Kolkata – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 10 Oct 2022 08:14:36 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Kolkata – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 বাংলার মিডিয়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ দেখায়, মোমিনপুর, একবালপুর দেখাতে পারে না https://thenewsbangla.com/bengal-media-silent-in-mominpur-ekbalpur-metiabruz-incidents-at-kolkata/ Mon, 10 Oct 2022 03:24:57 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=16921 কি হচ্ছে দফায় দফায় গত দুদিন ধরে মোমিনপুরে? কি হয়েছে রবিবার একবালপুর থানাতে? কি চলছে দুদিন মোমিনপুরে? কোন মিডিয়ায় কোন খবর নেই। পুলিশ প্রশাসনের কোন খবর নেই। যেন কিছুই হয়নি। ঠিক কি হচ্ছে এই দুটি এলাকায়? স্থানীয় বাসিন্দারা কি বলছেন? কি হল লক্ষ্মীপুজোর রাতে, এই বাংলায়? বাংলার মিডিয়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ দেখায়, মোমিনপুর, মেটিয়াবুরুজ দেখাতে পারে না। কি আশ্চর্য, তাই না?

মোমিনপুর, একবালপুর থানায় চলল, একটি বিশেষ ধর্মের মানুষের তাণ্ডব। ভাঙা হল হিন্দুদের গাড়ির দোকান। ভাঙা হল দুর্গা পুজো শেষ হয়ে যাবার পরে, রয়ে যাওয়া প্যান্ডেলের বাঁশের কাঠামো। শনিবারের হামলার পরে, রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে ফের চলল তাণ্ডব। বাংলার কোন মিডিয়া, সে খবর দেখায়নি। এই তিন এলাকায় কোন রিপোর্টার পাঠাবার সাহস দেখায়নি, বাংলার কোন মিডিয়া। ইউক্রেনে প্রতিনিধি পাঠাতে পারলেও, অফিসের কাছে ঢিল ছোঁড়া দুরত্বে কোন প্রতিনিধি পাঠাবার সাহস কেউ দেখায়নি।

আরও পড়ুনঃ অক্টোবর ১০, লক্ষ্মী পুজোর দিন শুরু হয়েছিল নোয়াখালীর ‘হিন্দু নি’ধন’ যজ্ঞ

মোমিনপুর এলাকায়, একবালপুর থানায় তাণ্ডবের ঘটনায়, ব্যবস্থা নিতে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজ্যের রাজ্যপালকে অনুরোধ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, সৈয়দ ইশতিয়াক আলম টুইট করে জানাচ্ছেন, এইসব হামলার পিছনে কারা আছে, এই নামগুলো নিয়ে তদন্ত করুক কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন।

বাংলার মিডিয়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ দেখায়, মোমিনপুর, মেটিয়াবুরুজ দেখাতে পারে না
বাংলার মিডিয়া রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ দেখায়, মোমিনপুর, মেটিয়াবুরুজ দেখাতে পারে না

সৈয়দ ইশতিয়াক আলম নিজের টুইটে অভিযোগ করেছেন, ১। গোলাম আশরফ, Phoenix Group এর মালিক ২। রেহান খান, তৃণমূল কাউন্সিলর সামস ইকবালের জামাই ও ৩। শাহবাজ আলম, ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ, এই তিনজন এই পরিকল্পনার তাণ্ডবে জড়িত। তিনি নিজের অভিযোগ টুইটে জানিয়ে ট্যাগ করেছেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে।

কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে, আদৌ কোন তদন্ত হবে কি? নাকি মোমিনপুর এলাকায়, একবালপুর থানায়, এইভাবেই ছিটেফোঁটা টিকে থাকা হিন্দুদের বারবার ভয় দেখানো হবে? তাদের উপর তাণ্ডব হবে বারবার? লক্ষ্মীপুজোর সময় কি নোয়াখালীর ঘটনা আর একবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হল হিন্দুদের? এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

]]>
করোনার পর এবার নিতে হবে ডেঙ্গির ভ্যাকসিন, আপনি তৈরি তো https://thenewsbangla.com/dengue-vaccine-trail-by-icmr-niced-arrange-dengue-vaccine-trial-in-kolkata/ Fri, 16 Sep 2022 07:07:25 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=16835 করোনার পর এবার নিতে হবে ডেঙ্গির ভ্যাকসিন, আপনি তৈরি তো। চিন্তা উদ্বেগের মাঝেই এবার আশার আলো, শুরু হচ্ছে ডেঙ্গি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল। কলকাতাতেও এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে, যার ব্যবস্থা করবে নাইসেড কর্তৃপক্ষ। কলকাতায় মোট ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে, প্রথমে ২৫০ জনকে দেওয়া হবে পরীক্ষামূলক ডেঙ্গি ভ্যাকসিন।

খুব শীঘ্রই দেশের ২০টি প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে হবে, ডেঙ্গি ভ্যাকসিনের এই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল। কলকাতায় যার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ব্যবস্থা করবে নাইসেড। সূত্রের খবর, ডেঙ্গি ভ্যাকসিনের, এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলবে টানা ২ বছর ধরে।

আরও পড়ুনঃ কচুরিপানা, কাশফুল থেকে কেটলি, বাংলার যুবকদের নতুন ব্যবসার সন্ধান দিলেন মমতা

উদ্বেগ বাড়িয়ে, রাজ্য জুড়ে ও কলকাতায় পুজোর মুখে বাড়ছে, ‘ডেঙ্গি ৩’ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে আশার খবর হল এই যে, শীঘ্রই দেশ জুড়ে ডেঙ্গি ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে। সূত্রের খবর, ২ ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে, ডেঙ্গি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করবে আইসিএমআর (ICMR)। সারা দেশে ২০টি প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর, হবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ।

কলকাতাতেও এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের ব্যবস্থা করবে নাইসেড কর্তৃপক্ষ। মোট ৫০০জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে, ২৫০জনকে দেওয়া হবে ডেঙ্গি ভ্যাকসিন। নাইসেডের অধিকর্তা শান্তা দত্ত বলেছেন, “৫০০ জনের মধ্যে ২৫০ জন ডেঙ্গি ভ্যাকসিন পাবেন। বাকি ২৫০ জনকে, দেওয়া হবে প্ল্যাসিবো। যে স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নেবেন, তাঁদের ডেঙ্গি অ্যান্টিবডি আছে কি না দেখে নেওয়া হবে”।

]]>
কলকাতা বন্দরে ২০০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করল গুজরাত পুলিশ https://thenewsbangla.com/gujarat-police-dri-recovered-huge-drugs-worth-200-crore-from-kolkata-port/ Sat, 10 Sep 2022 05:54:10 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=16749 কলকাতা বন্দরে ২০০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করল গুজরাত পুলিশ। ২০০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার কলকাতা বন্দরে! গুজরাত পুলিশের এটিএসের অভিযানে বড়সড় সাফল্য। গুজরাত পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা বা এটিএস এবং ডিরেক্টোরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স, কলকাতা বন্দরে যৌথ অভিযান চালায়। কলকাতা বন্দর থেকে উদ্ধার করা হয়, প্রায় ২০০ কোটি টাকার হেরোইন।

কলকাতা বন্দরে একটি যন্ত্রাংশের কন্টেনারের মধ্যে পাওয়া যায় এই বিপুল অর্থমূল্যের মাদক। বন্দরে বাতিল জিনিসপত্রের একটি কন্টেনার থেকে, প্রায় ৪০ কিলোগ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়, বলে সূত্ৰর খবর। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুবাই থেকে এই মাদক আমদানি করা হয়েছিল, বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ গরু চুরিতে অভিযুক্ত অনুব্রতকে ‘বীর’ বলে স্বীকৃতি মুখ্যমন্ত্রী মমতার, এটা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নয়

গুজরাত পুলিশের ATS এবং ভারত সরকারের DRI, কলকাতায় একটি বড় অভিযান চালিয়ে, এই ২০০ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছে। গুজরাত এটিএসের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবর্জনার ভেতর থেকে একটি কন্টেনারে ৪০ কেজি নেশার দ্রব্য পাওয়া গিয়েছে, যার বাজার মূল্য ২০০ কোটি টাকা বলে গুজরাত এটিএস সূত্রে জানানো হয়েছে।

গুজরাত পুলিশের ডিজিপি আশিস ভাটিয়া জানান, “চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুবাই থেকে আসে, এই বিপুল পরিমানের মাদক”। গোপন সূত্রে সে খবর পান গুজরাত পুলিশের তদন্তকারী অফিসাররা। মাদক পাচার রুখতে নেওয়া হয় পদক্ষেপ, তার ফলেই উদ্ধার হয়েছে এই বিশাল পরিমাণ মাদক দ্রব্য।

]]>
দুর্গাপুজোর ‘ইউনেস্কো স্বীকৃতি’, কৃতিত্ব তপতী গুহ ঠাকুরতা না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের https://thenewsbangla.com/durga-pujo-unesco-recognition-tapati-guha-thakurta-behind-this-honor-not-mamata-banerjee/ Wed, 24 Aug 2022 06:03:41 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=16369 দুর্গাপুজোর ‘ইউনেস্কো স্বীকৃতি’, তপতীর কৃতিত্ব চু’রি গেল সংস্কৃতির বাংলায়। দুর্গাপুজোর ‘ইউনেস্কো স্বীকৃতি’, এর পিছনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন ভূমিকাই নেই। দুর্গাপুজোর ‘ইউনেস্কো স্বীকৃতি’র পিছনে রাজ্য সরকার বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোন ভুমিকাই নেই। রাজনীতিতে এটিকে বলে, অন্যের কৃতিত্ব নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া। এর পিছনে যিনি আছেন, তাঁর নাম তপতী গুহ ঠাকুরতা। কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘ইউনেস্কো স্বীকৃতি’ পাওয়ায় পুরো কৃতিত্ব, গবেষক তপতী গুহ ঠাকুরতার। অথচ পুরো কৃতিত্ব নিয়ে যাচ্ছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই জানিয়েছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক সুদীপ্ত সেনগুপ্ত।

কি জানিয়েছেন সাংবাদিক সুদীপ্ত সেনগুপ্ত? জানিয়েছেন, ইউনেস্কোর সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ করেন গবেষক তপতী গুহ ঠাকুরতা। ইউনেস্কোর ফর্ম-ফিলাপ থেকে দুর্গাপুজোর ভিডিও পাঠানো, মেল পাঠিয়ে সব জানানো, সবটাই করেছেন কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিস ইন সোশ্যাল সায়েন্সের ডাইরেক্টর-প্রফেসর তপতী গুহ ঠাকুরতা। তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রফেসরও ছিলেন। ২০০৩ সাল থেকে তিনি দুর্গা পুজো নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।

২০১৮-১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য সংস্কৃতি মন্ত্রক থেকে, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে। সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমি থেকে সামান্য গ্রান্ট নিয়ে তিনি এই গবেষণা শুরু করেন। এরপর তিনি ইউনেস্কোর একটি ফর্ম ফিলাপ করেন। ২০টি ছবি ও ১টি ভিডিও দিয়ে তিনি, ইউনেস্কোর ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন। তারপরেই, আবহমান অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগে স্বীকৃতি পায়, কলকাতার দুর্গা পুজো। যার পিছনে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তপতী গুহ ঠাকুরতার। হ্যাঁ, রেড রোডে কার্নিভ্যালের আয়োজন করার কৃতিত্ব অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের।

]]>
কলকাতা জানতেই পারেনি, তার ‘পাগল প্রেমিক’ ছেড়ে চলে গেল চিরবিদায়ে https://thenewsbangla.com/p-t-nair-kolkata-researcher-historian-leave-kolkata-to-kerala-in-november-2018/ Wed, 22 Jun 2022 14:51:26 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15658 কলকাতা জানতেই পারেনি, তার ‘পাগল প্রেমিক’ ছেড়ে চলে গেল চিরবিদায়ে। নভেম্বর ২০১৮, বাংলা তখন ব্যস্ত শোভন বৈশাখীর মুখরোচক প্রেমের রসাল খবরে। আর তার মাঝেই এক বৃহস্পতিবার; প্রেমের শহর কলকাতা ছেড়েছিলেন এক সত্যিকারের কলকাতা প্রেমিক। না, কলকাতা আজও তার খোঁজ রাখে না। তবে তাঁর স্মৃতি ছড়িয়ে আছে; গোটা শহরটার আনাচে-কানাচে। কলকাতা কি তার ভালবাসার মানুষদের ভোলে?

পি টি নায়ার, পুরো নাম পরমেশ্বরণ থঙ্কপ্পন নায়ার; এখন বয়েস প্রায় ৯০ এর ঘরে। ১৯৫৫ সালে বাইশ বছর বয়সে চাকরির খোঁজে; মাদ্রাজ মেলে কেরালা থেকে কলকাতা এসেছিলেন বিনা টিকিটে। পকেটে মাত্র কুড়ি টাকা, সঙ্গে ছিল ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট আর শর্টহ্যান্ড ও টাইপিংএর সামান্য জ্ঞান। কলকাতাকে আপন করে নেওয়া প্রেমিকের কিন্তু; তখন এ শহরে কোনও আপনজন ছিল না।

চাকরি পেলেন ১২৫ টাকা মাইনের টাইপিস্টের। ট্রামে চেপে আর পায়ে হেঁটে ঘুরতে ভালবাসেন; তাই শহরটার গলিঘুঁজিও চেনা শুরু হল। চাকরিসূত্রে মাঝে কয়েক বছরের জন্য শিলঙে থাকতে হয়েছিল; সেই ফাঁকে গ্র্যাজুয়েশনটা করে নেন। ফিরে এসে ভবানীপুরের ৮২/সি কাঁসারিপাড়া রোডের ফ্ল্যাটে, সেই যে থিতু হলেন; আর নড়েন নি। দেশ ভুলে আপন করলেন কলকাতাকেই। ১৯৫৫ থেকে ২০১৮, জীবনের ৬৩টা বছর কাটিয়ে দিলেন; শুধু কলকাতাকে ভালবেসেই। কলকাতার ইতিহাস লিখবেন; এমন ভাবনা স্বপ্নেও ছিল না।

লেখালিখির শখ ছিল; নানা কাগজে লেখা পাঠাতেন, ছাপাও হত। পুরনো, নজর-কাড়া বাড়ি দেখলেই চেষ্টা করতেন; তার সম্বন্ধে জানতে। সাংবাদিকতার চাকরিও করলেন কিছু দিন। লেখার রসদ পেতেই যাওয়া শুরু হল জাতীয় গ্রন্থাগারে; তাঁর ভবানীপুরের বাসা থেকে হেঁটে মাত্র দশ মিনিট। জাতীয় গ্রন্থাগারে কলকাতার ইতিহাসের নানা দিক নিয়ে অজস্র বই, নথিপত্র। ঘাঁটতে ঘাঁটতে নায়ারের মনে হল, এত বই লেখা হয়েছে শহরটা নিয়ে; কিন্তু অনেক তথ্যই তো সে সবে নেই। কলকাতার ইতিহাস তেমন খুঁটিয়ে বিশেষ কেউ দেখেন নি।

সমসাময়িক পত্রপত্রিকা, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাগজপত্র; কলকাতায় আসা দেশি বিদেশি অতিথিদের লিখে রাখা বৃত্তান্ত; পুরসভার নথি, এশিয়াটিক সোসাইটির নথি, কত কী ভাল করে দেখার আছে। তা ছাড়া শহরের রাস্তায় রাস্তায় হাঁটলেই নানা প্রশ্ন জাগে; সে সবের উত্তরই বা কোথায়? নায়ার ঠিক করে ফেললেন, কলকাতাই হবে; তাঁর বাকি জীবনের ধ্যানজ্ঞান। তত দিনে বিয়ে করেছেন, ছেলেমেয়ে হয়েছে। স্ত্রী স্কুলে পড়িয়ে সংসার চালান; ছেলেমেয়ে মানুষ করেন। নায়ার একবেলা খান, সারা দিন পড়ে থাকেন গ্রন্থাগারে আর নানা নথিখানায়; বুকে শুধুই কলকাতা।

সংবাদপত্র থেকে দরকারি খবর কেটে রাখেন সযত্নে। নিয়মিত ঢুঁ মারেন ওয়েলিংটন বা কলেজ স্ট্রিটের পুরনো বইয়ের দোকানে। তারাও নতুন কিছু পেলে, এই কলকাতা পাগলের জন্য রেখে দিত। টুকরো টুকরো করে জড়ো করেন কলকাতার ইতিহাসের খুঁটিনাটি সূত্র। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে মেলামেশায় একদমই আগ্রহী নন; একেবারে কলকাতাচর্চায় নিবেদিত প্রাণ।

তারপর? কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে লিখেছেন; ‘আ হিস্টরি অব ক্যালকাটাজ় স্ট্রিটস’। আর পুরসভার ইতিহাস, এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে তিনটি বিশাল খণ্ডে সম্পাদনা করেছেন; সোসাইটির উনিশ শতকের প্রথমার্ধের ‘প্রসিডিংস’ আর দু’খণ্ডে ‘ক্যালকাটা টারসেন্টিনারি বিবলিয়োগ্রাফি’। সঙ্কলন করেছেন নানা জনের লেখায় সতেরো-আঠারো-উনিশ শতকের কলকাতার বিবরণ; কলকাতার নামের উৎস, সংবাদপত্র, পুলিশ, হাইকোর্ট, দক্ষিণ ভারতীয় গোষ্ঠী, জাতীয় গ্রন্থাগারের ইতিবৃত্ত, জেমস প্রিন্সেপ আর বিএস কেশবনের জীবনী, এমনকি জব চার্নককে নিয়ে দুর্লভ লেখাগুলি।

তাঁর ঝুলিতে তখন ছিল ৬২টি বই; কয়েকটি বাদে সবই কলকাতা সংক্রান্ত। কলকাতায় গান্ধীজিকে নিয়ে ৬৩ সংখ্যক বইটি প্রকাশিত হবার মুখে ছিল। কেউ জানে না, এখন কি অবস্থায় আছে এই বইটি। এত বিপুল পরিমাণ কাজের নিরিখে কলকাতা-গবেষক হিসেবে; সম্মান, সমালোচনা দুই-ই জুটেছে তাঁর। বহিরাগত তকমা, তখনও ছিল!

সমালোচনার মূল কথা, নায়ার বাংলা পড়তে পারেন না; ফলে কলকাতার ইতিহাসের দিশি উপকরণ তিনি আদৌ দেখেননি। এই কারণে তাঁর বিশ্লেষণে প্রচুর ত্রুটি থেকে গিয়েছে। নায়ার নিজে মনে করেন, বাংলা না-জানায় তাঁর কোনও সমস্যা হয়নি; ইংরেজি থেকেই তিনি পর্যাপ্ত উপকরণ পেয়েছেন। তবে তাঁর কাছে ‘তথ্য-সংগ্রাহক’ অভিধাটিই যথেষ্ট; এর বেশি কিছু তাঁর প্রত্যাশা নেই।

২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল, বয়সে পঁচাশি বছর পূর্ণ করেন পি টি নায়ার। কলকাতায় শেষ দিন পর্যন্ত গেছেন, জাতীয় গ্রন্থাগারে। আঠারো বছর আগেই দেশে ফিরে যাওয়া মনস্থ করেছিলেন; কিন্তু সাধের শহরটা ছাড়তে পারেননি। অদ্ভুত ভালবেসে ফেলেছিলেন শহরটাকে। ১৯৫৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এসে; কলকাতাকে ধীরে ধীরে আপন করে নিয়েছিলেন। কলকাতা নিয়ে গবেষণা করতে করতে ৬৩ বছর কলকাতায় কাটিয়ে; ৬৩ খানি গ্রন্থের লেখক তখন। বিশ্ববন্দিত এই কলকাতা গবেষক ৬৩ বছর কলকাতায় কাটিয়ে; বৃহস্পতিবার ২২ নভেম্বর ২০১৮, কলকাতা ছেড়ে চিরদিনের মত চলে গেছেন কেরালার চন্দমঙ্গলমে, নিজের বাড়িতে।

তার অমূল্য গ্রন্থ সংগ্রহ (প্রায় ছ হাজার) দিয়ে; কলকাতা টাউন হলে তৈরি হবার কথা ছিল বিশেষ একটি লাইব্রেরি। তবে টাউন হলে সংস্কার এর কাজ শুরু হওয়ায়; সেই সব বই তখন বস্তাবন্দী ছিল। যে সংগ্রহ ভবিষ্যতে যারা রিসার্চ করবেন; তাদের সম্পদ হবে। তবে সেসব কি অবস্থায় আছে; এখন আর কেউ জানে না। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় দিয়েছিল; সাম্মানিক ডিলিট।

স্ত্রী সীতাদেবী এসেছিলেন কলকাতা-পাগল স্বামীকে নিজের রাজ্যে, নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। বিদায় সৌজন্য জানিয়ে যান এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত চক্রবর্তী। এশিয়াটিক রিসার্চ প্রফেসর হিসাবে কাজ করেছেন অনেক বছর। চেনাশোনা কয়েকজন এসেছিলেন বিদায় জানাতে; বাকি কলকাতা কিছুই জানল না।

জিগ্যেস করা হয়েছিল, দেশে ফিরে কি করে সময় কাটাবেন? বললেন ‘নারকেল বাগানে, সেখানে ৭ একর জমিতে আছে সারি সারি নারকেল গাছ’। বিদায় নায়ার ভালো থাকবেন; না খুব একটা কেউ বলতে আসেনি। কলকাতার নিরানব্বই ভাগ মানুষ হয়ত জানতেই পারেনি; কে চলে গেছে তিলোত্তমা ছেড়ে। প্রেমের শহরের অন্যতম সেরা প্রেমিক; চিরবিদায় জানিয়ে চলে গেছে শহর ছেড়ে। গুগল খুঁজে পাওয়া গেল না, কেমন আছেন তিনি। এখনও কি কলকাতা নিয়ে ভাবেন?

]]>
আপনার পাশের বাড়ির রিমার হার না মানা লড়াই, সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে https://thenewsbangla.com/girl-next-door-a-fighter-rima-nandi-dutta-fights-without-giving-up/ Mon, 09 May 2022 07:35:39 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15020 আপনার পাশের বাড়ির রিমাদির হার না মানা লড়াই; সবাইকে উদ্বুদ্ধ করবে। কিছু ঘটনা তেমন ভাবে প্রচার পায় না, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় না। কারণ তারা যে আপনার আমার পাশের বাড়ির মেয়ে। বাড়ির পাশের মেয়ে শ্রদ্ধা সম্ভ্রম নাম পাবার মত কিছু করলে, তাকে স্বীকৃতি দিতে কেমন একটা বাধে। তবে আজও তো; ‘গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না’ আমাদের কাছে।

দমদম জয়পুর রোডের বাসিন্দা, বছর বিয়াল্লিশের গৃহবধূ রিমা নন্দী দত্ত। আর পাঁচটা বাঙালী মধ্যবিত্ত বাড়ির গৃহবধূ যেমন হয় আরকি। স্বামী সংসার মেয়ে নিয়ে মধ্যবিত্ত জীবন যাপন। ঠিক আমার আপনার মতোই। হঠাৎই সেই রিমার জীবনে নেমে এল, মর্মান্তিক বিপর্যয়। ২০২১ এর মার্চে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন রিমা; সেরেও যান। তারপরেই ২১ এর এপ্রিলে, কোভিড ধরা পড়লে; স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন রিমা। করোনা সারিয়ে বাড়িও ফেরেন তিনি। বাড়ি ফেরার দিন দুয়েক পর থেকেই; তাঁর পা ফুলতে শুরু করে। সঙ্গে অসহ্য জ্বালা-যন্ত্রণা। স্ত্রীর দুই পায়ে রক্তের ছোপ পড়তে দেখে; চমকে যান স্বামী বিশ্বরূপ দত্ত।

কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। শেষে এক চিকিৎসকের পরামর্শে, মে মাসে পিজিতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু দুদিনের মাথায় ফের করোনা ধরা পড়ায়; শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে পাঠানো হয় রিমাকে। এদিকে করোনা সারলেও, করোনা পরবর্তী সিম্পটম হিসেবে; রিমার দুটি পায়ের ধমনী ও শিরায় রক্ত জমাট বাঁধছিল। ১০ দিন পরে করোনা নেগেটিভ হয়ে ফের পিজিতে ফিরলেও; দেখা যায় তাঁর দুটি পা পুরো কালো। শল্য বিভাগে পরীক্ষায় দেখা যায়; পায়ে পচন ধরেছে। করোনার সাইটোকাইন সাইড এফেক্টের কারণে; শিরা ও ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধছে; বিরল এক রোগ।

বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক রাজেশ প্রামাণিক ও শল্যচিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকার অনেক চেষ্টা করেও কিছু করতে পারেননি। অবশ্য তাঁদের কিছুই করার ছিলও না। করোনা-পরবর্তী সমস্যা হিসেবে রিমার দুটি পায়ের ধমনি ও শিরায় রক্ত জমাট বেঁধেছিল। তাতেই বিপত্তি হয়েছিল। প্রাণ বাঁচাতে রিমার দুটি পা, কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া; অন্য কোন উপায় ছিল না ডাক্তারদের কাছে।

শল্য চিকিৎসক দীপ্তেন্দ্র সরকারের কথায়; “প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান ছিল। অবিলম্বে পা বাদ না দিলে; প্রাণ সংশয় হতে পারে বুঝে অস্ত্রোপচার করি। এমন বড় ভাবে ধমনী ও শিরাতে রক্ত জমাট বাঁধা বিরল; পোস্ট-কোভিডে দুটি পা একসঙ্গে বাদ দেওয়ার ঘটনাও বিশ্বে বিরল”।

প্রাণে বাঁচলেও, দুটি পা বাদ যাওয়ার ধাক্কা ছিল সাংঘাতিক; শারীরিকভাবে তো বটেই; মানসিক শক্তি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল রিমার। গত বছরের জুনের প্রথমে, অস্ত্রোপচারের পরের দিন আচ্ছন্ন ভাব কাটতেই; চাদর সরিয়ে নিজের অবস্থা দেখে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন রিমা। চোখের সামনে নেমে এসেছিল একরাশ অন্ধকার; চিৎকার করে কেঁদে উঠেছিলেন রিমা। দাদা শঙ্কর নন্দী বোনের গালে চড় মেরে বলেছিলেন; “তোকে বাঁচতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে”। কিন্তু বোন যে আবার নিজের পায়ে দাঁড়াবে, তা তখন ভাবেননি দাদা।

পিজির শল্য বিভাগে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই; পিজির ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিএমআর) বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দুটি পা হারানোর পরেও; রিমা কিন্ত হার মানেননি। হার মানেননি পিজির শল্য চিকিৎসকরা। রোগীকে পা ফিরিয়ে দেওয়াই ছিল, চিকিৎসকদের একমাত্র লক্ষ্য। রিমা একটু সুস্থ হতেই, শুরু হয়; বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। ধীরে ধীরে নিজে থেকে উঠে বসা, হুইলচেয়ারে ওঠার মতো বিভিন্ন কাজে আবার সাবলম্বী হতেই; অস্থায়ী কৃত্রিম পা লাগিয়ে দেখা হয়, তিনি কতটা নিতে পারছেন। দেশীয় কৃত্রিম পায়ের ওজন অনেকটা বেশি; তাই বিদেশি প্রযুক্তির পা, যেটির ওজন কম এবং কার্যকারিতা অনেক বেশি; সেটি লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়। সরকারি হাসপাতালে প্রায় বিনামূল্যে; এই কাজ করা হয়।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর জার্মানি থেকে কৃত্রিম পা এনে লাগানো হয়; কলকাতার গৃহবধূর দুই হাঁটুর নিচে। বহু প্রশিক্ষণের পর নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ান রিমা। যে হাসপাতালে তার দুই পা কেটে বাদ দিতে হয়েছিল; সেই হাসপাতালেই আবার ‘নিজের পায়ে’ দাঁড়ালেন রিমা নন্দী দত্ত।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর জার্মানি থেকে ভারত সরকারের খরচে নিয়ে আসা; কৃত্রিম পা লাগানো হয় রিমার দুই হাঁটুর নিচে। রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের উদ্যোগ ছিল দেখার মত। তবে কৃত্রিম পা লাগালেই হল না; অসহ্য কষ্ট যন্ত্রণা উপেক্ষা করে; নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা অসম্ভব কঠিন এক কাজ। তবে তাতেও দমেননি রিমা। কৃত্রিম পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে, হাঁটাচলার প্রশিক্ষণের মধ্যেই তিনি বলেন; “হোক না কৃত্রিম পা। আমি আবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি, হাঁটছি। ইচ্ছে করছে, মেয়ের কাছে ছুটে যাই”।

রিমার চোখেমুখে ছিটকে পড়া আশার আলো দেখে; পরিজন থেকে চিকিৎসক, সবাই বলছেন, “এই দিনটারই তো অপেক্ষা ছিল”। সূত্রের খবর, খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু নিজের পা ফিরে পাওয়ার কাছে; সেটা কিছুই নয়। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, আর কয়েকদিনের প্রশিক্ষণ শেষে; কোন অবলম্বন ছাড়াই হাঁটবেন রিমা। বৃদ্ধা শাশুড়ি, সাত বছরের মেয়ে, দেওরকে নিয়ে সংসার রিমার। সেই সংসারে আবার খুশির ছোঁয়া, ফেরত এসেছে হাসি। রিমার জীবন যুদ্ধে যেন পরতে পরতে লেখা,‘হাল ছেড়ো না বন্ধু’।

মনের জোর, অব্যক্ত যন্ত্রণা সহ্য করার, মানসিক অস্থিরতা জয় করার অসীম ক্ষমতা দিয়েই; রিমা জিতেছেন। বিয়াল্লিশ বছরের গৃহবধূ হেসেছেন শেষ হাসি; নিয়তির কাছে সমর্পণ করেননি নিজেকে।

]]>
চলে গেলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রী রুমা গুহঠাকুরতা https://thenewsbangla.com/kishore-kumar-first-wife-ruma-guha-thakurta-passes-away-in-kolkata/ Mon, 03 Jun 2019 05:57:48 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=13473 প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী তথা অভিনেত্রী রুমা গুহঠাকুরতা। সোমবার সকালে ঘুমের মধ্যেই নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় শিল্পীর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। রয়ে গেল গান নিয়ে অসংখ্য স্মৃতি।

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন রুমা গুহঠাকুরতা। সোমবার ভোর ৬.১৫-তে ৩৮ বালিগঞ্জ প্লেসে তাঁর নিজের বাড়িতে ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর মানসিক সুস্থতা কামনা করে পোস্টকার্ড পাঠানোর ভাবনা বিজেপির

দিন কয়েক আগেই তিনি কলকাতায় ফেরেন; তাঁর আগে প্রায় মাসতিনেক তিনি ছেলে অমিত কুমারের মুম্বাই এর বাড়িতে ছিলেন। মুম্বাই এর বাড়িটি কিশোর কুমারের; যেখানেই অমিত কুমার থাকেন।

১৯৫২ শালে কিশোর কুমারের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর; অমিত কুমার তাঁদের একমাত্র ছেলে। শোনা যায় রুমা গুহঠাকুরতা কেরিয়ার ছাড়তে রাজি না হওয়ায় বিচ্ছেদ হয় তাঁদের। পরে রুমাদেবী বিয়ে করেন অরূপ গুহঠাকুরতাকে৷ তাঁদের ছেলে অয়ন; মেয়ে শ্রমণা৷ নামী সঙ্গীতশিল্পী।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় বিজেপিকে ঠেকাতে নবান্নে মমতার সমন্বয় বৈঠক, ডাক সব নেতাকেই

১৯৩৪ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন রুমা গুহঠাকুরতা। মা সতী দেবী ছিলেন সেই যুগের বিখ্যাত গায়িকা। সতী দেবী; আলমোড়ায় উদয় শংকর কালচার সেন্টারের মিউজিক এন্সম্বলের সদস্য ছিলেন ও পরে মুম্বাইয়ে পৃথ্বী থিয়েটারে মিউজিক পরিচালক হন।

সতী দেবী ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা সংগীত পরিচালক। তাই রুমা গুহঠাকুরতার ছেলেবেলা কেটেছে আলমোড়া ও মুম্বইয়ে। তিনি ১৯৫৮ সালে ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যার প্রতিষ্ঠা করেন। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত অভিযান (১৯৬২) ও গণশত্রু (১৯৮৮)তে রুমা দেবী অভিনয় করেছেন। এছাড়াও বালিকা বধূ; অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি; অমৃত কুম্ভের সন্ধানের মতো একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে এই শিল্পীকে।

এ দিনই ছেলে অমিত আসার পর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে রুমা গুহঠাকুরতার। তাঁর জীবন পর্ব ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; তৎকালীন বাংলা ছবিতে রুমাদেবীর অভিনয় ও গানে পাগল ছিলেন যুবকরা; আশিতে আসিও না; পলাতক; দাদার কীর্তির মতো একাধিক সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন; গেয়েছেন অসংখ্য গান।

]]>
মিন্টো পার্কে কম্পিউটার শিক্ষকদের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ পুলিশের https://thenewsbangla.com/lathi-charge-on-computer-teachers-in-central-kolkata/ Tue, 02 Apr 2019 11:24:21 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9771 রণক্ষেত্র মিন্টো পার্ক এলাকা। মিন্টো পার্কে কম্পিউটার শিক্ষকদের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ পুলিশের। মঙ্গলবার দুপুরে মিন্টো পার্ক এলাকায় কম্পিউটার শিক্ষকদের উপর বেধড়ক লাঠি চার্জ করে পুলিশ। শিক্ষকদের সুত্রে জানা যায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যে মাসিক বেতন তাদের পাওয়ার কথা তা তাদের দেওয়া হচ্ছে না। সেই বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও যান, তবে কোন সুরাহা হয়নি।

স্কুল সার্ভিস নিয়ে পড়ুনঃ ভোরবেলায় লাঠিচার্জ করে মাদ্রাসা সার্ভিস উত্তীর্ণদের মেরে ওঠাল পুলিশ

মঙ্গলবার দুপুরে তারই প্রতিবাদে মিন্টো পার্কে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিল বহু শিক্ষক। তখনই তাদের উপর লাঠি চালানো হয় বলেই অভিযোগ। একদল মানুষ এসে তাদের উপর লাঠি চার্জ করতে থাকে। পুলিশের পোশাক পরে ছিল না এই দল। তারা এসেই, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে লাঠি চার্জ করতে থাকে। এমনটাই অভিযোগ জানান কম্পিউটার শিক্ষকরা। প্রায় ৫০জন শিক্ষক আহত হন এই ঘটনায়।

স্কুল সার্ভিস নিয়ে পড়ুনঃ বাংলা এখন লাশের রাজনীতিতে অভ্যস্থ, শুধু একটা লাশ চাই আমাদের

মহিলারা কম্পিউটার শিক্ষকরাও রেহাই পাননি পুলিশের হাত থেকে। নির্বিচারে লাঠি চালাতে থাকে পুলিশ, ক্যামেরায় ধরা পরে এই দৃশ্য। কয়েকদিন আগেই এই পুলিশের বিরুদ্ধেই মাদ্রাসা শিক্ষকদের উপর নির্বিচারে লাঠি চালানোর অভিযোগ ওঠে। ভোরবেলায় নমাজ চলাকালিন বেধড়ক লাঠি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

স্কুল সার্ভিস নিয়ে পড়ুনঃ মমতার কথাতেও ওঠেনি অনশন, পুলিশি অত্যাচারের মুখে স্কুল সার্ভিস অনশনকারীরা

ফের সেই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আবার লাঠি চালানোর অভিযোগ উঠল। লাঠি চালানোর সময় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা মিন্টো পার্ক এলাকা। ভয়ে পালাতে থাকেন সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য পথচারিরাও। বেধড়ক লাঠি পড়তে থাকে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের উপর। রাস্তার মধ্যেই লুটিয়ে প্রেন অনেকে। আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

স্কুল সার্ভিস নিয়ে পড়ুনঃ এসএসসি চাকরির আন্দোলন বন্ধের নির্দেশ, জোর করে তুলে দেবার হুমকি পুলিশের

আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন মহিলা শিক্ষক। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি বেসরকারি কম্পিউটার কোম্পানির বিরুদ্ধে মাইনে না দেবার অভিযোগে রাস্তা অবরোধ করা হয়। কিন্তু পুলিশ কেন বেসরকারি কম্পিউটার কোম্পানির হয়ে লাঠি নিয়ে কম্পিউটার শিক্ষকদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল তাই বুঝতে পারছেন না কম্পিউটার শিক্ষকরা।

স্কুল সার্ভিস নিয়ে পড়ুনঃ খোলা রাস্তায় বসে মমতার ঘেরাটোপ অনশনের রেকর্ড ভাঙল স্কুল সার্ভিস উত্তীর্ণরা

তবে পুলিশের তরফ থেকে জানান হয়েছে কেউ আহত হয়নি। রাস্তায় অবরোধ করায় রাস্তার ধারে সরিয়ে দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের। তবে পুলিশের সাফাই মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীদের। এই মুহূর্তে আন্দোলনকারী আহত কম্পিউটার শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রী পার্থবাবুর বাড়ি যাচ্ছেন এই নিয়ে অভিযোগ জানাতে।

স্কুল সার্ভিস নিয়ে পড়ুনঃ যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারাই শুনবে স্কুল সার্ভিস কেলেঙ্কারির ঘটনা

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
শপিং মলের গ্রাসে শতাব্দী প্রাচীন মিত্রা সিনেমা হল https://thenewsbangla.com/century-old-famous-mitra-cinema-hall-in-north-kolkata-closes-down/ Tue, 02 Apr 2019 10:57:11 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9695 বন্ধ হয়ে গেল কলকাতার বিখ্যাত ‘মিত্রা সিনেমা’ হল। ৮৮ বছর পুরোনো এই প্রেক্ষাগৃহ খরচ চালাতে না পেরে বন্ধ হচ্ছে, এমনটাই জানিয়েছেন মিত্রা সিনেমার কর্ণধর দিপেন্দ্র কৃষ্ণ মিত্র। এর ফলে অবসান হল স্বর্ণ যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

১৯৩১ সালে তৈরি হয়েছিল এই সিনেমা হল। তখন তার নাম ছিল ‘চিত্রা’। স্বাধীনতার পর, ১৯৬৩ সালে যখন জমিদার হেমন্তকৃষ্ণ মিত্র এই হলের মালিকানা কেনেন, তখন থেকেই নাম পালটে রাখা হয় মিত্রা। তারপর থেকেই পথ চলা শুরু হয় এই হলের। সেই মিত্রাই বন্ধ হয়ে গেল রবিবার। শনিবার এই হলে শেষ বারের মত সিনেমা চলেছে। অক্ষয় কুমারের ‘কেশরি’ ছিল মিত্রা সিনেমা হলে দেখানো শেষ ছবি।

আরও পড়ুনঃ ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আবেদন জানালেন দেশের ২০০ জন লেখক

উত্তর কলকাতার হাতিবাগান অঞ্চলে অবস্থিত মিত্রা সিনেমা হল সাক্ষী থেকেছে কলকাতার পরিবর্তনের। কলকাতার সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই সিনেমা হলের নাম। সত্যজিৎ রায় থেকে তপন সিনহা, বিখ্যাত পরিচালকদের সিনেমা দেখানো হতো মিত্রায়, তাই বহু মানুষ ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছে এই হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায়।

আরও পড়ুনঃ ধর্ম ও সংস্কৃতি বিরোধী, চরমপন্থী সংগঠনের প্রতিবাদে ভেস্তে গেল জামিয়ার ফ্যাশন শো

মিত্রা সিনেমা হলের বর্তমান মালিক দিপেন্দ্র কৃষ্ণ মিত্র জানান, “বর্তমান যুগে মানুষ সিনেমা দেখতে যায় মাল্টিপ্লেক্সে, তাই আমরা যারা সিঙ্গেল স্ক্রিনের মালিক, তারা লাভের মুখ দেখতে পাইনা। কিছু সময় আমরা হল চালানোর খরচও তুলতে পারিনা। তাই, এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি”। তিনি সোমবার এও বলেন যে হলের কর্মচারীরা তার সন্তানতুল্য তাই তাদের সঙ্গে কথা বলেই হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ কেরালায় রাহুলের প্রার্থী হওয়া নিয়ে বাম কংগ্রেস বাকবিতন্ডা তুঙ্গে

মাল্টিপ্লেক্সের জামানায় সিঙ্গেল স্ক্রীনগুলো আসতে আসতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিগত দুবছরে বন্ধ হয়ে গেছে শহরের কিছু বিখ্যাত সিনেমা হল, সেই তালিকায় এবার নাম জুড়ল মিত্রার। মিত্রার আগেই বন্ধ হয়েছে মেট্রো, চ্যাপলিন, এলিট, মালঞ্চ সহ বহু হল। এই হল ভেঙ্গে তৈরি হবে শপিং মল এমনটাই জানা গেছে বিশেষ সুত্রে।

আরও পড়ুনঃ হুমকি দিয়ে ভোট চাইবার ভিডিও প্রকাশ্যে, মিমির হয়ে শাসানি পঞ্চায়েত প্রধানের

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
খেলতে গিয়ে মাঠেই সানস্ট্রোকে মারা গেল ক্রিকেটার সৌরভ https://thenewsbangla.com/kolkata-based-cricketer-sonu-yadav-dies-in-sun-stroke/ Wed, 20 Mar 2019 10:52:38 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=8882 ফের শহরের বুকে হল ক্রিকেটারের অপমৃত্যু। বুধবার সকালে সৌরভ যাদব নামক এক পড়ুয়ার মৃত্যু ঘটেছে। একবাল্পুরের বাসিন্দা সৌরভের বয়েস ছিল ২২ বছর। খিদিরপুর কলেজের তৃতীয় বর্ষের সৌরভ বা সনু, বালিগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবে ক্রিকেট খেলত বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ময়দানে।

বুধবার সকালে ক্লাবের প্রস্তুতি প্র্যাকটিসের সময় অসুস্থ হয়ে পরে সৌরভ যাকে তার বন্ধুরা ডাকত সনু বলে। তার বন্ধুদের থেকে জানা যায়, সৌরভ খেলার সময় আউট হয়ে যখন মাঠের ধারে হেঁটে আসছিল, তখনই হঠাৎ পরে যায় সে। বন্ধুরা তাকে কি হয়েছে জিজ্ঞেস করায়, সে হেসে বলে “ঠিক আছি”।

জানা যায়, এই কথা বলার পর মাথার হেলমেটটা খুলতেই মাটিতে লুটিয়ে পরে সৌরভ। ক্লাব সদস্যরা তাকে তখন নিয়ে যায় এসএসকেএম হাসপাতালে, যেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

সৌরভ বালিগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট টিমের ব্যাটসম্যান এবং উইকেট কিপার ছিল। সৌরভ যাদবের বন্ধুরা তার মৃত্যুর জন্য, ক্লাব কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে বলে, “কোন ফার্স্ট এডের ব্যাবস্থা বা আম্বুলেন্স না থাকায় সৌরভ প্রাণ হারিয়েছে”।

এই বছর জানুয়ারি তে,পাইকপাড়া ক্লাবের অনিকেত শর্মার মৃত্যু হয়েছিল ঠিক একই ভাবে। সেইদিনও মাঠে কোন আম্বুলেন্স বা চিকিৎসা ব্যাবস্থা ছিল না। তাকে পাইকপাড়া থেকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর, চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে।

ক্রিকেট মাঠে কেন আম্বুলেন্স থাকছে না, সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠে গেছে বিতর্ক। বারবার একই ঘটনায় মৃত্যু হচ্ছে বাংলার উঠতি ক্রিকেটারদের। তবুও কোন কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে কোন নজর দিচ্ছে না। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন ক্রিকেত ক্লাব।

]]>