Shyamaprasad Mukherjee Important Role – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 23 Jun 2022 05:10:11 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Shyamaprasad Mukherjee Important Role – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 বাংলার বাঘের ছেলে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ভূমিকার কথা জানুন ও জানান https://thenewsbangla.com/shyamaprasad-mukherjee-most-important-role-of-the-creation-of-west-bengal-out-of-pakistan/ Thu, 23 Jun 2022 05:08:08 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15675 বাংলার বাঘের ছেলে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের; পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ভূমিকার কথা জানুন। ২৩শে জুন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মহাপ্রয়াণের দিন। অসংখ্য অজানা সত্য ঘটনা রয়েছে; পশ্চিমবঙ্গের ‘ত্রাতা’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে। জেনে নিন, পশ্চিমবঙ্গ তৈরির কথা ও বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জন্মদাতার ভুমিকার কথা। আপনারা সেই সত্য ইতিহাস জানুন ও জানান।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বাবা ‘বাংলার বাঘ’; যিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যও বটে; স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সুযোগ্য পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। স্বাধীনতার আগেই পূর্ব বঙ্গপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী; স্বাধীনতার পর নেহেরু সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মন্ত্রী। একসময় সামলেছেন; কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদও। পরবর্তীতে তৈরি করেন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনসঙ্ঘ। যা আজ ভারতীয় জনতা পার্টিতে রূপান্তরিত হয়ে; বর্তমানে ভারতের শাসক দল। এহেন বর্ণময় যার জীবন; তাঁর পশ্চিমবঙ্গের রূপায়ণে ভূমিকার কথা আমরা বাংলার কটা মানুষ মনে রেখেছি?

একটু শুরু থেকে শুরু করা যাক। ১৯৩৫ এর ভারত শাসন আইন অনুযায়ী; বাংলাকে স্বতন্ত্র প্রদেশের মর্যাদা দেওয়া হয়। স্বাধীনতা পূর্বে মু’সলিম লীগ সবসময় চেয়ে এসেছিল; বাংলা যাতে ভাগ না হয়। এবং বাংলার পুরোভাগই যাতে; ধ’র্মের ভিত্তিতে গঠিত হওয়া দেশ পা’কিস্তানের অন্তর্গত হয়। তার সমস্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল মুসলিম লীগ। কারণ স্বাধীনতার প্রাক মুহূর্তে; পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের আলাদা বিভাজন ছিল না।

স্বতন্ত্র প্রদেশ হবার দরুন এবং সামগ্রিকভাবে অখন্ড বাংলায় মু’সলিম অ’ধ্যুষিত হবার কারনে; সমগ্র বাংলার পা’কিস্তানে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানায় মু’সলিম লীগ। কিন্তু অখন্ড বাংলার পশ্চিমাংশ ছিল হি’ন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। মু’সলিম লীগের দাবির মুখে বাংলার পশ্চিমাংশের জনগনের ত্রাতার ভূমিকায়; অবতীর্ণ হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বাংলার পশ্চিমাংশের এই সংকটের সময়ই; পশ্চিমবাংলার রক্ষাকারী হিসেবে আবির্ভাব হল তাঁর।

প্রথমে ভারত ভাগের প্রবল বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও; পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বুঝতে পারেন, মু’সলিম লীগের দেশভাগের মরিয়া নীতি এবং ধ’র্মের উ’স্কানির সামনে ভারত ভাগ এক অনিবার্য পরিণতি হতে চলেছে। তখনই তিনি ঠিক একই দাবি নিয়ে; বাংলা ভাগের দাবি তুলে পশ্চিমভাগকে ছি’নিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর হন। ১৯০৫ সালে প্রথম বাংলা ভাগের সময়; ব্রিটিশরা প্রশাসনিক কারণ দেখিয়েছিল পরবর্তীতে মূলত পশ্চিমভাগের চাপে ১৯১১ তে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কিন্তু দ্বিজাতি তত্বের ওপর ভিত্তি করে; ভারত ভাগের সময় বাংলার বিভাজনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছিল।

আরও পড়ুন; কলকাতা জানতেই পারেনি, তার ‘পাগল প্রেমিক’ ছেড়ে চলে গেল চিরবিদায়ে

সেই সময় বঙ্গ প্রদেশের মু’সলিম লীগ নেতা; হোসেন সুরাবর্দী স্বাধীন বাংলার দাবি তুললেন। যা ভারত কিংবা পা’কিস্তান কারোর সাথেই যাবেনা। সুরাবর্দী জানতেন যে বাংলা ভাগ হলে; অর্থনৈতিক ভাবে পূর্ব ভাগের ক্ষতি। কারণ কয়লা খনি, পাটকল, শিল্প প্রভৃতির বেশির ভাগটাই পশ্চিমভাগে পড়ছে। তারপর তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে বড় শহর, বন্দর ও বাণিজ্য নগরী কলকাতাও হাতছাড়া হতে চলেছে। কিন্তু মুশকিল হলো, তার এই নীতি তার দলের নীতির বিরদ্ধে যাচ্ছিল।

প্রথম দিকে বর্ধমানের মু’সলিম লীগ নেতা আবুল কাশিম; তাকে সমর্থন করে। কিন্তু অন্য দুই নেতা নুরুল আমিন ও আক্রম খান এর বিরোধিতায় সরব হলো। অবাক করে মহম্মদ আলি জিন্নাহ ব্যপারটির গুরুত্ব বুঝে; তাকে নীরবে সমর্থন দিলেন। শুরু হল লড়াই। কংগ্রেস নেতৃত্ব তৎক্ষনাৎ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করল। গুটিকয়েক নেতা এর সমর্থন করলেন; যার মধ্যে ছিলেন নেতাজির দাদা শরৎ বোস ও কিরণ শংকর রায়। পন্ডিত নেহেরু এনং সর্দার প্যাটেল; এরকম দাবি উড়িয়ে দিলেন।

প্রবল বিরোধিতা শুরু করলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি বোঝালেন এটা মু’সলিম লিগের চাল। মর্যাদাপূর্ণ কলকাতা হাতছাড়া হওয়া ও পশ্চিমভাগের দখল হারানোর ভয়ে; মু’সলিম লীগ তথা জিন্না সুরাবর্দীকে ঢাল করে এই চাল চেলেছেন। স্বাধীন বঙ্গ আসলে পা’কিস্তানের প্রভাবেই চলবে। তাদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি আরও বললেন, তিনি আলাদা পশ্চিমবঙ্গ চান; যা জিন্নার তথা পা’কিস্তানের প্রভাব থেকে সর্বৈব মুক্ত হবে।

পা’কিস্তানের হাত থেকে বাংলার পশ্চিম অংশকে রক্ষা করতে; তিনি মরিয়া হয়ে উঠলেন। এই দাবির ভিত্তিতে বাংলার বিধানসভায়; ৩টি পৃথক ভোট সংগঠিত হয়েছিল। কি কি সেশন; কারা ভোট দিয়েছিল; কি কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; সেই তিনটি ভোট থেকে? দেখুন একনজরে।

১) জয়েন্ট সেশন; এখানে সমস্ত সদস্যদের ভোটে ১২৬-৯০ ব্যবধানে ভারতীয় কন্সটিটুয়েন্ট এসেম্বলিতে যোগদানের বিপক্ষে রায় দেওয়া হল।
২) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যদের সেশন; এখানে ১০৬-৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেওয়া হল। এবং পরিবর্তে পাকিস্তানের কনস্টিটুয়েন্ট এসেম্বলিতে যোগদানের পক্ষে মত দেওয়া হল।
৩) অমুসলিম এলাকার সদস্যদের সেশন; এখানে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে রায় গেল। মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান অনুযায়ী; বাংলা ভাগের পক্ষে যেকোন সেশনের একটির সিঙ্গেল মেজরিটি ভোটের ফলস্বরূপ; বাংলা ভাগের পক্ষে সায় দেওয়া হল।

বাউন্ডারি কমিশনের প্রধান স্যার রাডক্লিফের তত্বাবধানে; শুরু হল বঙ্গ বিভাজনের তোড়জোড়। ঠিক হল, ১৪ ও ১৫ ই আগস্ট যথাক্রমে পা’কিস্তান ও ভারতকে স্বাধীনতা হস্তান্তর করা হবে; ১৯৪৭ এর ভারত স্বাধীন আইন অনুসারে।

জিন্নার ডাইরেক্ট একশন ডে, দা’ঙ্গা’র রাজনীতি এবং ধ’র্মীয় বি’ভাজনকা’মী এ’জেন্ডা দেখে; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন; বাংলার সংখ্যাল’ঘু অমু’সলিমরা ধ’র্মীয় কারণে বিভক্ত পা’কিস্তানে সুরক্ষিত নয়। তাই পশ্চিমবঙ্গের দাবি থেকে তিনি সরেন নি। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে; তিনি নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছিলেন; পশ্চিমবঙ্গের প্রাণপুরুষ হিসেবে।

সম্পাদকীয় লিখলেনঃ অভিরূপ চক্রবর্তী (লেখা ও তথ্য সম্পূর্ণ লেখকের)

]]>
বাংলার বাঘের ছেলে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ভূমিকার কথা জানুন https://thenewsbangla.com/shyamaprasad-mukherjee-important-role-of-the-creation-of-west-bengal/ Mon, 24 Jun 2019 07:13:39 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14304 ২৩শে জুন ছিল, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মহাপ্রয়াণের দিন। অসংখ্য অজানা সত্য ঘটনা রয়েছে; পশ্চিমবঙ্গের ‘ত্রাতা’ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে। জেনে নিন, পশ্চিমবঙ্গ তৈরির কথা ও বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জন্মদাতার ভুমিকার কথা।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বাবা ‘বাংলার বাঘ’; যিনি কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যও বটে; স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সুযোগ্য পুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। স্বাধীনতার আগেই পূর্ব বঙ্গপ্রদেশের অর্থমন্ত্রী; স্বাধীনতার পর নেহেরু সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের মন্ত্রী। একসময় সামলেছেন; কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদও। পরবর্তীতে তৈরি করেন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনসঙ্ঘ। যা আজ ভারতীয় জনতা পার্টিতে রূপান্তরিত হয়ে; বর্তমানে ভারতের শাসক দল। এহেন বর্ণময় যার জীবন; তাঁর পশ্চিমবঙ্গের রূপায়ণে ভূমিকার কথা আমরা বাংলার কটা মানুষ মনে রেখেছি?

একটু শুরু থেকে শুরু করা যাক। ১৯৩৫ এর ভারত শাসন আইন অনুযায়ী; বাংলাকে স্বতন্ত্র প্রদেশের মর্যাদা দেওয়া হয়। স্বাধীনতা পূর্বে মুসলিম লীগ সবসময় চেয়ে এসেছিল; বাংলা যাতে ভাগ না হয়। এবং বাংলার পুরোভাগই যাতে; ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত হওয়া দেশ পাকিস্তানের অন্তর্গত হয়। তার সমস্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিল মুসলিম লীগ। কারণ স্বাধীনতার প্রাক মুহূর্তে; পূর্ববঙ্গ পশ্চিমবঙ্গের আলাদা বিভাজন ছিল না।

স্বতন্ত্র প্রদেশ হবার দরুন এবং সামগ্রিকভাবে অখন্ড বাংলায় মুসলিম অধ্যুষিত হবার কারনে; সমগ্র বাংলার পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানায় মুসলিম লীগ। কিন্তু অখন্ড বাংলার পশ্চিমাংশ ছিল হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুসলিম লীগের দাবির মুখে বাংলার পশ্চিমাংশের জনগনের ত্রাতার ভূমিকায়; অবতীর্ণ হলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বাংলার পশ্চিমাংশের এই সংকটের সময়ই; পশ্চিমবাংলার রক্ষাকারী হিসেবে আবির্ভাব হল তাঁর।

প্রথমে ভারত ভাগের প্রবল বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও; পরে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বুঝতে পারেন, মুসলিম লীগের দেশভাগের মরিয়া নীতি এবং ধর্মের উস্কানির সামনে ভারত ভাগ এক অনিবার্য পরিণতি হতে চলেছে। তখনই তিনি ঠিক একই দাবি নিয়ে; বাংলা ভাগের দাবি তুলে পশ্চিমভাগকে ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর হন। ১৯০৫ সালে প্রথম বাংলা ভাগের সময়; ব্রিটিশরা প্রশাসনিক কারণ দেখিয়েছিল পরবর্তীতে মূলত পশ্চিমভাগের চাপে ১৯১১ তে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। কিন্তু দ্বিজাতি তত্বের ওপর ভিত্তি করে; ভারত ভাগের সময় বাংলার বিভাজনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছিল।

সেই সময় বঙ্গ প্রদেশের মুসলিম লীগ নেতা; হোসেন শহীদ সুরাবর্দী স্বাধীন বাংলার দাবি তুললেন। যা ভারত কিংবা পাকিস্তান কারোর সাথেই যাবেনা। সুরাবর্দী জানতেন যে বাংলা ভাগ হলে; অর্থনৈতিক ভাবে পূর্ব ভাগের ক্ষতি। কারণ কয়লা খনি, পাটকল, শিল্প প্রভৃতির বেশির ভাগটাই পশ্চিমভাগে পড়ছে। তারপর তৎকালীন ভারতের সবচেয়ে বড় শহর,বন্দর ও বাণিজ্য নগরী কলকাতাও হাতছাড়া হতে চলেছে। কিন্তু মুশকিল হলো, তার এই নীতি তার দলের নীতির বিরদ্ধে যাচ্ছিল।

প্রথম দিকে বর্ধমানের মুসলিম লীগ নেতা আবুল কাশিম তাকে সমর্থন করে। কিন্তু অন্য দুই নেতা নুরুল আমিন ও আক্রম খান এর বিরোধিতায় সরব হলো। অবাক করে মোহাম্মদ আলী জিন্না ব্যপারটির গুরুত্ব বুঝে; তাকে নীরবে সমর্থন দিলেন। শুরু হল লড়াই। কংগ্রেস নেতৃত্ব তৎক্ষনাত এই দাবি প্রত্যাখ্যান করল। গুটিকয়েক নেতা এর সমর্থন করলেন; যার মধ্যে ছিলেন নেতাজির দাদা শরৎ বোস ও কিরণ শংকর রায়। পন্ডিত নেহেরু এনং সর্দার প্যাটেল এরকম দাবি উড়িয়ে দিলেন।

প্রবল বিরোধিতা শুরু করলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি বোঝালেন এটা মুসলিম লিগের চাল। মর্যাদাপূর্ণ কলকাতা হাতছাড়া হওয়া ও পশ্চিমভাগের দখল হারানোর ভয়ে; মুসলিম লীগ তথা জিন্না সুরাবর্দীকে ঢাল করে এই চাল চেলেছেন। স্বাধীন বঙ্গ আসলে পাকিস্তানের প্রভাবেই চলবে। তাদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হবে। তিনি আরও বললেন; তিনি আলাদা পশ্চিমবঙ্গ চান যা জিন্নার তথা পাকিস্তানের প্রভাব থেকে সর্বৈব মুক্ত হবে।

পাকিস্তানের হাত থেকে বাংলার পশ্চিম অংশকে রক্ষা করতে; তিনি মরিয়া হয়ে উঠলেন। এই দাবির ভিত্তিতে বাংলার বিধানসভায়; ৩টি পৃথক ভোট সংগঠিত হয়েছিল। কি কি সেশন; কারা ভোট দিয়েছিল; কি কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়; সেই তিনটি ভোট থেকে? দেখুন একনজরে।

১) জয়েন্ট সেশন; এখানে সমস্ত সদস্যদের ভোটে ১২৬-৯০ ব্যবধানে ভারতীয় কন্সটিটুয়েন্ট এসেম্বলিতে যোগদানের বিপক্ষে রায় দেওয়া হল।
২) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যদের সেশন; এখানে ১০৬-৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেওয়া হল। এবং পরিবর্তে পাকিস্তানের কনস্টিটুয়েন্ট এসেম্বলিতে যোগদানের পক্ষে মত দেওয়া হল।
৩) অমুসলিম এলাকার সদস্যদের সেশন; এখানে ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগের পক্ষে রায় গেল। মাউন্টব্যাটেন প্ল্যান অনুযায়ী; বাংলা ভাগের পক্ষে যেকোন সেশনের একটির সিঙ্গেল মেজরিটি ভোটের ফলস্বরূপ; বাংলা ভাগের পক্ষে সায় দেওয়া হল।

বাউন্ডারি কমিশনের প্রধান স্যার রাডক্লিফের তত্বাবধানে; শুরু হল বঙ্গ বিভাজনের তোড়জোড়। ঠিক হল, ১৪ ও ১৫ ই আগস্ট যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারতকে স্বাধীনতা হস্তান্তর করা হবে; ১৯৪৭ এর ভারত স্বাধীন আইন অনুসারে।

জিন্নার ডাইরেক্ট একশন ডে, দাঙ্গার রাজনীতি এবং ধর্মীয় বিভাজনকামী এজেন্ডা দেখে; শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন; বাংলার সংখ্যালঘু অমুসলিমরা ধর্মীয় কারণে বিভক্ত পাকিস্তানে সুরক্ষিত নয়। তাই পশ্চিমবঙ্গের দাবি থেকে তিনি সরেন নি। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে; তিনি নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছিলেন; পশ্চিমবঙ্গের প্রাণপুরুষ হিসেবে।

সম্পাদকীয় লিখলেনঃ অভিরূপ চক্রবর্তী (লেখা ও তথ্য সম্পূর্ণ লেখকের)

]]>