Mamta Banerjee – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 23 Jun 2022 08:01:29 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Mamta Banerjee – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 কয়লাকাণ্ডে জেরা, একরত্তি ছেলেকে কোলে নিয়ে ইডি দফতরে অভিষেক পত্নী রুজিরা https://thenewsbangla.com/tmc-mp-abhishek-banerjee-wife-rujira-banerjee-at-ed-office-cgo-complex/ Thu, 23 Jun 2022 07:43:10 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=15686 কয়লাকাণ্ডে জেরা, একরত্তি ছেলেকে কোলে নিয়ে; ইডি দফতরে অভিষেক পত্নী রুজিরা। কয়লা পাচার কাণ্ডে, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে; ইডি দফতরে তলব করা হয়েছে; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ইডির তলবে সাড়া দিয়ে, দু-বছরের ছেলেকে কোলে নিয়েই; কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিলেন অভিষেক পত্নী রুজিরা। বৃহস্পতিবার সকালে ১১টা নাগাদ; ইডির দফতরে ঢোকেন তিনি। তদন্তকারীদের বিশেষ দল; অভিষেক পত্নীকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

কয়লা পাচারকাণ্ডে কয়েকদিন আগেই; অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই। এবার তাঁকে তলব করল ইডি। এই তলবকে ঘিরে যাতে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে; সে কারণে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে সিজিও কমপ্লেক্স। পরিচয়পত্র দেখিয়েই ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। কড়া পুলিশি পাহারা রয়েছে; গোটা সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে।

আরও পড়ুনঃ গরমের দুমাসেই উপচে পড়ল রাজ্যের কোষাগার, সৌজন্যে বাংলার ‘বিয়ারপ্রেমী’রা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে, দিল্লিতে নয়; কলকাতায় জেরা শুরু হল তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরার। কোর্টের নির্দেশ মেনে বুধবারই রুজিরাকে; চিঠি পাঠিয়েছিল ইডি। দিল্লি থেকে ইডির একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল, কলকাতায় এসে; রুজিরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে। ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পা’চার কাণ্ডে তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে; ব্যাঙ্ককের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ইডি-র দাবি, সেখানে জমা পড়েছে; বাংলা থেকে কয়লা পা’চারের টাকা। ইডি সূত্রে দাবি, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা জানতে পারে; বিদেশি ব্যাঙ্কে ওই অ্যাকাউন্টের মালিক রুজিরা নারুলা। অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে ‘জুতো মা’রার দা’ওয়াই’ দিয়ে বিতর্কে বিজেপি নেতা

কয়লাকাণ্ডে এর আগে একাধিকবার; অভিষেক ও রুজিরাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি। অভিষেক দুবার হাজিরাও দিয়েছিলেন ইডি দফতরে; কিন্তু যাননি রুজিরা। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন; তাঁর দুবছরের পুত্র সন্তানকে কলকাতায় একা রেখে; দিল্লি যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এদিন সেই শিশুপুত্রকে নিয়েই; সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন অভিষেক পত্নী।

“রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে; কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে”; এই দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, “রাজনৈতিক হে’নস্থার শি’কার হচ্ছেন রুজিরা ও অভিষেক। “কয়লা পাচারের টাকা খেয়ে, এখন ছেলে কোলে সহানুভূতির ভিক্ষা চাইছে”; অন্যদিকে পাল্টা সমালোচনা বিজেপি নেতাদের।

]]>
‘ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করুক মোদী ও মমতা’ ঘোষণা বিচারপতির https://thenewsbangla.com/modi-and-mamata-have-to-declare-india-a-hindu-country/ Thu, 13 Dec 2018 13:25:03 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=4111 The News বাংলা, শিলংঃ ‘ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করা উচিত’। না কোন রাজনীতিবিদ নন, একথা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন এক বিচারপতি। আর আদালত চত্বর থেকে এই দাবি ওঠায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশে। ৫ রাজ্যে সরকার গঠনের ব্যস্ততার মধ্যেই এক বিচারপতির এই ঘোষণায় শোরগোল গোটা দেশে।

আরও পড়ুন: বাংলায় রথের ভবিষ্যৎ, লালবাজারে ‘রথ বৈঠকে’ রাজ্য সরকার ও বিজেপি

ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ঘোষণা করা উচিত। এবার এমনই ‘দাবি’ করলেন মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারপতি এস আর সেন। সোমবার নিজের দেওয়া এক রায়ে এমনই কথাই জানালেন বিচারপতি এস আর সেন। স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র মামলার এক শুনানিতে আরও চাঞ্চল্যকর ও শোরগোল ফেলে দেওয়া সব পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তিনি।

'ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করুক মোদী ও মমতা' ঘোষণা বিচারপতির/The News বাংলা
‘ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করুক মোদী ও মমতা’ ঘোষণা বিচারপতির/The News বাংলা

মেঘালয় রাজ্য সরকার স্থায়ী বাসিন্দাদের শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি। সেই মামলায় রায় দিতে গিয়েই এই ধরনের ‘বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ’ বিচারপতি এস আর সেনের।

বিচারপতি এস আর সেন তাঁর রায়ে লিখেছেন, ‘১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার সময় ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়েছিল। সেই মতো পাকিস্তান নিজেকে ইসলামিক রাষ্ট্র ঘোষণা করেছে। ভারতকেও হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা উচিত।’

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলায় রথ যাত্রা হবেই’ মমতাকে হুঁশিয়ারি অমিত শাহের

বিচারপতি এস আর সেন, তাঁর রায়ে আরও জানিয়েছেন, ‘ভারতকে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। আমার মনে হয় এই পরিস্থিতির গুরুত্ব একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজিই বুঝতে পারেন। ভারতের ইসলামিকরণ রুখতে তাঁর উপযুক্ত পদক্ষেপ করা উচিত। আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত তাঁকে সমর্থন করা’।

'ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করুক মোদী ও মমতা' ঘোষণা বিচারপতির/The News বাংলা
‘ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করুক মোদী ও মমতা’ ঘোষণা বিচারপতির/The News বাংলা

মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারপতি এস আর সেন এর এই পর্যবেক্ষণ স্তম্ভিত করে দিয়েছে গোটা দেশকে। সোমবার মেঘালয় হাইকোর্টেই এই রায়ের পর্যবেক্ষণ হতবাক করে দেয় আইনজীবী ও বিচারপতি মহলকে। একই সঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির পক্ষে সওয়াল করে বিচারপতি সেন বলেন, ‘ভারতের সমস্ত নাগরিকের জন্য একই আইন হওয়া উচিত। অভিন্ন আইন মানতে যে অস্বীকার করবে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া উচিত সরকারের।’

আরও পড়ুনঃ ৫ টি প্রধান কারনে ৫ রাজ্যে হার মোদীর বিজেপির

এখানেই থেকে থাকেন নি বিচারপতি এস আর সেন। নিজের পর্যবেক্ষণে তিনি ইসলামিক দেশগুলি থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য মোদী সরকারকে নতুন আইন আনতে অনুরোধ করেছেন। বিচারপতি সেন রায়ে উল্লেখ করেছেন, এ ব্যাপারে খুব তাড়াতাড়ি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও সাংসদদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

মেঘালয় হাইকোর্টের বিচারপতি এস আর সেনের এই চাঞ্চল্যকর রায়ে গোটা দেশে আলোচনার বিষয় হিসাবে এখন উঠে এসেছে এটাই। গোটা দেশ জুড়ে শুরু হয়ে গেছে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বিতর্ক। যদিও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেন নি।

]]>
EXCLUSIVE: ৫ রাজ্যে হারের প্রভাব, মোদীর বাংলা সফর বাতিল https://thenewsbangla.com/exclusive-impact-of-defeat-in-five-states-modis-visit-to-bangla-canceled/ Tue, 11 Dec 2018 17:51:27 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=4066 The News বাংলা, শিলিগুড়িঃ ৫ রাজ্যে হারের প্রভাব, আপাতত প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বাংলায় সফর ও জনসভা বাতিল বলে জানাল বঙ্গ বিজেপি। বাংলায় মোদীর সবকটি জনসভাই বাতিল বলে জানানো হয়েছে বাংলা বিজেপির তরফ থেকে।

গত ৭ তারিখে বিজেপির ডাকা ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ আটকে যাওয়ার পর আগামী ১৬ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা নিয়ে এমনিতেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় সহ পাঁচ রাজ্যে কার্যত ধরাশায়ী হওয়ার পর বাংলা সফর বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বলে বিজেপি সুত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ সেমিফাইনালে মোদীর হার, মিজোরাম হারাল কংগ্রেস, তেলেঙ্গনায় ব্যর্থ মহাজোট

চলতি মাসের ১৬ তারিখ শিলিগুড়িতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা করার কথা ছিল, তা আপাতত হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব৷ তবে এই মুহূর্তে বাতিল হলেও সম্ভবত মোদীর এই জনসভা পিছতে পারে বলেও জানিয়েছে জেলা বিজেপির কার্যকর্তারা। সেইসঙ্গে আরও জানা গেছে, পাঁচ রাজ্যের ফলাফল নিয়ে দিল্লীতে দলীয় পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোথায় কোন কর্মসূচী নেওয়ার বিষয়ে।

সেমিফাইনালে মোদীর হার, মিজোরাম হারাল কংগ্রেস, তেলেঙ্গনায় ব্যর্থ মহাজোট/The News বাংলা
সেমিফাইনালে মোদীর হার, মিজোরাম হারাল কংগ্রেস, তেলেঙ্গনায় ব্যর্থ মহাজোট/The News বাংলা

আপতত অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় সমস্ত মন্ত্রী ও বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের এ রাজ্যের সমস্ত কর্মসূচী বাতিল বলে জেলা বিজেপি সুত্রে জানা গেছে। আগামীতে কোন রাজ্যে কি কি কর্মসূচী হবে এবং তা কোন কোন কেন্দ্রীয় স্তরের নেতাদের তত্ববধানে হবে তা কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ Result Live: মোদীকে হারালেন রাহুল, ৫ রাজ্যেই ধরাশায়ী বিজেপি

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার নির্বাচনের ফল ঘোষনার পরেই পিএমও দপ্তর থেকে কলকাতার রাজ্য দপ্তরে এই খবর আসে। প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিল প্রসঙ্গে জেলা নেতৃত্বের মত, বিজেপির রথযাত্রা নিয়ে টানাপোড়েনের পর মামলা এখন ডিভিশন বেঞ্চে। জেলা বিজেপি সূত্রে খবর, ওই মামলার চূড়ান্ত হওয়ার পরই শিলিগুড়িতে আসবেন নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুনঃ ৫ টি প্রধান কারনে ৫ রাজ্যে হার মোদীর বিজেপির

আপতত বাতিল হলেও আগামী দিনে ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’কে কেন্দ্র করে শিলিগুড়িতে জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদী, আশ্বাস বিজেপি নেতাদের। অন্যদিকে রাজ্য নেতৃত্ব সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ফলাফল খারাপ হওয়াই প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিলের অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুনঃ মোদী সরকারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় পদত্যাগ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গভর্নরের

বিজেপি সূত্রে আরও জানা গেছে, এই পাঁচ রাজ্যের ফলাফল নিয়ে আগামী বুধ, বৃহস্পতিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির পার্যালোচনার বৈঠকের পরই আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় সমস্ত মন্ত্রী ও বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির হেভিওয়েট নেতাদের আগামী কর্মসূচী ঠিক করা হবে। আপাতত অনির্দিষ্ট কালের জন্য প্রায় সমস্ত জনসভা, অন্যান্য কর্মসূচী বাতিল করা হয়েছে বলে রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর।

আরও পড়ুনঃ লোকসভার আগে রাহুলের কাছে মোদীর হার, পড়ল টাকার দাম

অন্যদিকে পাঁচ রাজ্যের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেই মত রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের৷ এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপবাবুর বক্তব্য, ‘এই পাঁচ রাজ্যের ফলাফলের কোনও প্রভাব বাংলায় পড়বে না। বিজেপি বাংলায় যেরকম লড়ছে, সেরকমই লড়াই করবে। সিপিএম ও তৃণমূলের উজ্জীবিত হওয়ার কোনও কারণই নেই। বাংলায় বিজেপি এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না’। সেই সঙ্গে বাংলায় রথযাত্রার কর্মসূচি হবে বলেও জানিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

]]>
মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও https://thenewsbangla.com/bjp-minister-wants-to-see-mamata-as-the-indias-next-prime-minister/ Sun, 09 Dec 2018 18:21:20 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3826 The News বাংলা, কলকাতা: এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাইলেন দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা। প্রধানমন্ত্রী হবার সবরকম যোগ্যতা আছে মমতার, কলকাতায় এসে বললেন বিজেপির এই প্রাক্তন নেতা।

আরও পড়ুন: ‘দেশের একমাত্র যোগ্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন মমতা বন্দোপাধ্যায়’

দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠক নিয়ে সরগরম গোটা দেশ। সেই জোটের মধ্যমণি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। রবিবার বিকালেই তিনি দিল্লী পৌঁছেছেন। তাঁর আগে আরও একবার মমতাকে প্রধানমন্ত্রী করার জোরাল দাবি তুললেন বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা।

মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা
মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা

আরও পড়ুন: আরও সাজিয়ে তোলা হবে বাঙালির প্রিয় দিঘা সমুদ্রসৈকতকে

রবিবার কলকাতায় তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া সেল আয়োজিত ‘আইডিয়া অব বেঙ্গল’ শীর্ষক আলোচনা চক্রে এসে বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার সদস্য বললেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবরকম গুণ রয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে। দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সবরকম যোগ্যতা মমতার আছে এবং মমতার নেতৃত্বে সরকার কেন্দ্রের দায়িত্ব নিতে পারবে বলেই জানান যশবন্ত সিনহা।

মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা
মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা

রবিবার, বিজেপি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তুমুল সমালোচনা করেন বিজেপির এই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরেই মোদী সরকারের সমালোচনা করে আসছেন বিজেপির একসময়ের দাপুটে নেতা। এর আগে একাধিকবার তৃণমূলনেত্রীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছে যশবন্ত সিনহার মুখে। কিন্তু মমতার প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে এই প্রথম মুখ খুললেন।

আরও পড়ুন: পাহাড়ে নিজের বাড়ি থেকে বিমলকে ধরল মমতার পুলিশ

শুধু যশবন্ত সিনহাই নন, ভারতের আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রাম জেঠমালানিও। একসময়ের বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা, শত্রুঘ্ন সিনহা ও অরুণ শৌরিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এ কথা জানিয়েছিলেন।

মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা
মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা

আরও পড়ুন: ভারতে সন্ত্রাস চালানো পাকিস্তানকে ‘গান্ধী’গিরি শেখাচ্ছে বাংলার আমজনতা

এদিকে আগামী ১১ তারিখে, পাঁচ রাজ্যের ফল ঘোষণার আগেই সোমবার দিল্লিতে বিরোধীদের মেগা-শো। চন্দ্রবাবু নাইডুর ডাকা বিরোধী দলগুলির বৈঠকে হাজির হতে চলেছেন বিরোধী শিবিরের তাবড় তাবড় নেতারা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বৈঠকের মধ্যমণি। সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীরও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এই বৈঠকে।

মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা
মমতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চান বিজেপির মন্ত্রীও/The News বাংলা

মমতার আলাদা করে সোনিয়া ও রাহুলের সঙ্গে বৈঠক করারও সম্ভাবনা আছে। মূলত লোকসভা ভোটের রণকৌশল এবং সংসদের শীতকালীন অধিবেশন নিয়েও আলোচনা হবে। তবে, সবার নজর আপাতত পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফলের দিকে। বিরোধীদের রণকৌশলও এই ফলাফলের উপরেই নির্ভর করবে খানিকটা।

আরও পড়ুন: পাঁচ রাজ্যে ভোটের ফল সমীক্ষায় মোদীর চেয়ে এগিয়ে রাহুল

প্রায় সব এক্সিট পোলই বিজেপির হার দেখিয়েছে। সেই ভরসাতেই লোকসভা ভোটের আগেই মহাজোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চান বিরোধীরা। তবে তৃণমূল নেতাদের মতই যেভাবে প্রাক্তন বিজেপি নেতারাও মমতার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলছেন, তাতে জোটের প্রধানমন্ত্রী মুখ কিন্তু মমতাই হতে পারেন।

]]>
মমতার পদে ইস্তফা, বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় কেপিপি সভাপতি https://thenewsbangla.com/kpp-president-in-bjps-ganatantra-bachao-jatra-after-resigning-mamtas-post/ Wed, 05 Dec 2018 17:43:23 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3567 The News বাংলা, জলপাইগুড়িঃ কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন অতুল রায়। সরকারী পদে ইস্তফা দিয়েই বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় যাবার ঘোষণা করলেন কেপিপি সভাপতি।

বিজেপির জনসভায় উপস্থিত থাকলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভর্ৎসনার ভয়ে আগেভাগেই কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির সহ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অতুল রায়। তবে, এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের স্কুলগুলিতে চালু করা হয়নি কামতাপুরি ভাষায় পঠন-পাঠন, এই অভিযোগ তুলেই তাঁর এই পদত্যাগ বলে জানালেন তিনি।

বিজেপির 'গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা'য় কেপিপি সভাপতি/The News বাংলা
বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় কেপিপি সভাপতি/The News বাংলা

অতুল রায় এর বক্তব্য, এই পদ থেকে নীতিগত ভাবেই ইস্তাফার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। কিন্তু সেইসঙ্গে বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’র সূচনায় আগামী শুক্রবার কোচবিহারে অমিত শাহর সভায় থাকার কথাও ঘোষণা করলেন কামতাপুরি প্রোগ্রেসিভ পার্টি বা কেপিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অতুল রায়।

আরও পড়ুনঃ ‘বেআইনি মদের টাকা যায় মমতার ভাইপো অভিষেকের বাড়িতে’ কৈলাশ বিজয়বর্গীয়

বুধবার জলপাইগুড়ি প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে তিনি আরও বলেন, তিনি কারোর বিরাগভাজন হতে চান না। কারোর ভালো নজরেও পড়তে চাই না। নীতিগতভাবে এই পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করাটাই তাঁর কাছে শ্রেয় বলে মনে হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর এই ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ মমতার নির্দেশকে বুড়ো আঙুল, সিন্ডিকেট জুলুমে রাজ্য ছাড়ছেন শিল্পপতি

তাঁর আরও বক্তব্য, গত ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নীতিগতভাবে ও শর্তসাপেক্ষে কেপিপি বিজেপিকে সমর্থন করেছিল। গত শনিবার তাঁর নেতৃত্বে কেপিপির এক প্রতিনিধিদল দিল্লিতে গিয়েছিল। সেখানে বিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয় তাঁদের। সেই বৈঠকে বিজেপি নেতৃত্ব তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, নীতিগতভাবে ২০১৪ সালে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি, তা পূরণ করার জন্যই আগামী শুক্রবার কোচবিহারে অমিত শাহ আসছেন।

বিজেপির 'গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা'য় কেপিপি সভাপতি/The News বাংলা
বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’য় কেপিপি সভাপতি/The News বাংলা

অতুল বাবুকে সামনে রেখেই তাঁরা আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে কামতাপুরি ভাষাকে অষ্টম তপশিলির অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ঘোষণা করবেন তিনি। এদিনের এই সাংবাদিক বৈঠকে কেপিপির বিজেপিকে সমর্থনের প্রসঙ্গে অতুল বাবু বলেন,’এই মুহূর্তে আমি এই বিষয়ে কিছু বলব না। বিষয়টি এখনও আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তোলা হয় নি। যে বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসে নি সেটা নিয়ে আমি নিয়ে কিছু মন্তব্য কবর না। আমরা শীতকালীন অধিবেশনে বিজেপির সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। তারা প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে কি না জেনে-বুঝে তারপর ভাবব’।

আরও পড়ুনঃ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে বাংলায় এনআরসি-র দাবি

যেহেতু অতুল রায়কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কামতাপুরি ভাষা অ্যাকাডেমির সহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করেছেন, তাই স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির সভামঞ্চে উপস্থিত থাকলে মুখ্যমন্ত্রী ওই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিতে পারেন। সেই আশঙ্কাতে নিজে থেকেই তিনি তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। অতুল রায়ের এই ঘোষণার পর এটা স্বাভাবিক ভাবেই স্পষ্ট যে, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যত ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের বিজেপির দিকে ঝোঁকার একপ্রকার ইঙ্গিত দিলেন অতুল রায়।

]]>
আন্দোলনের এক যুগ পূর্তিতে সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা https://thenewsbangla.com/mamata-will-build-a-shaheed-minar-in-singur-to-remember-the-singur-movement/ Wed, 05 Dec 2018 14:16:30 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3548 The News বাংলা, কলকাতা: প্রায় ১২ বছর সম্পূর্ণ হতে চলল সিঙ্গুর আন্দোলনের। যে আন্দোলন রাজ্যে পট পরিবর্তনে অন্যতম ভূমিকা নিয়েছিল। ক্ষমতায় এনেছিল মা মাটি মানুষের সরকারকে। এবার সেই সিঙ্গুরেই গড়ে উঠবে শহীদ মিনার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ইচ্ছে তেমনই।

এবার শহীদ মিনার সিঙ্গুরে। সিঙ্গুরের মাটিতেই ৪০ ফুট উঁচু শহীদ মিনার গড়তে চলেছে রাজ্য সরকার। সিঙ্গুরের কৃষক আন্দোলনকে স্মরণ করে তৈরী করা হবে এই মিনার। ইতিমধ্যে দরপত্র চেয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পূর্ত দফতর।

আরও পড়ুনঃ মমতা দাওয়াই, থুতু-পিক ফেললেই ১০০ গুন বেশি জরিমানা

দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে প্রায় ১ একর জমিতে গড়ে তোলা হবে এই শহীদ মিনার। এই মিনারের উচ্চতা হবে ৪০ ফুট। প্রাথমিকভাবে এই শহীদ মিনার তৈরি করার জন্য পূর্ত দপ্তর এর তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। ৩০০ দিন ধার্য করা হয়েছে এই শহীদ মিনার তৈরীর জন্য, এমনটাই খবর নবান্ন সূত্রে।

সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা
সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা

সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন এবার সিঙ্গুরে তৈরি হবে বেশ কিছু স্মারক। যে জায়গা জুড়ে আন্দোলন হয়েছিল সেই জায়গাটিকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে তোলা হবে। এমনকি তাপসী মালিকের নামেও একটি জায়গা কে চিহ্নিতকরন করা হবে।

আরও পড়ুনঃ জল অপচয় রোধে বাঙালি ছাত্রের আবিষ্কার ‘প্যাডেল ট্যাপ’

পাশাপাশি সেখানে থাকবে একটি তোরণ এবং স্মারক। ইতিমধ্যেই ঘোষণা মত সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের বিষয়টি। নবান্ন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র এর কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলেই মিনার তৈরির কাজ শুরু হয়ে যাবে। সামনের বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের পরই এই কাজ শুরু করার চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য পূর্ত দপ্তর, এমনটাই খবর নবান্ন সূত্রে।

আরও পড়ুনঃ মোদী অমিতের রথযাত্রার পর বাংলার শুদ্ধিকরণে মমতার পবিত্র যাত্রা

২০০৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিশালভাবে জিতে ক্ষমতায় এসে, সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ১৮ মে ২০০৬, রতন টাটা এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্পের ঘোষণা করলেন। সেই মতো রাজ্য সরকার সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু করে। কিন্তু, অনেকেই জমি দিতে অস্বীকার করেন। সেই অনিচ্ছুক চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামে সেই সময়কার বিরোধী দল তৃণমূল।

সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা
সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা

দশ বছর আগে সরকারের একটা সিদ্ধান্তে শান্ত সিঙ্গুর বদলে গিয়েছিল আন্দোলনের অগ্নিভূমিতে। এক দশকের লড়াইয়ের পর সেই মাটিই লিখে দিয়েছিল কৃষক বিদ্রোহের অন্য আখ্যান। যাঁর নেতৃত্বে ছিলেন এক অগ্নিকন্যা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ পরকীয়া সমলিঙ্গে স্লোগান হারিয়ে দিশাহীন এইডস এর প্রচার

কারখানা হবে। একলাখি গাড়ি কারখানা। বহুফসলি জমিতেই হবে। সঙ্গে আছে ব্রিটিশ আমলের কৃষক-বিরোধী জমি অধিগ্রহণ আইন আর বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের আত্মবিশ্বাস। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভরসায় দু-হাজার ছয়ের মে মাসে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির কথা ঘোষণা করে টাটা।

সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকরা জানিয়ে দিলেন, গায়ের জোরে বহুফসলি জমি অধিগ্রহণ তাঁরা মানবেন না। শুরু হল আন্দোলন। সিঙ্গুরের প্রতিবাদের মন বুঝতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে দাঁড়ালেন অনিচ্ছুক কৃষকদের।

সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা
সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা

এরপর ইতিহাস। তাপসী মালিক, রাজকুমার ভুলের মৃত্যু। সিঙ্গুরের লড়াইয়ের বার্তা কলকাতা-সহ গোটা দেশ, বিশ্বের কাছে পৌছে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের বিডিও অফিস থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দিল বুদ্ধদেবের প্রশাসন।

ফিরে এসে মেয়ো রোডে অবস্থানে বসলেন তিনি। আড়াই মাস পর জোর করে জমি নেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় তাঁর ২৬ দিনের আমরণ অনশন, সিঙ্গুরের আন্দোলনে এঁকে দিয়েছিল ল্যান্ডমার্ক।

২০০৭-এর গোড়ায় কারখানা তৈরির কাজ শুরু করেছিল টাটা। কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিল, সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণে ভুল করেনি বাম সরকার। তারপর, সোনার ফসল ফলানো মাটি আগলে রাখতে কঠিন লড়াই।

সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা
সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা

সে দিন অকুতোভয় সিঙ্গুরবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই মমতা। সিঙ্গুরের সানাপাড়ায় ধর্নায় বসেছিলেন মমতা। ১৫ দিনের ধর্নায় অবরুদ্ধ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে। কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল টাটারা। রাজভবনে তত্‍কালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর মধ্যস্থতায় বুদ্ধদেব -মমতা মুখোমুখি হলেও ভেস্তে গেল আলোচনা। ২০ অগস্ট ২০০৮, রাজভবনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হবার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলায় ন্যানোর অন্ধকার ভবিষ্যৎ লেখা হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ জনগণকে ‘গাধা’ বানিয়ে ‘শিক্ষাগুরু নেহেরু’র যোগ্য ছাত্র সব রাজনীতিবিদ

৩ অক্টোবর ২০০৮, সিঙ্গুরে ন্যানো প্রকল্প থেকে সরে গেল টাটা গোষ্ঠী। এরপর আরও আড়াই বছর ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। যদিও, অনেকেই মনে করেন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামই ছিল তাদের ওয়াটারলু। সিঙ্গুর সরণি বেয়েই মহাকরণে পৌছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৩ মে ২০১১,
রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় এল তৃণমূল কংগ্রেস।

আরও পড়ুনঃ ‘অনুগ্রহ করে সব টাকা নিন’ বিজয় মালিয়ার টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত

প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই মমতা জানিয়ে দেন, জমি ফেরাবেই তাঁর সরকার। জমি ফেরাতে ২০১১ র ১৩ জুন বিধানসভায় পাশ হল সিঙ্গুর জমি পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিল। টাটারা কলকাতা হাইকোর্টে গেলে সেপ্টেম্বরে সিঙ্গল বেঞ্চ রায় দেয় সিঙ্গুর আইন বৈধ। সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় টাটা মোটর্স। দুহাজার বারোর জুনে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গুর আইন অবৈধ বলে রায় দেয়।

সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা
সিঙ্গুরে শহীদ মিনার গড়বেন মমতা/The News বাংলা

জমি ফেরাতে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের জন্য দুটাকা কিলো দরে চালের ব্যবস্থা হয়। তারপর শুধুই অপেক্ষা। অবশেষে আগস্টের শেষ দিনে এল আনন্দের বার্তা। ৩১ অগস্ট ২০১৬, সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়। ‘২০০৬ সালে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ অবৈধ’।

সুপ্রিম কোর্ট রায় দিল, সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ অবৈধ। অধিগৃহীত সব জমিই কৃষকদের ফিরিয়ে দিতে হবে। ২০১১ র পর ফের বড় জয় মমতার। এরপর সবুজ আবির, মিষ্টি মুখ, অকাল দোল। দুর্গতিনাশিনীর পুজোর আগেই যেন দুর্গতিনাশ হল সিঙ্গুরে।

আরও পড়ুনঃ সাধারণ মানুষের জীবনের দাম এখন কুকুর ছাগলের চেয়েও কম

২০০৭ এর এক সেপ্টেম্বরে সিঙ্গুরের সানাপাড়ায় জোর করে জমি নেওয়ার প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা। সেই একই জায়গায় ২০১৬ র সেপ্টেম্বরে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মাথায় নিয়ে ফিরিয়ে দিলেন কৃষকের জমি। এত বছর ধরে যাঁরা ক্ষতিপূরণ নেননি, তাঁদের হাতে তুলে দিলেন চেক।

সম্পূর্ণ হয় বৃত্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে লেখা হয় কৃষক বিদ্রোহের নতুন গল্প। একটা আন্দোলনের নাম হয়ে গেল সিঙ্গুর। আর এবার সেই সিঙ্গুর আন্দোলনের এক যুগ পূর্তীতে রাজ্যবাসীর মনে সেই স্মৃতি গেঁথে দিতে মমতা তৈরি করবেন শহীদ মিনার। চিরস্থায়ী হবে এক যুগের ইতিহাস।

]]>
জনগণকে ‘গাধা’ বানিয়ে ‘শিক্ষাগুরু নেহেরু’র যোগ্য ছাত্র সব রাজনীতিবিদ https://thenewsbangla.com/making-the-people-donkey-all-the-politicians-of-india-qualified-students-of-education-guru-nehru/ Tue, 04 Dec 2018 05:14:44 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3472 The News বাংলা, কলকাতা: মুখে নেহেরু পরিবারের তুমুল সমালোচনা, কিন্তু কাজে সবাই সেই পরিবারতন্ত্রেরই অন্ধ সমর্থক। এই বিষয়ে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দলের ‘শিক্ষাগুরু’ সেই জওহরলাল নেহেরু। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। নেহেরু পরিবারকে সমালোচনা অথচ ভারতে সবাই সেই পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

পুরসভা থেকে রাজ্য হয়ে দেশ। নেহেরু পরিবারের মতই সবাই চায় পরিবারতন্ত্র। মুখে কিন্তু নেহেরু পরিবারের তুমুল সমালোচনা। কারণ নেহেরু পরিবার ভারতে পরিবারতন্ত্রের সূচনা করেছে। জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী বংশপরম্পরায় কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্র চলেছে।

আরও পড়ুনঃ পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার পরেও লোকসভা ভোটে কম কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায়
আরও পড়ুনঃ মোবাইলেই রাজনাথ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল কথা কাটাকাটি

সেই পরিবারতন্ত্র এখনও চলছে। আর তার তুমুল সমালোচনা করে এসেছে কংগ্রেস বিরোধী সব রাজনৈতিক দল। কংগ্রেসকে ‘নেহেরু-গান্ধী পরিবারের লিমিটেড কোম্পানী’ বলেছেন মোদী-অমিত শাহ। কিন্তু মুখে কংগ্রেস পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বললেও কাজে সেই জওহরলাল নেহেরুকেই অন্ধ অনুসরণ করছে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দল।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

তেলেঙ্গানা নির্বাচন নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। বিজেপির অবস্থা দেখুন। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও-র মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়। তাঁর প্রায় সব আত্মীয়ই বিভিন্ন পদের মাথায়। চন্দ্রশেখরের ছেলে কে রামা রাও রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। রিগেশন, মার্কেটিং এবং লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী টি হরিশ রাও চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভাইপো। শুধু ছেলে ভাইপোই নন। মেয়ে কবিতাও সাংসদ। এছাড়াও আরও অনেক আত্মীয়কে বিভিন্ন পদের মাথায় বসিয়ে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের পরিবারতন্ত্রের সুযোগ্য বাহক তিনি।

আরও পড়ুনঃ মমতার স্বরাষ্ট্র সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের এক রোহিঙ্গার
আরও পড়ুনঃ নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও

মধ্যপ্রদেশের দিকে তাকান। একসময় মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশে যার বিরুদ্ধে ডাম্পার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিল কংগ্রেস, সেই সঞ্জয় সিং মাসানিকে এবার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দিলেন রাহুল গান্ধী। সবচেয়ে বড় কথা, সঞ্জয় সিং মাসানি আর কেউ নন, খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের শ্যালক।

এখানেও কংগ্রেসকে টেক্কা দিচ্ছে বিজেপি। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র পুত্র আকাশকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। অটলবিহারী বাজপেয়ির ভাইপো অনুপ মিশ্রকেও এবার মধ্যপ্রদেশে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল গৌড়ের পুত্রবধূ কৃষ্ণাও এবার বিজেপি প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলে চর্চা, যে বিজেপি পরিবারতন্ত্র নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে সেই বিজেপিই মধ্যপ্রদেশে একই কাজ করছে!

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

তবে নেহেরু গান্ধী পরিবারতন্ত্রকেও টেক্কা দিয়েছেন বর্তমানের ‘নেতাজী’ মুলায়ম সিংহ যাদব। যাদব পরিবারের কর্তা প্রথম থেকেই সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি। সেই পদ এখন গিয়েছে ছেলের দখলে। মুলায়ম নিজে দুদফায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকেছেন। এখন আজমগড়ের সাংসদ। বড় ছেলে অখিলেশ যাদব ২০০০ সালে কনৌজ থেকে প্রথমবার সাংসদ। এখন দলের জাতীয় সভাপতি ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

বড় বউমা ডিম্পল যাদব সাংসদ। ছোট ছেলে প্রতীক যাদব এর স্ত্রী অপর্ণা যাদবও বিধায়ক। বড় ভাই শিবপাল যাদব, একসময় রাজ্যের ডি-ফ্যাক্টো মুখ্যমন্ত্রী, সেচ এবং পুর্ত দফতরের মন্ত্রী থেকেছেন। মুলায়ম ও শিবপালের সব আত্মীয় স্বজনই এমএলএ বা এমপি হয়ে পরিবারতন্ত্রের ফসল।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

বিহারে লালুপ্রাসাদ যাদবের পরিবারতন্ত্রের কথা কে না জানে। স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কমেডি বলেই মনে করা হয়। ছেলে, শ্যালক, মেয়ে মিশা ভারতী ছাড়াও আরও অনেক আত্মীয় এমএলএ বা এমপি বা উচুঁ পদে। লালুর পরিবার নেহেরু-গান্ধী পরিবারের যোগ্য অনুসরণকারী।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুফতি মহম্মদ সাঈদ-মেহবুবা মুফতি। ফারুক আবদুল্লা-ওমর আব্দুল্লা। মহারাষ্ট্রে বাল থাকারে-উদ্ধব থাকারে-আদিত্য থাকারে, প্রণব মুখোপাধ্যায়-অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। মানেকা-সঞ্জয় গান্ধীর ছেলে বরুণ গান্ধী। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা, রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, প্রমোদ মহাজনের মেয়ে। কাকে ছেড়ে কার কথা শুনবেন!! প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম-পুত্র কার্তি পি চিদাম্বরম। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা-ছেলে জয়ন্ত সিনহা। রাজ্যসভার সাংসদ মুরলী দেওয়ারা-ছেলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মিলিন্দ দেওয়ারা।

আরও পড়ুনঃ বিরোধীদের অভিযোগ ও মমতা প্রশাসনের রিপোর্ট নিতে বাংলায় নির্বাচন কমিশন
আরও পড়ুনঃ মোবাইলেই রাজনাথ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল কথা কাটাকাটি

এনসিপি প্রধান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শরদ পাওয়ার-মেয়ে সুপ্রিয়া পাওয়ার। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়া-ছেলে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। প্রয়াত নেতা রাজেশ পাইলট-ছেলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সচিন পাইলট। প্রয়াত জিতেন্দ্র প্রসাদ-ছেলে জিনিত প্রসাদ। প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা অভিনেতা সুনীল দত্ত-মেয়ে প্রিয়া দত্ত। প্রমোদ মহাজন-মেয়ে পুনম মহাজন। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সাহিব সিং বর্মা- ছেলে প্রবেশ। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং হুড্ডা-পুত্র দীপেন্দ্র। অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-ছেলে গৌরব। শীলা দীক্ষিত-ছেলে সন্দীপ।

আরও পড়ুনঃ নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও
আরও পড়ুনঃ জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা দিয়ে ৬০ বছর পরেও একঘরে ‘নেহেরুর বউ’

ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন কুমার- ছেলে অভিষেক। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং-ছেলে রাজবীর। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল- ছেলে কুলদীপ। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌতলা-ছেলে দুষ্মন্ত চৌতলা। রামবিলাস পাশোয়ান-ছেলে চিরাগ। কর্ণাটকে জনতা দল(সেকুলার) প্রধান এইচ ডি দেবগৌড়া-তাঁর ছেলে এইচ ডি কুমারস্বামী এখন কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কর্ণাটকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস বাঙ্গারাপ্পা-মেয়ে গীতা শিবরাজকুমার। উত্তরপ্রদেশে রাষ্ট্রীয় লোকদল প্রধান অজিত সিং-ছেলে জয়ন্ত চৌধুরি।

তামিলনাড়ুর করুণানিধি ও তাঁর পরিবার পরিবারতন্ত্রে কোন অংশে নেহেরু-গান্ধি পরিবারের চেয়ে কম নয়। ওড়িশায় বিজু পট্টনায়েক পরিবার, পাঞ্জাবে অমরিন্দার সিং পরিবার, উত্তরপ্রদেশে মায়াবতীর ভাই-ভাইপো, উদাহরণ আরও আছে, আরও অনেক। ভারতে পরিবারতন্ত্রের এই গল্প শেষ হবার নয়। পরিবারতন্ত্রের ঘটনা লিখতে শুরু করলে তা মহাভারত হয়ে যাবে। গোটা ভারতে সব রাজনৈতিক দলেরই একই হাল। জনগণকে গাধা বানিয়ে রেখে চলছে সেই পরিবারতন্ত্রেরই পুনরাবৃত্তি।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

বাংলার দিকে তাকালে সেখানেও সেই এক ইতিহাস। গানিখান চৌধুরী পরিবার যদি বাংলায় পরিবারতন্ত্রের শিক্ষক হয় তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই শিক্ষায় শিক্ষিত। পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবার থেকে ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়-শুভ্রাংসু, মানস ভুঁইয়া-তাঁর স্ত্রী গীতা রানী ভুঁইয়া, সবই তো মমতার হাত ধরে।

এমনকি বিধানসভা লোকসভা আসনগুলোর পর কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর পদগুলোকেও এবার কুক্ষিগত করে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। যেদিকেই তাকাবেন সেই পরিবারতন্ত্র। সে অরূপ-স্বরূপ-জুঁই বিশ্বাস বলুন বা একদম হালে ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ানো মেয়র পারিষদ তারক সিং এর ছেলে অমিত সিং। ইতিহাস সেই এক। পরিবারতন্ত্র। কংগ্রেসের প্রিয়রঞ্জন-দীপা দাশমুন্সী বা বামেদের ক্ষেত্রে লক্ষণ শেঠ- তমালিকা পণ্ড শেঠ সেই পরিবারতন্ত্রেরই উদাহরণ।

আরও পড়ুনঃ আম দরবারে প্রকাশ্যে মহিলার ওড়না ধরে টান কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর
আরও পড়ুনঃ মাঠ দিল না রাজ্য, মোদীর সভা ও হেলিকপ্টারের জন্য ফসল ত্যাগ শিক্ষকের

এটাই সত্য যে, মঞ্চে উঠে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের পরিবারতন্ত্রের কথা বললেও প্রায় সব রাজনৈতিক দলই জওহরলাল নেহেরুর দেখানো পথেই হাঁটতে পছন্দ করে। আর সেই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই নেতাদেরই ভাষণ শুনে আমরা হাততালিও দি। সেই হাততালিটা যে আমাদের বোকামোর জন্যই, সেটাই এখনও বুঝতে পারি নি আমরা। শিরদাঁড়াহীন ভারতবাসী, ‘রাম-দুর্গা-গরু-পাকিস্তান’ নিয়ে বোকার মত ব্যস্ত থাকা ভারতবাসী আদৌ কি কোনদিন সেটা বুঝতে পারব?!

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
একদিকে মোদীর সমালোচনা অন্যদিকে অনুসরণ, মমতার ‘নিজশ্রী’ https://thenewsbangla.com/mamtas-nijoshree-is-again-a-counter-project-of-the-modi-government/ Sun, 02 Dec 2018 12:22:38 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3454 The News বাংলা, কলকাতা: ‘কন্যাশ্রী’, ‘যুবশ্রী’, ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন প্রকল্প নিয়ে এসেছেন, ‘নিজশ্ৰী’। কিন্তু জানেন কি এই ‘নিজশ্ৰী’ কি? এটাও কি মোদী সরকারের কোন প্রকল্পের পাল্টা?

‘কন্যাশ্রী’, ‘যুবশ্রী’, ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পের পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন প্রকল্প,’নিজশ্ৰী’। এইসব প্রকল্পের মাধ্যমেই তিনি ভোটে ‘ফল’ পেয়ে এসেছেন। রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই ‘নিজশ্ৰী’ প্রকল্পের কথা বলেছেন তিনি। এতে বলা হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিজস্ব বাসস্থান এর ব্যবস্থা।

মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা
মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা

এই প্রকল্প অনুযায়ী সরকারি জমিগুলিতে ফ্ল্যাট তৈরী করে হবে। ওয়ান বেডরুম ফ্ল্যাট এর কার্পেট এরিয়া থাকবে ৩৭৮ বর্গফুট। দুই বেডরুমে থাকবে ৫৫৯ বর্গফুট। ১ বিএইচকে ফ্ল্যাট এর দাম ৭ লক্ষ ২৮ হাজার এবং ২ বিএইচকে ফ্ল্যাটের দাম ৯ লক্ষ ২৬ হাজার রাখা হবে।

আরও পড়ুনঃ Exclusive: ভারতবাসীকে ‘জ্ঞান’ দেওয়া প্রিয়াঙ্কা নিজে কি করলেন

কলকাতা পুরসভা, নগরোন্নয়ন দফতর, জেলাভিত্তিক বিভিন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েত বা উন্নয়ন পর্ষদগুলির ওপর দায়িত্ব থাকবে ফ্ল্যাট তৈরির। এক একটি ফ্লাট বাড়ি হবে ৫ তলার।

মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা
মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা

নিম্ন এবং মধ্যবিত্তদের জন্য মমতার এই প্রকল্পে কে কে আবেদন করতে পারবেন? জনানো হয়েছে যে, সমস্ত পরিবারের মাসিক উপার্জন ১৫০০০ থেকে শুরু করে ৩০০০০ পর্যন্ত, সেই সব পরিবারই আবেদন করতে পারবেন। ফ্ল্যাটের মালিকানা থাকবে এই সব মানুষের হাতেই। দলিলও দেওয়া হবে উপভোক্তাদের নামেই।

আরও পড়ুন: টানা জেরায় রহস্য ফাঁস, মোবাইল তার জড়িয়ে স্বামীকে হত্যা স্ত্রীর

তবে স্বজনপোষণ করে যাতে ফ্ল্যাট বিক্রি না হয়, তাও লক্ষ্য রাখা হবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীঘ্রই এই প্রকল্পের জন্য আলাদা সরকারী ওয়েবসাইট তৈরী শুরু হবে।

অনলাইন এ আবেদন করতে হবে, আবেদনকরীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ফ্ল্যাট বন্টন হবে। একবার লটারিতে ফ্ল্যাট না পেলে আবার আবেদন করতে পারবেন। তবে একটি পরিবার একাধিক ফ্ল্যাট পাবেন না।

মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা
মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা

এদিকে ইতিমধ্যে ২০২২ সালকে টার্গেটে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষনা করেছেন এইরকমই একটি প্রকল্প। নাম দেওয়া হয়েছে, ‘হাউসিং ফর অল’। এই ‘হাউসিং ফর অল’, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় গরীবদের জন্য প্রাথমিক পর্বে শহরে ৫৪ লাখ ও গ্রামে ১ কোটি ফ্লাট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও, ২০১৯ এর লোকসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে ভোট টানতেই তাড়াহুড়ো করে এই ঘোষণা বলে সমালোচনা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: Exclusive: বাংলা সংস্কৃতির ‘ব্যান্ড’ বাজাল অনুব্রতর চ্যালারা

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা(PMAY), অটল মিশন ফর রিজুভেনেসন অফ আরবান ট্রান্সফরমেশন(AMRUT) এবং স্মার্ট সিটি মিশন(SCM) এর মাধ্যমে এই প্রকল্প পুরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী।

মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা
মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা

আর মোদীর এই ‘হাউসিং ফর অল’ প্রকল্পেরই পাল্টা মমতার ‘নিজশ্রী’। ঠিক যেমন মোদীর ‘স্বচ্ছ ভারত’ মিশনের কথা মাথায় রেখে বাঙলায় ‘নির্মল বাঙলা’ প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা। ঠিক তেমনই এবার গরিব মানুষদের কম টাকায় ফ্লাট দেবার মোদী-মমতা লড়াই।

আরও পড়ুন: কৃষক র‍্যালিকে ঢাল করেই মোদী বিরোধী মঞ্চ গঠনের মরিয়া চেষ্টা বিরোধীদের

অর্থৎ, একথা স্পষ্ট যে মোদীকে সবদিক থেকে টেক্কা দিতে পিছপা হবেন না মমতা। ইতিমধ্যেই, পরবর্তী লোকসভা ভোটের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে মমতার দল। উঠে পড়ে লেগেছে গেরুয়া পার্টিও।

মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা
মোদী বনাম মমতা/The News বাংলা

২০১৯ সালের শুরুতেই লোকসভা ভোট হতে পারে, সেই ভেবেই এই প্রকল্পের ঘোষনা করেছেন মমতা, বলেই অভিযোগ রাজ্যের বিরোধী দলগুলির। ঠিক একই অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে দিল্লিতে কংগ্রেস সহ অন্যান্যদের। সেই সমালোচনায় আছে বাংলার তৃণমূল কংগ্রেসও।

আপাততঃ নিজের ফ্ল্যাটের আশায় ভারত ও বাংলার গরিব মানুষ। একদিকে সমালোচনা অন্যদিকে পাল্টা দেবার অনুসরণ, মোদী মমতার লড়াইয়ে সুফল যদি ভারতের আমজনতা পায়, সেটাই হবে দেশের পক্ষে সবচেয়ে ভালো খবর।

]]>
‘বেআইনি মদের টাকা যায় মমতার ভাইপো অভিষেকের বাড়িতে’ কৈলাশ বিজয়বর্গীয় https://thenewsbangla.com/illegal-liquor-money-goes-to-mamtas-nephews-home-kailash-vijayvargiya/ Fri, 30 Nov 2018 16:52:24 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3362 The News বাংলা, শান্তিপুর: শান্তিপুর বিষমদ কাণ্ডে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিষমদ খেয়ে ১২ জনের মৃত্যুর পর বিরোধীদের নিশানায় রাজ্য প্রশাসন। তবে এবার দোষারোপ ও পাল্টা-দোষারোপের পালায় জুড়ে গেল ব্যক্তিগত আক্রমণও। ‘বেআইনি মদ বিক্রির টাকা যায় মমতার ভাইপো অভিষেকের পকেটে’, শান্তিপুরে মারাত্মক অভিযোগ বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র।

শুক্রবার শান্তিপুরে গিয়ে মৃতদের পরিবার পিছু দুলক্ষ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলার তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। এ দিন তাঁরা শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের সঙ্গে দেখা করেন। তবে বিজেপির প্রতিনিধি দলকে আটকে দেওয়া হয় শহরে ঢোকার মুখেই।

আরও পড়ুনঃ মমতার নির্দেশকে বুড়ো আঙুল, সিন্ডিকেট জুলুমে রাজ্য ছাড়ছেন শিল্পপতি

বিজেপি নেতা মুকুল রায় এবং কৈলাশ বিজয়বর্গীয়-সহ বিজেপি প্রতিনিধি দল যখন শহরে ঢুকতে যায়, তখন একদল মানুষ তাঁদের উদ্দেশ্যে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাদের কারো কারো হাতে ছিল কালো পতাকা। এ ব্যাপারে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেন, তাঁদের এলাকায় ঢুকতে না-দেওয়ার জন্যই তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পনা মাফিক এই কর্মসূচি নিয়েছে।

আরও পড়ুন: রথযাত্রা উপলক্ষে বাংলায় মোদীর জনসভায় লোকসভার দামামা

এ দিন ঘটনাস্থলে গো ব্যাক স্লোগান ওঠার পর সেখানে দাঁড়িয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কৈলাশ। তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘সরকারি মদ বিক্রির টাকা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। আর বেআইনি মদ বিক্রির টাকা যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে। এই মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে তাঁদেরই’।

কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র মারাত্মক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে/The News বাংলা
কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র মারাত্মক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে/The News বাংলা

আর এইভাবেই শান্তিপুর বিষ মদ কাণ্ডে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। পাশে দাঁড়িয়ে মাথা দুলিয়ে অভিযোগ সমর্থন করেন মুকুল রায়।

আরও পড়ুন: পাপ ঢাকতে শিশু বলিদান, জন্মেই অনাথ শিশুরা অসহায়

বিজেপির এরাজ্যের অন্যতম পর্যবেক্ষক বলেন,কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘রাজ্যে যে অবৈধ মদের ব্যবসা চলছে তাকে সুরক্ষা দিচ্ছেন অভিষেক ব্যানার্জি। এই রাজ্যে দুটি সরকার চলছে। মমতা ব্যানার্জির সরকার এবং অভিষেক ব্যানার্জির সরকার। মমতা ব্যানার্জির সরকার বৈধ মদের সরকার চালাচ্ছে এবং অভিষেক ব্যানার্জি অবৈধ মদের সরকার চালাচ্ছে। অবৈধ মদের বিক্রির সমস্ত টাকা অভিষেক ব্যানার্জির বাড়িতে সরাসরি যাচ্ছে। এই মৃত্যুর জন্য মমতার ভাইপো অভিষেক দায়ি। এরাজ্যে যে সব অবৈধ কাজকর্ম হচ্ছে, তার জন্য দায়ি অভিষেক’।

কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র মারাত্মক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে/The News বাংলা
কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র মারাত্মক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে/The News বাংলা

বিহার-ঝাড়খণ্ড থেকে মদ আসার ব্যাপারে কৈলাস বলেন, ‘এটি সরকারের ব্যর্থতা। সরকার কাউকে ধরতে পারছে না। সরকারের আধিকারিকরা কি চুড়ি পরে বসে আছেন? তাদের ইস্তফা দেওয়া উচিত’। শান্তিপুরে আসার আগে চারবার আটকানো হয় তাঁকে। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে গণতন্ত্র নেই’।

তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিজেপি নেতাকে ‘বর্গী নেতা’ বলে কটাক্ষ করেন। পার্থবাবু বলেন, ‘মমতার উন্নয়নের কোন জবাব নেই বিজেপির কাছে, তাই ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমেছে তারা’। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, কৈলাশ এর এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা করতে চলেছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়।

]]>
মমতার নির্দেশকে বুড়ো আঙুল, সিন্ডিকেট জুলুমে রাজ্য ছাড়ছেন শিল্পপতি https://thenewsbangla.com/mamta-assurance-fail-industrialist-leaving-bengal-for-sindicate-harassment/ Fri, 30 Nov 2018 14:32:11 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3347 The News বাংলা, শিলিগুড়িঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পরও শিলিগুড়িতে বহাল তবিয়তে চলছে তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ। ছোট থেকে বড় কিংবা মাঝারি প্রতিটি শিল্পের ক্ষেত্রেই এই সিন্ডিকেট রাজের দাদাগিরিতে ময়দান ছেড়ে পালাচ্ছে শিল্পপতিরা। তারপরেও শীতঘুমে রাজ্য প্রশাসন। শিল্প করতে এসে সিন্ডিকেটের বাধা পেয়ে এবার শিলিগুড়ির ফুড পার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছেন শিল্পপতি কমল মুন্দ্রা।

আরও পড়ুনঃ অনুপ্রবেশকারীদের সরকারী সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে বাংলায় এনআরসি-র দাবি

একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে শিল্প টানতে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর দলেরই রাঘব বোয়ালদের সিন্ডিকেট রাজ বাধ সাধছে শিল্প করতে। আর উত্তরবঙ্গে শিল্প করতে এসে প্রথমিক পর্যায়েই বাধার মুখে পড়ে হতাশ শিল্পপতিরা। অভিযোগ, উত্তরবঙ্গে শিল্প আসতে শুরু হতেই শাসক দলের ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেট রাজ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করেছে। ফলে ময়দান ছেড়ে পালাচ্ছে শিল্পমহল।

আরও পড়ুন: রথযাত্রা উপলক্ষে বাংলায় মোদীর জনসভায় লোকসভার দামামা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায় শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির উদ্যোগে, ফাঁসিদেওয়া ব্লকের লিউসিপাকুরিতে শিলিগুড়ি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফুড পার্ক গড়ে উঠতে চলেছে। এখানে প্রায় ২৫ টি শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে বিস্ক ফার্ম, গনেশ আটা ও ইভা এক্সোটিকার মত কারখানা গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: পাপ ঢাকতে শিশু বলিদান, জন্মেই অনাথ শিশুরা অসহায়

আরও অনেক শিল্পপতি এখানে তাদের কারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। কিন্তু মহানন্দা ফুড প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে ২৫ কোটি টাকা খরচ করে মিল্ক প্রডাক্ট ও ফ্রুট জুসের কারখানা তৈরী করতে এসে সিন্ডিকেটের রাজের দাপটে নাজেহাল শিল্পপতি কমল মুন্দ্রা।

অভিযোগ, এই ফুড পার্কে বেআইনিভাবে একটি অফিস খোলা হয়েছে। তার নাম রোহামু মহম্মদ বক্স ফুড পার্ক মেটেরিয়াল্স সাপ্লায়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান। তাদের রিজিস্ট্রেশান নাম্বারও রয়েছে।

আরও পড়ুন: সাংসদ আলুওয়ালিয়াকে পাহাড়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ বিনয় তামাংয়ের

অভিযোগ, কারখানা গড়ে তোলার জন্য তাদের সংগঠন থেকেই যাবতীয় মালপত্র থেকে শুরু করে শ্রমিক নিতে বাধ্য করতে চাইছে এই রোহামু মহম্মদ বক্স ফুড পার্ক মেটেরিয়াল্স সাপ্লায়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান। শুধু তাই নয় বাজার মুল্য থেকে ৪০ শতাংশ বেশী মুল্যে তারা তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

Siliguri Sindicate Raj/The News বাংলা
Siliguri Sindicate Raj/The News বাংলা

নিরূপায় হয়ে শিল্পপতি কমল মুন্দ্রা, নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস অ্যাসোসিয়েশনের দারস্থ হন। সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সুরজিৎ পাল জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তারা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকজনের সাথে বসে আলোচনা করেন। তারা পার্কের মেটেরিয়াল্স সাপ্লায়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশানকে মালপত্রের দামের কোটেশান জমা দিতে বলেন ও নিয়ম অনুযায়ী যারা কম দামে মাল দেবে তাদের থেকে মালপত্র নেবে বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: ‘সফল’ কৃষক মিছিলে শুরু ব্রিগেড ও লোকসভার প্রস্তুতি

কিন্তু ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশান তা মানতে নারাজ। অভিযোগ, বাজারের থেকে বেশি মুল্য হলেও তাদের কাছ থেকেই মালপত্র থেকে শুরু করে শ্রমিক সবটাই নিতে হবে বলে তারা হুমকি দেয়। তা না হলে কারখানা গড়তে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দিয়েছে তারা। সুরজিৎবাবু আরও জানান, গতকাল তারা বাধা দিতে এলে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ এসে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: পার্লামেন্টে বাচ্চাকে মায়ের দুধ খাওয়ান যায় শপিং মলে নিষেধাজ্ঞা

পরে তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়৷ এরপরও সেখানে বাইরে থেকে মালপত্র গেলে আটকে দেওয়া হয় ও লরির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমনকি তাদের প্রাণে মেরে ফোলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল সংগঠনের পক্ষ থেকে এসজেডিওর সিইওর সাথে দেখা করে কথা বললে সিইও বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

আরও পড়ুন: কোর্স করলেই চাকরি! ভুয়ো বিজ্ঞাপনের আড়ালে প্রতারনার ফাঁদ

সংগঠনের পক্ষ থেকে এসজেডিএর সিইও এবং চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী, পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব, রাজ্য সরকারের এমএসএমই দপ্তরের মুখ্যসচিব সহ ডিরেক্টরকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়। তিনি জানান, আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি সমস্যার সমাধান করা না হয় তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন: অসুস্থ শিল্পীকে ‘বঙ্গরত্ন’ দেওয়ার দাবী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ ছাত্রছাত্রীরা

নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সুরজিৎ পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে শিল্প গড়ে তোলার ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহি। কিন্তু এভাবে সিন্ডিকেট রাজ চললে শিল্প গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। এরপর, ফুডপার্কে অবস্থান বিক্ষোভ থেকে শুরু করে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

শিল্পপতি কমল মুন্দ্রা বলেন, ‘আমি বিহার, বহরমপুর, ত্রিপুরাতেও কারখানা গড়ে তুলেছি। কিন্তু কোথাও এমন বাধার মুখে পড়তে হয় নি। এরকম চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ফুডপার্কে কারখানা গড়ে তুলব না। এখানেই কাজ বন্ধ করে দেব’।

এ বিষয়ে ফাঁসিদেওয়ার ব্লক সভাপতি আইনুল হক জানান, এখানে কোনো সিন্ডিকেট রাজ চলছে, না যারা কম দামে মালপত্র দেবে তাদের থেকেই মাল নেওয়া হবে। কিন্তু তাতে সিন্ডিকেট রাজ এর বিরুদ্ধে মুখ খোলা থামাচ্ছেন না শিল্পপতিরা।

]]>