Kolkata Corporation – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Fri, 23 Nov 2018 16:16:29 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Kolkata Corporation – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 বাংলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কি জানে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর https://thenewsbangla.com/bengal-health-department-does-not-know-the-number-of-dengue-death/ Fri, 23 Nov 2018 16:02:11 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2962 The News বাংলা, কলকাতাঃ ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কত? অভিযোগ, জানে না রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। যে মশাবাহিত অসুখে নিয়মিত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, সেই রোগের বিষয়টা চেপে যাচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ডেঙ্গুতে মৃত বা আক্রান্তের কোনও তথ্য এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি তারা।

সল্টলেকের সমীর মন্ডল, প্রিয়াঙ্কা জয়সওয়াল আরও অনেককে নিয়ে সাম্প্রতিককালে ডেঙ্গুতে মৃতের তালিকা দীর্ঘ থেকে ক্রমশই দীর্ঘতর হচ্ছে। চলতি বছরে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কত? আক্রান্ত কতজন? এই প্রশ্নের কোনও জবাব নেই রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের কাছে। ডেঙ্গু সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই কলকাতা পুরসভার কাছেও।

Image Source: Google

অথচ পুর পারিষদ (স্বাস্থ্য) ও বর্তমানে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের স্পষ্ট কথা,’শীতে মশা থাকবে না, কে বলল?’ কিন্তু ডেঙ্গুতে মৃত বা আক্রান্তের কোন তথ্য তাঁর কাছেও নেই। অথচ রাজ্যের চিকিৎসকরা বলছেন,’এই তথ্য লুকোতে গিয়ে কুষ্ঠ মহামারীর আকার ধারন করেছিল। এবারও যেন তাই না হ্য। সরকারের ভাবা দরকার।’

আরও পড়ুনঃ ভারতবাসীকে নেতাজীর মৃত্যুদিন জানাল বাংলার পুরসভা

এখনও অনেকেই এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। নতুন নতুন রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন নিয়মিত। অনেকে আবার বাড়িতেই চিকিৎসা করাচ্ছেন।

Image Source: Google

যাদবপুর এলাকায় সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলেও খবর। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালে সারা বছর ‘অজানা জ্বরে’ রোগীর চিকিৎসা চলে। সেই ‘জ্বর’ অজানাই থেকে যায় বলেই অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ ‘পুলিশ হত্যা মামলা’তেও বাংলার পুলিশের মুখে চুনকালি

বিশিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন,’অজানা জ্বর বলাও লজ্জাজনক। মন্ত্রীও বলার জন্যে বলছেন। বরং ডেঙ্গু বললে সম্মান থাকে। শুধু ডেঙ্গু নয়, ম্যালেরিয়ায় প্রচুর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিরোধক ব্যবস্থাও দুর্বল হচ্ছে ক্রমশ। এবছর ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত খবর। তবে তথ্য চাপা দেওয়ার এই লুকোচুরি বন্ধ হওয়া উচিত। কুষ্ঠ এই ভাবেই মহামারী হয়ে গিয়েছিল।’

Image Source: Google

কী করা উচিত এক্ষেত্রে? ডাক্তাররা বলছেন, ‘সন্দেহ হলেই এই ধরনের অসুখগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তাহলে রোগী সঠিক চিকিৎসা পাবেন। যদি দেখা যায় ওই অসুখটা হয়নি, তাহলে তো ভালই। কিন্তু অসুখ হলে প্রকৃত চিকিৎসা হবে। ডেঙ্গু সংক্রান্ত তথ্য চেপে যাওয়া কোনও সভ্য দেশে হওয়া উচিত নয়। উন্নত কোনও দেশে এমন হয় না। তথ্য চেপে যাওয়া মানে গুরুত্ব না দেওয়া। এটা ক্ষতিকর এবং অন্যায়ও। এর ফলে আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’

Image Source: Google

ডেঙ্গু নিয়ে যখন চিকিৎসকরা এতটা চিন্তিত, তখন সরকারি স্তরে কোনও হেলদোল নেই কেন? ডেঙ্গুতে মৃত বা আক্রান্তের সংখ্যা কত? রাজ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা(প্রশাসন) অজয় চক্রবর্তী বলেন,’ডেঙ্গু মৃত্যুর তথ্য এখনও চূড়ান্ত হয় নি।’ আদৌ কবে তা চূড়ান্ত হবে তা জানেন না স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনও অধিকর্তাই।

আরও পড়ুনঃ EXCLUSIVE: ‘বৈশাখী প্রেমে ব্যস্ত’ কলকাতা ছাড়ছেন এক সাচ্চা প্রেমিক

তবে এখনও পর্যন্ত বেসরকারি সুত্রে, এবছর রাজ্যে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪০-৪৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের বক্তব্য, সরকারি স্তরে মৃতের সংখ্যা পাঁচজন, আক্রান্ত ৩ হাজার।

Image Source: Google

নির্মীয়মান আবাসন, মেট্রো প্রকল্পের কাজ, বিপজ্জনক বাড়ি সহ নানা জায়গাই এখন কলকাতায় মশার আঁতুড়ঘরে পরিনত হয়েছে। মশা নিধনে পুরউদ্যোগ যে নেই তা নয়, কিন্তু সার্বিক কাজ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের। যাদবপুরের বাসিন্দাদের দাবি, ‘মশার উৎপাতে এই শহরে থাকাই দায় হয়ে গিয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম মেয়র পেল মমতার কলকাতা

পুর পারিষদ (স্বাস্থ্য) ও বর্তমানে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষের প্রশ্ন, মশা কেন থাকবে না? কিন্তু সদুত্তর দিতে পারেননি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বা মৃতের সংখ্যা নিয়ে। মেয়র পারিষদ স্বাস্থ্যর বিস্তারিত উক্তি,’সারা বছর মশা নিধন করে কলকাতা পুরসভা। শীতে মশা থাকবে না আপনাকে কে বলেছে?’

পুর পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ আরও বলেন, ‘২৪-২৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে মশা থাকাই স্বাভাবিক।’ তবে, সরকারি আধিকারিকদের কাছে যেটা স্বাভাবিক সেটা সাধারণ মানুষের কাছে দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে না তো? ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বা মৃতের সংখ্যা কত? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে।

]]>
স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম মেয়র পেল মমতার কলকাতা https://thenewsbangla.com/mamtas-kolkata-will-get-the-first-muslim-mayor-after-independence/ Thu, 22 Nov 2018 08:54:21 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2893 The News বাংলা, কলকাতাঃ স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম মেয়র পেল মমতার কলকাতা পুরসভা। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট দেশ স্বাধীন হবার পর আর কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ কলকাতার মেয়র হন নি। ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র করে সেই নজির গড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাধীনতার আগে ১৯৩৫ সালের এপ্রিলে কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র হন আবুল কাশেম ফজলুল হক (৩০/০৪/১৯৩৫-২৯/০৪/১৯৩৬)।

স্বাধীনতার আগে কলকাতার মুসলিম মেয়র হন আবদুর রহমান সিদ্দিকি (২৪/০৪/১৯৪০-২৮/০৪/১৯৪১), সাঈদ বদরুদ্দোজা (৩০/০৪/১৯৪৩-২৬/০৪/১৯৪৪) ও সাঈদ মহম্মদ উসমান (২৯/০৪/১৯৪৬-২৯/০৪/১৯৪৭)। স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম মেয়র পেল মমতার কলকাতা পুরসভা। সৌজন্যে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

The News বাংলা Exclusive
The News বাংলা Exclusive

১৯২৪ সালে কলকাতার প্রথম মেয়র হন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস। ১৯৯০ সালে প্রশান্ত চ্যাটার্জির পর দল নির্বিশেষে টানা ২৮ বছর কলকাতার মেয়র ছিলেন একজন ব্রাহ্মন। এবার সেই আসনে বসবেন স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

একনজরে দেখে নিন কলকাতার মেয়র পদের তালিকাঃ

The News বাংলা Exclusive
The News বাংলা Exclusive

দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, (১৬/০৪/১৯২৪-১৭/০৭/১৯২৫)
দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত,(১৭/০৭/১৯২৫-০২/০৪/১৯২৮)
বিজয়কুমার বসু,(০২/০৪/১৯২৮-১০/০৪/১৯২৯)
দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত,(১০/০৪/১৯২৯-২২/০৮/১৯৩০)
সুভাষচন্দ্র বসু,(২২/০৮/১৯৩০-১৫/০৪/১৯৩১)

ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়,(১৫/০৪/১৯৩১-০৯/০৪/১৯৩৩)
সন্তোষকুমার বসু,(০৯/০৪/১৯৩৩-০৪/০৭/১৯৩৪)
নলিনীরঞ্জন সরকার,(০৪/০৭/১৯৩৪-৩০/০৪/১৯৩৫)
আবুল কাশেম ফজলুল হক,(৩০/০৪/১৯৩৫-২৯/০৪/১৯৩৬)
স্যার হরিশঙ্কর পাল,(২৯/০৪/১৯৩৬-২৮/০৪/১৯৩৭)

সনৎকুমার রায়চৌধুরি,(২৮/০৪/১৯৩৭-২৯/০৪/১৯৩৮)
এ কে এম জাকারিয়া,(২৯/০৪/১৯৩৮-২৬/০৪/১৯৩৯)
নিশীথচন্দ্র সেন,(২৬/০৪/১৯৩৯-২৪/০৪/১৯৪০)
আবদুর রহমান সিদ্দিকি,(২৪/০৪/১৯৪০-২৮/০৪/১৯৪১)
ফণীন্দ্রনাথ ব্রহ্ম,(২৮/০৪/১৯৪১-২৯/০৪/১৯৪২)

হেমচন্দ্র নস্কর,(২৯/০৪/১৯৪২-৩০/০৪/১৯৪৩)
সাঈদ বদরুদ্দোজা,(৩০/০৪/১৯৪৩-২৬/০৪/১৯৪৪)
আনন্দিলাল পোদ্দার,(২৬/০৪/১৯৪৪-২৭/০৪/১৯৪৫)
দেবেন্দ্রনাথ মুখার্জি,(২৭/০৪/১৯৪৫-২৯/০৪/১৯৪৬)
সাঈদ মহম্মদ উসমান,(২৯/০৪/১৯৪৬-২৯/০৪/১৯৪৭)

সুধীরচন্দ্র রায়চৌধুরি,(২৯/০৪/১৯৪৭-০১/০৫/১৯৫২)
নির্মলচন্দ্র চন্দ্র,(০১/০৫/১৯৫২-০৬/০৩/১৯৫৩)
নরেশনাথ মুখার্জি,(০৬/০৩/১৯৫৩-২৫/০৪/১৯৫৫)
সতীশচন্দ্র ঘোষ,(২৫/০৪/১৯৫৫-২৯/০৪/১৯৫৭)
ডাঃ ত্রিগুণা সেন,(২৯/০৪/১৯৫৭-০৮/০৪/১৯৫৯)

বিজয়কুমার ব্যানার্জি,(০৮/০৪/১৯৫৯-০৮/০৬/১৯৬০)
কেশবচন্দ্র বসু,(০৮/০৬/১৯৬০-২৮/০৪/১৯৬১)
রাজেন্দ্রনাথ মজুমদার,(২৮/০৪/১৯৬১-০৮/০৪/১৯৬৩)
চিত্তরঞ্জন চ্যাটার্জি,(০৮/০৪/১৯৬৩-২৬/০৪/১৯৬৫)
ডাঃ প্রীতিকুমার রায়চৌধুরি,(২৬/০৪/১৯৬৫-২৪/০৪/১৯৬৭)

গোবিন্দচন্দ্র দে,(২৪/০৪/১৯৬৭-১৩/০৬/১৯৬৯)
প্রশান্তকুমার শূর,(১৩/০৬/১৯৬৯-২৩/০৪/১৯৭১)
শ্যামসুন্দর গুপ্ত,(২৩/০৪/১৯৭১-৩০/০৭/১৯৮৫)
কমলকুমার বসু,(৩০/০৭/১৯৮৫-৩০/০৭/১৯৯০)
প্রশান্ত চ্যাটার্জি,(৩০/০৭/১৯৯০-১২/০৭/২০০০)

সুব্রত মুখার্জি,(১২/০৭/২০০০-০৫/০৭/২০০৫)
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য,(০৫/০৭/২০০৫-১৬/০৬/২০১০)
শোভন চট্টোপাধ্যায়,(১৬/০৬/২০১০-২২/১১/২০১৮)
ফিরহাদ হাকিম (২০১৮- বর্তমান)

The News বাংলা Exclusive
The News বাংলা Exclusive

মমতার হাত দিয়ে এই রেকর্ডও গড়ে ফেলল বাংলা। ২০১৯ লোকসভা ও ২০২১ বিধানসভা ভোটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট যে মমতার দিকেই ঝুঁকবে এটাই আশা করছেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা। তবে, কিছুদিন আগেই এক সাংবাদিক ইনটারভিউতে ‘মিনি পাকিস্তান’ শব্দ ব্যবহার করে বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। নারদ মামলাতেও তাঁর নাম আছে।

এই সিদ্ধান্তে হিন্দু ভোটে কোন প্রভাব পড়বে না তো? প্রশ্ন কিন্তু উঠছে। তবে, ভোটের ফলাফল ও ভোট শতাংশই বলবে মমতার এই মাস্টার স্ট্রোক কতটা সফল হল। আপাতত মমতার হাত ধরে স্বাধীনতার পর প্রথম মুসলিম মেয়র পেয়ে নজির কলকাতার।

]]>
বাংলার পুরমন্ত্রীই কি কলকাতা পুরসভার নতুন মেয়র https://thenewsbangla.com/municipal-affairs-minister-of-bengal-the-new-mayor-of-the-kolkata-municipality/ Wed, 21 Nov 2018 12:06:45 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2826 The News বাংলা, কলকাতা: মন্ত্রীত্ব থেকে শোভন চ্যাটার্জী ইস্তফা দেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মেয়র পদ থেকেও ইস্তফা দিতে বলেন। কিন্তু এবার কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে কে বসবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যে পদে একসময় ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, সেই পদে এবার কে?

বরাবরের মত এবারেও শোনা যাচ্ছে, মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন দুই মেয়র পারিষদ- অতীন ঘোষ ও দেবাশিস কুমার। মমতার নির্দেশে, শোভন চ্যাটার্জীর অবর্তমানে যাবতীয় কাজের দেখভালের দায়িত্ব আপাতত থাকবেন পুরসভার কমিশনার খলিল আহমেদ।

Image Source: Google

তবে, মেয়রের চেয়ারে কে বসবেন সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। এতদিন তৃণমূলে মেয়র হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার নেতারাই। সে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই হোন বা শোভন চ্যাটার্জী, সেই সূচি মেনে দেবাশিস কুমারের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন অনেকে।

কিন্তু কারও কারও মতে, উত্তর কলকাতার মেয়র পারিষদরা ভালো কাজ করলেও সেই স্বীকৃতি এতদিন পাননি। সেই কারণেই এবার মেয়র হতে পারেন অতীন ঘোষ।

আরও পড়ুনঃ কয়েক দশকের সম্পর্ক শেষ করে শোভনকে তাড়ালেন মমতা

এর বাইরে আরও একটি নামও শোনা যাচ্ছে, সেটি হল বর্তমানে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়৷ দীর্ঘদিন তিনি পুরসভার মেয়র পারিষদের দায়িত্ব সামলেছেন। যদিও মাঝে তাঁর সঙ্গে দলের দূরত্ব বেড়েছিল।

তিনি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু ফের ঘাসফুলে ফিরলে, তাঁকে যোগ্য সম্মানই দিয়েছেন নেত্রী। সেক্ষেত্রে মালা রায়ের দিকেও পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুনঃ ঘাসফুল ছেঁটে মমতার ‘কাননে’ কি এবার পদ্ম

তবে শেষ পর্যন্ত উঠে এসেছে, রাজ্যের তিন হেভিওয়েট মন্ত্রীর নাম। সুব্রত মুখোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম। সুব্রতবাবু আগে কলকাতা করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ত্ব সফলভাবেই সামলেছেন। তবে এখন, সুব্রতবাবু মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি মেয়র হতে চান না বলেই তৃণমূল সূত্রে খবর।

Image Source: Google

জোরদার লড়াই এখন অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিমের মধ্যে। ফিরহাদ হাকিমের পাল্লাই ভারী বলে মনে করছে মমতার খুব কাছের তৃণমূল নেতারা। কারণ তিনি আগে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ ছিলেন। তাছাড়া তিনি রাজ্যের পুরমন্ত্রীও। পুরসভার মেয়র ও পুরমন্ত্রী একজন হলে কাজে গতি আসবে বলে মনে করেন স্বয়ং মমতাও।

আরও পড়ুনঃ প্রেমের জয়ে বদনাম বিশ্ব সংসার ‘অ-শোভন’

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ এ লোকসভা ভোট আর ২০২১ এ বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোট পুরোটাই নিজের ঝুলিতে রাখতেই ফিরহাদ হাকিমকেই কলকাতার মেয়র করবেন মমতা। তবে, পুরসভার আইন অনুযায়ী কাউন্সিলর না হলে কেউ মেয়র হতে পারবেন না। তাই, ফিরহাদ হাকিমকে মেয়র করতে হলে বিধানসভায় পুর আইন সংশোধন করতে হবে মুখ্যমন্ত্রীকে।

জোরদার লড়াইয়ে আছেন অরুপ বিশ্বাসও। তৃণমূল সূত্রের খবর, ফিরহাদ ও অরুপ দুজনেই এখন দিদির খুব পছন্দের। অরুপ বিশ্বাস নিজেও মেয়র হবার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তবে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মেয়র হবার দৌড়ে এগিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমই। তাই তাঁকে মেয়র পদে বসাতে কলকাতা পুরসভার আইন সংশোধন করতে চাইছেন মমতা, এমনটাই নবান্ন সূত্রে খবর।

আরও পড়ুনঃ মেয়রের পদত্যাগ দাবী করল তৃণমূল কংগ্রেস

শেষ পর্যন্ত কি পুরমন্ত্রীই হতে চলেছেন কলকাতার পরবর্তী মেয়র? সম্ভাবনা বাড়ছে। তবে, যিনি ঠিক করবেন তিনি এখনও ফাইনাল সিদ্ধান্ত নেন নি বলেই খবর। আলোচনার বাইরে কোন বিশিষ্ট জনকেও তিনি কলকাতার মেয়র করতে পারেন বলে খবর।

এই পরিস্থিত ‘কাননে’র জায়গায় নেত্রী কাকে বসান, সেটাই এখন দেখার। অতীন-দেবাশীষ-সুব্রত-অরূপ-ফিরহাদ না এর বাইরে অন্য কেউ? সিদ্ধান্ত সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই। আর কে না জানে, নেত্রী সবসময় ‘আনপ্রেডিকটেবল’। তিনি কি করবেন একমাত্ৰ তিনিই জানেন।

]]>
প্রেমের জয়ে বদনাম বিশ্ব সংসার ‘অ-শোভন’ https://thenewsbangla.com/love-wins-and-snatch-everything-from-the-world-of-sovan-chatterjee/ Wed, 21 Nov 2018 03:36:52 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2782 The News বাংলা, কলকাতাঃ তৃণমূল নেতা শোভন চ্যাটার্জীর সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের রসায়ন নতুন কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বৈশাখীর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে সংবাদের শিরোনামে রয়েছেন মেয়র শোভন। যার জেরে একদিকে যেমন তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সাথে বিবাদ বিচ্ছেদের মামলা চলছিল, তেমনি সেই সাংসারিক উত্তাপের আঁচ পৌঁছে গিয়েছিল প্রশাসনিক দপ্তর অবধি। শেষ পর্যন্ত সেই প্রেমের জয়ে বদনাম বিশ্ব সংসারে ‘অ-শোভন’।

Image Source: Google

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে সম্পর্ক নিয়ে কলকাতা পৌরসভার আনাচে কানাচে বহুদিন ধরেই কানাঘুষো চলছিল। ইদানিং বহু সামাজিক অনুষ্ঠানেও মেয়র শোভন চ্যাটার্জীর সঙ্গে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসাথে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। তা নিয়েও বিদ্রুপ ও সমালোচনা কম হয়নি।

আরও পড়ুনঃ কয়েক দশকের সম্পর্ক শেষ করে শোভনকে তাড়ালেন মমতা

এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন দপ্তরের কাজে শোভনের খামখেয়ালিপনা শুরু হয়। এক প্রকার বাধ্য হয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোভনকে বহু আগেই সাংসারিক ঝামেলা মিটিয়ে নিতে বলেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর উপদেশে বিন্দুমাত্র লাভ হয়নি। বরং মেয়র যথারীতি চলছিলেন তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতেই। ‘বৈশাখীই আমার সব’, সাংবাদিক সম্মেলনে বলে দিয়েছেন অবলীলায়।

The News বাংলা

এদিকে দিনের পর দিন মেয়রের কাজের প্রতি অমনোযোগ বেড়েই চলছিলো। তা প্রত্যক্ষ করেই মাসখানেক আগেই মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় তিন দপ্তরের মন্ত্রী ও মেয়রকে বিদ্রুপের ছলে রসিকতা করে জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি কি বিভিন্ন দপ্তরের কাজ গুলো ঠিকঠাক করছেন, নাকি শুধু প্রেমই করছেন!

আরও পড়ুন: মমতার নির্দেশে মন্ত্রীত্ব থেকে ইস্তফা শোভন চ্যাটার্জীর

যদিও যাবতীয় সমালোচনাকে উপেক্ষা করে মেয়র বরাবর অটল থেকেছেন নিজের সিদ্ধান্তেই। কাজে অনীহা দেখে মুখ্যমন্ত্রী আরও ক্ষুব্ধ হন। তার জেরে মেয়রের সাথে কথা কাটাকাটিও হয় মুখ্যমন্ত্রীর। আর তার জেরেই মঙ্গলবার চরম সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়র ও মন্ত্রী শোভন চ্যাটার্জী।

Image Source: Google

ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল বিধানসভায়। বিধানসভায় আবাসন দপ্তরের প্রশ্নত্তর পর্বে উপস্থিত ছিলেন শোভন এবং মমতা দুজনেই। সেখানেই একজন বাম বিধায়কের প্রশ্নের ভুল উত্তর দেন শোভন। আর তাতেই মুখ্যমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আবাসন মন্ত্রী শোভন চ্যাটার্জীকে পরিসংখ্যানগত ত্রুটি ধরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: ঘাসফুল ছেঁটে মমতার ‘কাননে’ কি এবার পদ্ম

অধিবেশন শেষে স্পীকারের ঘরে শোভন চ্যাটার্জীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর কথপোকথনে, শোভনের কাজ নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মমতা। কাজ ফেলে রেখে শাড়ি চুড়ির দোকানে ঘুরছেন মেয়র, এই বলে ব্যঙ্গ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Image Source: Google

আর তাতেই আগুনে ঘি পড়ে। ইঙ্গিত যে তাঁর বান্ধবীর দিকে, তা বুঝেই চরম অপমানিত বোধ করেন শোভন। আর দেরি না করেই অনতিবিলম্বে চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করেন দমকল এবং আবাসন মন্ত্রীর পদ থেকে। প্রেমের বদনাম মন থেকে মেনে নিতে পারেন নি ‘প্রেমিক’ শোভন।

আরও পড়ুন: যেখানে সেখানে থুতু-পিক ফেলা বন্ধ করতে কড়া মমতা

মুখ্যমন্ত্রী এর আগে শোভনকে জানান, তাঁর কাছে সব খবর ও ছবি আছে। শোভন বুঝতে পারেন তাঁর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। আর এতে আরেকবার অপমানিত বোধ করেন তিনি। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁকে অবিশ্বাস করা হচ্ছে, তাঁকে আর দরকার নেই বলে তাঁর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। আর এভাবে কোনো নজরদারির মধ্যে তিনি কাজ করতে চান না।

Image Source: Google

শোভন এটাও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর পক্ষে দিনের পর দিন অপমান সহ্য করে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েকবার শোভন তাঁর বিভিন্ন দপ্তরের কাজ থেকে ইস্তফা দিয়ে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি শুধরে যাবেন, এই আশায় মুখ্যমন্ত্রী তখন পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন নি। কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠানো মাত্রই সঙ্গে সঙ্গেই তা গৃহিত হয়। পদত্যাগ করতে বলা হয় মেয়রের পদ থেকেও।

আরও পড়ুন: ভারতবাসীকে নেতাজীর মৃত্যুদিন জানাল বাংলার পুরসভা

শোভন চ্যাটার্জী মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং অত্যন্ত স্নেহের পাত্র ছিলেন। কংগ্রেস ছাড়ার পর যেদিন থেকে শোভন তৃণমূলে যোগ দেন, সেদিন থেকেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেই কাজ করেছেন তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রীর সাথেও শোভনের সম্পর্ক ছিলো দিদি ভাইয়ের মতোই। ছিলেন দিদির আদরের ‘কানন’।

Image Source: Google

কিন্তু এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বাকবিতন্ডা এবং অবশেষে সটান ইস্তফার জেরে জল গড়ালো অনেক দূর। বৈশাখীর প্রেমে বদনাম বিশ্ব সংসারে ‘অ-শোভন’। আর তাতে অনেকেই বলছেন, মেয়রের মতো পদমর্যাদা, মন্ত্রিত্ব, মুখ্যমন্ত্রী ও শোভনের দিদি ভাইয়ের সম্পর্ক, এতবছরের রাজনৈতিক জীবন, ভবিষ্যৎ এই সব কিছুকে উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত প্রেমেরই জয় হল।

]]>