Kali Puja – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Wed, 07 Nov 2018 17:16:31 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Kali Puja – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 মায়ের পুজোয় মদ বিক্রিতে রেকর্ড গড়ল মমতার বাংলা https://thenewsbangla.com/mamatas-bangla-records-of-selling-alcohol-in-durga-puja/ Wed, 07 Nov 2018 15:02:27 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=2000 কলকাতা: রাজ্যের আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, পুজোর মাসে রাজ্য সরকার ১২৭৫ কোটি টাকার মদ বিক্রি করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। আবগারি দফতর তৈরি হওয়ার পর কোনও এক মাসে এত রাজস্ব নাকি আগে কখনও আসেনি। শিল্পবিহীন বাংলায় মদই এখন সরকারের রোজগারের সবচেয়ে বড় রাস্তা।

The News বাংলা

শুরুটা হয়েছিল তারাপীঠে। কৌশিকী অমাবস্যায় মদ বিক্রির রেকর্ড হয়। গত ৩১ অগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ছিল কৌশিকী অমাবস্যা। কৌশিকী অমাবস্যার এক রাতে শুধু তারাপীঠে ৩ কোটি ২৫ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়। তবে আবগারি কর্তাদের আশা ছিল, দুর্গাপুজোর মাসে মদের রাজস্ব হাজার কোটি ছাড়াবে।

Image Source: Google

কারণ, অক্টোবরে শুধু মাত্র দুর্গাপুজোই ছিল। অতীত অভিজ্ঞতায় আবগারি কর্তারা দেখেছেন, যে বছর একই মাসে দুর্গা এবং কালীপুজো হয়, সেই মাসে রেকর্ড মদ বিক্রি হয়ে থাকে। তবে কর্তাদের যাবতীয় হিসেব-নিকেশ বদলে দিয়ে এক মাসেই ১২৭৫ কোটির টাকা মদ বিক্রিতে রীতিমতো চমকে গিয়েছেন ‘মদ’ কর্তারা।

আরও পড়ুনঃ অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা

রাজ্যের আবগারি দফতর সূত্রে খবর, সরকার মদের পাইকারি ব্যবসা হাতে নেওয়ার পর রাজস্ব বেড়েই চলেছে। কর্পোরেশন তৈরি হওয়ার পর মাসে গড়ে ৯০০ থেকে ৯৫০ কোটি টাকার মদ বিক্রি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ বেভারেজ কর্পোরেশনকে অনেকেই তাই সরকারের ‘লক্ষ্মীর ঝাঁপি’ বলতে শুরু করেছেন।

Image Source: Google

আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, অক্টোবরে দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১,২৪,১২,২১৭ লিটার। গত বছর পুজোর তুলনায় ৩০.৯৪ শতাংশ বেশি। বিলিতি মদ বিক্রি হয়েছে ১,২০,০২,৬৪৭ লিটার যা গত বছরের তুলনায় ৫৬.৫৬ শতাংশ বেশি। তবে বিয়ারের বিক্রি ২০ শতাংশ কমেছে, বিয়ার বিক্রি হয়েছে ৪৯,৮৮,১৩৮ লিটার!

আরও পড়ুন: তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে তৃণমূল নেতাদেরই শাস্তির দাবীতে পোস্টার

এক কর্তার আক্ষেপ, ‘‘এর মধ্যে ৩ দিন মদের দোকান বন্ধ না থাকলে আর পাঁচ দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ না থাকলে হয়তো এ বার ১৫০০ কোটির মদ বিক্রি হয়ে যেত। অবশ্য যা হয়েছে তাও সর্বকালীন রেকর্ড।’’ ২ রা অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী, অষ্টমী ও ঈদের দিন মদের দোকান বন্ধ ছিল।

Image Source: Google

আবগারি দফতর জানাচ্ছে, রাজ্যে বরাবর দিশি মদের বিক্রিই বেশি হয়। সামগ্রিক মদ খাওয়ার বিচারে দিশি মদ এবারও বেশি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় বিলিতি মদের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫৭%।

তুলনামূলক ভাবে দিশি মদের বিক্রির হার তেমন মারাত্মক নয়। যা থেকে বোঝা যাচ্ছে, রাজ্যের মদপ্রেমীরা ক্রমেই বিলিতিতে মজছেন। তবে এ বার পুজোর মাসে বিয়ার বিক্রির হার বেশ কম। কেন? এক আবগারি কর্তার বক্তব্য,‘বিয়ার ছেড়ে অনেকেই হুইস্কি-রাম খাচ্ছেন। তাই বিলিতির বিক্রি প্রচুর বে়ড়েছে। তা ছাড়া বিয়ারের দাম বাড়াও বিক্রি কমার কারণ হতে পারে। এখন গরমও তেমন নেই।’

আরও পড়ুন: নরেন্দ্র মোদীর গুজরাটে আর পড়াবেন না ‘দেশদ্রোহী’ প্রফেসর

তবে এখানেই শেষ নয়। মা দুর্গার ভক্তদের সঙ্গে এ বার মা কালীর ভক্তদের লড়াই শুরু হয়েছে! আবগারি কর্তাদের আশা, অক্টোবরে পূজার মাসে এসেছে ১২৭৫ কোটি টাকা। নভেম্বরে আছে কালীপূজা, ভাইফোঁটা এবং ছট পুজো। ফলে মদের বাজার চড়াই থাকবে।

Image Source: Google

এখন শুধু দেখার, মা দুর্গাকে হারিয়ে মা কালীর ভক্তরা নভেম্বর মাসে সরকারকে ১২৭৫ কোটি টাকার বেশি আবগারি রাজস্বের জোগান দিতে পারেন কি না। তাতে নবান্নের ভাঁড়ার উপচে পড়বে। মেলা, খেলা, উৎসবে কোনও ভাটার টান থাকবে না বলেই মত প্রশাসনিক কর্তাদের।

পুজোর মরসুমে মদ বিক্রি থেকে রাজস্ব বাড়াতে জেলার আধিকারিকদের নির্দেশই দিয়েছিল রাজ্য আবগারি দফতর। গত ১ অক্টোবর দফতরের তরফে জেলায় জেলায় আবগারি সুপারদের এই নির্দেশ (মেমো নম্বর ০৪ই/১৩-১৪) দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ‘মুসলিম’ নাম বদলে ‘রামরাজ্য’ আনতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

পুজোর মাসের আগে, চলতি আর্থিক বছরে সারা রাজ্যে মদ বিক্রি কিছুটা কম হয়েছিল। তারই জেরে আবগারি খাত থেকে প্রত্যাশা অনুসারে রাজস্ব সংগ্রহ হয়নি। তাই পুজোর সময়ে মদ বিক্রি বাড়িয়ে রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়ার জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে অবৈধ মদ বিক্রি বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, পুজোর সময়ে জেলার আধিকারিকরা ছুটি পাবেন না।

Image Source: Google

নভেম্বরেও মদের বাজার চাঙ্গাই থাকবে বলে মত আবগারি দফতরের। তাই কালীপুজোয় ও ভাইফোঁটায় এই নির্দেশ বহাল থাকছে। আবগারি দফতর সূত্রে খবর, গত আর্থিক বছরে রাজ্য সরকার আবগারি খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছিল প্রায় ২৭০০ কোটি টাকা। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছিল। চলতি আর্থিক বছরে লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৩২০০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: রাহুলের ‘রাফায়েল’ আক্রমণে মোদীর ‘রথ’ গাড্ডায়

দফতরের শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার কাছাকাছি রাজস্ব এসেছিল, যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটাই কম। তবে পুজোর মাসেই সেই লক্ষ্যমাত্রা টপকে গেল রাজ্য।

Image Source: Google

পুজোতেও প্রতিদিন মদের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেয় রাজ্য সরকার। এত দিন পুজোর সময়ে দু’দিন মদের দোকান বন্ধ রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ বারে সেই নিয়ম শিথিল হয়ে যাওয়ায় মদের কালোবাজারি হয়নি। ক্রেতাদের অতিরিক্ত পয়সা গুনতে হয়নি নেশার জন্য। ফলে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত মদের দোকান থেকে দেদার মদ বিক্রি হয়েছে চারদিনই।

পুজোর প্রথম দিন থেকেই অসুরের ভূমিকায় নামে বৃষ্টি। যার ফলে বহু মানুষই ঘরবন্দি থেকেছেন। আর তাতেও নাকি মদের বিক্রি বেড়েছে। আপাততঃ শিল্পবিহীন রাজ্যে ‘মদশিল্প’ এর জয়জয়কার।

]]>
স্বপ্নের কালিপুজোয় মা কালির সঙ্গে সাধারণ নারীর পুজো https://thenewsbangla.com/puja-of-the-common-woman-with-goddess-kali-in-a-dream-kali-puja/ Mon, 05 Nov 2018 09:29:05 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1930 শিলিগুড়ি: স্বপ্নের মায়াজালে বন্দী কালিপুজোয় এবার সাধারণ নারীর পুজো। মা কালির পাশাপাশি এবার সাধারণ নারীকেও পুজো করার, সম্মান দেবার একটা বার্তা দেওয়া হচ্ছে শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার তরুন সংঘ ক্লাবের এবারের কালিপুজোয়।

স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে কেউ একজনকে টপকে ওপরে উঠে যায়। কেউ বা আবার স্বপ্ন সফল না হওয়ায় অতলে হারিয়ে যায়। সেই স্বপ্নকে নিয়েই শিলিগুড়ির হাকিমপাড়ার তরুন সংঘ ক্লাবের এবারের কালিপুজোর থিম “স্বপ্ন”। মানুষের সেই স্বপ্নলোককে আলোকোজ্জল করার জন্য চন্দননগরের আলোকসজ্জার সম্ভারে সমৃদ্ধ করে তোলা হচ্ছে। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে রবিবারই প্রতিমা নিয়ে আসা হয়েছে। মায়ের মুর্তিতেও থাকছে নারীকে সম্মানিত জায়গায় স্থান দেওয়ার স্বপ্ন।

আরও পড়ুন: ৩০০ বছরের ডাকাতে কালির হাড় হিম করা কাহিনি

শিলিগুড়ির মধ্যে বিগ বাজেটের কালিপুজোয় সেরার তকমা পাওয়া ক্লাবগুলির মধ্যে অন্যতম হাকিমপাড়ার তরুন সংঘ। প্রতি বছর অভিনবত্বে মানুষের মন কেড়ে নেয় এই ক্লাবের পুজো। দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই এখানকার পুজোর মন্ডপসজ্জা শুরু হয়ে যায়। গত বছর কালিপুজো শেষ হওয়ার পর থেকেই ক্লাব কর্তৃপক্ষ এ বছরের পুজোর থিমের পরিকল্পনা শুরু করেছিল।

আরও পড়ুনঃ অজানা কাহিনির আড়ালে সিদ্ধপিঠ তারাপীঠের তারা মা

মুলত মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা দেখে তাকেই “স্বপ্ন” নাম দিয়ে থাকে। কিন্তু স্বপ্ন হল, মানুষ ভবিষ্যতে যা হতে যায়। আসলে সব মানুষের স্বপ্নই হল বর্তমান অবস্থা থেকে আরও একটু ওপরে ওঠা। এরকম উপরে উঠতে উঠতে যে কাউকে পায়ের তলায় পৃষ্ট করতে কাল বিলম্ব করে না সে। যে যতই ওপরে উঠুক না কেন আরও আরও ওপরে ওঠার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে চলে। অনেকে ওপরে ওঠার সিড়িগুলো তরতর করে বেয়ে গেলেও অনেকে তা পারে না। দেশ বিদেশে ছড়িয়ে আছেন এমন অনেক ব্যাক্তিত্ব যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ওপরে উঠে নাম করে কয়েকশত বছর পরে আজও অম্লান।

The News বাংলা

সেই সমস্ত স্মৃতি-বিস্মৃতির মধ্যে থাকা মানুষগুলিকে পুনরায় মানুষের মনে জাগিয়ে তুলতে, তরুন সংঘ ক্লাব তাদের ছবি ও মুর্তিতে একটি স্টেজ তৈরী করেছে। অন্যদিকে বড় বড় বিল্ডিংয়ের সারি চোখ ধাঁধিয়ে দেবে। মানুষের বড় হওয়া মানে শুধু নাম ও যশে নয় তা প্রতিপত্তিতেও। সেই ভাবনাতেই এই প্রাসাদপ্রতিম বিল্ডিংয়ের সারি।

কিন্তু এত ওপরে ওঠার পরও নারীদের যোগ্য সম্মানে সম্মানিত করা হয় না আজও। পথে ঘাটে অহরহ নারীরা শ্লীলতাহানীর শিকার হচ্ছে। মানুষ মায়ের পুজো করলেও নারীরা আজও ধর্ষন ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়। তাই মায়ের মুর্তির সামনেই রাখা হয়েছে শ্বেত শুভ্র বসনা সাধারণ নারীর মুর্তি। মায়ের পাশাপাশি সাধারণ নারীকেও পুজো করার, সম্মান দেবার একটা বার্তা দিতেই প্রতিমাতে অভিনবত্ব আনা হয়েছে, বলে জানান তরুন সংঘ ক্লাবের শ্যাম সাহা, ভবতোষ সাহা, তপন সাহারা।

আরও পড়ুন: ৪ দিনের পুজো এখন ১৫ দিনের জমজমাট উৎসব

প্রতিমা শিল্পি আর কেউ নন, কলকাতার কুমোরটুলির নামকরা শিল্পি মোহনবাঁশি রুদ্রপাল। ক্লাব সদস্য অতনু দাম জানান, এ বছরের কালি পুজো বিগত ৬৪ বছরকেও ছাপিয়ে যাবে। পুজোর থিমের মধ্যে যেমন রয়েছে অভিনবত্বের ছোঁওয়া, ঠিক তেমনই বিসর্জনের দিনটিতেও থাকবে অভিনবত্ব। কার্নিভালের আদলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে করতে বিসর্জনের পথে এগিয়ে যাবেন মা।

একদিকে থাকবে পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্য শিল্পিরা, অন্যদিকে থাকবে স্থানিয় নেপালী নৃত্য ও ড্রাগন নৃত্যশিল্পিরাও। থাকবে বিভিন্ন রকমের সমাজ সচেতনতামুলক বার্তার ব্যানার ও ফেস্টুন। এছাড়া সবার প্রথমে প্রতিবারের মত এ বছরও, ক্লাবের পতাকা নিয়ে ছটি ঘোড়া ছুটবে। ৪০ টি ঢাকের তাল মায়ের যাত্রাপথকে করে তুলবে আরও আকর্ষণীয়।

সোমবার পুজোর উদ্বোধনের দিন থেকে শুরু করে ভাইফোঁটার পরদিন বিসর্জনের দিন পর্যন্ত পুলিশের পাশাপাশি থাকবে দুটো শিফটে ৩০০ জনেরও বেশি ভলেন্টিয়ার৷ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবদিক নজরবন্দি করার জন্য থাকবে ১২টি সিসি ক্যামেরা ও যথেষ্ট পরিমানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। স্বপ্ন, ঘুমিয়ে নয়, চোখ কান ও মনকে খোলা রেখে তরুন সংঘ ক্লাবের মন্ডপ সজ্জায় দেখতে পাওয়া যাবে কালিপুজোর কয়েকটা দিন। কলকাতার কার্নিভালের আদলে এবার কলাীপুজোর বিসর্জনে নজর কাড়বে শিলিগুড়ি, দাবি তরুন সংঘ ক্লাবের কর্তাদের।

]]>
নরকঙ্কালের খুলি সাজিয়ে জাগ্রত মহাশ্মশান কালীর পুজো https://thenewsbangla.com/goddess-kali-puja-is-done-with-the-mans-skeleton/ Mon, 15 Oct 2018 07:44:27 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1205 নিজস্ব সংবাদদাতা : তন্ত্রমতে পুজো পান শতাধিক বছরের প্রাচীন শ্মশানকালী। কালীপুজোর বাঁধা গতে মন্ত্র পড়ে পুজো নয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানা এলাকার দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের মহাশ্মশান কালীর পুজো অপরিবর্তিত প্রাচীন তন্ত্রমতেই।

শতাধিক বছরের পুরনো পদ্ধতি মেনে দেবীর পেছনে সাজানো হয় ১০৮টি নরকঙ্কালের খুলি। পঞ্চমুণ্ডের আসনে বসে পুরোহিত তন্ত্রের নিয়ম মেনে দেবীর পুজো করে। অন্য উপকরণের মধ্যে অবশ্যই থাকবে সুরার বোতল, রান্না করা মাংস, কাঁচা ছোলা। আগে অবশ্য চোলাই ছিল পুজোর উপকরণ। কিন্তু এখন বিলিতি মদেই চলে দেবীর আরাধনা।

এই জেলার অন্যতম প্রাচীন শ্মশান এটি। কথিত আছে, ভগীরথ নাকি দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের পাশ দিয়ে গঙ্গাকে সাগরে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই আদি গঙ্গার পাড়ে এক সময়ে ছিল গভীর জঙ্গলে ঘেরা জনবসতিহীন এলাকা। সেখানে কিছুটা জায়গা নিয়ে বহু বছর আগে জঙ্গল কেটে শবদাহের কাজ শুরু হয়।

সে সময়ে শ্মশান গড়ার পাশাপাশি তৈরি হয়েছিল টিনের দরমা ঘেরা টিনের চালের শ্মশানকালীর মন্দির। তারপর গঙ্গা উপর দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। দরমা ঘেরা মন্দির সংস্কার করে বড় পাকা মন্দির তৈরি হয়েছে। কিন্তু প্রাচীন পুজোর পদ্ধতিতে এখনও কোনও বদল হয়নি।

একাত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধ, এক মনে দেবীর চোখে তুলি প্রতিবার চোখের তুলি টানেন। পটুয়াপাড়ার কোনও পেশাদার শিল্পী তিনি নন। শ্মশানকালী মন্দিরের পুরোহিত ওই বৃদ্ধই দেবীকে স্পর্শ করার একমাত্র অধিকারী। শুধু তাই নয়, তন্ত্রকর্মের পঞ্চমুণ্ডের আসনটিতেও অন্য কেউ বসতে পারবে না। এই গুরুভার বংশ পরম্পরায় ঐ পুরোহিত শ্যামল চক্রবর্তীর হাতে।

মা কালীর নরমুণ্ডমালায় রয়েছে একটি মহিষের মুণ্ডও। প্রায় ১০ ফুট লম্বা দেবীর এক পাশে বামাক্ষ্যাপা, অন্য পাশে তৈলন্দ্যস্বামীর বাঁধানো ছবি। প্রতিমার পেছনে দেওয়ালের খোপে খোপে রাখা ১০৮টি নরমুণ্ডও পুজোর আগে ঝাড়পোঁছ করে রাখতে হয় ।

পুজোর দিনে প্রাচীন রীতি মেনে সব ক’টি নরমুণ্ডর আত্মার শান্তি কামনা ও সাধনার জন্য আলাদা আলাদা ভাবে মদ, ছোলা, মাংস দিয়ে মন্ত্রপাঠ চলে। প্রথম দিন থেকেই এই ব্যবস্থা। তবে কী ভাবে অতগুলি খুলি জোগাড় হয়েছিল, কেউ জানে না।

এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা শ্যমলবাবুর বাবা ফণিভূষণ চক্রবর্তী। তখন শ্যমলবাবুর বারো বছর বয়স। ওনার বাবা হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে যান। সেই থেকে শ্যমলবাবুর মন্দিরের সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছেন। এখানে মা করুণাময়ী কালী রূপে প্রতিষ্ঠিত।

এই প্রাচীন পুজো চাঁদা তুলে হয় না। সারা বছর ধরে মন্দিরে দর্শনার্থীরা এসে দেবীদর্শন করার পরে সামনে রাখা পিতলের থালাতে সামর্থ্য মতো দিয়ে যান। সারা বছরের ওই দানের পয়সাতেই শ্মশানকালীর আরাধনা হয়। পুজোর দিনে সারা রাত ভক্তদের ভিড় জমবে। তাঁদের রাতে খাওয়ার জন্য ভোগের ব্যবস্থা থাকে। কেউ কেউ সারা রাত কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফেরেন।

এই শ্মশানকালীর মন্দিরটি বহু বছরের প্রাচীন। এলাকায় জাগ্রত বলে খ্যাত এই দেবীর পুজোর দিনে, পরিবারের কল্যাণ কামনায় অনেকে হাজির হন। এবারের কালী পুজোয় আপনিও চলে আসতে পারেন মহাশ্মশান কালীর পুজো দেখতে।

]]>