Satyajit Ray – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 02 May 2019 13:25:07 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Satyajit Ray – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 সত্যজিৎ রায় এর স্ক্রিপ্ট চুরি করে ফিল্ম বানিয়ে হলিউডে নাম করেছিলেন স্পীলবার্গ https://thenewsbangla.com/steven-spielberg-steal-satyajit-ray-story-for-et-the-extra-terrestrial-from-the-alien/ Thu, 02 May 2019 12:50:23 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=12196 ১৯৬০ সালের শেষের দিকে ভারত-আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে একটি সিনেমা বানানোর চেষ্টা হয়; পরিচালনায় প্রবাদ প্রতিম সত্যজিৎ রায়। প্রস্তাবিত সিনেমাটি ছিলো একটি সায়েন্স ফিকশন মুভি; নাম ‘দি এলিয়েন‘; সিনেমার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল মার্লন ব্র্যান্ডো এবং পিটার সেলার্সের।

এই গল্পের স্ক্রিপ্ট লেখা হয়েছিল সত্যজিত রায়ের ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু‘ গল্প অবলম্বনে; সিনেমাটি পরিচালনা করার কথা ছিল সত্যজিৎ রায়ের; হলিউডের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কলাম্বিয়া পিকচার্স রাজী হয়েছিলো সহ-প্রযোজনা করতে।

আরও পড়ুন অভিনয় জীবনে প্রথমবার রূপান্তরকামীর চরিত্রে অমিতাভ বচ্চন

কিন্তু দুঃখজনক ভাবে এই সিনেমা নিয়ে নোংরা খেলা শুরু হয়ে যায়; সত্যজিতের কাহিনিটি নিয়ে হলিউডের কলম্বিয়া পিকচার্স ‘দি এলিয়েন’ নামে একটি ছবি বানাতে কাজ শুরু করে ৭০ এর দশকে;
হলিউডে সত্যজিৎয়ের প্রতিনিধি ছিল মাইক উইলসন; সে এই গল্পের কপিরাইট চুরি করে বসে।

তারপর সত্যজিৎ রায় হঠাৎ জানতে পারেন যে কাহিনীটির পেটেন্ট করে ফেলা হয়েছে; মাইক স্ক্রিপ্ট রচনায় অবদান না রেখেই নিজেকে সহ-লেখক পরিচয় দিয়ে সেটিকে কপিরাইট করে ফেলেন এবং কপিরাইটের টাকা থেকে সম্পূর্ণরূপে সত্যজিৎকে বঞ্চিত করেন।

আরও পড়ুন স্কুলে ছুটি কত দিনের, নবান্নের ঘোষণায় গোটা বাংলার শিক্ষা জগতে আলোড়ন

এর কিছু পর ১৯৮২ তে স্টিভেন স্পিলবার্গ একটি সিনেমা বানান; যার লেখক হিসাবে উল্লেখ করা হয় মেলিসা ম্যাথিসন কে; আর সিনেমার নাম দেওয়া হয় ‘ইটি দি এক্সট্রা টেরিস্ট্রিয়াল‘ সংক্ষেপে ‘ইটি’; ইউনিভার্সাল পিকচার কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত এই মুভিটি ছিল ব্লকবাস্টার হিট এবং টানা দশ বছর ধরে ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা মুভি।

সত্যজিৎ রায় দাবি করেন এই সিনেমাটি তাঁরই স্ক্রিপ্ট চুরি করে বানানো; ছবির মূল ধারনাটি আসলে সত্যজিত রায়ের কাহিনি থেকে চুরি করা; সত্যজিৎ রায়ের দাবী অস্বীকার করেছিলেন স্পীলবার্গ; কিন্তু বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ করে যে স্পিলবার্গ সত্য বলেন নি।

স্পিলবার্গ স্বীকার না করলেও সত্যজিতের মৌলিক কাহিনী ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’ গল্পের আমেরিকান রূপটিই ইটি যেখানে ইটি ছিল মি: আং আর ছেলেটার নাম ছিল হাবা (এলিয়েট), এলিয়েনের মহাকাশযান নামার স্থানটি ক্যালিফর্নিয়ার জঙ্গল না, ছিল বাংলার এক গ্রামের পুকুর পাড়। এমন কি এলিয়েনের আঙুলের সংস্পর্শে ফুল ফোটানোর কথাও সত্যজিতের কাহিনীতে ছিল।

]]>
বাঘের সঙ্গে অভিনয় করাটাই ছিল জীবনের সেরা চ্যালেঞ্জ https://thenewsbangla.com/acting-with-a-tiger-was-the-best-challenge-of-my-life-rabi-ghosh/ Sat, 30 Mar 2019 07:36:47 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3002 অভিনেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার (জন্মঃ- ২৪ নভেম্বর, ১৯৩১-মৃত্যুঃ- ৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭)। ভাবছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার আবার কে? তিনি আপনার আমার সবার প্রিয় রবি ঘোষ। বাংলা সিনেমার অন্যতম সেরা কমেডিয়ান।

Image Source: Google

বাঘের সঙ্গে অভিনয়ঃ
ট্রেন্‌ড বাঘ। পা ছড়িয়ে ঘরের দেওয়াল ঘেঁষে শুয়ে। পাশে বসে ভিজে তোয়ালে বুলোতে হবে তার পিঠে। আর মুখে আদর করার ঢঙে বলে যেতে হবে, ‘উম্মা, উম্মা’। সঙ্গের মহিলা ট্রেনারটি বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ বাঘকে বশে আনার এটাই নাকি দস্তুর।

সময়মতো ক্যামেরা চলবে। প্রায় মিনিট দশেক ‘আদর’ চলার মাঝেই বিপত্তি। ‘উম্মা’-র বদলে একবার শুধু ভুলে ‘উমা’ বলে ফেলেছিলেন। তাতেই তেড়েফুঁড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল বাঘটা।

দশ ফুটি তাগড়াই চেহারা। এক থাবায় সাবাড় করে দিতে পারে। করেনি, তবু জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রবি ঘোষ বলতেন, মাদ্রাজি ওই বাঘের সঙ্গে অভিনয় করাটাই ছিল জীবনের সেরা চ্যালেঞ্জ! সৌজন্যে সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে।

Image Source: Google

অভিনয়ের জন্য সবঃ
‘হীরক রাজার দেশে’র আউটডোর। ‘পায়ে পড়ি বাঘ মামা’র গানের সঙ্গে সেই বিখ্যাত শট। গুপী আর বাঘা বাঘের ডেরায় ঢুকবে চাবির খোঁজে। তারই ‘টেক’ নেওয়া চলছিল তখনকার মাদ্রাজে। দূর থেকে ট্রেনার লাঠির ঠক ঠক আওয়াজ করে আবার ‘উম্মা উম্মা’ বলতে তবে সে শান্ত হল।

শ্যুটও হল। শেষমেশ এত কনফিডেন্স পেয়ে গিয়েছিলেন যে স্থিরচিত্রীর আবদারে বাঘকে চুমু খাওয়ার ‘পোজ’-ও দিয়েছিলেন রবি ঘোষ। চ্যালেঞ্জ ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এও কম ছিল না। উখরি-তে শ্যুট। শিমলার থেকেও উঁচুতে। বেজায় ঠান্ডা। পাঁচতলা একটা স্লোপিং দেখিয়ে সত্যজিত্‌ রায় তাঁর বাঘা-গুপীকে বললেন, “ওখান থেকে ঝাঁপ দিতে পারবে না তোমরা?”

Image Source: Google

চোখের সামনে স্থানীয় লোকজন তরতর করে উঠে যাচ্ছে। ঝপাঝপ ঝাঁপও দিচ্ছে। দেখেশুনে ওঁরাও এককথায় রাজি। কিন্তু চুড়োয় উঠে হাত-পা পেটের মধ্যে ঢুকে যাওয়ার জোগাড়! কনকনে হাওয়া। তার ওপর ক্যামেরা গণ্ডগোল পাকালো। ফলে অপেক্ষা দীর্ঘ হল। বেশ খানিক পরে ঝাঁপ দেওয়ার তলব।

এর পর শোনা যাক রবি ঘোষের মুখেই, “দিলাম ঝাঁপ। সে এক এক্সাইটিং ফিলিং। মনে হল পেঁজা তুলোর ওপর দিয়ে গড়িয়ে এলাম। কিন্তু হাত-পা স্টিফ। মানিকদা বললেন, ‘শিগগির ওদের ভ্যানে তোলো। আর গরম দুধ খাওয়াও।’ সব রেডিই ছিল। গাইড বলল, ‘খবরদার আগুনের কাছে যাবেন না। পা ফেটে যাবে। শুধু পা ঠুকুন। হাত পায়ের সাড় ফিরতে লাগল পাক্কা চব্বিশ ঘণ্টা।”

Image Source: Google

কমিক টাইমিংঃ
পরিচালকরা মনে করেন ভারতবর্ষে রবি ঘোষের থেকে বড় কমিক টাইমিং আর কোনও অ্যাক্টরের না কোনও দিন হয়েছে, না কোনও দিন হবে। সূক্ষ্মতার সঙ্গে রবি ঘোষের অভিনয় যারা দেখেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই সেটা স্বীকার করেন। ডিটেলে রবি ঘোষকে অ্যানালাইজ করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। তাঁর অনেক ফিল্মেই রবি ঘোষের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

রবি ঘোষ বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তবে বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে তিনি সবচেয়ে পরিচিত তার হাস্যরসাত্মক চরিত্র রূপায়নের জন্য। সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে তাকে নিয়মিত অভিনয় করতে দেখা গেছে। চলচ্চিত্র ছাড়াও তিনি বাংলা নাট্যমঞ্চ এবং টেলিভিশন তথা ছোট পর্দায় দাপিয়ে অভিনয় করেছেন। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত গুপী গাইন বাঘা বাইন চলচ্চিত্রে বাঘা চরিত্রে অভিনয় করার জন্য তিনি সবচেয়ে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

The News বাংলা

জন্ম ও কৈশোরঃ
তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার। ১৯৪৯ সালে তিনি সাউথ সুবর্ধন মেইন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ইন্টারপাস করে তিনি আশুতোষ কলেজ-এ ভর্তি হন, গ্রাজ্যুয়েশনের জন্য।

১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৯ পর্যন্ত তিনি বংশাল কোর্টে কাজ করেন। তিনি অভিনেত্রী অনুভা গুপ্তকে বিয়ে করেন। প্রথমা স্ত্রীর মৃত্যুর দশ বছর পর তিনি ২৪শে নভেম্বর, ১৯৮২ সালে বৈশাখী দেবীকে বিয়ে করেন।

The News বাংলা

চলচ্চিত্র জীবনঃ
অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় তাঁকে ‘অঙ্গার’ নাটকে অভিনয় করতে দেখেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ‘আহবান’ চলচ্চিত্রে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। তপন সিনহার ‘গল্প হলেও সত্যি’তে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সবার নজরে আসেন।

১৯৬৮ সালে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা সত্যজিৎ রায় নির্মিত ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় চলচ্চিত্র জগতে একটি মাইলফলক। একে একে তিনি ‘অভিযান’ (১৯৬২), ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’ (১৯৭০), ‘হীরক রাজার দেশে’ (১৯৮০), ‘গুপী বাঘা ফিরে এলো’ (১৯৯১), ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৯৩) সহ বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

The News বাংলা

তিনি পরিচালনা করেন, নিধি রাম সরদার (১৯৭৬) ও সাধু যুধিষ্ঠীরের কড়চা (১৯৭৪) সিনেমা। তিনি একজন বিখ্যাত থিয়েটার অভিনেতাও বটে। ১৯৭০ সালে তিনি ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালেও অংশ নেন। তিনি ‘চলাচল’ থিয়েটার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হাসির রাজা রবি ঘোষ। আবার ফিরে আসুন বাংলা ফিল্ম জগতে। অন্য ভাবে, অন্য রুপে। মানুষের হাসির খুব অভাব। আবার আপনাকেই দরকার টলিউডে।

]]>
পতিতাপল্লী থেকে এসে চুনীবালা দেবী না দাঁড়ালে অসম্পূর্ণ থাকত পথের পাঁচালী https://thenewsbangla.com/pother-panchali-would-remain-imcomplete-if-indira-devi-did-not-play-her-role-from-red-light-area/ Sat, 09 Mar 2019 18:15:58 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7947 কলকাতার বিখ্যাত লালবাতি এলাকায় একটি ঘরে ঠকঠক। শীর্ণ দুটো হাত দরজা খুলে দাঁড়িয়ে রইল, দরজার ওপারে দাঁড়িয়ে ‘বাবুরা’। “কীরকম মেয়ে পছন্দ বলুন? থিয়েটারে অভিনয় করাবেন? নাকি…………”।

উল্টোদিক থেকে উত্তর এল‚ আর কাউকে নয়, আমাদের দরকার আপনার সঙ্গে। বিস্মিত হয়ে গেলেন বৃদ্ধা। বয়স চার কুড়ি প্রায়। ফোকলা মুখ। এই সুবেশ বাবুরা তাঁর কাছে এসেছেন কেন! কলকাতার বিখ্যাত লালবাতি এলাকায় তখন এক দীর্ঘদেহী ভাবছেন‚ তিনি পেয়ে গেছেন যাকে খুঁজছেন এতদিন ধরে।

পতিতাপল্লী থেকে এসে ইন্দিরা দেবী না দাঁড়ালে অসম্পূর্ণ থাকত পথের পাঁচালী/The News বাংলা
পতিতাপল্লী থেকে এসে ইন্দিরা দেবী না দাঁড়ালে অসম্পূর্ণ থাকত পথের পাঁচালী/The News বাংলা

পতিতালয়ের বাসিন্দা বৃদ্ধাকে বলা হল অভিনয় করতে হবে তাঁকে। শুনে অত্যন্ত অবাক হয়ে গেলেন তিনি। অ-ভি-ন-য় !! সে যেন গতজন্মের কথা। যদিও তিনি বহুযুগ আগে থিয়েটার করতেন। ফিল্মেও সুযোগ এসেছিল ১৯৩০ সালে। তখন তাঁর বয়েস পঞ্চান্ন বছর। অভিনয় করছিলেন বিগ্রহ, রিক্ত প্রভৃতি ফিল্মে। তাঁকে নিয়ে ফিল্মবন্দি করা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচালনায় ‘নটীর পুজা’।

আরও পড়ুনঃ বাংলা ফিল্মের জনপ্রিয় পরিচালকের রহস্যমৃত্যু

থিয়েটারের চুনীবালা দেবী ছবিতে এসে পার্শ্বচরিত্র হয়েই থেকে গিয়েছিলেন মাত্র। অপাংক্তেয় দিন কাটছিল কলকাতার পতিতালয়ে। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার জন্যই যেন জীবিত ছিলেন তিনি। এরপর পথের পাঁচালী আর তারপর বাকিটা ইতিহাস।

পথের পাঁচালী ছবিতে পারিশ্রমিক ছিল রোজ কুড়ি টাকা করে। এর বেশি আর সম্ভব হয়নি নতুন পরিচালক সত্যজিৎ রায় এর পক্ষে। ইউনিটে এমনিতেই অর্থসঙ্কট। তাঁর নিজের বীমার কাগজ পত্র‚ স্ত্রীর গয়না সব বন্ধকী। তবুও প্রিয় উপন্যাসকে সেলুলয়েড বন্দি করতে চান তিনি।

অশীতিপর ইন্দিরা ঠাকুরণ চরিত্রের জন্য খুঁজছিলেন এমন কাউকে‚ যিনি বৃদ্ধা। কিন্তু অভিনয়টা জানেন। আউটডোর শ্যুটিং-এর ধকল নিতে পারবেন। মনে রাখতে পারবেন চিত্রনাট্য। নবীন কাউকে মেক আপ দিয়ে প্রবীণ সাজাতে চাননি তিনি।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের কোপে এবার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

বহু খুঁজেও মনমতো কাউকে পাচ্ছিলেন না যাঁকে দিয়ে ম্যানারিজম-বর্জিত অভিনয় করাতে পারবেন। শেষমেশ আর এক অভিনেত্রী রেবা দেবী বললেন, পুরনো দিনের অভিনেত্রী চুনীবালা দেবীর কথা। রেবা নিজেও ওই ছবিতে অভিনয় করছিলেন ধনী জমিদার গিন্নির চরিত্রে।

তাঁর দেওয়া ঠিকানায় গিয়েছিলেন পরিচালক। সঙ্গে প্রোডাকশন ম্যানেজার অনিল চৌধুরী। চুনীবালা দেবীকে দেখেই নবীন পরিচালকের মন বলল বিভূতিভূষণের ইন্দির ঠাকরুণ তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

পতিতাপল্লী থেকে এসে ইন্দিরা দেবী না দাঁড়ালে অসম্পূর্ণ থাকত পথের পাঁচালী/The News বাংলা
পতিতাপল্লী থেকে এসে ইন্দিরা দেবী না দাঁড়ালে অসম্পূর্ণ থাকত পথের পাঁচালী/The News বাংলা

পতিতালয় থেকে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন চুনীবালা। পরনে শতচ্ছিন্ন সাদা থান। পরিচালক ও ইউনিটের আশা ছাপিয়ে অভিনয় করলেন উনি। একদিন গাড়ি থেকে নামার পরে তাঁকে বলা হল‚ সেদিন মৃত্যুর দৃশ্যে অভিনয় করতে হবে। সবাই ভেবেছিল উনি হয়তো ক্ষুণ্ণ হবেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইন্দির ঠাকরুন ওরফে চুনীবালা দেবী বললেন‚ আরে! এ তো অভিনয়! কিছু মনে করব কেন?

নিশ্চিন্দিপুরের‚ থুড়ি বোড়াল গ্রামের বাঁশঝাড়ের পাশে ঢলে পড়লেন ইন্দির ঠাকরুন। শোনা যায়‚ তাঁর মাথা পড়ার মুহূর্তে নিজের কোলে নিয়ে নিয়েছিলেন পরিচালক। এত স্বাভাবিক অভিনয়টুকু করার জন্যই বোধহয় জীবনভর অপেক্ষায় ছিলেন অবহেলিত এই অভিনেত্রী।

আরও পড়ুনঃ মানুষের হুমকিতে বাংলায় ভূতেদেরও কথা বলার অধিকার কাড়া হল

সমান সাবলীলতায় অভিনয় করেছিলেন শেষযাত্রার দৃশ্যে। তাঁর দেহ বাঁশের খাটিয়ায় বেঁধে নিয়ে যাওয়া হল। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে লেখা হল নতুন ইতিহাস। বসল নতুন মাইলফলক। কিন্তু সেদিন শ্যুটিং শেষ হবার পর সবার ঘাম ছুটে গেছে। কারণ ইন্দির ঠাকরুন শট ওকে করেও চোখ খুলছেন না।

বেশ কিছুক্ষণ কসরতের পরে পিটপিট করে চোখ খুলে ফোকলা হাসিতে মুখ ভরিয়ে বললেন‚ “আরে‚বলবে তো শট হয়ে গেছে। আমি কতক্ষণ মড়া সেজে পড়ে রয়েছি”।

আরও পড়ুন: পরিচালক মৃণাল সেনের ফিল্ম পরিচালনার কিছু ‘মণি মুক্ত’

তিন বছর ধরে শ্যুটিং চলেছিল ফিল্মের। টাকাই যোগাড় হয় না। পরিচালকের উদ্বেগ দূর করে এই দীর্ঘ সময়ে বেশি বড় হয়ে যায়নি ইন্দির ঠাকরুনের ভাইপো ভাইঝি। দুর্গা ছিল ছবির শুরুর চেহারাতেই। অপুরও গলা ভাঙেনি। আর চুনিবালা দেবী বা ইন্দিরা ঠাকরুন নিজেও জীবিত ছিলেন। নইলে পথের এই অপূর্ব পাঁচালী অপঠিতই রয়ে যেত পর্দায়।

আরও পড়ুন: বছর শেষে আবার ইন্দ্রপতন, প্রয়াত চিত্র পরিচালক মৃনাল সেন

মুক্তির জন্য অপেক্ষা না করে পরিচালক সত্যজিৎ রায়, চুনীবালা দেবীর বাড়ি গিয়ে প্রোজেকশন দেখালেন। বুঝতে পেরেছিলেন তাঁকে আর বেশিদিন সময় দেবেন না চুনীবালা। ১৯৫৫ সালের ২৬ আগস্ট যখন মুক্তি পেল ‘পথের পাঁচালী’‚ তার কয়েকমাস আগেই চলে গেছেন অশীতিপর চুনীবালা দেবী। গল্পের দুর্গার মতো তাঁরও বাস্তবে মারণ জ্বর বা ইনফ্লুয়েঞ্জা হয়েছিল।

নিজে যে ইতিহাসের শরিক হলেন তা আর দেখা হয়ে ওঠেনি চুনীবালা দেবীর। জানা হয়নি তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি সম্মানিত হয়েছেন বিদেশি চলচ্চিত্র উৎসবে। ম্যানিলা চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিবেচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ততদিনে ইন্দির ঠাকরুন চলে গিয়েছিলেন অনেক দূরে। আর পরিচালক সত্যজিৎ রায় প্রথম ফিল্মেই নিজের জায়গা করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন https://thenewsbangla.com/pranab-mukherjee-former-president-is-seventh-bengali-to-get-bharat-ratna-award/ Fri, 25 Jan 2019 18:44:07 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6027 প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে আরও ছয়জন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন। এঁরা হলেন বিধানচন্দ্র রায় (১৯৬১), মাদার টেরিজা (১৯৮০), সত্যজিৎ রায় (১৯৯২), অরুণা আসফ আলি (১৯৯৭), পণ্ডিত রবি শংকর (১৯৯৯) ও অমর্ত্য সেন (১৯৯৯)। প্রণব মুখোপাধ্যায় হলেন সপ্তম বাঙালি যিনি ভারতরত্ন হলেন।

আরও পড়ুনঃ ভারতরত্ন প্রণব মুখোপাধ্যায়

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

১. ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় (১ জুলাই,১৮৮২– ১ জুলাই,১৯৬২) ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক হিসেবেও তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। কলকাতার ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা ও চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন ও আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো নির্বাচিত হন। পরে কলকাতা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ও কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৬১ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হন। তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিন (১ জুলাই) সারা ভারতে “চিকিৎসক দিবস” রূপে পালিত হয়।

আরও পড়ুনঃ

কালামের নামে ছাত্রদের তৈরি হালকা উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়ে নজির ভারতের

কলেজে অধ্যাপক পিটিয়ে এগিয়ে বাংলার মুখে ফের চুনকালি দিল তৃণমূল

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

২. মাদার টেরেজ়া (আগস্ট ২৬, ১৯১০ – সেপ্টেম্বর ৫, ১৯৯৭) ছিলেন একজন আলবেনিয় বংশোদ্ভুত ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসী। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি কলকাতায় মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৯৮০ সালে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়। ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি দ্য মিশনারিজ অফ চ্যারিটির প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৬ সালে পোপ ফ্রান্সিস তাঁকে ‘সন্ত’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং ক্যাথলিক গির্জায় তিনি ‘কলকাতার সন্ত টেরিজা’ হিসেবে আখ্যায়িত হন। তাঁকে বাঙালি বলেই মনে করেন সবাই।

আরও পড়ুনঃ

পিটিটিআই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ফের মুখ পুড়ল রাজ্যের

নেতাদের পর সিনেমার প্রয়োজক, চিটফান্ড দুর্নীতিতে গ্রেফতার শ্রীকান্ত মোহতা

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৩. সত্যজিৎ রায় (২ মে, ১৯২১ – ২৩ এপ্রিল, ১৯৯২) ছিলেন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা। চলচ্চিত্র জগতে অবদানের জন্য ১৯৯২ সালে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়। সত্যজিৎ রায় একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া “শ্রেষ্ঠ মানব দলিল” (Best Human Documentary) পুরস্কারটি। এছাড়াও তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক। বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ১৯৯২ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার বা অস্কার। যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন।

আরও পড়ুনঃ

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার, পোস্টার কংগ্রেসের

জন্মদিনে নেতাজি সুভাষের মৃত্যুদিন নিয়ে ছেলেখেলা রাহুলের কংগ্রেসের

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৪. অরুণা আসফ আলী (১৯০৯-১৯৯৬) ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগ্রামী ও একজন সমাজকর্মী। অরুণা আসফ আলীকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালে জওহরলাল নেহরু পুরস্কার প্রদান করা হয়। ১৯৯৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের সর্ব্বোচ্চ সম্মান ভারতরত্ন উপাধিতে সম্মানিত করে। আর ১৯৬৪ সালে তাকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় লেলিন শান্তি পুরস্কারে বিভূষিত করা হয়। সমাজে প্রগতি আর শান্তি রক্ষার কারণে ১৯৫৫ সালে তাকে সোভিয়েট দেশে নেহরু পুরস্কারে সম্মানিত করে। তিনি দিল্লী মহানগরের প্রথম মহিলা মেয়র ছিলেন। তিনি জাতীয় মহিলা ফেডারেশনের সভানেত্রীও ছিলেন। জাতীয় মহিলা কনফারেন্সের সাথে জড়িত থাকার কারণে দিল্লী কংগ্রেস কমিটির সভানেত্রীও হন তিনি।

আরও পড়ুনঃ

মোদীর মাস্টারস্ট্রোকে দেশ পেতে পারে প্রথম মহিলা বাঙালি সিবিআই প্রধান

ব্রিগেড থেকে ফিরেই ভোলবদল, মমতা নয় রাহুলকেই প্রধানমন্ত্রী চাইলেন নেতারা

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৫. পণ্ডিত রবিশঙ্কর (৭ই এপ্রিল, ১৯২০- ১১ই ডিসেম্বর, ২০১২) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি সঙ্গীতজ্ঞ যিনি সেতারবাদনে কিংবদন্তিতুল্য শ্রেষ্ঠত্বের জন্য বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মাইহার ঘরানার স্রষ্টা আচার্য আলাউদ্দীন খান সাহেবের শিষ্য রবিশঙ্কর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্য। এবং ভারতীয় সঙ্গীতকে ১৯৬০-এর দশকে পাশ্চাত্য বিশ্বের কাছে প্রথম তুলে ধরেন। তাঁর সাঙ্গীতিক কর্মজীবনের পরিব্যাপ্তি ছয় দশক জুড়ে। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুকালে রবিশঙ্কর দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের জন্য গিনেস রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ

রাজ্যের হাতে টাকা নেই বাজারে ধার, তারপরেও বিধায়কদের ভাতা বাড়ছে

পাহাড়ে মোর্চা বিজেপির সঙ্গেই, গোপন আস্তানা থেকে বার্তা বিমল গুরুংয়ের

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

৬. অমর্ত্য সেন (জন্ম ৩রা নভেম্বর, ১৯৩৩) একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক। দুর্ভিক্ষ, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও দারিদ্রের কারণ নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁকে ১৯৯৯ সালে ভারতরত্ন দেওয়া হয়। অমর্ত্য সেন একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ। দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্রের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে গবেষণা এবং উদারনৈতিক রাজনীতিতে অবদান রাখার জন্য ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ব্যাংক অফ সুইডেন পুরস্কার (যা অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার হিসেবে পরিচিত) লাভ করেন। অমর্ত্য সেনই জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার জন্য মানব উন্নয়ন সূচক আবিষ্কার করেন। তিনিই প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক না হয়েও ন্যাশনাল হিউম্যানিটিস মেডালে ভূষিত হন।

আরও পড়ুনঃ

বাংলায় ক্ষোভ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়াচ্ছে মোদী সরকার

লোকাল ট্রেনকে এক্সপ্রেস ভাবলেন ষ্টেশন মাস্টার, তারপরেই হল বিপদ

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আগে কোন কোন বাঙালি ভারতরত্ন হয়েছেন/The News বাংলা

আর এবার সপ্তম বাঙালি হিসাবে ভারতরত্ন পেলেন প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। ৭. প্রণব মুখোপাধ্যায় (জন্মঃ ১১ ডিসেম্বর ১৯৩৫) ছিলেন ভারতের ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি (জুলাই, ২০১২-এ কার্যভার গ্রহণকারী)। তাঁর রাজনৈতিক কর্মজীবন ছয় দশকব্যাপী। তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা। বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ২০১২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে প্রণব মুখোপাধ্যায় ছিলেন ভারতের অর্থমন্ত্রী ও কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় সমস্যা-সমাধানকারী নেতা।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

আরও পড়ুনঃ

মন্দিরে ঢোকার অপরাধে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়ানো হল দুর্গাকে

মন্দিরে ঢুকে বিপ্লবের শাস্তি, পিটিয়ে বৌমাকে হাসপাতালে পাঠাল শাশুড়ি

নারী ঢোকায় ‘অপিবত্র’ শবরীমালা, ‘শুদ্ধ’ করার জন্য বন্ধ মন্দির

ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি ‘মা দুর্গার’

]]>
বিশ্বের সেরা একশোয় সত্যজিতের পথের পাঁচালি https://thenewsbangla.com/pather-panchali-of-satyajit-ray-is-one-of-the-hundred-best-films-by-bbc/ Thu, 01 Nov 2018 11:52:54 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1808 The News বাংলা: ৬৩ বছর পরেও খবরের শিরোনামে পথের পাঁচালি ও সত্যজিত রায়। বিবিসি কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের সর্বকালের সেরা ১০০ সিনেমার তালিকায় স্থান পেল ‘‌পথের পাঁচালি’‌। ভারত থেকে কেবলমাত্র এই একটি সিনেমাই ওই তালিকায় স্থান পেয়েছে। তাও আবার ১৫ নম্বরে। বিবিসি–র পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানা ভাষায় মুক্তিপ্রাপ্ত সেরা ১০০ চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়েছে। ভোট দিয়েছেন ২০৯ দেশের ৪৩ জন সিনে সমালোচকরা। আর সেখানেই বাজিমাত পথের পাঁচালির।

Image Source: Google

১৯৫৫ সালের ৩ মে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘পথের পাঁচালি’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল। পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল সত্যজিৎ রায়ের। কিন্তু ৬৩ বছর কেটে গেলেও সেই সিনেমার গুরুত্ব বিন্দুমাত্র কমেনি তা আবার প্রমানিত হল।

আরও পড়ুন: বিশ্বে আলোড়ন ফেলে চুমু খেতে রাজি সোফিয়া

বিবিসির সেরা ১০০ ফিল্মের তালিকায় সবার উপরে নাম রয়েছে জাপানি ছবি ‘সেভেন সামুরাই’ এর। আকিরা কুরোসাওয়া পরিচালিত এই ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ১৯৫৪ সালে।

Image Source: Google

বিবিসির বিদেশি ভাষার ১০০ ছবির তালিকায় রয়েছে ২৪ দেশের ৬৭ পরিচালকের ছবি স্থান করে নিয়েছে। মোট ১৯টি ভাষার সিনেমা রয়েছে এই তালিকায়। এর মধ্যে সর্বাধিক ২৭টি ছবি রয়েছে ফরাসি ভাষায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তালিকায় রয়েছে মান্দারিন ভাষার সিনেমা (১২টি)। ইতালি এবং জাপানের ছবি রয়েছে ১১টি করে। এছাড়া সর্বকালের সেরা ১০০ টি ছবির মধ্যে চার জন মহিলা পরিচালকের ছবিও রয়েছে।

Image Source: Google


একনজরে দেখে নি বিবিসির সেরা ১০০ সিনেমা:

100. Landscape in the Mist (Theo Angelopoulos, 1988)
99. Ashes and Diamonds (Andrzej Wajda, 1958)
98. In the Heat of the Sun (Jiang Wen, 1994)
97. Taste of Cherry (Abbas Kiarostami, 1997)
95. Floating Clouds (Mikio Naruse, 1955)
94. Where Is the Friend’s Home? (Abbas Kiarostami, 1987)
93. Raise the Red Lantern (Zhang Yimou, 1991)
92. Scenes from a Marriage (Ingmar Bergman, 1973)
91. Rififi (Jules Dassin, 1955)
90. Hiroshima Mon Amour (Alain Resnais, 1959)
89. Wild Strawberries (Ingmar Bergman, 1957)
88. The Story of the Last Chrysanthemum (Kenji Mizoguchi, 1939)
87. The Nights of Cabiria (Federico Fellini, 1957)
86. La Jetée (Chris Marker, 1962)
85. Umberto D (Vittorio de Sica, 1952)
84. The Discreet Charm of the Bourgeoisie (Luis Buñuel, 1972)
83. La Strada (Federico Fellini, 1954)
82. Amélie (Jean-Pierre Jeunet, 2001)
81. Celine and Julie go Boating (Jacques Rivette, 1974)
80. The Young and the Damned (Luis Buñuel, 1950)
79. Ran (Akira Kurosawa, 1985)
78. Crouching Tiger, Hidden Dragon (Ang Lee, 2000)
77. The Conformist (Bernardo Bertolucci, 1970)
76. Y Tu Mamá También (Alfonso Cuarón, 2001)
75. Belle de Jour (Luis Buñuel, 1967)
74. Pierrot Le Fou (Jean-Luc Godard, 1965)
73. Man with a Movie Camera (Dziga Vertov, 1929)
72. Ikiru (Akira Kurosawa, 1952)
71. Happy Together (Wong Kar-wai, 1997)
70. L’Eclisse (Michelangelo Antonioni, 1962)
69. Amour (Michael Haneke, 2012)
68. Ugetsu (Kenji Mizoguchi, 1953)
67. The Exterminating Angel (Luis Buñuel, 1962)
66. Ali: Fear Eats the Soul (Rainer Werner Fassbinder, 1973)
65. Ordet (Carl Theodor Dreyer, 1955)
64. Three Colours: Blue (Krzysztof Kieślowski, 1993)
63. Spring in a Small Town (Fei Mu, 1948)
62. Touki Bouki (Djibril Diop Mambéty, 1973)
61. Sansho the Bailiff (Kenji Mizoguchi, 1954)
60. Contempt (Jean-Luc Godard, 1963)
59. Come and See (Elem Klimov, 1985)
58. The Earrings of Madame de… (Max Ophüls, 1953)
57. Solaris (Andrei Tarkovsky, 1972)
56. Chungking Express (Wong Kar-wai, 1994)
55. Jules and Jim (François Truffaut, 1962)
54. Eat Drink Man Woman (Ang Lee, 1994)
53. Late Spring (Yasujirô Ozu, 1949)
52. Au Hasard Balthazar (Robert Bresson, 1966)
51. The Umbrellas of Cherbourg (Jacques Demy, 1964)
50. L’Atalante (Jean Vigo, 1934)
49. Stalker (Andrei Tarkovsky, 1979)
48. Viridiana (Luis Buñuel, 1961)
47. 4 Months, 3 Weeks and 2 Days (Cristian Mungiu, 2007)
46. Children of Paradise (Marcel Carné, 1945)
45. L’Avventura (Michelangelo Antonioni, 1960)
44. Cleo from 5 to 7 (Agnès Varda, 1962)
43. Beau Travail (Claire Denis, 1999)
42. City of God (Fernando Meirelles, Kátia Lund, 2002)
41. To Live (Zhang Yimou, 1994)
40. Andrei Rublev (Andrei Tarkovsky, 1966)
39. Close-Up (Abbas Kiarostami, 1990)
38. A Brighter Summer Day (Edward Yang, 1991)
37. Spirited Away (Hayao Miyazaki, 2001)
36. La Grande Illusion (Jean Renoir, 1937)
35. The Leopard (Luchino Visconti, 1963)
34. Wings of Desire (Wim Wenders, 1987)
33. Playtime (Jacques Tati, 1967)
32. All About My Mother (Pedro Almodóvar, 1999)
31. The Lives of Others (Florian Henckel von Donnersmarck, 2006)
30. The Seventh Seal (Ingmar Bergman, 1957)
29. Oldboy (Park Chan-wook, 2003)
28. Fanny and Alexander (Ingmar Bergman, 1982)
27. The Spirit of the Beehive (Victor Erice, 1973)
26. Cinema Paradiso (Giuseppe Tornatore, 1988)
25. Yi Yi (Edward Yang, 2000)
24. Battleship Potemkin (Sergei M Eisenstein, 1925)
23. The Passion of Joan of Arc (Carl Theodor Dreyer, 1928)
22. Pan’s Labyrinth (Guillermo del Toro, 2006)
21. A Separation (Asghar Farhadi, 2011)
20. The Mirror (Andrei Tarkovsky, 1974)
19. The Battle of Algiers (Gillo Pontecorvo, 1966)
18. A City of Sadness (Hou Hsiao-hsien, 1989)
17. Aguirre, the Wrath of God (Werner Herzog, 1972)
16. Metropolis (Fritz Lang, 1927)

Image Source: Google

15. Pather Panchali (Satyajit Ray, 1955)

Image Source: Google

14. Jeanne Dielman, 23 Commerce Quay, 1080 Brussels (Chantal Akerman, 1975)
13. M (Fritz Lang, 1931)
12. Farewell My Concubine (Chen Kaige, 1993)
11. Breathless (Jean-Luc Godard, 1960)
10. La Dolce Vita (Federico Fellini, 1960)
9. In the Mood for Love (Wong Kar-wai, 2000)
8. The 400 Blows (François Truffaut, 1959)
7. 8 1/2 (Federico Fellini, 1963)
6. Persona (Ingmar Bergman, 1966)
5. The Rules of the Game (Jean Renoir, 1939)
4. Rashomon (Akira Kurosawa, 1950)
3. Tokyo Story (Yasujirô Ozu, 1953)
2. Bicycle Thieves (Vittorio de Sica, 1948)
1. Seven Samurai (Akira Kurosawa, 1954)

Image Source: Google

পথের পাঁচালি বাংলা সিনেমার জন্য দারুণ এক সংযোজন। এই ছবির হাত ধরেই স্বাধীন ভারতে নির্মিত চলচ্চিত্র প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মনোযোগ টানতে সক্ষম হয়। এই ছবিটি দিয়েই বাংলা চলচ্চিত্র পৌঁছেছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের আঙিনায়। আর এই ছবিটি পরিচালনা করেই সিনেমায় পরিচালক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন পরিচালক সত্যজিৎ রায়। ‘পথের পাঁচালি’ তাঁকে এনে দিয়েছে অনন্য খ্যাতি ও সম্মান। ফের সেই কালজয়ী সিনেমা এনে দিল আরও একটি বিশ্ব সম্মান।

আরও পড়ুন: মহাকাশ লড়াইয়েও ভারতের কাছে হারছে পাকিস্তান

৬৩ বছরের বেশি সময় পার করে আজও ‘পথের পাঁচালি’ চিরন্তন ক্লাসিক হিসেবে সমাদৃত। দুনিয়াজুড়ে অনেক স্বীকৃতিই পেয়েছে ছবিটি। এবার তার মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি নতুন পালক। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ছবির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে অপু-দুর্গা আর তাদের নিশ্চিন্দিপুরের গল্প।

Image Source: Google

সম্প্রতি বিদেশি ভাষার সেরা ১০০ ছবির তালিকা প্রকাশ করেছে বিবিসি। সেখানে ২৪টি দেশের ৬৭ জন পরিচালকের ১৯টি ভাষার ছবি স্থান পেয়েছে। তার মধ্যে ‘পথের পাঁচালি’ রয়েছে ১৫ নম্বরে।

আরও পড়ুন: মোদীর ভারতে সর্দার প্যাটেলের রেকর্ড ভাঙবে ছত্রপতি শিবাজীর মূর্তি

‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ ও ‘ব্যাটেলশিপ পোটেমকিন’-এর মতো ছবিকে পিছনে ফেলে দিযেছে ‘পথের পাঁচালি’। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে তালিকায় রয়েছে ইঙ্গমার বার্গম্যান, ফেদরিকো ফেলিনি, সের্গেই আইজেনস্টাইনের মতো বিশ্ববিখ্যাত পরিচালকের নাম।

Image Source: Google

১৯৫৫ সালের ৩রা মে নিউইয়র্ক শহরের মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের একটি প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। সেই বছর কলকাতা শহরেও মুক্তি লাভ করে ছবিটি। মুক্তি পায় ‘পথের পাঁচালি’। ১৯৫৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পায় ছবিটি। এছাড়া বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবেও পুরস্কৃত হয় ‘পথের পাঁচালি’। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও (স্বর্ণকমল পুরস্কার) অর্জন করেছিলো এটি।

Image Source: Google

অপু ত্রয়ী চলচ্চিত্র-সিরিজের প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালীর মুখ্য চরিত্র অপুর শৈশবকে কেন্দ্র করে বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে বাংলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের জীবনধারা চিত্রায়িত করা হয়েছে এই ছবিতে। গল্পের চরিত্র অপুর জীবন সত্যজিৎ রায়ের অপরাজিত (১৯৫৬) এবং অপুর সংসার (১৯৫৯) নামক অপু ত্রয়ী চলচ্চিত্র-সিরিজের পরবর্তী দুইটি চলচ্চিত্রে দেখানো হয়।

আরও পড়ুন: ভাইরাল ছবির জেরে ‘দুধের বাচ্চা’ নিয়ে বদলি মহিলা পুলিশ

এখনও বিশ্বের দরবারে ভারতীয় সিনেমার প্রতিনিধি মানে সেই সত্যজিত রায় ও তাঁর পথের পাঁচালি। বিবিসির সেরা ১০০ আবার তার প্রমান দিল।

]]>