Kolkata durga puja – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Sat, 05 Jan 2019 06:44:39 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Kolkata durga puja – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের https://thenewsbangla.com/income-tax-notice-durga-puja-organizers-of-kolkata-are-in-a-big-trouble/ Sat, 05 Jan 2019 06:31:53 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5256 The News বাংলা, কলকাতা: বেশ চিন্তায় পরেছেন কলকাতার পুজো উদ্যোক্তারা। ডিসেম্বরের শেষে কলকাতার প্রায় ৪০টি বড় পুজোর কর্তারা পেয়েছেন আয়কর দফতরের নোটিশ। কেন কোটি কোটি টাকা আয় ও খরচা করার পরেও এক টাকাও আয়কর দেন না, টিডিএস জমা করেন না পুজো আয়োজকরা, প্রশ্ন আয়কর দফতরের। আগামী ৭ ও ৮ জানুয়ারী সোম ও মঙ্গলবার, ২০১৮ সালের পুজোর সব হিসাব নিয়ে আয়কর দফতরে দেখা করার নির্দেশ পেল কলকাতার ৪০টি পুজো।

রাজ্যের দুর্গাপুজোয় খরচ হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। কলকাতায় এক একটি বড় পুজো কোটি টাকার বেশি খরচা করে। অথচ এক টাকাও আয়কর দেওয়া হয় না। কেন আয়কর দেন না ? কেন টিডিএস কাটেন না? এই সব প্রশ্ন নিয়েই কলকাতার বড় ৪০টি পুজোকে এবার নোটিশ দিল ইনকাম ট্যাক্স। চিঠিতে পুজোর খরচা সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়ে অফিসে এসে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উদ্যোক্তাদের।

আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা
আয়কর দফতরের নোটিশ, মাথায় হাত কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের/The News বাংলা

জানা গেছে, কলকাতার প্রায় ৪০টি বড় পুজো কমিটিকে নোটিশ ধরিয়েছে আয়কর দফতর। জানুয়ারী মাসের ৭ ও ৮ তারিখের মধ্যে ওই সব পুজো কমিটিগুলির কর্তাদের গত বছরের পুজোর জমা খরচের পুরো হিসেব নিয়ে আয়কর ভবনে দেখা করতে বলা হয়েছে। বেশ কিছু প্রশ্নের ক্লারিফিকেশন চেয়েছে আয়কর দফতর। ডিসেম্বরের শেষেই পুজো উদ্যোক্তারা পেয়েছেন ইনকাম দফতরের নোটিশ। কি কি প্ৰশ্ন এর জবাব চেয়েছে ইনকাম ট্যাক্স দফতর?

মূল প্ৰশ্ন হল, মণ্ডপ শিল্পী বা থিম শিল্পী, প্রতিমা শিল্পী, আলোক শিল্পী, বাজনদার সকলকেই টাকা দেয় পুজো কমিটিগুলি। অথচ প্রদান করা সেই টাকা থেকে টিডিএস বা ট্যাক্স ডিডাকটেড অ্যাট সোর্স কেটে তা আয়কর দফতরের কাছে জমা করে না কোন পুজো উদ্যোক্তাই। কোটি কোটি টাকা আয় ও খরচা হলেও, সোর্স অফ ইনকাম ও খরচা এসবের অডিট করায় না কেউই। কোনো হিসাব আয়কর দফতরে কেন জমা পরে না, কেন পেমেন্ট করা সত্ত্বেও টিডিএস কাটা হয় না, এই সব প্রশ্নের ক্লারিফিকেশন চেয়েছে ইনকাম ট্যাক্স।

আরও পড়ুনঃ

ভোরবেলায় শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস সৃষ্টি ‘মা দুর্গার’

ফের গরু চোর সন্দেহে খুন, এবার ‘গোরক্ষকের’ নাম মুসলিম মিঁয়া

কংগ্রেস ছেড়ে মমতার ‘মহানায়িকা’ এবার মোদীর বক্স অফিসে

দেশপ্রেম বাড়াতে স্কুলের রোল কলে এবার ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় ভারত’

আয়কর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে রাজ্যে দুর্গাপুজোয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচা হয়েছে। অথচ দু-একটি পুজো উদ্যোক্তা ছাড়া কেউই টিডিএস কেটে ইনকাম ট্যাক্সে জমা দিচ্ছেন না। অথচ ১৯৬১ সালের ইনকাম ট্যাক্স রুলস অনুযায়ী, কাউকে তাঁর কাজের বিনিময়ে কোনও টাকা দেওয়া হলে টিডিএস কাটতে হবে এবং তা আয়কর দফতরে জমা করতে হবে।

আয়কর দফতরের কর্তারা জানাচ্ছেন, শিল্পীদের লাখ লাখ টাকা দেওয়া হয় যার টিডিএস আয়করের পাওয়ার কথা কিন্তু একটা টাকাও জমা পরে না। আয়কর কর্তাদের মতে, এখন দুর্গাপূজায় সম্পূর্ণ পেশাদারদের দিয়েই কাজ করানো হয়। সে ক্ষেত্রে খরচের ১০ শতাংশ আয়কর দফতরে জমা পড়ার কথা। কিন্তু কিছুই জমা পরে না।

ইনকাম ট্যাক্স কর্তারা আরও জানাচ্ছেন, রাজ্যে দুর্গাপূজায় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা খরচা হয়। কাজ করানো হয় পেশাদের দিয়ে। ১০ শতাংশ টিডিএস বাবদ আয়করে জমা পড়ার কথা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই বিশাল টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আয়কর দফতর। তবে এই ৫ হাজার কোটি টাকার গল্প উড়িয়ে দিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।

আর এই বিশাল হিসাব দেখেই এবার কোমর বেঁধেছেন আয়কর দফতরের কর্তারা। প্রাথমিক পর্বে নোটিশ পাঠানো হয়েছে কলকাতার প্রায় ৪০টি পুজো উদ্যোক্তাদের। এক আয়কর কর্তা জানিয়েছেন, উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার ৪-৫টি পুজো কমিটি ছাড়া টিডিএস কাটা ও তা আয়কর দফতরে জমা করার কথা কেউ ভাবেই না কেউ।

ইনকাম ট্যাক্সের নোটিশ পেয়ে চিন্তার ছায়া পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায়। শিল্পীদের পেমেন্ট থেকে ১০ শতাংশ টাকা কাটা যাবে কি? না হলে শিল্পীদের পেমেন্ট দেবার পর আবার টিডিএস দেওয়াটা আরও খরচ সাপেক্ষ ব্যপার। সেটাও বহন করতে হবে পুজো আয়োজকদেরই।

পেশায় আইনজীবি, কাশী বোস লেন পুজো কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা সৌমেন দত্ত জানিয়েছেন, “আমরা নোটিশ পেয়েছি। হিসাব নিয়ে যাব। তবে শুধু শিল্পীদের ক্ষেত্রে টিডিএস কাটা সম্ভব। বাকি তো গ্রাম থেকে গরিব কারিগরেরা এসে কাজ করেন। তাঁদের বেশির ভাগেরই প্যান কার্ড নেই। অনেকের ব্যাংক একাউন্টও নেই। তা ছাড়া এত হিসেব কে রাখবে? পুজো করব, না এ সব করব?”

হাতিবাগান সর্বজনীন এর পুজো উদ্যোক্তা শাশ্বত বাসু বলছেন “আয়কর দেওয়া উচিত, আমরা ট্যাক্স ফাইল করি। কিন্তু টিডিএস আমরা কি করে কাটব?” তিনি আরও জানান তাঁরা টিডিএস কাটলে শিল্পীদের ও বাজনদারদেরও পুজো সংক্রান্ত বিষয়ে ট্যাক্স ফাইল করতে হবে। সেটা কি সম্ভব?

বেশির ভাগ পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, “থিম শিল্পী থেকে বাজনদার বা ডেকরেটর থেকে আলোক শিল্পী, কেউ তো আর টাকা কম নেবেন না। ফলে, টিডিএস-এর টাকা আমাদের উপরেই বর্তাবে। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে”। অনেকেই বলেছেন, “পুজো আয়োজন সমাজসেবার মধ্যে পরে, সেখানে ছাড় পাওয়া উচিত”।

কেউ কেউ আবার এর পিছনে ভোটের বছরে রাজনীতির অঙ্কও দেখছেন। কারণ, কলকাতার প্রধান পুজোগুলির বেশির ভাগেরই উদ্যোক্তা হয় রাজ্যের মন্ত্রী, নয়তো তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা। অনেকের আবার সভাপতি তৃণমূল নেতা মন্ত্রী। তাঁদের চাপে রাখতেও আয়কর দফতর এমন পদক্ষেপ করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

শুধু বাংলার দুর্গা পুজোয় কেন নজর দিল আয়কর দফতর, সেই প্রশ্নও তুলছেন পুজো উদ্যোক্তা ও কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। তাঁর মতে, “মুম্বইয়ের গণেশপুজোয় তো এর থেকে অনেক বেশি জাঁকজমক হয়। সেখান থেকে কি কর চাওয়া হচ্ছে”? দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, তাঁরা টিডিএস কেটে জমা দেন, এই নিয়ে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু পুজোর সঙ্গে বেশিরভাগ তৃণমূল নেতা কর্মীরা যুক্ত আছেন, তাই এই রাজনৈতিক চক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের।

ঠিক একই কথা বলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ববি হাকিম থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তা ও উত্তর কলকাতার অনেক পুজোর সঙ্গে জড়িত থাকা অতীন ঘোষও। “পুজোর সঙ্গে তৃণমূল নেতারা সবাই জড়িত, তাই দেশের সব পুজোকে ছেড়ে বাংলার দুর্গা পুজোকে টার্গেট কেন্দ্রীয় সরকারের”, অভিযোগ সবার।

উত্তর কলকাতার এক পুজো উদ্যোক্তা আবার বলেছেন, “দিদির দেওয়া ১০ হাজার টাকা অনুদান কেটে নেবার চক্রান্ত করেছে মোদী। তাই এই পদক্ষেপ”। সব মিলিয়ে ২০১৯ এর পুজো প্রস্তুতির শুরুতেই পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায় চিন্তার পাহাড় চাপাল আয়কর দফতর। আগামী সোম ও মঙ্গলবারের আয়কর দফতরে হাজিরায় কি হবে সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে মায়ের ভক্তদের।

আরও পড়ুনঃ

শীতের বাংলায় বৃষ্টি আনতে আন্দামান থেকে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘পাবুক’

EXCLUSIVE: সংখ্যালঘুদের ধর্মে সুড়সুড়ি দিয়ে প্রকাশ্যে ভারতের টাকার কালোবাজারি

EXCLUSIVE: নতুন বছরে সুখবর, রাজ্য সরকারি কর্মীরা পাচ্ছেন বকেয়া ডিএ

‘রাম’কে ছেড়ে আসা লক্ষণকে ‘হাতে’ নিয়ে বাংলায় তুলকালাম

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের জমজমাট উৎসব https://thenewsbangla.com/the-4-day-durga-puja-is-now-a-15-day-festival-for-bengal/ Mon, 15 Oct 2018 17:44:11 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1246 বিশেষ রিপোর্ট : দুর্গা পুজো কতদিনের? ১০ বছর আগে হলেও এই প্রশ্নের উত্তর ছিল ৪ দিন। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী। তবে এখন দুর্গাপুজো প্রায় ১৫ দিনের। মহালয়া থেকে দ্বাদশী। যত দিন যাচ্ছে দুর্গাপুজোর সময়ের পরিধি বাড়ছে। ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের মনমাতানো জমজমাট উৎসব।

যত দিন যাচ্ছে, কলকাতার শারোদৎসবও এগোচ্ছে। কয়েক বছর আগেও ষষ্ঠীতে মণ্ডপগুলোয় দেবীদর্শন করা যেতো না। চতুর্থী, পঞ্চমীর আগে তো মণ্ডপে প্রতিমাই ঢুকতো না। ষষ্ঠীর আগে যদিও বা ঢুকতো, ঢাকা থাকতো দুর্গা দুর্গতিনাশিনীর চিন্ময়ী মুখ। ফলে প্রশ্নই উঠতো না দেবীদর্শনের।

যদিও ওই সময় ফাঁকায় ফাঁকায় নামকরা মণ্ডপ আর তাদের চিত্র-বিচিত্র রকমারি আলোর বাহার দেখে, তার বর্ণনা দিয়ে পাড়ার আড্ডায় ‘হিরো’ বনতেন অনেকে। তা সত্ত্বেও পুজোর আগেই পুজোয় মাতায় বেশিরভাগেরই মন সায় দিতো না।

ধীরে ধীরে সময়ের বিবর্তনে কলকাতার সাবেকী ঘরনা পরিবর্তন হতে থাকে থিমে। পঞ্চমী, চতুর্থী, এমনকি তৃতীয়াতেও শুরু হতে থাকে দেবীদর্শন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়ে পুজো উদ্বোধন শুরু করার পর মহালয়া থেকেই এখন পুজো শুরু হচ্ছে। কারণ, মহালয়া থেকেই প্রতিমা উদ্বোধন শুরু করেন তিনি।

আর এ বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে মূলপূজার অনেক আগেই, মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনার আগেই উৎসবে সামিল বাঙালি। কারণ এবার মহালয়ার আগেই উদ্বোধন হয়েছে পুজোর। মহালয়াতেই কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমেছে মানুষ। ভিড়ও বেড়েছে, বেড়েছে আলোর ছটাও। উৎসবে মাতোয়ারা মানুষ মূল পূজা শুরুর অনেক আগে থেকেই।

ফলে বাংলার অন্যতম প্রধান উৎসবকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এতদিনকার ঐতিহ্য, ধারণা ও মিথ-সবই ভেঙে নতুন ট্রেন্ড গড়ছেন বাঙালিরাই। আগে সপ্তমী থেকে দশমী, চারদিন ও পরে ষষ্ঠী থেকে দশমী- এই পাঁচদিনেও আর বাধা রইল না পূজার আনন্দ-উচ্ছ্বলতা।

ছোট-বড় মণ্ডপে মহালয়ার পর থেকেই মানুষের আনাগোনা, উৎসাহ ও আগ্রহ দেখে বলা যায়, এ বছর থেকে বাঙালির সেরা এ উৎসব ১৫ দিনের! মহালয়া থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত !

কিন্তু কেন এতো আগে থেকে দেবী দর্শনের তাড়া? পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, কলকাতায় এখন আর সেই একই ধরনের প্রতিমা বা সেই মান্ধাতা আমলের মতো মণ্ডপ তৈরি হয় না। সবকিছুর মধ্যে আধুনিকতা ও শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে।

সারা কলকাতায় ৩ হাজার পুজোর মধ্যে অন্ততঃ ৫০০ মতো পুজোর চিন্তাধারা ভিন্ন। কারোর সঙ্গে কারো মিল নেই। অসাধারণ কিছু শিল্পকর্ম দেখা যায় এই ৫০০ পুজোয়। আরও কম করলে, উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে অন্ততঃ ১০০ পুজো হয় দেখার মত। এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায় দেখ।

এরপর যোগ হয়েছে সল্ট লেক। শেষ কয়েক বছরে কলকাতা পুরসভার পুজোগুলোকে রীতিমত লড়াই দিচ্ছে সল্টলেকের বেশ কিছু ব্লকের পুজো। এসব কি মিস করা যায়?

তাই মহালয়া থেকে যদি কিছুটা আগেভাগেই উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য কলকাতা, সল্টলেক প্রভৃতি এলাকার ঠাকুর দর্শন সেরে ফেলা যায় ! তাহলে পূজায় তুঙ্গে থাকা ওই চারটে দিনে ভিড়ের অত্যাচার সহ্য করতে হবে না।

ওই সময়টা পাড়ায় বা আত্মীয় বাড়িতে নিজের মতো করে কটা দিন কাটানো যাবে। তবে যে বা যারা যাই যুক্তি দিক না কেন, মহালয়া থেকে দেবীদর্শনে নেমে এ বছর পূজার আগেই উৎসব শুরু করে দিয়েছে কলকাতাবাসী।

আর তাতে, ৪ দিনের সেই পুজো এখন রীতিমতো ১৫ দিনের উৎসব। এরপর রাজ্য সরকারের বিশ্ববাংলা পুরস্কার পেলে রেড রোডে ঠাকুর নিয়ে শোভাযাত্রা আছে, তারপর তো বিসর্জন। সবমিলিয়ে ৪ দিনের দুর্গাপূজা সময়ের পরিধি বাড়াতে বাড়াতে এখন ১৫ দিনের উৎসবে রূপ নিয়েছে।

]]>
দেবীপক্ষেই মর্তে আসছেন মা দুর্গা, দেবীপক্ষ কি জানুন https://thenewsbangla.com/mother-durga-is-coming-to-the-earth-on-debipakkho-what-is-the-debipakkho-in-indian-mythology/ Fri, 05 Oct 2018 12:34:13 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=815 নিজস্ব সংবাদদাতা : মা আসছেন। দেবীপক্ষ শুরু হলেই কৈলাশ থেকে মর্তে আসবেন মা দুর্গা। সেই দেবীপক্ষ পরতে হাতে মাত্র আর ২ দিন বাকি। কিন্তু আমরা কি জানি, দেবীপক্ষ ও পিতৃপক্ষ কি ?

পিতৃপক্ষ এবং দেবীপক্ষ কি ?

বছরের ১২ মাসে ২৪ টি পক্ষ রয়েছে, তার মধ্যে ২টি পক্ষ বিশেষ তাৎপর্য্যপূর্ণ। প্রথমটি পিতৃপক্ষ ও দ্বিতীয়টি দেবীপক্ষ। আশ্বিনের কৃষ্ণপক্ষের তিথীকে বলা হয় মহালয়া। এই কৃষ্ণপক্ষকে বলা হয় অপরপক্ষ কিংবা পিতৃপক্ষ।

পিতৃপক্ষে স্বর্গত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে পার্বন, শ্রাদ্ধ ও তর্পণ করা হয়। পিতৃপুরুষেরা এই সময় যমালয় থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তাঁদেরকে তৃপ্ত করার জন্য তিল, জল, দান করা হয়। তাঁদের যাত্রাপথকে আলোকিত করার জন্য উল্কাদান করা হয়।

মহাভারতে বলা হয়েছে যে, মহাবীর কর্ণের আত্মা স্বর্গে গেলে সেখানে তাঁকে খেতে দেওয়া হল শুধুই সোনা আর ধনরত্ন। ‘ব্যাপার কী?’ কর্ণ জিজ্ঞাসা করলেন ইন্দ্রকে। ইন্দ্র বললেন, ‘তুমি সারাজীবন সোনাদানাই দান করেছো, পিতৃপুরুষকে জল দাও নি। তাই তোমার জন্যে এই ব্যবস্থা।’ কর্ণ বললেন, ‘আমার কী দোষ? আমার পিতৃপুরুষের কথা তো আমি জানতে পারলাম যুদ্ধ শুরুর আগের রাতে। মা কুন্তী আমাকে এসে বললেন, আমি নাকি তাঁর ছেলে। তারপর যুদ্ধে ভাইয়ের হাতেই মৃত্যু হলো। পিতৃত্বর্পণের সময়ই তো পেলাম না ।’

ইন্দ্র বুঝলেন, কর্ণের দোষ নেই। তাই তিনি কর্ণকে পনেরো দিনের জন্য মর্ত্যে ফিরে গিয়ে পিতৃপুরুষকে জল ও অন্ন দিতে অনুমতি দিলেন। ইন্দ্রের কথা মতো এক পক্ষকাল ধরে কর্ণ মর্ত্যে অবস্থান করে পিতৃপুরুষকে অন্নজল দিলেন। তাঁর পাপ স্খলন হলো এবং যে পক্ষকাল কর্ণ মর্ত্যে এসে পিতৃপুরুষকে জল দিলেন সেই পক্ষটি পরিচিত হল পিতৃপক্ষ নামে।

এই অমাবস্যায় পিতৃপূজা সেরে পরের পক্ষে দেবীপূজায় প্রবৃত্ত হতে হয়। তাই দেবীপূজার পক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ বা মাতৃপক্ষ। মহালয়া হচ্ছে পিতৃপক্ষের শেষ দিন এবং দেবীপক্ষের শুরুর দিন।

পিতৃপক্ষে আত্নসংযম করে দেবীপক্ষে শক্তি সাধনায় প্রবেশ করতে হয়। দেবী শক্তির আদিশক্তি, তিনি সর্বভূতে বিরাজিত। তিনি মঙ্গলদায়িনী করুনাময়ী। সাধক, সাধনা করে দেবীর বর লাভের জন্য, দেবীর মহান আলয়ে প্রবেশ করার সুযোগ পান বলেই এই দিনটিকে বলা হয় মহালয়া।

মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকে দেবী বন্দনা শুরু হয়। কোন কোন অঞ্চলে দেবীর আরাধনা প্রতিপদ থেকেই শুরু হয়। আমাদের এখানে ষষ্ঠ তিথি থেকে দেবী বন্দনা শুরু হয়। দুই মতেই দেবী পূজার রীতি প্রচলিত আছে।

]]>