Taslima Nasreen – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Wed, 19 Jun 2019 14:18:30 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Taslima Nasreen – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 সবার বাবা মা হওয়া উচিত নয়, আবার বিতর্কে জড়ালেন তসলিমা নাসরিন https://thenewsbangla.com/taslima-nasreen-feminist-author-tweet-controversy-on-parental-issue/ Wed, 19 Jun 2019 12:06:52 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14107 আবার বিতর্কে জড়ালেন তসলিমা নাসরিন; বিতর্ক এবার একটি টুইট ঘিরে। মঙ্গলবার ‘অভিভাবকত্ব’ নিয়ে টুইট করেন তিনি। সেই ঘিরেই শুরু হয় তর্ক-বিতক; প্রতিবাদ শুরু করেন আমেরিকাবাসিরা।

মঙ্গলবার তিনি বলেন; “ডায়াবেটিস; হাইপারটেনশন; ক্যান্সার ইত্যাদির মতো খারাপ জেনেটিক রোগীদের সন্তান জন্ম না দেওয়াই উচিত। তাদের কোন অধিকার নেই অন্যকে কষ্ট দেওয়ার”। এই বক্ত্যব নিয়েই মূলত শুরু হয় জল্পনা।

আরও পড়ুনঃ আগামী তিন বছরে কৃষক আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

ব্যাপারটা হাস্যসকর হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্য টুইটে তিনি জানান; তিনিও ফল ভুগছেন খারাপ জিনের। “আমি মাছ; মাংস এবং মিষ্টি ভালবাসি। কিন্তু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে সবই খাওয়া বন্ধ আমার”; বলে আক্ষেপ করেন তসলিমা।

নারীবাদী বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন; এর আগে ইসলাম ধর্ম ও মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা করায় বিভিন্ন বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন। এই নিয়ে বিভিন্ন বই ও উপন্যাস লিখে মৃত্যুর হুমকিও পান তিনি। পরবর্তীকালে নির্বাসিতও হয়েছেন তিনি দেশ থেকে।

আরও পড়ুনঃ ফোর্ট উইলিয়ামে নাবালিকা ধর্ষণ, রাজ্যে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

মঙ্গলবার আমেরিকার এক নিউজ সংস্থা লেখিকার সমালোচনায় মুখর হয়। তাঁরা দাবী করেন; তসলিমার মানবাধিকার সম্পর্কে ধারনা সব মানুষের জন্য নয়। এর আগে গর্ভপাত ও নির্বাচিত যৌন-সংগম নিয়ে মন্ত্যব প্রকাশে সমালোচিত হন তসলিমা। তিনি বাধ্যতামূলক জন্ম নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেন।

তসলিমা বলেন; “যৌন নির্বাচন ও গর্ভপাত উভয়েই নারীর অধিকার আছে”। তিনি কটাক্ষ করে বলেন; কোন বুদ্ধিমান মেয়ে কেন চাইবে তার কন্যাশিশু নির্যাতিত ধর্ষিত হোক!

আরও পড়ুন হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানের বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে প্রতিভাবান ডাক্তারের আত্মহত্যা

সংবাদ সংস্থা কটাক্ষ বলেন এই চিন্তাধারা বামপন্থাকে সম্পূর্ণভাবে পুষ্ট করে। বামপন্থী আদর্শানুযায়ী, ‘যদি গর্ভপাত সম্ভব না হয়; তাহলে “খারাপ জিন” নিয়ে বংশবিস্তার আটকানো উচিত’ বলে দাবী করে সেই সংস্থা। গর্ভপাত আন্দোলনের সাথে তসলিমা যুক্ত বলেও দাবী করে তাঁরা।

সোশ্যাল মিডিয়াতে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন লেখিকা লেখেন; মানুষ তার থেকেও বেশি মানবতাবাদী। এই ঘটনাকে ‘টুইটার হামলা’ বলেছেন তিনি। ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ মতামত প্রকাশ করেছে এই ব্যাপারে। তার মধ্যে অধিকাংশ আমেরিকাবাসী।

]]>
মসজিদে ঢুকে মুসলিমদের গুলি করে হত্যা করা নিয়ে বিস্ফোরক তসলিমা https://thenewsbangla.com/taslima-nasrins-comment-on-killing-of-muslims-in-new-zealand-mosque/ Sun, 17 Mar 2019 09:19:57 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=8626 নিউজিল্যান্ডের ২ টি মসজিদে গুলি চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে মেরে ফেলেছে এক বন্দুকবাজ। তাকে ক্রিস্টান জঙ্গি বলা কেন হবে না সেই নিয়ে চলছে বিতর্ক। এবার সেই বিতর্কে অংশ নিয়ে কি বললেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন? দেখে নিন।

তসলিমা লিখেছেন:
সারা মুসলিম বিশ্ব কেঁপে উঠেছে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সন্ত্রাসী ঘটনার খবর শুনে। মুসলিমদের ওপর মানুষের এমনিতে অনেক রাগ, কারণ মুসলিমরা বিশ্ব জুড়ে ভয়ংকর ভয়ংকর সন্ত্রাসী কান্ড ঘটায়। শত শত মানুষের মৃত্যু ঘটে, শত শত মেয়ে ধর্ষিতা হয়। সে কারণে কিছু মুসলিম বিদ্বেষী লোক সুযোগ পেলে মুসলিমদের অপমান, নির্যাতন করতে ছাড়ে না। মসজিদে সন্ত্রাসী আক্রমণ মুসলিমদের প্রতি সেই ঘৃণারই বহিঃপ্রকাশ।

আরও পড়ুনঃ মিমি নুসরত এর চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ বিতর্কে জড়ালেন দিলীপ ঘোষ

মসজিদে সন্ত্রাসী আক্রমণ অবশ্য নতুন কিছু নয়। সুন্নী সন্ত্রাসীরা শিয়াদের মসজিদে, বা আহমদিয়াদের মসজিদে প্রায়ই হামলা চালায়।

সন্ত্রাসী লোকটি উগ্র ডানপন্থী, বর্ণবাদী, সাদা নয় এমন মানুষদের, বিশেষ করে অভিবাসীদের ঘৃণা করে। নরওয়ের বর্ণবাদী সন্ত্রাসী এন্ডারস ব্রেইভিকের মতো। মুসলিমদের প্রতি ঘৃণাটা তাদের একটু বেশিই।

তৃণমূলের তারকা প্রার্থী নিয়ে অশ্লীল ও বিতর্কিত মন্তব্য ক্ষিতির

মুসলিম বিদ্বেষীরা ভেবে নিয়েছে সব মুসলিমই সন্ত্রাসী, সুতরাং একটি মুসলিমকে হত্যা করা মানে একটি সন্ত্রাসীকে হত্যা করা। অধিকাংশ নিরীহ নিরপরাধ মুসলিমকে শাস্তি পেতে হয় অল্প সংখ্যক মুসলিমের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য।

মানবতা ভূলুন্ঠিত হয়েছে বলে মুসলিমরা যেভাবে একজোট হয়ে হাহাকার করছে, ঠিক সেভাবেই কেন তারা হাহাকার করে না যখন মুসলিম সন্ত্রাসীদের হাতে অমুসলিমরা বা ইসলামে অবিশ্বাসীরা মরে? তাহলে কি এটাই ঠিক যে মুসলিমরা মারা গেলে তারা যতটা দুঃখ পায়, অমুসলিমরা মারা গেলে ততটা পায় না? মুসলিম বিদ্বেষীদের দেখেছি, মুসলিম মরলে ওরা দুঃখ তো পায়ই না, বরং খুশি হয়। এ অনেকটা আবার তেমনই হয়ে গেল না তো!

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভবিষ্যতের ভূত মুখ পোড়াল রাজ্য সরকারের

শুধু আমার পরিবারের বা আমার সম্প্রদায়ের লোক মরলে আমি কাঁদবো, অন্য কেউ মরলে আমার কিছু যায় আসে না , এ কোনও ভালো মানুষের কথা নয়।

মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা দীর্ঘকাল পেতে হলে মুসলিমদের শুধু ‘সন্ত্রাসী নই’–এই ট্যাগই যথেষ্ট নয়, মুসলিমদের প্রতি যেমন, অমুসলিমদের প্রতিও তাদের সমান সহমর্মী হতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ম্যায় ভি চৌকিদার হু, আমজনতাকে ভোটের স্লোগান জানিয়ে দিলেন মোদী

মুসলিমরা অমুসলিমদের দেশে যতটা স্বাধীনতা , সহযোগিতা, সম্মান পায়, ততটা কোনও মুসলিম দেশ থেকে পায় না। তাই যত ধর্মান্ধই হোক, তারা অমুসলিমদের দেশে বাস করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ তারকা যুদ্ধে বিজেপির বাজি শ্রাবন্তী, অগ্নিমিত্রা, চলছে জোর জল্পনা

সারা পৃথিবীর অমুসলিম লোক যেভাবে নিউজিল্যান্ডের নিরীহ মুসলিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে, যেভাবে সমব্যাথী হচ্ছে, মুসলিমদেরও এ থেকে শেখা উচিত। অমুসলিমদের নৃশংস মৃত্যু হলে মুসলিমদেরও এভাবে শোক প্রকাশ করা উচিত, এভাবে সমব্যাথী হওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ অর্জুনের হাত ধরে বারাকপুর লোকসভা ছিনিয়ে নিতে পারে বিজেপি

যারা মুসলানদের সন্ত্রাসী হওয়ার পেছনে আমেরিকা আর ইজরাইলএর কার্যকলাপকে দোষ দেয়, তারা কি এখন নিউজিল্যান্ডের সন্ত্রাসী লোকটির মসজিদে ঢুকে মুসলানদের হত্যা করার পেছনে, আইসিস, আল কায়দা, বা বোকো হারামের কার্যকলাপকে দোষ দিচ্ছে? যদি না দেয়, তাহলে নিশ্চয়ই কোথাও কোনও গন্ডগোল আছে।

আরও পড়ুনঃ মা মাটি মানুষ এখন শুধুই মানি মানি মানি

মুসলিমদের শুধু শিশু হলে চলবে না, এবার সময় হয়েছে প্রাপ্ত বয়স্কের মতো আচরণ করার, দায়িত্ববান হওয়ার। ‘আমার ধর্ম নিয়ে কথা বলা চলবে না,আমার আইন নিয়ে কথা বলা চলবে না, আমার পোশাক নিয়ে কথা বলা চলবে না, আমার খাবার নিয়ে কথা বলা চলবে না, আমার পশু-জবাই নিয়ে কথা বলা চলবে না, আমার সমাজের নারী-পুরুষ বৈষম্য নিয়ে কথা বলা চলবে না, আমার অনুভূতিতে কারো আঘাত দেওয়া চলবে না, আমার নবীকে আঁকা চলবে না, তাহলে মেরে ফেলবো, আগুন জ্বালিয়ে দেবো, দুনিয়া ধংস করে ফেলবো’… শিশুর মতো আবদার আর অসভ্যের মতো আচরণ!

আরও পড়ুনঃ মমতার প্রার্থী তালিকা নিয়ে গোপনে ক্ষোভ বাড়ছে জেলায় জেলায়

সভ্য হতে চাইলে শুধু নিজের নয়, পৃথিবীর সবার– সব ধর্মের, সব বর্ণের, সব লিংগের, সব ভাষার মানুষের মানবাধিকারে, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারে, তাদের মত প্রকাশের অধিকারে বিশ্বাস করতে হবে।

]]>
শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা https://thenewsbangla.com/taslima-nasrin-openes-the-mask-of-bengal-intellectuals-in-the-srijato-heckle-case-in-assam/ Tue, 15 Jan 2019 05:58:39 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5628 এবার শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের একহাত নিলেন তসলিমা নাসরিন। মঙ্গলবার সকালেই নিজের ফেসবুক পোস্টে তুলধনা করেছেন বাঙালি বুদ্ধিজীবিদের। অনেকে বলছেন এই লেখায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা নাসরিন। রাজনীতির রং দেখেই যে বাংলার বাংলার বুদ্ধিজীবিরা প্রতিবাদ করেন সেই অভিযোগই ফের করলেন এই বাংলাদেশের লেখিকা।

শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা/The News বাংলা
শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা/The News বাংলা

ঠিক কি লিখলেন তসলিমা নাসরিন? পড়ুনঃ

“কবি শ্রীজাতর ওপর আক্রমণ হয়েছে আসামের শিলচরে। বজরং দলের লোকেরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ইটবৃষ্টিও হচ্ছিল। পুলিশ তাঁকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে চলে যায়। এরপর শ্রীজাত বাক স্বাধীনতা নিয়ে বলেছেন, এটি থাকতেই হবে রাজ্যে। হ্যাঁ নিশ্চয়ই, এটি থাকতেই হবে। আমি চাই না শ্রীজাতর বাক স্বাধীনতা কেউ হরণ করুক, অথবা আর কারো বাক স্বাধীনতা।

শ্রীজাত নিজের বাক স্বাধীনতা চান, কিন্তু অন্যের বাক স্বাধীনতা কি চান? আমার বাক স্বাধীনতা? তাঁর রাজ্যে যখন আমার বাক স্বাধীনতা ভেঙ্গে চুরমার হয়েছিল, তখন শ্রীজাত তো নয়ই, বাক স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে যারা ভীষণ লাফায়, তাদের প্রায় কাউকেই মুখ খুলতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুনঃ

‘ত্রিশূলে কনডম’, অসমের শিলচরে হিন্দুত্ত্ববাদী বিক্ষোভের মুখে কবি শ্রীজাত

বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার

কবে যেন শ্রীজাত কোথায় বলেছেনও শুনেছি, কলকাতায় আমার না যাওয়াই উচিত। আমার চলাফেরার অধিকারও নেই। টাইমস অব ইণ্ডিয়া থেকে টাইমস লিট ফেস্টে আমাকে কলকাতায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল গত নভেম্বরে। শেষের দিকে ওরা চুপচাপ জানিয়ে দিয়েছে কলকাতায় সম্ভব নয়। ওরা হয়তো ভেবেছিল, সিপিএম তো অনেকদিন গত হয়েছে, হয়তো নতুন সরকার পুরোনো সরকারের ভুল ত্রুটি শুধরে নিয়েছে।

অনেকে বলে বিজেপি আমার পক্ষে, যেহেতু বিজেপি মুসলিম কট্টরপন্থীদের বিপক্ষে। ওদের সরল অংকটা এরকম, যেহেতু মুসলিম কট্টরপন্থীরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়, গত পঁচিশ বছর যাবত চাইছে, আর যেহেতু বিজেপি মুসলিম কট্টরপন্থীদের বিপক্ষে, তাই বিজেপি আমার পক্ষে।

শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু। সময় থাকলে টুইটারের মন্তব্য কলাম কেউ ঘুরে আসতে পারেন, ওখানে হিন্দু কট্টরপন্থীরা আমাকে লক্ষ করে প্রতিদিনই তাদের ঘৃণা ছুঁড়ছে, আমাকে ভারত ছাড়ার জন্য বলছে, যেন বাংলাদেশ চলে যাই, যেন পাকিস্তানে বা সৌদি আরবে চলে যাই। ওরা জানে আমি নাস্তিক, আমি ইসলাম মানি না, কিন্তু আমি অন্য কোনও ধর্মই যে মানি না, এমনকী হিন্দু ধর্মও নয়, তার ওপর হিন্দুর নারী বিরোধী কুসংস্কার নিয়ে প্রায়ই সরব হই, তা ওদের মোটেও পছন্দ নয়। তাই তারা চায় না, আমি ভারতে থাকি।

আরও পড়ুনঃ

নৃশংস নার্স, সেবাই যাদের ধর্ম তারাই পিটিয়ে মারল ১৬টি বাচ্চা কুকুর

ভয়াবহ নৃশংসতার নজির, পিটিয়ে পিটিয়ে মারা হয়েছে ১৭টি কুকুরকে

আমার ওপর আক্রমণ হলে, আমার বই নিষিদ্ধ হলে, আমাকে রাজ্য থেকে, এমনকী ভারত থেকে তাড়ালেও কেন প্রগতিশীল বলে খ্যাত শহরেও কোনও প্রতিবাদ হয় না, যে শহরটির জন্য আমি ইউরোপের বাস ত্যাগ করে চলে এসেছিলাম? এই প্রশ্নটির আমি অনেকদিন কোনও উত্তর পাইনি।

আমার এখন মনে হয়, কলকাতার হাতে গোনা কিছু মানুষ ছাড়া অশিক্ষিত শিক্ষিত, মূর্খ বুদ্ধিমান, অলেখক লেখক, মুসলমান হিন্দু, আস্তিক নাস্তিক বিশ্বাস করে, আমি অনাগরিক, সুতরাং আমার অত বাক স্বাধীনতা থাকার দরকার নেই, ভারত জায়গা দিয়েছে, তাতেই আমার খুশি হয়ে ভারতের গুণগান গাওয়া উচিত, দালাই লামা যেমন গান।

আমার (রিফিউজি) মুখে অত এই চাই সেই চাই মানায় না। অত নারী স্বাধীনতা নারী স্বাধীনতা করছো কেন, মুসলমান মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছো কর, হিন্দু মেয়েরা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে, ওদের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করো না। ও তোমার কাজ নয়, অতিথি অতিথির মতো থাকো।

আরও পড়ুনঃ

জেলাশাসকের স্ত্রী কাণ্ডে অপসারিত পুলিশ অফিসার পেলেন ‘মুখ্যমন্ত্রী সাহসী পুরস্কার’

বাংলায় ক্ষোভ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়াচ্ছে মোদী সরকার

হিন্দু মেয়েদের স্বাধীনতা নিয়ে যদি সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে হিন্দুরা করবে, তুমি কে হে মুসলমান হয়ে আমাদের জন্য কথা বলতে এসেছো? নাস্তিক বানাতে চাও, মুসলমানদের বানাও। হিন্দু ধর্ম অনেক উদার, এই ধর্ম প্রো উইমেন, দেখ না কতো দেবী পুজো করি আমরা! কলকাতায় কেন থাকতেই হবে তোমাকে, কলকাতায় তুমি জন্মেছো?

যেখানে জন্মেছো সেখানে যাওয়ার চেষ্টা কর। তাড়িয়ে দিয়েছে, তাড়িয়ে দিয়েছে, তাই বলে অত অভিযোগ করতে হবে কেন? দেশে তো আশ্রয় দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়? আবার বক বক কেন? অনাগরিকের বক বক নাগরিকদের সয় না, এমনকী প্রগতিশীল বলে খ্যাত নাগরিকদেরও নয়।

শত নাস্তিক হলেও আমি ওদের চোখে মুসলমান। খাতায় রিফুইজি নয়, রেসিডেন্ট স্টেটাস থাকলেও আমি ওদের চোখে রিফিউজি। সুইডেনের নাগরিক হলেও আমি ওদের চোখে বাংলাদেশি (তুচ্ছার্থে)। আমি অতিথি নই, নিজ খরচে থাকলেও, বছর বছর ট্যাক্স দিলেও ওদের চোখে আমি অতিথি। অতিথিদের ইন্টারনাল বিষয়ে নাক গলাতে হয় না, সুতরাং আমারও নাক গলানো চলবে না।

আরও পড়ুনঃ

সিবিআই থেকে দমকলে বদলি, প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন আইপিএস

পরকীয়া প্রেমের জেরে অজয় দেবগণের ফিল্ম স্টাইলে খুন

আমার রংটা সাদা হলে, ধর্মটা খ্রিস্টান হলে, ভাষাটা ইংরেজি হলে, বইগুলো ইংরেজিতে হলে, বাড়ি ইউরোপে হলে অবশ্য আমার বাক স্বাধীনতার জন্য প্রগতিশীল শহরে মিছিল হতো, বুদ্ধিজীবীরাও চেঁচাতেন।

আমার কি দেখা হয়নি সব? শ্রীজাতর ওপর কী হয়েছে? আমার ওপর তার চেয়ে লক্ষ গুণ বেশি অত্যাচার হয়নি? কেউ কেউ বলবে, হলে হোক, তুমি তো বিদেশি। একই ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে জন্ম হলেও আমি বিদেশি। আসলে আমার কথা বার্তা পছন্দ না হলেই আমি ‘বিদেশি’। বিদেশিদের সমস্যা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না, আমরা প্রগতিশীল, আমরা বাঙালি বুদ্ধিজীবি! বটে।”

এই ভাষাতেই নিজের ক্ষোভ উগলে দিলেন তাসলিমা নাসরিন। কলকাতার বুদ্ধিজীবী তো বটেই, কটাক্ষ করেছেন রাজ্য সরকারকেও। শ্রীজাতর জন্য যারা গলা ফাটাচ্ছেন তসলিমার জন্য তাঁরা চুপ কেন? হিন্দুত্ত্ববাদীদের বিরুদ্ধে কথা বললে ক্ষতি নেই, রাজ্যের বিরুদ্ধে বা মমতার বিরুদ্ধে কথা বললেই অনেক সুযোগ সুবিধা মিলবে না। সেই কারণেই কি? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

আরও পড়ুনঃ

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদে এক হিন্দু নারী

ভারতের কৃষকের মেয়ে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ

নতুন বছরের শুরুতেই খারাপ খবর, বড় বড় কোম্পানিতে কর্মী ছাঁটাই

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘ভাবনার বিপ্লব’ ভাবনা কস্তুরীর হাত ধরে

মমতার বাছাইয়ে কারা হবেন বাংলার ৪২টি লোকসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী

মোদীর প্রকল্পে আর টাকা দেবেন না মমতা, কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক তলানিতে

একদিনে বহিষ্কৃত দুই তৃণমূল সাংসদ, দিদিকে ছেড়ে মোদীর দলে আর কে কে

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>