School Service Commission – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Wed, 22 Jun 2022 12:36:44 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg School Service Commission – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 সিবিআই হেফাজতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সার্ভার রুম, ভয়ে কাঁপছে বড় ঘুষখোররা https://thenewsbangla.com/school-service-commission-server-room-in-cbi-custody-calcutta-high-court-asked-ssc-chairman-to-appear/ Wed, 22 Jun 2022 12:33:07 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15651 সিবিআই হেফাজতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সার্ভার রুম; ভয়ে কাঁপছে বড় ঘুষখোররা। ২০১৬ সালের নবম-দশম শ্রেণীর স্কুল শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠতেই; স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়নি; এসএসসি-র তরফ থেকে। কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, “সিবিআই হেফাজতে আছে এসএসসি-র সার্ভার রুম; তাই অনুমতি না পেলে তথ্যপ্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এরপরেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান; সিদ্ধার্থ মজুমদারকে সশরীরে হাজিরা দিতে বলে হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা জানিয়েছেন, আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে; সশরীরে হাজিরা দিতে হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে। সিবিআইকে এবিষয়ে চিঠি চেওয়া হয়েছে কি না; তা জানতে চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন; অভিমানের প্রাচীর ও রাজনৈতিক সন্ন্যাস ভেঙে ফের মমতার দলে শোভন সঙ্গে বৈশাখী

২০১৬ সালে নবম-দশম শ্রেণীর ভুগোল শিক্ষক নিয়োগে; বড় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অনিয়মের অভিযোগে মামলা করেছিলেন পাঁচ চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, মেধাতালিকার ওয়েটিং লিস্টে তাঁদের নাম ছিল। আর ওই ওয়েটিং লিস্টের তাঁদের নীচে যাঁদের নাম ছিল; তাঁদের কয়েকজনকে নিয়োগ করা হয়েছে। অথচ তাঁরা চাকরি পাননি। হাইকোর্টে সেই সংক্রান্ত শুনানি ছিল বুধবার। সকল চাকরিপ্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছিল; ৭ জুনের মধ্যে সেই রিপোর্ট পেশ করার কথা ছিল। কিন্তু তা করেনি এসএসসি।

আরও পড়ুন; “সামাজিক শিক্ষাগুরু বলেই মমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে”, ঘোষণা চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর

মামলাকারীদের আইনজীবী সুভাষ জানা বলেন, “নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে আদালতে স্বীকার করে নিয়েছে; স্কুল সার্ভিস কমিশন। তারপরই তাদের কাছ থেকে নথি চায় হাইকোর্ট; ১৬ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ছিল। সেদিনও নথি জমা করেনি এসএসসি। এরপর আজ স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবীর তরফে হাইকোর্টে যুক্তি দেওয়া হয়; অন্য একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এসএসসি-র সার্ভার রুম এখন সিবিআই হেফাজতে রয়েছে। সিবিআই ওই মামলার তদন্ত করছে। তাই, সার্ভার রুম থেকে; ডেটা আনা যাচ্ছে না।

সূত্রের খবর, বেআইনি নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক তথ্য; এসএসসির ওই সার্ভার রুমে রয়েছে। যা হাতে পেলেই মাকড়সার জালের মত বিছিয়ে থাকা; একাধিক ঘুষখোরের নাম উঠে আসতে পারে। তাই কমিশনের সভাপতিকে তলব করতেই; প্রবল চাপে বড় ঘুষখোররা।

]]>
নামেও ঘোটালা, শান্তি ও কল্যাণের হাত দিয়েই শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, কিন্তু ‘রাঘববোয়াল’ কারা https://thenewsbangla.com/ssc-teachers-recruitment-scam-kalyanmoy-ganguly-shanti-prasad-sinha-accused/ Fri, 17 Jun 2022 06:08:58 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15531 নামেও ঘোটালা, শান্তি ও কল্যাণের হাত দিয়েই শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি; কিন্তু ‘রাঘববোয়াল’ কারা? এটাই এখন বড় প্রশ্ন। একজন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়; অন্যজন স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরামর্শদাতা শান্তিপ্রসাদ সিনহা। পরে দুজনেই আবার শিক্ষক নিয়োগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। কল্যাণময় ও শান্তিপ্রসাদের হাতেই ছিল; বাংলার হবু শিক্ষকদের ভাগ্য। তবে সিবিআই তদন্ত ও কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের পর দেখা যাচ্ছে; নাম কল্যাণময় ও শান্তিপ্রসাদ হলেও, চরম দুর্নীতিতে ডুবে কল্যাণ ও শান্তি দুজনেই।

আদালতের নির্দেশের পর, বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে; মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে। বারবার জেরা করা হচ্ছে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি শান্তিপ্রসাদ সিনহাকে। দুর্নীতির নথির খোঁজে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দফতরে ও একাধিক জায়গায় সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান চলেছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় মধ্যযুগীয় ব’র্বরতা, ন্যাড়া করা হল বাড়ির বউকে, লজ্জায় গ্রামছাড়া নি’র্যাতিতা

বৃহস্পতিবারই উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি শান্তিপ্রসাদ সিনহার বাড়িতে গিয়ে; তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জেরা করে সিবিআই। কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে তুলে এনে; পর্ষদের অফিসে জিজ্ঞসাবাদ করে সিবিআই। তবে এঁদের সবার মাথায় ছিলেন; তৎকালীন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যাকেও ইতিমধ্যেই জেরা করেছে; কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিত বাগের চূড়ান্ত রিপোর্টে; স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। কাঠগড়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশন ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। কমিশন ও পর্ষদের একাধিক কর্তার বিরুদ্ধে; শাস্তিমূলক-ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে বিচারপতি বাগ কমিটি।

আরও পড়ুনঃ লজ্জার অন্ধকারে ডুবল বাংলা, দেশকে চমকে দিয়ে রাজ্যের বিধানসভায় প্রতিদিন ‘ছাপ্পা ভোট’

মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়; এসএসসির দুই প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার ও সুকুমার সাহা; এসএসসির প্রোগ্রাম অফিসার সমরজিৎ আচার্য; উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহার বিরুদ্ধে; ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৮, ৪১৭, ৩৪ এবং ১২০ বি ধারায় এফএইআর রুজু করে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এসএসসির আরও এক প্রাক্তন চেয়ারম্যান, সুবীরেশ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও; শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করে বাগ কমিটি।

তবে হাইকোর্ট আইনজীবীরা মনে করছেন; এই দুর্নীতি কাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ফেঁসে আছেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এই অথৈ জলে পড়া অবস্থায়, তিনি কাকে জড়িয়ে ডুববেন; সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

]]>
লজ্জায় ডুবল বাংলা, আদালতের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশন দখল নিল কেন্দ্রীয় বাহিনী https://thenewsbangla.com/school-service-commission-taken-over-by-central-forces-on-calcutta-high-court-order-bengal-in-shame/ Thu, 19 May 2022 03:15:35 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15121 লজ্জায় ডুবল বাংলা, আদালতের নির্দেশে; স্কুল সার্ভিস কমিশন দখল নিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। যুগান্তকারী নির্দেশ, রাতেও আদালতে শুনানিতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গতকালই রাত সাড়ে বারোটার পর থেকে স্কুল সার্ভিস কমিশন(SSC) দফতরের দখল নেওয়ার নির্দেশ CRPF কে দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কাল দুপুর ১টা পর্যন্ত কেউ SSC দফতরে ঢুকতে পারবেন না। যাতে কোন তথ্য, নথি নষ্ট না হয়; তার জন্যেও কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিলেন জাস্টিস গঙ্গোপাধ্যায় এর সিঙ্গেল বেঞ্চ। সারাদিনের পর রাতেও নজিরবিহীন নির্দেশ বিচারপতির।

রাতারাতি পরিবর্তন হয়েছে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর সিবিআই-তে হাজিরার দিনেই, আচমকা ইস্তফা দেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। মাত্র চারমাস হল, তাঁকে এই পদে আনা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসএসসির চেয়ারম্যানের; পদত্যাগের কারণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এই পদত্যাগের পরেই আইএএস শুভ্র চক্রবর্তীকে; এসএসসির নতুন চেয়ারম্যান করা হয় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রীর মেয়ে, দুর্নীতির জালে জর্জরিত রাজ্য প্রশাসন

আর এরপরেই এসএসসি মামলায় নাটকীয় মোড়; মাঝরাতেই খোলে কলকাতা হাইকোর্ট। চাকরি দুর্নীতির নিয়োগ নথি নষ্টের আশঙ্কায়; হাইকোর্টে মামলা করেন মামলাকারী চাকরিপ্রার্থী-দের আইনজীবীরা। অবিলম্বে সিআরপিএফ বসিয়ে; চাকরির সমস্ত নথি সংরক্ষণের দাবি তোলে মামলাকারিরা। মামলাকারী-দের দাবি ছিল; অবিলম্বে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অফিসে কেন্দ্রীয়-বাহিনী মোতায়েন করা হোক; না হলে সব নথি উধাও হয়ে যাবে। যে মামলার আর্জি গৃহীতও হয়।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে রাতেই শুরু হয় শুনানি; কলকাতা হাইকোর্টে নজিরবিহীন-ভাবে রাতেই খোলে কোর্ট। জরুরি ভিত্তিতে রাত সাড়ে দশটা নাগাদ; শুরু হয়েছে শুনানি। নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা; আর সেই নির্দেশই দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। SSC অফিস সেই মুহূর্ত থেকেই; কেন্দ্রীয় বাহিনীর হেফাজতে।

গতকাল রাত থেকেই এসএসসি দফতরকে; সিআরপিএফ নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলার নির্দেশ দেন। দফতরের সিসিটিভি ফুটেজও; আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টের ইতিহাসে, এই ঘটনা নজিরবিহীন বলেই দাবি সবার। হাইকোর্টের নির্দেশ, বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পর্যন্ত; কোনও আধিকারিক বা কর্মী, কমিশনের অফিসে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। নির্দেশের পর বিচারপতির চেম্বার থেকেই; সিআরপিএফের অফিসে ফোন করা হয়।

]]>
“ম্যাডাম, আপনি কি চুরি করে চাকরি পেয়েছেন”……… https://thenewsbangla.com/paresh-adhikari-ankita-adhikari-ssc-scam-madam-did-you-get-the-job-by-stealing/ Wed, 18 May 2022 04:52:28 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15107 ম্যাডাম, আপনি কি চুরি করে চাকরি পেয়েছেন? এরপরেও কেউ প্রশ্ন করবে না? আসলে দুর্নীতিটা ঠিক করে করতে পারেননি। না হলে ভেবেছেন; যা খুশি করব। তোরা কেউ কিছুই করতে পারবি না। কিন্তু অন্যায় থামাতে কিছু ‘কাজপাগল’ সবসময়ই সামনে আসেন। ঠিক যেমন এবার সামনে এসেছেন; কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নিখাদ বাঙালি সন্তান; শিরদাঁড়া-হীন বাঙালির রাজ্যে একজন ব্যতিক্রমী বিচারপতি। যার এজলাসে; ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে না’।

বাম ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে ঘাসফুলে বাবা; তারপরেই মেধা তালিকায় নাম না থাকলেও মেয়ের চাকরি। ঠিক কী ঘটেছিল? ১৭ অগাস্ট, ২০১৮, তৃণমূলে যোগ দেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশ অধিকারী; আর তারপরেই ২০১৮-তে স্কুলে চাকরি পান পরেশ-কন্যা অঙ্কিতা অধিকারী। মেধা তালিকায় নাম না থেকেও, চাকরি হয় পরেশের মেয়ে অঙ্কিতা! এমনকি তাঁকে কোন ইন্টারভিউ দিতে হয়নি; স্বীকার করে নিয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন।

প্রকাশিত প্রথম মেধা তালিকাটিতে; প্রথম স্থানে নাম ছিল ববিতা বর্মনের। নতুন তালিকায় তাঁর নাম দ্বিতীয় স্থানে চলে যায়। আবার তালিকায় ৬০ নম্বর স্থানে ছিল; রূপালি রায়ের নাম। অঙ্কিতার নাম তালিকায় ঢুকে পড়ায় রূপালি-র নাম; ৬১ তম স্থানে চলে গিয়েছিল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানতেনই না, এসএসসি-র তালিকা চাকুরী প্রার্থীদের মোবাইলে মোবাইলে ঘুরছে; যেখানে পরেশ পালের মেয়ের নাম নেই। ‘পরেশের মেয়ের নাম লিস্টে ছিল না; প্রমাণ আছে কি?’ জিজ্ঞাসা করেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রশ্ন করা হয়েছিল কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শর্মিলা মৈত্রকেও। কিন্তু তিনিও ‘ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব’ বলে; জবাব এড়িয়ে যান।

মামলাকারী যেখানে নিয়োগ পরীক্ষায় ৭৭ নম্বর পেয়েছেন; সেখানে মন্ত্রীর মেয়ে ৬১ নম্বর পেয়েই চাকরি পেয়েছেন। রাজ্য সরকারের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির; আরও একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। পরেশ অধিকারীকে নিজাম প্যালেসে ডেকে; জেরা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিবিআই-কে। পাশাপাশি তাঁকে মন্ত্রীত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যও; সুপারিশ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে। যা এককথায় নজিরবিহীন। হ্যাঁ এমন সিদ্ধান্তই নেন; ব্যতিক্রমী বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

বাম আমলে খাদ্যমন্ত্রী, আদর্শ নীতি চুলোয় পাঠিয়ে; তৃণমূল জমানায় রাজ্যের শিক্ষা-প্রতিমন্ত্রী। সেই পরেশ অধিকারীর কন্যার, শিক্ষক পদে নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগে; কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল। একেবারে হাইজাম্প ফর্মুলায় যোগ্য প্রার্থীকে বঞ্চিত করে; মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, মেধা তালিকায় নাম না থাকলেও মন্ত্রীর মেয়ের চাকরি

অভিযোগ, স্কুল সার্ভিস কমিশনের তালিকায় তাঁর নামই ছিল না। কিন্তু তাঁর বাবা পরেশচন্দ্র অধিকারী ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে যোগ দিতেই; পিসি সরকারের ম্যাজিকের মত তালিকায় এক নম্বরে পৌঁছে যান অঙ্কিতা অধিকারী। কোচবিহারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য; এসএসসি তালিকা প্রকাশ হয়েছিল। SC জাতিভুক্তদের জন্য মেধা তালিকার ওয়েট-লিস্টে; প্রথমে নাম ছিল ববিতা বর্মনের। অথচ পরে এসএসসি-র ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনের ওয়েট-লিস্টে; দেখা যায় ববিতার নাম চলে গিয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে রয়েছে পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর নাম। পিসির সরকারের চরম ম্যাজিকে।

চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের সময়েও; অঙ্কিতাকে দেখা যায়নি বলেই অভিযোগ। হঠাৎ করে মেধাতালিকায় নাম ওঠা অঙ্কিতাকে; মেখলিগঞ্জে তাঁর বাড়ির পাশের স্কুলে যোগ দিতে দেখে অবাক রাজ্যের হবু শিক্ষকরা। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে ঘুরপথে, বেআইনীভাবে; স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন বলেই অভিযোগ। পরেশ অধিকারীকে এবার সিবিআই জেরার নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।

পরেশের মেয়ে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি-র ছাত্রী ছিলেন। খসড়া গবেষণাপত্র জমা দেওয়ার সময়; পরেশ অধিকারী সারাক্ষণ হাজির ছিলেন মেয়ের সঙ্গে। ফলে সেখানেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে পরেশের বিরুদ্ধে।

এরপরেও স্কুলে শিক্ষকতা করতে পারবেন; পরেশচন্দ্র অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে। তবে আদালতে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত বাপ-বেটি নিরপরাধ। তাই ছাত্র ছাত্রীদের মুখে না থাকলেও, চোখে তো প্রশ্ন থাকবেই; “ম্যাডাম, আপনি কি চুরি করে চাকরি পেয়েছেন”……???

সম্পাদকীয় লিখেছেন মানব গুহ

]]>
বাংলা এখন লাশের রাজনীতিতে অভ্যস্থ, শুধু একটা লাশ চাই আমাদের https://thenewsbangla.com/ssc-candidates-in-waiting-list-of-school-service-commission-sitting-on-an-indefinite-hunger-strike/ Sat, 23 Mar 2019 07:26:54 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9080 আজ ওদের ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪ দিন…। দিন কেটে যায়। গুরুতর অসুস্থ অনেকেই। তবু টনক নড়ে না রাজ্য প্রশাসনের। কলকাতার রাজপথে ৪০০ জন শিক্ষা চাকুরি প্রার্থী আজও অনশনে। অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আবার ফিরে এসে যোগ দিচ্ছে অনশনে। ইতিমধ্যেই নষ্ট হয়েছে এক মহিলার গর্ভস্থ ভ্রূণ। তবু টনক নড়ে নাই প্রশাসনের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ২৫ দিনের সিঙ্গুর আন্দোলনের অনশনের রেকর্ড ভেঙে যাবে কাল। বাংলার নেতা নেত্রীরা এসএসসি নিয়ে তদন্ত চাইছেন না কেন?

আরও পড়ুনঃ বাংলাকে চরম লজ্জায় ফেলে শিক্ষক শিক্ষিকাদের অনশন আন্দোলন ২১ দিনে

কথায় কথায় সিবিআই চাওয়া বাংলার নেতা নেত্রীরা এসএসসি নিয়ে তদন্ত চাইছেন না কেন? ফেব্রুয়ারী ২৮ থেকে শুরু হয়েছে এই আমরণ অনশন আন্দোলন। যাই হোক, আজ ২৪ দিন হল ভবিষ্যতের শিক্ষকদের অনশন আন্দোলনের। কেন মানা যাচ্ছে না এসএসসির দাবি? কি চলছে আসলে এসএসসি তে? আসুন একটু পিছনের গল্প জেনে নেওয়া যাক।

আরও পড়ুনঃ বাম কংগ্রেস বিজেপির আপত্তি নেই, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কেন মাথাব্যথা শুধু তৃণমূলের

২০১২ সালের ৪ বছর পর ২০১৬ তে হয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন এর পরীক্ষা। স্কুলে স্কুলে শিক্ষকের আকাল থাকলেও কিন্তু ২০১৬ র আগে আর পরীক্ষা হয়নি। এটা মনে রাখা জরুরি যে এই এসএসসি কে পাখির চোখ রেখে এই রাজ্যের কয়েকটি এলিট বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি সব বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র ছাত্রীরা প্রস্তুতি নেয়। বিশেষত যারা মফস্বল, গ্রাম থেকে উঠে আসা ছাত্র ছাত্রী তাঁদের কাছে এসএসসি এমন একটি সরকারি চাকরি যা তাঁদের হাতের নাগালে সহজে আসে।

আরও পড়ুনঃ বিরোধী মহিলা প্রার্থীদের ‘মাল’ সম্বোধন করে কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ ফিরহাদের

২০১৬ সালে বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী পরীক্ষাতে বসেন। ২০১৮ তে তার রেজাল্ট বেরোয়। মেরিট লিস্ট প্রথমে দেওয়া হয় না। তারপর আদালতে মালদা হয়। মামলার পর মেরিট লিস্ট বেরোয়। মেরিট লিস্টে দেখা যায় অসংখ্য অসঙ্গতি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় কম স্কোরের ক্যান্ডিডেট চাকরি পেয়ে গেলেও বেশি স্কোর করা প্রার্থীর নাম ওয়েটিং লিস্টে ঝুলছে। কম স্কোরের প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিলেও অনেক বেশি স্কোরের প্রার্থীর নাম চাকরি তালিকায় নেই।

আরও পড়ুনঃ ‘ভারতমাতা কি জয়’, বলে দলের মধ্যেই ফের বিপদে নেতা

অভিযোগ ওঠে বিপুল টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে এক একটা সিট। হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে ভ্যাকেন্ট সিট এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। চোখের সামনে অজস্র অভিযোগ উঠলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি রাজ্য শিক্ষা দফতর, এমনটাই অভিযোগ। তৃণমূল নেত্রী যিনি বাম আমলে বারবার, কথায় কথায় সিবিআই চাইতেন তিনিও কোন বিশেষ কারণে চুপ। বিরোধীদেরও তেমন আন্দোলন নেই এসএসসি নিয়ে।

আরও পড়ুনঃ লোকসভা রিপোর্টে গত ৫ বছরে তৃণমূল সাংসদদের পারফরম্যান্স লজ্জাজনক

গত ২৩ দিন ধরে ধর্মতলায় প্রেস ক্লাব এর সামনে চাকরি না দেবার প্রতিবাদে এস‌এসসি উত্তীর্ণ প্রার্থীরা অনশন করছেন। আর আমরা বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছি। কেউ ওদের পাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি না। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন একে একে। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে এক-একজনকে। আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ।

আরও পড়ুনঃ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে ভরা তৃণমূলের তারকা তালিকা নির্বাচন কমিশনে

অহল্যার সন্তান এর মত আরও এক মা তার সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে পারলেন না। গর্ভেই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে! আর এক মা তার দুধের শিশুকে রেখে এসেছেন বাড়ি, মাতৃত্বের কষ্ট অনুভব করতে করতে বারবার চোখ ভিজে যাচ্ছে কান্নায়। চোখের জল ভাগ করে নিয়েছেন কবি মন্দাক্রান্তা সেন । আরও অনেক বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী সাহিত্যিকদের থাকার কথা কিন্তু ছিল! কিন্তু কই দেখতে পাচ্ছি না যে!

আরও পড়ুনঃ ভোটের গানে বিপাকে বাবুল, কমিশনের হাতে টুইট অস্ত্র

কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা নেত্রী যখন অনশন করেন তখন অদ্ভুত ভাবে তাদের প্রতিটা মুহূর্ত উঠে আসে খবরের পাতায় অথবা টিভির শিরোনামে। টিআরপি বাড়াতে মাঝেমধ্যেই লাইভ টেলিকাস্ট। ঐতিহাসিক অনশন এর প্রতিটা মুহূর্ত যেন আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে, তাইতো প্রতি পদে পদে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে আমাদের মাঝে নেতা-নেত্রীর অনশন!

আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন

কিন্তু ২৪ দিনের এমন একটা ঘটনা নিয়ে রাস্তাঘাটে অলিতে গতিতে কোনো আলোচনা নেইতো! কিছু সাধারণ মানুষ লিখছেন ফেসবুকের পাতায়। কিন্তু এত হাজার ঘটনার মধ্যে সেই প্রতিবাদ কোথায় যেন ভেসে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। আসলে প্রতিবাদী মানুষগুলোর সংখ্যা যে বড় কমে আসছে! বাংলার প্রতিবাদীরা এখন সবাই যেন সুবিধাবাদী। আর কলকাতা প্রেস ক্লাবের পাশে আমরণ অংশনে বসলেও শিরদাঁড়া বিকিয়ে যাওয়া সাংবাদিকদের কাছ থেকে কিছু আশা না করাই উচিত।

আরও পড়ুনঃ আইএমএফ রিপোর্টে দ্রুততম অর্থনৈতিক বৃদ্ধির তালিকায় ভারত

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এর পাশে দিনের পর দিন থেকে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দ্রুত। পাশেই ড্রেন, নোংরা জল এর থেকে উঠে আসছে বিচ্ছিরি গন্ধ। মশার কামড়ে অসুস্থ অনেকেই। জ্বর শরীর নিয়ে মনের জোর কিন্তু একটি মানুষেরও কমেনি। দাঁতে দাঁত চেপে তাদের দাবি জানিয়ে চলেছেন প্রতিদিন প্রতিনিয়ত। ডেঙ্গু, আমাশা, জ্বর, গর্ভপাত সবটাই হয়ে চলেছে। এবার আরও ভয়ঙ্কর কিছু হবার পালা।

আরও পড়ুনঃ বাবুলকে হারাতে ১ কোটি টাকার কাজের টোপ, বিতর্কিত ঘোষণা মেয়রের

আসলে বাংলা এখন লাশের রাজনীতিতে অভ্যস্থ। একটা লাশ চাই বুঝলেন, একটা লাশ। শুধু একটা লাশ চাই আমাদের। তারপর দেখবেন কোথা থেকে যেন ছুটে আসবে অসংখ্য মানুষ আট ইঞ্চির মোমবাতি হাতে! এই বৃষ্টির দিনেও রাজপথে শোকের যাত্রায় তারা হেঁটে যাবেন মুখে কালো কাপড় বেঁধে করুণ মিছিলে! ‘তোমরা আমাদের লাশ দাও, আমরা তোমাদের মোমবাতি মিছিল দেব’। অবস্থাটা ঠিক এরকমই। লাশ পরলে তবেই আসবে রাজ্য প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমও। লজ্জা পেয়ে, এলেও আসতে পারে বুদ্ধিজীবী মহলও।

আরও পড়ুনঃ ৪৮ ঘণ্টা পর ৬০ ফুট গভীর গর্ত থেকে শিশুকে উদ্ধার করে কামাল ভারতীয় সেনার

“এদের এক কি দুজন সেদিন হয়তো থাকবে না। আপনি তো থাকবেন বিষয়টা মিলিয়ে নেবেন!”, বলেই হেসে উঠলেন তরুণ যুবক শুকনো মুখে গালে জমে থাকা দাঁড়ি নিয়ে। হারিয়ে যাওয়া শিরদাঁড়া নিয়ে অনেকেই অবশ্য ওদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। দাবি, জেদ আর সহনশীলতা না থাকলে মেরুদন্ড কখনোই সোজা থাকে না যে! এই গল্পের শেষ দেখার অপেক্ষায়।

The News বাংলায় সম্পাদকীয় লিখলেন এক প্রতিবাদী

আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ সি ভিজিল, জনতার অভিযোগে ১০০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
২৪ ঘন্টায় এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশ না হলে সচিবকে জেলে ভরার হুঁশিয়ারি বিচারপতির https://thenewsbangla.com/ssc-secretary-will-be-jailed-if-ssc-result-is-not-published-in-24-hours-said-high-court/ Mon, 28 Jan 2019 10:19:55 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6109 নজিরবিহীন ঘটনা। রাজ্য এসএসসির সচিবকে জেলে ভরার হুঁশিয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা-র। আদালতের নির্দেশ বারবার অমান্য করায় সোমবার এই হুঁশিয়ারি দেন বিচারপতি। ইতিমধ্যেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের সম্পূর্ণ মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পেশের নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত। হলফনামার আকারে মেধাতালিকা পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আগামীকালের মধ্যেই। আর “নির্দেশ না মানলে জেলে পাঠাব” বললেন ক্ষুব্ধ বিচারপতি মান্থা।

আরও পড়ুনঃ ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন

নবম এবং দশম শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের এসএসসি জট অব্যাহত। আদালতের নির্দেশ বেমালুম অগ্রাহ্য এসএসসির। চূড়ান্ত সময়সীমা এসএসসি কে। আগামীকালের মধ্যেই হাইকোর্টে মেধা তালিকা এবং হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না হলে এসএসসির সচিবকে জেলে পোরার হুঁশিয়ারি দিলেন বিচারপতি। যেটা নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।

হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক সোমবার এসএসসির সেক্রেটারি সশরীরে হাজিরা দেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থা-র এজলাসে। সেখানেই এসএসসির সচিবকে জেলে পোরার হুঁশিয়ারি দিলেন বিচারপতি মান্থা।

আরও পড়ুনঃ মাঠ দিল না রাজ্য, মোদীর সভা ও হেলিকপ্টারের জন্য ফসল ত্যাগ শিক্ষকের

মেধাতালিকা প্রকাশিত না হওয়ায় এসএসসি-র সচিবকে আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করেন বিচারপতি। সোমবার আদালতে হাজিরা দেন সচিব। সেখানে তিনি দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তা মানতে রাজি হননি মামলাকারীদের আইনজীবী।

তারপরেই নজিরবিহীন নির্দেশ দেন বিচারপতি। এসএসসির নবম ও দশমের নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। না হলে জেলে ভরা হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সচিবকে। আদালত অবমাননার মামলায় হাইকোর্টে হাজিরা দিয়ে বিচারপতির এমনই ভর্ত্সনার মুখে পড়লেন সচিব।

আরও পড়ুনঃ জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা দিয়ে ৬০ বছর পরেও একঘরে ‘নেহেরুর বউ’

২০১৬ সালে এসএসসির নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালের মার্চে। প্রার্থীদের অভিযোগ, ওই পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ না করে সরাসরি প্যানেল প্রকাশ করে এসএসসি। যা আইনত অবৈধ। মেধাতালিকা প্রকাশের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চাকরিপ্রার্থীরা। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর এক রায়ে আদালত স্পষ্ট নির্দেশে জানায়, পরীক্ষার্থীদের দাবি মতো ৪ সপ্তাহের মধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি-কে। তবে তারপর ৪ মাসের বেশি সময় কাটলেও মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়নি।

আরও পড়ুনঃ জয় হিন্দ, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের সোনার অক্ষরে লেখা ইতিহাস

মেধাতালিকা প্রকাশিত না হওয়ায় এসএসসির-র সচিবকে আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করেন বিচারপতি। সোমবার আদালতে হাজিরা দেন সচিব। সেখানে তিনি দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তা মানতে রাজি হননি মামলাকারীদের আইনজীবী। তিনি স্পষ্ট বলেন, মেধাতালিকা প্রকাশের কথা কোনও ভাবেই জানায়নি এসএসসি।

আরও পড়ুনঃ কালামের নামে ছাত্রদের তৈরি হালকা উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে নজির ভারতের

এরপরই বিচারপতির চরম ভর্ত্সনার মুখে পড়েন এসএসসি সচিব। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “মেধাতালিকা প্রকাশ করেছেন তো মামলাকারীদের তা জানাননি কেন? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেধাতালিকা প্রকাশ না করলে আদালত অবমাননার দায়ে আপনাকে জেলে পাঠাব”।

চাকুরিপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, এসএসসির-র নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তা ঢাকতেই মেধাতালিকা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে এসএসসি কর্তৃপক্ষ। আগামীকাল এসএসসি কর্তৃপক্ষ কি করেন, সেটাই এখন দেখার। মেধাতালিকা প্রকাশ করার পরেও যে এসএসসি জট আদালতেই থাকবে সেটাও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
EXCLUSIVE: ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে ৫৯ দিয়ে এসএসসি-র নতুন কীর্তি https://thenewsbangla.com/ssc-comedy-of-errors-candidates-gets-59-marks-in-ssc-test-out-of-55/ Thu, 27 Dec 2018 11:13:20 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=4798 The News বাংলা, কলকাতাঃ EXCLUSIVE আবার রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন কীর্তি। ৫৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায়, পরীক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর নাকি ৫৯! একটি আরটিআই এর উত্তরে এমনটাই জানালেন এসএসসি কর্তৃপক্ষ। যা দেখে হতবাক কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মহল। মাথায় হাত পরীক্ষার্থীর!

আরও পড়ুন: EXCLUSIVE: ভোটের আগে বাংলার বিখ্যাত সাংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ‘সরকারি’ সন্ধি মমতার

আরটিআই এ আজব উত্তর! এসএসসি-র পরীক্ষার্থী ঋতু বেরা আরটিআই করেছিলেন নিজের সংস্কৃত পরীক্ষার নম্বর জানতে। জানিয়েছে এসএসসি কর্তৃপক্ষ। ৫৫ নম্বরের সংস্কৃত পরীক্ষা। তার প্রাপ্ত নম্বর জানতেই আরটিআই। পরীক্ষার্থী ঋতু বেরা ৫৯ নম্বর পেয়েছে বলে উত্তর এল। ৫৫ পূর্ণমানে ৫৯ নম্বর কি ভাবে সম্ভব? হাসির ফোয়ারা ছুটেছে আদালত জুড়ে।

EXCLUSIVE: ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে ৫৯ দিয়ে এসএসসি-র নতুন কীর্তি/The News বাংলা
EXCLUSIVE: ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে ৫৯ দিয়ে এসএসসি-র নতুন কীর্তি/The News বাংলা

অভিযোগ ছিল বেশ কয়েকটি। প্রথমত স্কুল সার্ভিস কমিশন মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই কাউন্সেলিং শুরু করেছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় মেধা তালিকায় পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশ করেনি। এবং শূন্যপদ বাড়ার জায়গায় কিভাবে কমে গেল? এই সব প্রশ্ন তুলে গত অক্টোবর মাসে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় আশরাফুল নিশা সহ বেশ কিছু স্কুল সার্ভিস পরীক্ষার্থী।

আরও পড়ুনঃ কলকাতা হাইকোর্টের অন্দরেই আটকে রইল বিজেপির রথ যাত্রা

মামলার বয়ান অনুযায়ী আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী আদালতে অভিযোগ করেন, যে স্কুল সার্ভিস কমিশন মেধা তালিকা প্রকাশ না করেই তারা কাউন্সিলিং শুরু করেছে। পরীক্ষার্থীরা তাদের দেওয়া লিখিত পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছে তাও সুনির্দিষ্ট করে পরীক্ষার্থীদের জানানো হয়নি। সঠিক পদ্ধতিতে নিয়োগ হোক, আদালতে আবেদন জানান হয়।

আরও পড়ুনঃ ৫ দিন বন্ধ ব্যাঙ্ক, উৎসবের সময় চরম সমস্যায় আমজনতা

যোগ্য প্রার্থীরা যাতে সুযোগ পান, সেই কারণেই গত ১১ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায় স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নির্দেশ দেয় যে আগামী ২রা জানুয়ারির মধ্যে এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদালতের কাছে হলফনামা আকারে জমা দিতে।

EXCLUSIVE: ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে ৫৯ দিয়ে এসএসসি-র নতুন কীর্তি/The News বাংলা
EXCLUSIVE: ৫৫ নম্বরের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে ৫৯ দিয়ে এসএসসি-র নতুন কীর্তি/The News বাংলা

কিন্তু সেই সময়ের আগেই গত ১৪ই নভেম্বর স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, মেদিনীপুর জেলার পরীক্ষার্থী ঋতু বেরাকে তথ্যের অধিকার আইনে বা আরটিআই উত্তরে জানানো হয় যে, তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৯। এদিকে লিখিত পরীক্ষা হয়েছে ৫৫ নম্বর এর।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: কলকাতা থেকে পুলিশ ও ব্যবসায়ীদের টাকা যাচ্ছে জঙ্গিদের হাতে

স্কুল সার্ভিস কমিশনের এই তথ্য পাওয়ার পর চমকে ওঠেন ঋতু বেরা। কারণ ১০০ নম্বরের পরীক্ষা যার মধ্যে লিখিত নম্বর হচ্ছে ৫৫। শিক্ষাগত যোগ্যতা ৩৫ এবং মৌখিক পরীক্ষা ১০ নম্বরের। তাহলে আরটিআই এর উত্তরে কিভাবে লিখিত পরীক্ষায় ৫৯ বলা হলো, তা নিয়ে চিন্তিত ঋতু বেরা।

আরও পড়ুনঃ নেতাদের গুন্ডা পোষা না গুন্ডাদের নেতা হওয়া, প্রকাশ্যে বন্দুকবাজির কারন কি

তবে এই আরটিআই এর উত্তরের পরিপেক্ষিতে ঋতু বেরার আইনজীবী আশিষ বাবু জানান মামলার পরবর্তী শুনানি ২রা জানুয়ারি। তিনি ওইদিন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। কিভাবে এসএসসির মত একটি নিরপেক্ষ সংস্থা তারা আরটিআই এর প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের আশ্চর্যজনক উত্তর কিভাবে দেন? উঠেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ ‘রাজনীতিতে টিকে থাকতে গেলে তেল দিতেই হবে’ বিস্ফোরক তৃণমূল সাংসদ

আইনজীবী জানান, পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ তা একেবারে যথাযথ। কারণ পরীক্ষার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্ধকারে রেখেই নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে এসএসসি কর্তৃপক্ষ। আগামী ২রা জানুয়ারিতে সব কিছু নিয়েই বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে জানান তিনি।

]]>