Religious story – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 21 Mar 2019 17:59:15 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Religious story – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 শিব ও পার্বতীর বিয়ের অদ্ভুত গল্প (পর্ব ১) https://thenewsbangla.com/interesting-story-of-lord-shiv-and-princess-parvatis-marriage/ Mon, 11 Mar 2019 06:22:41 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=8062 শিব পার্বতীর প্রেম বিবাহ নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত আছে। জেনে নিন সেই গল্প। পড়ুন প্রথম পর্ব। Love at First Sight. পার্বতী শিবের প্রেমে পড়লেন। দিনরাত অন্য চিন্তা নেই, শুধু শিব শিব আর শিব।

একদিন দেবর্ষি নারদ এসে পার্বতীকে বললেন, শিব কেবলমাত্র তপস্যাতেই সন্তুষ্ট হন। তপস্যা বিনা ব্রহ্মা বা অন্যান্য দেবতারাও শিবের দর্শন পান না।

নারদের পরামর্শ মতো পার্বতী তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রথমে তিনি পিতামাতার অনুমতি নিলেন। তাঁর পিতা গিরিরাজ হিমালয় সাগ্রহে অনুমতি দিলেন। যদিও মা মেনকা, মেয়ে পার্বতীকে এমন কঠিন তপস্যা করতে দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু পরে তিনিও অনুমতি দিলেন।

পার্বতী বহুমূল্য বস্ত্র ও অলংকারাদি পরিত্যাগ করে মৃগচর্ম পরিধান করলেন। তারপর হিমালয়ের গৌরীশিখর নামক চূড়ায় গিয়ে কঠিন তপস্যায় বসলেন। বর্ষাকালে মাটিতে বসে, শীতকালে জলে দাঁড়িয়ে তপস্যা করতে লাগলেন পার্বতী।

বন্য জন্তুরা তাঁর ক্ষতি করা দূরে থাক, কাছে ঘেঁষতেও ভয় পেতে লাগল। সকল দেবতা ও ঋষিরা একত্রিত হয়ে এই অত্যাশ্চর্য তপস্যা চাক্ষুষ করতে লাগলেন।

একসময় দেবতাগণ ও ঋষিগণ শিবের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে বললেন, ‘হে প্রভু, আপনি কি দেখতে পান না পার্বতী কি ভীষণ তপস্যায় বসেছেন? এমন কঠোর তপস্যা পূর্বে কেউ করেনি। ভবিষ্যতেও কেউ করতে পারবে না। অনুগ্রহ করে তাঁর মনস্কাম পূর্ণ করুন’।

শিব তখন এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বেশ ধরে পার্বতীর কাছে গেলেন। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ দেখে পার্বতী ফলফুল দিয়ে তাঁর পূজা করলেন।

ছদ্মবেশী শিব জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি তপস্যা করছ কেন? তুমি কি চাও?’ পার্বতী বললেন, ‘আমি শিবকে আমার স্বামীরূপে পেতে চাই’।

ব্রাহ্মণবেশী শিব বললেন, ‘তুমি তো দেখি মহামুর্খ! তুমি সোনার বদলে কাঁচ আর চন্দনের বদলে কাদা চাও! গঙ্গাজল ফেলে কেউ কি কূপের জল পান করে? বিবাহ করতে হলে স্বর্গের দেবতাদের করো। ইন্দ্র তোমার উপযুক্ত স্বামী হতে পারেন।

শিব আবার একটা দেবতা নাকি! তিনটে চোখ, পাঁচটা মাথা, মাথায় জটা, গায়ে ভষ্ম, গলায় সাপের মালা, সঙ্গী ভূতপ্রেত, পরনে নেই কাপড়, ট্যাঁকে নেই টাকা! থাকার মধ্যে আছে গলায় বিষ! এমনকি কে যে তার বাপ-মা তাও কেউ জানে না! থাকে গভীর বনে! আমার মতে তুমি ভুল করছ। শিবকে ভুলে যাও। নিজের জীবনখানা নষ্ট কোরো না।

ব্রাহ্মণের কথা শুনে পার্বতী রেগে উঠলেন। বললেন, ‘মুর্খ তো আপনি। আপনি শিবের সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তিনিই তো মহাদেব। আপনার মতো শিবনিন্দুকের সেবা করলুম, ধিক আমাকে। শিবের বিরুদ্ধে আর একটি শব্দ উচ্চারণের আগেই আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। শিবনিন্দার একটি শব্দও শুনতে চাই নে’।

পার্বতী সেই স্থান পরিত্যাগ করতে যাবেন, এমন সময় শিব স্বমূর্তি ধরে বললেন, ‘কোথায় যাচ্ছো? আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমারই জন্য প্রার্থনা করছিলে। এখন আমাকে ছেড়ে গেলে তো চলবে না। আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে দেবো না। তুমি বর চাও।’

অভিভূত পার্বতী বললেন, ‘প্রভু, আমাকে বিবাহ করুন’। শিব বললেন, ‘তথাস্তু’। এই কথা শুনে পার্বতী ফিরে এলেন ঘরে।

শিব সপ্তর্ষিকে ডেকে তাঁদের দূত নিয়োগ করলেন। তাঁরা গিরিরাজ হিমালয়ের কাছে বিবাহ প্রস্তাব নিয়ে গেলেন। শুনে গিরিরাজের আনন্দের সীমা রইল না। শুভদিন স্থির করে বিবাহের কথা পাকা হয়ে গেল।

বিবাহের দিন গন্ধর্বেরা গান ধরলেন, অপ্সরাগণ নৃত্য শুরু করলেন। বরযাত্রী হবার জন্য দেবতারা উপস্থিত হলেন কৈলাসশিখরে। এদিকে গিরিরাজও প্রস্তুত।

তাঁর প্রাসাদ তোরণ, পতাকা ইত্যাদি দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। শিব হিমালয়ের প্রাসাদে এসে পৌঁছাতেই মেনকা বেরিয়ে এলেন। বললেন, ‘কই, শিব কই? দেখি আমার জামাই কেমন। যাকে পেতে মেয়েটা আমার এমন কঠোর তপস্যা করলে। সে নিশ্চয় পরম সুন্দর।’

শিবকে দেখেই অজ্ঞান শ্বাশুড়ি মেনকা। কেন? দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব পড়তে চোখ রাখুন The News বাংলা ফেসবুক পেজ।

]]>
কেন মা কালীর পায়ের নিচে বাবা মহাদেব https://thenewsbangla.com/why-is-god-mahadev-under-the-feet-of-goddess-kali/ Thu, 08 Nov 2018 11:55:22 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2045 The News বাংলা: মা কালী হলেন একজন হিন্দু দেবী। তাঁর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। প্রধানত শাক্ত সম্প্রদায় কালীপূজা করে থাকে। তন্ত্র অনুসারে, কালী দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত দশজন প্রধান তান্ত্রিক দেবীর প্রথম। কিন্তু মা কালীর পায়ের নীচে শিব কেন ?

শাক্ত মতে, কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। পুরাণ ও তন্ত্র সাহিত্যে কালীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা পাওয়া যায়। এগুলি হল: দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, শ্মশানকালী, মহাকালী, রক্ষাকালী ইত্যাদি।

কিন্তু, মা কালীর পদতলে শিব কেন?

Image Source: Google

পুরাণে আছে, অসুর কূলের আক্রমনের ফলে সঙ্কটে পরে দেবতারা। তাঁদের তাঁড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের অধিকার নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অসুররা। অসুরদের প্রধান ছিলেন রক্তবীজ। ব্রহ্মার বরে রক্তবীজের একফোঁটা রক্ত থেকে জন্ম নিচ্ছিল আরো হাজার রক্তবীজ।

আরও পড়ুনঃ জেনে নিন সিদ্ধপুরুষ ‘জয় বাবা লোকনাথ’ এর অজানা কাহিনী

একফোঁটা রক্ত ভূমিতে পড়লেই আর্বিভূত হচ্ছিল অসুর বাহিনী। অসুর নিধন করতে অবর্তীণ হোন দেবী দূর্গা। সব অসুর নিহত হলেও বেঁচে থাকেন রক্তবীজ। কিন্তু সেই যুদ্ধেও ব্রহ্মার বরে অপরাজেয় থাকেন রক্তবীজ। এই অবস্থায় দূর্গার ভীষণ ক্রোধে তাঁর দুই ভ্রু এর মাঝখান থেকে জন্ম নেন দেবী কালী।

Image Source: Google

কালীর ভয়াল দৃষ্টিতেই নিহত হয় বহু অসুর। এরপর দেবীর চিৎকারে প্রাণহানি হয় আরও অনেক অসুরের। রক্তবরণ লকলকে জিব বের করে কালী গ্রাস করে নেন হাতিও ঘোড়া সওয়ার অসুর বাহিনীকে। তারপরেও টিকে থাকেন রক্তবীজ। এই অবস্থায় দেবী কালী তাঁকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তাঁর রক্ত পান করতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ নরকঙ্কালের খুলি সাজিয়ে জাগ্রত মহাশ্মশান কালীর পুজো

রক্তবীজের একফোঁটা রক্তও যাতে ভূমিতে না পড়ে সেই কারনে রক্তবীজের দেহ শূণ্যে তুলে নেন দেবী কালী। এই অবস্থায় রক্তবীজের দেহের সবটুকু রক্তপান করেন দেবী কালী। শেষ বিন্দু রক্ত পান করার পর নিথর রক্তশূণ্য রক্তবীজের দেহ ছুড়ে ফেলে দেন মাতা কালী।

Image Source: Google

আকণ্ঠ রক্ত পান করে বিজয়নৃত্য শুরু করেন মাতা কালী। নিহত অসুরের হাত দিয়ে তিনি কোমড়বন্ধনী এবং মাথা দিয়ে মালিকা বানিয়ে পরিধান করেন। কালীর উন্মাদিনী নাচ দেখে প্রমোদ গোনেন দেবতারা। কারণ এই নাচে আসন্ন হচ্ছিল সৃষ্টির লয়।

পৃথিবীকে ধ্বংশের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য দেবতারা শিবের শরণাগত হলেন। শিবের একাধিক মৌখিক অনুরোধ শুনতে পাননি মাতা কালী। কারন তখন তিনি উন্মাদিনী মত নেচে চলেছেন। আর কোনও উপায় না দেখে নৃত্যরতা কালীর পায়ের তলায় নিজেকে ছুঁড়ে দিলেন মহাদেব।

Image Source: Google

এরপরই চৈতন্য হয় মা কালীর। থেমে যায় নাচ। পায়ের নিচে স্বামীকে দেখে লজ্জায় জিভ কাটেন দেবী কালী। এই পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বন করেই যুগ যুগ ধরেই পূজিত হয়ে আসছে মায়ের এই প্রতিমা। দূর্গার পাশে শিবকে নানা ভাবে দেথা যায়।

আরও পড়ুনঃ অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা

তার মধ্যে হরগৌরী রূপ বিখ্যাত। মাতা কালীর সঙ্গে শিব থাকলে তাঁর জায়গা সবসময় দেবীর পদযুগলের নিচে। এই বিগ্রহে কালীর ডান পা যদি এগিয়ে থাকে তবে তিনি দক্ষিণা কালী। আবার বাম পা এগিয়ে থাকলে তা মায়ের বামা ক্ষ্যাপা রূপ।

]]>