North Bengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 27 Jun 2019 13:28:18 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg North Bengal – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গে, লাল সতর্কতা জারি https://thenewsbangla.com/flood-situation-in-north-bengal-for-heavy-rain-red-alert-issued-by-state/ Thu, 27 Jun 2019 11:14:36 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14550 প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গে। বৃষ্টিপাতের পরিমাপ; ছাড়িয়ে গিয়েছে ১০০ বছরের রেকর্ড। প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গে; রেড আলার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

বৃষ্টি ও বজ্রাঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। ইতিমধ্যে; আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী; আলিপুরদুয়ারে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ ৪০৫.৪ মিলিমিটার। যা গত ১০০ বছরের রেকর্ডকে ভেঙ্গে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মি টু আন্দোলনে আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

১৯৯৩ সালে; ভয়াবহ বন্যার সময়েও বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৩৭৬ মিলিমিটার। ভুটানে প্রবল বৃষ্টির কারণে; এলাকার প্রত্যেকটি নদীতে জলসীমা চূড়ান্ত সংকটসীমা পেরিয়ে গিয়েছে আগেই। তিস্তা ও বুড়ি তোর্সা ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে।

বুধবার; বিকেলের দিকে মালদায় আচমকা ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতে ছ’জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে এক নাবালিকা-সহ চারজন মহিলা। আহত অন্তত ১০জন। চার জন মারা গিয়েছেন গাজোল ব্লকে।

আরও পড়ুনঃ ভারতের রঙ কমলা, পরিবর্তনের পিছনেও মোদীর হাত দেখছে বিরোধীরা

একাধিক নদীর বাঁধ ভাঙায় মাদারিহাট ও হলংবস্তি ভেসেছে। অনেক বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ ভেঙে বল্লালগুড়ির দিকে বইছে তোর্সা। আশংকা করা হচ্ছে; ভেসে যেতে পারে এশিয়ান হাইওয়ে-সহ মাদারিহাটের বিস্তীর্ণ জনপদ।

বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে পাঁচ জেলার জন্য ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ৭ থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।

]]>
পাঁচে পাঁচ, ভোট হয়ে যাওয়া বাংলার ৫টি আসনেই জিতবে বিজেপি, দাবি মুকুল রায়ের https://thenewsbangla.com/mukul-roy-said-bjp-will-win-all-5-seat-in-north-bengal-till-now-election-held/ Thu, 18 Apr 2019 15:03:24 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=11161 পাঁচে পাঁচ, ভোট হয়ে যাওয়া বাংলার ৫টি আসনেই জিতবে বিজেপি, দাবি মুকুল রায়ের। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই এই দাবি করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। রাজ্যে ৪২ টি লোকসভা আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ৫ টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। আর এই পাঁচটি আসনেই বিজেপি জিতবে বলে দাবি করলেন মুকুল রায়। “উনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন অথবা হারার ভয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেছে”, পাল্টা মুকুল রায়কে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের বোকামিতে বাংলার ফিল্ম সিরিয়াল পরিচালকদের মাথায় হাত

প্রথম দফায় ১১ই এপ্রিল বাংলায় ২টি আসনে ভোট হয়। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার। দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার ১৮ই এপ্রিল দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জে ভোট হল। আর উত্তরবঙ্গের এই পাঁচ আসনেই এবার পদ্ম ফুল ফুটবে বলেই দাবি মুকুল রায়ের।

আরও পড়ুনঃ পয়সা দিয়ে আনা হয় সেলিব্রিটিদের, বিদেশি অভিনেতা প্রসঙ্গে বেফাঁস কল্যাণ

পশ্চিমবঙ্গে লাগাতার নিজেদের শিকড় মজবুত করছে বিজেপি, এমনটাই দাবি মুকুলের। আর তাই উত্তরবঙ্গের এই ৫ আসনেই জিতবে বিজেপি, এমনটাই বললেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এতদিন অব্দি রাজ্য বিজেপির দাবি ছিল যে তারা ১৫ থেকে ২০ টি আসনে জয়লাভ করবে, কিন্তু এখন মুকুল রায় দাবি করেছেন যে বিজেপি ২৪ থেকে ২৫ টি আসনে জয়লাভ করবে।

আরও পড়ুনঃ ফিরদৌসের পর গাজী নূরকে বাংলাদেশ ফেরত পাঠাল ভারত সরকার

বৃহস্পতিবার ভোটের শেষে মুকুল রায় সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্যই করেছেন। মুকুল রায় এর অভিযোগ তৃণমূল লাগাতার গণতন্ত্রের কণ্ঠ রোধ করছে যার ফল তাদের ভুগতে হবে এবারের লোকসভা নির্বাচনে। ৫ টি আসনেই ৮৫ শতাংশ ভোটারের ভোট দেওয়াই এটা প্রমাণ করে যে মানুষ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছে। এমনটাই দাবি মুকুল রায়ের।

আরও পড়ুনঃ রিভালবার নিয়ে বুথে ঢুকে ভোট দেওয়ায় সঞ্জয় দত্তকে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন

আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জে বিজেপি হেসে খেলে জিতবে বলেই এদিন জানান একসময়ের তৃণমূলের চাণক্য ও বর্তমানে বিজেপির ভোটের সেনাপতি মুকুল রায়। “উনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন অথবা হারার ভয়ে মাথা খারাপ হয়ে গেছে”, পাঁচে পাঁচ শুনে পাল্টা মুকুল রায়কে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ চোপড়া বাস স্টান্ডে বাইক বাহিনীর হাতে আক্রান্ত ভোটাররা

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর https://thenewsbangla.com/students-get-sick-for-sitting-long-time-in-open-sunlight-ministers-interest-to-record/ Mon, 28 Jan 2019 16:31:41 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6139 সময় দুপুর ১টা। ১১টা থেকেই ছাত্র ছাত্রীদের বসিয়ে রাখা কাঠফাটা রোদে। বিষয় বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। আর মন্ত্রীর ইচ্ছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলা। ব্যাস, আর কি! দুপুরের রোদে, গরমে পড়ুয়াদের খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে চলল রেকর্ড গড়ার খেলা। আর মন্ত্রী নিজের সঙ্গী সাথীদের নিয়ে দেখলেন রেকর্ড গড়ার সেই খেলা। অবশ্যই তাঁদের জন্য ছিল ছাউনি, রোদ থেকে বাঁচার জন্য।

আরও পড়ুনঃ Exclusive কংগ্রেস ছেড়ে মমতার হাত ধরলেন মৌসম বেনজির নূর

একসাথে এক মঞ্চে বসে অঙ্কন প্রতিযোগিতা। এত বড় মঞ্চ বিশ্বের আর কোথাও নাকি নেই, বলে দাবী করে এই প্রতিযোগিতাটিকে গিনেস বুকে নাম তোলার জন্য ব্যাকুল উত্তরবঙ্গ উৎসব কমিটি। মন্ত্রী গৌতম দেব জানান, গিনেস বুকে নাম তোলার জন্য ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ছবি তুলে রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা দিয়ে ৬০ বছর পরেও একঘরে ‘নেহেরুর বউ’

কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা
কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা

পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানটির একটি ডকুমেন্টেশানও করা হবে বলে জানান তিনি। উত্তরবঙ্গ উৎসবের বসে আঁকো প্রতিযোগিতা পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহৎ, দাবী মন্ত্রী গৌতম দেবের।

আরও পড়ুনঃ আম দরবারে প্রকাশ্যে মহিলার ওড়না ধরে টান কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর

সোমবার শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে উত্তরবঙ্গ উৎসবের অঙ্গ হিসেবে বসে আঁকো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিলিগুড়ি সহ পার্শবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক স্কুলের প্রায় ১৫ হাজার পড়ুয়াদের নিয়ে চারটি গ্রুপে ভাগ করে আয়োজিত হয় বসে আঁকো প্রতিযোগিতা।

কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা
কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা

আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টায় এসএসসির রেজাল্ট প্রকাশ না হলে সচিবকে জেলে ভরার হুঁশিয়ারি বিচারপতির

বেলা ১টা থেকে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক স্কুলের পড়ুয়াদের দু ঘন্টা আগেই নিয়ে আসা হয়। অনেক স্কুলের পড়ুয়ারা আবার ১টার সময় এসে পৌঁছাতে পারে নি। সরকারী ও বেসরকারী বাসের পাশাপাশি স্কুল বাসগুলো ভর্তি করে শহরের বুকে নিয়ে আসা ও যাওয়ার সময় শিলিগুড়ি শহর এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ মাঠ দিল না রাজ্য, মোদীর সভা ও হেলিকপ্টারের জন্য ফসল ত্যাগ শিক্ষকের

এদিকে কাঠফাটা রোদে কচি কচি ছেলে মেয়েদের মুখ প্রায় ঝলসে যাওয়ার উপক্রম। অবশ্য মন্ত্রীর মতে, এর ফলে বাচ্চাদের শরীরে ভিটামিন ডি তৈরী হয়। তবে প্রতি বছরই রোদের তাপে, গরমে, ভিড়ে ও চাপাচাপিতে পড়ুয়াদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। সোমবারও গরমের তাপে বেশ কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পরল। শুধু শিশুরা নয়, অনেক অভিভাবকও অসুস্থ হয়ে পরে রোদে গরমে।

কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা
কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা

সে ব্যাপারে কোন হেলদোল না রেখেই মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য মেডিকেল টিম রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিং হোমগুলিতে বলা আছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপধ্যায়ের চিন্তাভাবনার ফসল উত্তরবঙ্গ উৎসবের এই বসে আঁকো প্রতিযোগিতাটিকে গিনেস বুকে আনতেই হবে।

আরও পড়ুনঃ ভারতের এক ভুলে যাওয়া শহিদ সৈনিকের আজ জন্মদিন

তার জন্য প্রতিবছরই ২০ হাজার প্রতিযোগি নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়। স্কুল পড়ুয়াদের এই প্রতিযোগিতায় আসার জন্য উৎসাহিত করতে তাদের প্রত্যেককে একটি করে সার্টিফিকেট ও মেডেল দেওয়া হয়। এই প্রতিযোগিায় অংশগ্রহনকারীদের চারটে গ্রুপের প্রতি বিভাগের প্রতিযোগিদের মধ্য থেকে ৫০ জন করে মোট ২০০ জন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে আগামি ১ ফেব্রুয়ারী।

কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা
কাঠফাটা রোদে পড়ুয়াদের অসুস্থ করে ছায়ায় বসে রেকর্ড গড়ার নেশা মন্ত্রীর/The News বাংলা

আরও পড়ুনঃ সীমান্তের কাঁটাতার অগ্রাহ্য করে একদিনের জন্য এক হল ভারত বাংলাদেশ

কিন্তু প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশাসনের প্রশংসা করলেও, রোদের মধ্যে বাচ্চাদের বসিয়ে রাখার তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিভাবকরা। অভিযোগ, রোদের তাপ থেকে বাঁচতে মন্ত্রীকে নিয়ে উদ্যোক্তারা বসে থাকেন ছাউনির তলায়। আর ছাত্র ছাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় রোদে।

পরেরবার মন্ত্রীকে নিয়ে উদ্যোক্তারাও ছায়ায় বসে না থেকে, রোদে-গরমে বাচ্চাদের সঙ্গে বসে রেকর্ডের চেষ্টা করুন। এমনটাই চাইছেন অভিভাবকরা। তখনও রেকর্ড গড়ার এই পাগলামি থাকে কিনা সেটাই দেখতে চান তাঁরা।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
অসমের এনআরসি’র পর উদ্বাস্তু হবার আশঙ্কায় বাংলার উদ্বাস্তু বাস্তুহারারা https://thenewsbangla.com/after-the-nrc-of-assam-the-refugees-of-bengal-are-in-fear/ Wed, 14 Nov 2018 16:58:00 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2398 শিলিগুড়ি, ১৪নভেম্বরঃ অসমে এনআরসি অর্ডিন্যান্স জারি হবার পরই পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের অর্ডিন্যান্স জারি হবার আশঙ্কায় ভুগছে সম্মিলিত কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা পরিষদ। বাংলার তথা দার্জিলিং জেলার উদ্বাস্তুরা যাতে ফের বাস্তুহারা না হন, সে কারনে সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইউনাইটেড সেন্ট্রাল রিফুজি কাউন্সিল অর্থাৎ ইউসিআরসি। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ির অনিল বিশ্বাস ভবনে রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বদের উপস্থিতিতে এই আলোচনা সভা হবে বলে জানা গেছে। এই আলোচনা সভায় সংগঠনের দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলনের রূপরেখা তৈরী করা হবে বলেও খবর।

আরও পড়ুনঃ শিশুদিবসে বড়দের লজ্জা দিয়ে শিক্ষা দিল শিশুরা

দেশ ভাগের সময় তৎকালীন কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যদি পুর্ববঙ্গ থেকে কোনও তৎকালিন ভারতীয় হিন্দু ভারতবর্ষে আসে তাহলে তাদের সমস্ত দায়ভার কেন্দ্র বহন করবে। কিন্তু অভিযোগ, স্বাধীনতার ৭১ বছর পার হয়ে যাবার পরও উদ্বাস্তুরা প্রতিশ্রুতি মত ফল না পাওয়ায় আজও আন্দোলন করে চলেছে। বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে ইউসিআরসির জেলা নেতৃত্ব।

The News বাংলা

ছিলেন সংগঠনের দার্জিলিং জেলার সম্পাদক পরেশ সরকার, সহ সম্পাদক নারায়ন গোস্বামী, কার্যকারী সভাপতি অনিল দাস ও জেলা সংগঠনের সদস্যা চন্দনা সাহা। সংগঠনের পক্ষে সম্পাদক পরেশ সরকার অভিযোগ করে বলেন, বর্তামানে কেন্দ্র সরকার এনআরসির নামে যা করছে তাতে রাজ্য সরকার সায় দিচ্ছে। কেননা বর্তমান রাজ্য সরকার উদ্বাস্তুদের দপ্তরটা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সে কারনে দপ্তরটাকে বিএলআরও-র সঙ্গে মার্জ করে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আন্তর্জাতিক’ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে কাউন্সিলরের ‘বিজ্ঞাপন’, বিক্ষোভে মুখ পুড়ল বাংলার

কাজেই যে সমস্ত উদ্বাস্তুরা নদীনালা, জঙ্গল ও অনুর্বর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে তাদের জমির মালিকানা, বাসস্থান থেকে তারা আজও বঞ্চিত। তাদের জমির মালিকানার পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের হাউসিং ফল অল ২০২২ স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্তির দাবী জানান তারা। পরেশবাবু বলেন, “আমরা অপমানিত, আমরা নির্যাতিত, অসমের ঘটনার পর আমরা ফের উদ্বাস্তু হবার আশঙ্কায় ভুগছি। তাই আমরা ন্যায়ের দরজায় দাড়িয়ে ন্যায় চাইছি।”

The News বাংলা

তার আরও বক্তব্য, “আমাদের বাধ্যতামুলকভাবে উদ্বাস্তু করা হয়েছে। সে কারনে আমাদের সমস্ত দায়ভার সরকারকে নিতেই হবে। না হলে আগামীদিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।” সংগঠনের কার্যকারী সভাপতি অনিল দাস বলেন, ‘আমাদের জমির মালিকানা স্বত্বের দাবীর পাশাপাশি মুল দাবী হল পুনর্বাসনের জন্য আমাদের ৫ হাজার ১০ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তিনি জানান, তৎকালিন কেন্দ্র সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পুর্ব পাকিস্থান থেকে যে সমস্ত হিন্দুরা পশ্চিমবঙ্গে আসবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘দরাজ নিমন্ত্রণে’ মায়ের শ্রাদ্ধে লোক খাওয়াতে ঘুম উধাও বাংলার বিধায়কের

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ পর্যন্ত পুনর্বাসনের জন্য এক টাকাও সরকার দেয় নি। দেশভাগের পর তাদের সর্বপ্রথম পুনর্বাসনের জন্য ৫০০ কোটি টাকার দাবী ছিল। কিন্তু জিনিসের মুল্য বৃদ্ধির অনুপাতে পুনর্বাসনের জন্য অর্থের দাবীও বৃদ্ধি পেয়েছে পর্যায়ক্রমে। বর্তমানে তা ৫ হাজার ১০ কোটি ৬০ লক্ষ টাকায় এসে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটের সময় বামেদের দার্জিলিং জেলা কার্যালয়ে সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক মধু দত্ত, রাজ্য কার্যকারী সভাপতি নিরঞ্জন মজুমদার ও জেলা বাম আহ্বায়ক জীবেশ সরকারের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভার মাধ্যমে আগামী আন্দোলনের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট হবে।

]]>
উত্তরবঙ্গে বাংলা সিনেমার শতবর্ষ ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব https://thenewsbangla.com/centennial-years-of-bengali-films-and-international-film-festival-in-north-bengal/ Tue, 13 Nov 2018 08:03:00 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2292 শিলিগুড়িঃ কলকাতা অন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরপরই এবার শিলিগুড়িতে শুরু হতে চলেছে বাংলা সিনেমার শতবর্ষ ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। পাশাপাশি ষষ্ঠতম শর্ট ফিল্ম ডকুমেন্টারি উৎসবও শুরু হবে এই উৎসবে। পরিচালক ব্যাডম্যানের শতবর্ষকে সামনে রেখে আন্তর্জতিক শর্ট ফিল্ম, ডকুমেন্টরী ও ১৯তম আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করতে চলেছে শিলিগুড়ির সিনে সোসাইটি।

আরও পড়ুনঃ অনেক চমক নিয়ে ২৪ তম কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুরু

আগামী ১৩ই নভেম্বর শিলিগুড়ি আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্ম ও ডকুমেন্টারির উদ্বোধন হবে বলে জানা গেছে। ওইদিন দিনাজপুরের শর্ট ফিল্ম ডকুমেন্টারী দিয়েই উৎসবের উদ্বোধন হবে। এই উৎসব চলবে আগামী ১৬ই নভেম্বর পর্যন্ত। এছাড়া ১৯ নভেম্বর অরিন্দম শীলের বাংলা সিনেমা “আসছে আবার শহর” সিনেমাটি দিয়ে শিলিগুড়ি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করা হবে বলে জানান সংস্থার কর্মকর্তারা।

Image Source: Google

মুখ্য অতিথি হিসেবে থাকবেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব, অরিন্দম শীল ও শিলিগুড়ির মেয়ে অভিনেত্রী তুহিনা দাস এবং ফেডারেশান ফিল্ম সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি প্রেমেন্দ্র মজুমদার। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে ২৬ শে নভেম্বর পর্যন্ত মোট আটদিনে ১৭ টি ফিচার ফিল্ম দেখান হবে। এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত সিনেমাগুলির মধ্য থেকে বেস্ট শর্ট ফিল্ম, বেস্ট ডকুমেন্টারি, বেস্ট সিনেমাটগ্রাফি ও বেস্ট ডিরেক্টর বেছে নিয়ে ৫ হাজার টাকা করে নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ তুমি কার ?

বাংলাদেশের পরিচালক তসমিয়া আফরিন, সাদিয়া খালিদ ও ভারতের শঙ্খজিৎ বিশ্বাস থাকবেন বিচারকের ভুমিকায়। সিনে সোসাইটির সভাপতি প্রদীপ নাগ জানান, ষষ্টতম আন্তর্জাতিক শর্ট ফিল্প ও ডকুমেন্টারি উৎসব উত্তরবঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সে কারনে উদ্বোধনের দিন দিনাজপুরের একটি শর্ট ফিল্মকে বেছে নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ির রামকিঙ্কর হলে এই ষষ্টতম শর্ট ফিল্ম ডকুমেন্টারি উৎসবের সূচনা হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার শিলিগুড়ির মাল্লাগুড়িতে মৈনাক টুরিস্ট লজে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সিনেমা উৎসবের কথা জানান পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিনে সোসাইটির সভাপতি প্রদীপ নাগ ও অন্যান্যরা। সিনে সোসাইটি বিগত ১৯ বছর ধরে শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সিনেমা উৎসবের আয়োজন করে চলেছে।

Image Source: Google

এ বছর বাংলা সিনেমার শতবর্ষকে সামনে রেখে সিনেমা উৎসবে আয়োজন করা হচ্ছে। প্রদীপ নাগ জানান, শর্ট ফিল্ম, ফিচার ফিল্ম ও ডকুমেন্টারী মোট ২০৫ টি ফিল্ম এসেছিল। তার মধ্য থেকে বেছে ৬৬ টি নির্বাচন করা হয়েছে। এদের মধ্যে মোট ৯ টা দেশের ১৭ টি ফিচার ফিল্ম থাকছে। ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়া জার্মান, ইউনাইটেড কিংডম, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম, চিলি ও নেপালের ছবি থাকছে।

আরও পড়ুনঃ আমার আপনার ‘অসুখ’ নিয়ে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘অসুখওয়ালা’

গৌতম দেব জানান, প্রথম দিনের উদ্বোধনী ছবি দেখতে দর্শকদের কোনো প্রবেশমুল্য বা টিকিট লাগবে না। বাকি দিনগুলোতো টিকিট কেটে সিনেমা দেখতে হবে। টিকিটের মুল্য ২০ টাকা ও ৩০ টাকা। বেলা ২ টো ও সন্ধ্যা ৮ টায় সিনেমাগুলো দেখান হবে।

]]>
লজ্জায় ফেলে খোদ পুলিশের বাড়িতেই চোরের হানা https://thenewsbangla.com/what-a-shame-in-north-bengal-theft-in-the-police-house/ Sat, 10 Nov 2018 11:37:33 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2123 শিলিগুড়ি,১০ নভেম্বরঃ খোদ পুলিশের বাড়িতেই চোরের হানা। এক পুলিশ কর্মীর বাড়িতেই চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো শিলিগুড়িতে। ওই পুলিশ কর্মী বর্তমানে শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনে কর্মরত। মহম্মদ রফিউল নামে ওই পুলিশ কর্মীর বাড়ি মালদায়। বর্তমানে শিলিগুড়ি পুর নিগমের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে থাকেন তিনি। ঘটনার পর শনিবার দুপুরে চুরির অভিযোগ জানিয়ে থানায় এফআইআর করা হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

The News বাংলা

মহম্মদ রফিউল জানিয়েছেন, শুক্রবার তার নাইট ডিউটি ছিল। সেইমত সন্ধ্যার পরই বাড়ি থেকে চলে যান স্টেশনে। এরপর শনিবার দুপুরে কাজ থেকে ফিরে দেখেন যে, তার ঘরের দরজার তালা ভাঙা রয়েছে। তৎক্ষনাত তিনি ঘরে ঢুকে দেখেন যে, গোটা ঘর তছনছ করা। ছড়ানো ছিটানো রয়েছে ঘরের সমস্ত কিছু। ভাঙা হয়েছে আলমারিও। তিনি জানান, এই ঘটনায় তার বেশ কয়েক হাজার টাকা ও স্বর্ণ অলঙ্কারও চুরি করে নিয়ে গেছে দুস্কৃতিরা। ইতিমধ্যেই পুলিশকে গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে তিনি লিখিত একটি অভিযোগ জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গত কয়েক মাসেই পরপর বেশ কয়েকটি চুরি ছিনতাই এর ঘটনা ঘটল শিলিগুড়িতে। এবার পুলিশ কর্মীর কোয়ার্টারেই চুরি হওয়ায় লজ্জায় পরে গেছে শিলিগুড়ি পুলিশ। একের পর এক চুরির পিছনে কে বে কারা তা খুঁজে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় মজাই নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বলছেন, ‘বারবার বলেও কোন লাভ হয় নি। এবার পুলিশ বুঝবে বাড়িতে চুরি হয়ে সব গেলে কেমন লাগে’।

শিলিগুড়ি পুলিশ জানিয়েছে, এটা স্থানিয় কোন চোরেরই কাজ। এই ঘটনা আরও আশঙ্কিত করেছে শিলিগুড়ির বাসিন্দাদের। চুরির ভয়ে বাড়ি ফাঁকা রেখে কোথাও যাওয়াই এখন অসম্ভব হয়ে গেছে। আর পুলিশ এর বাড়িতেই যদি চুরি হয় তাহলে তাদের কি হবে, প্রশ্ন শিলিগুরির বাসিন্দাদের। সোর্স মারফত চুরির তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ।

]]>
মুখ্যমন্ত্রী মমতার নজরে এবার বাংলায় নমশুদ্র উন্নয়ন পর্ষদ https://thenewsbangla.com/chief-minister-mamata-banerjee-eyes-on-formation-of-nomasudra-development-board-in-bengal/ Thu, 01 Nov 2018 18:37:32 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1839 শিলিগুড়িঃ আর কয়েকটা মাস, তারপরই লোকসভা নির্বাচন। তার আগে উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জনজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রোদায়ভুক্ত মানুষের মন জয় করতে পাঁচ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরের চতুর্থ দিনে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দুটি সম্প্রোদায়ভুক্ত মানুষের উন্নয়নে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

এদিন জলপাইগুড়ির চালসার টিয়াবন থেকে হেলিকপ্টারে চেপে শিলিগুড়ির নিকট ফুলবাড়ির স্বশত্র বাহিনীর হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে বেলা ১টা নাগাদ অবতরন করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে সড়ক পথে গাড়িতে উত্তরকন্যায় আসেন। সেখানেই নমশুদ্র বিকাশ পরিষদ ও ওয়েস্ট বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল বোর্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষন বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ৩০০ বছরের ডাকাতে কালির হাড় হিম করা কাহিনি

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হলেও, সর্বভারতীয় নমশুদ্র বিকাশ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমটির কার্যকরি সভাপতি মুকুল চন্দ্র বৈরাগ্য জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিনের বৈঠকে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় তাদের। প্রথমত নতুন করে বাংলায় নমশুদ্র উন্নয়ন পর্ষদ গঠন, দ্বিতীয়ত অসমের বাঙালি ও নমশুদ্র সম্প্রোদায়ভুক্ত মানুষের এনআরসি নিয়ে আন্দোলন।

The News বাংলা

তিনি আরও বলেন, নমশুদ্র উন্নয়ন বোর্ড গঠনে আবেদন জানিয়ে গত সাত বছর ধরে গোটা রাজ্যের ১৪টা জেলা থেকে ৪০টি স্মারকলিপি পাঠানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তারই ফলস্বরুপ ইতিমধ্যেই গত আগষ্ট মাসের ৬ তারিখেও নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি স্মারকলিপি দেওয়ার পর সেই বোর্ড নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা হয় সেদিন।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে তৃণমূল নেতাদেরই শাস্তির দাবীতে পোস্টার

এরপর এই সফরে এসে তাদের ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। তার আরও বক্তব্য, বিভিন্ন জনজাতির জন্য বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই নমশুদ্র উন্নয়ন পর্ষদের জন্যেও আবেদন করা হয় এদিন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা পর তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ৫ তারিখে নবান্নে মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট মিটিং হবে, সেখানে এই উন্নয়ন পর্ষদ পাশ করানো নিয়ে আলোচনা হবে। সেই বৈঠকে নোট তৈরি করে তারপর উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

The News বাংলা

এবিষয়ে মুকুলবাবু আশাবাদী যে মুখ্যমন্ত্রী কার্যকারি পদক্ষেপ গ্রহন করবেনই। তিনি আরও জানান, গোটা রাজ্যে মোট ২ কোটি ৮৭ লক্ষ নমশুদ্র সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে। অধিকাংশই পূর্ববঙ্গের মানুষ। তাদের উন্নয়নে এবার মুখ্যমন্ত্রী সদর্থক ভুমিকা নেবেন।

মুকুলবাবু আরও জানান, তাদের দ্বিতীয় প্রস্তাবে এদিন অসমের এনআরসি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়। সেখানে ১৮জন সরকারি কর্মরত মানুষ অাত্মহত্যা করেছেন। তাদের প্রমানের সমস্ত দস্তাবেশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলে তারা।

আরও পড়ুন: বিশ্বের সেরা একশোয় সত্যজিতের পথের পাঁচালি

সেই সব প্রমানপত্রের কাগজপত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দেন। তিনি জানান, এনআরসি থেকে নাম বাদ পরায় অসমে মোট ৩১ জন আত্মহত্যা করেছেন যার মধ্যে ১৮ জন নমশুদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ রয়েছেন। তারা কেউই বাংলাদেশে জন্মায় নি। সকলেই ভারতীয়। শুধু বাঙালি বলেই তাদের নাম এনআরসি থেকে বাদ গেছে। তার সমস্ত প্রমানপত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার সমস্ত শক্তি দিয়ে অসমের নমশুদ্র ও সমস্ত বাঙালীদের রক্ষা করবেন তিনি। এনআরসি নিয়ে নমশুদ্রদের আন্দোলনকে আগেও মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন করেছেন। এবং আগামী দিনের আন্দোলনকে এদিনও সমস্তরকম সহোযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

The News বাংলা

পাশাপাশি এদিন ওয়েস্ট বেঙ্গল আদিবাসি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল বোর্ডের প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘক্ষন বৈঠক হয় মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসি উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান বিরষা তীরকি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২০ দফা দাবী তুলে ধরেন। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবী হল মুখ্যমন্ত্রীর তৈরী করা এই বোর্ডের কাজে যেন কেউ হস্তক্ষেপ না করে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ছোট মেয়েকে হারিয়ে মনমরা মা শীলা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা 

এছাড়া বানারহাটের কার্তিক ওড়াও হিন্দি কলেজের নাম পরিবর্তন করে হিন্দি কথাটা বাদ দেবার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কালচিনি ও বাগডোগরায় ও নাগরাকাটায় মহিলা কলেজ সহ সরকারী চারকরীর ক্ষেত্রে আদিবাসীদের জন্য স্পেশাল কোটা তৈরী ও হাউসিং প্রকল্পের দাবী করা হয়।

এছাড়া গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় ৯০০ জন আদিবাসীদের নামে কোর্টে মামলা চলে। সেই মামলায় নেপালিদের নামেও মামলা হয়। তাতে নেপালিদের সমস্ত মামলা খারিজ করা হলেও আদিবাসীদের নামের মামলা এখনও পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয় নি।

The News বাংলা

সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে জানালে, কার কার নামে মামলা আছে সেই সমস্ত নামের তালিকা ও কাগজপত্র চেয়ে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং সেই নিয়ে ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে বলে জানান বিরসা তিরকী। তিনি আরও জানান, তাদের ২০টি দাবীর মধ্যে ৯০ শতাংশ দাবী পুরন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। উভয় বৈঠকেই ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে জানান উভয়পক্ষের পদাধিকারিকরা।

আরও পড়ুন: মেয়াদ বৃদ্ধি রাজ্য পে কমিশনের হতাশ রাজ্য সরকারি কর্মীরা

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিনের এই বৈঠকে নমশুদ্র বিকাশ পরিষদের মোট ২৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে অসম থেকে ১৩ জন তাদের প্রতিনিধি ছিলেন। অন্যদিকে আদিবাসী উন্নয়ন পর্ষদের ১৬ জন প্রতিনিধি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রীমা ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল সেন, গৌতম দেব, অরূপ বিশ্বাস, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সহ দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসক ও অন্যান্য সরকারী আধিকারিকরা।

]]>
ছোট মেয়েকে হারিয়ে মনমরা মা শীলা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা  https://thenewsbangla.com/after-loosing-her-little-girl-mother-shila-and-chief-minister-mamata-feeling-sad/ Wed, 31 Oct 2018 15:32:48 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1781
শিলিগুড়িঃ ছোট মেয়ে আর নেই! তাই সারাদিনই মনমরা মা! বাকি বোনেদের মধ্যেও চঞ্চলতা নেই আগের মত। বুধবারেও সকাল থেকেই মন খারাপ মা শীলা’‌র। ২৪ঘন্টা হয়ে গেল! এদিক ওদিক কোথাও দেখতে পাচ্ছে না ছোট মেয়ে ইকা’কে। ছোট মেয়েকে হারিয়ে মনমরা শীলা। মন খারাপ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বাঘের মেয়ের নামকরণ যে তিনিই করেছিলেন।
সকালের দিকে নিজের ক্রলেই তিন-চার বার গর্জন দিয়ে ডাকাডাকি করলেও, পরে অন্যান্য দিনের চাইতে অনেকটাই নিস্তেজ, নিশ্চুপ শীলা। মন ভালো নেই মায়ের। মন ভালো নেই ইকার দুই বোনেরও। আজ তারাও সেভাবে ছুটোছুটি করছে না। সাবলিল খেলাধুলায় খানিকটা অনিহা রয়েছে কিকা ও রিকার। ছোট্ট বোন ইকা যে আজ দলে নেই। দলটা ছোট হয়ে গিয়েছে। তাই সকাল থেকে তারাও ডাকাডাকি করে ইকাকে দেখতে না পেয়ে তারাও বিষন্ন।
The News বাংলা
মঙ্গলবার সকালে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারিতে মৃত্যু হয় সাড়ে ৫মাস বয়সের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার কন্যা শাবক ইকার। যদিও সুস্থ রয়েছে পার্কের অন্য দুই শাবক কিকা ও রিকা। জানা যায়, গত দিন সাতেক আগে তিন শাবক মা শীলার পাশেই খেলাধুলা করতে গিয়ে হঠাৎই পায়ে চোট পায় কনিষ্ঠতম শাবক ইকা।
ঘটনার পর থেকেই পার্কের চিকিৎসক ও পাহাড়ের চিকিৎসকের তত্ত্ববধানে চিকিৎসাও চলছিল। গত দু’দিন আগে ইকার অবস্থার অবনতি হয়। এরপর মঙ্গলবার ভোরে মারা যায় সে। এদিন দুপুরেই ময়নাতদন্ত করেছেন ডাক্তাররা। নমুনা সংগ্রহ করে ভিসেরা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কলকাতায়।
The News বাংলা
সাফারি পার্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অরুন মুখার্জি জানান, দিন সাতেক আগে খেলতে খেলতে পেছনের একটি পা’য়ে চোট পায় শাবকটি। তারপর থেকেই চিকিৎসা চলছিল তার। চারদিন আগে তার শারিরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও পরের দিন থেকে ফের অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
এরপর মঙ্গলবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ইকা। পরে বন্যপ্রানী আইন অনুযায়ী যেহুতু সিডিউল ১এর অন্তর্গত পরে এই বাঘের প্রজাতিরা, তাই নিয়ম অনুযায়ী দাহ করা হয় শাবকটিকে। দাহ হয়ে যাওয়ায় সেই জায়গা ভালো ভাবে পর্যবেক্ষন করা হয়, যাতে কোন দেহাংশ পরে না থাকে প্রানীটির। এরপর সেই সমস্ত অস্তিভষ্মগুলি একত্রিত করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
The News বাংলা
অরুন বাবু আরও জানান, শাবকটিকে বাঁচাতে সমস্তরকম চিকিৎসা করা হয়েছিল। কিন্তু যেহুতু কনিষ্টতম শাবক হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু কম থাকার কারনেই চিকিৎসায় সাড়া দেয় নি সে। তিনি আরও জানান, মানুষের মতই সমস্ত প্রানীরই সন্তান হারাবার একটা যন্ত্রনা থাকেই। তাই শাবকটির মা শীলাও দু’দিন ধরে মনমরা।
মঙ্গলবার সকালের মত বুধবারও সকালের দিকে খানিক্ষন চিৎকার করলেও, পরের দিকে সারাদিনই মনমরা হয়ে নিস্তেজ হয়ে নিজের ক্রলেই ছিল সে। বাকি দুই শাবকও সকালের দিকে একটু চঞ্চলতা দেখালেও পরে মা’এর পাশেই শুয়ে থাকে দীর্ঘক্ষন। আজ তাদের সেভাবে খেলা করতে দেখা যায় নি।
The News বাংলা
অরুনবাবু আরও জানান, ‘ঘটনা জানার পরই উত্তরবঙ্গে সফররত মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর করেন। তিনি বন্যপ্রানী ভালোবাসেন এবং যেহুতু তিনি শাবক তিনটির নামকরন করেছিলেন, তাই শাবকের মৃত্যুতে তিনিও ভীষণই মর্মাহত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী সহ বাকি মন্ত্রীরাও খোঁজ খবর নেন’।
The News বাংলা
মানুষের সন্তান হারানো মা’এর মতই মন খারাপ বাঘ মা শীলার। রোজই তিন শাবকের সঙ্গে খেলতে দেখা গেলেও, মঙ্গলবার সকাল থেকে ইকাকে দেখতে না পেয়ে খানিকটা আনমনাই ছিল শিলা। ইকা মারা যাবার পর থেকেই ক্রলে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে নজর রাখা হচ্ছে শীলাকে। যাতে, ইকাকে না পেয়ে রাগে শিলা কিছু করে না বসে, সেইসব পর্যবেক্ষন করার জন্য।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত শীতকালিন পর্যটন মরসুমে সাফারি পার্কের এই মিষ্টি শাবকের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই পার্ক কর্মীদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও মন খারাপ।
]]>
বাজপেয়ীর হাতে শুরু চীনা ব্যবসা বাংলায় শেষ মোদীর আমলে https://thenewsbangla.com/starts-in-atal-bihari-vajpayees-time-chinese-business-ends-in-narendra-modis-era/ Tue, 30 Oct 2018 09:29:12 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1679 শিলিগুড়ি: এবার চীনা মাল থেকেও কি মুখ ফেরাল বাংলা ? দক্ষিনবঙ্গের পাশাপাশি এবার চীনা মালের বিক্রি কমল উত্তরবঙ্গেও। কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন বাংলার ব্যবসায়ীরা। অটলবিহারী বাজপেয়ীর হাত ধরে শুরু ব্যবসা কি শেষ নরেন্দ্র মোদীর আমলে?

আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গের জনবহুল স্টেশনেও কি লুকিয়ে আছে বিপদ

শারদোৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই আসন্ন দীপাবলি বা কালীপুজোর জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি তুঙ্গে গোটা রাজ্য জুড়ে। কোথাও মন্ডপ নির্মানের প্রস্তুতি কোথাও বা প্রতিমা নির্মানের প্রস্তুতি, কোথাও আবার আলোকসজ্জ্বার প্রস্তুতি চলছে। আর দীপাবলী মানেই আলোর রোশনাইয়ের উৎসব।

The News বাংলা

সমাজের যত অন্ধকার আছে তা দুর করে গোটা সমাজকে আলোকমালায় ভরিয়ে তোলার নামই দীপাবলি। হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকদিন বাকি এই আলোর উৎসবের। এই উৎসবে আলোর রোশনাইয়ে আলোকিত করতে শিলিগুড়ির বাজারে নতুন নতুন চাইনিজ আলোকের সম্ভার থাকলেও তেমন কোন ক্রেতার দেখা নেই বাজারগুলিতে। কমে গেছে চীনা মালের বিক্রি।

আরও পড়ুনঃ রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ, লড়াই পিছিয়ে গেল

প্রতিবছর প্রত্যেকটি গৃহস্থের বাড়ি নতুন কোন বৈদ্যুতিক আলোর উপকরনে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায় লক্ষ্মীপুজোর দিন থেকেই। তার জন্য শিলিগুড়ির বিধানমার্ক, হংকং মার্কেট সহ বিভিন্ন বাজারগুলি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত লক্ষ্মী পুজোর পর থেকেই।

The News বাংলা

কিন্তু গত দু-তিন বছর থেকেই ভিড় এখন হাতে গোনার মত। শুধু ক্রেতা নয়, নতুন কোনো উপকরনও এখন দোকানিরা সেভাবে আনতে পারেন নি। পুরোনো মজুত যা আছে তাই নিয়েই দোকান সাজিয়ে বসেছেন তাঁরা। অনেক দোকানির বক্তব্য, এখন কি? সময় তো আছে পরে নতুন উপকরন তুলব। অনেকে কোনো প্রশ্নের জবাব দিতেই নারাজ।

আরও পড়ুনঃ ভাইরাল ছবির জেরে ‘দুধের বাচ্চা’ নিয়ে বদলি মহিলা পুলিশ

তবে অনেকেই বলছেন আসল কথা। কেন্দ্র সরকার চাইনিজ মালপত্র আমদানির ওপর বেশ কড়াকড়ি করার জন্য, চোরা পথে মাল আনতে হচ্ছে। তাছাড়া জিএসটির প্রভাবে মালের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধিক মুল্যের জন্য তেমনভাবে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

The News বাংলা

তবে চাইনিজ সামগ্রী বিক্রির ক্ষেত্রে রাজ্যের অন্য কোথাও কেনাবেচার ওপর প্রভাব পড়লেও শিলিগুড়িতে কিন্তু বরাবরই চাইনিজ সামগ্রীর রমরমা অবস্থা ছিল। সে বিভিন্ন ধরনের দেওয়ালীর লাইট হোক কিংবা খেলনা, কিংবা হরেকরকম রংবাহারী জিনিসপত্র। তবে এবারই চাইনিজ সামগ্রীর প্রতি সাধারন মানুষের আকর্ষণ আগের তুলনায় অনেক কমেছে। চীনা মালে বিমুখ বেশীরভাগ মানুষই।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ভারতীয় ক্রিকেটারদের দাবি ‘কলা আর বউ’

দাম বাড়াটাই বিক্রি কমার কারন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই চাইনিজ লাইট বর্জন করাটা মুখ্য বিষয় নয় এবছর বিক্রি কম হওয়ার। দামের অনেকটা তারতম্যই বিক্রি কমে যাওয়ার প্রধান কারন বলে মনে করেন প্রায় সমস্ত দোকানদাররাই।

The News বাংলা

রাতের অন্ধকার দূর করে দীপের আলোয় আলোকিত করে সমস্ত অন্ধকার নাশ করতে দীপাবলী উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে কয়েকশ বছর ধরে। দিন বদলেছে, বদলেছে আলোকিত করার উপকরন। অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকার চীনের সঙ্গে ভারতের ব্যবসার দ্বার উন্মুক্ত করার পর পরই বাজারে ছেয়ে যায় বিভিন্ন চাইনিজ আলোক সজ্জ্বা ও সামগ্রীতে। আর নরেন্দ্র মোদী সরকার শুল্ক ও অন্যান্য কর বাড়িয়ে সেই ব্যবসায় রাশ টানলেন।

আরও পড়ুনঃ স্বীকৃতি না রাজনৈতিক ফায়দা, নেতাজীকে নিয়ে বিতর্কে মোদী

এখন শুধু নিয়ম রক্ষার তাগিদেই কয়েকটি প্রদীপ জ্বালানো হয় দীপাবলি উৎসবে। বাকি সমস্তটাই থাকে চাইনিজ লাইটের প্রদর্শনী। কার বাড়িতে কে কত ভালো লাইট দিয়ে সাজাতে পারে, চলে তার নীরব প্রতিযোগিতা। চোখ ধাঁধানো আলোর রোশনাইয়ে ভরে ওঠে গোটা রাজ্য। পিছিয়ে নেই ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলিও।

Image Source: Google

ইতিমধ্যেই দীপাবলি উৎসবে শব্দবাজী ফাটানোর ওপর অনেক কড়া হয়েছে প্রশাসন। এবার কি নিজেরাই আলোতেও রাশ টানতে চলেছে গোটা দেশের আপামর জনসাধারন? তবে রাজ্যবাসীর মনে একটা প্রশ্ন শোনা যাচ্ছে, এক বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে চীনা মাল দেশে ব্যবসা শুরু করে, আর এক বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই কি সেই ব্যবসার অবলুপ্তি ঘটবে?

]]>
উত্তরবঙ্গের জনবহুল স্টেশনেও কি লুকিয়ে আছে বিপদ https://thenewsbangla.com/the-populated-stations-of-north-bengal-are-in-a-dangerous-situation/ Sun, 28 Oct 2018 10:35:57 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1543 শিলিগুড়িঃ সাঁতরাগাছিতে ফুটওভার ব্রীজ কান্ডের পর পরই বর্তমানে গোটা রাজ্যের বিভিন্ন রেল স্টেশনের ফুটব্রীজগুলিতে সাবলিল যাতায়াতে যাত্রীরা কিছুটা হলেও আতঙ্কিত। উত্তর থেকে দক্ষিন কিংবা পূর্ব -পশ্চিম সহ গোটা রাজ্যেরই প্রায় সমস্ত জনবহুল স্টেশনগুলিতেই পর্যটক থেকে সাধারন নিত্যযাত্রীদের মধ্যে একপ্রকার ভীতির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে ফুটওভার ব্রীজগুলি। একদিকে লাইন পারাপারের সতর্কিকরন, অন্যদিকে ফুটওভার ব্রীজে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা, সবে মিলিয়ে একপ্রকার আতঙ্কের মধ্যেই ট্রেনে যাত্রায় আতঙ্কিত যাত্রীরা।

যদিও সাঁতরাগাছি কান্ডের পর শিক্ষা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে রেলওয়ে দফতর। সমস্ত জনবহুল স্টেশনগুলির ফুটওভার ব্রীজগুলির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। তবুও উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের বেশ কিছু জনবহুল স্টেশনের এই ধরনের ব্রীজের হালহকিকত নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারন যাত্রীরা।

The News Bangla

দক্ষিনবঙ্গের বিধাননগর, দমদম, নৈহাটি, ব্যান্ডেল, বর্ধমান সহ একাধিক স্টেশনের মতই উত্তরবঙ্গের অন্যতম জনবহুল স্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি রেল স্টেশন ও শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন। নিত্যদিনই এই স্টেশন দুটিতে লক্ষ লক্ষ যাত্রীদের আনাগোনা। প্রতিদিনই সেই সমস্ত যাত্রীদেরই ট্রেন ধরতে প্লাটফর্মে যাতায়াতে একমাত্র ভরসা ফুটওভার ব্রীজ।

আরো পড়ুন:সাঁতরাগাছি রেল স্টেশনে ফুটব্রিজে পদপিষ্ট বহু যাত্রী

কিন্তু এনজেপি স্টেশনে মাত্র তিনটি ফুটওভার ব্রীজ রয়েছে। প্রতিদনই ট্রেন ধরতে এই তিনটি ব্রীজে দিয়েই লক্ষ লক্ষ যাত্রীদের আনাগোনা এবং ট্রেন ধরবার অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অপেক্ষা পর্যটক থেকে শুরু করে সাধারন নিত্যযাত্রীদের। তার মধ্যে একটি দিয়ে শুধুমাত্র স্থানীয় বাসিন্দারাই যাতায়াত করেন। পর্যটকরা সেই ফুট ব্রীজের কথা জানলেও ব্যবহার প্রায় করেন না বললেই চলে।

বর্তমানে পাহাড় শান্ত, ডুয়ার্সের জঙ্গলেরও পর্যটন খুলে গেছে। তারও পর বিভিন্ন পর্যটন স্থলে প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক আসা যাওয়া করার ক্ষেত্রেও এই এনজেপি স্টেশনই প্রধান ভরসা। তাছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং সহ শিলিগুড়িতেও বেশ কিছু নতুন নতুন পর্যটনস্থল হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা প্রচুর পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে শিলিগুড়ি সহ গোটা উত্তরবঙ্গেই।

The News Bangla

সে কারনেই দিন দিন যাত্রীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুন। এবং সেই কথা মাথায় রেখেই বেড়েছে ট্রেনের সংখ্যাও। উত্তর পুর্ব সীমান্তে প্রচুর নতুন ট্রেন চালু হয়েছে। আর সমস্ত ট্রেনেরই যাতায়াত এই করিডোর এনজেপি’র ওপর দিয়েই। ফলে ট্রেন ও যাত্রীর অনুপাতে ব্রীজের সংখ্যা রয়ে গেছে সেই তিনেই।

আরো পড়ুন: কেন্দ্রীয় আইবিতে ১০৫৪ মাধ্যমিক পাশ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ

নতুন কোনো ফুটব্রীজ তো তৈরী হয়ই নি, তারপর ফুটব্রীজগুলির রক্ষনাবেক্ষনও তথৈবচ। এমনকি কোনো সংস্কারও লক্ষ করা যায় নি বিগত কয়েক বছরে। পাহাড়, ডুয়ার্স ও প্রতিবেশী রাজ্য সিকিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড সহ সাতটি রাজ্যের পর্যটক ও সাধারন যাত্রীদের আনাগোনার কারনে অনেকটাই চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এনজেপি মূল স্টেশন ও শিলিগুড়ি জংশনের ওপর।

The News Bangla

কেননা, ট্রেনে করে পর্যটকরা পাহাড়, ডুয়ার্স বা সিকিম যেখানেই যান না কেন তাদের হয় এনজেপি স্টেশন আর না হলে শিলিগুড়ি জংশনে নেমে তারপর সড়ক পথে যেতে হয়। তাই এসব স্টেশনের ফুটব্রীজগুলো নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষন, সংস্কার ও দেখভালের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়।

রেল সুত্রে খবর, এনজেপি স্টেশনের প্রথম ফুটওভারব্রীজ তৈরী হয়েছিল গত সত্তরের দশকে। এই ব্রীজের দৈর্ঘ্য ১৯৬ মিটার এবং প্রস্থ ৩.২০ মিটার। এরপর প্রয়োজনীয়তার নিরিখে ২০০৫ সালে আর একটি ফুটওভারব্রীজ তৈরী হয় যার দৈর্ঘ্য ১৮৬.৫০ মিটার ও প্রস্থ ৬.৩০ মিটার। পরবর্তীতে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য ২০১৪ সালে আর একটি ফুটব্রীজ তৈরী করা হয়। এই ব্রীজের দৈর্ঘ্য ৪২৬ মিটার ও প্রস্থ ৪.৮০ মিটার।

তবে তুলনামুলকভাবে প্রথম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফুটব্রীজের প্রস্থ অনেকটাই কম। আর এই ব্রীজ দিয়েই যাত্রীদের সবচেয়ে বেশী যাতায়াত। শুধু তাই নয়, ট্রেন ধরবার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা এই পুরনো ব্রীজের ওপরই প্রতীক্ষা করেন যাত্রীরা। সেইসঙ্গে টিকিট কাউন্টার লাগোয়া হওয়ায় টিকিট কেটে সবাই সরাসরি এই ব্রীজটাই ব্যবহার করে থাকে। ফলে, এই ব্রীজেই সবচেয়ে বেশি চাপ পরে।

The News Bangla

আর দীর্ঘ বয়সের ভারে, জীর্নতা গ্রাস করেছে এই ফুটব্রীজকে। কিন্তু তার সংস্কার কিংবা রক্ষানাবেক্ষনস্ত বা যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রে সেই তথৈবচ অবস্থা। অন্যদিকে শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনের তিনটি প্লাটফর্মের সংযোগে মাত্র একটি ফুটব্রীজই রয়েছে। এই দুই স্টেশনের ওপর দিয়ে ৪৪ জোড়া ট্রেনে লক্ষ লক্ষ যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও জংশন স্টেশনে কিন্তু ফুটওভার ব্রীজ বাড়ে নি। তারপর, এখানেও রক্ষনাবেক্ষনে সেই একই হাল।

আরো পড়ুন: সিবিআই এর নিজেদের ঝামেলা বাংলায় স্বস্তিতে রাখবে তৃণমূলকে

ফলে, সাঁতরাগাছি কান্ডের পর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে একপ্রকার আতঙ্কের মধ্যে প্রাণ হাতে নিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের। তাই যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবী পুরোনো ও প্রথম তৈরী হওয়া ফুটব্রীজটি ভেঙে নতুন করে ফুটব্রীজ তৈরী করা হোক। যাত্রীদের আরও দাবী, শিলিগুড়ি জংশন স্টেশনেও নতুন আরও একটা ফুটওভারব্রীজ তৈরি করুক রেলওয়ে অথরিতি।

সেইসঙ্গে নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষন ও সংস্কারের দাবীও তুলেছ পর্যটক থেকে নিয়মিত যাত্রীরা। এদিকে রেল সুত্রে জানা গেছে, এনজেপি স্টেশনের পুরোনো এই ব্রীজটি ভেঙে নতুন একটি ব্রীজ তৈরী করার অনুমোদন ইতিমধ্যেই চলে এসেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে। কিন্তু কবে তার কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু এখনও জানায় নি রেলওয়ে দফতর। অন্যদিকে জংশন স্টেশন নিয়েও স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি নর্থ ইষ্ট, নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলেওয়ের পক্ষ থেকে।

]]>