mahatma gandhi – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 20 Apr 2019 10:01:09 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg mahatma gandhi – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 গান্ধীজির দেখানো পথেই কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়বে মোদী সরকার, ব্লগে দাবি প্রধানমন্ত্রীর https://thenewsbangla.com/narendra-modi-to-follow-mahatma-gandhis-footsteps/ Tue, 12 Mar 2019 08:10:35 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=8178 ভোটের মুখে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীকে স্মরণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। মঙ্গলবার ১২ই মার্চ মহাত্মা গান্ধীর ডান্ডি যাত্রার ৯০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ঠিক তার আগেই একটি ব্লগে তিনি গান্ধীর আদর্শের ব্যাখ্যা দিতে দিয়ে কংগ্রেসের তুলনা টেনে আনেন।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের সাথে এখনকার কংগ্রেসের কোনও মিলই নেই, বর্তমানে কংগ্রেস গান্ধীর দেখানো পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এমনকী গান্ধীজি নিজেই কংগ্রেসসে এক সময়ে ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর সেই নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ এগিয়ে তৃণমূল, মঙ্গলবার বিকালেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা

নরেন্দ্র মোদী ব্লগে উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে কংগ্রেস রাজনীতিতে তাদের প্রাধান্য বজায় রাখার জন্য জাতপাত ও ধর্মকেন্দ্রিক ভেদাভেদকে ইন্ধন যোগাচ্ছে। স্বাধীনতা উত্তর ভারতবর্ষেও সবথেকে বেশি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও জাতিগত হানাহানি কংগ্রেসের সময়েই হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ জঙ্গি মাসুদ আজহারকে ‘মাসুদ আজহার জী’ বলে সম্বোধন করে বিতর্কে রাহুল

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, গান্ধীজি কখনও ধর্ম বা জাতপাতকেন্দ্রিক ভেদাভেদের পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু গান্ধীজির নাম ব্যবহার করে স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি চরিতার্থ করতে গান্ধী পরিবার মহাত্মা গান্ধীর সকল প্রকার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। কংগ্রেসের এই মানসিকতা বুঝতে পেরেই মহাত্মা গান্ধী কংগ্রেস দল ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন বলে নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন।

আরও পড়ুনঃ মমতাকে মুকুলের ভয় দেখিয়ে কি রাজ্যে মন্ত্রী হচ্ছেন অর্জুন

রাজনীতিতে গান্ধী পরিবারের রাজনৈতিক অধিপত্য নিয়ে বিজেপি সব সময় সরব হয়েছে। গান্ধীজির নামের অপব্যবহার করে গান্ধী পরিবার যুগের পর যুগ রাজনীতি করে যাচ্ছে বলে বিজেপির নেতানেত্রীরা প্রায়ই দাবি করেন। ফের একবার প্রধানমন্ত্রী সরব হলেন গান্ধী পরিবারের রাজনীতির ধরন নিয়ে।

আরও পড়ুনঃ রমজান মাসে নির্বাচনে কোনও সমস্যা নেই, ববিকে পাল্টা দিলেন ওয়েসি

মঙ্গলবার গুজরাটের সবরমতী আশ্রমে কংগ্রেসের তরফেও গান্ধী স্মরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী , প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সকলেই উপস্থিত থাকছেন। তার আগেই কংগ্রেসকে কটাক্ষ করার সুযোগ নিলেন নরেন্দ্র মোদী।

আরও পড়ুনঃ বাংলার কোন লোকসভা আসনে কবে ভোট দেখে নিন

ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা থেকে বিগত কংগ্রেস আমলে কংগ্রেসের সীমাহীন দুর্নীতি নিয়েও মোদী সরব হন। তিনি বলেন, তাঁর দল বিজেপি সকল প্রকার দুর্নীতি রোধ করতে বদ্ধ পরিকর, আর সেজন্যই মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথে কংগ্রেস মুক্ত ভারত গঠনের পথ অনুসরণ করেছে তাঁর রাজনৈতিক দল বিজেপি।

আরও পড়ুনঃ লোকসভা ভোটের আগে পাকিস্তানে ফের একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
গান্ধীকে কেন হত্যা করেছিলেন নাথুরাম গডসে https://thenewsbangla.com/why-nathuram-godse-killed-mahatma-gandhi-what-nathuram-said-in-court/ Mon, 11 Mar 2019 09:54:32 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=8100 ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নাথুরাম গডসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল। হত্যা করার পর সে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টাও করেনি। কারণ সে চেয়েছিল তার এই জঘন্যতম হত্যা করার কারণ যাতে দেশবাসী জানতে পারে।

আদালতে বিচার চলার সময় সে গান্ধীকে হত্যা করার পেছনে, একটা দুটো না, মোট ১৫০টা কারণ জানিয়েছিল। তবে সেই সময়কার কংগ্রেস সরকার সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতে দেয়নি। কিন্তু নাথুরামের দাদা গোপাল গডসের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তা প্রকাশ পায়।

আরও পড়ুনঃ ভারতের ৫টি খুঁজে না পাওয়া কোটি কোটি টাকার খাজানা

গান্ধীকে কেন হত্যা করেছিলেন নাথুরাম গডসে? তবে এত কারণ এখানে লেখা সম্ভব নয়। তাই উল্লেখযোগ্য ১০টি কারণ এখানে তুলে ধরা হলঃ

১) ১৯১৯ সালে জালিওয়ান ওয়ালাবাগের গণহত্যাকারী জেনেরাল ডায়ারের শাস্তি চেয়েছিল গোটা দেশ, কিন্তু গান্ধী সেই দাবী খারিজ করেন।

২) ভারতবাসী চেয়েছিল যে বিপ্লবী ভগত সিং, সুখদেব এবং রাজগুরুর ফাঁসি আটকাতে গান্ধী হস্তক্ষেপ করুক। কিন্তু তিনি তা করেননি। গান্ধী বলেন যে এরা পথভ্রষ্ট বিপ্লবী, আর এদের পথ সন্ত্রাসের, তাদের ফাঁসি তিনি আটকাবেন না।

আরও পড়ুনঃ টিভি চ্যানেল দেখা নিয়ে ভুল বোঝাচ্ছে কেবল অপারেটররা

৩) ১৯৪৬ সালের ৬ই মে যখন দেশের নানা প্রান্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে, তখন গান্ধী হিন্দুদের উদেশ্যে বলেন যে, তারা যেন মুসলিম লিগের লোকেদের বিরুদ্ধে লড়াই না করে। সেই সময় কেরালায় প্রায় ১৫০০ হিন্দুকে হত্যা করে মুসলিম লিগের লোকেরা এবং আরও ২০০০ হিন্দুকে জোর করে ইসলাম গ্রহণ করানো হয়।

আরও পড়ুনঃ জন্মতিথিতে ঠাকুর রামকৃষ্ণের জীবনের ৮টি অলৌকিক ঘটনা

৪) তিনি কাশ্মীদের রাজা হরি সিংকে কাশ্মীর ছেড়ে হরিদ্বারে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন কারণ কাশ্মীরে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ট ছিল।

৫) বিভিন্ন সময় তিনি ভারতের মহান যোদ্ধা শিবাজি মহারাজ, রাণা প্রতাপ এবং গুরু গোবিন্দ সিংকে পথভ্রষ্ট ভারতীয় বলে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ প্রেমিকাকে নিজের করে পেতে কি কি করতে হয় পুরুষকে

৬) ত্রিপুরা কংগ্রেস অধিবেশনে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বিপুল ভোটে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন, কিন্তু গান্ধী নিজের ক্ষমতার জোরে নিজের অনুগত পট্টভি সিতারামাইয়াকে সভাপতি বানান এবং নেতাজীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন।

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের কোপে এবার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

৭) ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট কংগ্রেস ঠিক করে যে তারা ভারত বিভাজনের বিরোধীতা করবে। কিন্তু গান্ধী সেই সভায় একদম শেষ মুহূর্তে পৌঁছান এবং দেশ ভাগের সমর্থন করেন। এর আগে গান্ধী নিজেই বলেছিলেন দেশ ভাগ তার লাশের ওপর দিয়ে হবে।

৮) ভারত স্বাধীনতা অর্জনের পর সর্দার পাটেল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু গান্ধীর নির্দেশে নেহেরুকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়।

আরও পড়ুন: পরিচালক মৃণাল সেনের ফিল্ম পরিচালনার কিছু ‘মণি মুক্ত’

৯) সরকার গড়ার পর নেহেরু সিদ্ধান্ত নেন যে ভারত সরকার সোমনাথ মন্দির আবার নির্মান করবে, কিন্তু সরকারে না থাকা স্বত্বেও গান্ধী সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করান। কিন্তু ঠিক একই সময় ১৮৪৮ সালের ১৩ই জানুয়ারি তিনি দিল্লীর মসজিদ সরকারি টাকায় নির্মানের জন্য তিনি অনশনে বসেন এবং নিজের দাবী মানিয়েই ছাড়েন।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নারীদের স্তন ক্যানসার, ভয়াবহ এই রোগের প্রধান ৮টি লক্ষণ

১০) ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তান কাশ্মীরে হামলা করলে গান্ধী আবার ভারত সরকারের বিরুদ্ধেই অনশনে বসেন এবং ভারত সরকার পাকিস্তানকে ৫৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়। গান্ধী ভারতের মুসলিমদের খুশি করতে হিন্দুদের নানা ভাবে প্রতারিত করতেন।

অবশেষে নাথুরাম গডসে এবং তার সঙ্গে নারায়ণ আপ্তেকে ১৯৪৯ সালের ১৫ই নভেম্বর পাঞ্জাবের আম্বালা জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়।

বিঃদ্রঃ ওপরের সকল মন্তব্য নাথুরাম গডসে আদালতে করেছিলেন।

]]>
মৃত্যুদিনে মহাত্মা গান্ধীকে গুলি মেরে গ্রেফতার নেত্রী https://thenewsbangla.com/hindu-mahasabha-leader-who-recreated-mahatma-gandhis-assassination-arrested/ Wed, 06 Feb 2019 17:59:14 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=6530 ‘ভারতের লজ্জা, দেশের কাল দিন’। এইভাবেই বর্ণনা করা হয়েছিল ঘটনাটিকে। মহাত্মা গাঁধীর মৃত্যুদিবসে তাঁর কুশপুতুলে গুলি চালানোর অভিযোগে হিন্দু মহাসভার নেত্রী পূজা শকুন পাণ্ডেকে নয়ডা থেকে গ্রেফতার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। আলিগড়ের নৌরঙ্গাবাদে মহাত্মা গাঁধীর ৭১তম মৃত্যুদিবসে দিনটিকে ‘শৌর্য দিবস’ হিসাবে পালন করার আহ্বান জানিয়েছিল হিন্দু মহাসভা। সেখানেই ঘটে এই লজ্জাজনক অধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ ভারতের সংবিধান রক্ষা করতে ধর্মতলায় আবার ধর্ণা

মৃত্যুদিবস পালনে মহাত্মা গান্ধীর কুশপুতুলে ৩বার গুলি মেরে গ্রেফতার অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার নেত্রী পূজা শকুন পাণ্ডে। এ.ভি.এইচ.এম জাতীয় সম্পাদক ও নেত্রী পূজা শকুন পান্ডে সহ আরও ১৩জনের বিরুদ্ধে ১৫৩এ(ধর্মীয় বিভেদ) ২৯৫এ(ধর্মীয় উস্কানি) ও ১৪৭(গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব) ধারায় মামলা দায়ের করে উত্তরপ্রদেশের গান্ধী পার্ক থানা। আলীগরের গান্ধী পার্কের ঘটনার এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় গোটা দেশে।

আরও পড়ুনঃ সারদা রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে মমতার পুলিশ কর্তাদের বারবার তলব গোয়েন্দাদের

সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। ভিডিওয় দেখা যায় ৩০ জানুয়ারি, গান্ধীজির ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ওই নেত্রী মহাত্মার কুশপুতুল লক্ষ্য করে এয়ার পিস্তল থেকে গুলি করছেন। চারপাশ মুখরিত নাথুরাম গডসের জয়ধ্বনিতে। পরপর আরও কয়েক জনও গুলি চালায়, যারা হিন্দু মহাসভারই সদস্য। গাঁধীর কুশপুতুলে গুলি ছুঁড়ে, তাঁর বিরুদ্ধে ও তাঁর ঘাতক নাথুরাম গডসের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ নতুন যুদ্ধ, রোজভ্যালি চিটফান্ড কাণ্ডে মমতার দুই অফিসারকে ডেকে পাঠাল ইডি

দেখা যায়, গুলির ক্ষতে কুশপুতুল থেকে রক্তস্রোতের মতো বেরিয়ে আসছে লাল তরল। যে তরল ভরা ছিল কুশপুতুলে থাকা একগোছা বেলুনে। পরে কুশপুতুলটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই লজ্জাজনক ভিডিও দেখে হইচই পরে যায় গোটা দেশে। প্রতিবাদ শুরু হয়ে যায় দেশ জুড়ে। ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ হবার সঙ্গে সঙ্গে সেটি মুহূর্তের মধ্যে দেশ জুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ সারদা চিটফান্ডে সর্বহারাদের দেখেই কি তাড়াতাড়ি ধর্ণা শেষ করলেন মমতা

চাপে পড়ে, এই ঘটনায় অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার ১৩জন সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ(ধর্মীয় বিভেদ) ২৯৫এ(ধর্মীয় উস্কানি) ও ১৪৭(গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যেই নেত্রী সহ এদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সারদা চিটফাণ্ড মামলায় রাজীবকে জেরা করতে কি কি প্রশ্ন সাজাচ্ছে সিবিআই

স্বাভাবিকভাবেই এই ভিডিও ভাইরাল হতে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়। হিন্দু মহাসভার ওই কট্টর সদস্যদের ও ওই মহিলা নেত্রীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের উপর চাপ আসতে থাকে। হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পূজা শকুন পান্ডে নামের ওই নেত্রীকে ও তার দলবলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ উঠল বিজেপি বিরোধী সত্যাগ্রহ ধর্ণা, ধর্মতলার ধর্ণা প্রধানমন্ত্রী করতে পারবে মমতাকে

১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নাথুরাম গডসের গুলিতে প্রাণ হারান মহাত্মা গান্ধী। আবার দ্বিতীয়বার, ভারতের মাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হলেন জাতির জনক। তৈরি হল, ‘ভারতের লজ্জা, দেশের কাল দিন’।

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে আর পড়াবেন না ‘দেশদ্রোহী’ প্রফেসর’ https://thenewsbangla.com/traitor-professor-will-never-teach-again-in-narendra-modis-gujarat/ Fri, 02 Nov 2018 08:19:45 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1887 আহমেদাবাদ: ‘গেরুয়া সংগঠন’ অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তাঁকে Anti National বা দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়েছে এবং তাকে রাজ্যছাড়া করার দাবি তুলেছে। আর তাই গুজরাটের আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিলেন না শিক্ষাবিদ, প্রফেসর রামচন্দ্র গুহ।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তাঁকে Anti National বা দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়েছে এবং তাকে রাজ্যছাড়া করার দাবি তুলেছে। তাতে প্রতিবাদ করে নি কোন রাজনৈতিক সংগঠন বা প্রশাসন বা বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার। তাঁকে নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি পরিচালিত ছাত্র সংগঠন।

Image Source: Google

আর তাই প্রফেসর হিসাবে আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর হিসাবে যোগ দিলেন না ঐতিহাসিবিদ রামচন্দ্র গুহ। শুধু তাই নয়, বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ টুইট করে সেই খবর জানিয়েছেন। এবং ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘একদিন মহাত্মা গান্ধীর গুজরাটে তাঁর আদর্শ আবার নিশ্চয়ই ফিরে আসবে’।

আরও পড়ুনঃ মোদীর ভারতে সর্দার প্যাটেলের রেকর্ড ভাঙবে ছত্রপতি শিবাজীর মূর্তি

রামচন্দ্র গুহের টুইটের পর হইচই পরে গেছে দেশ জুড়ে। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ থেকে আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকরাও।

Image Source: Google

দেশজুড়ে যখন বুদ্ধিজীবীদের ধরপাকড় চলছে তখন এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ। তিনি বলেন, এই সময় যদি মহাত্মা গান্ধী বেঁচে থাকতেন, তবে তাকেও গ্রেফতার করত নরেন্দ্র মোদী সরকার।

আরও পড়ুনঃ জম্মু কাশ্মীরে উগ্রপন্থীদের টার্গেট বিজেপি নেতারা

সমাজকর্মী সুধা ভরদ্বাজকে গৃহবন্দী করে রাখার ঘটনারও তীব্র নিন্দা করেন রামচন্দ্র গুহ। তখন তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধীকেও ছাড়ত না বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। তাকেও সমাজকর্মী ও মাওবাদী ঘনিষ্ঠ বলে আদালতে নিয়ে যাওয়া হত বলেই অভিমত ছিল তাঁর।

Image Source: Google

মহাত্মা গান্ধীর জীবনীকার রামচন্দ্র গুহ তখন বলেন, সুধা ভরদ্বাজের এই পরিস্থিতি দেখলে ফের আইনজীবীর পোশাক পড়তেন মহাত্মা গান্ধী। আদালতে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। দেশে ভয়াবহ অচলাবস্থা চলছে বলে এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করেছিলেন এই প্রবীণ ইতিহাসবিদ।

আরও পড়ুনঃ অসমে উগ্রপন্থী সংগঠনের গণহত্যা

তার পরেই বিজেপি সংগঠনগুলি এই প্রবীণ শিক্ষাবিদকে দেশদ্রোহী বলে ঘোষণা করে দেয়। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তাঁকে Anti National বা দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়েছে এবং তাকে গুজরাট ছাড়া করার দাবি তুলেছে। বিজেপি পরিচালিত সবকটি সংগঠন তাঁর গুজরাটের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছে।

Image Source: Google

আর এই ঘটনার পরই গুজরাটের আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেসর পদে যোগ দেবার সিদ্ধান্ত বাতিল করলেন রামচন্দ্র গুহ। এবং লিখলেন, ‘একদিন মহাত্মা গান্ধীর গুজরাটে তাঁর আদর্শ আবার নিশ্চয়ই ফিরে আসবে’।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে তৃণমূল নেতাদেরই শাস্তির দাবীতে পোস্টার

অক্টোবরের ১৬ তারিখে, আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় রামচন্দ্র গুহকে শেরেনিক লালভাই চেয়ার প্রফেসর অফ হিউম্যানেটিস পদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গান্ধী উইন্টার স্কুলের ডিরেক্টর পদে নিয়োগপত্র দেয়। ১৯ তারিখে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ রামচন্দ্র গুহের এই নিয়োগ নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ও প্রতিবাদপত্র জমা দেয়।

Image Source: Google

তারপরেই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রবীণ শিক্ষাবিদের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে এখনই যোগ না দিয়ে ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখে যোগ দিতে বলে। তাতেই ক্ষুব্ধ হন রামচন্দ্র গুহ। তারপরেই তিনি টুইট করে গুজরাটে শিক্ষকতা করব না বলে জানিয়ে দেন।

তবে, আহমেদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে চ্যান্সেলর সঞ্জয় লালভাই এই নিয়ে মুখ খুলতে চান নি। রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফ থেকেও এই নিয়ে মুখ খোলেন নি কেউই। তবে বিশিষ্ট এই ইতিহাসবিদকে নিয়ে ভারতের ইতিহাসে যে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় লেখা হল, তা বলাই যায়।

]]>
দূর্নীতি স্বজনপোষণ নেই- মনেও নেই https://thenewsbangla.com/laal-bahadur-shastri-was-not-in-nepotism-and-corruption-so-we-does-not-even-remember-him/ Tue, 02 Oct 2018 16:47:23 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=741 বিশেষ সংবাদদাতা : ২ রা অক্টোবর বললে মুহূর্তেই মহাত্মা গান্ধীর জন্মের কথা মনে পরে। জাতির জনকের জন্মদিনে জাতীয় ছুটিও দেওয়া হয়। অথচ মনেই পরে না ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর কথা। আজ তাঁরও জন্মদিন।

১৮৬৯ সালের ২ রা অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী আর ১৯০৪ সালের ২ রা অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। অথচ, সারাজীবন মানুষের জন্য রাজনীতি করা সহজ সরল লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মদিনে আমজনতার কোন পোস্ট বা প্রচার দেখা যায় না।

তাঁর আমলেই ভারতে শুরু হয় White Revolution ও Green Revolution। তৈরি হয় AMUL। তৈরি হয় National Dairy Development Board। তাঁর আমলেই চালু হয় The Food Corporation of India এবং The National Agricultural Products Board Act.

দেশে খাদ্য সংকটের সময় তাঁর একবেলা উপোস করে খাদ্যদান করার আবেদন সাড়া ফেলে দেয় গোটা ভারতবর্ষে। এখনও সেই স্মরণে দেশের অনেক জায়গায় ‘শাস্ত্রী ব্রত’ পালন করা হয়।

চীন ও পাকিস্তানের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়বরাদ্দ বাড়ানো তাঁর আমল থেকেই শুরু হয়। এতটাই দূরদর্শী ছিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কায় থাকা ভারতীয় তামিলদের জন্য শ্রীলঙ্কান প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েকের সঙ্গে তাঁর চুক্তি আজও সিরিমা-শাস্ত্রী চুক্তি বলেই পরিচিত।

১৯৬৫ র ভারত-পাক যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ (Hail the Soldier, Hail the Farmer) তিনিই প্রথম ঘোষণা করেন। যা আজও ভারতের ইতিহাসে চিরস্মরনীয় হয়ে আছে।

১৯৬৬, ১০ জানুয়ারী রাশিয়ার তাসখন্দে চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয় ভারত-পাক যুদ্ধ। পরের দিন অদ্ভুত এক পরিস্থিতির মধ্যে মারা যান লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। মৃত্যুর কারণ ‘Heart Attack’ হলেও এই মৃত্যু নিয়ে আজও সন্দেহের গন্ধ আছে। ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীর পোস্টমর্টেমও করা হয় নি। অনেকেই আজও আঙুল তোলেন ইন্দিরা গান্ধীর দিকে।

মৃত্যুর পরে পুরো কংগ্রেস আমলে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে প্রচারের আলোয় আনা হয় নি। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে। তাই মহাত্মা গান্ধী নিয়ে যে পরিমান পোস্ট, যা প্রচার আজ হল, তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে নিয়ে।

ভারতের সবচেয়ে সহজ সরল রাজনীতিবিদ ও সফল প্রধানমন্ত্রীকে মনে রাখার প্রয়োজন বোধ করি নি আমরা। কোন দূর্নীতিতে নাম জড়ায় নি যে !! স্বজনপোষণ করেন নি কখনও। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালিন নিজের পরিবারকে কোনরকম সুযোগ-সুবিধা নিতে দেন নি তিনি, কেন মনে রাখব তাঁকে ??!!

আমজনতার চৈতন্য হোক।
আমাদের জন্য আজীবন কাজ করে যাওয়া লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে জন্মদিনে প্রণাম, শ্রদ্ধা।
শুভ জন্মদিন, ‘বোকা’ জনগণের আরও ‘বোকা’ জননেতা………..

]]>