Ma Durga – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 15 Oct 2018 18:14:59 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Ma Durga – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের জমজমাট উৎসব https://thenewsbangla.com/the-4-day-durga-puja-is-now-a-15-day-festival-for-bengal/ Mon, 15 Oct 2018 17:44:11 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1246 বিশেষ রিপোর্ট : দুর্গা পুজো কতদিনের? ১০ বছর আগে হলেও এই প্রশ্নের উত্তর ছিল ৪ দিন। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী। তবে এখন দুর্গাপুজো প্রায় ১৫ দিনের। মহালয়া থেকে দ্বাদশী। যত দিন যাচ্ছে দুর্গাপুজোর সময়ের পরিধি বাড়ছে। ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের মনমাতানো জমজমাট উৎসব।

যত দিন যাচ্ছে, কলকাতার শারোদৎসবও এগোচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ষষ্ঠীতে মণ্ডপগুলোয় দেবীদর্শন করা যেতো না। চতুর্থী, পঞ্চমীর আগে তো মণ্ডপে প্রতিমাই ঢুকতো না। ষষ্ঠীর আগে যদিও বা ঢুকতো, ঢাকা থাকতো দুর্গা দুর্গতিনাশিনীর চিন্ময়ী মুখ। ফলে প্রশ্নই উঠতো না দেবীদর্শনের।

যদিও ওই সময় ফাঁকায় ফাঁকায় নামকরা মণ্ডপ আর তাদের চিত্র-বিচিত্র রকমারি আলোর বাহার দেখে, তার বর্ণনা দিয়ে পাড়ার আড্ডায় ‘হিরো’ বনতেন অনেকে। তা সত্ত্বেও পুজোর আগেই পুজোয় মাতায় বেশিরভাগেরই মন সায় দিতো না।

ধীরে ধীরে সময়ের বিবর্তনে কলকাতার সাবেকী ঘরনা পরিবর্তন হতে থাকে থিমে। পঞ্চমী, চতুর্থী, এমনকি তৃতীয়াতেও শুরু হতে থাকে দেবীদর্শন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পুজো উদ্বোধন শুরু করার পর মহালয়া থেকেই এখন পুজো শুরু হচ্ছে। কারণ, মহালয়া থেকেই প্রতিমা উদ্বোধন শুরু করেন তিনি।

আর এ বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে মূলপূজার অনেক আগেই, মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনার আগেই উৎসবে সামিল বাঙালি। কারণ এবার মহালয়ার আগেই উদ্বোধন হয়েছে পুজোর। মহালয়াতেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমেছে মানুষ। ভিড়ও বেড়েছে, বেড়েছে আলোর ছটাও। উৎসবে মাতোয়ারা মানুষ মূল পূজা শুরুর অনেক আগে থেকেই।

ফলে বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এতদিনকার ঐতিহ্য, ধারণা ও মিথ-সবই ভেঙে নতুন ট্রেন্ড গড়ছেন বাঙালিরাই। আগে সপ্তমী থেকে দশমী, চারদিন ও পরে ষষ্ঠী থেকে দশমী- এই পাঁচদিনেও আর বাধা রইল না পূজার আনন্দ-উচ্ছ্বলতা।

ছোট-বড় মণ্ডপে মহালয়ার পর থেকেই মানুষের আনাগোনা, উৎসাহ ও আগ্রহ দেখে বলা যায়, এ বছর থেকে বাঙালির সেরা এ উৎসব ১৫ দিনের! মহালয়া থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত !

কিন্তু কেন এতো আগে থেকে দেবী দর্শনের তাড়া? পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, কলকাতায় এখন আর সেই একই ধরনের প্রতিমা বা সেই মান্ধাতা আমলের মতো মণ্ডপ তৈরি হয় না। সবকিছুর মধ্যে আধুনিকতা ও শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে।

সারা কলকাতায় ৩ হাজার পুজোর মধ্যে অন্ততঃ ৫০০ মতো পুজোর চিন্তাধারা ভিন্ন। কারোর সঙ্গে কারো মিল নেই। অসাধারণ কিছু শিল্পকর্ম দেখা যায় এই ৫০০ পুজোয়। আরও কম করলে, উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে অন্ততঃ ১০০ পুজো হয় দেখার মত। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ।

এরপর যোগ হয়েছে সল্ট লেক। শেষ কয়েক বছরে কলকাতা পুরসভার পুজোগুলোকে রীতিমত লড়াই দিচ্ছে সল্টলেকের বেশ কিছু ব্লকের পুজো। এসব কি মিস করা যায়?

তাই মহালয়া থেকে যদি কিছুটা আগেভাগেই উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য কলকাতা, সল্টলেক প্রভৃতি এলাকার ঠাকুর দর্শন সেরে ফেলা যায় ! তাহলে পূজায় তুঙ্গে থাকা ওই চারটে দিনে ভিড়ের অত্যাচার সহ্য করতে হবে না।

ওই সময়টা পাড়ায় বা আত্মীয় বাড়িতে নিজের মতো করে কটা দিন কাটানো যাবে। তবে যে বা যারা যাই যুক্তি দিক না কেন, মহালয়া থেকে দেবীদর্শনে নেমে এ বছর পূজার আগেই উৎসব শুরু করে দিয়েছে কলকাতাবাসী।

আর তাতে, ৪ দিনের সেই পুজো এখন রীতিমতো ১৫ দিনের উৎসব। এরপর রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা পুরস্কার পেলে রেড রোডে ঠাকুর নিয়ে শোভাযাত্রা আছে, তারপর তো বিসর্জন। সবমিলিয়ে ৪ দিনের দুর্গাপূজা সময়ের পরিধি বাড়াতে বাড়াতে এখন ১৫ দিনের উৎসবে রূপ নিয়েছে।

]]>
‘ম্যাডামে’র মুখের আদলেই দেবী দুর্গার মুখ https://thenewsbangla.com/the-face-of-madam-was-placed-in-the-face-of-goddess-durga/ Mon, 08 Oct 2018 10:15:36 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=855 বিশেষ রিপোর্ট, কলকাতা: ম্যাডামের মুখের আদলেই করতে হবে দেবী দুর্গার মুখ। দাবি, চাহিদা এটাই। কে এই ম্যাডাম? ওটাই তো রহস্য। এই ম্যাডাম আর কেউ নয়। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। এই রহস্যের পর্দা উন্মোচন করলেই বেরিয়ে আসে বাংলার সোনার যুগের সোনার অক্ষরে লেখা ‘নস্টালজিয়ার’ গল্প।

পঞ্চাশ-ষাটের দশকের বিখ্যাত দমকলের ঠাকুর। শিল্পী রমেশ পালের ঠাকুর দেখতে সেন্ট্রাল এভিনিউয়ে দমকল স্টেশনে যেতেন সবাই। অনবদ্য প্রতিমা, শাড়ীর রং আগুন কমলা, কি অপূর্ব শিল্প, কি অপূর্ব চিন্তাধারা।

কলকাতা দমকল বাহিনী এই পুজো করত যা দেখতে ভীড় উপচে পড়ত, মিডিয়ার ভাষায় যাকে বলে দর্শনার্থীর ঢল। তখনকার কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজো। এই পুজো বন্ধ হয় আনুমানিক ১৯৬৩ সালে। এই পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয় কারণ, যদি দমকল বাহিনী পূজাব্যস্ততার কারনে ঠিকমত পরিষেবা কলকাতার অন্য প্যান্ডেলে দিতে না পারে।

একটা সময় কলেজ স্কোয়ার, পার্ক সার্কাস, খিদিরপুর যুবক সংঘ ছাড়া একডালিয়ার প্রতিমাও গড়তেন শিল্পী রমেশ পাল। দমকল বাহিনীর পুজো বন্ধ হয়ে যাবার পর এই পুজোর বেশ কিছু উদ্যোক্তাই পরে পাশের পার্কে মহম্মদ আলি পার্কের পুজো চালু করেন।

একটা সময়ে প্রতিমার মুখ মানে অবশ্যই ‘ম্যাডাম’ সুচিত্রা সেন। তখন মিসেস সেন ফুলফর্মে। প্রথম হায়েস্ট পেড নায়িকা, তাই দর্শক থেকে ক্লাব উদ্যোক্তারা সবাই চাইত প্রতিমা হবে ম্যাডামের মুখের আদলে। আর তারই সযত্নে রূপ দিতেন শিল্পী রমেশ পাল।

সে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। দেবী দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের আদল। রক্ষনশীল বাংলা সমাজে সম্ভবতঃ সেই প্রথম, মা দুর্গার মুখ করা হত ম্যাডাম মিসেস সেনের মুখের আদলে।

প্রথম দিকে লক্ষী, সরস্বতীর মুখের আদল করা হত সুচিত্রা সেনের মুখের মত। তারপর জনতার দাবি মেনে মা দুর্গার মুখে বসানো হল ম্যাডামের মুখ। আর তাই দেখতে ভিড় করতেন হাজার হাজার মানুষ। কলকাতা, জেলার মানুষ ছাড়াও দমকল বাহিনীর ‘সুচিত্রা প্রতিমা’ দেখতে একসময় দলে দলে কলকাতায় আসতেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ।

৫০ এর দশক থেকে প্রায় ৭০ এর দশক পর্যন্ত বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে ‘রাজ’ করেছেন মহানায়িকা। উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর জুটিকে বাংলা সিনেমার ‘Golden Era’ বা সোনার যুগ বলা হয়।

কিন্তু দুর্গা পুজোপ্রেমী মানুষ ও সাধারণ দর্শকদের চাপে, মা দুর্গার মুখে সুচিত্রা সেনের মুখের আদল দেওয়া হচ্ছে, এটাই ছিল সেই যুগের অবিস্মরণীয় একটা অধ্যায়।

]]>
দেবীপক্ষেই মর্তে আসছেন মা দুর্গা, দেবীপক্ষ কি জানুন https://thenewsbangla.com/mother-durga-is-coming-to-the-earth-on-debipakkho-what-is-the-debipakkho-in-indian-mythology/ Fri, 05 Oct 2018 12:34:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=815 নিজস্ব সংবাদদাতা : মা আসছেন। দেবীপক্ষ শুরু হলেই কৈলাশ থেকে মর্তে আসবেন মা দুর্গা। সেই দেবীপক্ষ পরতে হাতে মাত্র আর ২ দিন বাকি। কিন্তু আমরা কি জানি, দেবীপক্ষ ও পিতৃপক্ষ কি ?

পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষ কি ?

বছরের ১২ মাসে ২৪ টি পক্ষ রয়েছে, তার মধ্যে ২টি পক্ষ বিশেষ তাৎপর্য্যপূর্ণ। প্রথমটি পিতৃপক্ষ ও দ্বিতীয়টি দেবীপক্ষ। আশ্বিনের কৃষ্ণপক্ষের তিথীকে বলা হয় মহালয়া। এই কৃষ্ণপক্ষকে বলা হয় অপরপক্ষ কিংবা পিতৃপক্ষ।

পিতৃপক্ষে স্বর্গত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে পার্বন, শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করা হয়। পিতৃপুরুষেরা এই সময় যমালয় থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তাঁদেরকে তৃপ্ত করার জন্য তিল, জল, দান করা হয়। তাঁদের যাত্রাপথকে আলোকিত করার জন্য উল্কাদান করা হয়।

মহাভারতে বলা হয়েছে যে, মহাবীর কর্ণের আত্মা স্বর্গে গেলে সেখানে তাঁকে খেতে দেওয়া হল শুধুই সোনা আর ধনরত্ন। ‘ব্যাপার কী?’ কর্ণ জিজ্ঞাসা করলেন ইন্দ্রকে। ইন্দ্র বললেন, ‘তুমি সারাজীবন সোনাদানাই দান করেছো, পিতৃপুরুষকে জল দাও নি। তাই তোমার জন্যে এই ব্যবস্থা।’ কর্ণ বললেন, ‘আমার কী দোষ? আমার পিতৃপুরুষের কথা তো আমি জানতে পারলাম যুদ্ধ শুরুর আগের রাতে। মা কুন্তী আমাকে এসে বললেন, আমি নাকি তাঁর ছেলে। তারপর যুদ্ধে ভাইয়ের হাতেই মৃত্যু হলো। পিতৃত্বর্পণের সময়ই তো পেলাম না ।’

ইন্দ্র বুঝলেন, কর্ণের দোষ নেই। তাই তিনি কর্ণকে পনেরো দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে গিয়ে পিতৃপুরুষকে জল ও অন্ন দিতে অনুমতি দিলেন। ইন্দ্রের কথা মতো এক পক্ষকাল ধরে কর্ণ মর্ত্যে অবস্থান করে পিতৃপুরুষকে অন্নজল দিলেন। তাঁর পাপ স্খলন হলো এবং যে পক্ষকাল কর্ণ মর্ত্যে এসে পিতৃপুরুষকে জল দিলেন সেই পক্ষটি পরিচিত হল পিতৃপক্ষ নামে।

এই অমাবস্যায় পিতৃপূজা সেরে পরের পক্ষে দেবীপূজায় প্রবৃত্ত হতে হয়। তাই দেবীপূজার পক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ বা মাতৃপক্ষ। মহালয়া হচ্ছে পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং দেবীপক্ষের শুরুর দিন।

পিতৃপক্ষে আত্নসংযম করে দেবীপক্ষে শক্তি সাধনায় প্রবেশ করতে হয়। দেবী শক্তির আদিশক্তি, তিনি সর্বভূতে বিরাজিত। তিনি মঙ্গলদায়িনী করুনাময়ী। সাধক, সাধনা করে দেবীর বর লাভের জন্য, দেবীর মহান আলয়ে প্রবেশ করার সুযোগ পান বলেই এই দিনটিকে বলা হয় মহালয়া।

মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকে দেবী বন্দনা শুরু হয়। কোন কোন অঞ্চলে দেবীর আরাধনা প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়। আমাদের এখানে ষষ্ঠ তিথি থেকে দেবী বন্দনা শুরু হয়। দুই মতেই দেবী পূজার রীতি প্রচলিত আছে।

]]>