দুই হাঁটুর নিচে। রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের উদ্যোগ ছিল দেখার মত। তবে কৃত্রিম পা লাগালেই হল না; অসহ্য কষ্ট যন্ত্রণা উপেক্ষা করে; নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা অসম্ভব কঠিন এক কাজ। তবে তাতেও দমেননি রিমা। কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে, হাঁটাচলার প্রশিক্ষণের মধ্যেই তিনি বলেন; “হোক না কৃত্রিম পা। আমি আবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি, হাঁটছি। ইচ্ছে করছে, মেয়ের কাছে ছুটে যাই”।

রিমার চোখেমুখে ছিটকে পড়া আশার আলো দেখে; পরিজন থেকে চিকিৎসক, সবাই বলছেন, “এই দিনটারই তো অপেক্ষা ছিল”। সূত্রের খবর, খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু নিজের পা ফিরে পাওয়ার কাছে; সেটা কিছুই নয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আর কয়েকদিনের প্রশিক্ষণ শেষে; কোন অবলম্বন ছাড়াই হাঁটবেন রিমা। বৃদ্ধা শাশুড়ি, সাত বছরের মেয়ে, দেওরকে নিয়ে সংসার রিমার। সেই সংসারে আবার খুশির ছোঁয়া, ফেরত এসেছে হাসি। রিমার জীবন যুদ্ধে যেন পরতে পরতে লেখা,‘হাল ছেড়ো না বন্ধু’।

মনের জোর, অব্যক্ত যন্ত্রণা সহ্য করার, মানসিক অস্থিরতা জয় করার অসীম ক্ষমতা দিয়েই; রিমা জিতেছেন। বিয়াল্লিশ বছরের গৃহবধূ হেসেছেন শেষ হাসি; নিয়তির কাছে সমর্পণ করেননি নিজেকে।

]]>
এসএসকেএমে মেজাজ হারালেন মমতা, বিজেপির উত্থানেই কি বিপর্যস্ত https://thenewsbangla.com/mamata-banerjee-lost-her-temper-at-sskm-hospital-upset-in-the-rise-of-bjp/ Thu, 13 Jun 2019 08:51:09 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=13733 ভয় দেখিয়ে ও পুলিশ দিয়ে; ডাক্তারদের আন্দোলন তুলতে মরিয়া মমতা। ভোটের সময় বা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই; মেজাজ হারাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। ফের বৃহস্পতিবার এসএসকেএমে মেজাজ হারালেন মমতা; বিজেপির উত্থানেই কি বিপর্যস্ত তিনি? উঠে গেল প্রশ্ন।

মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ এসএসকেএম চত্বরে। মমতা বললেন, “আন্দোলনকারী সব ডাক্তার বহিরাগত”। তারপরেই গলায় আই-কার্ড ঝুলিয়ে; মুখ্যমন্ত্রীর “ওরা কেউ জুনিয়র ডাক্তার নয়, আউটসাইডার”; মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মুহুর্মুহু স্লোগান উঠছে, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস”।

এইমুহূর্তে এসএসকেএমে পৌঁছে গিয়েছেন; জয়েন্ট সিপি ক্রাইম প্রবীণ ত্রিপাঠি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। মাইকিং করে জুনিয়র ডাক্তারদের; কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন পুলিশ কর্তারা। কিন্তু হাতে আই-কার্ড নিয়ে; গলায় আই-কার্ড ঝুলিয়ে পাল্টা প্রতিবাদে সামিল জুনিয়র ডাক্তাররা।

কোনওভাবেই এলাকা খালি করতে; রাজি নন বিক্ষোভকারীরা। তুমুল উত্তেজনা সমগ্র চত্বর জুড়ে। গোটা এলাকা দড়ি দিয়ে বেঁধে কর্ডন করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা; আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে ইমারজেন্সি বিভাগে ঢুকেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ এসএসকেএম হাসপাতালে; পাল্টা হস্টেল খালি করার নির্দেশ মমতার। এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালে। ৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তারদের আন্দোলন তুলে; কাজে যোগ দেবার নির্দেশ দিলেন মমতা। এরপরেই মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।

এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে এদিন মমতা; বেশ কিছু কড়া স্টেপ নেওয়ার কথা বলেন। কর্মবিরতি চলাকালিন কোন রোগী মৃত্যু হলে; তার তদন্ত হবে বলে জানান মমতা। কাজে যোগ না দিলে এসমা জারি করে; কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এসএসকেএম-এ দাঁড়িয়ে রাজ্যের সমস্ত জায়গায় কর্মবিরতি তুলে; ৪ ঘণ্টার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। হুঁশিয়ারি দেন; “৪ ঘণ্টার মধ্যে যাঁরা কাজে যোগ দেবেন না; তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব। সরকার তাঁদের আর কোনও সাহায্য করবে না”।

আর মমতার শাসানির পরেই প্রশ্ন উঠে যায়; কেন মেজাজ হারাচ্ছেন মমতা? বিজেপির উত্থানেই কি বিপর্যস্ত মুখ্যমন্ত্রী? ৪২ এ ৪২ এর দাবি তোলা তৃণমূল নেত্রী শেষ পর্যন্ত পান মাত্র ২২টি লোকসভা আসন। তার জেরেই কি এই বিপত্তি? রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহল অন্তত তেমনই ভাবছে।

]]>
মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ এসএসকেএমে, ডাক্তারদের হস্টেল খালি করার নির্দেশ https://thenewsbangla.com/chief-minister-mamata-banerjee-faces-protests-by-doctors-at-sskm-hospital/ Thu, 13 Jun 2019 07:38:04 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=13722 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিক্ষোভ এসএসকেএম হাসপাতালে; পাল্টা হস্টেল খালি করার নির্দেশ মমতার। এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন এসএসকেএম হাসপাতালে। ৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাক্তারদের আন্দোলন তুলে; কাজে যোগ দেবার নির্দেশ দিলেন মমতা। এরপরেই মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।

এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে এদিন মমতা; বেশ কিছু কড়া স্টেপ নেওয়ার কথা বলেন। কর্মবিরতি চলাকালিন কোন রোগী মৃত্যু হলে; তার তদন্ত হবে বলে জানিয়ে দেন মমতা। কাজে যোগ না দিলে এসমা জারি করে; কড়া পদক্ষেপ জারি কড়া হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী।

জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি তুলতে; এদিন আসরে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালে কর্মবিরতি ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয় এসএসকেএম-এ। রোগীর পরিবারের আত্মীয়রা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে; মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এরপরই বেলা ১২টা ২০ নাগাদ এসএসকেএম-এ পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এনআরএস কাণ্ডে ৫ জনকে গ্রেফতারের পরেও; ধর্মঘট কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ায় জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশে তোপ দাগেন তিনি। বলেন; “৪ দিন ধরে রোগী পড়ে আছে; কয়েকজন মিলে তাণ্ডব চালাচ্ছে। আমার মন্ত্রী গিয়েছেন; পুলিস কমিশনার গিয়েছেন। যাঁরা নাটক করছে; তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যাবস্থা নেব”।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি; “যাঁরা আন্দোলন করছেন; তাঁরা কেউ জুনিয়র ডাক্তার নয়; তাঁরা আউটসাইডার। বিজেপি-সিপিআইএম উসকানি দিচ্ছে। শুধু হিন্দু-মুসলমান করা হচ্ছে”। হাসপাতালে রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এসএসকেএম-এ দাঁড়িয়ে রাজ্যের সমস্ত জায়গায় কর্মবিরতি তুলে; ৪ ঘণ্টার মধ্যে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। হুঁশিয়ারি দেন; “৪ ঘণ্টার মধ্যে যাঁরা কাজে যোগ দেবেন না; তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেব। সরকার তাঁদের আর কোনও সাহায্য করবে না”।

ডাক্তারদের তোপ দেগে মমতা বলেন; “২৫ লাখ টাকা দিয়ে পড়াব, তারপর বন্ড দিয়ে পালিয়ে যাবে”? কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি এসএসকেএম এ দাঁড়িয়ে জুনিয়ার ডাক্তারদের হস্টেল খালি করারও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এসমা জারি করে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার হুমকি দেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা হাসপাতালে পৌঁছতেই; মমতা হায় হায় স্লোগান দেন রোগীর আত্মীয়রা। মমতার শাসানিতে ক্ষুব্ধ হন ডাক্তাররাও। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে চরম হুঁশিয়ারি শুনে; অবাক হয়ে যায় রাজনৈতিক মহলও। মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের শাসানিতে রীতিমত ক্ষুব্ধ ডাক্তারদের সংগঠনগুলি।

]]>
দুই বাংলার মতুয়ারা মাতৃহারা হলেন https://thenewsbangla.com/matua-community-head-boroma-binapani-devi-died-at-sskm-hospital/ Tue, 05 Mar 2019 16:18:19 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7598 দুই বাংলার মতুয়ারা মাতৃহারা হলেন। ভারত ও বাংলাদেশের একেশ্বরবাদী মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবী মঙ্গলবার রাতে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার রাতে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধীরে ধীরে বিকল হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কার কথা শুনিয়েছিলেন ডাক্তাররা। মঙ্গলবার রাতে প্রয়াত হলেন বড়মা। দুই বাংলার মতুয়া সমাজে শোকের ছায়া।

বীণাপাণি দেবী ভর্তি ছিলেন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে। গত কিছুদিন থেকেই ফুসফুসে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন ১০১ বছর বয়সী বড়মা। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় রবিবার তাঁকে কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তাঁর চিকিৎসায় গঠিত হয় মেডিক্যাল বোর্ড। চিকিৎসকরা সর্বক্ষণ তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছিলেন। কিন্তু সব আশা ব্যর্থ করে চলে গেলেন বড়মা। গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মতুয়া হিন্দুধর্মীয় একটি লোকসম্প্রদায়। গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দি নিবাসী হরিচাঁদ ঠাকুর প্রেমভক্তিরূপ সাধনধারাকে প্রচার করার জন্য যে সহজ সাধনপদ্ধতি প্রবর্তন করেন, তাকে বলা হয় ‘মতুয়াবাদ’। এই মতবাদের অনুসারীরাই ‘মতুয়া’ নামে পরিচিত। মতুয়া সম্প্রদায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। তারা বৈদিক ক্রিয়া-কর্মে আস্থাশীল নয়। তাদের ভজন-সাধনের মাধ্যম হচ্ছে নাম সংকীর্তন। তাদের বিশ্বাস ভক্তিতেই মুক্তি। এই সাধনপদ্ধতির মাধ্যমে সত্যদর্শন অর্থাৎ ঈশ্বরলাভই তাদের মূল লক্ষ্য।

গতবছরেই ঠাকুরনগর ঠাকুর বাড়িতে মতুয়াদের বড়মা বীণাপাণি দেবীর জন্ম শতবর্ষ উদযাপন করে তৃণমূল কংগ্রেস। মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান উপদেষ্টা বীণাপানি দেবীকে বঙ্গবিভুষণ সম্মানে সম্মানিত করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রয়াণে মাথার ওপর ছাদ হারালেন রাজ্যের অসংখ্য মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

বড়মার জন্ম বরিশালের জব্দকাঠিতে। ১৯৩৩ সালে বিয়ে হয় ফরিদপুরের ওড়াকান্দির প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের সঙ্গে। মতুয়া মহাসংঘের প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুরের বংশধর প্রমথরঞ্জন ঠাকুর। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে মতুয়ার নানা কাজের সঙ্গে যু্ক্ত হয়ে পড়েন বীণাপাণি ঠাকুর। স্বাধীনতার লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন প্রমথরঞ্জন ঠাকুর। দেশ স্বাধীনের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন বীণাপাণি দেবীও।

১৯৪৭-এ দেশ স্বাধীন হয়। সেই সঙ্গে হল দেশভাগও। বড় ছেলে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর ও পরিবারের সকলকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে এলেন বীণাপাণি দেবী। চব্বিশ পরগনায় উদ্বাস্তু কলোনি গড়ে তুললেন। নাম হল ঠাকুরনগর। এখান থেকেই ক্রমে ছড়াতে থাকে মতুয়াদের মহাসঙ্ঘের কাজকর্ম।

১৯৯০ সালে স্বামী প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের মৃত্যুর পর মতুয়া মহাসংঘের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন বীণাপাণি ঠাকুর। হয়ে ওঠেন মতুয়াদের বড়মা। মতুয়াদের মাথার উপর ছাদ হয়ে দাঁড়ান তিনি। নানা বিপদে তিনিই হয়ে ওঠেন আশ্রয়, ভরসা। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। কিন্তু বয়স বাড়ছিল। ক্রমে বার্ধক্যজনিত সমস্যাও বাড়ছিল।

বড় ছেলে কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরকেই বেছে নিলেন তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে। ছোট ছেলে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর। ২০১৪ তে মারা যান কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর। বড় ছেলের পরিবার যখন তৃণমূলে, তখন ছোটছেলে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। রাজনীতিতে এসেছেন মমতাবালা ঠাকুর। বেড়েছে দুই ঘরের দূরত্ব। দুই রাজনীতির মানুষের মধ্যে ভাগ হয়ে গেলেন বড়মা। তবুও বড়মা ছিলেন সবার।

২০১৮র দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে জন্মশতবর্ষ পালন করা হল বীণাপাণি ঠাকুরের। ২০১৮-র ১৫ নভেম্বর, তাঁকে বিশেষ বঙ্গবিভূষণ সম্মান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে এই রাজ্যে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দেখা করলেন বড়মার সঙ্গে।

শতবর্ষ পালন করা বীণাপাণি দেবীর শারীরিক অবস্থার ক্রমে অবনতি হতে থাকল। বাড়ছিল শ্বাসকষ্ট। ফু্সফুসে জল। হাসপাতালে ভরতি করা হল বড়মাকে। সারা জীবন লড়াই করে যাওয়া বড়মা লড়লেন। কিন্তু এবারের লড়াইয়ে হার স্বীকার করতে হল। মাথার উপর ছাদ হারাল কয়েক হাজার মতুয়া সদস্য। তিনি ছিলেন মতুয়াদের বড়মা। শুধু এপাড় বাংলা নয়, তাঁর মৃত্যুতে আজ চোখের জল ফেলছে ওপাড় বাংলাও।

]]>