Mother Language Day – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 21 Feb 2022 05:16:59 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Mother Language Day – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 এক বাংলা থেকে আগেই গায়েব হয়েছে, আর এক বাংলা থেকে গায়েব হবার রাস্তায় https://thenewsbangla.com/international-mother-language-day-bengali-words-are-becoming-extinct/ Mon, 21 Feb 2022 05:10:41 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14819 ভাষা দিবস কি এখন শুধুই ফালতু আদিখ্যেতা? এমনটাই উঠে গেছে প্রশ্ন। এক বাংলা থেকে আগেই গায়েব হয়েছে; আর এক বাংলা থেকে গায়েব হবার রাস্তায় বাংলা ভাষা।
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারি; আমি কি ভুলিতে পারি”। আর এখন বলা হচ্ছে; আদিখ্যেতা ছেড়ে ভুলে যান তাড়াতাড়ি। একদম ঠিক পড়ছেন। যত তাড়াতাড়ি এই আবেগকে ভুলে যাবেন, তত ভালো; তত নিজের কাছে সৎ থাকবেন। চোখ বুজে থাকলে সত্যটা মিথ্যা হবে না। কিন্তু কেন?

মুখের ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে; বিরল ইতিহাস গড়েছিল বাঙালি। উর্দুর পাশাপাশি প্রাণের ভাষা বাংলাকে; পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গড়ে ওঠে দুর্বার আন্দোলন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি; সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত, রফিকদের তাজা রক্তে লাল হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। বাংলা ভাষা রক্ষায়, মাতৃভাষা রক্ষায়; হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির রক্ত ঝরানো লড়াইয়ে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা পৃথিবী। তারই পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির ভাষা আন্দোলন; যার জেরে বাংলা ভাষা পায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা। ২১ শে ফেব্রুয়ারি বিশ্ব জুড়ে ভাষা দিবসের স্বীকৃতি; ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯, ইউনেস্কোর ঘোষণার পর। মাতৃভাষা রক্ষার লড়াই, বিশ্ব সংসারে বিরল; অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিল বাঙালিই।

“মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা!
তোমার কোলে, তোমার বোলে, কতই শান্তি ভালবাসা”!
ইতিহাস, আবেগ ওখানেই শেষ। ৭১ এ স্বাধীনতার পরের ৫০ বছরে আমূল বদলে গেছে বাংলাদেশ। বলা ভাল, ফের ১৯৪৭ এ ফিরে গিয়ে; বাংলাদেশ এখন আবার পুরোপুরি পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেছে। তফাৎ একটাই, এখন সেটা হয়েছে ধর্মে মনুষত্বে ও সর্বোপরি ভাষায়।

১৯৪৭ এ বাঙালি মুসলিম-হিন্দুরা পূর্ব পাকিস্তানে পড়েছিল দেশভাগের জেরে। ১৯৭১ এ বঙ্গবন্ধু মুজিবের হাত ধরে বাঙালি মুসলমান ও হিন্দুরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়ে; ইন্দিরার ভারতের সাহায্যে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েছিল। ২০২২এর ২১ শে ফেব্রুয়ারি সেই আবেগের লেশমাত্র নেই বাংলায়। বাংলাদেশ আবার হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান। ‘পুরোনো বাবার নির্দেশে’ পাকিস্তানের মতোই ‘হিন্দু খেদাও’ অভিযান; গত দু-তিন দশক আগে থেকেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলা ভাষা প্রায় উধাও; দাপট বেড়েছে আরবি-উর্দু শব্দের। বাঙালি রীতি উধাও; ঠিক পাকিস্তানের মতোই ভাঙছে একের পর এক মন্দির। লোটা-কম্বল নিয়ে দেশ বাংলা ছেড়ে রাজ্য বাংলায় আজও পাড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ; হিন্দু বাঙালি। পিঠে কাঁটাতারের দাগ।

বাংলা বর্ণমালা এখন বাংলাদেশের কাছেই অচেনা শব্দ। তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা অক্ষরমালা। কী চেয়েছিলেন জব্বর, বরকত, রফিক, সালামরা? চেয়েছিলেন মাতৃভাষার মর্যাদা; বাংলা ভাষার সম্মান প্রতিষ্ঠা। প্রতিবাদ করেছিলেন মাতৃভাষার অবমাননার বিরুদ্ধে। তার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছিল তাঁদের; ঢাকার রাজপথে।

এখন ইংরেজি মাধ্যমের দাপটে; বাংলা মাধ্যমে পড়ার বিদ্যালয়গুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। সেটাও একটা ইস্যু। কিন্তু বাংলা ভাষা, বাংলা শব্দই আজ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের শব্দ কোষ থেকে। জায়গা নিচ্ছে একের পর এক আরবি-ফার্সি-উর্দু ও অন্যান্য মুসলিম অধ্যুষিত ভাষা শব্দ। বিলুপ্ত হয়েছে বাংলা ভাষা; যার জন্য ভাষা দিবস।

“বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ; বারান্দায় লাগে জ্যোৎস্নার চন্দন”। ২০২২ এ বসে কবি শামসুর রহমানের কলমে এই লাইন আসতই না। বাংলা ভাষা এখন আর উচ্চারিতই হয় না; তো অন্ধ বাউলের একতারা কোথায় বাজবে?

“ওরা আমার মুখের কথা কাইরা নিতে চায়।
তারা কথায় কথায় শিকল পড়ায় আমার হাতে পায়।।
কইতো যাহা আমার দাদায়
কইছে তাহা আমার বাবায়
এখন, কও দেখি ভাই মোর মুখে কি
অন্য কথা শোভা পায়।।
সইমু না আর সইমু না
অন্য কথা কইমু না
যায় যদি ভাই দিমু সাধের জান”…..।।

এই কবিতা এই বাংলাদেশে আর কেউ পড়ে না; এই কবিতার আজ আর আদৌ কোন অস্তিত্বই নেই। বাংলাদেশ আজ বাংলা ভাষা ভুলে; শুধুই এক কট্টরপন্থী মুসলিম দেশ। আর সেই দেশের বড় শত্রু এখন ভারতবর্ষ পশ্চিমবঙ্গ। তাই আজ এই আবেগকে, বাড়ির পাশের পানা পুকুরে বিসর্জন দিন। সত্যকে স্বীকার করতে শিখুন; গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে। ভাষা দিবসে নিন শপথ। বাংলাদেশের কথা ছাড়ুন; অন্তত পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাকে বুক দিয়ে আগলান। ওটাও না ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেই পথে চলা শুরু হয়ে গেছে; বিশ্বাস না হলে বাড়ির বাচ্চার সরকারি স্কুলের বইটা দেখুন।

‘সামাল সামাল’…..
না হলে আর কয়েকবছর পরে আজকের দিনটা এই বলে স্মরণ করতে হবে যে…
‘অতীতে বাংলা বলে একটা ভাষা ছিল এই বাংলায়’…

সম্পাদকীয় লিখলেন মানব গুহ।

]]>
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি https://thenewsbangla.com/international-mother-language-day-recognition-for-the-bangla-language/ Thu, 21 Feb 2019 03:08:40 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7070 দিনটি ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। বাংলা ভাষার জন্য এক দারুণ ব্যাপার ঘটল সেদিন। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ইউনেসকোর ৩০তম অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পৃথিবীর সব ভাষাভাষীর মানুষের কাছেই একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি স্বীকৃতি পায়। বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষা লাভ করে বিশেষ মর্যাদা। ঠিক পরের বছর ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনের ঘটনা জানতে হলে আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। আমরা জানি, একুশে ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনের দিন। প্রতিবছরই মর্যাদার সঙ্গে বাংলাদেশ সহ বিশ্বে অনেক দেশে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এমনকি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা রাজ্যেও ‘বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে এই দিনটি।

২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করার আগে, এই দিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে দাবি শোনা যায়, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই দাবি তোলা হয়। এই রকম আরও কিছু ব্যক্তিগত ও বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের কথা আমরা জানতে পারি।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা

তবে এই বিষয়ে প্রথম সফল উদ্যোক্তারা হলেন কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠী। এই গোষ্ঠী প্রথমে ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব কোফি আন্নান এর কাছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ নামে একটি দিবস ঘোষণার প্রস্তাব উপস্থাপন করে। সেখানে তাঁরা বলেন, “বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষাকে রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেটা ছিল তাদের ভাষার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আজকের পৃথিবীতেও অনেক জাতি-গোষ্ঠীর ভাষাও একই সমস্যা ও বিপদের মধ্যে আছে। কাজেই মাতৃভাষা দিবসের দাবিটি খুবই ন্যায়সংগত”।

মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠীর এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন সাত জাতি ও সাত ভাষার ১০ জন সদস্য। তাঁরা হলেন অ্যালবার্ট ভিনজন ও কারমেন ক্রিস্টোবাল (ফিলিপিনো), জ্যাসন মোরিন ও সুসান হজিন্স (ইংরেজি), ড. কেলভিন চাও (ক্যান্টনিজ), নাজনীন ইসলাম (কা-চি), রেনাটে মার্টিনস (জার্মান), করুণা জোসি (হিন্দি) এবং রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম (বাংলা)।

জাতিসংঘ মহাসচিবের অফিস থেকে এই পত্রপ্রেরকদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বিষয়টির জন্য নিউইয়র্কে নয়, যোগাযোগ করতে হবে প্যারিসে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি-বিষয়ক সংগঠন ইউনেসকোর সঙ্গে। জাতিসংঘের কর্মরত বাঙালি কর্মকর্তা হাসান ফেরদৌসেরও এই ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা ছিল সেই সময়।

এরপর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি ইউনেসকো। কানাডা প্রবাসী বাঙালি আবদুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম (যাঁরা মাতৃভাষা-প্রেমিকগোষ্ঠীর সদস্য) এ বিষয়ে ইউনেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন। প্রথমে টেলিফোনে এবং পরে চিঠিতে।

১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ ইউনেসকো সদর দপ্তরের ভাষা বিভাগের কর্মকর্তা আন্না মারিয়া, রফিকুল ইসলামকে একটি চিঠিতে জানান যে ‘২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার তোমাদের অনুরোধটি বেশ আকর্ষণীয় মনে হয়েছে’। কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার একজন কর্মকর্তার কাছে এই প্রথম বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা

আন্না মারিয়া আরও জানান, ‘বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে উত্থাপনের কোনো সুযোগ নেই, ইউনেসকোর পরিচালনা পরিষদের কোন সদস্য রাষ্ট্রের মাধ্যমে সভায় এটি তুলে হবে’। ইউনেসকো সদর দপ্তরের ভাষা বিভাগের কর্মকর্তা মারিয়া, রফিকুল ইসলামকে ইউনেসকো পরিচালনা পরিষদের কয়েকটি সদস্য দেশের ঠিকানাও পাঠিয়ে দেন।

এতে বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা, ফিনল্যান্ড এবং হাঙ্গেরির নাম ছিল। ইউনেসকো সাধারণ পরিষদে বিষয়টি আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হলে কয়েকটি সদস্য দেশের পক্ষে প্রস্তাব পেশ করা জরুরি। তখন হাতে সময় ছিল খুবই কম। কেননা অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই সাধারণ পরিষদের সভা বসবে।

কানাডা থেকে রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি রাষ্ট্রের জন্য গর্বের বিষয় মনে করে মন্ত্রণালয় অতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর অফিসে অনুমতি চেয়ে নোট পাঠায়। বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময়স্বল্পতার বিষয়টি উপলব্ধি করেন। তিনি সব ধবনের জটিলতা উপেক্ষা করে নথি অনুমোদনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়াই ইউনেসকোর সদর দপ্তরে প্রস্তাবটি পাঠিয়ে দেন সরাসরি। ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে সংক্ষেপে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেসকো কমিশনের পক্ষে এর সচিব অধ্যাপক কফিলউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষরিত সেই প্রস্তাবটি প্যারিসে পৌঁছে যায়।

তখন ইউনেসকোর সাধারণ পরিষদের ১৫৭তম অধিবেশন এবং ৩০তম সাধারণ সম্মেলন ছিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিষয়টি নিয়ে ইউনেসকোতে দুটি সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমত, ইউনেসকো ভেবেছিল, এমন একটা দিবস পালন করতে গেলে ইউনেসকোর বড় অঙ্কের টাকাপয়সা প্রয়োজন হবে। প্রতিবছর অনেক টাকাপয়সা খরচের কথা ভেবে প্রথমেই প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা

একই সঙ্গে ইউনেসকো মহাপরিচালক International Mother Language Day নয়, International Mother Tonguae Day নামে একে অভিহিত করতে সচেষ্ট হন। মহাপরিচালক এই জন্য এক লাখ ডলারের ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব করেন এবং দুই বছর পর সাধারণ পরিষদের ১৬০তম অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরার আদেশ দেন।

এর ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয়টি আটকা পড়ে। প্রস্তাবটি কার্যকর হতে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে বলে মনে করা হয়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক। শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ইউনেসকো অধিবেশনে যোগদানকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা।

তিনি অধিবেশনে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যেখানে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাৎপর্য পৃথিবীর ১৮৮টি দেশের সামনে তুলে ধরেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন দেশের শিক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পক্ষে অভিমতও গড়ে তুলতে চেষ্টা করেন। এমনকি উপস্থিত সদস্যদের বোঝাতে সক্ষম হন, দিবসটি পালন করতে প্রকৃতপক্ষে ইউনেসকোর এক ডলারও লাগবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ নিজেরাই নিজেদের মাতৃভাষার গুরুত্ব আলোচনা ও জয়গান গাইতে গাইতে দিনটি পালন করবে।

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এ এস এইচ কে সাদেক একই সঙ্গে কতকগুলো ব্যক্তিগত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চালান। এক রাতে তিনি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের নেতার সঙ্গেও একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। প্রস্তাবটিতে পাকিস্তানের সমর্থন প্রয়োজন ছিল। কারণ, যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্ন ঘিরে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি সংঘটিত হয়েছিল, তাতে পাকিস্তানের মনোভাবে অবশ্যই না-বাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য মুসলিম দেশ, বিশেষ করে সৌদি আরবের সমর্থনের ক্ষেত্রেও সে দেশের ইতিবাচক ভূমিকা প্রভাব ফেলতে পারত।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি/The News বাংলা

১৯৯৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানে সামরিক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল। ফলে পাকিস্তানের শিক্ষামন্ত্রী সে বছর ইউনেসকো সম্মেলনে যাননি, পাকিস্তানি দলের নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব। বৈঠকে এ এস এইচ কে সাদেক আবিষ্কার করেন, পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব একসময় তাঁর অধীনে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে কাজ করেছেন। আরও মজার বিষয়, পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব বাংলায় চমৎকার কথা বলতে পারেন। ফলে এই বৈঠক খুবই সফল হল। তিনি প্রস্তাবটি সমর্থনের আশ্বাস দেন।

ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিয়েও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণায় তাদের আপত্তি ছিল না। তবে তারা ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। পাশ্চাত্য দেশগুলোর কাছে শিক্ষামন্ত্রী যুক্তি ও আবেগের সঙ্গে এই বিষয়টি তুলে ধরেন যে পৃথিবীতে বাঙালিরা মাতৃভাষার অধিকারের জন্য রক্ত দিয়েছে। সেটা ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখে। তখন ইউরোপীয়রা ব্যাপারটা বুঝতে পারে।

এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার হওয়ার পর ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর, ২১ ফেব্রুয়ারি লাভ করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা। ইউনেসকোর ঐতিহাসিক সেই অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের মূল প্রস্তাবক ছিল বাংলাদেশ এবং সৌদি আরব। আর প্রস্তাব সমর্থনে প্রথম নামটা ছিল ভারত।

আরও সমর্থন করেছিল আইভরি কোস্ট, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কমোরোস, ডোমিনিকান রিপাবলিক, পাকিস্তান, ওমান, পাপুয়া নিউগিনি, ফিলিপিন, বাহামাস, বেনিন, বেলারুশ, গাম্বিয়া, ভানুয়াতু, মাইক্রোনেসিয়া, রুশ ফেডারেশন, লিথুয়ানিয়া, মিসর, শ্রীলংকা, সিরিয়া ও হন্ডুরাস। ১৯৯৯ সালে একুশে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ শুধু বাংলা ভাষার বিশ্ববিজয় নয়, পৃথিবীর সব মাতৃভাষার জয়।

]]>