Politics – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sun, 28 Apr 2019 09:09:55 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Politics – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 রাজনৈতিক স্বার্থে ওবিসির সংরক্ষন নিয়েছেন মোদী, মন্তব্য মায়াবতীর https://thenewsbangla.com/narendra-modi-included-his-caste-in-obc-category-for-politics-says-mayawati/ Sun, 28 Apr 2019 09:07:03 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=11822 রাজনৈতিক স্বার্থে ওবিসির সংরক্ষন নিয়েছেন মোদী, মন্তব্য বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতীর। আর এই মন্তব্যের জেরেই এবার জোর বিতর্ক শুরু বিজেপি ও বিএসপি-র মধ্যে। জাতপাত নিয়ে মন্তব্য করে ভোটের মধ্যেই বিতর্কে বিএসপি বা বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী। ভোটের মধ্যেই এবার জোর তরজা শুরু বিজেপি ও বিএসপি-র মধ্যে।

কনৌজের একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জাতপাতের তোপ দাগলেন মায়াবতী। রাজনৈতিক স্বার্থে দলিত প্রেম দেখাতেই ওবিসির আওতাভুক্ত হয়েছেন বলে কটাক্ষ করেন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতী। বিরোধীরা নরেন্দ্র মোদীকে হেয় করে, উত্তরপ্রদেশের বারানসীতে নরেন্দ্র মোদীর এই মন্তব্যের পরেই মায়াবতী মোদীকে কটাক্ষ করে মোদীর সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।

মায়াবতীর দাবি, মোদী আসলে উচ্চবর্ণের অন্তর্ভুক্ত। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি অনৈতিক পদ্ধতিতে ওবিসি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত হন। ভোটের প্রচারে যাতে নিজেকে নিম্নবর্গের দেখিয়ে ভোট আদায় করা যায়, সেজন্যেই ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন মোদী, এমনই ধারণা মায়াবতীর। আর এই মন্তব্যের পরেই মায়াবতীকে একহাত নিয়েছে বিজেপি মুখপাত্ররা।

আরও পড়ুনঃ শঙ্কুর হাত ধরে পাঁচ হাজার টিএমসিপি যুব কর্মী সমর্থক বিজেপিতে

মায়াবতী আরও বলেন সপা নেতা মুলায়ম সিং যাদবের জন্ম নিম্নবর্গের ঘরে, কিন্তু তিনি সেই নিয়ে কোন সুবিধা নিতে চান না। কিন্তু মোদী নিম্নবর্গের না হয়েও তা সেজে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদীর এভাবে মানুষকে বানিয়ে ভোটবাক্সে ফায়দা তুলতে পারবেন না বলেই জানান মায়াবতী।

বিএসপি বা বহুজন সমাজ পার্টির নেত্রী মায়াবতী আরও জানান যে, উত্তরপ্রদেশে এবার সপা-বসপা জুটি কামাল করবে। এই রাজ্যই মোদীর ফের ক্ষমতায় আসা আটকাবে বলেই জানিয়ে দেন তিনি। গতবার উত্তরপ্রদেশের ৮০ টি আসনের মধ্যে একাই ৭৩টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তার জেরেই দেশে ক্ষমতায় আসে বিজেপি, দাবী মায়াবতীর।

আরও পড়ুনঃ ভারতীয় না আমেরিকান, যাদবপুরে গ্রেট খালির ভোট প্রচার নিয়ে এবার জোর বিতর্ক

এদিকে নরেন্দ্র মোদী পাল্টা জানিয়েছেন, ভোট যুদ্ধে লড়তে না পেরেই তারা মোদীর জাত পাত নিয়ে ঘাটাঘাটি করছেন। এদিকে নিম্নবর্গের মানুষের জন্য কাজ করতে পেরে মোদী নিজেকে গর্বিত মনে করেন। বিরোধীদের তিনি জাতপাতের রাজনীতি বন্ধ করতে পরামর্শ দেন।

দেশের ১৩০ কোটি ভারতীয়ই তাঁর পরিবারের অংশ বলে জানান মোদী। বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শ বিরোধীরা কেউই অনুসরণ করতে পারেনি বলেও নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ তোলেন। আগামীকাল ২৩শে এপ্রিল চতুর্থ দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে কনৌজ লোকসভা কেন্দ্রে। তার আগেই জাতপাতের বিতর্কে উত্তপ্ত কনৌজ সহ গোটা রাজ্য।

]]>
দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বামীকেও কি কংগ্রেসে আনছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী https://thenewsbangla.com/priyanka-gandhi-drops-robert-vadra-to-ed-office-big-signal-to-politics/ Wed, 06 Feb 2019 11:50:16 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6508 বুধবার থেকেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভোটের প্রচার শুরু করার কথা। আর এদিনই প্রথমবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার জেরার সামনাসমনি হতে রবার্ট বঢরা সঙ্গে করে নিয়ে এলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বামীকেও কি কংগ্রেসে আনছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী? উঠেছে প্রশ্ন। আর এই নিয়েই দেশ জুড়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কথা বলেছে কংগ্রেস।

আরও পড়ুনঃ সারদা রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে মমতার পুলিশ কর্তাদের বারবার তলব গোয়েন্দাদের

প্রিয়াঙ্কার স্বামী রবার্ট বঢরাকে নিয়ে সকাল থেকেই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতর ২৪, আকবর রোডের বাইরে টাঙিয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু পোস্টার। সেগুলিতে রাহুল-প্রিয়ঙ্কার ছবির সঙ্গেই ছিল রবার্ট বঢরার ছবিও। ফলে সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তাহলে কি এবার কংগ্রেসে পদ পেতে চলেছেন প্রিয়ঙ্কার স্বামীও! বুধবার দুপুরের পর তড়িঘড়ি সেই পোস্টারগুলি সরিয়ে দেওয়া হয়।

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বামীর হাত ধরে ইডি অফিসে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী/The News বাংলা
দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বামীর হাত ধরে ইডি অফিসে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী/The News বাংলা

বঢরার সংস্থা স্কাইলাইট হসপিটালিটির বিরুদ্ধে বিকানিরে বেআইনি ভাবে জমি হাত বদল করার একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত একবছর ধরেই তাঁকে একাধিকবার সমন পাঠিয়েছিল ইডি। বঢরা তাঁর প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছিলেন ইডি দফতরে।

আরও পড়ুনঃ নতুন যুদ্ধ, রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে মমতার দুই অফিসারকে ডেকে পাঠাল ইডি

তারপরে গত বছরেই ইডি অফিসারেরা দিল্লিতে বঢরার সুখদেব বিহারের অফিসে হানা দেন। অভিযোগ করা হয়, ইডি-র অফিসারদের কাছে তল্লাশির নির্দেশও ছিল না। বেআইনি ভাবে তাঁরা তালা ভেঙে ঢোকেন। সব কেবিনের তালা ভেঙে দেওয়া হয়। আইনজীবীদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভিতরে কর্মীদেরও আটকে রাখা হয়।

আরও পড়ুনঃ সারদা চিটফান্ডে সর্বহারাদের দেখেই কি তাড়াতাড়ি ধর্ণা শেষ করলেন মমতা

ফের বুধবার ইডি দফতরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠান হয়েছিল রবার্ট বঢরাকে। কিন্তু এই প্রথমবার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী স্বামীকে ইডি দফতর অব্দি ছাড়তে আসেন। যা নিয়ে রাজধানীর রাজনীতিতে চলছে জোর জল্পনা। তাহলে কি প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হয়েই স্বামীকে ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আনার চেষ্টা করছেন।

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বামীর হাত ধরে ইডি অফিসে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী/The News বাংলা
দুর্নীতিতে অভিযুক্ত স্বামীর হাত ধরে ইডি অফিসে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী/The News বাংলা

কংগ্রেসের তরফ থেকে বলা হয়েছে, “লোকসভা ভোটে নিশ্চিত হার দেখে বঢরার রবার্ট বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। ইডি, সিবিআই ও আয়কর দফতরকে ক্রীতদাস হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন মোদী”।

আরও পড়ুনঃ সারদা চিটফাণ্ড মামলায় রাজীবকে জেরা করতে কি কি প্রশ্ন সাজাচ্ছে সিবিআই

সরকারি ভাবে এই বিষয়ে কিছু না-জানালেও, ইডি সূত্রের দাবি, রবার্ট বঢরা সহ এই দূর্নীতিতে জড়িত তিন জনের মধ্যে গাঁধী পরিবারের জামাই বঢরার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিও রয়েছেন। ইডি-র সন্দেহ, এই তিনজনই একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কমিশন বা ঘুষ নিয়ে সেই অর্থে দেশে বিদেশে সম্পত্তি কিনেছেন।

আরও পড়ুনঃ উঠল বিজেপি বিরোধী সত্যাগ্রহ ধর্ণা, ধর্মতলার ধর্ণা প্রধানমন্ত্রী করতে পারবে মমতাকে

প্রশ্ন উঠেছে, রাহুল গাঁধী যখন নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রাফায়েল চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন, তখন তাঁর আত্মীয়ের বিরুদ্ধেই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সাজাতে চাইছে কেন্দ্র? কোন প্রতিরক্ষা চুক্তি, সন্দেহভাজনদের পরিচয় কী, কোথায় জমি কেনা হয়েছে, তার কিছুই অবশ্য ইডি জানায়নি।

আরও পড়ুনঃ সিবিআই জেরা থেকে পালাতে পারবেন না রাজীব কুমার, মমতা বললেন ‘নৈতিক জয়’

অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হলেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে রবার্ট বঢরার ছবি পোস্টারে দিয়ে কি কংগ্রেস পুরো বিষয়টাতেই এবার রাজনীতির রঙ লাগানর চেষ্টা করছে? সেই কারণেই কি ইডি অফিসে অভিযুক্ত স্বামীকে ছাড়তে গেলেন প্রিয়াঙ্কা? নাকি এবার প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি কংগ্রেসে আসতে চলেছেন রবার্ট বঢরারও। এই প্রশ্নই এখন রাজধানীর রাজনীতিতে।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

আরও পড়ুনঃ সারদা কাণ্ডে পুলিশ কমিশনারকে সিবিআই জেরা কবে, তা নিয়েও লড়াই তুঙ্গে
আরও পড়ুনঃ মমতার নির্দেশে সিবিআই অফিসারদের আটক করে বাংলার আইপিএসরা বিপদে
আরও পড়ুনঃ রাজীব কুমারকে সিবিআই দফতরে হাজিরার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
আরও পড়ুনঃ অদ্ভুত জেল যেখান থেকে আর বাড়ি ফিরতে চায় না কয়েদিরা

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
জাত ধর্মের পর এবার হনুমানের পেশা নিয়েও চর্চা রাজনীতিতে https://thenewsbangla.com/after-caste-and-religion-hanumans-profession-also-in-research-by-politics/ Sun, 23 Dec 2018 10:56:12 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=4676 The News বাংলা: জাত ধর্মের পর এবার পেশা। গত কয়েকমাস ধরেই হনুমানের জাত ও ধর্ম নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজনীতিতে। আদিবাসী, দলিত, মুসলমান না জাঠ এই নিয়ে চলছে বিতর্ক। এবার হনুমানের পেশা নিয়েও শুরু হল চর্চা।

আরও পড়ুনঃ আদিবাসী, দলিত না মুসলমান, বিজেপির গবেষণায় রামভক্ত হনুমানের জাত

পবনপুত্র হনুমানের জাত-ধর্ম নিয়ে কাটাছেঁড়া করাটা এখনকার রাজনৈতিক নেতাদের ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ বলছেন, পবনপুত্র ছিলেন আদিবাসী, কেউ বলছেন দলিত, কেউ বলছেন জাঠ, আবার কেউ তাঁর হনুমান নামের সঙ্গে রহমান, ইমরান, জিশানের মিল থাকায় তাঁকে মুসলিম আখ্যা দিতেও পিছপা হন নি।

আরও পড়ুনঃ ৫ রাজ্যে ভোট ধাক্কায় জোট শরিকদের সব দাবি মানছে মোদীর বিজেপি

জাতের পর এবার হনুমানের পেশা নিয়েও চর্চা রাজনীতিতে/The News বাংলা
জাতের পর এবার হনুমানের পেশা নিয়েও চর্চা রাজনীতিতে/The News বাংলা

এবার পালা উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ও প্রাক্তন ক্রিকেটার চেতন চৌহানের। তিনি অবশ্য হনুমানের জাত বিচারের ঝুঁকি নিলেন না। তবে হনুমান ঠিক কী করতেন, তা নিয়ে এবার নতুন দাবি করে বসলেন চেতন। হনুমান বিচারের তালিকায় নয়া সংযোজন টেস্টে সুনীল গাভাস্কারের ওপেনিং পার্টনার চেতন চৌহানের নাম। তিনি অবশ্য হনুমানের জাতপাত বিচারের পথে না হেঁটে একেবারে নতুন একটা মন্তব্য করেছেন।

আরও পড়ুনঃ লোকঠকানির লোন মাপ, রাহুলকে লজ্জায় ফেলে আত্মঘাতী কৃষক

আমরোহতে একটি সভায় গিয়ে চেতন চৌহান প্রথমে বলেন, ভগবানের কোনও জাতপাত হয় না। এরপরেই তিনি বলেন, হনুমানজি আসলে একজন ক্রীড়াবিদ ছিলেন। উনি কুস্তি লড়তেন। এহেন বক্তব্যের পিছনে চেতন চৌহান যুক্তি দেন, ‘সমস্ত কুস্তিগীররা আখড়ায় খেলতে নামার আগে হনুমানদেবের পুজো করে যান’।

জাতের পর এবার হনুমানের পেশা নিয়েও চর্চা রাজনীতিতে/The News বাংলা
জাতের পর এবার হনুমানের পেশা নিয়েও চর্চা রাজনীতিতে/The News বাংলা

‘কুস্তিগীররা সকলেই ওনাকে খুব ভক্তি করে। উনি একজন ভগবান, আর ভগবানের কোনও জাতপাত হয় না’। তাই চৌহানের বক্তব্য, ‘পবনপুত্র হনুমানকে জাতপাত নিয়ে বিভাজন করা মানে তাঁকে অপমান করা’। প্রসঙ্গত, আমরোহ থেকে দুইবার লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন চেতন চৌহান। বর্তমানে তিনি উত্তরপ্রদেশের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ উগ্র হিন্দুত্ববাদী নিশানায় নাসিরউদ্দিন, নিন্দা বাংলার বুদ্ধিজীবীদের

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ভগবান হনুমানের বার্থ সার্টিফিকেট চেয়ে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন প্রগতিশীল সমাজবাদী দলের নেতা শিবপাল যাদব। সেই শুরু। তারপর থেকেই দল বেঁধে রাজনীতিবিদরা হনুমানের ধর্ম বিচার করার চেষ্টা করছেন।

জাতের পর এবার হনুমানের পেশা নিয়েও চর্চা রাজনীতিতে/The News বাংলা
জাতের পর এবার হনুমানের পেশা নিয়েও চর্চা রাজনীতিতে/The News বাংলা

বিজেপির হিন্দু মুখ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এর মতে হনুমান ছিলেন দলিত। বিজেপি বিধায়ক জ্ঞানদেব আহুজার মতে হনুমান ছিলেন আদিবাসী। আবার উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের পুর কাউন্সিলর বিজেপি নেতা বুক্কাল নবাব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন হনুমান ছিলেন মুসলমান। উত্তরপ্রদেশের আরেক মন্ত্রী চৌধরি লক্ষ্মী নারায়ণ হনুমানকে জাঠ বলে দাবি করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ২২ বছর পর ফের ভূস্বর্গে রাষ্ট্রপতি শাসন

রোজদিনই কোনও না কোনও রাজনৈতিক নেতা হনুমানের জাত নিয়ে বেসামাল মন্তব্য করে বিতর্কের খোরাক জুগিয়ে যাচ্ছেন। হনুমানকে ‘চিনা’ বলে দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ কীর্তি আজাদ। যেন একটা ট্রেন্ড চলছে। হনুমানকে ঠিক কে ছিলেন, তা বিচার করার দায় রয়েছে তাঁদের উপর। আদিবাসী, দলিত, মুসলমান, জাঠ ও চিনা-র পর এবার কুস্তিগীর।

বিজেপির গবেষণায় এবার রামভক্ত হনুমানের জাত। আর সে জন্য হনুমানের জাত, ধর্ম, গোত্র বিচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন ভারতীয় রাজনৈতিক মহল। এর শেষ কোথায় তার জন্যই এখন অপেক্ষা। হনুমানকে কোথায় নামিয়ে আনেন রাজনীতির নেতারা সেটাই এখন দেখার।

]]>
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার হুমকি চিঠি https://thenewsbangla.com/threat-e-mail-to-kill-prime-minister-narendra-modi/ Sun, 14 Oct 2018 12:53:30 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1176 নিজস্ব সংবাদদাতা: হত্যা করা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। এক লাইনের এই হুমকি ইমেল পেলেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক। তাঁর সরকারি ইমেল আইডিতেই এই হুমকি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

২০১৯ এর শুরুর দিকেই লোকসভা নির্বাচন। সেই হিসাবে নির্বাচনের ছ’মাসও আর বাকি নেই। এমন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। সরাসরি হুমকি পেয়েছেন দিল্লির পুলিশ কমিশনার অমূল্য পট্টনায়েক। তাঁকে পাঠানো ই-মেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একলাইনের হুমকিতে ২০১৯-এর একটি তারিখের উল্লেখ করা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্য একটা সূত্রে আবার, নভেম্বরেই নাকি হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

হুমকি চিঠি পাওয়ার পরই সর্বোচ্চ স্থরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিশেষ ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বছরের শেষেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তাই নভেম্বরে দেশজুড়ে একাধিক জনসভা ও মিছিল করার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেই কারণেই নভেম্বর মাসটিকে টার্গেট করছে জঙ্গিরা, হুমকি চিঠি পাবার পর এমনটাই অনুমান গোয়েন্দাদের।

ইমেল পাওয়ার পরই দেশজুড়ে সক্রিয় গোয়েন্দাদের নেটওয়ার্ক। কারা মোদীকে খুন করার ষড়যন্ত্র করছে, তা এখনও জানা যায়নি। যদিও হুমকি ইমেলটি যে সার্ভার থেকে পাঠানো হয়েছে, সেই সার্ভারটি উত্তর-পূর্ব ভারতের অসমে অবস্থিত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

প্রধানমন্ত্রীকে খুনের হুমকি অবশ্য এই প্রথম নয়। এই বছরের জুনেই একটি গোপন চিঠি উদ্ধার করার কথা জানিয়েছিল পুণে পুলিশ। সেই চিঠিতে মোদীকে খুন করার কথা লেখা ছিল, এমনটাই জানানো হয়েছিল পুলিশের তরফে। সেক্ষেত্রে অবশ্য সন্দেহের তীর ছিল মাওবাদীদের দিকেই।

জানা গিয়েছিল, রাজীব গান্ধীকে যে ভাবে মারা হয়েছিল সেভাবেই মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রে ভিমা-কোরেগাঁও দাঙ্গার তদন্ত করতে গিয়েই এই চিঠিটি হাতে এসেছিল গোয়েন্দাদের। ১৮ এপ্রিল, ২০১৭ সালে লেখা এই চিঠিটি পাওয়া গিয়েছিল রোনা উইলসন নামের এক সমাজকর্মীর দিল্লির বাড়ি থেকে। অন্তত পুণে পুলিশের দাবি এরকমই ছিল।

ভিমা কোরেগাঁও কাণ্ডে রোনা উইলসন-সহ আরও পাঁচ সমাজকর্মীকে জুনেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখনই মোদীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা প্রথম সামনে আসে। সেই চিঠিটি লিখেছিল ‘আর’ নামের এক ব্যক্তি। তা লেখা হয়েছিল কমরেড প্রকাশ নামের কোনও একজনকে।

চিঠিতে রোড-শো চলাকালীন নরেন্দ্র মোদীকে রাজীব গান্ধী স্টাইলে হত্যা করার কথা বলা হয়েছিল। পুণে পুলিশ এই দাবি করলেও অনেকেই অবশ্য এই দাবীর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ভিমা কোরেগাঁও কাণ্ড থেকে মুখ ঘুরিয়ে দিতেই প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রের গল্প সামনে আনছে পুণে পুলিশ, এই অভিযোগও করেন বিরোধীরা।

আগেও, ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলেই মোদীকে খুন করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন মৌলবাদী জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ঈ-মহম্মদ বা জেইএম। জেইম-এর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মৌলনা মাসুদ আজহার অন লাইন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন আল-কালাম-এ মোদীর নামে ফতোয়া ঘোষণা করেছিলেন।

তদন্তকারী সংস্থাগুলির অনুসন্ধান অনুযায়ী, ইমেলটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য অসম থেকে এসেছে বলেই সন্দেহ। যদিও এক্ষেত্রে প্রেরকের পরিচয় জানা যায়নি। ইমেল প্রেরককে শনাক্তকরণের চেষ্টা করছে দিল্লি পুলিশ। ওই হুমকি ইমেল আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। কারণ, আগামী মাসগুলিতে মোদী বেশ কয়েকটি সমাবেশে যোগ দেবেন। দেশ জুড়ে উৎসবপর্ব মিটলেই, বিধানসভা ভোট হতে চলা রাজ্যগুলোতে মোদীর জনসভা করার কথা।

তবে এই বছরের নভেম্বরে না ২০১৯ সালের একটি নির্দিষ্ট দিনে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খুনের চক্রান্ত করা হয়েছে, সেই নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে, লোকসভা ভোটের আগেই খুনের চক্রান্ত করা হয়েছে বলেই জানিয়েছে দিল্লী পুলিশ।

যার ফলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা। এর আগেও বেশ কয়েকবার নানা গোষ্ঠী মোদীকে খুনের হুমকি দিয়েছে। তবে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয় পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

তবে, এটিকে স্রেফ ‘গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসের তরফ থেকে এটিকে ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের স্টান্ট বলে অভিহিত করা হয়েছে। ‘দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি চিঠি দেওয়া হচ্ছে, আর তাতেও রাজনীতি আনছে কংগ্রেস’, সমালোচনা বিজেপির। তবে, রাজনৈতিক বিতর্ক যাই হোক, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি চিঠিতে তোলপাড় গোটা দেশ।

]]>
পাকিস্তান নিয়ে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতি কবে পাল্টাবে https://thenewsbangla.com/when-will-the-two-pronged-policy-of-usa-for-pakistan-will-change/ Tue, 02 Oct 2018 15:31:06 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=737 বিশেষ রিপোর্ট :‘গত ১৫ বছর ধরে সন্ত্রাস দমনের নামে আমেরিকার কাছে অর্থ নিয়ে ঠকিয়েছে পাকিস্তান’, বক্তার নাম আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ আমেরিকান প্রেসিডেন্টের হিসাব অনুযায়ী গত ১৫ বছরে ৩৩০০ কোটি ডলার পাকিস্তানকে দিয়েছে আমেরিকা৷ তাও আবার সেটা নাকি সন্ত্রাস দমনের জন্য৷ ভারতবাসীর কাছে এর চেয়ে হাসির তথ্য আর হতে পারে না৷ আর তাতেই প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র, এটাও কি আমেরিকার ফাঁকা বুলি৷

১৯৪৭ এ কাশ্মীরকে নিয়ে লড়াই বাদ দিলে ১৯৬৫, ১৯৭১ ও ১৯৯৯ এ ভারত পাক যুদ্ধ দেখেছে গোটা বিশ্ব৷ ১৯৭১ সালে মুখোমুখি যুদ্ধে হারার পর ১৯৮০ র দশক থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধে নেমেছে পাকিস্তান৷

১৯৮০ র পর আজ পর্যন্ত ৬ জন আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে দেখেছে ভারত৷ এনারা হলেন, রোনাল্ড রেগন(১৯৮১-১৯৮৯), জর্জ বুশ (সিনিয়ার ১৯৮৯-১৯৯৩), উইলিয়াম ‘বিল’ ক্লিন্টন(১৯৯৩-২০০১), জর্জ বুশ (জুনিয়ার ২০০১-২০০৯), বারাক ওবামা (২০০৯-২০১৭) আর ২০১৭ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প৷

এঁরা প্রত্যেকেই পাকিস্তানকে কখনও না কখনও সন্ত্রাসবাস কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সাহায্য বন্ধ করে দেবার হূমকি দিয়েছেন৷ কিন্তু পাকিস্তান কোনদিন আমেরিকার সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয় নি৷ ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকারোক্তিই তার প্রমাণ৷ ১৫ বছরের ৩৩০০ কোটি ডলার আমেরিকা দিয়েছে পাকিস্তানকে৷

ফের মার্কিন প্রেসি়ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ‘সন্ত্রাস দমনের নামে বছরের বছর অর্থ নিয়ে ঠকিয়েছে পাকিস্তান৷ জঙ্গি দমনের নামে ১৫ বছর ধরে পাকিস্তান আমাদের থেকে ৩৩০০ কোটি ডলার নিয়েছে৷ অথচ বিনিময়ে ঝুড়ি-ঝুড়ি মিথ্যে কথা বলা ছাড়া কিছুই করেনি৷ প্রেসিডেন্টের এই ক্ষোভের পরই পাকিস্তানকে ২৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা আপাতত আটকে দিল আমেরিকা৷ হোয়াইট হাউস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সে দেশে জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই আর্থিক সাহায্যের ভবিষ্যত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন প্রশাসনের এক পদস্থ আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ২০১৬ আর্থিক বর্ষের বিদেশী সামরিক সহায়তা খাতে ২৫৫ মিলিয়ন ডলার এবার পাকিস্তানের জন্য ব্যয়ের কোনও পরিকল্পনা নেই। প্রেসিডেন্ট সাফ বলেছেন যে, পাকিস্তান তাদের দেশে সন্ত্রাসবাদী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করে আমেরিকা৷ পাকিস্তানের সহযোগিতার মাত্রা খতিয়ে দেখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন৷

১৯৮৪ সালের সেপ্টেম্বরে জেনারেল জিয়া উল হককে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন তৎকালিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন, যে ভারত যেকোন মূহুর্তে পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বোমা বানাবার পরিকল্পনার উপর মিলিটারি হামলা চালাতে পারে৷ ‘‘Talking Points for Use in Delivering Letter to General Zi’’, ১৯৮৪ সালের ১২ ই সেপ্টেম্বর লেখা একটি চিঠি ফাঁস হবার পরই এই ঘটনা সামনে আসে৷

অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট রেগনও পাকিস্তানের ভূমিকার কথা ও ভারতের প্রতিবাদের কথা জানতেন৷ প্রেসিডেন্ট রেগনের আমলেই CIA এর বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের লজ্জাজনক ভূমিকা বা দ্বিচারিতার কথা বারবার উঠে এসেছিল৷ কিন্তু তা সত্বেও পাকিস্তানকে আর্থিক ও সামরিক সাহায্য দিতে ছাড়ে নি আমেরিকা৷ যা পাকিস্তান পুরোপুরি ব্যবহার করে এসেছে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধে৷

২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে ৩ বিলিয়ান ডলার সামরিক সাহায্য পায় পাকিস্তান৷ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য৷ আর তারপরেই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ দেখে এই জর্জ বুশই বলেছিলেন, বোমা ফেলে পাকিস্তানকে শেষ করে আবার পাথরের যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হবে৷ আর এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছিলেন স্বয়ং পাক রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ৷

২০০৮ এর মুম্বাই হামলার চক্রীদের কঠোর শাস্তি দিতে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা৷ ২০১৫ তে পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বারাক ওবামা৷ পাকিস্তানকে সমস্ত সন্ত্রাববাদী কার্যকলাপ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ জাতিসংঘকেও জানিয়েছিলেন যে, পাকিস্তানকে বাধ্য করা হোক সন্ত্রাসবাদকে মদত না দেওয়ার জন্য৷ এমনকি ২০১৬ তে নিজের পাকিস্তান সফর বাতিল করে দেন ওবামা৷ কিন্তু তারপরেও পাকিস্তানকে সামরিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত করে নি আমেরিকা৷

তাই ট্রাম্পের এই হূমকিকেও সেই একই ‘থোড় বড়ি খাড়া’ হিসাবেই দেখছেন ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁরা মনে করছেন এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কোন ভূমিকাই নেই৷ বিগত কয়েক বছরে চীনের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক অনেকটাই বেড়েছে পাকিস্তানের৷ আর সেটাতেই বেজায় ক্ষুব্ধ আমেরিকা৷ আর তার জন্যই আপাততঃ পাকিস্তানকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ রাখল আমেরিকা৷

তবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষেশজ্ঞ ইমনকল্যাণ লাহিড়ি মনে করছেন যে, এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা৷ যেভাবে এবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি পাকিস্তানের নাম করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ও আমেরিকাকে ঠকানোর কথা বলেছেন তাতে এবার যে এটা আর ফাঁকা আওয়াজ নয়, তা আমেরিকার বিভিন্ন সিদ্ধান্তে পরিস্কার বলে মনে করছেন তিনি৷ ইমনকল্যাণ লাহিড়ির মতে, সম্প্রতি ভারত যে সীমান্তে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এতটা ‘আপারহ্যান্ড’ বা সদর্থক ভূমিকা নিতে পারছে তার পিছনেও দুই শক্তিধর দেশ আমেরিকা ও রাশিয়ার পরোক্ষ মদত আছে৷

তাই ট্রাম্পের এই ক্ষোভ ও আর্থিক সাহায়্য বন্ধের ঘোষণা কতদিন বজায় থাকে সেটাই এখন দেখার৷ তবে, সীমান্তে যেভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়ছে ভারত, তাতে বলাই যায় বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে ভারতের দিকেই৷ সেদিক দিয়ে দেখতে গেলে এবার আর সহজে ছাড় পাবে না পাকিস্তান৷ তাই আমেরিকার এই কড়া পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকবে ভারতও৷ শেষ ১৫ বছরের মত বড় ভুল আমেরিকা আর করবে না বলেই মনে করছে ভারত সরকার৷

]]>
কি কি কারণে লোকসভা ভোটে ডুবতে পারে ‘মোদী ম্যাজিক’ https://thenewsbangla.com/the-reasons-for-what-modis-magic-may-be-dipped-in-the-parliament-election/ Tue, 02 Oct 2018 14:34:49 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=734 বিশেষ রিপোর্ট: মঙ্গলবার কলকাতায় ১২ পয়সা বেড়ে পেট্রলের দাম হয়েছে ৮৫.৬৫ টাকা। ডিজেল ১৬ পয়সা বেড়ে ৭৭.১০ টাকা। দুটি পেট্রোপণ্যের দামই ছুঁয়েছে সর্বকালীন রেকর্ড। রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ছে দফায় দফায় প্রায় প্রতি সপ্তাহে। আর এই ‘GDP’ বা গ্যাস ডিজেল পেট্রোল, ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে ডুবিয়ে দিতে পারে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপিকে৷

ভারতের মত দেশে আমজনতা তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজন নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চার মধ্যে থাকে, চিন্তার মধ্যে থাকে৷ এই মুহুর্তে তাই গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ৷ প্রভাব পড়তেই পারে সামনের লোকসভা ভোটে৷

দ্বিতীয়বারের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীত্বের আসনে বসার স্বপ্ন নরেন্দ্র মোদীর৷ ‘মন কা বাত’ তো তাই বলে৷ কিন্তু সেই স্বপ্ন আদৌ সফল হবে কি? ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্যে লোকসভা উপনির্বাচনের পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে বিজেপি৷ বেশিরভাগ লোকসভা উপনির্বাচনেই মুখ থুবড়ে পরেছে কেন্দ্রের শাসক দল৷

এদিকে পেট্রোলের দাম ৮৫ পেরিয়ে ৯০ এর দিকে। মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম ইতিমধ্যেই ছুঁয়েছে ৯০টাকা।দেশেজুড়ে ডিজেলের দামও প্রায় ৮০ টাকা ছুঁই ছুঁই৷ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পকেটে যা বিভিন্ন ভাবে টান ফেলেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমস্যায় আমজনতা। পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়ায়, পরিবহনের খরচা বাড়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। চরম সমস্যায় দেশবাসী।

এরপরে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত দাম বেড়েছে রান্নার গ্যাসের। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে রান্নার গ্যাসের দাম। বাড়ির রান্না ঘরেও মোদী সরকারের সব জিনিসের দামবৃদ্ধির প্রভাব ঢুকে পড়েছে। শিরে সংক্রান্তি ভারতবাসীর।

এই পরিস্থিতিতে ২০১৯ এই লোকসভা ভোট। এমনিতেই বিভিন্ন রাজ্যে লোকসভা উপনির্বাচনে ধরাশায়ী হচ্ছে বিজেপি। লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা হারিয়েছে মোদীর দল। এখন শরিকদের উপরই ভরসা সরকার টিকিয়ে রাখতে। অন্যদিকে সনিয়া গান্ধী-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে গড়ে উঠছে ফেডারেল ফ্রন্ট। ভারতের প্রায় সব রাজ্যের ২০-২১ টি আঞ্চলিক দল নিয়ে গড়ে উঠছে এই বিকল্প জোট।

ফ্রন্টের শরিকরা কিছুটা একমত হলেও বিজেপিকে লোকসভা ভোটে লড়তে হবে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে। কর্ণাটকে জেডিএস ও কংগ্রেসের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় সমস্ত শরিকদলের নেতাদেরই দেখা গেছে মঞ্চে। বিজেপিকে হঠাতে একজোট সবাই।

কে নেই জোটে? প্রাথমিকভাবে, সনিয়া গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, মুলায়ম সিং যাদব, চন্দ্রবাবু নাইডু, সীতারাম ইয়েচুরী, দেবগৌড়া, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে সহ আরও অনেকেই৷ প্রত্যেকেই চান ভারতে বিজেপি বিরোধী ফেডারেল ফ্রন্ট৷

আর মাস ছয়েকের মধ্যে লোকসভা ভোট৷ ২০১৪ তে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি ইতিমধ্যেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে৷ ভোট এগিয়ে আনার দাবীও ইতিমধ্যেই তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধী৷ আর এই সময়েই বিজেপির একের পর এক সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলার মত সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করছে ভারতবাসীকে৷

পেট্রোল ডিজেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উত্তাল দেশ৷ সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল দামবৃদ্ধির ছবি৷ গোটা দেশ আজ বলছে, ‘টাকায় বাড়ছে দাম-পয়সায় কমছে’৷ কেউ বা বলছেন, ‘এক পয়সার সরকার’৷ ‘পয়সার সরকার আর নেই দরকার’ বলে প্রচারও শুরু করে দিয়েছে বিরোধী দলগুলি৷ সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরেছে হাসির জোকস, ভারতের GDP বাড়ছে মানে গ্যাস, ডিজেল ও পেট্রোলের দাম বাড়ছে৷

ফলে সবমিলিয়ে এই মূহুর্ত্বে যে কেন্দ্রের শাসক দল যে খুব একটা স্বস্তিতে নেই, তা বলাই যায়৷ এই মূহুর্ত্বে ভোট হলে গেরুয়া বাহিনী যে যথেষ্ট সমস্যায় পড়বে সেটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷ আর তাই বিরোধীরা এই ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করেই লোকসভা ভোট এগিয়ে আনার দাবী তুলেছেন৷

দেশ জুড়ে লোকসভা ভোটের ঢাক বাজতে আর মাত্র কয়েকটা মাস৷ ভোটের আগে সরকারের অলিখিত আদেশে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম তেল কোম্পানীগুলি বেশ কিছুটা কমাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ ঠিক যেমন, কর্ণাটক ভোটের সময় প্রায় মাসখানেক পেট্রোল ও ডিজেলের দামে কোন হাত দেয় নি তেল কোম্পানীগুলি৷

তবে, শেষ মূহূর্ত্বে মোদী সরকার কতটা ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারে সেটাই দেখার৷ ২০১৪ র মত মোদী ম্যাজিক কতটা কাজ করে তার জন্যই অপেক্ষা করছে গেরুয়া শিবির৷ তবে রাজনীতি ছাড়াও, সেই মোদী ম্যাজিককে যে গ্যাস, পেট্রোল ও ডিজেলের দামবৃদ্ধির অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে যেতে হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷

]]>
প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ করে মোদীর রাজত্বে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা https://thenewsbangla.com/after-all-the-assurance-of-pm-modi-unemployment-problem-is-increasing-in-india/ Fri, 28 Sep 2018 06:37:37 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=646 বিশেষ রিপোর্ট: ২০১৮ র শেষে ভারতে বেকার যুবক যুবতীদের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ৷ United Nations International Labour Organisation বা ILO তাদের ২০১৭ সালের World Employment and Social Outlook এর রিপোর্টে এমন তথ্যই প্রকাশ করেছে৷ এই রিপোর্টের পর বছরে এক কোটি চাকরি সৃষ্টি করার দাবী করে আসা নরেন্দ্র মোদী সরকারের যে মুখ পুড়ল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না৷

প্রতি বছরই ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশানাল লেবার অরগানাইজেশন বা ILO বের করে World Employment and Social Outlook নামে একটি রিপোর্ট৷ ২০১৭ র রিপোর্ট পরে হতবাক কেন্দ্র সরকার৷ কারণ বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে দেশে বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে তারা৷

ক্ষমতায় আসার পরে বছরে ১ কোটি চাকরি সৃষ্টি করার দাবীও বরাবর করে এসেছে বিজেপি৷কিন্তু লেবার ওরগানাইজেশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ উল্টো তথ্য৷ তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষে ভারতে বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৮ মিলিয়ান বা এক কোটি আশি লক্ষ৷

লেবার ওরগানাইজেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সালে দেশজুড়ে বেকার বেড়েছে প্রায় ১ লক্ষ৷ ২০১৮ তে বাড়বে আরও ২ লক্ষ৷ যদিও ILO এর মতে দেশে বেকারত্বের গ্রাফ অল্প হলেও কমবে৷ আনএমপ্লয়মেন্ট গ্রাফ ৩.৫ থেকে ২০১৭ সালে কমে হয়েছে ৩.৪৷ যদিও এই গ্রাফটা ফের ২০১৮ সালে ৩.৫ এর কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলেই জানিয়েছে লেবার ওরগানাইজেশন৷

এই রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে ২০১৭ সালে বেকার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩.৪ মিলিয়ান বা ৩৪ লাখ৷ তার মধ্যে ভারতেই বেড়েছে প্রায় ১ লাখ৷ বিশ্বে বেকারত্বের গ্রাফও ২০১৭ তে ৫.৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.৮৷ সেখানে ভারতের বেকারত্বের গ্রাফ গত কয়েক বছর ধরেই ঘোরাফেরা করছে ৩.৪ এ৷

ইন্টারন্যাশানাল লেবার ওরগানাইজেশনের ডাইরেক্টর গাই রাইডার বলেছেন, বিশ্বজুড়েই বেকারত্ব সমস্যা প্রায় একই থাকছে৷ ইকনমিক গ্রোথও যথেষ্ট চাকরীর সৃষ্টি করতে পারছে না বলেই জানান তিনি৷

শুধু বেকার সংখ্যাই বাড়ছে না, যারা খাতায় কলমে কাজ করছেন তাদের নিয়েও রিপোর্টে উঠে এসে ভয়ংকর তথ্য৷ ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশে কাজ করছেন এমন কয়েক কোটি মানুষ দিনে ১৫০ টাকারও কম রোজগার করেন৷ অর্থাৎ কাজ থাকলেও মাসে ৪৫০০ টাকার কম রোজগার করেন এমন মানুষের সংখ্যাও প্রায় কয়েক কোটি৷ এদের সংখ্যা আগামী দুবছরে বাড়বে আরও ৫০ লক্ষ৷ খাতায় কলমে তারা বেকার নন কিন্তু জীবন ধারণের জন্য যে রোজগার দরকার তা তাদের নেই বলেই রিপোর্টে প্রকাশ৷

প্রশ্ন উঠছে এখানেই৷ ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে বছরে ১ কোটি চাকরির সৃষ্টি করবে তারা৷ কোথায় গেল সেই প্রতিশ্রুতি? আন্তর্জাতিক লেবার অরগাইনাইজেশনের রিপোর্টের তথ্য বলছে ২০১৭ সলে ভারতে বেকার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ লাখ৷ ২০১৮ তে তা বাড়বে প্রায় ২ লাখ৷ বছরে ১ কোটি চাকরি দিলে বেকারত্ব কি করে বাড়ছে? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে৷

লেবার ওরগানাইজেশনের রিপোর্টের উত্তরে কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীরা এখন কি বলেন তার দিকেই তাকিয়ে গোটা দেশের বেকার যুবক যুবতীরা৷ কারণ নোটবাতিল, জিএসটি সহ একাধিক সিদ্ধান্তে এমনিতেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গ্রাফও কমছে৷ সেখানে কর্মসংস্থানের সংখ্যাও এইভাবে কমতে থাকলে চরম সমস্যায় পড়বেন দেশের কর্মহীন কোটি কোটি যুবক যুবতীরা৷ আন্তর্জাতিক লেবার ওরগানাইজেশনের রিপোর্ট কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে৷

]]>
মমতার ইচ্ছেতেই কি অধীরের বিদায় https://thenewsbangla.com/sonia-gandhi-acts-according-to-mamatas-wish-to-remove-adhir-choudhury-as-state-congress-president/ Thu, 27 Sep 2018 10:39:59 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=611 নিজস্ব সংবাদদাতা: সময়সীমা শেষ হবার আগেই সরিয়ে দেওয়া হল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকে। রাজ্য কংগ্রেসের মাথায় বসানো হল সোমেন মিত্রকে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই। সবটাই কি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বুদ্ধি অনুযায়ী ? মমতার ইচ্ছেতেই কি এমন সিদ্ধান্ত সনিয়া-রাহুলের ?

কংগ্রেসে অধীর বিদায়। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হল অসুস্থ সোমেন মিত্রকে। সময় শেষ হবার আগেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল সাংসদ অধীরকে। কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ডের হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন ?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্তের। কারণগুলি হল:

১. লোকসভা ভোটের আগেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা হবে প্রণবপুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়কে। কিন্তু সরাসরি অধীরকে হঠাৎ সরিয়ে অভিজিৎকে সভাপতি করলে সেটা প্রণবপুত্রের পক্ষে খুব একটা স্বস্তির হবে না। অধীর লবির সঙ্গে সরাসরি সংঘাত লেগে যাবার একটা সম্ভাবনা থাকছেই। তাই অধীরকে সরিয়ে অসুস্থ সোমেন মিত্র। পরে অসুস্থতার স্বাভাবিক অজুহাত দেখিয়ে বড়দাকে সরিয়ে অভিজিৎ এর হাতে বাংলা কংগ্রেসের দায়িত্ত্ব তুলে দেওয়া হবে।

2. অধীর চৌধুরী বরাবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। কংগ্রেস ভেঙে নিজের দল গোছানোর মমতার কূটনীতির বিরুদ্ধে চিরকাল মুখ খুলে এসেছেন মুর্শিদাবাদের একসময়ের মুকুটহীন সম্রাট। ১৯ এর লোকসভাতেও তৃনমূলের সঙ্গে জোটের তীব্র বিরোধী অধীর ও অধীরপন্থী নেতারা। কিন্তু লোকসভাতে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট করেই লড়তে চান মমতা-সনিয়া। সেক্ষেত্রে অধীর চৌধুরীকে সভাপতি রেখে ভোটে লড়া সম্ভব নয়।

3. সেই জন্যই নতুন কমিটিতে বেশির ভাগ অধীর বিরোধী নেতারাই স্থান পেয়েছেন। যাঁদের অনেকেই প্রথমে প্রণব ও এখন অভিজিৎ লবিতে আছেন। সূত্রের খবর, দিল্লীতে অভিজিৎ বৈঠক করেন রাজ্যের অধীর বিরোধী নেতাদের সঙ্গে। আর তারপরই হাইকমান্ড এই সিদ্ধান্ত নিল।

4. সূত্রের খবর, লোকসভা ভোটে প্রণব পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই রাজ্যে লড়বে কংগ্রেস। অসুস্থ সোমেন মিত্রর সরে যাওয়াটা ও অভিজিৎ এর কাঁধে দায়িত্ত্ব যাওয়াটা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

5. অধীর চৌধুরীকে অসময়ে সরিয়ে দেওয়ার অর্থই হচ্ছে ১৯ এর ভোটে রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া। রাজ্য কংগ্রেস নেতাদের এই বার্তাও দেওয়া হল যে, লোকসভা ভোটে মমতার সঙ্গে জোটের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকুন।

আর এই সব সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মমতার অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করলেন সনিয়া-রাহুল। শুধু বাংলায় নয়, লোকসভায় গোটা দেশেই জোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে আপাততঃ মমতাই বড় ভরসা কংগ্রেসের। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই বাংলার বেশিরভাগ কংগ্রেস নেতাদের জোট না করার ইচ্ছেকে আপাততঃ হিমঘরে পাঠিয়ে দিলেন কংগ্রেস হাইকমান্ড।

তবে, তৃণমূলের সঙ্গে জোট করলে বাংলায় কংগ্রেস কটি আসন পাবে বা বলা যায় মমতা দয়া করে কটি আসন কংগ্রেসকে ছাড়বেন, সেটাও এখন বড় প্রশ্ন। এর ফলে, বাকি পরে থাকা কংগ্রেস নেতারাও যে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকবেন তার আগাম আভাস এখনই পাওয়া যাচ্ছে। অধিরপন্থী বেশ কিছু নেতার কাছে বিজেপির হয়ে লোকসভা ভোটে দাঁড়ানোর অফারও আছে বলেই সূত্রের খবর।

এখন দেখার এটাই যে, সোমেন মিত্রের রাজত্বকাল স্থায়ী হয়, না বিশেষজ্ঞদের মত পুরোপুরি মিলে বাংলা কংগ্রেসে প্রণবপুত্রের আমল শুরু হয়। তবে লোকসভা ভোটে যে ফের মমতা-সনিয়া জোট হচ্ছে, এটা এখন দিনের আলোর মতই পরিষ্কার।

]]>
মমতার ‘তেলেভাজা’ ও মোদীর ‘পকোড়া’ কোনটাই কর্মসংস্থান নয় https://thenewsbangla.com/televaja-of-mamata-and-pakora-of-modi-are-not-salaried-job/ Fri, 21 Sep 2018 06:56:35 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=576 রাজনৈতিক লড়াই চলছে। একে অপরকে ছেড়ে কথা বলছেন না। তবে, এবার একটা বিষয়ে বেশ মিল পাওয়া গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। আর সেটাও খাবার বিষয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর চপ-তেলেভাজা শিল্প ও প্রধানমন্ত্রীর পকোড়া শিল্প হাসির খোরাক জুগিয়েছে সাধারণ মানুষকে।

২০১৫ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী নবান্নে ‘তেলভাজা শিল্পে’র কথা বলে রাজ্যজুড়ে হাসির খোরাক হয়েছিলেন মমতা। ২০১৮ সালের ১৯ শে জানুয়ারী ‘পকোড়া শিল্পে’র কথা বলে সেই হাসির খোরাকে নিজের অংশগ্রহণ পাকা করেছিলেন মোদী৷ আর সোমবার রাজ্যসভায় প্রথমবার ভাষণ দিতে গিয়ে ফের প্রধানমন্ত্রী মোদীর পকোড়া শিল্প তত্ত্বকে সামনে আনলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। দু্ঃখের বিষয় এটাই যে তেলেভাজা বা পকোড়া, কোনটাই কিন্তু কর্মসংস্থান নয়। আর কতদিন সাধারণ মানুষকে টুপি পড়াবেন মমতা, মোদী ও অমিত শাহের মত নেতারা? উঠছে প্রশ্ন৷

দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও বাড়ছে বেকার সমস্যা। প্রতি বছরই ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশানাল লেবার অরগানাইজেশন বা ILO বের করে World Employment and Social Outlook নামে একটি রিপোর্ট৷ এবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষে ভারতে বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৮ মিলিয়ান বা এক কোটি আশি লক্ষ৷ লেবার ওরগানাইজেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সালে দেশজুড়ে বেকার বেড়েছে প্রায় ১ লক্ষ৷ ২০১৮ তে বাড়বে আরও ২ লক্ষ৷

ভারত সরকারের লেবার ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট বলছে, প্রতি হাজার জনে ভারতে গড়ে ৫০ জন কর্মহীন। এই হিসাব অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে গড়ে ১০০০ জনে ৪৯ জন কর্মহীন। তবে, এটা পুরোপুরি সরকারী রিপোর্ট। সরকারী রিপোর্টেই যদি ১৩০ কোটি জনগণের দেশে ৬ কোটি ৫০ লাখ কর্মহীন দেখায়, তাহলে আসল সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটাই প্রশ্ন।

তাহলে কি সরকারী রিপোর্টে তেলেভাজা আর পকোড়া বিক্রেতাদেরও কর্মহীনদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এই প্রশ্নের উত্তর প্রায় পরিস্কার। রাজ্যে চপ তেলেভাজা বিক্রেতা আর দেশে পকোড়া বিক্রেতাদেরও যে কর্মসংস্থানের তালিকাতেই স্থান দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা তা একেবারে পরিস্কার৷

তেলেভাজা ও পকোড়া তৈরী করে জীবনধারণ করাটা কি সত্যি কর্মসংস্থান বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা ? প্রশ্ন উঠেছে, সরকারী কর্মসংস্থানের হিসাবে চপ-তেলেভাজা-পকোড়া ভেজে বা অন্যের বাড়িতে কাজ করে বা ট্রেণে হকারি করে রোজগার করাটাও কি কর্মসংস্থানের মধ্যে পরে?

কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা? তাঁরা বলছেন, কৃষি, শিল্প ও সার্ভিস ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানকে রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার কর্মসংস্থান বলে দেখাতে পারে৷ কিন্তু, কখনই চপ ভাজা বা পকোড়া ভেজে জীবনধারণ করাকে নয়৷ অর্থনীতিবিদ দেবাশীস সরকার বলছেন, রাজ্য বা দেশে শিল্প ক্ষেত্রে একধরণের মন্দা চলছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তাই রাজনৈতিক নেতারা হতাশা থেকেই চপ তেলেভাজা শিল্প বা পকোড়া শিল্পের কথা বলছেন।

ঠিক একই ধরণের অবস্থা বাংলায় তথা ভারতে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাতেও নতুন শিল্প নেই, সরকারী কোষাগারের অবস্থা খুব খারাপ। সরকারী চাকরীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্তঃ কম। শিল্প না থাকায় শিল্পে বিনিয়োগও কম। সরকারের বিনিয়োগ করার ক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। ফলে বাড়ছে বেকার সমস্যা। আর মুখ্যমন্ত্রীর মুখে চপ-তেলেভাজা শিল্পের কথা।

দেশের দিক থেকে দেখলেও সেই একই অবস্থা। নতুন শিল্প নেই, শিল্পে বিনিয়োগ নেই। ১৩০ কোটির দেশে সরকারী চাকরীও অত্যন্তঃ কম। ফলে বাড়ছে বেকার সমস্যা। হতাশা থেকেই পকোড়া শিল্পের মত এই ধরণের অযৌক্তিক মন্তব্য করছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের সর্বভারতীয় নেতারা।

অর্থনীতিবিদ দেবাশীস সরকার বলছেন, ‘এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশনের বিষয়টা সম্পূর্ণ হবে দেশের মূল অর্থনৈতিক কারবারের বিকাশের মাধ্যমে৷ কৃষি, শিল্প ও সার্ভিস সেকটরের বিকাশের মাধ্যমেই কর্মসংস্থানের বিষয়টা নির্ভর করে৷’ তাঁর মতে, শিল্পের ক্ষেত্রে মন্দা দেখা দেওয়ায় সরকার বিনিয়োগ করতে পারছে না, কর্মসংস্থানও হচ্ছে না৷ তিনি পরিস্কার জানিয়েছেন, চপ তেলেভাজা পকোড়ার মাধ্যমে দেশ বা রাজ্যের বিকাশ হয় না৷ তাঁর মতে, একটা চরম হতাশা থেকেই রাজনৈতিক নেতারা এই ধরণের অযৌক্তিক কর্মসংস্থানের মন্তব্য করছেন৷

ফলে কখনও নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কখনও বা রাজ্যসভায় শাসকদলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কন্ঠে সেই হতাশার ছায়া। আর তাই চপ শিল্প, তেলেভাজা শিল্প বা পকোড়া শিল্পের অবতারণা। তবে মাই ডিয়ার রাজনৈতিক নেতারা, এর কোনটাই শিল্প নয়। চপ, তেলেভাজা ও পকোড়া শিল্পের নামে সাধারণ মানুষকে হাস্যরস দেওয়া যাবে, বোকা বানানো যাবে কি? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।

]]>