Ma Kali – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Tue, 23 Aug 2022 16:47:35 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Ma Kali – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 কেন মা কালীর পায়ের নিচে বাবা মহাদেব https://thenewsbangla.com/why-is-god-mahadev-under-the-feet-of-goddess-kali/ Thu, 08 Nov 2018 11:55:22 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2045 The News বাংলা: মা কালী হলেন একজন হিন্দু দেবী। তাঁর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। প্রধানত শাক্ত সম্প্রদায় কালীপূজা করে থাকে। তন্ত্র অনুসারে, কালী দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত দশজন প্রধান তান্ত্রিক দেবীর প্রথম। কিন্তু মা কালীর পায়ের নীচে শিব কেন ?

শাক্ত মতে, কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বাঙালি হিন্দু সমাজে কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। পুরাণ ও তন্ত্র সাহিত্যে কালীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা পাওয়া যায়। এগুলি হল: দক্ষিণাকালী, ভদ্রকালী, সিদ্ধকালী, গুহ্যকালী, শ্মশানকালী, মহাকালী, রক্ষাকালী ইত্যাদি।

কিন্তু, মা কালীর পদতলে শিব কেন?

Image Source: Google

পুরাণে আছে, অসুর কূলের আক্রমনের ফলে সঙ্কটে পরে দেবতারা। তাঁদের তাঁড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের অধিকার নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অসুররা। অসুরদের প্রধান ছিলেন রক্তবীজ। ব্রহ্মার বরে রক্তবীজের একফোঁটা রক্ত থেকে জন্ম নিচ্ছিল আরো হাজার রক্তবীজ।

আরও পড়ুনঃ জেনে নিন সিদ্ধপুরুষ ‘জয় বাবা লোকনাথ’ এর অজানা কাহিনী

একফোঁটা রক্ত ভূমিতে পড়লেই আর্বিভূত হচ্ছিল অসুর বাহিনী। অসুর নিধন করতে অবর্তীণ হোন দেবী দূর্গা। সব অসুর নিহত হলেও বেঁচে থাকেন রক্তবীজ। কিন্তু সেই যুদ্ধেও ব্রহ্মার বরে অপরাজেয় থাকেন রক্তবীজ। এই অবস্থায় দূর্গার ভীষণ ক্রোধে তাঁর দুই ভ্রু এর মাঝখান থেকে জন্ম নেন দেবী কালী।

Image Source: Google

কালীর ভয়াল দৃষ্টিতেই নিহত হয় বহু অসুর। এরপর দেবীর চিৎকারে প্রাণহানি হয় আরও অনেক অসুরের। রক্তবরণ লকলকে জিব বের করে কালী গ্রাস করে নেন হাতিও ঘোড়া সওয়ার অসুর বাহিনীকে। তারপরেও টিকে থাকেন রক্তবীজ। এই অবস্থায় দেবী কালী তাঁকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তাঁর রক্ত পান করতে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ নরকঙ্কালের খুলি সাজিয়ে জাগ্রত মহাশ্মশান কালীর পুজো

রক্তবীজের একফোঁটা রক্তও যাতে ভূমিতে না পড়ে সেই কারনে রক্তবীজের দেহ শূণ্যে তুলে নেন দেবী কালী। এই অবস্থায় রক্তবীজের দেহের সবটুকু রক্তপান করেন দেবী কালী। শেষ বিন্দু রক্ত পান করার পর নিথর রক্তশূণ্য রক্তবীজের দেহ ছুড়ে ফেলে দেন মাতা কালী।

Image Source: Google

আকণ্ঠ রক্ত পান করে বিজয়নৃত্য শুরু করেন মাতা কালী। নিহত অসুরের হাত দিয়ে তিনি কোমড়বন্ধনী এবং মাথা দিয়ে মালিকা বানিয়ে পরিধান করেন। কালীর উন্মাদিনী নাচ দেখে প্রমোদ গোনেন দেবতারা। কারণ এই নাচে আসন্ন হচ্ছিল সৃষ্টির লয়।

পৃথিবীকে ধ্বংশের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য দেবতারা শিবের শরণাগত হলেন। শিবের একাধিক মৌখিক অনুরোধ শুনতে পাননি মাতা কালী। কারন তখন তিনি উন্মাদিনী মত নেচে চলেছেন। আর কোনও উপায় না দেখে নৃত্যরতা কালীর পায়ের তলায় নিজেকে ছুঁড়ে দিলেন মহাদেব।

Image Source: Google

এরপরই চৈতন্য হয় মা কালীর। থেমে যায় নাচ। পায়ের নিচে স্বামীকে দেখে লজ্জায় জিভ কাটেন দেবী কালী। এই পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বন করেই যুগ যুগ ধরেই পূজিত হয়ে আসছে মায়ের এই প্রতিমা। দূর্গার পাশে শিবকে নানা ভাবে দেথা যায়।

আরও পড়ুনঃ অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা

তার মধ্যে হরগৌরী রূপ বিখ্যাত। মাতা কালীর সঙ্গে শিব থাকলে তাঁর জায়গা সবসময় দেবীর পদযুগলের নিচে। এই বিগ্রহে কালীর ডান পা যদি এগিয়ে থাকে তবে তিনি দক্ষিণা কালী। আবার বাম পা এগিয়ে থাকলে তা মায়ের বামা ক্ষ্যাপা রূপ।

]]>
অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা https://thenewsbangla.com/unknown-story-of-tarapith-ma-tara-worshiped-in-kali-puja/ Mon, 05 Nov 2018 10:55:46 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1936 The News বাংলা: সব দেবীর উর্দ্ধে মা তারা বা তারা মা। তাই তারাপীঠে অন্য কোনও দেবীমূর্তি পুজোর চল নেই। মা তারাকে সামনে রেখেই সমস্ত দেবীমূর্তির পুজো করা হয় সিদ্ধপিঠ তারাপীঠে।

তারাপীঠের মা তারা। অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দশক থেকেই এই প্রথা চলে আসছে। কালিপুজোর দিনও তাই মা তারাকেই শ্যামা রূপে পুজো করা হয়। এদিন মায়ের নিত্য পূজার্চনা ছাড়াও শ্যামা রূপে মায়ের বিশেষ আরাধনা করা হয়।

Image Source: Google

তারাপীঠ, বীরভূম জেলায় অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র মন্দির নগরী। এই শহর তান্ত্রিক দেবী, তারার মন্দির ও মন্দির-সংলগ্ন শ্মশানক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত। হিন্দুদের বিশ্বাসে, এই মন্দির ও শ্মশান একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। এই স্থানটির নামও এখানকার ঐতিহ্যবাহী মা তারা আরাধনার সঙ্গে যুক্ত।

Image Source: Google

তারাপীঠ এখানকার “পাগলা সন্ন্যাসী” বামাক্ষ্যাপা-র জন্যও প্রসিদ্ধ। বামাক্ষ্যাপা এই মন্দিরে পূজা করতেন এবং মন্দির-সংলগ্ন শ্মশানক্ষেত্রে কৈলাসপতি বাবা নামে এক তান্ত্রিকের কাছে তন্ত্রসাধনা করতেন। বামাক্ষ্যাপা তারা দেবীর পূজাতেই জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মন্দিরের অদূরেই তাঁর আশ্রম অবস্থিত।

তারাপীঠ ৫১ পীঠের অন্তর্বর্তী নয়। ‘মহাপীঠপুরাণ’-এ উল্লিখিত পীঠস্থান-তলিকায় তারাপীঠের উল্লেখ নেই। জনচিত্তে অবশ্য একথা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত রয়েছে যে, সতীর তৃতীয় নয়ন এখানে পড়েছিল। কিন্তু পুরাণাদি গ্রন্থে এর কোনও সমর্থন পাওয়া যায় না।

আরও পড়ুনঃ স্বপ্নের কালিপুজোয় মা কালির সঙ্গে সাধারণ নারীর পুজো

তারাপীঠ আসলে একটি ‘সিদ্ধপীঠ’। সুদূর অতীত থেকে এখানে বহু সাধক এসেছেন তপস্যা করার জন্য। এবং তাঁদের সিদ্ধিলাভেই ধন্য হয়েছে এই পীঠ। সুতরাং এই পীঠের মহিমা অন্য শক্তিপীঠগুলির চাইতে একাবেরেই আলাদা।

Image Source: Google

কালি পুজোর দিন আর পাঁচটা দিনের মতোই মা তারাকে ভোরবেলা স্নান করানো হয়। এর পরেই মা তারাকে অষ্টধাতুর মুখাভরন, মুণ্ডমালা, মুকুট, সোনার অলঙ্কার, শোলা ও ফুল-মালা দিয়ে শ্যামা রূপে সাজানো হয়।

এরপর শুরু হয় মঙ্গলারতি। মায়ের প্রথম পুজোর সঙ্গে দেওয়া হয় শীতলা ভোগ। আর পাঁচটা দিনের মতো এদিনও মায়ের নিত্যভোগ হয়। সন্ধ্যারতির আগে মা’কে পুনরায় ফুল-মালা দিয়ে সাজানো হয়।

মন্দির কমিটির তরফ থেকে বলা হয়, “শ্যামা পুজোর শুভক্ষণে নাটোরের পুরোহিত এবং মন্দিরের পালাদার সেবাইত পুজোয় বসেন। একদিকে চলে চণ্ডীপাঠ, অন্যদিকে চলে পুজো। পুজো শেষে মায়ের আরতি এবং দ্বিতীয়বার ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগে পোলাও, খিচুড়ি, মাছ, মাংস, ভাজা মিষ্টি, পায়েস দেওয়া হয়”।

Image Source: Google

মন্দির কমিটি আরও বলে, “কালিপুজো উপলক্ষে সেবাইতদের বাড়ির মেয়েরা মন্দিরের চারিদিক মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোকিত করে তোলেন। সারারাত মোমবাতি আর মাটির প্রদীপে আলোকময় হয়ে থাকে শ্মশান চত্বর’।

আরও পড়ুনঃ ৩০০ বছরের ডাকাতে কালির হাড় হিম করা কাহিনি

রাতভর চলে যজ্ঞ। শ্মশানের বিভিন্ন জায়গায় সাধুসন্তরা ভক্তদের মঙ্গল কামনায় যজ্ঞ করে থাকেন। কেউ কেউ শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বারকা নদীতে প্রদীপ ভাসিয়ে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেন।

Image Source: Google

কালিপুজো উপলক্ষে ছাগ বলি দেওয়া হয়। বহু ভক্ত মানত করে বলি দিয়ে থাকেন। মা তারাকে শ্যামা রূপে পুজো দিতে দূরদূরান্তের বহু ভক্ত সকাল থেকে ভিড় জমান। সারাদিনই মাকে শ্যামা রূপে পুজো দেওয়া হয়।

কালিপুজোর দিন সারারাত খুলে রাখা হয় মন্দির। কালিপুজোতে তারা মার পুজো দিয়ে দর্শনার্থীরাও খুব খুশি হন। দর্শনার্থীরা অন্যান্য দিন মা তারা রূপে পুজো দিয়ে থাকেন। কিন্তু কালিপুজোয় মা কালির অন্য রূপে মা তারাকে পুজো দিতেই তারাপীঠে আসেন সবাই।

]]>
স্বপ্নের কালিপুজোয় মা কালির সঙ্গে সাধারণ নারীর পুজো https://thenewsbangla.com/puja-of-the-common-woman-with-goddess-kali-in-a-dream-kali-puja/ Mon, 05 Nov 2018 09:29:05 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1930 শিলিগুড়ি: স্বপ্নের মায়াজালে বন্দী কালিপুজোয় এবার সাধারণ নারীর পুজো। মা কালির পাশাপাশি এবার সাধারণ নারীকেও পুজো করার, সম্মান দেবার একটা বার্তা দেওয়া হচ্ছে শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার তরুন সংঘ ক্লাবের এবারের কালিপুজোয়।

স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে কেউ একজনকে টপকে ওপরে উঠে যায়। কেউ বা আবার স্বপ্ন সফল না হওয়ায় অতলে হারিয়ে যায়। সেই স্বপ্নকে নিয়েই শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার তরুন সংঘ ক্লাবের এবারের কালিপুজোর থিম “স্বপ্ন”। মানুষের সেই স্বপ্নলোককে আলোকোজ্জল করার জন্য চন্দননগরের আলোকসজ্জার সম্ভারে সমৃদ্ধ করে তোলা হচ্ছে। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে রবিবারই প্রতিমা নিয়ে আসা হয়েছে। মায়ের মুর্তিতেও থাকছে নারীকে সম্মানিত জায়গায় স্থান দেওয়ার স্বপ্ন।

আরও পড়ুন: ৩০০ বছরের ডাকাতে কালির হাড় হিম করা কাহিনি

শিলিগুড়ির মধ্যে বিগ বাজেটের কালিপুজোয় সেরার তকমা পাওয়া ক্লাবগুলির মধ্যে অন্যতম হাকিমপাড়ার তরুন সংঘ। প্রতি বছর অভিনবত্বে মানুষের মন কেড়ে নেয় এই ক্লাবের পুজো। দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই এখানকার পুজোর মন্ডপসজ্জা শুরু হয়ে যায়। গত বছর কালিপুজো শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ এ বছরের পুজোর থিমের পরিকল্পনা শুরু করেছিল।

আরও পড়ুনঃ অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা

মুলত মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা দেখে তাকেই “স্বপ্ন” নাম দিয়ে থাকে। কিন্তু স্বপ্ন হল, মানুষ ভবিষ্যতে যা হতে যায়। আসলে সব মানুষের স্বপ্নই হল বর্তমান অবস্থা থেকে আরও একটু ওপরে ওঠা। এরকম উপরে উঠতে উঠতে যে কাউকে পায়ের তলায় পৃষ্ট করতে কাল বিলম্ব করে না সে। যে যতই ওপরে উঠুক না কেন আরও আরও ওপরে ওঠার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে চলে। অনেকে ওপরে ওঠার সিড়িগুলো তরতর করে বেয়ে গেলেও অনেকে তা পারে না। দেশ বিদেশে ছড়িয়ে আছেন এমন অনেক ব্যাক্তিত্ব যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ওপরে উঠে নাম করে কয়েকশত বছর পরে আজও অম্লান।

The News বাংলা

সেই সমস্ত স্মৃতি-বিস্মৃতির মধ্যে থাকা মানুষগুলিকে পুনরায় মানুষের মনে জাগিয়ে তুলতে, তরুন সংঘ ক্লাব তাদের ছবি ও মুর্তিতে একটি স্টেজ তৈরী করেছে। অন্যদিকে বড় বড় বিল্ডিংয়ের সারি চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। মানুষের বড় হওয়া মানে শুধু নাম ও যশে নয় তা প্রতিপত্তিতেও। সেই ভাবনাতেই এই প্রাসাদপ্রতিম বিল্ডিংয়ের সারি।

কিন্তু এত ওপরে ওঠার পরও নারীদের যোগ্য সম্মানে সম্মানিত করা হয় না আজও। পথে ঘাটে অহরহ নারীরা শ্লীলতাহানীর শিকার হচ্ছে। মানুষ মায়ের পুজো করলেও নারীরা আজও ধর্ষন ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়। তাই মায়ের মুর্তির সামনেই রাখা হয়েছে শ্বেত শুভ্র বসনা সাধারণ নারীর মুর্তি। মায়ের পাশাপাশি সাধারণ নারীকেও পুজো করার, সম্মান দেবার একটা বার্তা দিতেই প্রতিমাতে অভিনবত্ব আনা হয়েছে, বলে জানান তরুন সংঘ ক্লাবের শ্যাম সাহা, ভবতোষ সাহা, তপন সাহারা।

আরও পড়ুন: ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের জমজমাট উৎসব

প্রতিমা শিল্পি আর কেউ নন, কলকাতার কুমোরটুলির নামকরা শিল্পি মোহনবাঁশি রুদ্রপাল। ক্লাব সদস্য অতনু দাম জানান, এ বছরের কালি পুজো বিগত ৬৪ বছরকেও ছাপিয়ে যাবে। পুজোর থিমের মধ্যে যেমন রয়েছে অভিনবত্বের ছোঁওয়া, ঠিক তেমনই বিসর্জনের দিনটিতেও থাকবে অভিনবত্ব। কার্নিভালের আদলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে করতে বিসর্জনের পথে এগিয়ে যাবেন মা।

একদিকে থাকবে পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্য শিল্পিরা, অন্যদিকে থাকবে স্থানিয় নেপালী নৃত্য ও ড্রাগন নৃত্যশিল্পিরাও। থাকবে বিভিন্ন রকমের সমাজ সচেতনতামুলক বার্তার ব্যানার ও ফেস্টুন। এছাড়া সবার প্রথমে প্রতিবারের মত এ বছরও, ক্লাবের পতাকা নিয়ে ছটি ঘোড়া ছুটবে। ৪০ টি ঢাকের তাল মায়ের যাত্রাপথকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়।

সোমবার পুজোর উদ্বোধনের দিন থেকে শুরু করে ভাইফোঁটার পরদিন বিসর্জনের দিন পর্যন্ত পুলিশের পাশাপাশি থাকবে দুটো শিফটে ৩০০ জনেরও বেশি ভলেন্টিয়ার৷ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবদিক নজরবন্দি করার জন্য থাকবে ১২টি সিসি ক্যামেরা ও যথেষ্ট পরিমানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। স্বপ্ন, ঘুমিয়ে নয়, চোখ কান ও মনকে খোলা রেখে তরুন সংঘ ক্লাবের মন্ডপ সজ্জায় দেখতে পাওয়া যাবে কালিপুজোর কয়েকটা দিন। কলকাতার কার্নিভালের আদলে এবার কলাীপুজোর বিসর্জনে নজর কাড়বে শিলিগুড়ি, দাবি তরুন সংঘ ক্লাবের কর্তাদের।

]]>
৩০০ বছরের ডাকাতে কালির হাড় হিম করা কাহিনি https://thenewsbangla.com/interesting-story-of-300-years-old-dacoits-ma-kali-pujo/ Thu, 01 Nov 2018 15:53:49 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1832 মালদহঃ মালদহের হবিবপুর থানার জাজৈল অঞ্চলে ‘মানিকোড়া কালি’ মা-কে গোটা মালদহে জাগ্রত কালি বলে জানেন সকলে। আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বের ডাকাতে কালি পুজো নিয়ে এক রহস্যময় কাহিনি আজও সেই এলাকার মানুষের মুখে মুখে ঘোরে।

সেই সময় একদল ডাকাত জঙ্গলে ভরা এই মানিকোড়ায় পূর্নভবা নদী পেরিয়ে এসে রাতভর মায়ের পুজোতে মেতে থাকত। আর সূর্যোদয়ের আগেই এলাকা ছেড়ে আবার চলে যেত জঙ্গলে। শুধু এই কাহিনি নয় আরও অনেক হাড় হিম করা গল্প আছে মানিকোড়ার এই মা কালিকে নিয়ে।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে তৃণমূল নেতাদেরই শাস্তির দাবীতে পোস্টার

৩০০ বছর পূর্বের কথা। তখন তো আর বাংলাদেশ বলে কিছু ছিল না। জঙ্গলে ভরা ছিল এই সমস্ত এলাকা। কিলোমিটার দুই গেলেই পূর্নভবা নদী। যা এখন ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত তৈরী করেছে। সেই পূর্নভবা নদী পার হয়ে ডাকাত দল এই মানিকোড়াতে এসে সারা রাত থেকে কালি পুজো করতো আর দিনে আলো ফোঁটার আগেই আবার পূর্নভবা পেরিয়ে ওপারে জঙ্গলে চলে যেত।

The News বাংলা

এই গল্প আজও ঘোরে ওই এলাকার বৃদ্ধ থেকে কিশোরের মুখে মুখে। তবে এই পূজো নিয়মনিষ্ঠা মেনে, করে আসছে ওই এলাকার এলাকাবাসীরাই। পূর্ব পুরুষদের মুখ থেকে গ্রামবাসীদের জানা যে, গত ৩০০ বছর আগে এই মানিকোড়া গ্রাম জঙ্গলে ভরা ছিল। দেশ ভাগের কোনো প্রশ্ন ছিল না। সেই সময় এই কালি পুজোর দিন পূর্নভবা পেরিয়ে একদল ডাকাত এসে পুজো করে যেত। অনেক সময় পুজো করার পর তারা ডাকাতি করতে যেত বলে প্রচলিত গল্প।

আরও পড়ুন: ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের জমজমাট উৎসব

আরও একটি বিষয় কথিত আছে যে যেহেতু ডাকাতেরা পুজো করতো, সেইজন্য নিঃশব্দে এই পুজো হতো। তাই এই মা কালি নাকি কোনোরকম আওয়াজ শুনতে পছন্দও করত না। এমনকি পুজোর পরে বলি দিত ডাকাতেরা। শোনা যায় নরবলিও দিত ডাকাতরা। সেই সময় মা নড়ে উঠত। তাই মাকে পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। আজও পাঁঠা বলির সময় সেই রীতি মেনে মায়ের পায়ে শিকল দেওয়া না হলেও মা যাতে বলি না দেখতে পায় সেই জন্য কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।

The News বাংলা

ধীরে ধীরে জনবসতি বাড়তে থাকায় ডাকাতেরা পুজো থেকে সরতে থাকে। ঠিক সেইসময় পুরো পুজোর দায়িত্ব নিয়ে নেয় এলাকার জমিদার ভৌরবেন্দ্র নারায়ন রায়। শেষ পর্যন্ত জমিদারি চলে যেতে থাকায় গত ১০০ বছর পূর্বে পুজোর দায়িত্ব জমিদাররা তুলে দেন গ্রামবাসীদের হাতেই। আজও ধুমধামের সাথে এই কালি পুজো করে আসছে মানিকোড়া গ্রামবাসীরা।

এই কালি পুজোকে ঘিরে হবিবপুর সহ মালদাতেও বেশ সাড়া পড়ে। কালি পুজোতে ভক্তদের ঢল নামে। সাতদিন ধরে চলে এখানে কালি পুজোর মেলা। পাশাপাশি আজও বলির রীতি আছে এই পুজোকে ঘিরে। প্রায় হাজার খানেক ছাগবলি পড়ে এখানে।

আরও পড়ুন: ছোট মেয়েকে হারিয়ে মনমরা মা শীলা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা 

এদিকে গ্রামবাসী ও এই পুজোর উদ্যোক্তারা এই কালিকে ঘিরে যে আরও বেশ কিছু হাড় হিম করা কাহিনি আছে সেটাও জানিয়েছেন। কথিত আছে এই গ্রামে এক শাঁখারি আসে শাঁখা বিক্রি করতে। সেই সময় এক মহিলা এসে তাঁর কাছে শাঁখা পড়তে চায়। শাঁখা পড়ার পর শাঁখারি টাকা চাইলে ওই মহিলা বলে, ‘টাকা তার বাবা দেবে’। শাঁখারি তার বাবা কে জানতে চাইলে ওই মহিলা সেবাইত কালিবাবার নাম উল্লেখ করেন। এরপর সেখানে কালিবাবা উপস্থিত হলে শাখারি তাঁর কাছে টাকা চান। কালিবাবা বলেন, তাঁর কোনো মেয়ে নেই। ঠিক সেই সময়ই দেখতে পান পুকুরে শাঁখা পড়া দুই হাত উঠে আছে। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে, স্বয়ং মা কালি তাঁর মেয়ে সেজে এসে শাঁখা পড়ে গেছে। তাঁর পরই শাঁখারিকে শাঁখার দাম দিয়ে দেয় ওই সেবাইত।

The News বাংলা

এছাড়া আরও এক কাহিনি সকলের মুখে মুখে ঘোরে তা হল, এই গ্রামে বেশ কিছু পরিবার এসে বসবাস শুরু করে। তাঁরা চিড়ে তৈরী করে বিক্রি করত। কথিত আছে, মা কালি রাতে আওয়াজ করা পছন্দ করে না। কিন্তু ওই গ্রামবাসীরা চিড়ে বানাতো রাতে। এবং তার জন্য আওয়াজ হত। কথিত আছে মা বেশ কয়েকবার স্বপ্নও দেন ওই চিড়ে বিক্রেতাদের। কিন্তু তবুও তারা না শোনায় গ্রামে কলেরা রোগ দেখা দেয়। বেশ কিছু লোক মারাও যায়। এরপর তারা রাতে চিড়ে তৈরী করা বন্ধ করে দেয়। আর কোন রোগও দেখা দেয় নি।

আরও পড়ুন: বিশ্বের সেরা একশোয় সত্যজিতের পথের পাঁচালি

ভক্তদের সমস্ত আর্জি মা মিটিয়ে দেন বলেই দাবি এলাকাবাসিদের। আজও নিষ্ঠার সাথে মানিকোড়া মায়ের পুজোর হয়ে আসছে ধুমধামের সাথে। আর মায়ের পুজোকে কেন্দ্র করে সাতদিন ধরে মেলাও জমে উঠে। সবার কাছেই, মানিকোড়া কালি আজও জাগ্রত কালি।

]]>