Mamata – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 22 Jun 2019 14:12:47 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Mamata – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 খেয়েছেন যারা কাটমানি, দাদারা অথবা দিদিমণি, কাটমানি নিয়ে মমতাকেই আক্রমণ নচিকেতার https://thenewsbangla.com/nachiketa-attacks-mamata-banerjee-tmc-with-cut-money-issue-in-song/ Sat, 22 Jun 2019 13:44:07 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=14294 খেয়েছেন যারা কাটমানি, দাদারা অথবা দিদিমণি; এবার কাটমানি নিয়ে নিজের গানে মমতাকেই আক্রমণ নচিকেতার। ফিরে এলেন নচিকেতা; হ্যাঁ এমনই বলছেন নচিকেতা ভক্তরা। বাম আমলে সেই বিদ্রোহী; স্টেজ কাঁপানো গায়ক আবার স্বমহিমায় ফিরছেন বলেই দাবী করেছেন নচিকেতা ফ্যানরা।

ডাক্তার থেকে রাজনীতিবিদ; কেউই ছাড়া পাননি নচিকেতার গানের আক্রমণ থেকে। তবে তৃণমূল আমলে তাঁর গানের সেই ঘাত আর পাননি শ্রোতারা। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের সময় থেকেই; একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তাঁকে দেখা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিল্পী হিসাবে; তাঁর নতুন পরিচয় তৈরি হয়েছিল। সেই নচিকেতাই এবার হানা দিলেন তৃণমূলের শিবিরে।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের হাত থেকে এবার বাংলায় জেলাপরিষদ ছিনিয়ে নিতে চলেছে বিজেপি

নচিকেতা এবার গান বাঁধলেন; এইসময়ের সবচেয়ে বড় ইস্যু ‘কাটমানি’ নিয়ে। তৃণমূলকে ঠুকে নচিকেতা ফের বিদ্রোহী মেজাজে গাইলেন; “মন্ত্রী অথবা আমলা/জনরোষ এবার সামলা/তুলবে চামড়া অসাধু দামড়া/বাতাসে বাজছে রুদ্রবীণ-আসছে দিন”। নচিকেতার এই গান-বোমা এখন বিরোধী শিবিরের অস্ত্র হয়ে উঠেছে। মমতার কাটমানি মন্তব্য এখন; নচিকেতার ব্যঙ্গাত্মক গান হয়ে সব বাঙালির মোবাইলে।

https://www.facebook.com/thenewsbangla.official/videos/309532546598186/

কিন্তু হঠাৎ তৃণমূলের বিরুদ্ধাচারন কেন? নচিকেতার ভক্তরা বলছেন; নচিদার বিদ্রোহী মনোভাব আবার ফিরে এসেছে। অনেকেই বলছেন; সাধারণ মানুষ যে ভাবে তৃণমূলপন্থি বুদ্ধিজীবীদের নিচু ও ব্যাঙ্গাতক নজরে দেখছে এখন; সেখান থেকে সরতেই নচিকেতার; এই সম্পূর্ণ ভোলবদল করে পুরনো বিদ্রোহী রূপে ফিরে আসা।

আরও পড়ুনঃ উষসী সেনগুপ্ত হেনস্থা মামলায় জামিনে মুক্ত রাতের দুষ্কৃতীরা

ইতিমধ্যে বাবুল সুপ্রিয় ধন্যবাদ জানিয়েছেন নচিকেতাকে। বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী টুইটারে লিখেছেন,”মানুষের মনের কথা গানের মাধ্যমে সঠিক মাত্রার স্যাটায়ার এর তড়কা লাগিয়ে; সকলের সামনে নিয়ে আসার জন্য নচিকেতা-দাকে আমার অশেষ ধন্যবাদ”। এমনিতেই কাটমানি ইস্যু নিয়ে তৃণমূল শিবিরে অস্থিরতা চলছে। জমে থাকা বারুদে নচিকেতার এই গান; এবার আগুনে ঘি ঢালার কাজ করল; বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ইতিমধ্যেই গান ভাইরাল। বিরোধীদের তরফ থেকে এই গানকে শেয়ার করে; আরও ভাইরাল করা হচ্ছে। বাবুল সুপ্রিয়র ‘এই তৃণমূল আর না’; এই গানের পর নচিকেতার খেয়েছেন যারা কাটমানি/ দাদারা অথবা দিদিমণি; এখন রাজ্যে হিট। আর এইগুলোই ২০২১ এ পরিবর্তনের পরিবর্তন ঘটাবে; এমনটাই মনে করছে লোকসভায় বাংলায় ভালো ফল করা বিজেপি নেতারা।

]]>
বাংলায় চিকিৎসা সংকট, বৈঠকের জায়গা ঠিক করতে মমতাকেই দায়িত্ব ডাক্তারদের https://thenewsbangla.com/medical-crisis-in-bengal-junior-doctors-want-mamata-to-fix-meeting-place/ Sun, 16 Jun 2019 15:31:29 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=13929 বাংলায় চিকিৎসা সংকট; কোথায় বৈঠক করতে চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা? হ্যাঁ, বৈঠক ঠিক করার দায়িত্ব মমতাকেই দিলেন আন্দোলনরত জুনিয়ার ডাক্তাররা। রবিবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে; মিডিয়ার সামনে প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক চাইলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় রাজী আন্দোলনকারীরা। তবে নবান্নে নয়। প্রকাশ্যে হোক সেই আলোচনা; এমনটাই চাইছেন তাঁরা। কবে কোথায় আলোচনা হবে; সেই বিষয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী; জিবি শেষে একথাই জানালেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতার মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক আছে কিনা, পরীক্ষা করে দেখার জন্য জনস্বার্থ মামলা

পর পর দুদিন মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে; হাজির হননি আন্দোনকারী জুনিয়র ডাক্তাররা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়; নবান্নে কোনও আলোচনা হবে না। এনআরএসেই আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে৷ কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার সেখানে যেতে নারাজ।

আরও পড়ুনঃ কাজে যোগ দিতে কোন জুনিয়র ডাক্তাররা নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতার কাছে

মুখ্যমন্ত্রী গতকালই বলেছিলেন; প্রয়োজনে রাজ্যপাল ও রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন আন্দোলনকারীরা৷ এদিন আন্দোলনরত জুনিয়ার ডাক্তাররা জানান; তাঁরা কাজে যোগ দিতে চান। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও; বৈঠকে বসতে চান তাঁরা। তবে সেই আলোচনা হতে হবে, মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে; প্রকাশ্যে।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতার কাছে রিপোর্ট তলব করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

সেই জায়গা মুখ্যমন্ত্রীকেই ঠিক করতে হবে; বলে জানিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। জিবি বৈঠকে রাজভবন, এনআরএস এবং নিরপেক্ষ স্থানের কথাও উঠে আসে বলে জানা গিয়েছে। শনিবার রাতের পর ফের রবিবার সকালে এনআরএস-এর অডিটোরিয়ামে; জিবি বৈঠক বসে জুনিয়র ডাক্তারদের।

আরও পড়ুনঃ এবার এইমস ডাক্তারদের চাপ মমতাকে, অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের হুমকি

রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের; জুনিয়র চিকিৎসকরা ছিলেন এই বৈঠকে। শনিবারের মতো রবিবারেও জুনিয়র চিকিৎসকরা জানান; মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মানুষের মনে ভুল ধারনা তৈরি করেছেন। শনিবারে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি ছিল বিভ্রান্তিমূলক; বলেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।

আন্দোনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের জিবির সিদ্ধান্ত জানার জন্য; এনআরএসে ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা প্রদীপ মৈত্র। জুনিয়র ডাক্তাররা তাঁদের সিদ্ধান্ত তাঁকে জানিয়ে দেন। এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রী মমতা এরপর কি সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক কোথায় হয়; আন্দোলন ওঠে কিনা তার জন্য তাকিয়ে বাংলার আমজনতা।

]]>
মোদী কি করে প্রধানমন্ত্রী হল ভগবান জানে, মাথাভাঙায় বিস্ফোরক মমতা https://thenewsbangla.com/god-knows-how-modi-was-prime-minister-explosive-remarks-by-mamata/ Thu, 04 Apr 2019 09:49:38 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9921 বুধবার কোচবিহারের দিনহাটায় তৃণমূলের নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী তার কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। আজ, বৃহস্পতিবার, আবারও উত্তরবঙ্গের মাথাভাঙায় ভোট প্রচারে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তৃণমূল নেত্রী। নরেন্দ্র মোদীকে খোঁচা দিয়ে বললেন, “কি করে প্রধানমন্ত্রী হল ভগবান জানে!”

আরও পড়ুনঃ ভোটের মুখে তৃণমূল সভাপতির বাড়ি থেকে উদ্ধার অস্ত্র ও কোটি কোটি টাকা

“কুচবিহারের উন্নয়ন আমরা করেছি। আগে যেখানে কিছু ছিল না, এখন সেখানে অনেক কিছু তৈরি হয়েছে। ছিটমহলের সমাধানও মা মাটি মানুষের সরকার করেছে। কোন পার্টি যখন কিছু করেনি, তখন তৃণমূল কাজ করেছে।” প্রথমেই তৃণমূলের কর্মকাণ্ডের কথা দিয়ে সভা শুরু করেন নেত্রী।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় উন্নতিতে বাধা ‘স্পীডব্রেকার’ মমতা, কটাক্ষ মোদীর

তারপরই সরাসরি মোদীর কথা বলেন মমতা। “কথায় চিঁড়ে ভেজে না। মোদী শুধু কথায় বলে যায়। কেউ বলছে দেশের সব নাগরিক চৌকিদার। কেউ বলছে চৌকিদার চোর হে। কিন্তু আমি বলছি, চৌকিদার ‘চোর’ নয়, ‘ঝুঠা’ হে”, মোদী সরকারের অনন্য ভোট ক্যাম্পেনের স্লোগানকে খোঁচা মারেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ গাধা না ঘোড়া, দিনভর বিতর্কের পর জানা গেল খচ্চরের পিঠে ভোটপ্রার্থী

মোদী চাওয়ালা থেকে চৌকিদার হয়েছে, ‘ড্রামাবাজী’ করে। তিনি একসময় চাওয়ালা ছিলেন, তারপর হঠাত চৌকিদার হয়ে গেলেন। নিজের নামে সিনেমা করে ফেললেন, মনে হলে, তাই হঠাত করে নিজের নামে “নামো” টিভি করে ফেললেন। কাপড়জামাতেও নিজের ছবি দিয়ে বিক্রি করছেন মোদী। এর দ্বারা এটাই প্রমাণ হয় যে তিনি শুধু প্রচার চান। মাথাভাঙা জনসভা থেকে মোদী কে সরাসরি তোপ দেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্থানে বিমানবাহিনীর হামলা, বাংলায় কাঁদল দিদি

মোদীর সরকার আসার পর, ২ কোটি মানুষ বেকার হয়েছে। “চাবাগান বন্ধ হওয়ার পর আমরা যেমন সাহায্য করেছিলাম, তেমন বাংলায় বেকারত্ব কমিয়েছি আমরা। কারন, বাংলা যা পারে তা আর কেউ পারে না।” এমনটা আবারও দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী।

আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে গান্ধী ও বাংলায় বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারতন্ত্রকে ব্রিগেডে খোঁচা মোদীর

বুধবারও বাংলায় বেকারত্ব কমানোর সম্বন্ধে মমতা বলেন, তাঁর জমানায় বাংলায় চাকুরী হয়েছে ১ কোটি যুবক যুবতীর, পরিসংখ্যানও তুলে এমনই দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগাগোড়াই মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। নরেন্দ্র মোদী ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার আগে প্রতি বছর ২ কোটি কর্মসংস্থান করবেন বলে জানিয়ে ছিলেন। যদিও মোদীর ৫ বছর জমানার পর পরিসংখ্যান স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুনঃ চৌকিদারের ডান্ডা দেখে ভয় পেয়েছে কংগ্রেস, মন্তব্য বিবেকের

এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির কথা বললেও বিরোধীরা সেই হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জনসভায় লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি করেছেন। কিন্তু বিরোধীদের কটাক্ষ, বাংলায়সৃষ্টি সৃষ্ট সৃষ্টির চপ শিল্প, বোমা শিল্প ছাড়া আর কোনো শিল্প নেই। প্রতি বছর ঢাক বাজিয়ে শিল্পপতিদের নিয়ে সম্মেলন হয়, কিন্তু বাস্তবে শিল্প সৃষ্টির আসল চিত্র অনেকের কাছেই সন্দেহাতীত।

আরও পড়ুনঃ অ্যান্টি স্যাটেলাইট টেস্ট নিয়ে নাসার অভিযোগ উড়িয়ে দিল ভারত

মাত্র ১ সপ্তাহ আগেই এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকুরী প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রায় ১ মাস ধরে চলা অনশনের সমাপ্তি হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে চাকুরী প্রার্থীদের অনশন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল সারা বাংলার। কিন্তু অনশনকারীদের চাকুরীর আশ্বাস দেওয়া নিয়ে সরকারের তেমন হেলদোল দেখা যায়নি।

আরও পড়ুনঃ দুই বছর পর পাহাড়ে ফের প্রকাশ্যে বিমল গুরুং রোশন গিরি

আন্দোলনকারীদের প্রতি প্রথম থেকেই ছিল সরকারের উন্নাসিক মনোভাব। অনশনের ২৮ দিনের মাথায় মুখ্যমন্ত্রী চাকুরী প্রার্থীদের সাথে দেখা করে তাদের বিষয়টি ভেবে দেখার আশ্বাস দেন। যদিও নির্বাচনী আচরনবিধি লাগু হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী কোনও প্রতিশ্রুতি দেননি।

আরও পড়ুনঃ মমতার দাবি না মেনে জঙ্গলমহল থেকে ৩০ কোম্পানি বাহিনী তুলছে নির্বাচন কমিশন

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
পাকিস্থানে বিমানবাহিনীর হামলা, বাংলায় কাঁদল দিদি https://thenewsbangla.com/airstrike-on-pakisthan-mamata-didi-tears-in-bengal-said-modi-in-brigade/ Wed, 03 Apr 2019 11:23:00 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9863 পাকিস্থানে বিমানবাহিনীর হামলা, বাংলায় কাঁদল দিদি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে ঠিক এই ভাষাতেই পাকিস্তান দরদী বলে আক্রমণ করলেন।

প্রথমে শিলিগুড়ি জনসভায় মমতা ব্যানার্জীর উদ্দেশ্য মোদী বলেন, “পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার পরে সবথেকে বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জী। শুধু তাই নয় পাকিস্তানে সেনা হামলার প্রমান দাবি করে সারা পৃথিবীর কাছে ভারতকে ছোট করেছেন মমতা ব্যানার্জী”।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় উন্নতিতে বাধা ‘স্পীডব্রেকার’ মমতা, কটাক্ষ মোদীর

শিলিগুড়ির পরে কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে এসেও সেই একই ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডে দাঁড়িয়েও প্রধানমন্ত্রী বলেন “পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার প্রমান চেয়ে দিদি প্রমান করেছেন উনি কত পাকিস্তান দরদী”। পাকিস্তানে হামলা হল কাঁদলেন মমতা, এমনটাই দুটি সভা থেকেই অভিযোগ করলেন মোদী।

আরও পড়ুনঃ ব্রিগেড ছেয়ে গেল মোদীর ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ টুপিতে

উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়ি দিয়ে বাংলায় ভোট প্রচার শুরু করেন নরেন্দ্র মোদী। দুপুর দেড়টা নাগাদ শিলিগুড়ি জনসভায় এসে পৌঁছন তিনি। সভার একদম প্রথম দিকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে উন্নয়নের ‘স্পীডব্রেকার’ বলে কটাক্ষ করেন মোদী। রাজ্যের সব রকম উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তৃণমূল নেত্রী, এমনটাই বলেন মোদী। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষকে নিয়ে প্রতিনিয়ত রাজনীতি করছেন তৃণমূল। বাম কংগ্রেসও অবশ্য একই পথে হাঁটছে বলেই জানান মোদী।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যে ৩০ শতাংশেরও কম স্পর্শকাতর বুথ

শিলিগুড়ি ও ব্রিগেডে জনসভায় প্রথমেই বাংলায় মন্তব্য শুরু করে, সাধারন মানুষকে ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেসা করেন মোদী। বাংলায় কথা বলার পরই তাঁর ছোটবেলায় শোনা বাংলাকে নিয়ে এক প্রবাদের কথা উল্লখ করে বলেন,’বাংলা যা করে, সারা দেশ তা পরে করে’। তারপরই সরাসরি তীর ছোঁড়েন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। বুধবার শিলিগুড়িতে ও ব্রিগেডে মোদী বলেনঃ

১। দিদির নৌকা ডুবে গেছে পশ্চিমবাংলায়। শিলিগুড়ির এই জনসভা তারই প্রমাণ।
২। যেই গতিতে আমি সারা দেশে কাজ করেছি, সেই গতিতে আমি বাংলায় কাজ করতে পারিনি কারন বাংলায় একজন ‘স্পীড ব্রেকার’ আছে। তার নাম, মমতা বন্দোপাধ্যায়।
৩। পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী গরিব মানুষদের নিয়ে রাজনীতি করে। তাই, তিনি চাননা বাংলায় উন্নয়ন আসুক।

আরও পড়ুনঃ দরিদ্রদের উন্নয়নের জন্যই আমি অবিবাহিত থেকেছি, সুপ্রিম কোর্টে দাবি মায়াবতীর

৪। মহাকাশে ভারতীয় বিজ্ঞানিদের জয়জয়কার হওয়া সত্ত্বেও তাদের দিকে প্রশ্ন তুলেছে দেশের কিছু শত্রুর।
৫। গরিবদের টাকা নিয়ে চিটফান্ডের কেলেঙ্কারি করেছেন ‘দিদি’।
৬। গরিবদের চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা থাকলেও তা আটকে দিয়েছেন দিদি।

আরও পড়ুনঃ বছরে ৩৪ লাখ সরকারি চাকরি, কৃষক বাজেটের প্রতিশ্রুতি কংগ্রেস ম্যানিফেস্টোতে

৭। মমতার রাজনীতির ভীত নড়ে গেছে। ব্রিগেডের ভীর তারই প্রমাণ।
৮। কিছু বছর আগেও ‘মোদী হাটাও’, ‘মোদী হাটাও’ রব উঠেছিল। কেন? কি করেছি আমি? কোন পাপ করেছি আমি? যদি গরীব মানুষদের শৌচালয় বানিয়ে দেওয়া পাপ হয়, তবে আমি পাপ করেছি। যদি সবার বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া পাপ হয় তাহলে পাপ করেছি আমি, এবং এই পাপ করে আমি দারুন গর্ব বোধ করি।
৯। চা বাগানের দুরবস্থার কথা আমি জানি। তাদের জন্য অনেক কিছু করেছে বিজেপি। ভবিষ্যতে এই চা ওয়ালা চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য আরও করবে।

আরও পড়ুনঃ মোদী স্পেশাল, ব্রিগেডে আসার জন্য চারটে আস্ত ট্রেন বুক করল বিজেপি

১০। দেশের সেনা বালাকটের হামলার পর, দেশের সুরক্ষা করার জন্য বিরোধী দলের তরফ থেকে অনেক প্রশ্নের মুখে পড়েছিল দেশের সেনা। সেই বিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের লড়াই।
১১। আমরা জঙ্গিদের ঘরে ঢুকে মেরেছি। দেশের শত্রুদের এই ভাবেই শেষ করব আমরা।
১২। পাকিস্তানের জঙ্গি হামলার পর, আমরা তাদের জবাব দিয়েছিলাম। সেই জবাবে পাকিস্তানীদের থেকেও বেশি কষ্ট পেয়েছিলেন বাংলার ‘দিদি’।

আরও পড়ুনঃ ভোট প্রচারে হেলিকপ্টার পাচ্ছেন না মমতা, অভিযোগের তীর কেন্দ্রের দিকে

১৩। স্বামী বিবেকানন্দের স্বপ্নের ভারত আমরা এখন তৈরি করতে পারি। আমাদের দেশে কিছুর অভাব নেই, কিন্তু ৫৫সালের পরিবারতন্ত্র সব শেষ করে দিয়েছে।
১৪। বাংলাও আজ সেই পরিবারতন্ত্রের শিকার হচ্ছে। পিসি-ভাইপো মিলে রাজ্যটাকে শেষ করতে চলেছে।
১৫। বিজেপিকে এই ভাবে সমর্থন করলে, দেশে আরও উন্নতি হবে।

আরও পড়ুনঃ বারবার স্বামী বদল করেন স্মৃতি ইরানী, কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ কংগ্রেস জোটসঙ্গীর

১৬। সারা দেশে আমরা চৌকিদারের ভুমিকা পালন করলে, কোন শত্রুই আমদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
১৭। বাংলার মত এতো সুন্দর একটা রাজ্যে কোন ভাবেই পরিবারতন্ত্রের কারণে শেষ হয়ে যেতে পারে না।
১৮। জনসভা শেষ করার আগে, ‘মে ভি চৌকিদার’ স্লোগান বারবার বলে সভা শেষ করলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ পাহাড়ের ভোটে কি নামতে পারবেন বিমল রোশন জানাল আদালত

শিলিগুড়ি ও ব্রিগেডের জনসভায় পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দিকে সরাসরি আঙ্গুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর জবাবে কি বলবেন দিদি, তা জানার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে গোটা রাজ্য। কোচবিহারের দিনহাটায় তৃণমূল নেত্রীর আজকের জনসভায় তারই উত্তর দেবেন বলে জানিয়েছেন খোদ ‘দিদি’।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
ভোট প্রচারে হেলিকপ্টার পাচ্ছেন না মমতা, অভিযোগের তীর কেন্দ্রের দিকে https://thenewsbangla.com/no-helicopters-for-mamata-banerjee-in-election-campaign-allegation-against-modi-govt/ Tue, 02 Apr 2019 07:15:55 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9702 ভোটের প্রচারের জন্য কেন্দ্রের মোদী সরকারের চাপে হেলিকপ্টার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস। বহুবার বলেও দেশের বড় বড় কোন সংস্থাই নির্বাচন প্রচারের জন্য বাংলায় শাসকদল তৃণমূলকে হেলিকপ্টার ভাড়া দিতে রাজি হয়নি বলেই অভিযোগ। আর এর পিছনে নরেন্দ্র মোদী সরকার কলকাঠি নেড়েছে বলেই অভিযোগ মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের।

আরও পড়ুনঃ রমজানের রোজা পালন করে ভোটারদের পাশে থাকবেন, নির্বাচনী প্রচারে জানালেন মিমি

বাংলায় চলতি লোকসভা প্রচারের জন্য বেশ কয়েকমাস ধরেই হেলিকপ্টার ভাড়া নেবার চেষ্টা চলছে তৃণমূলের তরফ থেকে। মমতা ব্যানার্জী ও তাঁর দলের অন্যান্য নেতা-নেত্রী বা স্টার প্রার্থী ও অভিনেতা অভিনেত্রীরা যাতে কম সময় বেশি জায়গায় প্রচার চালাতে পারে তার জন্যই এই মুহূর্তে হেলিকপ্টার এর প্রয়োজন তৃণমূলের।

আরও পড়ুনঃ ভারতীর পর এবার মমতাকে নিজের মা বললেন মিমি

কিন্তু দলের বক্তব্য অনুযায়ী, কোন ‘অজানা’ কারণে তৃণমূলকে হেলিকপ্টার দিতে রাজি হয়নি কোন সংস্থাই। প্রসঙ্গত, নিয়মিত হেলিকপ্টার চালাতে হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি লাগে। তৃণমূলের অভিযোগ কেন্দ্রীয় সরকারের চাপেই সংস্থাগুলো বাংলায় তৃণমূলকে হেলিকপ্টার দিতে রাজি হচ্ছে না। এমনকি কয়েক মাস আগে দেওয়া অগ্রিম টাকাও ফিরিয়ে দিয়েছে সংস্থা গুলি। তবে কপ্টার সংস্থা গুলো এই নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হয় নি।

আরও পড়ুনঃ হুমকি দিয়ে ভোট চাইবার ভিডিও প্রকাশ্যে, মিমির হয়ে শাসানি পঞ্চায়েত প্রধানের

রবিবার অন্ধপ্রদেশে প্রচারের উদ্দেশ্য গেছিলেন মমতা ব্যানার্জী, সেখানে চন্দ্রবাবুর সাথে তাঁর কথা হয় কপ্টার নিয়ে। চন্দ্রবাবু তেলেগু দেশম এর প্রচারের জন্য একাধিক হেলিকপ্টার ভাড়া নিয়েছেন। যেগুলো বেশ আধুনিক। ১১ এপ্রিল অন্ধ্রপ্রদেশে নির্বাচন শেষ হচ্ছে। মমতা ব্যানার্জী অনুরোধ করেন তারপর ওই হেলিকপ্টার গুলো যেন বাংলায় তৃণমূল এর নির্বাচনী প্রচারের উদ্দেশ্যে পাওয়া যায়। মমতাকে আশ্বাস দিয়ে চন্দ্রবাবুও এ ব্যাপারে চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ জম্মু কাশ্মীরের জন্য আলাদা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী চাইলেন ওমর আবদুল্লা

নির্বাচন প্রচারের জন্য এই মুহূর্তে মাত্র চারটি হেলিকপ্টার ভাড়া পেয়েছে তৃণমূল। কিন্তু সেগুলো বেশ পুরোনো, তাদের গতিও যথেষ্ট কম। তাছাড়া এই হেলিকপ্টার গুলি আয়তনে এতই বড় যে প্রত্যন্ত এলাকায় সেগুলো নিয়ে ঘুরে প্রচার চালানো বেশ কষ্টকর। তাছাড়া এই কাপ্টার গুলোর নামার জন্য বেশ বড় হেলিপ্যাড প্রয়োজন, যা তৈরি করা বেশ অসুবিধাজনক।

আরও পড়ুনঃ বিবেক দুবেকে তৃণমূলের এজেন্ট বলে কটাক্ষ মুকুল রায়ের

২০১৯ নির্বাচনের আগে প্রচারের ২০০৭ সালে তৈরি ১৭ বছরের পুরনো এই হেলিকপ্টারই এখন প্রচারে ভরসা তৃণমূলের। যা সাধারণত তৃণমূলের তরফে ব্যবহার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ আদালত নাক গলাবে না, শুক্রবারেই রিলিজ হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর বায়োপিক

তবে কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। সব বিষয়েই সরকার বা দলকে অভিযোগের কেন্দ্রে আনা ঠিক নয় বলেই মন্তব্য বিজেপি নেতাদের। তাদের অভিযোগ, বাংলাতেও বিরোধীরা সরকারের চাপে বাস ভাড়া পর্যন্ত পায় না।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় ৭ পর্বের ভোটে ঝড় তুলতে ১০ দিন জনসভা করবেন মোদী

তবে এই নিয়ে ভোটের প্রচারে এখনও পর্যন্ত কোন ইস্যু করে নি তৃণমূল। তবে মমতার আগামী প্রচারসভাগুলোতে হেলিকপ্টার ইস্যু উঠতেই পারে, বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুনঃ দলের প্রার্থীকে জেতালেই পুরষ্কার সোনার গহনা, বিদেশ ভ্রমনের টিকিট

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
বিজেপি ১২৫ এর বেশি আসন পাবে না, চন্দ্রবাবুর সভায় হিসাব দিলেন মমতা https://thenewsbangla.com/bjp-can-not-get-above-125-seats-in-india-says-mamata/ Sun, 31 Mar 2019 15:36:55 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=9592 রীতিমত হিসাব কষে দেখিয়ে দিলেন যে নরেন্দ্র মোদী আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন না। আর অবধারিতভাবে রবিবার বিশাখাপত্তনমে এই হিসাব কষলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের দূর্ভাগ্য মোদী প্রধানমন্ত্রী, চন্দ্রবাবুর সভায় বললেন মমতা। ১২৫ এর বেশি আসন পাবে না বিজেপি, এদিন ঘোষণা মমতার।

আরও পড়ুনঃ আমেঠীর মানুষের প্রশ্নের জবাব এড়াতেই কেরালা থেকে লড়ছেন রাহুল, কটাক্ষ অমিতের

অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর বিশেষ আমন্ত্রণে আজ, রবিবার বিশাখাপত্তনমে গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেখানে হল বিরোধীদের সমাবেশ। ফারুক আবদুল্লা থেকে শুরু করে এইচ ডি দেবগৌড়া, অরবিন্দ কেজরিওয়াল–‌সহ জাতীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন ঘোষণার পর এটিই প্রথম বিজেপি–‌বিরোধী সমাবেশ। এই মঞ্চ থেকে এবার সরাসরি মোদী–‌বিদায়ের ডাক দেওয়া হল।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মমতা ও রাজনাথের স্বরাষ্ট্র দফতরের চরম সংঘাত

বিশাখাপত্তনমে এখন প্রচণ্ড গরম। তাই সভা শুরু হল সন্ধ্যা ৬ টার পর। রবিবার সকালেই রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি–বিরোধী মহাজোটে প্রথম থেকেই মমতার পাশে থেকেছেন নাইডু। ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের বিরোধী সমাবেশ ছাড়াও বেশ কয়েকবার কলকাতায় এসে তিনি মমতার সঙ্গে দেখা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ মোদীকে পুনরায় নির্বাচিত না করলে দেশ সংকটে পড়বে, মন্তব্য হেমা মালিনীর

জোট শক্তিশালী করা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার এবং সিবিআইয়ের সঙ্গে সংঘাতের সময় মমতার ধর্নাতেও এসেছিলেন নাইডু। তাঁর অনুরোধেই মমতা ধর্না তুলে নেন সেই সময়। আর এবার ভোট ঘোষণার পর এই প্রথম হল মহাজোটের সভা।

আরও পড়ুনঃ সেনার খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা তেজ বাহাদুর বারাণসীতে প্রার্থী মোদীর বিরুদ্ধে

এদিন মমতা অভিযোগ করেছেন, “সেনাবাহিনী নিয়ে বিজেপি রাজনীতি শুরু করেছে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। তাই ওরা যতই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করুক, তা সম্ভব না”। সম্প্রতি একটি হিসেব দিয়ে মমতা দেখিয়েছেন, রাজ্যওয়াড়ি হিসেবে বিজেপি–র জেতার কোনও আশাই নেই।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধির খবর আসবে ভারতী ঘোষের কাছে, ফের বাহিনী বিতর্ক

এদিনও সেই একই হিসাব দিলেন মমতা। দক্ষিণ থেকে বাংলায় ১৯১ টি আসন আছে। ২০১৪ প্রবল মোদী ঝড়েও এই ১৯১ আসনে মাত্র ২১ টি পেয়েছিল বিজেপি। এবার মোদী ঝড় নেই, তাই ওই ২১ টাও বিজেপি আর পাবে না বলেই জানালেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ ইস্কন রাজনৈতিক নিরপেক্ষ সংস্থা, নাম জড়িয়ে প্রচার উদ্দেশ্যমূলক, বিবৃতি ইস্কনের

আবার উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ মায়াবতী জোট হওয়ায় ওখানেও ৮০ আসনের মধ্যে কিছুই পাবে না বলেই জানিয়েছেন মমতা। কর্ণাটক সহ মধ্য ও দক্ষিণের অনেক রাজ্যেই বিজেপি তেমন আসন পাবে না বলেই মত মমতার। ফলে সব মিলিয়ে মোদী আর ফিরছেন না বলেই এদিন জানিয়ে দেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ অধীর গড়ে ভোটমঞ্চে প্রচারের আলোয় আর্য সমাজের প্রচারক শ্রী কৃষ্ণ মহারাজ

সব মিলিয়ে গোটা দেশে ১২৫ এর বেশি আসন পাবে না বলেই এদিন জানালেন মমতা। পুরো হিসাব দিলেন কোথায় কত আসন পাবে বিজেপি। এদিনও গোটা ভাষণে মোদীকেই আক্রমনের লক্ষ্য হিসাবে বেছে নেন মমতা।

আরও পড়ুনঃ নরেন্দ্র মোদীর কবিতায় গান গাইলেন লতা মঙ্গেশকর

জোট ক্ষমতায় এলে তারপর প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা ঠিক করা হবে বলেই জানান মমতা। মমতার সুরেই এদিন বিজেপি ও মোদীকে আক্রমন করলেন বাকি মহাজোটের নেতারা।

আরও পড়ুনঃ পাক জঙ্গিদের সাহায্যকারি দেশের বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজতে ৮ সদ্যসের গোয়েন্দা দল

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
লাস্যময়ী নুসরত ও সুন্দরী মিমিই এবার মমতার চমক https://thenewsbangla.com/mamata-banerjee-select-mimi-chakraborty-nusrat-jahan-as-tmc-candidate/ Tue, 12 Mar 2019 13:53:27 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=8228 মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দিলেন ২০১৯ লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থীদের নাম। বাদ গেছেন বেশ কিছু পুরনো মুখ। এসেছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখও। এদের মধ্যে বাংলা ফিল্মের দুই নায়িকা আলো করে আছেন মমতার প্রার্থী লিস্টে। একজন নুসরত জাহান ও অন্যজন মিমি চক্রবর্তী। নুসরত জাহান দাঁড়াচ্ছেন বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে আর মিমি চক্রবর্তী দাঁড়াচ্ছেন যাদবপুর কেন্দ্র থেকে।

আরও পড়ুনঃ প্রচুর চমক, রাজ্যের ৪২টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪২জন প্রার্থী কে কে

দেব, শতাব্দী রায় ও মুনমুন সেনের সঙ্গে এবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নতুন নাম নুসরত জাহান ও অন্যজন মিমি চক্রবর্তী। মমতার লিস্টে এই দুজনাই এবার চমক। দেবের মতই কেরিয়ারের একেবারে মধ্যগগনে ভোটের ময়দানে নুসরত ও মিমি। তবে যাদবপুরের মত আসনে মিমিকে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক মহলকেই চমকে দিয়েছেন মমতা। চলুন জেনে নি, নুসরত জাহান ও মিমি চক্রবর্তীর কিছু তথ্য।

আরও পড়ুনঃ পুলিশে ভরসা নেই, একমাস আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী

বাংলা ফিল্মের প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা ও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দুজনেই নুসরত জাহান ও মিমি চক্রবর্তীর নাম প্রস্তাব করেন বলেই তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে। আর মমতা নিজেও এই দুই নায়িকাকে বেশ পছন্দই করেন। ফলে এই দুই নায়িকাকেই ভোট যুদ্ধে নামিয়ে রীতিমত চমকে দিলেন মমতা।

লাস্যময়ী নুসরত ও সুন্দরী মিমিই এবার মমতার চমক/The News বাংলা
লাস্যময়ী নুসরত ও সুন্দরী মিমিই এবার মমতার চমক/The News বাংলা

নুসরত জাহান একজন বাংলা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। ৮ জানুয়ারি ১৯৯০ সালে একটি মুসুলমান পরিবারে জন্ম নুসরাতের। বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর পরিবার সহ বাস করেন বাংলা ছবির এই লাস্যময়ী নায়িকা। ভবানীপুর কলেজ থেকে বি কম পাশ করে তিনি সোজা আসেন মডেলিং জগতে। ২০১০ একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় জিতে নুসরত চলে আসেন প্রচারের আলোয়।

আরও পড়ুনঃ রায়গঞ্জে বিজেপির হয়ে কি লড়বেন দীপা দাশমুন্সি

নুসরত এর অভিনীত প্রথম বাংলা সিনেমা রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘শত্রু’। এই সিনেমাতে তিনি জীতের বিপরীতে অভিনয় করেন। এরপর তিনি ‘খোকা 8২০’, ‘খিলাড়ি’, ‘হর হর ব্যোমকেশ’, ‘জুলফিকার’, এর মত বিখ্যাত সিনেমাতে অভিনয় সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। রাজীব বিশ্বাস পরিচালিত অভিনেতা দেবের বিপরীতে অভিনীত খোকা ৪২০ চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়।

আরও পড়ুনঃ জঙ্গি মাসুদ আজহারকে ‘মাসুদ আজহার জী’ বলে সম্বোধন করে বিতর্কে রাহুল

লাস্যময়ী নুসরত ও সুন্দরী মিমিই এবার মমতার চমক/The News বাংলা
লাস্যময়ী নুসরত ও সুন্দরী মিমিই এবার মমতার চমক/The News বাংলা

মিমি চক্রবর্তী উত্তর বাংলার জলপাইগুড়িতে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ সালে জন্মান। অরুণাচল প্রদেশে কাটে মিমি চক্রবর্তীর ছোটবেলা। বিন্নাগুড়ি সেন্ট জেমস স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি কলকাতার আশুতোষ কলেজে ইংরেজি নিয়ে স্নাতক হন। বাংলা সিনেমার ও টেলিভিশন অভিনেত্রী। মিমি অভিনয় জগতে আসার আগে একজন মডেল হিসাবে কাজ শুরু করেন। তিনি ফেমিনা মিস্‌ ইন্ডিয়াতে অংশগ্রহন করেন।

আরও পড়ুনঃ বাংলার কোন লোকসভা আসনে কবে ভোট দেখে নিন

তার অভিনয়ের শুরু ‘চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমাতে। যদিও মিমি পরিচিতি পান ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘গানের ওপারে ‘ ধারাবাহিক এ ‘পুপে’ এর চরিত্রে। এই ধারাবাহিকের খ্যাতি তাকে আলোয় এনে দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই ধারাবাহিক নির্মিত হয়। এই ধারাবাহিকে আরো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি অভিনয় করেন। ২০১১ তে মিমি টেলি সম্মান পুরস্কার পেয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ লোকসভা ভোটের আগে পাকিস্তানে ফের একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে

২০১২ তারিখে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘বাপি বাড়ি যা’র মাধ্যমে তার অভিনয়ের যাত্রা শুরু হয়। তারপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘কি করে তোকে বলবো’, ‘খাদ’, ‘পোস্ট’ এর মত একের পর এক হিট সিনেমাতে অভিনয় করেন মিমি।

এখন দেখার এটাই যে ভোটের ময়দান কতটা ‘হিট’ করতে পারেন নুসরত ও মিমি। তবে এদের পিছনে যে টলিগঞ্জের নায়ক নায়িকা ও অভিনেতা অভিনেত্রীদের সমর্থন থাকবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর প্রচারে থাকবেন মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের অ্যাসিড আক্রান্তরা https://thenewsbangla.com/acid-victims-approach-to-chief-minister-mamata-banerjee-for-frist-time/ Thu, 07 Mar 2019 17:05:36 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7781 সুবিচার ও কর্মসংস্থান এর দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছিল রাজ্যের চার জেলার চার অ্যাসিড আক্রান্ত যুবক যুবতী। এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রাজ্যের অ্যাসিড আক্রান্তরা।

সুবিচার, কর্মসংস্থান ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবিতে বারুইপুরের মনীষা পৈলান, দমদমের সঞ্চয়িতা যাদব, মেদিনীপুরের সুতপা দাস ও সাগরদ্বীপের সূর্যশঙ্কর বারিক সোজা হাজির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়িতে। দেখা হয়নি আজ। তবে মিলেছে দেখা করার আশ্বাস।

অ্যাসিড হামলার পর থেকে এই চার যুবক যুবতী দীর্ঘদিন লড়ে আসছে নিজ নিজ জায়গায়। এই লড়াই দীর্ঘদিনের, এই লড়াই শরীরের সাথে মনেরও। আর এই লড়াইয়ের হয়ত কোন শেষ নেই। চলবে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। কিন্তু তাতে তাদের মনের জোর কোন অংশে কমে নি। লড়তে লড়তে ওরা বুঝে গেছে কোন পথে এগোলে সুবিচার পাবে ওদের শরীর ও মনের ক্ষতগুলো।

শুধু মাত্র প্রেমে সাড়া না পেয়ে সঞ্চয়িতা যাদব ও মনীষা পৈলানকে অ্যাসিড ছোঁড়া হয়েছিল। সাগরদ্বীপের সূর্যশঙ্করকে অ্যাসিড ছোঁড়া হয় পারিবারিক অশান্তির জেরে। এদের মধ্যে সূর্যশঙ্কর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, বর্তমানে একটি স্কুলে প্যারাটিচারের চাকরি করে। সেই টাকাতেই চলছে ওদের সংসার এবং চিকিৎসার খরচ। মনীষার বাবা কাঠ মিস্ত্রি আর সঞ্চয়িতা এক এনজিও-তে ছোট একটা চাকরি করে নিজের চিকিৎসা, ঘর ভাড়া ও অসুস্থ মাকে নিয়ে দিন কাটায়।

এদের প্রত্যেকের উপর অ্যাসিড হামলাকারীরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। অজানা কারণে মনীষার উকিল দিনের পর দিন মামলার ডেট এর পর ডেট পিছিয়ে চলেছে। গত কয়েক বছরে তাঁর মামলা একচুলও এগোয়নি। মনীষার কথাতে, “একটা পাকাপাকি কর্মসংস্থান থাকলে নিজে পয়সা দিয়ে উকিল রেখে মামলা চালাব”। মনীষার উপর আক্রমণকারী এখনও প্রকাশ্যে ধমকি দিয়ে চলেছে। প্রশাসন সব জেনে শুনেও চুপ, অভিযোগ মনীষার।

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে ওরা এই সব সমস্যা জানাতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অ্যাসিড বিক্রি করা, আইন করে বন্ধ করে দিক যাতে আর কাউকে ওদের মত অ্যাসিডে শারীরিক, সামাজিক ও মানসিক ভাবে না পুড়তে হয় প্রতিদিন।

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা হয়নি ওদের। সকাল নয়টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে আসতে হয়েছে খালি হাতেই। মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পরের সপ্তাহে আবার যেতে। যদিও নির্দিষ্ট কোন দিনে গেলে তারা মুখ্যমন্ত্রীর দেখা পাবে তা উল্লেখ করা হয়নি।

তবুও ওরা আশাবাদী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেও মহিলা, তিনি নিশ্চয়ই বুঝবেন ওদের যন্ত্রণা। শুধু একবার যদি কোনভাবে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছনো যায়, উনি নিশ্চয়ই একটা সমাধান এর ব্যবস্থা করবেন। স্বাধীন ও সুস্থ জীবনে আবারও ফিরতে পারবে ওরা।

আর তার জন্যই এখন অপেক্ষায় বারুইপুরের মনীষা পৈলান, দমদমের সঞ্চয়িতা যাদব, মেদিনীপুরের সুতপা দাস ও সাগরদ্বীপের সূর্যশঙ্কর বারিক। আরও একটা লড়াই তাদের সামনে। মাথা উঁচু করে মুখ না ঢাকার লড়াই।

]]>
মমতার ‘তেলেভাজা’ ও মোদীর ‘পকোড়া’ কোনটাই কর্মসংস্থান নয় https://thenewsbangla.com/televaja-of-mamata-and-pakora-of-modi-are-not-salaried-job/ Fri, 21 Sep 2018 06:56:35 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=576 রাজনৈতিক লড়াই চলছে। একে অপরকে ছেড়ে কথা বলছেন না। তবে, এবার একটা বিষয়ে বেশ মিল পাওয়া গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। আর সেটাও খাবার বিষয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর চপ-তেলেভাজা শিল্প ও প্রধানমন্ত্রীর পকোড়া শিল্প হাসির খোরাক জুগিয়েছে সাধারণ মানুষকে।

২০১৫ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী নবান্নে ‘তেলভাজা শিল্পে’র কথা বলে রাজ্যজুড়ে হাসির খোরাক হয়েছিলেন মমতা। ২০১৮ সালের ১৯ শে জানুয়ারী ‘পকোড়া শিল্পে’র কথা বলে সেই হাসির খোরাকে নিজের অংশগ্রহণ পাকা করেছিলেন মোদী৷ আর সোমবার রাজ্যসভায় প্রথমবার ভাষণ দিতে গিয়ে ফের প্রধানমন্ত্রী মোদীর পকোড়া শিল্প তত্ত্বকে সামনে আনলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। দু্ঃখের বিষয় এটাই যে তেলেভাজা বা পকোড়া, কোনটাই কিন্তু কর্মসংস্থান নয়। আর কতদিন সাধারণ মানুষকে টুপি পড়াবেন মমতা, মোদী ও অমিত শাহের মত নেতারা? উঠছে প্রশ্ন৷

দেশের পাশাপাশি রাজ্যেও বাড়ছে বেকার সমস্যা। প্রতি বছরই ইউনাইটেড নেশনস ইন্টারন্যাশানাল লেবার অরগানাইজেশন বা ILO বের করে World Employment and Social Outlook নামে একটি রিপোর্ট৷ এবারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৮ সালের শেষে ভারতে বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৮ মিলিয়ান বা এক কোটি আশি লক্ষ৷ লেবার ওরগানাইজেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সালে দেশজুড়ে বেকার বেড়েছে প্রায় ১ লক্ষ৷ ২০১৮ তে বাড়বে আরও ২ লক্ষ৷

ভারত সরকারের লেবার ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট বলছে, প্রতি হাজার জনে ভারতে গড়ে ৫০ জন কর্মহীন। এই হিসাব অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে গড়ে ১০০০ জনে ৪৯ জন কর্মহীন। তবে, এটা পুরোপুরি সরকারী রিপোর্ট। সরকারী রিপোর্টেই যদি ১৩০ কোটি জনগণের দেশে ৬ কোটি ৫০ লাখ কর্মহীন দেখায়, তাহলে আসল সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটাই প্রশ্ন।

তাহলে কি সরকারী রিপোর্টে তেলেভাজা আর পকোড়া বিক্রেতাদেরও কর্মহীনদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে? রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এই প্রশ্নের উত্তর প্রায় পরিস্কার। রাজ্যে চপ তেলেভাজা বিক্রেতা আর দেশে পকোড়া বিক্রেতাদেরও যে কর্মসংস্থানের তালিকাতেই স্থান দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা তা একেবারে পরিস্কার৷

তেলেভাজা ও পকোড়া তৈরী করে জীবনধারণ করাটা কি সত্যি কর্মসংস্থান বলে মনে করেন রাজনীতিবিদরা ? প্রশ্ন উঠেছে, সরকারী কর্মসংস্থানের হিসাবে চপ-তেলেভাজা-পকোড়া ভেজে বা অন্যের বাড়িতে কাজ করে বা ট্রেণে হকারি করে রোজগার করাটাও কি কর্মসংস্থানের মধ্যে পরে?

কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা? তাঁরা বলছেন, কৃষি, শিল্প ও সার্ভিস ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানকে রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার কর্মসংস্থান বলে দেখাতে পারে৷ কিন্তু, কখনই চপ ভাজা বা পকোড়া ভেজে জীবনধারণ করাকে নয়৷ অর্থনীতিবিদ দেবাশীস সরকার বলছেন, রাজ্য বা দেশে শিল্প ক্ষেত্রে একধরণের মন্দা চলছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তাই রাজনৈতিক নেতারা হতাশা থেকেই চপ তেলেভাজা শিল্প বা পকোড়া শিল্পের কথা বলছেন।

ঠিক একই ধরণের অবস্থা বাংলায় তথা ভারতে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বাংলাতেও নতুন শিল্প নেই, সরকারী কোষাগারের অবস্থা খুব খারাপ। সরকারী চাকরীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্তঃ কম। শিল্প না থাকায় শিল্পে বিনিয়োগও কম। সরকারের বিনিয়োগ করার ক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। ফলে বাড়ছে বেকার সমস্যা। আর মুখ্যমন্ত্রীর মুখে চপ-তেলেভাজা শিল্পের কথা।

দেশের দিক থেকে দেখলেও সেই একই অবস্থা। নতুন শিল্প নেই, শিল্পে বিনিয়োগ নেই। ১৩০ কোটির দেশে সরকারী চাকরীও অত্যন্তঃ কম। ফলে বাড়ছে বেকার সমস্যা। হতাশা থেকেই পকোড়া শিল্পের মত এই ধরণের অযৌক্তিক মন্তব্য করছেন প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শাসক দলের সর্বভারতীয় নেতারা।

অর্থনীতিবিদ দেবাশীস সরকার বলছেন, ‘এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশনের বিষয়টা সম্পূর্ণ হবে দেশের মূল অর্থনৈতিক কারবারের বিকাশের মাধ্যমে৷ কৃষি, শিল্প ও সার্ভিস সেকটরের বিকাশের মাধ্যমেই কর্মসংস্থানের বিষয়টা নির্ভর করে৷’ তাঁর মতে, শিল্পের ক্ষেত্রে মন্দা দেখা দেওয়ায় সরকার বিনিয়োগ করতে পারছে না, কর্মসংস্থানও হচ্ছে না৷ তিনি পরিস্কার জানিয়েছেন, চপ তেলেভাজা পকোড়ার মাধ্যমে দেশ বা রাজ্যের বিকাশ হয় না৷ তাঁর মতে, একটা চরম হতাশা থেকেই রাজনৈতিক নেতারা এই ধরণের অযৌক্তিক কর্মসংস্থানের মন্তব্য করছেন৷

ফলে কখনও নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কখনও লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কখনও বা রাজ্যসভায় শাসকদলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের কন্ঠে সেই হতাশার ছায়া। আর তাই চপ শিল্প, তেলেভাজা শিল্প বা পকোড়া শিল্পের অবতারণা। তবে মাই ডিয়ার রাজনৈতিক নেতারা, এর কোনটাই শিল্প নয়। চপ, তেলেভাজা ও পকোড়া শিল্পের নামে সাধারণ মানুষকে হাস্যরস দেওয়া যাবে, বোকা বানানো যাবে কি? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।

]]>