Special Commando Forces – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 09 Mar 2019 11:17:12 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Special Commando Forces – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী https://thenewsbangla.com/indias-9-special-commando-forces-to-kill-the-enemy-in-moments-part-3/ Sat, 09 Mar 2019 11:02:02 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7901 ‘কম্যান্ডো’৷ একটা শব্দই ঝাঁকিয়ে দেয় সাধারণ মানুষকেও৷ যে কোন সাধারণ সেনাবাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালি, অনেক বেশি ক্ষিপ্র, চোখের পলক ফেলার আগেই শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পরতে সদা প্রস্তুত ভারতের এই কম্যান্ডোরা। বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় ভারতের ৯টি কম্যান্ডো বাহিনী যেন অধিক হিংস্র, ক্ষিপ্র ও গতিসম্পন্ন।

প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরা খুব বেশি পারদর্শী। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শত্রুর সামনে সাক্ষাৎ যম হয়ে উদয় হয়ে শত্রু বিনাশ করতে এদের জুড়ি মেলা ভার। বিপদ মোকাবিলায় এরা এতটাই ভয়ানক যে এই ৯ বাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর কম্যান্ডো বাহিনী হিসাবে গণ্য করা হয়।

পড়ুন প্রথম পর্বঃ শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী
পড়ুন দ্বিতীয় পর্বঃ শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, ভারতের এই ৯ কম্যান্ডো বাহিনীকে। তৃতীয় ও শেষ পর্বে আরও ৩ কম্যান্ডো বাহিনী সম্পর্কে সবকিছু জেনে নিন।

৭. প্যারা কম্যান্ডোঃ ১৯৬৬ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এই কম্যান্ডো ইউনিটটি তৈরি করা হয়েছিল। এই কম্যান্ডো বাহিনী হল ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্যারাশুট ডিভিশন। এদের কাজ হলো আকাশ থেকে ঝাঁপ দিয়ে শত্রুপক্ষের উপরে হামলা করে পদাতিক বাহিনীর অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

রোজ ৬০ কেজি ওজনের জিনিসপত্র পিঠে চাপিয়ে অন্তত ২০ কিলোমিটার দৌড়তে হয় এই কম্যান্ডো বাহিনীর সদস্যদের। সাড়ে তেত্রিশ হাজার ফুট উপর থেকে ঝাঁপ দিতে সক্ষম এরা। আকাশপথে শত্রুর এলাকায় অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে সমুদ্রপথে হামলায় দক্ষ এই বাহিনী। প্যারা কম্যান্ডোরা ভারতীয় সেনাবাহিনীর একমাত্র ইউনিট, যাদের শরীরে ট্যাটু আঁকার অনুমতি দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

১৯৬৫ সালে ভারত পাক যুদ্ধের সময় একটা কম্যান্ডো ইউনিট গড়া হয়৷ নাম দেওয়া হয় মেঘদূত ফোর্স। মেজর মেঘ সিং এর নেতৃত্বে এই কম্যান্ডো বাহিনী কাজ করেছিল। এই বাহিনী দারুণ কাজ করেছিল ভারত পাক যুদ্ধে। তারপরেই পাকাপাকি ভাবে পদাতিক বাহিনীর একটা কম্যান্ডো ফোর্স গড়ার প্রয়োজনীয়তা লক্ষ করা হয়। তারপরেই তৈরী হয় প্যারা কম্যান্ডো বাহিনী। বিমান বা হেলিকপ্টারে প্যারা কম্যান্ডোদের নামিয়ে দেওয়া হয় ঘটনাস্থলে। শত্রু বা জঙ্গীদের উপর নিমেষে প্রথম হামলাটা করে এই কম্যান্ডোরা।

১৯৭১ সালের ভারত পাক যুদ্ধে প্রথমবারের জন্য প্যারা কম্যান্ডোদের দেখা যায়। ৬ সদস্যের প্যারা কম্যান্ডো ২৪০ কিলোমিটার ভেতরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা অতর্কিতে হামলা চালায় পাক আর্মির উপর। একটা ছোট্ট কম্যান্ডো বাহিনী ৪৭৩ জন পাকিস্থানী সৈন্যকে মেরে ফেলে, ১৪০ জনকে আহত করে।

পাকিস্থানের স্পেশ্যাল সার্ভিস গ্রুপের ১৮ জন সদস্যকে আটক করে ফেলে এই কম্যান্ডো দলের সদস্যরা। ১৯৮৪ সালের অপারেশন ব্লু স্টারে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরেও জঙ্গীদের হঠাতে অতর্কিতে আক্রমণে নামে প্যারা কম্যান্ডোরা। দেশে বিদেশে বিভিন্ন অপারেশনে সফল ভাবে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে প্যারা কম্যান্ডো।

৮. কোবরা কম্যান্ডোঃ Commando Battalion for Resolute Action বা COBRA কম্যান্ডো। Central Reserve Police Force বা CRPF বাহিনীর এই কম্যান্ডো ফোর্সের সৃষ্টি হয়েছিল প্রধানত নকশাল ও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে। ‘হয় মরো না হয় মারো’, এটাই কোবরা কম্যান্ডো বাহিনীর মূলমন্ত্র। জঙ্গলের মধ্যে যে কোনো ধরনের গেরিলা যুদ্ধে সক্ষম এই বাহিনী।

২০০৮ সালে মূলত নকশাল ও মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। কোবরা কম্যান্ডোরা এতটাই দক্ষ যে, মুহূর্তের মধ্যে জঙ্গলে শত্রুর চোখে ধুলো দিতে পারে। তারা এমন পোশাক এবং মুখে রঙ মেখে অভিযানে নামে যে, চট করে জঙ্গলে তাদের দেখে ফেলা কঠিন। প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দিয়েও অভিযানে সক্ষম কোবরা কম্যান্ডোরা।

কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর অধীনে আসে কোবরা কম্যান্ডো বাহিনী। অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ইনসাস রাইফেল থেকে একে ৪৭, এক্স ৯৫-এর মতো আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত কম্যান্ডোরা। কোবরা কম্যান্ডোদের নিশানা এতটাই নিখুঁত যে, যে কোনও স্থান থেকে শত্রুকে গুলি করে খতম করা এদের কাছে জলভাত। যে কোন অস্ত্র চালানোর পাশাপাশি যে কোন বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার ট্রেণিং দেওয়া হয় কোবরা কম্যান্ডোদের।

৯. ফোর্স ওয়ান কম্যান্ডোঃ ২৬/১১ মুম্বাই হামলার পর এই কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। মুম্বাই পুলিশের এই কম্যান্ডো বাহিনীর মূল কাজ মুম্বইকে রক্ষা করা। বাণিজ্য নগরীর বুকে যে কোনো ধরনের সন্ত্রাস প্রতিরোধে এই বাহিনীকে তৈরি করা হয়েছে। ফোর্স ওয়ান-এর কম্যান্ডোদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে যে মাত্র ১৫ মিনিটে এরা শত্রুপক্ষের ওপরে হামলা চালাতে সক্ষম।

২০০৮ এর মুম্বাই সন্ত্রাসের পরই ঠিক হয় মুম্বাই পুলিশের নিজস্ব কম্যান্ডো বাহিনী গড়ে তোলা হবে। ২৬/১১ এ মুম্বাই অ্যাটাক থেকে শিক্ষা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই কম্যান্ডো বাহিনী। ২০১০ এ তৈরী হয় মুম্বাই পুলিশের ফোর্স ওয়ান কম্যান্ডো। এই মূহুর্তে ফোর্স ওয়ানে ৩০০ জন কম্যান্ডো আছে। মুম্বাই পুলিশ বাহিনীর সেরা অফিসারদের ট্রেণিং দিয়ে কম্যান্ডো তৈরী করা হয়।

একবার ফোর্স ওয়ান কম্যান্ডো বাহিনীতে যোগদানের জন্য ৩০০০ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র ২১৬ জনকে বেছে নেওয়া হয়। ঠিক NSG বা ন্যাশান্যাল সিকিউরিটি গার্ডের মতই গড়ে তোলা হয়েছে ফোর্স ওয়ানকে। ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের অফিসাররা ট্রেণিং দেয় ফোর্স ওয়ান কম্যান্ডোদের। মুম্বাই অ্যাটাকের মত কোন হামলা হলে প্রথমেই ফোর্স ওয়ানের কম্যান্ডোরাই ঝাঁপিয়ে পরবে।

যে কোন বিপদের মোকাবিলায় সক্ষম ভারতের এই ৯ কম্যান্ডো বাহিনী। অসম্ভবকে সম্ভব করাই এদের কাজ। অবাস্তবকে বাস্তব করা এদের বাঁ হাতের খেল। ভারতের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ভারতীয় কম্যান্ডোরাও আছেন দেশের ও দশের নিরাপত্তায়। চোখের নিমেষে শত্রুনিধন করে এঁরা দেশ ও দেশবাসীকে নিশ্চিত রক্ষা করবেন যে কোন বিপদ থেকে। এই ৯ কম্যান্ডো বাহিনীকে যমের মত ভয় পায় সীমান্ত পাড়ের জঙ্গিরাও। জয় ভারতের কম্যান্ডো।

]]>
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী https://thenewsbangla.com/indias-9-special-commando-forces-to-kill-the-enemy-in-moments-part-2/ Sat, 09 Mar 2019 09:46:49 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7884 ‘কম্যান্ডো’৷ একটা শব্দই ঝাঁকিয়ে দেয় সাধারণ মানুষকেও৷ যে কোন সাধারণ সেনাবাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালি, অনেক বেশি ক্ষিপ্র, চোখের পলক ফেলার আগেই শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পরতে সদা প্রস্তুত ভারতের এই কম্যান্ডোরা। বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় ভারতের ৯টি কম্যান্ডো বাহিনী যেন অধিক হিংস্র, ক্ষিপ্র ও গতিসম্পন্ন।

প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরা খুব বেশি পারদর্শী। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শত্রুর সামনে সাক্ষাৎ যম হয়ে উদয় হয়ে শত্রু বিনাশ করতে এদের জুড়ি মেলা ভার। বিপদ মোকাবিলায় এরা এতটাই ভয়ানক যে এই ৯ বাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর কম্যান্ডো বাহিনী হিসাবে গণ্য করা হয়।

পড়ুন প্রথম পর্বঃ শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী
পড়ুন তৃতীয় পর্বঃ শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, ভারতের এই ৯ কম্যান্ডো বাহিনীকে। প্রথম পর্বে ৩ কম্যান্ডো বাহিনীর পর দ্বিতীয় পর্বে আরও ৩ কম্যান্ডো বাহিনী সম্পর্কে সবকিছু জেনে নিন।

শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা

৪. NSG বা ব্ল্যাক ক্যাটস কম্যান্ডোঃ ১৯৮৪ সালে এই কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি হয়। এই কম্যান্ডো বাহিনীর মূল নাম ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি। মূলত এরা এলিট কম্যান্ডো বাহিনী। যারা জঙ্গি নিধনে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। কালো পোশাকের জন্যই এদের ব্লাক ক্যাটস কম্যান্ডো বলা হয়। জঙ্গি হামলার মোকাবিলা থেকে বিমান ছিনতাই, ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা দেওয়া, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে শত্রুপক্ষের হাত থেকে নিজেদের কব্জায় আনতে সক্ষম ব্ল্যাক ক্যাটস-এর কম্যান্ডোরা।

গত দুদশকেরও বেশি সময়ে অপারেশন ব্ল্যাক থান্ডার, অপারেশন অশ্বমেধ, অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো, অপারেশন সাইক্লোনের মতো অভিযানে অংশ নিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাটস। এনএসজির আবার দুটো ভাগ রয়েছে— স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ বা এসএজি এবং স্পেশাল রেঞ্জার গ্রুপ বা এসআরজি। এনএসজি কম্যান্ডো হওয়ার জন্য ৯ মাস ধরে প্রশিক্ষণ চলে। অপারেশনের সময় নিমেষের মধ্যে জঙ্গী বা শ্ত্রুর মাথায় সরাসরি গুলি করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷ জার্মানির GSG 9 কম্যান্ডো ফোর্সকে দেখেই তৈরী হয় ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড বা এনএসজি।

শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা

৫. SPG বা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ কম্যান্ডোঃ স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা SPG ভারত সরকারের এমন একটা কম্যান্ডো বাহিনী যারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারকে রক্ষা করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করাই SPG র কাজ। ছোট অস্ত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকেন স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা SPG র কম্যান্ডো। প্রধানমন্ত্রীকে যে কোন বিপদ থেকে ঘিরে ফেলে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাওয়াই এই কম্যান্ডোদের কাজ৷ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বডিগার্ডের কাজ করেন এঁরা। শত্রু খুব কাছ থেকে আক্রমণ করলে এই কম্যান্ডো বাহিনী পাঁচিলের ঢালের মত প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করবেন।

শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা

৬. স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স কম্যান্ডোঃ ১৯৬২ সালে তৈরী হয় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। এই কম্যান্ডো বাহিনীটি প্যারামিলিটারি ফোর্সের। ইন্দো-চায়না যুদ্ধের সময়ে এই কম্যান্ডো বাহিনীর গঠন হয়েছিল। এরা এমন এক প্রশিক্ষিত কম্যান্ডো বাহিনী, যারা শত্রুকে তাড়া করে এলাকা ছাড়া করে। মূলত স্থলপথে যুদ্ধের জন্য এদের প্রশিক্ষিত করা হয়। তবে, যে কোনো ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গরিলা যুদ্ধে ভয়ঙ্কর রকমের দক্ষ স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স।

১৯৭১ সালের ভারত পাকিস্থান যুদ্ধে স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের কম্যান্ডোরা উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছিল। চিটাগঞ্জ পাহাড় অঞ্চলে ভারতীয় সেনাদের সরাসরি লড়তে সাহায্য করেছিল স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। শুধু তাই নয়, এরাই এক বিশাল পাকিস্থান বাহিনীকে বার্মা পালিয়ে যাওয়া থেকে আটকে দেয় এবং এক বিশাল পাক বাহিনীকে আটকে রাখে। ভারত পাক যুদ্ধের পর প্রায় ৬০০ স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স এর কম্যান্ডোকে পুরস্কৃত করে ভারত সরকার।

পাহাড়ের উপরে লড়াই থেকে শুরু করে প্যারাসুটে ঝাঁপ দিয়ে শত্রুকে খতম করতে ওস্তাদ স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স। পণবন্দিদের উদ্ধারেরও প্রশিক্ষণ আছে এদের। এই কম্যান্ডো বাহিনীর একটি ইউনিটকে সিয়াচেন হিমবাহে পাহারার কাজে মোতায়েন করা হয়। ১৯৮৪ সালের অপারেশন ব্লু স্টারেও স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স কম্যান্ডো বাহিনীকে কাজে লাগান হয়।

]]>
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী https://thenewsbangla.com/indias-9-special-commando-forces-to-kill-the-enemy-in-momentspart-1/ Sat, 09 Mar 2019 08:05:18 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7883 ‘কম্যান্ডো’৷ একটা শব্দই ঝাঁকিয়ে দেয় সাধারণ মানুষকেও৷ যে কোন সাধারণ সেনাবাহিনীর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালি, অনেক বেশি ক্ষিপ্র, চোখের পলক ফেলার আগেই শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পরতে সদা প্রস্তুত ভারতের এই কম্যান্ডোরা। বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় ভারতের ৯টি কম্যান্ডো বাহিনী যেন অধিক হিংস্র, ক্ষিপ্র ও গতিসম্পন্ন।

প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এরা খুব বেশি পারদর্শী। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শত্রুর সামনে সাক্ষাৎ যম হয়ে উদয় হয়ে শত্রু বিনাশ করতে এদের জুড়ি মেলা ভার। বিপদ মোকাবিলায় এরা এতটাই ভয়ানক যে এই ৯ বাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ঙ্কর কম্যান্ডো বাহিনী হিসাবে গণ্য করা হয়।

পড়ুন দ্বিতীয় পর্বঃ শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী
পড়ুন তৃতীয় পর্বঃ শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, ভারতের এই ৯ কম্যান্ডো বাহিনীকে। প্রথম পর্বে ৩ কম্যান্ডো বাহিনী সম্পর্কে সবকিছু জেনে নিন।

শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা

১. Marine Commandos বা মার্কোসঃ মার্কোস, ভারতীয় নৌসেনা বাহিনীর কম্যান্ডো। ভারতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কম্যান্ডো বাহিনী। বিশ্বের সেরা ১০ কম্যান্ডো বাহিনীর মধ্যে এর স্থান ৭ এ। নৌসেনার কম্যান্ডো হলেও জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষে শত্রুর মোকাবিলায় ওস্তাদ এরা। এমনকি, গভীর জলের নীচেও এরা সমান তালে লড়াই করতে সক্ষম।

আমেরিকান নেভি সিলের মত ১৯৮৭ সালে এই কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি হয়। তারপর থেকে একের পর অসম্ভব অপারেশন করে দক্ষতায় সকলকে চমকে দিয়েছে এরা। শত্রুপক্ষ এদের ‘দাড়িওয়ালা ফৌজ’ বলেও ডাকে। জলে ‘মগরমাছ’ বা কুমীরের ক্ষিপ্রতায় শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পরে এরা। নৌসেনার সেরা অফিসারদের মার্কোস বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য পরীক্ষা হয়। মার্কোসের অন্তর্ভূক্তির পরীক্ষা মারাত্মক ও কঠোর।

মার্কোসের সদস্য হওয়ার জন্য যে শারীরিক পরীক্ষা দিতে হয়, তাকে ভয়ঙ্কর বললেও কম বলা হয়। জওয়ানদের প্রথমে শারীরিক সক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। যারা এই পরীক্ষায় পাশ করে, তারপর তাদের ৫ সপ্তাহের একটি ভয়ঙ্কর ট্রেণিং এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। যাকে বলা হয়, ‘হেলস উইক’ বা ‘নরকের সপ্তাহ’৷

যেখানে না ঘুমিয়ে কঠোর শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হয় জওয়ানদের। যেখানে তাদের শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে, দৌড়াতে দৌড়াতে, সামনে পিছনে গুলি ছোঁড়ার ট্রেণিং দেওয়া হয়। এমনকি কাঁচে ছবি দেখেও গুলি চালাতে শিখতে হয়। এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে গুলি চালানো শিখতে হয়।

ফাইন্যাল ট্রেণিং এ ৮০০ মিটার হাঁটু ডোবা কাদা রাস্তায় হামাগুড়ি দিয়ে যেতে যেতে গুলি চালানো শিখতে হয়। যেটাকে বলা হয় মৃত্যুর হামাগুড়ি। ২ বছরের মারাত্মক ট্রেণিং এর শেষে তবেই মার্কোস বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করা হয় একজন জওয়ানকে।

মার্কোস কম্যান্ডোরা বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করে। এই কম্যান্ডোদের হাতে থাকে ব্রাউনিং হাই পাওয়ার ৯mm পিস্তল, গ্লক ১৭ ৯mm সেমি অটোমেটিক পিস্তল, ইসরায়েলে তৈরি টাভোরটার ২১ অ্যাসল্ট রাইফেল সহ বিশ্বের ৩৭টি উন্নত অস্ত্র। যেহেতু জলে থেকে লড়াই করে মার্কোস, তাই তাদের সমস্ত অস্ত্র ওয়াটারপ্রুফ। জলের তলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকলেও এদের অস্ত্রের কিছু হয় না।

হেলিকপ্টার, সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ সহ যে কোন জায়গা থেকেই অ্যাটাক করতে পারে মার্কোস। মার্কোস বাহিনীর কম্যান্ডোদের আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে আমেরিকান নেভি সিল ও ব্রিটিশ স্পোশাল ফোর্সের সঙ্গে ট্রেণিং হয়। অপারেশন পবন, অপারেশন ক্যাকটাস, অপারেশন লীচ, অপারেশন তাশা, অপারেশন সাওন সহ বিভিন্ন অপারেশনে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মার্কোস। অবাস্তবকে বাস্তবে ও অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করার আর এক নাম মার্কোস।

শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা

২. গরুড় কম্যান্ডোঃ রামায়ণে কথিত আছে, সীতাহরণের সময় রাবণ এর মত প্রবল প্রতাপশালি যোদ্ধাকে প্রচন্ড লড়াইয়ের মুখে ফেলেছিলেন গরুড়। পুরাণে উল্লিখিত গরুড়ের নামেই এই কম্যান্ডো বাহিনীর নাম। ভারতীয় বায়ুসেনার অধীনে এই কম্যান্ডো বাহিনী। ‘আক্রমণই হলো বাঁচার মন্ত্র’, এই আদর্শেই অনুপ্রাণিত গরুড় কম্যান্ডো বাহিনী। বায়ুসেনার যে কোন আক্রমণে সামনের সারিতে থাকে এই কম্যান্ডো বাহিনী।

২০০১ সালে জম্মু কাশ্মীরে বায়ুসেনার দুটি বিমানঘাটিতে পরপর জঙ্গী আক্রমণ হয়। ২০০৪ সালে এইসব হামলা প্রাথমিক পর্যায়ে ঠেকাতেই বায়ুসেনার নিজস্ব এই কম্যান্ডো বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল। এদের প্রশিক্ষণ এতটাই কঠিন যে, একজন বায়ুসেনা জওয়ানের পুরোপুরি গরুড় কম্যান্ডো হতে অন্তত ৩ বছর সময় লাগে। গরুড়ের মতই আকাশ থেকে আচমকা নেমে এসে শত্রু নিধন করে এই কম্যান্ডো বাহিনী।

অ্যান্টিহাইজ্যাকিং থেকে শুরু করে প্যারাট্রুপিং, এমনকি বরফের মধ্যেও লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় গরুড় কম্যান্ডোদের। নৌসেনার কমান্ডো বাহিনী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর অ্যান্টিইনসার্জেন্সি এবং জঙ্গল ওয়ার-ফেয়ার স্কুলেও গরুড় কম্যান্ডোদের প্রশিক্ষণ দেয়ানো হয়। পাঠানকোট বায়ু সেনা ঘাটিতে জঙ্গিদের খতম করতে নামানো হয়েছিল গরুড় কম্যান্ডোদের।

শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা
শত্রুকে নিমেষে নিকেশ করে ভারতের সেরা ৯ কম্যান্ডো বাহিনী/The News বাংলা

৩. ঘাতক কম্যান্ডোঃ ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর কম্যান্ডো এরা। ২০ সদস্যের এই কম্যান্ডো বাহিনীর প্রাথমিক লক্ষ্যই হলো সঠিক নিশানায়, চোখের পলকে হামলা করা এবং শত্রুপক্ষকে হতভম্ব করে দেওয়া। মূল বাহিনীর সাহায্য ছাড়াই যাতে এরা অভিযান চালাতে পারে, সেভাবে প্রশিক্ষিত করা হয় এদের। দুর্গম পাহাড়ের গা বেয়ে যে কোনো উচ্চতায় উঠে যেতে পারে ঘাতক কম্যান্ডো বাহিনী।

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে এই কম্যান্ডো বাহিনীকে নামানো হয়েছিল। এদের হাতেও টেভরটার ২১, ইনসাস রাইফেল, একে ৫৬ জাতীয় রাইফেল থাকে৷ সঙ্গে থাকে স্নাইপার রাইফেল। সঙ্গে থাকে ছোট পিস্তলও। মূল সেনাবাহিনীর আক্রমণের আগেই বাহিনীর ঘাতক কম্যান্ডোদের হাতে ছিন্নবিছিন্ন হয়ে যায় শত্রু বাহিনী।

এঁরা রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড লঞ্চার নিয়েও আক্রমণ করেন সীমান্ত শত্রুদের। গ্রেনেডিয়ার যোগেন্দ্র সিং যাদব ছিলেন একজন ঘাতক কম্যান্ডো যিনি ১৮ গ্রেনেডিয়ারের সদস্য ছিলেন। কার্গিল যুদ্ধে টাইগার হিল দখলের সময় তাঁর ঘাতক বাহিনীই আগে ঝাঁপিয়ে পরেছিল টাইগার হিলের শত্রুদের উপর। তিনি পরমবীর চক্রও পান।

]]>