West Bengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 08 Aug 2022 14:34:10 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg West Bengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 বাংলায় আওয়াজ উঠে গেল, ‘এই গরু চোর’, ‘এই চাকরি চোর’ https://thenewsbangla.com/west-bengal-people-voice-went-up-cow-thief-job-thief-tmc-leaders-in-problem/ Mon, 08 Aug 2022 14:15:38 +0000 https://thenewsbangla.com/?p=15944 বাংলায় আওয়াজ উঠে গেল; ‘এই গরু চোর’, ‘এই চাকরি চোর’। ২০২১ মে, সবে একবছর বয়স হয়েছে; ২১১ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসা একটা দলের সরকারের। এক-বছরের মধ্যে সেই দলটার দোর্দণ্ডপ্রতাপ দুই নেতাকে; এই বাংলার মানুষই চিৎকার করে ডাকছে, ‘এই গরু চোর’, ‘এই চাকরি চোর’। অবিশ্বাস্য, ভাবা যায়!?

বাংলার মানুষকে, ভোটারদের যারা ‘গাধা’ ভাবেন; তারা এখনও শুধরে যান। এসএসকেএম হাসপাতালে কিছু সাধারণ মানুষ আজ চিৎকার করে বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রিয় নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে রীতিমতো আওয়াজ দিল, “এই গরু চোর”। দুদিন আগেই আলিপুর জেলে, কিছুদিন আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মন্ত্রী থাকা পার্থ চট্টোপাধ্যায়-কে; আওয়াজ দিয়েছে “এই চাকরি চোর” বলে।

দুদিন আগেই জোকা ইএসআই হাসপাতালে, বাংলার এক সাধারণ নারী, জুতো ছুঁড়ে মেরেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়-কে। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি; মহিলার বাড়িতেও তৃণমূলের হা’মলা হয়নি। ওই মহিলা, ভাণ্ডার ও ভাতা পান বলেই জানা গেছে। অর্থাৎ ভাণ্ডার-ভাতা দিয়ে, আর বাংলার মানুষের মুখ বন্ধ করা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ পাঁচ বছরে উনিশজন তৃণমূল নেতার অস্বাভাবিক সম্পত্তি বৃদ্ধি, ইডিকে পার্টি করল হাইকোর্ট

২০০৬ সালে ২৩৫ আসন পাবার পরে, রাইটার্সে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিরোধীদের ব্যঙ্গ করে সাংবাদিকদের বলেছিলেন; “আমরা ২৩৫, ওরা শুধু ৩৫”। ২০১১ সালে মানুষ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল; সিপিএম সহ বামেদের। আর ২০১৬তে ২১১ আসন দিয়ে ক্ষমতায় আনা তৃণমূলের দুই বড় নেতাকে, প্রকাশ্যে ‘চোর’ বলছে বাংলার মানুষ।

বাংলার আমজনতা-কে ‘Taken For Granted’ করে ডুবেছিল বামেরা। সেই এক জিনিস করল তৃণমূল। ভাণ্ডার আর ভাতায় মানুষকে ভিক্ষা দিয়ে যারা ভেবেছিল, যত খুশি দুর্নীতি করা যাবে; আজ তাদের আওয়াজ দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। ‘চোর-চোর’ বলে। বাংলার মানুষের ধৈর্য বেশি, তাঁরা যাদের নির্বাচন করেন, তাদের সময় দিতে পছন্দ করেন। তাই বাম ৩৪ বছর, তৃণমূল ১৫ বছর। কিন্তু জল মাথার উপর উঠলে, কিভাবে ‘খাল কেটে’ জল-জঞ্জাল সাফ করতে হয়, সেটাও তাঁরা বিলক্ষণ জানেন।

আওয়াজ কিন্তু উঠে গেছে; ‘এই গরু চোর’, ‘এই চাকরি চোর’। অপেক্ষা করুন, দুদিন বাদেই আরও শুনতে পাবেন, ‘এই কয়লা চোর’, ‘এই বালি চোর’……
(সম্পাদকীয় লিখলেন, মানব গুহ)

]]>
সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাইভেট টিউশানি বন্ধে কড়া রাজ্য https://thenewsbangla.com/private-tuition-banned-strict-order-on-private-tuition-for-govt-school-teachers-govt-aided-schools-teachers/ Tue, 28 Jun 2022 07:41:30 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15725 সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের; প্রাইভেট টিউশানি বন্ধে কড়া রাজ্য। অবশেষে নড়েচড়ে বসল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। রাজ্যের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা; যাতে কোনওভাবেই প্রাইভেট টিউশানি করতে না পারেন; তার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল স্কুল শিক্ষা দফতর। সোমবার রাতেই এই বিজ্ঞপ্তি; জারি হয়েছে।

শিক্ষার অধিকার আইন অনুসারে, স্কুলের শিক্ষকরা কোনরকমেই; গৃহ শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। সবার জন্য শিক্ষা ২০০৯ আইন অনুযায়ী; কোনও স্কুল শিক্ষক, মাদ্রাসা শিক্ষক নিজেকে টিউশনে যুক্ত করতে পারবেন না। শিক্ষকরা যাতে প্রাইভেট টিউশন না করেন; তার জন্য আগেও নির্দেশিকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এবার রাজ্যে প্রতিটি জেলায় নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে, সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়; মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনওভাবেই টিউশন করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন; রাজ্যপালের কাছে তৃণমূল প্রতিনিধি দল, ‘আবদার’ শুনে হতবাক ধনকড়

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি-তে স্পষ্ট-ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের সব সরকারি স্কুল, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল, মডেল স্কুল এবং এনআইজিএসগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকারা; এবার থেকে আর কোনওভাবেই প্রাইভেট টিউশান করতে পারবেন না। নিয়ম না মানলে, তার চাকরিও কেড়ে নিতে পারবে; স্কুল শিক্ষা দফতর। আটকে দেওয়া হতে পারে; মাইনে পেনশানও। এই নির্দেশ যাতে অক্ষরে-অক্ষরে মানা হয়, তার জন্য রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে; সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন; হিন্দুদের দেবদেবী নিয়ে দিনের পর দিন ক’টূক্তি, গ্রেফতার মহম্মদ জুবেইর, প্রতিবাদ শুরু

রাজ্যের সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের; প্রাইভেট টিউশানির রোগ বহুদিনের। তা নিয়ে গৃহশিক্ষকদের ক্ষোভও দীর্ঘদিনের। বাম জমানাতেই আইন করে সরকারি স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের; প্রাইভেট টিউশানি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু তারপরেও দেখা যায়, ওই সব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা; বেশ চুটিয়ে প্রাইভেট টিউশানি করছেন। কেউ নিজের বাড়িতে, কেউবা ভাড়া বাড়িতে; অনেকে আবার কোন কোচিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গিয়েছেন।

সম্প্রতি গৃহশিক্ষকদের একটি সংগঠন, স্কুল শিক্ষা দফতরে প্রমাণ সহ; ৬১ জন সরকারি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়; যারা নিয়ম ভেঙে প্রাইভেট টিউশানি করছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরেই, নড়েচড়ে বসেছে; রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর। তার জেরেই সোমবার রাতে; ওই নোটিস দেওয়া হয়েছে।

]]>
বাংলার বাঘের ছেলে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ভূমিকার কথা জানুন ও জানান https://thenewsbangla.com/shyamaprasad-mukherjee-most-important-role-of-the-creation-of-west-bengal-out-of-pakistan/ Thu, 23 Jun 2022 05:08:08 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15675 বাংলার বাঘের ছেলে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের; পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ভূমিকার কথা জানুন। ২৩শে জুন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মহাপ্রয়াণের দিন। অসংখ্য অজানা সত্য ঘটনা রয়েছে; পশ্চিমবঙ্গের ‘ত্রাতা’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে। জেনে নিন, পশ্চিমবঙ্গ তৈরির কথা ও বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জন্মদাতার ভুমিকার কথা। আপনারা সেই সত্য ইতিহাস জানুন ও জানান।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বাবা ‘বাংলার বাঘ’; যিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যও বটে; স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সুযোগ্য পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। স্বাধীনতার আগেই পূর্ব বঙ্গপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী; স্বাধীনতার পর নেহেরু সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মন্ত্রী। একসময় সামলেছেন; কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদও। পরবর্তীতে তৈরি করেন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনসঙ্ঘ। যা আজ ভারতীয় জনতা পার্টিতে রূপান্তরিত হয়ে; বর্তমানে ভারতের শাসক দল। এহেন বর্ণময় যার জীবন; তাঁর পশ্চিমবঙ্গের রূপায়ণে ভূমিকার কথা আমরা বাংলার কটা মানুষ মনে রেখেছি?

একটু শুরু থেকে শুরু করা যাক। ১৯৩৫ এর ভারত শাসন আইন অনুযায়ী; বাংলাকে স্বতন্ত্র প্রদেশের মর্যাদা দেওয়া হয়। স্বাধীনতা পূর্বে মু’সলিম লীগ সবসময় চেয়ে এসেছিল; বাংলা যাতে ভাগ না হয়। এবং বাংলার পুরোভাগই যাতে; ধ’র্মের ভিত্তিতে গঠিত হওয়া দেশ পা’কিস্তানের অন্তর্গত হয়। তার সমস্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল মুসলিম লীগ। কারণ স্বাধীনতার প্রাক মুহূর্তে; পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের আলাদা বিভাজন ছিল না।

স্বতন্ত্র প্রদেশ হবার দরুন এবং সামগ্রিকভাবে অখন্ড বাংলায় মু’সলিম অ’ধ্যুষিত হবার কারনে; সমগ্র বাংলার পা’কিস্তানে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানায় মু’সলিম লীগ। কিন্তু অখন্ড বাংলার পশ্চিমাংশ ছিল হি’ন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। মু’সলিম লীগের দাবির মুখে বাংলার পশ্চিমাংশের জনগনের ত্রাতার ভূমিকায়; অবতীর্ণ হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বাংলার পশ্চিমাংশের এই সংকটের সময়ই; পশ্চিমবাংলার রক্ষাকারী হিসেবে আবির্ভাব হল তাঁর।

প্রথমে ভারত ভাগের প্রবল বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও; পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বুঝতে পারেন, মু’সলিম লীগের দেশভাগের মরিয়া নীতি এবং ধ’র্মের উ’স্কানির সামনে ভারত ভাগ এক অনিবার্য পরিণতি হতে চলেছে। তখনই তিনি ঠিক একই দাবি নিয়ে; বাংলা ভাগের দাবি তুলে পশ্চিমভাগকে ছি’নিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর হন। ১৯০৫ সালে প্রথম বাংলা ভাগের সময়; ব্রিটিশরা প্রশাসনিক কারণ দেখিয়েছিল পরবর্তীতে মূলত পশ্চিমভাগের চাপে ১৯১১ তে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কিন্তু দ্বিজাতি তত্বের ওপর ভিত্তি করে; ভারত ভাগের সময় বাংলার বিভাজনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছিল।

আরও পড়ুন; কলকাতা জানতেই পারেনি, তার ‘পাগল প্রেমিক’ ছেড়ে চলে গেল চিরবিদায়ে

সেই সময় বঙ্গ প্রদেশের মু’সলিম লীগ নেতা; হোসেন সুরাবর্দী স্বাধীন বাংলার দাবি তুললেন। যা ভারত কিংবা পা’কিস্তান কারোর সাথেই যাবেনা। সুরাবর্দী জানতেন যে বাংলা ভাগ হলে; অর্থনৈতিক ভাবে পূর্ব ভাগের ক্ষতি। কারণ কয়লা খনি, পাটকল, শিল্প প্রভৃতির বেশির ভাগটাই পশ্চিমভাগে পড়ছে। তারপর তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে বড় শহর, বন্দর ও বাণিজ্য নগরী কলকাতাও হাতছাড়া হতে চলেছে। কিন্তু মুশকিল হলো, তার এই নীতি তার দলের নীতির বিরদ্ধে যাচ্ছিল।

প্রথম দিকে বর্ধমানের মু’সলিম লীগ নেতা আবুল কাশিম; তাকে সমর্থন করে। কিন্তু অন্য দুই নেতা নুরুল আমিন ও আক্রম খান এর বিরোধিতায় সরব হলো। অবাক করে মহম্মদ আলি জিন্নাহ ব্যপারটির গুরুত্ব বুঝে; তাকে নীরবে সমর্থন দিলেন। শুরু হল লড়াই। কংগ্রেস নেতৃত্ব তৎক্ষনাৎ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করল। গুটিকয়েক নেতা এর সমর্থন করলেন; যার মধ্যে ছিলেন নেতাজির দাদা শরৎ বোস ও কিরণ শংকর রায়। পন্ডিত নেহেরু এনং সর্দার প্যাটেল; এরকম দাবি উড়িয়ে দিলেন।

প্রবল বিরোধিতা শুরু করলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি বোঝালেন এটা মু’সলিম লিগের চাল। মর্যাদাপূর্ণ কলকাতা হাতছাড়া হওয়া ও পশ্চিমভাগের দখল হারানোর ভয়ে; মু’সলিম লীগ তথা জিন্না সুরাবর্দীকে ঢাল করে এই চাল চেলেছেন। স্বাধীন বঙ্গ আসলে পা’কিস্তানের প্রভাবেই চলবে। তাদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি আরও বললেন, তিনি আলাদা পশ্চিমবঙ্গ চান; যা জিন্নার তথা পা’কিস্তানের প্রভাব থেকে সর্বৈব মুক্ত হবে।

পা’কিস্তানের হাত থেকে বাংলার পশ্চিম অংশকে রক্ষা করতে; তিনি মরিয়া হয়ে উঠলেন। এই দাবির ভিত্তিতে বাংলার বিধানসভায়; ৩টি পৃথক ভোট সংগঠিত হয়েছিল। কি কি সেশন; কারা ভোট দিয়েছিল; কি কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; সেই তিনটি ভোট থেকে? দেখুন একনজরে।

১) জয়েন্ট সেশন; এখানে সমস্ত সদস্যদের ভোটে ১২৬-৯০ ব্যবধানে ভারতীয় কন্সটিটুয়েন্ট এসেম্বলিতে যোগদানের বিপক্ষে রায় দেওয়া হল।
২) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যদের সেশন; এখানে ১০৬-৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেওয়া হল। এবং পরিবর্তে পাকিস্তানের কনস্টিটুয়েন্ট এসেম্বলিতে যোগদানের পক্ষে মত দেওয়া হল।
৩) অমুসলিম এলাকার সদস্যদের সেশন; এখানে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে রায় গেল। মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান অনুযায়ী; বাংলা ভাগের পক্ষে যেকোন সেশনের একটির সিঙ্গেল মেজরিটি ভোটের ফলস্বরূপ; বাংলা ভাগের পক্ষে সায় দেওয়া হল।

বাউন্ডারি কমিশনের প্রধান স্যার রাডক্লিফের তত্বাবধানে; শুরু হল বঙ্গ বিভাজনের তোড়জোড়। ঠিক হল, ১৪ ও ১৫ ই আগস্ট যথাক্রমে পা’কিস্তান ও ভারতকে স্বাধীনতা হস্তান্তর করা হবে; ১৯৪৭ এর ভারত স্বাধীন আইন অনুসারে।

জিন্নার ডাইরেক্ট একশন ডে, দা’ঙ্গা’র রাজনীতি এবং ধ’র্মীয় বি’ভাজনকা’মী এ’জেন্ডা দেখে; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন; বাংলার সংখ্যাল’ঘু অমু’সলিমরা ধ’র্মীয় কারণে বিভক্ত পা’কিস্তানে সুরক্ষিত নয়। তাই পশ্চিমবঙ্গের দাবি থেকে তিনি সরেন নি। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে; তিনি নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছিলেন; পশ্চিমবঙ্গের প্রাণপুরুষ হিসেবে।

সম্পাদকীয় লিখলেনঃ অভিরূপ চক্রবর্তী (লেখা ও তথ্য সম্পূর্ণ লেখকের)

]]>
“লাখখানেকের মধ্যে ৫০-১০০টা ভুল হতেই পারে”, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে সাফাই মুখ্যমন্ত্রীর https://thenewsbangla.com/teacher-recruitment-scam-50-100-cases-out-of-lakhs-jobs-wrong-said-mamata-banerjee/ Mon, 20 Jun 2022 14:04:34 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15562 “লাখ খানেকের মধ্যে ৫০-১০০টা ভুল হতেই পারে”; শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে এবার সাফাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে; একের পর এক মামলা চলছে কলকাতা হাইকোর্টে। ইতিমধ্যেই তার জেরে রীতিমতো বিপাকে পড়েছে; রাজ্যের শাসক দল তথা রাজ্য সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতার নামেই; নিয়োগ সম্পর্কিত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেরা চলছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়; ও বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। এবার সেই দুর্নীতি মামলা নিয়ে; বি’ষ্ফোরক মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শিক্ষক নিয়োগে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে; গিয়েছে মমতার মন্ত্রী-কন্যার চাকরি। আড়াইশোর উপরে প্রাথমিকে চাকরি যাওয়ার তালিকা। বিরোধীরা হইচই করলেও মুখ খোলেননি; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর কথায়; “লাখখানেক চাকরির মধ্যে ৫০-১০০টা কেস ভুল হতেই পারে”। এর পাশাপাশি ঘাসফুল শিবিরের নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গ টেনে এনে; মুখ্যমন্ত্রী মমতা কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। নাম না করেই নন্দীগ্রামের বিধায়কের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ; “এই ছেলেগুলোর চাকরি চলে গেলে; যাঁদের চাকরি দাদামণি দিয়েছেন, তাঁদের কী হবে”?

আরও পড়ুনঃ গভীর চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা পশ্চিমবঙ্গের আজ জন্মদিন

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে, এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন; “এক লক্ষ চাকরি দিতে গিয়ে একশোটা ভুল হতেই পারে; তা শুধরে নিতে হবে, এবং সময় দিতে হবে। বেকারদের আমরা চাকরি দেব; তাতে যদি কোনও সমস্যা হয়, তা মিটিয়ে নিতে হবে”।

শুভেন্দুর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন; “আর যে দাদামণি চাকরি দিয়েছেন; তাঁর হিসেব কে নেবে? সিবিআই তাঁদের ধরবে না? মেদিনীপুর থেকে মুর্শিদাবাদ হয়ে উত্তর দিনাজপুর; সেই সব জায়গায় দাদামণি চাকরি দিয়েছেন। পুরুলিয়া জেলায় চাকরি দেননি; বঞ্চিত করেছিলেন ওঁদের। আমার বাড়িতে এসেছিলেন; চাকরি দিয়েছিলাম”।

আরও পড়ুনঃ “অগ্নিবীরদের নিয়োগ করব আমার কোম্পানিতে”, দেশজোড়া বিতর্কের মধ্যেই ঘোষণা শিল্পপতির

মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে; একহাত নিয়েছেন গেরুয়া শিবিরকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে যারা লাফাচ্ছে; সেই বিজেপির এমপি এমএলএ-রাও ছাড় পাবেন না। বড় বড় কথা, সিবিআই-ইডি-র ভয় দেখাচ্ছেন। এটা ত্রিপুরা নয় যে; ১০ হাজার চাকরি খেয়ে নিয়েছে”।

]]>
গভীর চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা পশ্চিমবঙ্গের আজ জন্মদিন https://thenewsbangla.com/west-bengal-birthday-dr-shyama-prasad-mookerjee-creator-of-west-bengal/ Mon, 20 Jun 2022 06:49:40 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15545 গভীর চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা; পশ্চিমবঙ্গের আজ জন্মদিন। আজ ২০ শে জুন, পশ্চিমবঙ্গের জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের ২০ শে জুন, অফিসিয়ালি পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়েছিল; অভিব্যক্ত বাংলা ভেঙে। যে বাংলা ভাগ আটকানোর জন্য বাঙালিদের লড়াই, রবীন্দ্রনাথের রাখি বন্ধন; সেই বাংলা ভাগ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব বাংলায়। শুনতে খুব খারাপ লাগলেও, ভাগ হয়েছিল হি’ন্দু অধ্যুষিত বাংলা ও মু’সলিম অধ্যুষিত বাংলার; আর তাই আজ আমরা ভারতে, না হলে হয় থাকতাম পাকিস্তানে বা বাংলাদেশে।

১৬ই আগস্ট ১৯৪৬ শুক্রবার, পাকিস্তানের দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে অবিভক্ত ভারতে; ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস’ বা ‘Direct Action Day’র ডাক দিলেন মু’সলিম লীগের নেতা মহম্মদ আলি জিন্নাহ। অবিভক্ত বঙ্গে তখন সুহরাওয়ার্দি-র নেতৃত্বাধীন; মুসলিম লীগের প্রাদেশিক সরকার। পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় রেখে; ১৬ আগস্ট কলকাতায় মু’সলিম লীগের গু’ন্ডারা হিন্দুদের ওপর এক ভ’য়াবহ সা’ম্প্রদা’য়িক হা’মলা করে। কয়েক হাজার হি’ন্দুকে হ’ত্যা করা হয়; হাজার হাজার হিন্দু নারী ধ’র্ষি’তা হন এবং হি’ন্দুদের সম্পত্তি লু’ঠ করা হয়।

“মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম”; তখন গঙ্গায় দাঁড়িয়ে হাওয়া খাচ্ছিল। ১৭ই আগস্ট গোপাল পাঁঠার নেতৃত্বে হি’ন্দুরা; মুস’লিমদের এই হা’মলা প্রতিহত করে। ১৮ তারিখ সংগঠিত হি’ন্দুদের নেতৃত্বে শি’খ ও বিহা’রীরা; কলকাতার মুস’লিম মহ’ল্লাগুলোতে হা’মলা চালিয়ে, প্র’তিহিং’সা নেয়।

কলকাতা দা’ঙ্গার প্রতি’শোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়; অবিভক্ত বাংলার নোয়াখালিতে। তখন পূর্ববঙ্গের এই জেলাতে হি’ন্দুরা ছিল; মোট জনসংখ্যার ১৮%। ১৯৪৬-এর ১০ই অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন, উৎসবমুখর হিন্দু বাড়িগুলিতে; এক ভয়ং’কর বিভী’ষিকা নেমে আসে। শুরু হয়, গ’ণহ’ত্যা, লু’ঠ, বাড়িতে আ’গুন দেওয়া, অ’পহর’ণ, ব্যাপকহারে নারী ধ’র্ষ’ণ; মহিলাদের তু’লে নিয়ে গিয়ে আ’টক করে রাখা এবং ব’লপূর্ব’ক ধ’র্মান্ত’করণ।

প্রাক্তন বিধায়ক মৌলানা গোলাম সারওয়ার ছিলেন; এই গ’ণহ’ত্যার মাস্টারমাইন্ড। প্রায় দশহাজার হি’ন্দুকে হ’ত্যা করা হয় নোয়াখালিতে। এর থেকেও বেশি মানুষকে জোর করে ধ’র্মান্ত’রিত করা হয়; এবং গো’মাং’স খেতে বাধ্য করা হয়। গোটা জেলায় এমন কোনও হি’ন্দু বাড়ি ছিল না; যার অন্তত একজন মহিলা ধ’র্ষিতা বা অপ’হৃতা হননি।

কলকাতার দা’ঙ্গা ও নোয়াখালির গ’ণহ’ত্যার অভিজ্ঞতা থেকে, কলকাতার বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও শুভবুদ্ধিযুক্ত বুদ্ধিজীবীরা বুঝতে পারেন যে; হি’ন্দুরা শত চেষ্টা করলেও মু’সলিমদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান অসম্ভব, যেখানে মু’সলিমরা সংখ্যাগুরু। আর দুই বঙ্গ মিলিয়ে তখন; মু’সলিমরাই সংখ্যাগুরু।

মুস’লিম লীগ নেতৃত্ব প্রথমে কলকাতা সহ সমগ্র বাংলাকেই; পা’কিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। কংগ্রেসী নেতৃত্বও এই বিষয়ে কিছু মনঃস্থির করতে পারছিলেন না। কিন্তু পা’কিস্তানে অন্তর্ভুক্তিকরণের বিরুদ্ধে, বাঙালি হি’ন্দু জনমত প্রবল থাকায়; মু’সলিম লীগ নেতৃত্ব অন্য চাল দেয়। সমগ্র বাংলাকে পা’কিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করা অসম্ভব বুঝে; মুস’লিম লীগ নেতা ক’ট্টর ধ’র্মা’ন্ধ সুহরাওয়ার্দি হঠাৎ বাঙালির ভেক ধারণ করলেন। তিনি বললেন- “দুই বাংলা নিয়ে অখণ্ড বঙ্গ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হোক; যা কিনা ভারত-পা’কিস্তান কোনপক্ষেই যোগদান করবে না”।

কিন্তু অখণ্ড বাংলাতেও বাঙালি হি’ন্দুরা সংখ্যাল’ঘু হত; জিন্নাহও এই প্রস্তাবে সম্মতি জ্ঞাপন করলেন। অনুমান করা যেতেই পারে, এই অখণ্ড বঙ্গ; পরবর্তীকালে পা’কিস্তানে যোগ দিত। যাই হোক, সুহরাওয়ার্দির পাতা ফাঁ’দে পা দিলেন; কংগ্রেসের দুই বর্ষীয়ান বাঙালি নেতা শরৎচন্দ্র বসু ও কিরণশঙ্কর রায়। মাত্র কয়েকমাস আগে ঘটে যাওয়া কলকাতা দা’ঙ্গা ও নোয়াখালি গ’ণহ’ত্যায়; সুহরাওয়ার্দির ভূমিকার কথা তাঁরা ভুলে গেলেন।

এখানেই খেলা শুরু হল; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর। যে মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারলেন যে, বাঙালি হি’ন্দু জাতটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হচ্ছে বাংলাকে ভাগ করা; সেই সময় থেকেই তিনি তাঁর সমস্ত শক্তি নিয়োজিত করলেন বাঙালি হি’ন্দুদের বিষয়টি; মানুষকে বুঝিয়ে জনমত তৈরি করার জন্য।

১৯৪৭-এর ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি হি’ন্দু মহাসভার নেতৃত্বে; একটি কমিটি গঠন করেন এবং তিনি নিজে সারা বাংলা চষে বেড়াতে লাগলেন; এবং বড় বড় জনসভায় ভাষণ দিয়ে মানুষকে বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে লাগলেন। তিনি কংগ্রেসের কাছে আবেদন রাখলেন যে; তারাও যেন এই দাবিকে সমর্থন জানায়।

পশ্চিমবঙ্গ হতে কারা ভোট দিয়েছিলেন আর আটকাতে কারা ভোট দিয়েছিলেন
পশ্চিমবঙ্গ হতে কারা ভোট দিয়েছিলেন আর আটকাতে কারা ভোট দিয়েছিলেন

১৯৪৭-এর ১৫ই মার্চ কলকাতায় হিন্দু মহাসভা; একটি দু’দিন ব্যাপী আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে লর্ড সিনহা, রমেশচন্দ্র মজুমদার, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ভবতোষ ঘটক, ঈশ্বরদাস জালান, হেমেন্দ্রচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ বিশিষ্ঠজন ছাড়াও; হি’ন্দু মহাসভার সঙ্গে সম্পর্কশূন্য বহু মানুষও উপস্থিত হন। এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হল যে; বাংলা প্রদেশের হি’ন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলিকে নিয়ে একটি আলাদা প্রদেশ গঠন করতে হবে। এই সভায় একটি কমিটিও গঠিত হল, যাদের কাজ হবে একটি স্মারকলিপি প্রস্তুত করা; যা সরকারের কাছে পেশ করা হবে।

বাংলা ভাগ করা উচিত কিনা এই প্রসঙ্গে ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’; ১৯৪৭-এর ২৩-এ মার্চ থেকে ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত একটি জনমত সমীক্ষা করে। ফলাফল ঘোষিত হয় ২৩-এ এপ্রিল। এতে মোট ৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৪৯টি উত্তর আসে; এর মধ্যে ১.১% উত্তর বাতিল হয়। বাকি উত্তরের মধ্যে ৯৮.৩% বাংলা ভাগের পক্ষে ও ০.৬% বিপক্ষে মত দেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে মাত্র ০.৪% ছিল মু’সলমান। অর্থাৎ, এ সময়ে বাঙ্গালী হি’ন্দুরা প্রায় সকলেই; বাংলা ভাগের পক্ষে ছিলেন তা বোঝা যায়।

১৯৪৭-এর ২৩-এ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ বড়লাট লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে একটি বৈঠকে তাঁকে বুঝিয়ে বলেন; কেন বাংলা ভাগ করা দরকার। এই পরিকল্পনা বোঝানোর জন্য তিনি প্রচুর দলিল-দস্তাবেজ এবং মানচিত্র তৈরি করেছিলেন; এবং এইগুলি বড়লাটের আপ্তসহায়ক লর্ড ইসমে-র কাছে দিয়ে আসেন।

১৯৪৭-এর মে মাসে হি’ন্দু মহাসভা ও কংগ্রেস একত্রে একটি জনসভা ডাকে; যার সভাপতি ছিলেন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য স্যর যদুনাথ সরকার। ১৯৪৭-এর ২ মে শ্যামাপ্রসাদ; লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে একটি দীর্ঘ পত্র লেখেন। এই তথ্যনির্ভর পত্রে তিনি বাংলাভাগের পক্ষে যুক্তি দেন। এই চিঠিতে বাংলা ভাগের দাবী করে, শ্যামাপ্রসাদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় লেখেন যে; ‘‘Sovereign undivided Bengal will be a virtual Pakistan”।

তখন কলকাতার ব্রিটিশ মালিকানাধীন দৈনিক ‘The Statesman’ ১৯৪৭-এর ২৪-এ এপ্রিল, ‘‘Twilight of Bengal’’ শিরোনামে একটি সংবাদে লেখে; গত ১০ সপ্তাহের মধ্যে বাংলা ভাগ করার আন্দোলন একটি ছোট মেঘপুঞ্জের আকার থেকে একটি বিশাল ঝড়ের আকার নিয়েছে; এবং এই ঝড় পুরো প্রদেশ জুড়ে প্রবাহিত হচ্ছে; যদিও এর কেন্দ্রভূমি হচ্ছে কলকাতা। এই ঝড় আরম্ভ করেছিল হি’ন্দু মহাসভা।

ইতিমধ্যে শরৎ বসু ও আবুল হাশিম স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার; একটি খসড়া সংবিধান তৈরি করেন। বর্ধমানের মানুষ এই আবুল হাশিম ছিলেন বাংলা মুস’লিম লীগের সেক্রেটারি; যিনি কলকাতা দা’ঙ্গার আগে খুব স্পষ্ট ভাষায় ‘হিন্দু খু’ন’ করতে উ’স্কা’নি দিয়েছিলেন।

এই খসড়া সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী সব সময়েই হবেন একজন মু’সলিম; এবং সংবিধান প্রণয়নের জন্য যে সমিতি থাকবে তাতে ৩০ জনের মধ্যে অর্ধেকের বেশি (১৬ জন) হবেন মু’সল’মান। অর্থাৎ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলায় হি’ন্দুদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করে রাখার; একটি পাকাপোক্ত বন্দোবস্ত করে রাখা হয়। যা পত্রপাঠ বাতিল করে দেন শ্যামাপ্রসাদ।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এইসময় চেষ্টা করছিলেন, সুহরাওয়ার্দি-বসু-হাশিম ত্রয়ীর; এই ভয়ং’কর পরিকল্পনাকে বানচাল করতে। ১৯৪৭ সালের মে মাসের প্রথম দিকে; গান্ধী ও নেহরু-কে তিনি বাংলা ভাগের পক্ষে বললে তাঁরা খুব একটা নির্দিষ্ট করে কিছু জানান নি।

১৯৪৭-এর ১৩ই মে শ্যামাপ্রসাদ সোদপুরে গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন; এবং সুহরাওয়ার্দির যুক্তবঙ্গের পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চান। গান্ধী বলেন, তিনি এখনও মনঃস্থির করে উঠতে পারেন নি। শ্যামাপ্রসাদ যখন গান্ধীকে জিজ্ঞাসা করেন; তিনি বাংলা ছাড়া ভারতবর্ষকে কল্পনা করতে পারেন কি না? স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে গান্ধী এর কোন উত্তর দেন নি।

হিন্দু মহাসভা বাংলা ভাগের দাবি নিয়ে সোচ্চার হতেই, কংগ্রেসিরা দেখল তাদের ভোটার যারা; সেই হি’ন্দুরা (বাংলার মুসলিমরা প্রায় সকলেই মু’সলিম লীগের সমর্থক ছিল) তাদের ন’পুংস’কতায় ক্ষুব্ধ হয়ে হি’ন্দু মহাসভার পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। তখনই বাংলার কংগ্রেস দল নড়েচড়ে ওঠে। তারাও তখন সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামতের তোয়াক্কা না করে; হিন্দু মহাসভার প্রস্তাবানুসারেই বাংলার হি’ন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ও মু’সল’মান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের জন্য দুটো আলাদা মন্ত্রীসভা গঠনের দাবি তোলে ১৯৪৭-এর ৪ঠা এপ্রিল।

বাংলার আঞ্চলিক কংগ্রেস নেতৃত্ব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্য মনীষীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে; বাঙালি হি’ন্দুর স্বার্থরক্ষায় ব্রতী হয়। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ১৯৪৭-এর ২০-এ জুন; বঙ্গীয় আইন পরিষদের পশ্চিম অংশের সদস্যরা বাংলার দ্বিখণ্ডীকরণ করে; বাঙালি হি’ন্দুর হোমল্যান্ড বা পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাব ৫৮-২১ ভোটে পাশ করান।

বাংলার বাঘ আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এর পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ গঠনে ভূমিকা নিয়ে; অনেকেই বলেন “তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠতম কীর্তি”।
নেহেরু একবার শ্যামাপ্রসাদকে বলেছিলেন যে; “আপনিও তো দেশভাগ সমর্থন করেছিলেন”। উত্তরে শ্যামাপ্রসাদ বলেন, ‘‘আপনারা ভারত ভাগ করেছেন; আর আমি পাকিস্তান ভাগ করেছি”।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল ফণিভূষণ চক্রবর্তী লিখেছেন যে; “শ্যামাপ্রসাদ তাঁর সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার প্রস্তাব প্রতিরোধ করতে সমর্থ হলেন; এবং দেশভাগের ভিতর আরেকটা দেশভাগ করিয়ে দিলেন”।

চক্রান্তের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা; আমাদের সেই পশ্চিমবঙ্গের আজ জন্মদিন। নিজে জানুন ও অন্যকে জানান ইতিহাসে চেপে যাওয়া সব তথ্য।

]]>
নামেও ঘোটালা, শান্তি ও কল্যাণের হাত দিয়েই শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, কিন্তু ‘রাঘববোয়াল’ কারা https://thenewsbangla.com/ssc-teachers-recruitment-scam-kalyanmoy-ganguly-shanti-prasad-sinha-accused/ Fri, 17 Jun 2022 06:08:58 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15531 নামেও ঘোটালা, শান্তি ও কল্যাণের হাত দিয়েই শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি; কিন্তু ‘রাঘববোয়াল’ কারা? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। একজন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়; অন্যজন স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরামর্শদাতা শান্তিপ্রসাদ সিনহা। পরে দুজনেই আবার শিক্ষক নিয়োগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। কল্যাণময় ও শান্তিপ্রসাদের হাতেই ছিল; বাংলার হবু শিক্ষকদের ভাগ্য। তবে সিবিআই তদন্ত ও কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর দেখা যাচ্ছে; নাম কল্যাণময় ও শান্তিপ্রসাদ হলেও, চরম দুর্নীতিতে ডুবে কল্যাণ ও শান্তি দুজনেই।

আদালতের নির্দেশের পর, বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে; মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে। বারবার জেরা করা হচ্ছে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি শান্তিপ্রসাদ সিনহাকে। দুর্নীতির নথির খোঁজে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দফতরে ও একাধিক জায়গায় সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান চলেছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় মধ্যযুগীয় ব’র্বরতা, ন্যাড়া করা হল বাড়ির বউকে, লজ্জায় গ্রামছাড়া নি’র্যাতিতা

বৃহস্পতিবারই উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি শান্তিপ্রসাদ সিনহার বাড়িতে গিয়ে; তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে সিবিআই। কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে তুলে এনে; পর্ষদের অফিসে জিজ্ঞসাবাদ করে সিবিআই। তবে এঁদের সবার মাথায় ছিলেন; তৎকালীন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যাকেও ইতিমধ্যেই জেরা করেছে; কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত বাগের চূড়ান্ত রিপোর্টে; স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। কাঠগড়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশন ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কমিশন ও পর্ষদের একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে; শাস্তিমূলক-ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে বিচারপতি বাগ কমিটি।

আরও পড়ুনঃ লজ্জার অন্ধকারে ডুবল বাংলা, দেশকে চমকে দিয়ে রাজ্যের বিধানসভায় প্রতিদিন ‘ছাপ্পা ভোট’

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়; এসএসসির দুই প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার ও সুকুমার সাহা; এসএসসির প্রোগ্রাম অফিসার সমরজিৎ আচার্য; উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহার বিরুদ্ধে; ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪১৭, ৩৪ এবং ১২০ বি ধারায় এফএইআর রুজু করে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসএসসির আরও এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান, সুবীরেশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও; শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করে বাগ কমিটি।

তবে হাইকোর্ট আইনজীবীরা মনে করছেন; এই দুর্নীতি কাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ফেঁসে আছেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই অথৈ জলে পড়া অবস্থায়, তিনি কাকে জড়িয়ে ডুববেন; সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

]]>
লজ্জার অন্ধকারে ডুবল বাংলা, দেশকে চমকে দিয়ে রাজ্যের বিধানসভায় প্রতিদিন ‘ছাপ্পা ভোট’ https://thenewsbangla.com/bengal-in-darkness-of-shame-chappa-vote-every-day-in-bengal-assembly-surprising-india/ Fri, 17 Jun 2022 04:15:22 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15524 লজ্জার অন্ধকারে ডুবল বাংলা; দেশকে চমকে দিয়ে রাজ্যের বিধানসভায় প্রতিদিন ‘ছাপ্পা ভোট’। এও সম্ভব? হ্যাঁ, আমাদের বাংলায় সব সম্ভব; অসম্ভব বলে কিছুই নেই। রাজ্যের আইনসভাতেও, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে; চলে ‘ছাপ্পা ভোট’। তাও আবার একদিন নয়; পরপর দুদিন। একদিন বিজেপি ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ করে; তো পরের দিন তৃণমূল ‘ছাপ্পা ভোটের’ অভিযোগ করে। তৃণমূল বিধায়ক ও স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিন বলছেন; “ক্লারিক্যাল মিস্টেক”। গোটা দেশ হাসছে; বাংলার অবস্থা দেখে।

রাজ্য বিধানসভায় বিল নিয়ে ভোটাভুটিতে ফের বিভ্রাট। বিধানসভা অধিবেশনে না থাকা দুই বিজেপি বিধায়ক; শুভেন্দু অধিকারী ও মিহির গোস্বামীর নামেও পড়ল ভোট! রিগিং কারচুপির অভিযোগ তুলে; তদন্তের দাবি তুলেছে তৃণমূল। পাল্টা ছাপ্পা ভোটের অভিযোগে সরব; বিজেপি বিধায়করাও। “হয়ত টেকনিক্যাল ভুল”; বললেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ “আমি নমাজ পড়ি না, ইফতারে গেলেও আপত্তি”, দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে বিজেপিকে ঠুকলেন মমতা

বৃহস্পতিবার বিধানসভায়, পশ্চিমবঙ্গ কৃষি সংশোধনী বিল পাসের জন্য ভোটাভুটি হয়য়। ভোটের পর দেখা যায়, বৈদ্যুতিন মেশিনে ভোট পড়েছে; মোট ১৭৫ টি। তার মধ্যে সরকারের পক্ষে পরেছে ১২০টি এবং বিজেপির পক্ষে ৫২টি। কিন্তু দুই বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন; ভোট দেননি এক জন। ভোটের ফলাফল দেখে বিজেপি দাবি করে; বিধানসভায় তাদের ৫৩ জন বিধায়ক উপস্থিত রয়েছেন। সেক্ষেত্রে বিজেপির পক্ষে ৫২টি ভোট হয় কী করে?

আরও পড়ুনঃ পরেশ, গুণধর, বীরেন্দ্র, দুর্নীতি করে নেতার মেয়েদের চাকরি হয়েছে, কাঁদছে ‘বাংলার মেয়েরা’

এরপরই স্পিকার পুরো ফলাফল চেয়ে পাঠান; বিধানসভার সচিবালয়ের কাছ থেকে। এরপর স্পিকার বিজেপি সদস্যদের নাম ধরে ডাকতে থাকেন, তখনই দেখা যায়; শুভেন্দু অধিকারী এবং মিহির গোস্বামীর নামেও ভোট পড়েছে। অথচ দুই বিজেপি বিধায়কই; হাজির ছিলেন না বিধানসভা অধিবেশনে। এরপরেই তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের বিরুদ্ধে; ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তোলে। উত্তপ্ত হয় রাজ্য বিধানসভা।

গত সোমবার, আচার্য বিলের ভোট গণনার দিনও; বিধানসভায় ভোটের ফল দেখে বিতর্ক ওঠে। বিজেপির ১৭টা ভোট চলে যায় তৃণমূলের ঘরে; তাই নিয়ে ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। যদিও অধ্যক্ষ জানিয়েছিলেন; বিধানসভার এক আধিকারিকের ভুলে এটা হয়েছে। বিজেপি বিধায়কদের প্রতিবাদের পরে; সেই ভুল সংশোধন করা হয়।

]]>
পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত, তবু নিয়োগ নেই, বিক্ষোভ https://thenewsbangla.com/public-service-commission-psc-building-protest-job-seekers-protest-in-front-of-the-public-service-commission-psc-building/ Fri, 29 Apr 2022 08:04:02 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14972 পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে; তালিকা প্রস্তুত। তবে নিয়োগই হচ্ছে না। নিয়োগের সবরকম প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও; গত দেড় বছর ধরে বন্ধ খাদ্য দফতরের নিয়োগ প্রক্রিয়া। চাকরি পাবার তালিকায় যাদের নাম আছে; তাদের অভিযোগ তেমনই। আর এই অভিযোগ নিয়েই; শুক্রবার টালিগঞ্জে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) ভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন চাকরিপ্রার্থীরা।

পুরুষ, মহিলা-সহ শয়ে শয়ে বিক্ষোভকারী; এদিন জমায়েত করেন পিএসসি ভবনের সামনে। বিক্ষোভের পারদ চড়তে থাকলে; পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামে কলকাতা পুলিশ। এদিকে, প্রবল রোদে খোলা রাস্তায় অবস্থান বিক্ষোভ করায়; অসুস্থ হয়ে পড়েন কয়েকজন বিক্ষোভকারী। অসুস্থ হয়ে পরেন; কয়েকজন মহিলা। পরে বেশ কয়েকজনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। এরপরেই এলাকা নিমেষের মধ্যে; রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

পুলিশ গ্রেফতার করতে এলে; চাকরিপ্রার্থীদের অবস্থান বিক্ষোভ ঘিরে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পিএসসি ভবনের মতো হাই সিকিউরিটি জোনে এমন বিক্ষোভের খবর পেয়েই; পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হাতাহাতি বেঁধে যায় পুলিশের। টেনে-হিঁচড়ে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তোলার চেষ্টা করে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, “শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভে পুলিশ অত্যাচার চালিয়েছে”। এনিয়ে ধুন্ধুমার বাঁধে মুদিয়ালি এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে; বিশাল পুলিশ বাহিনী নামাতে হয়। এই বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ বলেন, “খাদ্য দফতরে কয়েকটি পদ শূন্য ছিল; সেসব পদে নিয়োগের জন্য পিএসসিকে জানানো হয়েছিল। যোগ্য প্রার্থীদের সেই পদে নিয়োগ করার জন্য। কিন্তু পিএসসি কোনও তালিকা পাঠায়নি; তাই নিয়োগ সম্ভব হয়নি। এতে খাদ্য দফতরের কোনও দায় নেই”।

মন্ত্রী দায় চাপালেন; পাবলিক সার্ভিস কমিশনের উপর। তবে এই নিয়ে পিএসসি কোন বক্তব্য দেয়নি। পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) সূত্রে জানা গেছে; আদালতে একটি মামলা চলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি। তবে যোগ্য প্রার্থীরা জানিয়েছেন; বহুদিন আগেই সেই সব মামলার ঝামেলা মিটে গেছে; তবু নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি”।

বিক্ষোভকারী-দের প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ, এঁরা প্রত্যেকেই যোগ্য প্রার্থী। তাদের প্রত্যেকের নাম পিএসসি-র চাকরি পাবার তালিকায় আছে। তবু তাদের এই গরমে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে হচ্ছে, পুলিশের হাতে আটক হতে হচ্ছে, পুলিশের মার খেতে হচ্ছে। শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার, চাকরিটাই পাচ্ছেন না।

]]>
নবান্নে মমতা সৌরভ বৈঠক, জোর জল্পনা রাজ্য জুড়ে https://thenewsbangla.com/mamata-sourav-meeting-in-nabanna-strong-speculation-across-the-state/ Thu, 28 Apr 2022 07:44:19 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14950 নবান্নে মমতা সৌরভ বৈঠক; জোর জল্পনা রাজ্য জুড়ে। নবান্নে মমতা-সৌরভ সাক্ষাৎ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন; প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক তথা বর্তমান ভারতীয় বোর্ড এর প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বেশ কিছু বিষয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন মহারাজ। এমনটাই জানা যাচ্ছে। তবে দু’‌জনের মধ্যে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা জানা যায়নি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই বিষয় নিয়ে, এখনও কিছু বলতে চাননি। এর আগেও নবান্নে গিয়ে, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন সৌরভ। তব এবারে কেন দুজনের আলোচনা, সেটাই এখন দেখার। তবে এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এই নিয়ে নবান্ন সূত্রে, এখনও কিছু জানানো হয়নি।

তবে ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল সূত্রে খবর, ইডেনে আইপিএলের ম্যাচ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বোর্ড সভাপতি সৌরভ। আগামী ২৪ ও ২৫ মে ইডেনে আইপিএলের দুটি প্লে অফ ম্যাচ। ১০০ শতাংশ দর্শক নিয়েই, আইপিএলের দুটি প্লে অফ ম্যাচ ইডেনে করতে চাইছে সিএবি। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।

]]>
এক বাংলা থেকে আগেই গায়েব হয়েছে, আর এক বাংলা থেকে গায়েব হবার রাস্তায় https://thenewsbangla.com/international-mother-language-day-bengali-words-are-becoming-extinct/ Mon, 21 Feb 2022 05:10:41 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14819 ভাষা দিবস কি এখন শুধুই ফালতু আদিখ্যেতা? এমনটাই উঠে গেছে প্রশ্ন। এক বাংলা থেকে আগেই গায়েব হয়েছে; আর এক বাংলা থেকে গায়েব হবার রাস্তায় বাংলা ভাষা।
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারি; আমি কি ভুলিতে পারি”। আর এখন বলা হচ্ছে; আদিখ্যেতা ছেড়ে ভুলে যান তাড়াতাড়ি। একদম ঠিক পড়ছেন। যত তাড়াতাড়ি এই আবেগকে ভুলে যাবেন, তত ভালো; তত নিজের কাছে সৎ থাকবেন। চোখ বুজে থাকলে সত্যটা মিথ্যা হবে না। কিন্তু কেন?

মুখের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে; বিরল ইতিহাস গড়েছিল বাঙালি। উর্দুর পাশাপাশি প্রাণের ভাষা বাংলাকে; পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গড়ে ওঠে দুর্বার আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি; সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত, রফিকদের তাজা রক্তে লাল হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। বাংলা ভাষা রক্ষায়, মাতৃভাষা রক্ষায়; হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির রক্ত ঝরানো লড়াইয়ে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা পৃথিবী। তারই পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির ভাষা আন্দোলন; যার জেরে বাংলা ভাষা পায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। ২১ শে ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জুড়ে ভাষা দিবসের স্বীকৃতি; ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯, ইউনেস্কোর ঘোষণার পর। মাতৃভাষা রক্ষার লড়াই, বিশ্ব সংসারে বিরল; অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিল বাঙালিই।

“মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা”!
ইতিহাস, আবেগ ওখানেই শেষ। ৭১ এ স্বাধীনতার পরের ৫০ বছরে আমূল বদলে গেছে বাংলাদেশ। বলা ভাল, ফের ১৯৪৭ এ ফিরে গিয়ে; বাংলাদেশ এখন আবার পুরোপুরি পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেছে। তফাৎ একটাই, এখন সেটা হয়েছে ধর্মে মনুষত্বে ও সর্বোপরি ভাষায়।

১৯৪৭ এ বাঙালি মুসলিম-হিন্দুরা পূর্ব পাকিস্তানে পড়েছিল দেশভাগের জেরে। ১৯৭১ এ বঙ্গবন্ধু মুজিবের হাত ধরে বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়ে; ইন্দিরার ভারতের সাহায্যে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েছিল। ২০২২এর ২১ শে ফেব্রুয়ারি সেই আবেগের লেশমাত্র নেই বাংলায়। বাংলাদেশ আবার হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান। ‘পুরোনো বাবার নির্দেশে’ পাকিস্তানের মতোই ‘হিন্দু খেদাও’ অভিযান; গত দু-তিন দশক আগে থেকেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলা ভাষা প্রায় উধাও; দাপট বেড়েছে আরবি-উর্দু শব্দের। বাঙালি রীতি উধাও; ঠিক পাকিস্তানের মতোই ভাঙছে একের পর এক মন্দির। লোটা-কম্বল নিয়ে দেশ বাংলা ছেড়ে রাজ্য বাংলায় আজও পাড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ; হিন্দু বাঙালি। পিঠে কাঁটাতারের দাগ।

বাংলা বর্ণমালা এখন বাংলাদেশের কাছেই অচেনা শব্দ। তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা অক্ষরমালা। কী চেয়েছিলেন জব্বর, বরকত, রফিক, সালামরা? চেয়েছিলেন মাতৃভাষার মর্যাদা; বাংলা ভাষার সম্মান প্রতিষ্ঠা। প্রতিবাদ করেছিলেন মাতৃভাষার অবমাননার বিরুদ্ধে। তার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছিল তাঁদের; ঢাকার রাজপথে।

এখন ইংরেজি মাধ্যমের দাপটে; বাংলা মাধ্যমে পড়ার বিদ্যালয়গুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। সেটাও একটা ইস্যু। কিন্তু বাংলা ভাষা, বাংলা শব্দই আজ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের শব্দ কোষ থেকে। জায়গা নিচ্ছে একের পর এক আরবি-ফার্সি-উর্দু ও অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত ভাষা শব্দ। বিলুপ্ত হয়েছে বাংলা ভাষা; যার জন্য ভাষা দিবস।

“বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ; বারান্দায় লাগে জ্যোৎস্নার চন্দন”। ২০২২ এ বসে কবি শামসুর রহমানের কলমে এই লাইন আসতই না। বাংলা ভাষা এখন আর উচ্চারিতই হয় না; তো অন্ধ বাউলের একতারা কোথায় বাজবে?

“ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়।
তারা কথায় কথায় শিকল পড়ায় আমার হাতে পায়।।
কইতো যাহা আমার দাদায়
কইছে তাহা আমার বাবায়
এখন, কও দেখি ভাই মোর মুখে কি
অন্য কথা শোভা পায়।।
সইমু না আর সইমু না
অন্য কথা কইমু না
যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান”…..।।

এই কবিতা এই বাংলাদেশে আর কেউ পড়ে না; এই কবিতার আজ আর আদৌ কোন অস্তিত্বই নেই। বাংলাদেশ আজ বাংলা ভাষা ভুলে; শুধুই এক কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ। আর সেই দেশের বড় শত্রু এখন ভারতবর্ষ পশ্চিমবঙ্গ। তাই আজ এই আবেগকে, বাড়ির পাশের পানা পুকুরে বিসর্জন দিন। সত্যকে স্বীকার করতে শিখুন; গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে। ভাষা দিবসে নিন শপথ। বাংলাদেশের কথা ছাড়ুন; অন্তত পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাকে বুক দিয়ে আগলান। ওটাও না ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেই পথে চলা শুরু হয়ে গেছে; বিশ্বাস না হলে বাড়ির বাচ্চার সরকারি স্কুলের বইটা দেখুন।

‘সামাল সামাল’…..
না হলে আর কয়েকবছর পরে আজকের দিনটা এই বলে স্মরণ করতে হবে যে…
‘অতীতে বাংলা বলে একটা ভাষা ছিল এই বাংলায়’…

সম্পাদকীয় লিখলেন মানব গুহ।

]]>