Siliguri Hospital – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 29 Nov 2018 05:57:25 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Siliguri Hospital – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 পাপ ঢাকতে শিশু বলিদান, জন্মেই অনাথ শিশুরা অসহায় https://thenewsbangla.com/child-sacrifice-to-cover-sins-orphaned-children-are-helpless-in-hospitals/ Thu, 29 Nov 2018 05:43:47 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3262 কৃষ্ণা দাস, The News বাংলা,শিলিগুড়িঃ ফুটফুটে ৫ টি শিশু। কিন্তু, মায়ের পেট থেকে বেরিয়েই তারা অনাথ। কারোরই বাবা-মায়ের কোন খোঁজ নেই। নিজেদের পাপ ঢাকতে এই ৫ শিশুকে ত্যাগ করেছে তাদের বাবা-মায়েরা। আর তাদের নিয়েই সমস্যায় পড়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ সাসপেন্ড ১১, বিষ মদে মানুষ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১১

আমাদের সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, কোন কন্যা সন্তান জন্মালেই তাকে ফেলে দেওয়া, মেরে ফেলা, দান করে দেওয়া বা মেনে না নেওয়ার প্রবনতা রয়েছে। কিন্তু শিলিগুড়ি হাসপাতালের ক্ষেত্রে সম্পুর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। শিলিগুড়ি হাসপাতালে যে পাঁচটি ফেলে দেওয়া শিশু বেড়ে উঠছে, তাদের মধ্যে তিনটিই শিশুপুত্র, দুটি শিশুকন্যা। তাই বোঝাই যায়, নিজেদের পাপ ঢাকতেই ফেলে দেওয়া হয়েছে শিশুদের।

Image: The News বাংলা
Image: The News বাংলা

হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিছানায় শুয়ে ফুটফুটে শিশুগুলো তাদের পিতা মাতাকে খুঁজে চলেছে করুন নয়নে। কোনটার বয়স চার মাস, কোনটা আবার দেড় বছর। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষায় হাসপাতালের এই বিছানাই তাদের এখন একমাত্র ভরসা।

আরও পড়ুনঃ সাংসদ আলুওয়ালিয়াকে পাহাড়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ বিনয় তামাংয়ের

হাসপাতালের আয়া ও নার্সদেরই নিজেদের মা ভেবে তাদের কোলেই আদর পেতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কিন্তু কতক্ষনই তা সম্ভব! হাসপাতালের অন্যান্য রোগীদের শুশ্রুষা দিতে গিয়ে শিশুদের সবসময় দেখাশোনা করা সম্ভবও হয় না তাদের। তখন ছোট্ট ছোট্ট এই শিশুগুলি কাঁদতে কাঁদতেই ঘুমিয়ে পড়ে।

Image: The News বাংলা
Image: The News বাংলা

জলপাইগুড়ি হোমকান্ডের পর শিশুপাচার চক্রের দুর্নীতি রুখতে রাজ্যের হোমগুলিতে শিশু আদান-প্রদানে কড়া আইন প্রনয়ন করা হয়েছে। যার ফলে, পিতামাতাহীন অনাথ বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছে শিলিগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ Exclusive: সাউথ সিটি মলে বাচ্চাকে মায়ের দুধ খাওয়ান নিষিদ্ধ

এদিকে সিডব্লিউসিত ও জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে জানিয়েও বাচ্চাদের অ্যাডপ্ট করতে গড়িমসি করছে সিডব্লিউসি। বাচ্চা দত্তক নেওয়ার জন্য হাসপাতালে কোনো গাইডলাইন না থাকায় সিডব্লিউসির ওপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এর।

Image: The News বাংলা
Image: The News বাংলা

তাই, শিলিগুড়ি হাসপাতালে ফেলে যাওয়া পাঁচ পাঁচটি শিশুকে নিয়ে রীতিমত দুশ্চিন্তায় রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই একটি শিশু ডায়রিয়াতেও ভুগছে। তার চিকিৎসা চলছে। কিন্তু, এভাবে হাসপাতালে পরে থাকলে যে কোন দিন বড় ধরনের সংক্রমনের শিকার হতে পারে শিশুগুলি। সিডব্লিউসি কবে চাইল্ড প্রটেকশান অ্যাক্ট অনুযায়ী শিশুগুলিকে নিয়ে যায় সেদিকেই তাকিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ সিঙ্গুরের মাটি থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু বামেদের

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে শিশু বিভাগে রয়েছে একটি শিশু কন্যা ও দুটি শিশু পুত্র। অন্যদিকে এসএনসিইউ তে রয়েছে একটি শিশুকন্যা ও একটি শিশু পুত্র। শিশুগুলির খাওয়া, পড়া, ওষুধ ও পোশাকের অভাব না থাকলেও অভাব রয়েছে তাদের নিরাপত্তা আর দেখভালের। হাসপাতাল
কর্তৃপক্ষ এর আশঙ্কা, যে কোনো সময় হাসপাতালের কোন কর্মী মোটা টাকার প্রলোভনে শিশুগুলিকে বাইরে পাচার করে দিতে পারে।

Image: The News বাংলা
Image: The News বাংলা

হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মন্ডল জানান, একবার সে চেষ্টাও হয়েছিল। একটি শিশুর পিতা-মাতা সেজে এক দম্পতি হাসপাতালে এসে শিশুটির দাবী করেন। কিন্তু উপযুক্ত প্রমান চাইতেই তারা চম্পট দেয়। কিন্তু হাসপাতালে এভাবে শিশুগুলোকে রাখার ক্ষেত্রে এক তো তাদের সর্বক্ষণ দেখাশোনার জন্য লোক থাকতে হয়। এতে কাজের সময় অসুবিধা হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ একে ৪৭ এর গুলি বুকে নিয়েও কাসভকে ছাড়েন নি তুকারাম

অন্যদিকে হাসপাতালে নানা ধরনের রোগীদের নিত্য আনাগোনা। তার মধ্যে ছোঁয়াচে রোগীর সংখ্যাও কম নয়। এই বয়েসে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের শরীরে রোগ সংক্রামিত হতে পারে। যদিও হাসপাতালে নার্স ও আয়াদের কাছ থেকে মাতৃতুল্য স্নেহে বেড়ে উঠছে তারা।

Image: The News বাংলা
Image: The News বাংলা

কিন্তু হাসপাতালে রোগীর চাইতে বেডের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় সেখানে পাঁচটি শিশুর জন্য আলাদা বেড রাখতে গেলেও সমস্যা হচ্ছে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুগুলিকে সিডব্লিউসি অ্যাডাপ্ট করে নিক। তারপর চাইন্ড প্রটেকশান অ্যাক্ট মেনে কেউ শিশুগুলিকে দত্তক নিতে পারে।

তবে হাসপাতাল থেকে শিশুগুলিকে দত্তক দেওয়ার কোনো অধিকার নেই বলে সুপার অমিতাভ মন্ডল জানান। শিশুগুলিকে কিভাবে দত্তক দেওয়া হবে তা সম্পুর্ন সিডব্লিউসি ঠিক করবে। বর্তমানে শিশুগুলিকে যত শীঘ্র সম্ভব সিডব্লিউসির হাতে তুলে দিতে চায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

]]>
ইঁদুর বাদুরের উপদ্রবে বন্ধ হয়ে গেল হাসপাতালের একটি বিভাগ https://thenewsbangla.com/department-of-a-hospital-stopped-by-rats-and-bats/ Mon, 26 Nov 2018 16:59:49 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3158 The News বাংলা, শিলিগুড়িঃ ইঁদুর বাদুরের উপদ্রবের মধ্যেই হাসপাতালে খুলছে ব্লাড সেপারেশান বিভাগ। শিলিগুড়ি হাসপাতালে একদিকে যেমন একটি বিভাগে ইঁদুর বাদুরের উপদ্রব। অন্য দিকে হাসপাতালে খুলছে ব্লাড সেপারেশান বিভাগ।

ডেঙ্গুর রক্ত পরীক্ষার জন্য আর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ওপর নির্ভর করতে হবে না শিলিগুড়িবাসীকে। জানুয়ারী মাস থেকেই শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালেই চালু হতে চলেছে ব্লাড কমপোনেন্ট সেপারেশান সিস্টেম। সোমবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে রোগি কল্যান সমিতির বৈঠক শেষে চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য একথা জানালেন। সেইসঙ্গে তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত দিয়েই এই ইউনিটের শুভ সূচনা হতে চলেছে।

Image: The News বাংলা
Image: The News বাংলা

গোটা রাজ্যের পাশাপাশি শিলিগুড়িতেও, সম্প্রতিককালে বেশ কয়েক বছর ধরেই মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। প্রতি বছরই প্রচুর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শিলিগুড়িতে ডেঙ্গু হয়েছে কিনা তা জানতে রক্ত পরীক্ষার জন্য হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ, নয় প্রাইভেটে ল্যাব থেকে টেস্ট করতে হয় রোগীদের।

এদিকে শহর থেকে শহরতলী সর্বত্র ডেঙ্গুর টেস্ট করাতে শয়ে শয়ে মানুষ মেডিকেল কলেজে আসে। এর ফলে একদিকে যেমন রক্ত পরীক্ষার নমুনা পেতে দেরী হয় অন্যদিকে সঠিক সময়ে টেস্ট রিপোর্ট না পেয়ে চিকিৎসাতেও বিলম্ব হয়।

সেই সমস্যা সমাধানে এবার উদ্যোগী হলো রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। সোমবার জেলা হাসপাতালে রোগি কল্যান সমিতির বৈঠক শেষে রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য জানান,’সামনের বছর জানুয়ারী মাসেই শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ব্লাড কমপোনেন্ট সেপারেশান সিস্টেম চালু হয়ে যাবে। সমস্ত বিষয়টি স্টেট ব্লাড ট্রান্সপ্লান্ট কাউন্সিলের দায়িত্বে থাকবে’।

এদিকে, নতুন একটি বিভাগ চালু করতে উদ্যোগী হলেও পুরোনো একটি বিভাগ ইঁদুর, বাদুরের উপদ্রবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে। অভিযোগ, সেই লজ্জা ঢাকতে বন্ধ হওয়ার তারিখ মুছে আবার বদল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে বেশ কিছুদিন আগে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন বসানো হয়। কিন্তু অনেকদিন আগেই ইনটারনাল ডিজিটাল এক্সরে মেশিনের মধ্যে ইঁদুর ঢুকে মেশিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেটে দেয়। সেই থেকে ডিজিটাল এক্সরে মেশিন পরিসেবা বন্ধ হয়ে রয়েছে হাসপাতালে। কয়েকমাস পার হয়ে গেলেও বাইরে বোর্ড লাগানো রয়েছে সাতদিন ধরে পরিষেবা বন্ধ।

রুদ্রবাবু হতাশ কন্ঠে বলেন, ‘কি করব ইঁদুরের উৎপাতের হাত থেকে নিস্তার পাবার পথ পাচ্ছি না’। কিন্তু তিনি জানান, ‘ব্লাড কমপোনেন্ট সেপারেসান সিস্টেমের ঘর তৈরী হয়ে গিয়েছে। সমস্ত যন্ত্রপাতি চলে এসেছে। জানুয়ারী মাসেই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। তবে সেক্ষেত্রে ইঁদুরের উৎপাতে কয়েকদিন পরিষেবা দেওয়ার পরই মুখ থুবড়ে পড়বে নাতো নতুন সিস্টেমটি? সেটাই এখন চিন্তার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে শহরবাসীর।

]]>