ভারতই প্রথম দেশ; যাদের এই এমটিসিআর ক্যাটেগরি ১, মানুষ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় চালিত আধুনিক সামরিক ড্রোন দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। The Sea Guardian UAS এই নামেই বিখ্যাত এই স্বয়ংচালিত মানুষহীন যান। সমুদ্রের উপর কড়া নজর রাখতে পারে বলেই এই নাম দেওয়া হয়েছে। ২.৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি হতে চলেছে।
এছাড়াও আমেরিকা ভারতকে; Terminal High Altitude Area Defense system (THAAD) ও দিতে চলেছে। যা দুরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল আটকাতে সক্ষম। এই চুক্তিতে আরও বেশ কিছু সামরিক সহায়তা; ভারতকে দেবে মার্কিন প্রশাসন।
ভারতকে সামরিক ড্রোনসহ সমন্বিত আকাশসীমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা; সহায়তা দিতে রাজি ট্রাম্প প্রশাসন। সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে মরিয়া ভারতকে; বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে এই সামরিক বা অস্ত্র সহায়তা দিলেও; ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাজনিত স্বার্থও; এই সহায়তার পেছনে কাজ করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা গোপন রাখেনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায়; আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতের সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ); ৪৯ জন জওয়ান শহীদ হন। অন্যদিকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন ক্রমান্বয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে।
এই অঞ্চলে একে অনেকেই চীন কর্তৃক সামরিকায়ন বলে বর্ণনা করছেন। মূলত এই দুটি কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে; সামরিক সহায়তাদানে সম্মত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সূত্র বলছে; ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে সর্বোচ্চ উত্কৃষ্ট প্রযুক্তি দিয়ে সামরিক সহায়তা করতে প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে নিরাপদতম প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি; সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। আর তাই, এমটিসিআর ক্যাটেগরি ১; মানুষ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় চালিত আধুনিক সামরিক ড্রোন দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে; এক হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সামরিক ড্রোন বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে। ভারতকে আমরা সমন্বিত আকাশসীমা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিক্রিরও একটা প্রস্তাব দিয়েছি। তবে কবে নাগাদ এই লেনদেন সম্পন্ন হতে পারে; সে বিষয়ে কোনো কিছু জানাননি এই কর্মকর্তা।
]]>আরও পড়ুনঃ বাংলায় উন্নতিতে বাধা ‘স্পীডব্রেকার’ মমতা, কটাক্ষ মোদীর
দেখে নিন সেই বিজ্ঞপ্তিঃ
যার জেরে ব্যয় হবে আনুমানিক ২.৬ বিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মূল্যে ১৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। বুধবার আমেরিকার তরফে এল সবুজ সংকেত। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা সূত্রে এখবর জানা গিয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই বিষয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে।
আরও পড়ুনঃ বারবার স্বামী বদল করেন স্মৃতি ইরানী, কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ কংগ্রেস জোটসঙ্গীর
সিঙ্গাপুর সফরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার দুদিন পরেই এমএইচ-৬০ কপ্টার কেনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আমেরিকার থেকে এই কপ্টার কেনার বিষয়ে গতবছরেই আমেরিকার কাছে পৌঁছে যায় ভারতের চিঠি। গত বেশ কিছুদিন ধরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে বোঝাপড়া বেড়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই কপ্টার চুক্তি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল। আর এবার চলে এল হেলিকপ্টার কেনার সবুজ সংকেত।
আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যে ৩০ শতাংশেরও কম স্পর্শকাতর বুথ
এমএইচ-৬০ রোমিও সিহক হেলিকপ্টার তৈরি করে মার্কিন সংস্থা লকহিড মার্টিন। এই কপ্টারের সাহায্যে গভীর সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ চিহ্নিত করা যায়। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হেনে তাকে ধ্বংসও করে দিতে পারে এই কপ্টার। এমনই ক্ষমতাশালী ২৪টি হেলিকপ্টার আমেরিকার থেকে কিনছে ভারত।
আরও পড়ুনঃ বছরে ৩৪ লাখ সরকারি চাকরি, কৃষক বাজেটের প্রতিশ্রুতি কংগ্রেস ম্যানিফেস্টোতে
দেশের উপকূল সুরক্ষিত রাখতে এই এমএইচ-৬০ রোমিও অত্যাধুনিক কপ্টারের প্রয়োজন রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই জানাচ্ছিল নৌবাহিনী। আমেরিকার থেকে এই চপার কেনা হলে ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা বাণিজ্যের পরিমাণ ছাড়াবে ২ হাজার কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
আরও পড়ুনঃ ভোট প্রচারে হেলিকপ্টার পাচ্ছেন না মমতা, অভিযোগের তীর কেন্দ্রের দিকে
ভারত মহাসাগরে জলসীমা নিয়ে প্রতিদিনই চীনের সঙ্গে সংঘাত আছেই। বাড়ছে তাদের নিয়ন্ত্রণও। এই পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন চিহ্নিত করতে ভারতের জন্য এমএইচ-৬০ রোমিওর মতো কপ্টার জরুরি হয়ে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর এয়ার সিস্টেম কমান্ডের মতে, সমুদ্রে নজরদারি চালাতে ও সাবমেরিন ধ্বংসে সিহক-ই বিশ্বসেরা কপ্টার।
আরও পড়ুনঃ জম্মু কাশ্মীরের জন্য আলাদা প্রধানমন্ত্রী, মোদী জবাব চাইলেন রাহুল ও মমতার কাছে
৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর আর্জেন্তিনায় বসে জি-২০ সম্মেলনের আসর। সেখানে মুখোমুখি হন মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকেই কপ্টার চুক্তিটি সম্পন্ন হবার ব্যপারে কথা অনেকটাই এগিয়ে যায় বলেই মনে করা হচ্ছে। আর এবার এল সেই সবুজ সংকেত।
আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।
]]>