Mumbai Terror Attack – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 26 Nov 2022 08:09:43 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Mumbai Terror Attack – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 আজমল কাসভের একে ৪৭ এর বুলেটের সামনে দুই নার্স https://thenewsbangla.com/two-nurses-infront-of-ajmal-kasabs-ak-47-bullets-in-mumbai-terror-attack/ Thu, 29 Nov 2018 14:05:19 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3306 অঞ্জলি কুলঠে ও মাধুরী রাহাতে। নাম দুটো কারোর জানা নেই। না থাকারই কথা। কারন, আমরা কোনদিনই যোগ্য মানুষদের সম্মান দিতে পারি নি। অঞ্জলি কুলঠে ও মাধুরী রাহাতে হলেন সেই ১৫ জন নার্সের অন্যতম, যারা ১৪ বছর আগে ১৫০ জন রোগীর প্রাণ বাঁচিয়ে ছিলেন আজমল কাসভের একে-৪৭ এর বুলেট থেকে।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

২৬/১১/২০০৮, দিনটা তাঁরা কোনদিন ভুলবেন না। সেদিন তাঁদের নাইট ডিউটি ছিল। মুম্বাই এর কামা হাসপাতালের এন্টিন্যাটাল ওয়ার্ডে। ডিউটি করতে করতে হঠাৎ তাঁরা যেন কিসের শব্দ পেলেন। ভয়ংকর শব্দ। ফটফট ফটফট শব্দ। গুলির শব্দ। সিনেমার মত নয়। ছুটে গেলেন কাঁচের জানালায়।

আরও পড়ুনঃ ‘কাসভের বেটি’, জঙ্গি চিনিয়ে দেবার ‘পুরষ্কার’ পাচ্ছে দেবিকা

দেখলেন, তাঁদের হাসপাতালের দুই রক্ষীর রক্তাক্ত মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। আর লাফিয়ে হাসপাতালে ঢুকছে দুই জ’ঙ্গি। পরে যাদের তাঁরা সনাক্ত করেছিলেন আজমল কাসভ এবং আবু ইসমাইল হিসাবে। ভয়ে তাঁরা ছুটে গিয়ে বন্ধ করে দেন ওয়ার্ডের দুটো দরজা। কারণ তখন তাঁদের দায়িত্বে ১৫০ জন রোগী, আর তার মধ্যে ২০ জন মেয়ে যারা প্রত্যেকে মা হওয়ার অপেক্ষায়।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

জঙ্গি দুজন একের পর এক ফ্লোর পার করছে। গুলি চালাচ্ছে। গ্রেনেড ছুঁড়ছে। হাড়হিম করা পরিস্থিতি। কিন্তু তাঁরা জানেন, যে তাঁদের ভয় পেলে চলবে না। যে নার্সের পোশাক তাঁরা পরে আছেন,তাতে জড়িয়ে আছে প্রত্যেক মা এবং তাদের গর্ভস্থ সন্তানকে রক্ষার দায়িত্ব। তাঁরা ঠিক করে নিলে্‌ তাঁদের বাঁচতে হবে আর সবাইকে বাঁচতেই হবে।

আরও পড়ুনঃ একে ৪৭ এর গুলি বুকে নিয়েও কাসভকে ছাড়েন নি তুকারাম

নার্সরা প্রথমেই সকল মেয়েদের নিয়ে গেলেন, ওয়ার্ডের একেবারে কোণায় প্যান্ট্রি ঘরে। তারপর ডাক্তারদের সতর্ক করলেন এবং খুব গোপনে ফোন করলেন পুলিশকে। প্রত্যেকটা মুহূর্তে স’ন্ত্রাসীদের অস্ত্র থেকে গুলি নিক্ষেপে কেঁপে কেঁপে উঠছে গোটা হাসপাতাল। তাঁদের সহকর্মী এক আয়ার গায়ে লাগল গুলি, জানালা ভেদ করে।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

রক্তাক্ত কলিগকে শুশ্রূষা করছেন। ওই ভয়াল অবস্থায় এক মেয়ের গর্ভযন্ত্রনা উঠলে তাকে ধরে ধরে লেবার রুমে নিয়ে গেছেন। কারণ প্রায় সব আলো নেভানো ছিল। বাঁচার জন্য। সন্ত্রা’সীদের দৃষ্টি এড়ানোর জন্য। চিকিৎসক এবং সহকর্মীদের সহায়তায় নতুন প্রাণকে পৃথিবীর আলো দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। এক ফ্লোর থেকে আর এক ফ্লোরে গেছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। আজমল কাসভ এবং আবু ইসমাইল এর সামনে পরে গেলেই, বিদায় নিতে হবে পৃথিবী থেকে।

চারপাশে সন্ত্রাসের আঁধার, আর তার ভেতরে নতুন প্রাণের আগমন। মাত্র একটা টিউবলাইটের আলোয়। একমাত্র তাঁদের সাহসের জন্য সম্ভব হয়েছিল পুরো ব্যাপারটা। তাঁদের ডিউটি ড্রেসই হয়ে উঠেছিল তার শক্তির উৎস। দুজনের নেতৃত্বে ওই ১৫ জন নার্সই প্রাণ বাঁচিয়েছেন ১৫০ জন মানুষের।

Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা
Mumbai Attack Nurse Story/The News বাংলা

এরপরে পুলিশ এসেছে। আঁধার রাত কেটেছে। অঞ্জলি কুলঠে নিজে গিয়ে আজমল কাসভকে সনাক্ত করেছেন। পুলিশকর্মীরা তাকে অভিবাদন জানিয়েছেন। আজমল কাসভের ফাঁসিও হয়েছে। ওইদিন রাতে এক ভয়ংকর অবস্থায় বিন্দুমাত্র মনের জোর না হারিয়ে অঞ্জলি কুলঠে ও তাঁর নার্স বাহিনী, এতজন মা এবং তাদের গর্ভস্থ সন্তানদের সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। সেই অসামান্য বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার জন্য তাঁদের কুর্নিশ জানাতে পারে নি কেউই।

Image Source: Google

কারণ, তাদের এই অসামান্য লড়াইকে সামনে আনা হয় নি। প্রসংসার আলো সবটাই নিয়ে গেছেন ডাক্তাররা। তাঁদের সাহস দেখে মাইনে বাড়িয়ে দেবার ঘোষণা করা হয়েছিল। সেটাও ঠিকমত হয় নি।

আজ ২৬/১১ এর চোদ্দ বছর অতিক্রান্ত। আমরা আজ সেইদিনের লড়াকু সাহসী শহিদদের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি। যারা দেশমাতাকে রক্ষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। তাদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিপরীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতজন মানুষকে সন্তানসম আগলে রেখে নতুন জীবনের আলো আনলেন যে অসমসাহসি নার্সরা, তাঁরাও নিজ অবদানে সমানভাবে উজ্জ্বল।

]]>
‘কাসভের বেটি’, জঙ্গি চিনিয়ে দেবার ‘পুরষ্কার’ পাচ্ছে দেবিকা https://thenewsbangla.com/devika-rotawan-is-awarded-for-identify-the-militant-kasab-ki-beti/ Tue, 27 Nov 2018 09:49:55 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3162 দেবিকা রোতওয়ান, বয়স তখন মাত্র ৯। পুণে যাওয়ার জন্য সেদিন মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টারমিনাস স্টেশনে অপেক্ষা করছিল দেবিকা রোতওয়ান ও তার পরিবার। হঠাৎই গুলির শব্দ, তারপরেই চারিদিকে রক্ত আর রক্ত। দেবিকা দেখেছিল, একটা ছেলে পিঠে ব্যাগ নিয়ে সবাইকে গুলি করে মারছে। একটা গুলি এসে লেগেছিল তার পায়েও। ছ-ছটি অস্ত্রোপচারের পর সে সুস্থ হয় ঠিকই, কিন্তু পিঠে ব্যাগ নেওয়া সেই সন্ত্রাসবাদী আজমল কাসভকে চিনিয়ে দেওয়ার ‘শাস্তি’ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে আজও।

The News বাংলা Devika Rotawan

দিনটা ছিল ২৬ নভেম্বর, ২০০৮। ঠিক ১৪ বছর আগের ঘটনা। মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি টারমিনাস স্টেশনে হামলাকারী জ’ঙ্গি কাসভকে শনাক্ত করেছিল দেবিকা। সেই সময়ে মাত্র ৯ বছরের ছোট্ট মেয়ে দেবিকা রোতওয়ান। তাঁর শনাক্তকরণের উপর ভিত্তি করেই শাস্তি দেওয়া হয় এই ভয়ঙ্কর জ’ঙ্গিকে।

The News বাংলা Devika Rotawan
১০ বছর পরেও পায়ে গুলির দাগ/ The News বাংলা Devika Rotawan

বলাবাহুল্য, দেশের জন্য এক বিরাট কাজ ছিল সেটা। প্রাপ্য শাস্তি পেয়েছে কাসভ। কিন্তু সেই গর্ব ধুয়ে-মুছে শেষ হয়ে যাচ্ছে দেবিকার জীবনে। কাসভকে চিনিয়ে দেওয়ার ‘শাস্তি’ আজও বয়ে বেড়াচ্ছে দেবিকা।

The News বাংলা Devika Rotawan

সবাই ধরে নিল সন্ত্রা’সবাদীদের প্রত্যাঘাতের মুখে পড়তেই হবে দেবিকাকে। কোনও না কোনও দিন তারা কাসভের শাস্তির বদলা নিয়ে হামলা করবে দেবিকার উপর। সেই ভয়ে ধীরে ধীরে সকলেই সম্পর্ক ছিন্ন করলেন তাঁদের সঙ্গে। ভয়, বুঝি তাঁদের জ’ঙ্গি রোষে পড়তে হয়।

The News বাংলা Devika Rotawan
The News বাংলা Devika Rotawan

দেবিকার বাবার রমরমা ফলের ব্যবসা ছিল। বন্ধ করে দিতে হল সেই দোকান। কারণ, ছোট দোকানদাররা আর কেউ কিনতে চাইলেন না ফলমূল। যদি বোমা ফাটে, যদি গুলি চলে, যদি তারাও টার্গেট হয়ে যায়। বিলাসবহুল বান্দ্রা থেকে বাড়ি সরিয়ে নিয়ে যেতে হয় অন্য জায়গায়। এমনকী নিজের দাদার বিয়েতেও যেতে পারেনি দেবিকা।

The News বাংলা Devika Rotawan
The News বাংলা Devika Rotawan

কেউ স্কুলে ভর্তি করতে চাইত না দেবিকাকে। তার জন্য নাকি গোটা স্কুলের ভয়, যদি জ’ঙ্গি হামলা হয়! অবশেষে অনেক চেষ্টার পর ভর্তি হতে পারলেও, শুনতে হল নানা কুকথা। কেউ তাকে ডাকত, ‘কাসভের মেয়ে’ বলে, কেউ বলত ‘কাসভওয়ালি’।

অনেক কষ্টে একটি দোকানে চাকরি জোটালেন তার বাবা। দেবিকা এখন দশম শ্রেণির ছাত্রী। দুচোখে স্বপ্ন, বড় হয়ে আইপিএস অফিসার হবে সে। দেশকে রক্ষা করবে। কিন্তু, সমাজের লড়াইতে জেতাটাই তার কাছে সব চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ‘কাসভের বেটির’।

ছোট্ট মেয়েটির সাহসিকতা দেখে সেদিন অবাক হয়েছিলেন দুঁদে আইপিএস-রাও। ভয় পায় নি একরত্তি মেয়েটি। ক্রাচে ভর করে খুঁড়িয়ে এসে একনজরেই চিনিয়ে দিয়েছিল জ’ঙ্গী আজমল কাসভকে। তার জেরেই ফাঁসি হয়ে যায় সন্ত্রা’সবাদী কাসভের।

সেই সাহসী দেশপ্রেমিক মেয়েটিকে আজ ‘জ’ঙ্গীর মেয়ে’ বা কাসভওয়ালী’ বা ‘কাসভের মেয়ে’,’কাসভ কি বেটি’ বলে ডাকা হয়। অদৃষ্টের কি পরিহাস। ভারতেই মনে হয় এটা সম্ভব। “মেরা ভারত মহান”।

]]>