Indian Government – The News বাংলা https://thenewsbangla.com Bengali News Portal Thu, 07 Mar 2019 04:36:24 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.7.2 https://thenewsbangla.com/wp-content/uploads/2018/09/cropped-cdacf4af-1517-4a2e-9115-8796fbc7217f-32x32.jpeg Indian Government – The News বাংলা https://thenewsbangla.com 32 32 পাকিস্তানে বিমানহানার প্রমাণ সরকারের হাতে, বাকি সব গুজব https://thenewsbangla.com/proofs-of-surgical-strike-only-in-the-hands-of-indian-government-rest-all-are-fake/ Wed, 06 Mar 2019 12:39:40 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=7686 পাকিস্তানে বিমানহানার যে ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়া বা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ বেসরকারি। এর সঙ্গে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের কোন সম্পর্ক নেই। একথা পরিষ্কার ভাবে জানাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স।

পরের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে বিমানে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হবে বিরোধীদের

সকাল থেকেই বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেল স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু ছবি বালাকোটের সার্জিকাল স্ট্রাইকের ‘প্রমাণ’ হিসেবে দেখাচ্ছে। সেই ছবি যে ভারতীয় বায়ুসেনার দেওয়া চিত্র নয়, তা পরিষ্কার জানিয়ে দিল এয়ারফোর্স। এয়ারফোর্স সূত্রে খবর, তারা সব রকম প্রমাণ ভারতীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। ভারতীয় বায়ু সেনা এও জানিয়েছে, যে তারা কোনরকম ছবি এখনও সোশ্যাল মিডিয়া বা কোন সংবাদমাধ্যমকে দেয়নি।

মতুয়াদের বড়মার মৃত্যু রহস্যজনক, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

গত ২৬এ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে ভারতের ১২টি মিরাজ ফাইটার জেট ১০০০ কেজি বোমা ফেলে ধ্বংস করে দেয় পাকিস্তানের মাটিতে গড়ে ওঠা সব জঙ্গি ট্রেনিং ক্যাম্প। ১৪ই ফেব্রুয়ারী পুলওয়ামায় ঘটে যাওয়া জঙ্গি আক্রমনের যোগ্য জবাব দিয়েছিল ভারত। নিকেশ হয়েছিল প্রায়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জঙ্গি, এমনটাই দাবি করা হয় সরকারি তরফে। ১৯ মিনিটের অপারেশনে মাজা ভেঙ্গে গেছে পাকিস্তানের, বিমান বাহিনী সুত্রে এমনটাই জানান হয়েছিল।

পুলওয়ামায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকে সেনার তরফে অনেক সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকের কাছেই মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। যদিও ভারতের বিমান হানায় বা দ্বিতীয় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে খতম জইশ জঙ্গি ডেরা ও জইশ জঙ্গিরা, স্বীকার করে জঙ্গিরাই।


কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং এর রাস্তায় হাঁটলেন বিজেপি নেতা

তারপর, নানা তর্ক বিতর্ক উঠে আসে এই সার্জিকাল স্ট্রাইক নিয়ে। এই ব্যাপারে সবার আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রমাণ ও মৃতদের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এমনকী পুলওয়ালার সন্ত্রাসবাদী হামলার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী মোদী সব কিছু জানতেন বলে মন্তব্য করেন। পাকিস্তানি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই সকল মন্তব্যকে হাতিয়ার করে।

ভোটের বাজার মাত করতে আসরে নামছে পিসি

এর দুদিন পরেই প্রমাণ দেখানোর দাবি তোলেন কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংহ। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি সুপ্রিমো মেহবুবা মুফতিও দাবি করেন যে দেশের নাগরিক হিসেবে ভারতের সকলের বালাকোট অপারেশনের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে।

দেশদ্রোহী আখ্যা পেয়েও নিজের বক্তব্যে অনড় কংগ্রেস নেতা

সার্জিকাল স্ট্রাইক ২ যে আসলে ঘটেছে তার প্রমাণ দিতেই সংবাদ মাধ্যমগুলো স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু ছবিকে প্রমাণ বলে দাবি করছে। তবে, ভারতীয় বায়ু সেনা সেই সব ছবিগুলোকে ভুয়ো এবং বেসরকারি বলে জানিয়ে দিয়েছে। ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের সব ছবি শুধুমাত্র সরকারের হাতে আছে, জানিয়েছে বায়ুসেনা।

]]>
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ লড়াই’কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর https://thenewsbangla.com/netaji-subhash-chandra-boses-azad-hind-honoured-by-narendra-modi/ Tue, 25 Dec 2018 13:01:44 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=4737 The News বাংলা: ৭৫ বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নরেন্দ্র মোদী সরকারের হাত ধরে। আজাদ হিন্দ বাহিনীর সেই লড়াইকে সম্মান জানিয়ে এবার নেতাজীর নামে রাখা হচ্ছে আন্দামানে দ্বীপের নাম। সৌজন্যে নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র সরকার।

আরও পড়ুনঃ স্বীকৃতি না রাজনৈতিক ফায়দা, নেতাজীকে নিয়ে বিতর্কে মোদী

আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের তিনটি দ্বীপের নাম বদলে যাচ্ছে। জানা গিয়েছে রস দ্বীপ, নেলি দ্বীপ এবং হ্যাভলক দ্বীপের নাম বদলে যাচ্ছে। নতুন নাম হচ্ছে যথাক্রমে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ, শহিদ দ্বীপ এবং স্বরাজ দ্বীপ।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর 'আজাদ লড়াই'কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ লড়াই’কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা

আগামী ৩০শে ডিসেম্বর রবিবার আন্দামানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখনই আনুষ্ঠানিক ভাবে নাম ঘোষণা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে নাম বদল করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত কাজই করা হয়ে গিয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও।

আরও পড়ুনঃ নরেন্দ্র মোদীর হাতেই উদ্বোধন হচ্ছে ভারতের দীর্ঘতম দোতলা সেতু

নাম বদলের পাশাপাশি ১৫০ মিটার লম্বা একটি জাতীয় পতাকাও উড়িয়ে দেবেন মোদী ও রাজনাথ। ৭৫ বছর আগে ১৯৪৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজাদ হিন্দ সরকার তৈরি করেন নেতাজী। সেই ঘটনাটিকে স্মরণ করতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিজের সরকারের প্রতিষ্ঠা করে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপ দুটির নাম স্বাধীন এবং স্বরাজ রেখেছিলেন নেতাজী। সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর 'আজাদ লড়াই'কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ লড়াই’কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা

দেশের আসল বীরদের যোগ্য সন্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার, এমনটাই দাবি বিজেপি নেতাদের। আর তারই ফলস্বরূপ এই বছর আন্দামানে আজাদ হিন্দ সরকার গঠনের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দিল্লীর লাল কেল্লা থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মোদী। সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন নেতাজীর আজাদ হিন্দ ফৌজের হয়ে লড়াই করা স্বাধীনতা সংগ্রামীরা।

আরও পড়ুনঃ শহীদ জওয়ানকে সম্মান নয়, সেনাকে পাথর ছুঁড়ে দেশদ্রোহীরাই ভারতে ‘নায়ক’

আর এবার নেতাজীর সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এক বড় পদক্ষেপ নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর আন্দামানে নেতাজীর আজাদ হিন্দ বাহিনীর পতাকা উত্তোলনের ৭৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। জানা গেছে এই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার যাবেন। তখনই নামকরণ ও পতাকা ওড়ানোর কাজ হবে।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর 'আজাদ লড়াই'কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ লড়াই’কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা

নামবদল নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয় বছর দেড়েক আগে। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে রাজ্যসভার এক বিজেপি সাংসদ হ্যাভলক দ্বীপের নাম বদলের সুপারিশ করেন। হ্যাভল ছিলেন ব্রিটিশ সেনা বাহিনীর জেনারেল। তিনি ভারতীয়দের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাই দ্বীপের নাম হ্যাভলক রাখা লজ্জাজনক বলে মনে হয়েছিল তাঁর। এরপরই শুরু হয় সরকারী প্রক্রিয়া।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর 'আজাদ লড়াই'কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ লড়াই’কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা

‌গত কয়েক মাস ধরেই নামবদলের প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তাঁর বছর দেড়েকের সময়কালের মধ্যে একাধিক নামবদল করেছেন বা বদলের সুপারিশ করেছেন। তাঁর সুপারিশে মোঘলসরাই রেল স্টেশনের নাম হয়েছে দীন দয়াল উপাধ্যায় জংশন। এছাড়া এলাহাবাদের নাম বদলে হয়েছে প্রয়াগরাজ।

আরও পড়ুনঃ ‘মুসলিম’ নাম বদলে ‘রামরাজ্য’ আনতে উদ্যোগী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

বিজেপির এক সাংসদ আবার চান আগ্রার নাম বদলে হোক আগ্রাভান। অন্যদিকে দাদরি গণপিটুনি কান্ডে নাম জড়ানো বিজেপি বিধায়ক সাধনা সঙ্গীত সোম চান মুজফফরনগরের নাম বদলে হোক লক্ষ্মী নগর। সেটা হতেও চলেছে। শুধু নিজের রাজ্যে আটকে না থেকে যোগী তেলেঙ্গানার জেলা করিমনগরেরও নাম বদলের কথাও বলেছেন। এখানেই শেষ নয়, শোনা যাচ্ছে গুজরাটে বিজয় রুপানির সরকার আমেদাবাদের নাম বদলে কর্ণবতী রাখতে চায়।

নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর 'আজাদ লড়াই'কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা
নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ‘আজাদ লড়াই’কে সম্মান নরেন্দ্র মোদীর/The News বাংলা

এইসব নামবদল নিয়েই চলছে তুমুল বিতর্ক। তবে, রস দ্বীপ, নেলি দ্বীপ এবং হ্যাভলক দ্বীপের নাম বদলে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু দ্বীপ, শহিদ দ্বীপ এবং স্বরাজ দ্বীপ রাখা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। তবে বিরোধীরা এই নাম পরিবর্তনকে স্বাগত জানালেও, এটাকে ভোটের আগে চমক বলে সমালোচনা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ লোকঠকানির লোন মাপ, রাহুলকে লজ্জায় ফেলে আত্মঘাতী কৃষক

তবে, এই নিয়ে সব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতারা। তাঁরা জানিয়েছেন, ‘নেতাজীকে সম্মান দেওয়া নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তাঁরা আগে কোনদিন ভারতের এই মহান সন্তানকে শ্রদ্ধা জানান নি’। এখন নরেন্দ্র মোদী সরকার নেতাজীর সেই অবদানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে তাই এত সমালোচনা’। লোকসভা ভোটের আগে ফের দেশ জুড়ে নেতাজী চর্চা।

]]>
প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর https://thenewsbangla.com/union-minister-mj-akbar-files-defamation-case-against-priya-ramani-over-metoo-charges/ Mon, 15 Oct 2018 15:34:26 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=1238 নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রাক্তন সাংবাদিক ও বর্তমানে বিজেপি সরকারের মন্ত্রী এম জে আকবর মানহানির মামলা করলেন। তার নামে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা সাংবাদিক প্রিয়া রামানির নামে মানহানির অভিযোগ দায়ের করলেন মি-টু (#MeToo)-তে অভিযুক্ত বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। আদালতে লড়াই করবেন জানিয়েছেন রামানি।

আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ প্রথম এনেছিলেন সাংবাদিক প্রিয়া রামানি। যদিও এক বছর আগে লেখা সেই প্রতিবেদনে তিনি আকবরের নাম করেন নি। কিন্তু সম্প্রতি এক ট্যুইটে তিনি পুরোনো ঘটনা মনে করিয়ে সরাসরি আকবরের নাম নেন।

তার পর থেকে একাধিক মহিলা সাংবাদিক আকবরকে নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে থাকেন। কীভাবে হোটেলের ঘরে ইন্টারভিউর নামে মহিলা সাংবাদিকদের আকবর ডেকে পাঠাতেন, মদ খাওয়াতেন, ঘনিষ্ঠভাবে কাছে বসতে বাধ্য করতেন, অশালীন আচরণ করতেন, মহিলা সাংবাদিকেরা তার বিবরণ দিয়েছেন।

পরিচয় প্রকাশ না করা এক সাংবাদিক লিখেছেন তাঁকে হোটেলে ডাকার কাহিনি। ‘সম্পাদক মশাই’ তাঁকে জোর করে মদ খাওয়ালেন এবং জড়িয়ে ধরলেন। সেই মহিলা লিখেছেন, একটা সময় জোর করে আকবারকে ঠেলে দিয়ে, দরজা খুলে তিনি হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন।

আকবরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো প্রধানত সেই সময়ের যখন তিনি কলকাতায় ‘সানডে’ ম্যাগাজিন ও ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর সম্পাদনা করছেন। এর পর তিনি ‘এশিয়ান এজ’ ও ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ান’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। সাংবাদিকতা ছেড়ে আকবর প্রথমে যোগ দেন কংগ্রেসে। সাংসদও হন। পরে বিজেপিতে যোগদান ও মন্ত্রিত্ব লাভ।

প্রিয়া রামানি নামের ওই সাংবাদিক এবং আরও কয়েকজন মহিলা অভিযোগ করেন যে এম জে আকবর পত্রিকার সম্পাদক থাকার সময় তাদের যৌন হেনস্থা করেছিলেন। যদিও আকবর, যিনি দি টেলিগ্রাফ এবং দি এশিয়ান এজ নামে দুটি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, বলছেন, এসব দাবি ‘মিথ্যা এবং অতিরঞ্জিত।’

এর পর প্রিয়া রামানিও একটি বিবৃতি দিয়েছেন । তাতে তিনি বলেন, এ মামলা করে মি আকবর ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির মাধ্যমে অভিযোগকারীদের চুপ করিয়ে দিতে চাইছেন। প্রিয়া রামানি আরো বলেন, তিনি মামলা লড়ার জন্য প্রস্তুত।

প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে মামলা করা ছাড়াও মি আকবর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা অন্য মহিলাদের বিরুদ্ধেও মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। সোমবার বিদেশ থেকে ফেরার পর মি আকবর সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, যৌন হয়রানির এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নিউ দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে মামলা করলেন আকবর।

মহাত্মা গান্ধির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নাইজেরিয়া গিয়েছিলেন আকবর। আর সেই সময়ে ৪ অক্টোবর সাংবাদিক প্রিয়া রামানি টুইটারে প্রথম অভিযোগ করেন।

পরে প্রেরণা সিং বিন্দ্রা, ঘাজালা ওয়াহাব, সুতপা পাল, অঞ্জু ভারতী, সুপর্ণা শর্মা, সুষমা রাহা, মালিনী ভূপ্তা, কণিকা গহলত, কাদম্বরী এম ওয়াদেও অভিযোগ করেছেন। মহিলা সাংবাদিকদের অভিযোগ নানা ভাবে হেনস্থা করতেন দ্য টেলিগ্রাফ বা এশিয়ান এজের মতো সংবাদপত্রের মাথা হিসেবে কাজ করা আকবর।

এবার আদালতেই ফয়সালা হবে আকবরের বিরুদ্ধে ওঠা সত্য না মিথ্যা। শেষ পর্যন্ত #MeToo আন্দোলনের ফয়সালা হবে নিউ দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতেই।

]]>
যৌন হেনস্থার অভিযোগে এবার প্রশ্নের মুখে নরেন্দ্র মোদী সরকার https://thenewsbangla.com/narendra-modi-government-face-questions-of-sexual-harassment-case-of-m-j-akbar/ Wed, 10 Oct 2018 03:46:10 +0000 https://www.thenewsbangla.com/?p=972 নিজস্ব সংবাদদাতা: সোশ্যাল মিডিয়ার মি টু (#Me Too) স্লোগান এবার আছড়ে পড়ল নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রীসভাতেও। যৌন হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় এবার নাম জড়াল ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরেরও। তবে মন্ত্রী থাকাকালীন নয়, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সেই সময়ের, যখন তিনি ছিলেন একজন সফল সম্পাদক ও সাংবাদিক। অভিযোগ যাঁরা করেছেন, সাংবাদিক হিসেবে তাঁরাও বেশ পরিচিত মুখ।

বিদেশ প্রতিমন্ত্রী আকবরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান নি বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের এক অনুষ্ঠানে একাধিক মহিলা সাংবাদিক এই বিষয়ে সুষমাকে প্রশ্ন করেন। তাঁরা জানতে চান, যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। আপনি নারী এবং মন্ত্রণালয়ের প্রধান। এসব অভিযোগের কি কোনো তদন্ত হবে?

সুষমা প্রশ্ন শুনলেও কোনো মন্তব্য না করে নীরবে হেঁটে চলে যান। সুষমার দুই প্রতিমন্ত্রীর একজন হলেন এম যে আকবর ও অন্যজন দেশের প্রাক্তন সেনাপ্রধান ভি কে সিং। আকবর এই মুহূর্তে বিদেশে। বুধবারই তাঁর দেশে ফেরার কথা।

হ্যাশট্যাগ মি টু (#MeeToo), সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনের শুরুটা হয় মার্কিন মুলুকে। গত এক বছর ধরে মার্কিন মুলুকের সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়েইনস্টেনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগের ঝড় বয়ে যাচ্ছে যা ‘#মি টু’ নামে পরিচিত।

একের পর এক অভিনেত্রী ও অন্যান্য মহিলারা এই প্রযোজকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন, যেগুলো আদালতের বিচারাধীন। তারই রেশ ধরে ভারতেও শুরু হয়েছে এই ‘মি টু’ আন্দোলন।

সমস্ত পেশার মতোই সংবাদজগতেও এই ধরণের ঘটনা নতুন নয়। গোটা বিশ্বেই শিক্ষানবিশ ও নতুন আসা মহিলা সাংবাদিকদের যৌন হেনস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় বলেই অভিযোগ। তবে খুব কম মহিলাই কোন ঘটনা প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন।

ভারতে এই ঘটনা এখন একে একে প্রকাশ্যে আসছে। হিন্দি সিনেমার বাঙালি অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত, সম্প্রতি অভিনেতা নানা পাটেকার ও নৃত্য পরিচালক গণেশ আচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ আনেন। যেটা নাকি ঘটেছিল প্রায় ১০ বছর আগে। সেই থেকে একে একে শুরু হয়েছে অভিযোগের পালা।

অভিযোগের তালিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। ছাড় পান নি প্রবীণ অভিনেতা অলোকনাথও। তাঁর বিরুদ্ধেও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ শুধু ফিল্ম জগতেই সীমাবদ্ধ নেই। অভিনয় জগতের গণ্ডি পেরিয়ে তাতে জড়িয়ে গেছেন লেখক ও সাংবাদিকরাও। আকবরের নাম আসার সঙ্গে সঙ্গে এবার জড়িয়ে পড়লেন মন্ত্রী ও রাজনীতিবিদরাও।

আকবরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ প্রথম এনেছিলেন সাংবাদিক প্রিয়া রামানি। যদিও এক বছর আগে লেখা সেই প্রতিবেদনে তিনি আকবরের নাম করেন নি। কিন্তু সম্প্রতি এক ট্যুইটে তিনি পুরোনো ঘটনা মনে করিয়ে সরাসরি আকবরের নাম নেন।

তার পর থেকে একাধিক মহিলা সাংবাদিক আকবরকে নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে থাকেন। কীভাবে হোটেলের ঘরে ইন্টারভিউর নামে মহিলা সাংবাদিকদের আকবর ডেকে পাঠাতেন, মদ খাওয়াতেন, ঘনিষ্ঠভাবে কাছে বসতে বাধ্য করতেন, অশালীন আচরণ করতেন, মহিলা সাংবাদিকেরা তার বিবরণ দিয়েছেন।

পরিচয় প্রকাশ না করা এক সাংবাদিক লিখেছেন তাঁকে হোটেলে ডাকার কাহিনি। ‘সম্পাদক মশাই’ তাঁকে জোর করে মদ খাওয়ালেন এবং জড়িয়ে ধরলেন। সেই মহিলা লিখেছেন, একটা সময় জোর করে আকবারকে ঠেলে দিয়ে, দরজা খুলে তিনি হোটেল থেকে বেরিয়ে আসেন।

আকবরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো প্রধানত সেই সময়ের যখন তিনি কলকাতায় ‘সানডে’ ম্যাগাজিন ও ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর সম্পাদনা করছেন। এর পর তিনি ‘এশিয়ান এজ’ ও ‘দ্য সানডে গার্ডিয়ান’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। সাংবাদিকতা ছেড়ে আকবর প্রথমে যোগ দেন কংগ্রেসে। সাংসদও হন। পরে বিজেপিতে যোগদান ও মন্ত্রিত্ব লাভ।

আকবরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিয়ে সরকারিভাবে কেউ মুখ খোলেন নি। নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে তনুশ্রী দত্ত অভিযোগ করার পর কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধী শুধু বলেছিলেন, ‘অভিযোগ উড়িয়ে না দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন’।

বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবরের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে ঘিরে সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছে কংগ্রেস।

কংগ্রেস মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী এই প্রসঙ্গে মোদী সরকারের মৌন থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘নিজে মহিলা হওয়া সত্ত্বেও কী করে সুষমা স্বরাজ চুপ করে রয়েছেন? এম জে আকবরই বা চুপ রয়েছেন কেন? এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী জবাব দিন। যাঁরা বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও নিয়ে সরব, তাঁরা এই ইস্যুতে মৌনতা ভাঙুন’।

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১০ বছর বা ২০ বছর আগের অভিযোগের কি তদন্ত হবে ? কি প্রমাণই বা পাওয়া যাবে ? কেউ মিথ্যা অভিযোগ করলেও কি তা বিশ্বাস করে নিতে হবে ?

লোকসভা ভোটের আগে সুদূর মার্কিন মুলুকের ‘মি টু’ আন্দোলন যে এইভাবে ভারতে ঢুকে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বিপদে ফেলে দেবে আঁচ করেন নি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও। এম জে আকবরের ঘটনা কেন্দ্রীয় সরকার কি ভাবে সামলায় সেটাই এখন দেখার।

]]>