Indira Gandhi – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Mon, 15 Apr 2019 04:00:35 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Indira Gandhi – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 মোদী প্যান্ট পরতে শেখার আগেই নেহেরু ও ইন্দিরা সেনাবাহিনী গড়েছিলেন, বেলাগাম কমলনাথ https://thenewsbangla.com/modi-didnt-learn-to-wear-pants-when-nehru-indira-built-army-says-kamal-nath/ Mon, 15 Apr 2019 04:00:35 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=10849 জাতীয়তাবাদ ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদীকে কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ। নেহেরু ও ইন্দিরা গান্ধী ভারতের সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন, তখনও নরেন্দ্র মোদী পায়জামা প্যান্ট পরতে শেখেনি, রবিবার একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে এভাবেই নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করলেন কমলনাথ।

আরও পড়ুনঃ মোদীকে ভোট দিতে চাকুরী ছেড়ে ভারতে এলেন এই প্রবাসী ভারতীয়

সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের বাড়ি তল্লাশি করে ২৮১ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে আয়কর দপ্তর। তারই পরিপ্রেক্ষিতে কমলনাথকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তারই পাল্টা জবাব দিলেন কমলনাথ।

আরও পড়ুনঃ বিজেপিকে হারাতে সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রতি ভোট ভাগ না করার অনুরোধ মমতার

রবিবার মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়া জেলায় নির্বাচনী প্রচারসভায় নরেন্দ্র মোদীকে এক হাত নিয়ে কমলনাথ বলেন, দেশে সব থেকে বেশি সন্ত্রাসবাদী হানা হয়েছে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন।

আরও পড়ুনঃ মাস্টার্স না করেই এম ফিল কীভাবে, রাহুলকে প্রশ্ন জেটলির

মোদীকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ৫ বছর আগে কি দেশ সুরক্ষিত ছিল না? এর সাথেই তিনি উল্লেখ করেন, নরেন্দ্র মোদী দেশের সুরক্ষার জন্য নিজেকে কৃতিত্ব দেন, কিন্তু দেশের স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী তৈরি করেছিলেন জওহরলাল নেহেরু ও ইন্দিরা গান্ধী।

আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ির জনসভায় মাছি মারার অবস্থা, চিন্তায় তৃণমূল নেতৃত্ব

কার সময়ে বেশি সন্ত্রাসবাদী হানা হয়েছে, প্রশ্ন তোলেন কমলনাথ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে দিল্লির সংসদ ভবনে যখন হামলা হয়েছিল, তখন কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। কর্মসংস্থান, কালো টাকা ফেরানো নিয়ে প্রশ্ন এড়াতেই মোদী সেনাবাহিনী নিয়ে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ভোটবাজারে কলকাতায় কার্নিভ্যাল, কুমোরটুলি ফেস্টিভ্যালে মজেছে পুজোর দুনিয়া

আরও পড়ুনঃ তৃণমূল বিধায়ককে তুলে নিয়ে যাবার হুমকি বিজেপি প্রার্থী লকেট চ্যাটার্জীর

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার, পোস্টার কংগ্রেসের https://thenewsbangla.com/priyanka-gandhi-is-the-avatar-of-devi-durga-poster-by-congress/ Thu, 24 Jan 2019 10:33:34 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5949 শুধু ইন্দিরা গান্ধীর ফিরে আসা নয়, একেবারে ‘মা দুর্গার অবতার’ হয়ে এসেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এইভাবেই গতকাল রাজনীতির মঞ্চে পা রাখা প্রিয়াঙ্কাকে স্বাগত জানাল কংগ্রেস নেতৃত্ব। ‘ইন্দিরা ইজ ব্যাক’ পোস্টারে উত্তরপ্রদেশের সব কংগ্রেস পার্টি অফিস ছেয়ে গেছে। সেখানে প্রিয়াঙ্কার মধ্যে ইন্দিরার প্রত্যাবর্তন এর পাশাপাশি তাঁকে মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ মোদীর বিরুদ্ধে ইন্দিরা তাস খেলতে রাহুলের কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা

একটি পোস্টার। পাশাপাশি মা দুর্গা আর ইন্দিরা গান্ধীর ছবি। একটু নীচে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মুখ। মাথার উপর তেরঙ্গা হরফে লেখা, ‘ইন্দিরা ইজ ব্যাক’। ছবিটা লখনউয়ের কংগ্রেস পার্টি অফিসে। দলীয় কর্মীদের হাতে হাতে ঘুরছে এই পোস্টার। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের মধ্যে ‘ইন্দিরার প্রত্যাবর্তন’ দেখতে শুরু করেছেন কংগ্রেস কর্মীরা। সেই সঙ্গে তাঁকে একেবারে ‘মা দুর্গার অবতার’ বলে ঘোষণা করে দিল কংগ্রেস। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে ‘মা দুর্গাকেই’ দেখছে উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস।

আরও পড়ুনঃ মোদীর মাস্টারস্ট্রোকে দেশ পেতে পারে প্রথম মহিলা বাঙালি সিবিআই প্রধান

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার/The News বাংলা
মোদীর বিরুদ্ধে ইন্দিরা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার/The News বাংলা

সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের বহু আগে থেকেই কংগ্রেসের তুরুপের তাস প্রিয়াঙ্কা। বহু কংগ্রেস নেতা কর্মীই তাঁর মধ্যে ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া দেখতে পান। ব্যক্তিত্ব ঠিক ঠাকুমার মতোই। একইরকম সুতির শাড়ি ও ববকাট চুলের মধ্যে ইন্দিরার উপস্থিতি স্পষ্ট। কবে তিনি রাজনীতিতে আসবেন যেন তার প্রতীক্ষাতেই ছিল কংগ্রেস নেতারা। বুধবার সেই ঘোষণা করে রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান। গোটা দেশের পাশাপাশি প্রবল খুশির হাওয়া উত্তরপ্রদেশের সব কংগ্রেস অফিসেও।

আরও পড়ুনঃ

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদে এক হিন্দু নারী

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ‘ভাবনার বিপ্লব’ ভাবনা কস্তুরীর হাত ধরে

লোকসভা ভোটের আগে এটাকেই তুরুপের তাস হিসাবে দেখছে কংগ্রেস। তাই উচ্ছ্বসিত পার্টি কর্মীদের হাতে হাতে ঘুরছে ‘ইন্দিরা ইজ ব্যাক’ পোস্টার। সেখানে লেখা হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীজি ‘মা দুর্গার অবতার’। আর এই সিদ্ধান্তের জন্য কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ধন্যবাদ দিতেও ভোলেননি তারা। শুধু লখনউয়ের পার্টি অফিস নয়, উৎসবের চেহারা গান্ধী পরিবারের খাসতালুক আমেথি ও রায়বেরিলিতেও।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার/The News বাংলা
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মা দুর্গার সাক্ষাৎ অবতার/The News বাংলা

গোটা উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি গোটা দেশেই এই ‘মা দুর্গার অবতারের’ পোস্টার ছড়িয়ে দেওয়া হবে এমনটাই কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলায় ও পূর্ব ভারতে তো বটেই। ইন্দিরার পাশাপাশি মা দুর্গার আবেগকেও কাজে লাগাতেও চেষ্টা করছে কংগ্রেস, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মা দুর্গা হিসাবে তুলে ধরে কি নরেন্দ্র মোদীকে অসুর বলছে কংগ্রেস? উঠেছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃ জন্মদিনে নেতাজি সুভাষের মৃত্যুদিন নিয়ে ছেলেখেলা রাহুলের কংগ্রেসের

পূর্ব উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে৷ উত্তরপ্রদেশে মোদী-যোগী-অমিত শাহকে রুখতে দুই তরুণ তুর্কি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াই এবার ভরসা রাহুলের।

আরও পড়ুনঃ মার্চেই শুরুতেই ভারতে লোকসভা ভোটের ঘোষণা

রাজ্যের দুই অংশের দায়িত্ব প্রিয়াঙ্কা ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়েছে। কিন্তু প্রচারের জন্য ৮০টি লোকসভা আসনের মধ্যে কার হাতে কত আসন থাকবে, তা হাইকমান্ডের তরফে স্পষ্ট করা হয়নি। যদিও কংগ্রেস সূত্রের খবর, দুজনের হাতেই ৪০টি করে আসনের দায়িত্ব ছাড়া হতে পারে। গান্ধী পরিবারের খাসতালুক আমেথি ও রায়বেরিলি পূর্ব উত্তরপ্রদেশের অন্তর্গত। সেই সূত্রে এই দুই আসনের দায়িত্বে প্রিয়াঙ্কাকেই দেখা যাবে।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে মোদী সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট

কংগ্রেসের সামনে এখন একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে এসপি-বিএসপি জোট। এই অবস্থায় কংগ্রেস নেতৃত্বের বিশ্বাস, প্রিয়াঙ্কার সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ দলীয় কর্মীদের প্রবলভাবে উদ্বুদ্ধ করবে। এই জোড়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে সাহায্য করবে কংগ্রেসকে। আর তাই ‘ইন্দিরা ইস ব্যাক’ ধ্বনি তোলার পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কাকে একেবারে ‘মা দুর্গার অবতার’ বানিয়েই দিল রাহুলের কংগ্রেস।

আরও পড়ুনঃ

বাংলায় ক্ষোভ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়াচ্ছে মোদী সরকার

ব্রিগেড থেকে ফিরেই ভোলবদল, মমতা নয় রাহুলকেই প্রধানমন্ত্রী চাইলেন নেতারা

রাজ্যের হাতে টাকা নেই বাজারে ধার, তারপরেও বিধায়কদের ভাতা বাড়ছে

পাহাড়ে মোর্চা বিজেপির সঙ্গেই, গোপন আস্তানা থেকে বার্তা বিমল গুরুংয়ের

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
মোদীর বিরুদ্ধে ইন্দিরা তাস খেলতে রাহুলের কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা https://thenewsbangla.com/priyanka-in-rahul-congress-to-play-indira-gandhi-roll-against-modi/ Wed, 23 Jan 2019 09:22:05 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=5907 সামনের চুল কিছুটা পাকা, ঠিক যেন ইন্দিরা গান্ধী। আর সেই ইন্দিরার নাতনি প্রিয়াঙ্কাকেই এবার ‘ইন্দিরা গান্ধী’ প্রজেক্ট করছে কংগ্রেস। আর ২০১৯ এর লোকসভায় নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে শেষ ভরসা এবার সেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেই রাজনীতিতে নামাল রাহুলের কংগ্রেস।

সব জল্পনার অবসান। সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হল তাঁকে। মূলত কংগ্রেস সভাপতি ও ভাই রাহুলের অনুরোধ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন প্রিয়াঙ্কা।

আরও পড়তে পারেনঃ জন্মদিনে নেতাজি সুভাষের মৃত্যুদিন নিয়ে ছেলেখেলা রাহুলের কংগ্রেসের

লোকসভা ভোটের আগে এটাই শেষ ভরসা ও বড় চমক কংগ্রেস শিবিরে। এতদিন পরোক্ষে থাকলেও এবার সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তরপ্রদেশ পূর্বের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বুধবার নিযুক্ত করা হল সোনিয়া কন্যাকে।

মোদীর বিরুদ্ধে ইন্দিরা তাস খেলতে রাহুলের কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা/The News বাংলা
মোদীর বিরুদ্ধে ইন্দিরা তাস খেলতে রাহুলের কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা/The News বাংলা

উনিশের ভোটের লড়াইয়ের আগে প্রিয়াঙ্কার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে বহুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। এবার সেটা সত্যি হল।

লোকসভা ভোটের আগে প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে যোগদান নিয়ে চর্চা চলছিলই। সোনিয়া গান্ধীর লোকসভা কেন্দ্র রায়বরেলি থেকে এবার প্রিয়াঙ্কা ভোটে লড়তে পারেন বলেও জল্পনা ছড়ায়। এদিন প্রিয়াঙ্কার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদানের পরই স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার রায়বরেলি থেকেই ভোটে লড়বেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী?

আরও পড়তে পারেনঃ মার্চেই শুরুতেই ভারতে লোকসভা ভোটের ঘোষণা

উল্লেখ্য, বুধবারই দুদিনের সফরে রায়বরেলি যাচ্ছেন ইউপিএ চেয়ারপার্সন। শারীরিক সমস্যার জন্য গত ৫ বছরে রায়বরেলিতে তেমন ভাবে যেতে পারেননি সোনিয়া। প্রায় দেড় বছর আগে শেষবার রায়বরেলি গিয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী। এবার কি সেখান থেকেই মেয়ের জন্য বার্তা দেবেন মা? উঠেছে প্রশ্ন।

মোদীর বিরুদ্ধে ইন্দিরা তাস খেলতে রাহুলের কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা/The News বাংলা
মোদীর বিরুদ্ধে ইন্দিরা তাস খেলতে রাহুলের কংগ্রেসে প্রিয়াঙ্কা/The News বাংলা

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বোন প্রিয়াঙ্কাকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখতে চাওয়ার দাবি বহুদিন ধরেই ছিল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। লোকসভা ভোটের আগে সেই দাবি পূরণ করে মাস্টারস্ট্রোক দিল কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশকে দু-ভাগে ভাগ করে তার একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রিয়াঙ্কার কাঁধে। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। অন্য ভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন রাহুলের প্রিয় জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।

আরও পড়তে পারেনঃ

বাংলায় ক্ষোভ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়াচ্ছে মোদী সরকার

ভোটের আগে মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে মোদী সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেট

এতদিন পর্যন্ত মা সনিয়া ও ভাই রাহুলের নির্বাচনী কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশের অমেঠি ও রায়বরেলির মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তবে লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেস নেতৃত্ব বুঝেছে যে, উত্তরপ্রদেশের মতো ৮০টি আসনের রাজ্যের দায়িত্ব একজনের কাঁধে দেওয়া সমীচিন হবে না। তাই প্রিয়াঙ্কাকেও নিয়ে আসা হল সক্রিয় রাজনীতিতে।

আরও পড়তে পারেনঃ পৃথিবী জুড়ে কমছে শিশু, চরম সমস্যায় বিশ্ব সমাজ

প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে আসার ফলে উত্তরপ্রদেশে সপা-বসপা জোটের পরে কিছুটা ঝিমিয়ে থাকা কংগ্রেস কর্মীরা নতুন করে মনোবল পাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। অখিলেশ-মায়াবতীর জোটে অংশ না হতে পেরে মুষড়ে পড়েছিলেন কংগ্রেসের সাধারণ কর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে প্রিয়াঙ্কার দায়িত্ব নেওয়া কংগ্রেস কর্মীদের মনোবল বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়তে পারেনঃ রাজ্যের হাতে টাকা নেই বাজারে ধার, তারপরেও বিধায়কদের ভাতা বাড়ছে

এমনিতে, ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে অনেকেই প্রিয়াঙ্কার মিল খুঁজে পান। সেই প্রিয়াঙ্কাই এবার উত্তরপ্রদেশ সহ দেশে দলের ভাগ্য ঠিক কতটা ঘুরিয়ে দিতে পারেন বা আদৌ পারেন কি না সেটাই এখন দেখার।

প্রিয়াঙ্কাকে দিযে ইন্দিরা তাস খেলে কংগ্রেসের কতটা লাভ হবে তা বলবে লোকসভা ভোটের রেজাল্ট। তবে এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেস শিবিরে যে অনেকটাই খুশির খবর ও কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা করার খবর, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভাইকে প্রধানমন্ত্রী করতে বোন কতটা ভূমিকা রাখেন সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়তে পারেনঃ

ব্রিগেড থেকে ফিরেই ভোলবদল, মমতা নয় রাহুলকেই প্রধানমন্ত্রী চাইলেন নেতারা

রাজ্যের হাতে টাকা নেই বাজারে ধার, তারপরেও বিধায়কদের ভাতা বাড়ছে

পাহাড়ে মোর্চা বিজেপির সঙ্গেই, গোপন আস্তানা থেকে বার্তা বিমল গুরুংয়ের

শ্রীজাত হেনস্থা ঘটনায় বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখোশ খুললেন তসলিমা

বাংলায় দুর্গা পুজো বন্ধ করার চক্রান্ত করছে মোদীর বিজেপি, মারাত্মক অভিযোগ মমতার

মমতার বাছাইয়ে কারা হবেন বাংলার ৪২টি লোকসভা আসনের তৃণমূল প্রার্থী

মোদীর প্রকল্পে আর টাকা দেবেন না মমতা, কেন্দ্র রাজ্য সম্পর্ক তলানিতে

একদিনে বহিষ্কৃত দুই তৃণমূল সাংসদ, দিদিকে ছেড়ে মোদীর দলে আর কে কে

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
‘ইন্দিরা গান্ধী ভারতে এমারজেন্সি লাগু করেছিলেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ https://thenewsbangla.com/indira-gandhi-declares-emergency-in-india-mamata-banerjee-in-bengal/ Mon, 17 Dec 2018 15:52:44 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=4394 The News বাংলা, শিলিগুড়িঃ ‘ইন্দিরা গান্ধী ভারতে এমারজেন্সি লাগু করেছিলেন, আর বাংলায় সুপার এমারজেন্সি চালু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’, সোমবার শিলিগুড়িতে বিজেপির এক সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে এমন মন্তব্যই করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন। রাজ্যে সুপার এমারজেন্সি লাগু করেছে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্রর।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষিতদের বিধায়ক করল তেলাঙ্গানা, কবে শিখবে বাংলা

‘বাংলায় বিজেপির ‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ নিয়ে রাজ্য সরকার বিজেপিকে ভয় পেয়েছে’, বলে মন্তব্য করলেন বিজেপির মুখপাত্র তথা প্রাক্তন সাংসদ শাহনওয়াজ হুসেন। সোমবার শিলিগুড়িতে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে রথ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভুমিকা প্রসঙ্গে এক হাত নিলেন তৃণমূলকে। ‘মমতা বন্দোপাধ্যায় বিজেপিকে স্বপ্নেও ভয় পায়’, বলে দেন বিজেপি নেতা।

আরও পড়ুনঃ নেতাদের গুন্ডা পোষা না গুন্ডাদের নেতা হওয়া, প্রকাশ্যে বন্দুকবাজির কারন কি

‘গনতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা’ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে ভয় পায়। বাংলায় বিজেপির রথযাত্রাকে আটকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ভয়কেই সামনে এনেছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে স্বপ্নেও ভয় পায় বলে তিনি কটুক্তি করেন। আর যে কারনে বিজেপিকে বারবার আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হয়।

আরও পড়ুনঃ শুধু দিনে নয় দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যের টয় ট্রেন এবার সন্ধ্যাবেলাতেও

তিনি আরও বলেন, ‘রথযাত্রা আটকানোর জবাব বাংলার জনতা দেবে। আর এভাবে সর্বভারতীয় দল বিজেপিকে এভাবে আটকাতে পারবে না তৃণমূল’৷ তিনি বলেন, ‘আগামী লোকসভায় তৃণমূল সম্পুর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সেইসঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলকে হারতে হবে’। তার বক্তব্য, ত্রিপুরায় কমিউনিস্ট পার্টির যা হাল করেছিল, বাংলায় বিজেপি সেই একই হাল করবে তৃণমূলের।

আরও পড়ুনঃ শহীদ জওয়ানকে সম্মান নয়, সেনাকে পাথর ছুঁড়ে দেশদ্রোহীরাই ভারতে ‘নায়ক’

বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন জানান, মমতা বন্দোপধ্যায়ের ওপর যখন সিঙুর নন্দীগ্রামে আক্রমন হয় তখন তাঁর সাথে বিজেপি ছিল। তবে বর্তমানে দিদি বাংলার যা হাল করেছে তা বাম শাসনকালের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলেই তার অভিযোগ।

আরও পড়ুনঃ এক ঘরে দুই বান্ধবীর রহস্য মৃত্যু নিয়ে তদন্তে পুলিশ

ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তুলনা করেন তিনি। ‘ইন্দিরা গান্ধী তার সময়ে যে এমারজেন্সি লাগু করেছিলেন আজ মমতা সরকার বাংলায় সুপার এমারজেন্সি চালু করেছে’ বলে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। তার অভিযোগ, মমতা সরকার বাংলায় গনতন্ত্রের হত্যা করছে।

আরও পড়ুনঃ মালাবদলের ঠিক আগেই বিয়েবাড়ি অভিযানে পুলিশ প্রশাসন

বাংলায় সংবিধানকে অবজ্ঞা করে তৃণমূল কংগ্রেসের নিজেই সংবিধান তৈরী করে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতা। তার বক্তব্য, ‘দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতা হয়। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। তাই বাংলার পুলিশও তৃণমূল কর্মীদের মতো কাজ করে করছে’। তিনি জানান, রাজনৈতিক বিরোধীদের হত্যা করে চলেছে মমতার মা মাটি মানুষের সরকার।

তবে বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন এর সব বক্তব্যই ‘পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে হারার পর পাগলের প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা।

পড়ুন হাড়হিম করা অদ্ভুত সত্য গল্প:

পড়ুন প্রথম পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

পড়ুন দ্বিতীয় পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

পড়ুন তৃতীয় ও শেষ পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

]]>
জনগণকে ‘গাধা’ বানিয়ে ‘শিক্ষাগুরু নেহেরু’র যোগ্য ছাত্র সব রাজনীতিবিদ https://thenewsbangla.com/making-the-people-donkey-all-the-politicians-of-india-qualified-students-of-education-guru-nehru/ Tue, 04 Dec 2018 05:14:44 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=3472 The News বাংলা, কলকাতা: মুখে নেহেরু পরিবারের তুমুল সমালোচনা, কিন্তু কাজে সবাই সেই পরিবারতন্ত্রেরই অন্ধ সমর্থক। এই বিষয়ে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দলের ‘শিক্ষাগুরু’ সেই জওহরলাল নেহেরু। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। নেহেরু পরিবারকে সমালোচনা অথচ ভারতে সবাই সেই পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

পুরসভা থেকে রাজ্য হয়ে দেশ। নেহেরু পরিবারের মতই সবাই চায় পরিবারতন্ত্র। মুখে কিন্তু নেহেরু পরিবারের তুমুল সমালোচনা। কারণ নেহেরু পরিবার ভারতে পরিবারতন্ত্রের সূচনা করেছে। জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী বংশপরম্পরায় কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্র চলেছে।

আরও পড়ুনঃ পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার পরেও লোকসভা ভোটে কম কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায়
আরও পড়ুনঃ মোবাইলেই রাজনাথ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল কথা কাটাকাটি

সেই পরিবারতন্ত্র এখনও চলছে। আর তার তুমুল সমালোচনা করে এসেছে কংগ্রেস বিরোধী সব রাজনৈতিক দল। কংগ্রেসকে ‘নেহেরু-গান্ধী পরিবারের লিমিটেড কোম্পানী’ বলেছেন মোদী-অমিত শাহ। কিন্তু মুখে কংগ্রেস পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বললেও কাজে সেই জওহরলাল নেহেরুকেই অন্ধ অনুসরণ করছে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দল।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

তেলেঙ্গানা নির্বাচন নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক মহল। বিজেপির অবস্থা দেখুন। মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও-র মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়। তাঁর প্রায় সব আত্মীয়ই বিভিন্ন পদের মাথায়। চন্দ্রশেখরের ছেলে কে রামা রাও রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। রিগেশন, মার্কেটিং এবং লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী টি হরিশ রাও চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভাইপো। শুধু ছেলে ভাইপোই নন। মেয়ে কবিতাও সাংসদ। এছাড়াও আরও অনেক আত্মীয়কে বিভিন্ন পদের মাথায় বসিয়ে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের পরিবারতন্ত্রের সুযোগ্য বাহক তিনি।

আরও পড়ুনঃ মমতার স্বরাষ্ট্র সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের এক রোহিঙ্গার
আরও পড়ুনঃ নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও

মধ্যপ্রদেশের দিকে তাকান। একসময় মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশে যার বিরুদ্ধে ডাম্পার দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছিল কংগ্রেস, সেই সঞ্জয় সিং মাসানিকে এবার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দিলেন রাহুল গান্ধী। সবচেয়ে বড় কথা, সঞ্জয় সিং মাসানি আর কেউ নন, খোদ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের শ্যালক।

এখানেও কংগ্রেসকে টেক্কা দিচ্ছে বিজেপি। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র পুত্র আকাশকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। অটলবিহারী বাজপেয়ির ভাইপো অনুপ মিশ্রকেও এবার মধ্যপ্রদেশে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল গৌড়ের পুত্রবধূ কৃষ্ণাও এবার বিজেপি প্রার্থী। রাজনৈতিক মহলে চর্চা, যে বিজেপি পরিবারতন্ত্র নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে সেই বিজেপিই মধ্যপ্রদেশে একই কাজ করছে!

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

তবে নেহেরু গান্ধী পরিবারতন্ত্রকেও টেক্কা দিয়েছেন বর্তমানের ‘নেতাজী’ মুলায়ম সিংহ যাদব। যাদব পরিবারের কর্তা প্রথম থেকেই সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি। সেই পদ এখন গিয়েছে ছেলের দখলে। মুলায়ম নিজে দুদফায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকেছেন। এখন আজমগড়ের সাংসদ। বড় ছেলে অখিলেশ যাদব ২০০০ সালে কনৌজ থেকে প্রথমবার সাংসদ। এখন দলের জাতীয় সভাপতি ও উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

বড় বউমা ডিম্পল যাদব সাংসদ। ছোট ছেলে প্রতীক যাদব এর স্ত্রী অপর্ণা যাদবও বিধায়ক। বড় ভাই শিবপাল যাদব, একসময় রাজ্যের ডি-ফ্যাক্টো মুখ্যমন্ত্রী, সেচ এবং পুর্ত দফতরের মন্ত্রী থেকেছেন। মুলায়ম ও শিবপালের সব আত্মীয় স্বজনই এমএলএ বা এমপি হয়ে পরিবারতন্ত্রের ফসল।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

বিহারে লালুপ্রাসাদ যাদবের পরিবারতন্ত্রের কথা কে না জানে। স্ত্রী রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কমেডি বলেই মনে করা হয়। ছেলে, শ্যালক, মেয়ে মিশা ভারতী ছাড়াও আরও অনেক আত্মীয় এমএলএ বা এমপি বা উচুঁ পদে। লালুর পরিবার নেহেরু-গান্ধী পরিবারের যোগ্য অনুসরণকারী।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুফতি মহম্মদ সাঈদ-মেহবুবা মুফতি। ফারুক আবদুল্লা-ওমর আব্দুল্লা। মহারাষ্ট্রে বাল থাকারে-উদ্ধব থাকারে-আদিত্য থাকারে, প্রণব মুখোপাধ্যায়-অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। মানেকা-সঞ্জয় গান্ধীর ছেলে বরুণ গান্ধী। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা, রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, প্রমোদ মহাজনের মেয়ে। কাকে ছেড়ে কার কথা শুনবেন!! প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম-পুত্র কার্তি পি চিদাম্বরম। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা-ছেলে জয়ন্ত সিনহা। রাজ্যসভার সাংসদ মুরলী দেওয়ারা-ছেলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মিলিন্দ দেওয়ারা।

আরও পড়ুনঃ বিরোধীদের অভিযোগ ও মমতা প্রশাসনের রিপোর্ট নিতে বাংলায় নির্বাচন কমিশন
আরও পড়ুনঃ মোবাইলেই রাজনাথ সিং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুমুল কথা কাটাকাটি

এনসিপি প্রধান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শরদ পাওয়ার-মেয়ে সুপ্রিয়া পাওয়ার। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়া-ছেলে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। প্রয়াত নেতা রাজেশ পাইলট-ছেলে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সচিন পাইলট। প্রয়াত জিতেন্দ্র প্রসাদ-ছেলে জিনিত প্রসাদ। প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা অভিনেতা সুনীল দত্ত-মেয়ে প্রিয়া দত্ত। প্রমোদ মহাজন-মেয়ে পুনম মহাজন। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সাহিব সিং বর্মা- ছেলে প্রবেশ। হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্র সিং হুড্ডা-পুত্র দীপেন্দ্র। অসমের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ-ছেলে গৌরব। শীলা দীক্ষিত-ছেলে সন্দীপ।

আরও পড়ুনঃ নিয়ম মেনে ভারতের জাতীয় পতাকা তুলে রাখা যায় রাতেও
আরও পড়ুনঃ জওহরলাল নেহেরুর গলায় মালা দিয়ে ৬০ বছর পরেও একঘরে ‘নেহেরুর বউ’

ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন কুমার- ছেলে অভিষেক। উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং-ছেলে রাজবীর। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল- ছেলে কুলদীপ। হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌতলা-ছেলে দুষ্মন্ত চৌতলা। রামবিলাস পাশোয়ান-ছেলে চিরাগ। কর্ণাটকে জনতা দল(সেকুলার) প্রধান এইচ ডি দেবগৌড়া-তাঁর ছেলে এইচ ডি কুমারস্বামী এখন কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কর্ণাটকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস বাঙ্গারাপ্পা-মেয়ে গীতা শিবরাজকুমার। উত্তরপ্রদেশে রাষ্ট্রীয় লোকদল প্রধান অজিত সিং-ছেলে জয়ন্ত চৌধুরি।

তামিলনাড়ুর করুণানিধি ও তাঁর পরিবার পরিবারতন্ত্রে কোন অংশে নেহেরু-গান্ধি পরিবারের চেয়ে কম নয়। ওড়িশায় বিজু পট্টনায়েক পরিবার, পাঞ্জাবে অমরিন্দার সিং পরিবার, উত্তরপ্রদেশে মায়াবতীর ভাই-ভাইপো, উদাহরণ আরও আছে, আরও অনেক। ভারতে পরিবারতন্ত্রের এই গল্প শেষ হবার নয়। পরিবারতন্ত্রের ঘটনা লিখতে শুরু করলে তা মহাভারত হয়ে যাবে। গোটা ভারতে সব রাজনৈতিক দলেরই একই হাল। জনগণকে গাধা বানিয়ে রেখে চলছে সেই পরিবারতন্ত্রেরই পুনরাবৃত্তি।

ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা
ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র/The News বাংলা

বাংলার দিকে তাকালে সেখানেও সেই এক ইতিহাস। গানিখান চৌধুরী পরিবার যদি বাংলায় পরিবারতন্ত্রের শিক্ষক হয় তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই শিক্ষায় শিক্ষিত। পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবার থেকে ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়-শুভ্রাংসু, মানস ভুঁইয়া-তাঁর স্ত্রী গীতা রানী ভুঁইয়া, সবই তো মমতার হাত ধরে।

এমনকি বিধানসভা লোকসভা আসনগুলোর পর কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর পদগুলোকেও এবার কুক্ষিগত করে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। যেদিকেই তাকাবেন সেই পরিবারতন্ত্র। সে অরূপ-স্বরূপ-জুঁই বিশ্বাস বলুন বা একদম হালে ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ানো মেয়র পারিষদ তারক সিং এর ছেলে অমিত সিং। ইতিহাস সেই এক। পরিবারতন্ত্র। কংগ্রেসের প্রিয়রঞ্জন-দীপা দাশমুন্সী বা বামেদের ক্ষেত্রে লক্ষণ শেঠ- তমালিকা পণ্ড শেঠ সেই পরিবারতন্ত্রেরই উদাহরণ।

আরও পড়ুনঃ আম দরবারে প্রকাশ্যে মহিলার ওড়না ধরে টান কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীর
আরও পড়ুনঃ মাঠ দিল না রাজ্য, মোদীর সভা ও হেলিকপ্টারের জন্য ফসল ত্যাগ শিক্ষকের

এটাই সত্য যে, মঞ্চে উঠে নেহেরু-গান্ধী পরিবারের পরিবারতন্ত্রের কথা বললেও প্রায় সব রাজনৈতিক দলই জওহরলাল নেহেরুর দেখানো পথেই হাঁটতে পছন্দ করে। আর সেই পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে এই নেতাদেরই ভাষণ শুনে আমরা হাততালিও দি। সেই হাততালিটা যে আমাদের বোকামোর জন্যই, সেটাই এখনও বুঝতে পারি নি আমরা। শিরদাঁড়াহীন ভারতবাসী, ‘রাম-দুর্গা-গরু-পাকিস্তান’ নিয়ে বোকার মত ব্যস্ত থাকা ভারতবাসী আদৌ কি কোনদিন সেটা বুঝতে পারব?!

আপনার মোবাইলে বা কম্পিউটারে The News বাংলা পড়তে লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

]]>
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হত্যা ও তারপরের গণহত্যার না জানা সত্যি https://thenewsbangla.com/prime-minister-indira-gandhi-assassination-and-the-true-story-of-unknown-genocide/ Wed, 31 Oct 2018 06:12:26 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1738 ‌The News বাংলা: ৩১ অক্টোবর, ১৯৮৪। ভারতের ইতিহাসের কালো দিন। ওইদিন সকাল ৯টা ২০মিনিটে তাঁর নয়াদিল্লির সফদর জং রোডের বাসভবনে, তাঁকে গুলি করে হত্যা করে তাঁরই দুজন শিখ দেহরক্ষী সতওয়ান্ত সিং ও বেয়ান্ত সিং। ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন ভারতের দুবারের প্রধানমন্ত্রী। দুই শিখ দেহরক্ষীর ৩০টি বুলেট তাঁর শরীর ঝাঁঝরা করে দেয়। শুধুমাত্র কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ক্ষতে প্রলাপ দিতে পারবে না।

আরও পড়ুনঃ শিক্ষিতদের বিধায়ক করল তেলাঙ্গানা, কবে শিখবে বাংলা

১৯৮৪ সালে জুনের প্রথম দিকে ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে পাঞ্জাবের অমৃতসরে শিখদের স্বর্ণমন্দিরে চালান হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামে এক সামরিক অভিযান। এই অভিযানে স্বর্ণমন্দিরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলে। বলা হয়ে থাকে, সেই অভিযান ইন্দিরা সরকারের প্রতি শিখসমাজকে ব্যাপকভাবে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। সেই সূত্রেই সৃষ্ট ক্ষোভের জের হিসেবেই ইন্দিরা গান্ধী খুন তাঁর দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে।

Image Source: Google

‌ইন্দিরা গান্ধীর পুরো নাম, ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী নেহরু। জন্ম ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। খুন হন ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। ছিলেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্বে। তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ১৯৬৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত। আবার প্রধানমন্ত্রী হন ১৯৮০ সালে। ‌প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর খুন হওয়ার আগে পর্যন্ত। তিনিই ভারতের একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দের রামকৃষ্ণ মিশন ছেড়ে বিপ্লবী হন এই নারী

১৯৫৯ সালে নির্বাচিত হন কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট। তাঁকে তাঁর বাবার উত্তরাধিকারি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ইন্দিরা গান্ধী তখন তা গ্রহণে অস্বীকার করে বরং ক্যাবিনেট মিনিস্টার হওয়াটাকে বেছে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৬ সালে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর উত্তরাধিকারী হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন।

আরও পড়ুনঃ ‘ইন্দিরা গান্ধী ভারতে এমারজেন্সি লাগু করেছিলেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’

‌প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইন্দিরা গান্ধী পরিচিত হয়ে ওঠেন তার অভাবনীয়ভাবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার কঠোর মনোভাবের জন্য। তাঁর সিদ্ধান্তেই পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে ভারত, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে। এ যুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। এর ফলে উপমহাদেশে ও ভারতে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি অনেক বেড়ে যায়।

Image Source: Google

‌১৯৮৪র ৩১শে অক্টোবর ব্রিটিশ অভিনেতা পিটার উস্তিনভকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য যাওয়ার পথে সকাল ৯টা ২০মিনিটে তিনি খুন হন। এই ব্রিটিশ অভিনেতা আইরিশ টেলিভিশনের জন্য একটি তথ্যচিত্র তৈরি করছিলেন। ১ নম্বর আকবর রোডের অফিসের কাছের ১ নম্বর সফদর জং রোডের বাসভবনে বাগানের একটি পথ দিয়ে তখন ইন্দিরা হাঁটছিলেন। তিনি যখন সতওয়ান্ত সিং ও বেয়ান্ত সিংহের প্রহরাধীনে ‘উইকেট গেট’ (বিশেষ কোনো বড় দরজার পাশে বা ভেতরে থাকা ছোট দরজা) দিয়ে বের হচ্ছিলেন, তখন এরা তাঁর ওপর গুলি ছোড়ে।

আরও পড়ুনঃ নেতাদের গুন্ডা পোষা না গুন্ডাদের নেতা হওয়া, প্রকাশ্যে বন্দুকবাজির কারন কি

‌সাব-ইনস্পেক্টর বেয়ান্ত সিং তার সাইড আর্ম থেকে তিনটি গুলি ছোড়ে ইন্দিরার তলপেটে। এরপর তিনি মাটিতে পড়ে গেলে সতওয়ান্ত সিং তার স্টেনগান থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলি করার পর উভয়ই তাদের অস্ত্র হাত থেকে ছুড়ে ফেলে। তখন বেয়ন্ত সিং বলে, ‘যা করার ছিল, আমি তা করে ফেলেছি, তুমি যা করতে চাও করো’।

‌পরবর্তী ৬ মিনিটের মধ্যে ইন্ডো-তিব্বতান বর্ডার পুলিশের রমেশ সিং জামওয়াল ও রাম শরণ, ইন্দিরার খুনি বেয়ান্ত সিংকে ধরে একটি আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। অভিযোগ, বেয়ান্ত সিং এক অফিসারের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল। অপরদিকে ইন্দিরা গান্ধীর অন্যান্য দেহরক্ষীরা সতওয়ান্ত সিংকে গ্রেফতার করে। আদালতের রায়ে সতওয়ান্ত সিংকে তার সঙ্গী কেহার সিং সহ ১৯৮৯ সালের ৬ই জানুয়ারী ফাঁসি দেওয়া হয় দিল্লির তিহার জেলে।

আরও পড়ুনঃ মঙ্গলবার হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ঘরে বাংলায় ‘গেরুয়া রথ’ এর ভবিষ্যৎ

অভিযোগ আছে, ইন্দিরা গান্ধীর সেক্রেটারি আর কে দেওয়ানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ইন্দিরার পাহারা থেকে শিখ সদস্যদের সরিয়ে দিতে। আর কে দেওয়ান তা উপেক্ষা করেন। ‌উল্লেখ্য, বেয়ান্ত সিং ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর খুবই প্রিয় দেহরক্ষী। তাকে তিনি চিনতেন ১০ বছর ধরে। ঘটনার সময় অন্য খুনি সতওয়ান্ত সিংয়ের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। ঘটনার মাত্র পাঁচ মাস আগে তাকে ইন্দিরার দেহরক্ষী নিয়োগ করা হয়।

Image Source: Google

১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দূরদর্শনে সন্ধ্যার খবরে ইন্দিরা হত্যার খবর প্রচার করা হয়। এই খবর প্রচারিত হয় তাকে গুলি করার ১০ ঘণ্টা পর। সকাল সাড়ে ৯টায় তাকে ভর্তি করা হয় অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে। সেখানে তার অপারেশন চলে। বেলা ২টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ শহীদ জওয়ানকে সম্মান নয়, সেনাকে পাথর ছুঁড়ে দেশদ্রোহীরাই ভারতে ‘নায়ক’

‌এরপর চলে ময়নাতদন্ত। কমপক্ষে ৩০টি বুলেট বিদ্ধ হয় ইন্দিরার শরীরে। বুলেট ছোড়া হয় স্টেনগান ও পিস্তল থেকে। খুনিদের ছোঁড়া ৩০টি গুলির মধ্যে ২৩টি গুলি শরীরের এক পাশে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৭টি গুলি দেহের ভেতরেই থেকে যায়।

আরও পড়ুনঃ বাংলায় ২৫ টাকা কেজি পেঁয়াজ, নাসিকে দাম না পেয়ে আত্মহত্যা

‌১৯৮৪র ১নভেম্বর তাঁর মৃতদেহ একটি গানবহরে করে দিল্লির রাস্তা দিয়ে নিয়ে রাখা হয় তিনমূর্তি ভবনে। মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধ রাজঘাটের কাছের শক্তিস্থলে তার শেষকৃত্য হয় ৩নভেম্বর। তাঁর শেষকৃত্যানুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারিত হয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক টেলিভিশন ও বিবিসি সহ অন্যান্য রেডিওতেও।

Image Source: Google

‌তাকে দাহ করার পর শুরু হয় ভয়ানক শিখবিরোধী দাঙ্গা। এতে প্রায় তিন হাজার শিখ প্রাণ হারায়। বাস্তুচ্যুত হয় আরও কয়েক লাখ শিখ। ইন্দিরার মৃত্যুর পর শিখবিরোধী দাঙ্গা চলায় শিখবিরোধী জনতা ও কংগ্রেস সমর্থকরা। শিখ ধর্মাবলম্বী দেহরক্ষী ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করার পর, এর প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই দাঙ্গা বাধে।

এক সরকারি হিসেবেই এই দাঙ্গায় আট হাজারের মতো শিখ নিহত হয়। শুধু দিল্লিতেই নিহত হয় তিন হাজার। দাঙ্গা চলে ৩১অক্টোবর থেকে ৩নভেম্বর পর্যন্ত। দফায় দফায় চলে এ দাঙ্গা। এই দাঙ্গাতেই শিখ হত্যাকারী হিসাবে অভিযুক্ত হিসাবে নাম উঠে আসে কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার সহ অন্যান্যদের।

Image Source: Google

‌ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই-র(সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) রিপোর্টে বলা হয়, ‘দিল্লি পুলিশের চুপ থাকার কারণেই এই দাঙ্গা আরও ছড়িয়ে পড়ে’। কেন্দ্রীয় সরকারের কিছু আমলা ও কমকর্তাও এ কাজে সহায়তা জোগায়। মায়ের মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধী হন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি বলেছিলেন ‘বড় গাছ যখন পড়ে, তখন মাটি কাঁপে’।

Image Source: Google

‌এই দাঙ্গায় সরকারি রিপোর্ট মতে, শুধু দিল্লিতেই ২ হাজার ৭০০ জন নিহত হয়। দাঙ্গার পর ভারত সরকারের রিপোর্টে বলা হয়, দিল্লি থেকে ২০ হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে বেসরকারি মতে, এই সংখ্যা কমপক্ষে এক লক্ষ। এই দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি শিকার হয় দিল্লির শিখ অধ্যুষিত এলাকা।

আরও পড়ুনঃ প্রেতচর্চা ও বিখ্যাত বাঙালি

‌সারা ভারতের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিশ্বাস এই হত্যাযজ্ঞ ছিল সংগঠিত। এই হত্যাযজ্ঞ নিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্তাদের অবস্থান সাধারণ শিখদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। বেড়ে যায় খালিস্তান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন। ‘অকাল তখত’ নামের শিখবাদের ধর্মীয় গভর্নিং বডি এই হত্যাকাণ্ডকে জেনোসাইড বা গণহত্যা বলে মনে করে।

Image Source: Google

‌২০১১ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভারত সরকারকে জানায়, এখনও এই ‘মাস কিলিং’ এর বিচার হয় নি। ২০১১ সালে উইকিলিকস কেবল লিকস জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার এই দুষ্কর্মে সহযোগিতা জুগিয়েছিল।‌

পড়ুন হাড় হিম করা অদ্ভুত সত্য গল্প
পড়ুন প্রথম পর্বঃ পৃথিবী এগোলেও তান্ত্রিকের কালো জাদু টোনায় ডুবে আফ্রিকা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই কাজকে অভিহিত করে ভারত সরকারের শিখবিরোধী ‘অপরচুনিজম’ ও ‘হ্যাট্রিড’ নামে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দাঙ্গাকে গণহত্যা বলতে অস্বীকার করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলে এটি ছিল ‘ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন’। কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে প্রলাপ দিতে পারবে না।

]]>